খাবারদাবার আর মস্তিষ্কের কাজকারবার

সজীব ওসমান এর ছবি
লিখেছেন সজীব ওসমান (তারিখ: মঙ্গল, ০৫/০১/২০১৬ - ১২:৫৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

টরন্টোর একটা পুরানো বইয়ের দোকানের আমি নিয়মিত পরিব্রাজক। তবে দোকানের সবজায়গায় ঘুরে বেড়াই না। দুই তিনটা কোণা আছে, যেগুলিতে সরাসরি চলে যাই। একটা কোণা হল বিজ্ঞানবইয়ে ভর্তি। বাসার বুকশেলফের বেশ কিছু অংশ আমি তুলে এনেছি এই কোণা থেকে। এভাবে একদিন বই ঘাঁটতে গিয়ে এই বইটা হাতে এল: নাম Your Brain on Food। মস্তিষ্কে খাবারদাবারের প্রভাব নিয়ে বইটা একটু উল্টেপাল্টে দেখে বেশ মজার মনে হল, কৌতুহল জাগলো এবং কিনে ফেললাম। লেখকের নাম আগে কোনদিনই শুনিনি - গ্যারি ওয়েংক। সচলের বই নিয়ে লেখামালার অংশ হিসেবে এই 'নতুন লেখকের' বইটি নিয়ে লিখছি।

লেখক শুধু আমার জন্যই নতুন নয়, তিনি লেখক হিসেবেও নতুন। তবে, গ্যারি ওয়েংক ভদ্রলোক তাঁর বিষয়ের একজন ঝানু ব্যক্তি। একজন মস্তিষ্ক গবেষক, ওয়ায়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিষয়ের সঙ্গে অধ্যাপনায় জড়িত। তিনি মস্তিষ্কের রোগ, যেমন আলঝাইমার্স রোগ বিশেষজ্ঞ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পদে আসীন, বহু পুরষ্কার পেয়েছেন - যার মধ্যে আছে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পদকও। তবে এককভাবে তিনি বই লিখেছেন এই একটিমাত্র। মস্তিষ্কের কাজকারবার কিভাবে খাবারদাবার দিয়ে প্রভাবিত হয় তার বর্ণনা তুলে ধরেছেন আমাদের পরিচিত বহু খাবারের উদাহরণ দিয়ে। নিজের পড়াশোনা, জ্ঞান এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

আমি ভাল সাহিত্য সমালোচক নই। আর, এই লেখাটায় বইটি থেকে কোন অংশ হুবহু তুলে ধরছি না। বরং নিজের ভাষায় বইয়ের অংশবিশেষকে টুকে দিচ্ছি ছোট করে। এই লেখা থেকে পাঠক হয়তো বইটি পড়তে আগ্রহী হবেন।

-----------------

খাবার দাবার নিয়ে চিন্তা করলে প্রথমেই বাঙালীর মন চলে যায় ভোজনরসের চিন্তায়। আমরা খেতে পছন্দ করি। কিন্তু খাবার কখন বন্ধ করতে হবে সেটা সাধারনত বুঝিনা। ওয়েংক লিখছেন -

Our brains were shaped by evolution to be very efficient at instructing us to eat, but quite inefficient at stopping us from eating।

বইটির প্রথম দিকে অংশকে শিরোনাম দেয়া গেলে বলা চলে - 'আমি কেন এত খাই'। বইটি থেকে উল্লেখ করছি -

নিউরোবিজ্ঞানীরা অতিভোজনের প্রবণতা বোঝাতে একটা টার্ম ব্যবহার করেন- Ingestion Analgesia। এই জিনিস আপনাকে ক্রমাগত খেয়ে যেতে সাহায্য করে, খেতে খেতে পেট ফুলে গেলেও। যতগুলি বোতাম খোলা যায় ততটুকু ঢিলে করে পর্যন্ত, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবী সবার সামনে বিব্রত হওয়া পর্যন্ত খেতেই থাকেন।

আসলে খাওয়ার সময় আমাদের ব্যাথা অনুভূতির সার্কিট ভোঁতা হয়ে যায়, মস্তিষ্ক একধরনের ব্যাথা ভোঁতাকারী ওপিয়াট নিঃসরণ শুরু করে। হয়তো জানেন, মজাদার খাবার খাওয়ার সময় আমাদের ব্যাথার অনুভূতি তেমন থাকেনা, বিশেষ করে যখন চকলেট খান। কোন বড়সড় ভোজনের শেষেও যে মিষ্টি যাতীয় কিছু খাওয়ার ইচ্ছা করতে পারি, সেটা শুধু এই ঘটনার কারনেই।

আসলে ক্রমাগত খেতে থাকার কারনে আমরা ব্যাথার ব্যাপারে অসংবেদনশীল হয়ে যাই।

আমাদের আধুনিক মস্তিষ্কের উদ্ভব হয়েছিল এমন সময়ে যখন চারিদিকে খাবারের অভাব ছিল, মানে এখনকার মত চাইলেই আশেপাশে খাবার পাওয়া যেতনা। তাই, যখনই যতটুকু খাবার পাওয়া যেত তার পুরোটুকুই সাবার করার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের প্ররোচনা দিত। বিভিন্ন বন্যপ্রানীর খাদ্যাভাসের দিকে নজর দিলে এই ব্যাপার লক্ষ্য করা যাবে।

শুধু তাই না, আমরা অবচেতনভাবে আমাদের খাবারকে রক্ষা করার চেষ্টা করি, যেন অন্য কেউ খেয়ে না ফেলে। আর এই প্রতিরক্ষার একটা সহজ উপায় হল নিজেই সবকিছু খেয়ে ফেলা, যেন অন্যে এসে লবডঙ্কা পায়। কতগুলি পরীক্ষা দেখাচ্ছে যে যখন আমাদের আশেপাশে প্রচুর খাবার থাকে তখন আমরা খাদ্যগ্রহণের পরিমান বাড়িয়ে দেই। এমনকি বাসি বা খেতে ভাল নয় এমন খাবারও আমরা বেশি খাই।

এমনকি, কাউকে যদি বলে দেয়াও হয় যে তুমি বাসি খাবার খাচ্ছো বা তোমার যতটুকু দরকার ততটুকু তুমি খেয়ে ফেলেছো, তবুও আমরা অতিরিক্ত খাবো। ডায়েট করার যত মোটিভেশান ই থাকুক, আমাদের জৈবিক তাড়না তাকে পরাস্ত করে বেশিরভাগ সময়।

আমরা গায়েগতরে নাদুশনুদুশ হয়ে যাওয়ার পরেও আমাদের মস্তিষ্ক বলতেই থাকে- খাও খাও খাও।

গাঁজা সেবন করলে খুবই সম্ভাবনা আছে যে আপনি আপনার পছন্দের খাবার বেশি পরিমান গ্রহণ করবেন। তার একটা কারন আছে। গাঁজার যেই উপাদান আপনার মস্তিষ্কে কাজ করে সেটার সাথে খাদ্যগ্রহণের ফলে ভাল লাগার নিউরোচক্রের সংযোগ আছে। গাঁজার মত একধরনের অন্তঃক্যানাবিনয়েড যৌগের পরিমান স্থুলাকার মানুষের রক্তে প্রচুর পরিমানে থাকে। আমরা যখন মোটা হই মস্তিষ্ক অন্তক্যানাবিনয়েড দিয়ে ভরিয়ে দেয় আমাদেরকে। এই যৌগ আমাদের পছন্দের খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে মস্তিষ্কে, বেশি খেতে প্ররোচনা দেয়।

কিন্তু তার মানে এই না যে গাঁজা সেবনে আপনি সবধরনের খাবারই বেশি পরিমান খাবেন। যেসব খাবার আপনার খেতে ভাল লাগেনা সেসব খাবার গাঁজা সেবনেও ভাল লাগবেনা। কিন্তু চিনি বা মিষ্টি খেলে সবসময়ই ভাল লাগার কথা। আসলে মিষ্টি খেলে আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন বেড়ে যায়, যা ভাল লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং আরও বেশি খেতে প্ররোচনা দেয়।

আসলে গাঁজা সেবনে যেই পরিমান ডোপামিন নিঃসরন হয় প্রায় ততটুকুই নিঃসরণ হয় চিনি খেলে। মস্তিষ্কের ভেতরের যেই গাঁজার মত যৌগ আছে সেটাই আমাদের খাবারের ভাল লাগার অনুভূতির জন্য কাজ করে, গাঁজা শুধু ভাল লাগার অনুভূতিটা বাড়িয়ে দেয়।

আবার আমাদের পরিচিত বহু খাবার মস্তিষ্কে বা সাধারণভাবে স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে, সামাজিক বিবর্তনে আমাদের বিভিন্ন খাদ্যাভাস কিভাবে গড়ে উঠেছে, খাবার সংস্কৃতির উৎস কী - এসব দিয়ে বইটির পাতায় পাতায় গল্প। একটা উদাহরণ দেই -

পান-সুপারি খাওয়ার প্রচলন বাংলায় প্রায় ৫০০০ বছরেরও আগে শুরু হয়। পান-সুপারির সঙ্গে চুন খাওয়াটা এখানে জনপ্রিয়। কিন্তু বাংলার মানুষ চুন কেন খান- সেটা ভেবে দেখার বিষয়। পান এবং সুপারির মত পুরোপুরি উদ্ভিজ্জ্ব উপাদান এর সঙ্গে চুনের মত একধরনের খনিজ উপাদানকে কেন খাওয়ার প্রচলন শুরু হল?

সুপারিতে বেশ কিছু এমন রাসায়নিক আছে যা দেহের বিভিন্ন নিউরোগ্রাহকে লেগে যায় (বেশি কপচাচ্ছিনা, আসিটাইলকোলিন গ্রাহক বা রিসেপ্টর নিয়ে পড়ে নিতে পারেন আগ্রহীগণ) এবং যা আমাদের মানসিক অবস্থায় প্রভাবে ফেলতে পারে। এদের মধ্যে দুইটা হল অ্যারেকোলিন এবং গুয়াভাকোলিন। সুপারির এসব রাসায়নিক থেকে গুয়াভাসিন নামক একধরনের উপাদান মানবশরীর তৈরি করে (গুয়াভাসিন কে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়)। মস্তিষ্কে এইসব রাসায়নিকের সম্মিলিত ক্রিয়া মানুষের মধ্যে ভাল লাগার অনুভূতি দেয়।

আর চুন হল ক্ষারীয় যৌগ। সুপারির সঙ্গে চুন খেলে তা সুপারির দ্রবণের ক্ষারত্ব বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে শরীরের দ্বারা অ্যারেকোলিন এবং গুয়াভাকোলিন এর গ্রহণের হার বেড়ে যায়। হয়তো প্রথমে সুপারির অম্লত্ব কমানোর জন্য চুন খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু চুন গ্রহনে যে সুপারি আসক্তিতে প্রভাব ফেলেছে সেটা হয়তো অজান্তেই হয়েছে। কয়েক হাজার বছর ধরে এই প্রচলন তাই টিকে আছে।

তবে, নিয়মিত সুপারি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ ক্ষতিকর। আমাদের দেশে মুখের ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারনগুলির একটি হল সুপারি খাওয়া (সেটা যত প্রাকৃতিকই হোক না কেন!)।

তেমনি আছে খাবারের উৎপত্তির ইতিহাস নিয়ে মজার আলোচনা। আধুনিক পানীয় কোকাকোলার জন্ম ইতিহাস নিয়ে জায়গাটা বিশেষ করে বেশ মজার। গ্যারি ওয়েংক বলছেন -

প্রথম কোকা কোলা তৈরি হয়েছিল ওয়াইন এবং কোকেইন এর মিশ্রিত পানীয়কে পরিবর্তন করে।

কোকা গাছের পাতায় কোকেইন থাকে, প্রাকৃতিক উপাদান থেকে কোকেইন তৈরি হয় এই পাতা ব্যবহার করে। বহু বছর আগে থেকেই আমেরিকায়, ইনকাদের মধ্যে এই পাতা চিবিয়ে আনন্দানুভূতি নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইনকারা তাদের বার্তাবাহকদেরকে বা শ্রমিকদের এই পাতায় আসক্ত বানিয়ে দিত, এই পাতা দিয়ে তাদের বেতনও দেয়া হত। কোকা পাতা খেলে কষ্ট এবং ক্ষুধা কম লাগে।

১৮৬৮ সালে এঞ্জেলো মারিয়ানি নামক এক ব্যক্তি ওয়াইন এবং কোকা পাতার নির্যাস মিশিয়ে একধরনের পানীয় বানান যেটা তুমুল জনপ্রিয় হয়। নাম ভিন মারিয়ানি বা মারিয়ানির ওয়াইন। রানী ভিক্টোরিয়া, দুইজন পোপ এবং বিজ্ঞানী এডিসন এই পানীয়ের ভক্ত ছিলেন। কোকেইন এবং এলকোহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্কে খুব দ্রুত কাজ করে এবং সুখানুভূতি দেয়।

পরে ১৮৮৬ সালে কোকা ওয়াইন পানীয়তে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন ফামর্াসিষ্ট, জন পেম্বারটন, আমেরিকায় প্রথম কোকা কোলা পানীয় তৈরি করেন। এটা তৈরি করা হয় কোকা ওয়াইন থেকে এলকোহল বাদ দিয়ে চিনির সিরাপ যুক্ত করে এবং কোলা বাদামের নির্যাস যুক্ত করে। নাম তাই, কোকা কোলা। কোলার নির্যাস থাকায় কোকা কোলাতে ক্যাফেইন পাওয়া যায়। প্রথমে কোকা কোলায় কোকা নির্যাসের কারনে বেশ ভাল পরিমানেই কোকেইন বিদ্যমান ছিল। ১৯২৯ সালে কোকেইনকে বাদ দেয়া হয় কোকা কোলা থেকে, কিন্তু কোকার নির্যাস ঠিকই রয়ে গিয়েছে।

আছে কিছু কৌতুহলকর এবং আমার কাছে অজানা ইতিহাস। যেমন, উত্তর আমেরিকায় ডাইনি সন্দেহে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তারা হয়তো 'ডাইনী' হয়েছেন বিশেষ খাবারের কারনে -

১৬৯২ - ৯৩ সালে আমেরিকায় ২০ জন মানুষকে প্রেতসাধনা বা ডাকিনীতন্ত্র বা উইচক্রাফ্টিং এর অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ছিলেন। 'উইচ ট্রায়ালস ইন সালেম' বা 'সালেমের ডাইনীদের বিচার' নামে পরিচিত। এখন ধারনা করা হয় যে লোকগুলিকে মারা হয়েছিল তারা রুটিতে একধরনের ছত্রাক সংক্রমণের কারনে অদ্ভুত আচরণ করছিল।

এই ছত্রাকের নাম ক্লেভিসেপস পারপিউরিয়া (Claviceps purpurea) - যারা এলএসডি'র মত একধরনের প্রাকৃতিক রাসায়িনক যৌগ তৈরি করতে পারে। এলএসডি তুমুল হ্যালোসিনোজেনিক যৌগ হিসেবে পরিচিত। এই ছত্রকের তৈরি প্রাকৃতিক যৌগটি খেলেও একইরকম হ্যালুসিনেশান হয়। অদ্ভুত জিনিসকে সত্যি মনে করা, বিড়বিড় করা, উল্টাপাল্টা পা ফেলে হাঁটা এসবই হতে পারে। এমন করলে লোকে ডাইনী ভাববেনা কেন?

(মস্তিষ্কের সেরেটোনিন গ্রাহকের সঙ্গে মশকরা করে এইধরনের যৌগ। তবে হ্যালুসিনেশানটা সঠিক কিভাবে হয় সেটা বোঝা যায়নি এখনও।)

আর আছে উত্তেজক পানীয়ের কথা -

দেগা, মানে, ভ্যান গঘসহ বেশকিছু কিংবদন্তি চিত্রশিল্পীর পছন্দের পানীয় ছিল এবসিন্থ। একধরনের ওয়াইন, যার সঙ্গে মেশানো থাকে একটি গুল্মের (Artemisia absinthium) নির্যাস, ওয়র্মউড বা পোকাকাষ্ঠ উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহার করা হয় এই পানীয় তৈরিতে। (উদ্ভিদটার বাংলানাম হয়তো দেয়া হয়নাই, আমি পোকাকাষ্ঠ ডাকছি। পুরান টেষ্টামেন্টে ৭ বার এইধরনের উদ্ভিদের কথা আছে, তবে কী বোঝানো হয়েছে সেটা নিয়ে এখনও দ্বন্দ আছে।) উল্লেখ্য যে এইধরনের উদ্ভিদের অন্য একটি প্রজাতি থেকে ম্যালেরিয়ার সবচেয়ে কার্যকর ঔষধ (আর্টেমিসিনিন) তৈরি হয়।

কিন্তু এবসিন্থ পানীয়ে ব্যবহৃত গুল্মে থাকা থিউজন নামক একধরনের যৌগ থাকে, যা আমাদের মস্তিষ্কের গ্যাবা গ্রাহকে বন্ধন তৈরি করতে পারে। এলকোহল এবং থিউজনের মিলিত ক্রিয়ার কারনে এবসিন্থ এত পছন্দের ছিল ঐসব কিংবদন্তিদের।

থিউজন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়িয়ে দেয়, নিউরন খুব সহজে উত্তেজিত হয় বা ফায়ার করে। সেজন্য বেশিপরিমান থিউজন গ্রহন করলে মৃগীরোগের লক্ষণ দেখা দেবে। কিন্তু এবসিন্থে থাকা থিউজনের পরিমান অতিস্বল্প। তবে, আমাদের মেধাবী শিল্পীদের চিত্রশীল্প তৈরিতে হয়তো এই পরিমানই ভূমিকা রেখেছে!

পুরো বইটাতেই আমি কিছু চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছি আমাদের খুব পরিচিত খাদ্যা বা খাদ্য উপাদানগুলি নিয়ে। যেমন, আপনি শুধু গোটাকতক জয়ফল খেয়ে 'হাই' হয়ে যেতে পারেন সেটা কী জানতেন? তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পেটখারাপ হয়ে কমোডে বসে থাকতে হবে একবেলা। কারন যে স্নায়বিক গ্রাহকে জয়ফলের কার্যকর উপাদান প্রভাব ফেলে সেটা আমাদের পাকস্থলীতেও আছে। সঙ্গে আরেকটা মজার তথ্য জানুন -

শিশুরা মায়ের দুধের প্রতি আসক্ত হয়ে পরে। তার কিছু কারন আছে।

আমাদের পাকস্থলী বা মস্তিষ্ক এবং রক্তের মধ্যে একটা প্রতিবন্ধক আছে। সেটা অনেকটা ছাকনির মত কাজ করে। পাকস্থলী থেকে যেমন সবকিছু রক্তে মিশতে পারেনা, তেমনি রক্ত থেকেও সকল উপাদান আমাদের মস্তিষ্কে যেতে পারেনা। এটা মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কোন ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য।

কিন্তু একেবারে কোলের শিশুদের এই প্রতিবন্ধকগুলি নেই। তারা যাই খায় প্রায় সবকিছুই রক্তে মিশে যেতে পারে। এমনকি বড় বড় পেপটাইডও (পেপটাইড হল বামন প্রোটিন)। তাই শিশুরা যা খায় তার উপাদানগুলি খুব সহজে তাদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে।

এবার আসি নেশার ব্যাপারে। আমাদের মস্তিষ্কে নিজেদেরই কিছু মরফিনের মত যৌগ এবং এদের গ্রাহক আছে। সেজন্য মরফিনের মত যৌগ (হেরোইন, মরফিন, কোডেইন) -গুলি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আসক্তি তৈরি করে। আমাদের মস্তিষ্কে মরফিনের মত যৌগগুলি হল একধরনের পেপটাইড, নাম এন্ডরফিন। এখন, এইধরনের পেপটাইডের উদ্ভব জীবের বিবর্তনে অনেক আদিকালে হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের তেমন কোনই পরিবর্তন ঘটেনি বিবর্তনের ইতিহাসে। সেজন্য, এন্ডরফিনের মত পেপটাইড আমরা বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারি যা মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
দুধে কেসিন নামক একধরনের প্রোটিন থাকে। এই কেসিন মানুষের অন্ত্রের একধরনের উৎসেচকের মাধ্যমে ভেঙে একটা পেপটাইড তৈরি করে - নাম বেটা-কেসিওমরফিন। আমাদের পাকস্থলী এই পেপটাইডকে রক্তে মিশতে বাঁধা দেয়। কিন্তু শিশুর রক্তে ঠিকই মিশে যেতে পারে তার অপরিপক্ক পাকস্থলীর জন্য। পেপটাইডটি রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে যায়। আর হেরোইনের মত ইউফোরিয়া এবং ভাললাগার অনুভূতি তৈরি করে শিশুর মস্তিষ্কে। আর এইজন্যই ধারনা করা হয় শিশু দুধে আসক্ত হয়ে যায়।

কেসিন দুধের একটা খুব সাধারন প্রোটিন, মানে অনেকপ্রাণীর দুধেই প্রায় কাছাকাছি কেসিন পাওয়া যায়। চিন্তা করেন যদি এই মরফিনসম কেসিন পেপটাইডে যদি আমরাও আসক্ত হতাম তবে কী হত? দুধের গরু কালোবাজারে কিনতে পাওয়া যেত!

-----------------------

বইটির কিছু কিছু অংশে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক বিবরণ আছে যেটা জীববিজ্ঞান না পড়া থাকলে ঝামেলা হবে মনে করি। কিন্তু তাই বলে বইটা আস্বাদনের খুব বেশি সমস্যা হবেনা বোধ হয়। বিশেষ করে যখন আপনি আপনার নিত্যদিনের গ্রহণ করা খাবারদাবার, অথবা অন্য জানা অজানা খাদ্যদ্রব্য নিয়ে চমকপ্রদ সব গল্প শুনবেন।

আমি দ্বিতীয় সংস্করণ পড়েছি, প্রকাশ হয়েছে ২০১৫ সালে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা থেকে মূদ্রিত। হার্ডকভারের দাম প্রায় ২৫ মার্কিন ডলার। তবে খুঁজলে ইবই পেয়ে যাবেন। পড়া হলে কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না!


মন্তব্য

তাহসিন রেজা এর ছবি

বইটি গত বছরের "ওয়ান্ট টু রিড" লিস্টে ছিল। শেষ পর্যন্ত আর পড়া হয়ে ওঠেনি। এই লেখাটি পড়ে বইটি পড়ার আগ্রহ আরো বাড়ল। ধন্যবাদ বইটি নিয়ে লেখার জন্য।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

সজীব ওসমান এর ছবি

ধন্যবাদ। পড়ে কেমন মনে হল জানাবেন।

তাহসিন রেজা এর ছবি

লেখাটির শিরোনাম কি ঠিক আছে?
"খাবারদাবার আর মস্তিষ্কের কাজকারবার, বই নিয়ে" নাকি "খাবারদাবার আর মস্তিষ্কের কাজকারবার, নিয়ে বই" চিন্তিত

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

সজীব ওসমান এর ছবি

হুমম। আসলে 'বই নিয়ে' কথটারই দরকার নাই। মুছে দিচ্ছি।

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

খুব দারুণ তো!

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

সজীব ওসমান এর ছবি

চলুক

সজীব ওসমান এর ছবি

চলুক

অনার্য তাপস এর ছবি

আরে অদ্ভূত তো! জোশ!

সজীব ওসমান এর ছবি

চলুক

দেবদ্যুতি এর ছবি

দারুণ! দারুণ!

...............................................................
“আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস”

সজীব ওসমান এর ছবি

চলুক

হিমু এর ছবি

আপনার কাছ থেকে সন্ধান পেয়ে এই বইটা পড়েছিলাম। শুরুতে একটা হার্ডল আছে, মস্তিষ্কের উদ্দীপনব্যবস্থাটা লেখক বেশ দ্রুত বুঝিয়ে কাজের কথায় চলে গেছেন। পরবর্তীতে এটা পুনরাবৃত্ত হয় নি বলে কিছু কিছু জিনিস ধরতে একটু বেগ পেতে হয়। আপনি এই বইটা থেকেই মস্তিষ্কের উদ্দীপনব্যবস্থা সহজ করে বুঝিয়ে একটা পোস্ট লেখার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

বইয়ের বাকি অংশটুকু বেশ চিত্তাকর্ষক। কল্পবিজ্ঞান গল্প লেখার রসদ আছে প্রচুর।

সজীব ওসমান এর ছবি

হুমম। শুধু প্রথমেই না, বেশি কিছু অধ্যায়েই মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু কঠিন কঠিন জায়গা আছে। সেটুকু একটু কষ্ট করে পড়ে ফেললে বইটার বাকি জায়গাগুলিতে মজাই পাওয়া যায়। কল্পবিজ্ঞানের রসদ আসলেই আছে!

শাতিল এর ছবি

অনুবাদক যদি বাক্যের ভাবার্থ সম্পূর্ণভাবে বুঝতে না পারেন, তাহলে তা বাক্যের অর্থ পরিবর্তন করে দেয়। আপনি যেসব চুম্বক অংশ অনুবাদ করেছেন এইখানে, সেখানে আমি তা দেখতে পাচ্ছি।

থিউজন গাবা গ্রাহকে বন্ধন সৃষ্টি করে লিখেছেন, তার পরেই লিখেছেন থিউজন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, নিউরন খুব সহজে ফায়ার করে বা উত্তেজিত হয়। আমজনাতার কাছে এই লাইন দুটো শুনতে বিশাল বিজ্ঞানে ভরপুর কথা মনে হয়, তার উপর যখন আইওয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকের বই থেকে অনুবাদ করছেন বলেন, তাহলে তো আর কথাই নেই।

এইবার বলি, অনুবাদ করতে গিয়ে ভুলটা কোথায় করেছেন। গ্যাবা মস্তিষ্কের ইনহিবিটরি নিউরোট্রান্সমিটার। গ্যাবা রিসেপটর যখন গ্যাবার বদলে অন্য কিছুর সাথে বন্ড করে তখন বাইন্ডিং সাইট ব্লক করে গ্যাবাকে তার কাজ করতে দেয় না, মস্তিষ্কের ইনহিবিটরী ফিডব্যাক লুপ বন্ধ হয়ে যায়। ইনহিবিটরী নিউরন অপর যেসব নিউরনকে এক্সাইট করা থেকে বিরত রাখছিল, সেগুলো এখন আর বন্ধ করার কেউ নেই। সেই সব নিউরণের অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার ফলেই মস্তিষ্কের আরো কিছু অংশ যা ঐসব নিউরণের সাথে যুক্ত তারা ফায়ার করা শুরু করে, ফলাফল সিজার(seizure), বা এপিলেপ্সী!

তার মানে হল থিউজন নিউরণের কার্যকারিতা বাড়ায় না, বরং ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রন বন্ধ করে দেয়। এই যৌগের ইফেক্টে সহজে ফায়ারিং না কঠিনে ফায়ারিং বলে কিছু নেই। স্রেফ সেন্সর লাগানো ট্যাপের মত, সেন্সর নষ্ট হয়ে গেলে হয় সবসময় ট্যাপ থেকে পানি পড়তেই থাকবে, নাহয় একদমই পানি পড়বে না ট্যাপ থেকে, ট্যাপের নীচে যতই হাত ঝাঁকান না কেন!

বইটা আপনার ভালো লেগেছে জানি, কিন্তু আক্ষরিক অনুবাদ করতে যেয়ে যদি ব্রেইনের মেকানিজমটাই ভুল রিপ্রেজেন্ট করে ফেলেন, সেটা কিন্তু ভুল বিজ্ঞান লেখা হয়ে যায়। আরেকটু সতর্কতার সাথে মেকানিজমটা ঠিক রেখে ভাবানুবাদ করলে মানুষের উপকারে আসবে আসা করি।

সজীব ওসমান এর ছবি

হেহে। ভাইজান মনে হয় রাগ করেছেন।

তবে যেমনটা বলেছেন -

আমজনাতার কাছে এই লাইন দুটো শুনতে বিশাল বিজ্ঞানে ভরপুর কথা মনে হয়, তার উপর যখন আইওয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকের বই থেকে অনুবাদ করছেন বলেন, তাহলে তো আর কথাই নেই।

আমি আসলে পাঠককে অতটা ছোট করে দেখিনা। আপনার মত বিজ্ঞ পাঠক সবখানেই আছেন।

তবে ঝামেলা হল কী জানেন? আমি লেখাটার অনুবাদে ভুল করিনি। আপনি কি বইটি পড়েছেন? না পড়ে থাকলে সেখান থেকে দুটো বাক্য উল্লেখ করি -

wormwood oil produced inappropriately increased brain activity - in short, an epileptic reaction. - পৃষ্ঠা ১৬৮, লাইন ৬।

লেখক এখানে মস্তিষ্কের 'ফায়ার' করাকেই হয়তো কার্যকারিতা বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন, যেটা আপনার পছন্দ হয়নাই। আমি কিন্তু 'কার্যক্ষমতা' বাড়ার বলছি না, খেয়াল করতে পারেন। কার্যকারিতার জায়গায় কি কাজকর্ম বাড়া বলা উচিত ছিল? হতে পারে। তবে 'কার্যকারিতার' আগে 'অনিয়ন্ত্রিতভাবে' বলা উচিত ছিল মনে করছি। সেটা আমার ভুল, স্বীকার করছি।

আমি নিউরোবিজ্ঞানী নই, সেজন্য আমি হয়তো খুব ভাল বুঝছিও না। আপনি চাইলে মূল লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, আপনার যদি মনে হয় তিনি ভুল বলেছেন তবে তাঁর ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য। তবে, তার আগে আর কোন কোন চুম্বক অংশে ভুল করেছি বলে উল্লেখ করেছেন সেটা বুঝিনাই। ধরিয়ে দিলে উপকৃত হতাম।

আপনার বিজ্ঞানে ভরপুর কমেন্টটির জন্য ধন্যবাদ। বইটি পড়বেন আশা করি (যদি এখনও না পড়ে থাকেন।)

শাতিল  এর ছবি

ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েটলি ইনক্রিজড ব্রেইন (নিউরন নয়, আপনি লিখেছেন নিউরন খুব সহজে উত্তেজিত হয় বা ফায়ার করে) অ্যাকটিভিটি - ইন শর্ট অ্যান এপিলেপটিক রিঅ্যাকশন, এই ইংরেজী শব্দগুলো সঠিক ভাবেই বোঝায় উনি কি বলতে চেয়েছেন, যা আপনার বাংলা লাইন দুটোতে আমি পাইনি। উনার অল্প কয়েকটা শব্দে উনি যে অর্থটা দিয়েছেন, সেটা আপনার বাংলায় মিসিং ছিল বলেই ভাবানুবাদের কথা বলেছিলাম, আক্ষরিক অনুবাদ ভুল হয়েছে বলিনি কিন্তু।আমি নিউরোসায়েন্সে পড়ি, উনার ইংরেজী বাক্যটা আমার কাছে পরিচিত, আপনার ঐ লাইনের বাংলাটা যে অর্থটা বোঝায়, সেটা নয়।

এন্ডোক্যানাবিনয়েড আর টিএইচসি(গাঁজার একটিভ কম্পোনেন্ট) দুটো ভিন্ন যৌগ। এন্ডক্যানাবিনয়েড অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করে মস্তিষ্কে, একে যখন বাংলায় মস্তিষ্কের গাঁজার মত যৌগ বলে সরলীরণ করা হয়, তখন এন্ডক্যানাবিনয়েডের ধনাত্মক কাজের উপর একটা ঋণাত্মক ভাব(অর্থ) আরোপিত হয়। খেয়াল করে দেখুন, বাংলায় গাঁজার মত যৌগ আর ইংরেজীতে মারিহুয়ানা লাইক কমপাউন্ড, দুটোই কিন্তু ঋণাত্মক অর্থ বহন করে (যদি আমার বাংলা এবং ইংরেজীবোধ দুটোই খুব খারাপ না হয়ে থাকে)। তাই আমি বলব, এন্ডোক্যানাবিনয়েড আর টিএইচসিকে তাদের নিজ নিজ নামে ডাকলেই ভালো হয়। পাঠকের উপর আস্থা থাকলে হয়ত এতোটা সরলীকরণ দরকার নেই (যদিও আমি নিশ্চিত না, মস্তিষ্কের ভেতরের গাঁজার মত যৌগ শব্দটি আপনার নাকি মূল লেখকের। আমার নিউরোসায়ন্সের আর্টিকেল পড়া অভিজ্ঞতা বলছে, শব্দটা মনে হয় লেখকের না, আপনার)

বইটা পড়িনি, পড়ব, এই বই যে আমার ভালো লাগবে, তা আমি জানি। ধন্যবাদ বইটার সাজেশনের জন্য।

ভাই না, বোন। আর এই বোন একটু মুখরা বটে, তবে এতো অল্পে ক্ষেপে না।

সজীব ওসমান এর ছবি

এবার সুন্দর করে কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ।

কিন্তু আমি একটু ধাঁধাঁয় আছি -

মস্তিষ্কের ভেতরের গাঁজার মত যৌগ শব্দটি আপনার নাকি মূল লেখকের। আমার নিউরোসায়ন্সের আর্টিকেল পড়া অভিজ্ঞতা বলছে, শব্দটা মনে হয় লেখকের না, আপনার

লেখক আক্ষরিক অর্থে এটাই বলেছেন। একবার নয়, কয়েকবার। সেজন্য আমি আপনাকে বইটা পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি, তাহলে হয়তো আপনার দাবীগুলি আরেকটু ভালভাবে করতে পারবেন।

ভাল থাকবেন।

তারেক অণু এর ছবি

বাহ, বই তো বেশ মজারু মনে হচ্ছে !

সজীব ওসমান এর ছবি

হাসি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

মজার বই। এখন থেকে সবকিছু খাবো আর চিন্তা করতে থাকবো এটা মস্তিষ্কে গিয়ে কি করছে? যেমন, একটু আগে চিনাবাদাম খেলাম কতগুলো, এর মধ্যেো যে কি আছে কে জানে?

সজীব ওসমান এর ছবি

চিনাবাদাম তো ভালই মনে হয় মস্তিষ্কের জন্য। বেশি বেশি খান হাসি

দময়ন্তী এর ছবি

এই বইটা পড়তেই হবে| ধন্যবাদ অনেক এমন একটা বইয়ের খোঁজ দেবার জন্য|

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক
নাদেরালী, আমি আর কত বই পড়বো!!! ওঁয়া ওঁয়া

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA