গল্প

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি (তারিখ: শনি, ২৪/১২/২০১১ - ৬:৪২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[ডিসক্লেইমারঃ এইটা একটা হাল্কা এক্সপেরিমেন্টাল প্যানপ্যানানী, ত্যানাপাচানী প্রেমের গপ্প। যাদের এই বিষয়ে অ্যালার্জি আছে তাদের জন্যে পূর্বসতর্কতা। অনেকদিন ধরে কিছু লেখা বেরোচ্ছিল না; হাতের জড়তা কাটানোর জন্যে লেখা।]

ওর সাথে দেখা হওয়াটা কাকতালীয়ই বলতে হবে। এভাবে এখানে দেখা হবে সেটা আসলে আমি আশাই করিনি। এমন না যে আমি জানতাম না কিছু, এমন না যে আমি জানতাম না ও কবে এসেছে, কোথায় আছে, কী করছে, কেমন আছে; সবই আমি জানতাম। জানতাম বলেই ওর সাথে আমার আর দেখা হবার কথা না। দেখা হবার কথা না, কারণ আমি চাইনি যে ওর সাথে আমার আর দেখা হোক। যে জানালাটাকে প্রায় দুবছর বন্ধ করে রেখেছি, যে জানালাটা বন্ধ করে রাখতে রাখতে সেখানে একটা জানালা ছিল কিনা সেটাই প্রায় ভুলতে বসেছি, তখন একটা দমকা হাওয়া এসে জানালাটা খুলে দিলে, বাইরের তাজা বাতাসের আগে জানালায় জমে থাকা ধুলা আর আধ-ভেজা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এসে লাগে, তাতে আর বাতাসটা উপভোগ করার অবস্থা থাকে না। ওকে হঠাৎ করে দেখার পর আমার প্রতিক্রিয়া অনেকটা সেরকমই হল।

কিন্তু আমি প্রতিক্রিয়া দেখাই না। শেষবার ওর সাথে যখন দেখা হল, ও যখন বলেছিল, শেষবারের মত, "ভাল থাকিস", তখনও কোন প্রতিক্রিয়া দেখাই নি। যদিও আমি জানতাম আমার আর ভাল থাকা হবে না। আমার আর ভাল থাকতে ইচ্ছে করবে না। আমি কিন্তু কিচ্ছু বলিনি তখনও, জোড় করে ঠোঁট দুটোকে ফাক করে হাসি হাসি করে রেখেছিলাম। ও হয়ত ভেবেছিল, আমি ভালই থাকব। ওর সেরকমই ভাবার কথা, ওকে সেরকমই ভাবাতে চেয়েছিলাম আমি। কেন চেয়েছিলাম সেটা আমি এখনও জানিনা, অবশ্য অন্যরকম চাইলেও কিছু হত না। আমাদের যে হবে না সেটা আমি বুঝে গিয়েছিলাম আগেই। তাই আমি কিচ্ছু বলিনি। চুপচাপ সরে এসেছিলাম।

সেই থেকে সব শেষ। পঁচিশ বছর অনর্গল কথার পরে, গত দুই বছর একটা কথাও হয়নি ওর সাথে। চাইলে হয়ত হতে পারত। তখনও ও আসত আমাদের বাসায়। আমি শুধু আস্তে করে সটকে পরতাম। আগে যেখানে ও বাসায় আসলে অনর্গল ওর সাথেই কথা হত শুধু, তখন শুধু চুপ করে পাশ কাটিয়ে নেমে যেতাম ঢাকার রাজপথে, যেখানে সব দীনতা মলিনতা ঢাকা পড়ে যায় অদ্ভুত ব্যস্ততায়। আমিও ব্যস্ত-ভাবে অবিন্যস্ত পা ফেলে হেটে যেতাম, বেশ কিছুক্ষণ, অনেক্ষণ, তারপর একইরকম ব্যস্ততায় ফিরে আসতাম উল্টাপথে। সবাই কি বুঝত? বুঝত হয়ত, কিন্তু কিছু বলত না কেউ, আমাকে কেউ কিছু বলে না। আমিও কাউকে কিছু বলি না, জোড় করে ঠোঁট দুটোকে ফাক করে হাসি হাসি করে রাখি, সবাইকে জানতে দেই, সব ঠিক আছে, সব ঠিক আছে।

আজ ঠিক দুই বছর তিনদিন পর। ওর সাথে শেষবার কথা হবার পর। ওর সেই শুকনো মুখের "ভাল থাকিস"এর পর, ঠিক দুই বছর তিনদিন পর, আজ সকালে, দরজায় একটা ইতস্তত, খুব চেনা, খুব অনাকাঙ্ক্ষিত সেই টোকা, কয়েকবার, টোকার শব্দেই অস্থিরতা টের পাওয়া যায়। খুব পরিচিত একটা গন্ধও কি নাকে লাগে, নাকি আমার মনের ভুল ছিল ওটা? আমি তখন বাসা থেকে বের হব। এসময় তো কারও আসার কথা নয়, এসময় তো কেউ আসে না! ডোর হোলে চোখ রাখি। দু-একটা হার্ট-বিট বোধহয় মিস হয়ে যায় আমার। আমার বুকের ধুপধুপ শব্দে হঠাৎ টের পাই চারিদিকে খুব চুপচাপ। আস্তে করে দরজাটা খুলে দেই। কিচ্ছু বলি না আমি। ওর হাতে একটা ট্রাভেল ব্যাগ, পাশে সরে ভেতরে আসার জায়গা করে দেই আমি। ও কিছুক্ষণ চুপ থাকে, বেশ কিছুক্ষণ, তারপর আমার দিকে মুখ তুলে বলে, "ভাল আছিস?"

আমার জানা সবচেয়ে ছোট্ট শব্দটা দিয়ে কাজ সারি, আস্তে করে বলি, "হু"। ওর হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে ভেতরে চলে আসি। আমার পেছন পেছন ও এসে ঘরে ঢোকে, আমার চেয়ারটায় আস্তে করে বসে। আমিও ধপ করে বসে পড়ি মেঝেতে। আগের মতই মুখটাকে হাসি হাসি করে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু সেটা যে হচ্ছে না নিজেই টের পাই। আমার কথা বলার একটা টোন আছে, সিরিয়াস কথা আমি বলতে পারি না, সিরিয়াস কথাও শেষ পর্যন্ত কেমন যেন ফাজলামি টাইপ শোনায়। এই টোনটা অনেক কষ্ট করে আয়ত্ত করা আমার। সব আবেগ আর দুর্বলতা ওই টোনের আড়ালে চাপা দিয়ে রাখি আমি। বেশ ভালই পারি কাজটা। আমার পাশে-পাশের লোক আমাকে বোধহয় মাঝে সাঁঝে একেবারে হার্ট-লেস ভেবে বসে, এমনকি আমি মাঝে মাঝে নিজেই বিশ্বাস করে ফেলি। কিন্তু এরকম কোন কোন মুহূর্তে ওসব কিচ্ছু কাজ করে না, নির্লজ্জের মত খুব বেশী শব্দ করে আমার শূন্য হৃৎপিণ্ড তার অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি জানান দিতে থাকে। যে মেয়েটার সাথে গল্প করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম, আজকে হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত সেই মেয়েটাকে সামনে পেয়ে আমার সব কৃত্রিম লোক দেখানো স্মার্টনেস, এতদিনের প্র্যাকটিস করা সারকাস্টিক হাল্কা টোন বিশ্বাসঘাতকতা করে বসে। শুধু টের পাই, খুব কাছে বসে থাকা ওকেও খুব ঝাপসা দেখছি। নাহ আমি কখনও কাঁদি না। কান্না ব্যাপারটা ঠিক আমার সাথে যায় না।

কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলায় না। হালকা স্মার্টনেস বের হয়ে আসে, আমার হালকা টোনের সাথে,

"তা কি মনে করে হঠাৎ?"

এমনভাবে বললাম যেন, ও প্রতিদিনই আসে, কিন্তু খবর দিয়ে, আজ হঠাৎ চলে এসেছে। এরকম বোকার কথা অনেকদিন বোধহয় বলিনি। বলার মত পরিস্থিতিতে পরিনি হয়ত। টের পাই সব পরিস্থিতিতে আমার লোকদেখানো সারকাস্টিক ইগোসেন্ট্রিক স্মার্টনেস চলে না, সব পরিস্থিতিতে হাস্যরস দিয়ে পরিস্থিতি নিজের আয়ত্তে আনা যায় না, আর গেলেও সেটা আমি এখনও পারি না। বলেই তাই চুপ হয়ে যাই। চট করে উঠে আসে ও, বেশ জোরে একটা চড় মেরে বসে আমাকে, কান্না আর আটকে রাখতে পারে না, বলে,

"আর একটা কথাও বলবি না তুই, একটা কথাও বলবি না, কাজের কথা একটাও তুই বলছিস কোনদিন?"

কান্না সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় ওকে। আমার খুব ইচ্ছে করে ওর হাতটা শক্ত করে বুকের ভেতর চেপে ধরতে, খুব ইচ্ছে করে ওর মাথাটা বুকের ভেতর চেপে ধরে, খুব সহজ করে বলতে, "কাঁদিস না বোকার মত"। ইচ্ছেমত কোন কাজ কখনই করা হয় না আমার। আমি তাই বোকার মত চুপ করে বসে থাকি ওখানেই। পায়ের ওপর টপ করে একফোঁটা গরম পানির পতন টের পাই, আমার চোখ থেকেই বোধহয়। খুব সাবধানে মুছে ফেলি। ওর দিকে তাকিয়ে দেখি, নাহ ও দেখেনি, ও তখন কান্না সামলাতে ব্যস্ত।

ওর সাথে আমার প্রথম দেখা, এখন থেকে সাতাশ বছর আগে। ঠিকভাবে বললে সাতাশ বছর তিনদিন আগে। যদিও প্রথম দেখার স্মৃতি আমার ঠিক মনে নেই, কিন্তু আমি ঠিক কল্পনা করে নিতে পারি। আমার ঠিক পাশের দোলনাটাতেই তো ও ছিল। তখনও তো আমাদের কারই নাম রাখা হয়নি। আমার ঠিক মনে পড়ে না ও আমার বামদিকে ছিল নাকি ডানদিকে, কিন্তু খুব কাছাকাছি যে ছিল সেটা আমি নিশ্চিত। আমাদের জন্ম হয়েছিল, একইদিনে, একই হসপিটালে, পাশাপাশি রাখা ছিল আমাদের শৈশবের দুটো নিষ্পাপ শরীর। যদিও আমার মনে পড়ে না, ওকে কি একটু ছুঁয়ে দিয়েছিলাম সেদিনই? ওর গায়ের সেই অদ্ভুত গন্ধ কি সেদিন থেকেই আমার মগজে এক অদ্ভুত নেশা তৈরি করে রেখেছিল? এসব কথা মনে হয়ে মাঝে মাঝে আমার নিজেরই হাসি পায়, আমার মত হার্ট-লেস একজন এসব কী ভাবছি? এরকম রোমান্টিক আর অবাস্তব ভাবনা কি আমাকে মানায়? আমার চারপাশের শক্ত দেয়ালের বাইরে তাই বের হয়না এসব বালখিল্যতা। আমার তাই কখনও ভালবাসা হয়না, কাউকে ভালবেসে ফেলা, আমার তৈরি করা আমির জন্যে খুব দুর্বল একটা দিক। আমার তৈরি করা আমি শুধু, সব দেখে হেসে উড়িয়ে দেই, ভেতরে জন্ম নেয়া দীর্ঘশ্বাসগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছোট ছোট শ্বাস-প্রশ্বাস তৈরি করি, সবাই দেখুক, আমি খুব ভাল আছি, খুব ভাল।

ওটা ছিল শুরু। এরপর স্বাভাবিকভাবেই বড় হতে থাকি আমরা। বাড়তে থাকে আমাদের বয়স। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক আর বাড়ে না। সবচেয়ে বেশীর চেয়ে বেশী বলে তো আর কিছু নেই। একটা সময় পর্যন্ত আমাদের মধ্যে কোন দেয়াল ছিল না। তখনকার আমি ঠিক এই আজকের আমি হয়ে উঠি নি। তখনও দেয়াল বানানো শিখি নি, দেয়াল বানাতে হয় বুঝি নি। আমাদের সম্পর্ক ছিল তাই নদীর মত অনেকটা, কিন্তু তারচেয়েও উদ্দেশ্যহীন। নদী হয়ত সাগরে মিশবে বলেই অতটা তীব্র বেগে বয়ে চলে। কোন লক্ষ্য না থাকলে নদীর গতি হয়ত আরও ধীর হত, আরও উচ্ছল হত। আমাদের সম্পর্কও ছিল অনেকটা লক্ষ্যহীন নদীর মত, শুধু বয়ে চলার আনন্দে যে নদী বয়ে চলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে নদী সাগরে মেশে না, সে নদী তো মৃত নদী। যে সম্পর্কের কোন নাম নেই, উদ্দেশ্য নেই, সেই সম্পর্কও কি মৃত সম্পর্ক?

কিন্তু সময় একভাবে কাটে না। বয়স আরও বাড়তে থাকে। তখনও আমাদের মধ্যে প্রেম নেই। প্রেম নেই মানে কাউকে কেউ কখনও বলিনি আমরা, কখনও বলা হয়নি। বয়সটা তখন অন্যরকম, তখনও আমিও অন্যরকম, ওও কি কিছুটা অন্যরকম হয়ে উঠেছিল তখন? আগে যেটা কখনও হয়নি, সেটা হতে শুরু করল। আগে যেটা ছিল, দেখা হলে কথা হত, কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কিন্তু এমনও গেছে, একমাস দেখা হয়নি, তাতে সম্পর্কে টান পড়েনি কখনও, আলাদাভাবে ওকে দেখার ইচ্ছে হয়নি কখনও। কিন্তু তখন মনে হত ওকে না দেখলে আর ভাল লাগছে না, দেখা হলেও আমি ঠিক আর স্বাভাবিক থাকতে পারতাম না, বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডটা অকারণে ছটফট করা শুরু করত। ওর হাতটা অনেক ছুতোয় একটু ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছে করত। ওরও একটু ইচ্ছে করত না? না হলে সেই রাতে সবাই মিলে যখন মুভি দেখছিলাম, ওর খুব নরম হাতটা আলতো করে আমার হাতের কাছে ফেলে রেখেছিল কেন? আমি যখন আলতো করে ওর হাতটাতে আমার কড়ে আঙ্গুল ছুঁইয়েছিলাম, ও হাত সরিয়ে নেয়নি কেন? তারপর ওর নরম হাতটা যখন আমার হাতের মধ্যে নিয়ে বোকার মত খেলছিলাম, ও হাত সরিয়ে নেয়নি কেন? ঘরে অত জায়গা থাকতে, আমার পাশেই ও বসেছিল কেন? এই কি প্রেম? আমরা কি তাহলে প্রেমে পড়েছিলাম?

দেয়ালটা তৈরি হয়ে গেল তখন থেকেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করতাম। এমএসএনে বসে থাকতাম সারারাত। কখনও কখনও শুধু দেখতে থাকতাম, ও অনলাইনে আছে কিনা। মাঝে মাঝে আমি অনলাইন হয়ে অপেক্ষা করতাম, ও নক করে কিনা, দেখার জন্যে। মাঝে মাঝে পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা চলে যেত। ওদিক থেকে কোন নক নেই, আমি অপেক্ষা করে বসে আছি, চাইলে আমি নক করতে পারি, কিন্তু প্রতিদিন আমিই নক করব? মেজাজ চড়ে যেত মাঝে মাঝে, অধৈর্য হয়ে নক করতাম, বলতাম আমার সেই হাল্কা চালে, "কিরে, খবর কী?, আবার মাঝে মাঝে রাগ দেখাতাম। আমার রাগ টেকে না। চ্যাট শুরু হত, প্রায়ই সারারাত। কী নেই যা নিয়ে কথা বলতাম না। দেয়াল আমাদের মাঝে কোনদিনও ছিল না, কিন্তু তখন একটা দেয়াল তৈরি হয়ে গেছে বোধহয়। দেয়ালের একপাশে চাপা থাকত, ওকে নিয়ে আমার অস্থিরতার কথা, ওকে নিয়ে করা অভিমানের কথা, ওর হাত ধরার জন্যে বুকের মধ্যে চেপে রাখা ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাসের কথা। চাপা পরে থাকত, খুব চুপচাপ ওর হাত ধরে কাটানো একটা রাতের কথা।

ওকে বুঝতে চাইতাম। বুঝতাম না। আমাদের ঘণ্টায় ঘণ্টায় যোগাযোগ হত, নাহ ফোনে কথা হত খুব কম, এসএমএম। এসএমএস আর এমএসএন আর দুইপাশে আমরা দু'জন। সব কিছু বলা হয়ে যেত, শুধু যেটা বলা খুব দরকার ছিল, সেটা কক্ষনও বলা হত না। ও কি বুঝত কিছু? মেয়েরা নাকি তাকানো দেখলেই সব বুঝতে পারে। মাঝে মাঝে আমাকে বলত শুধু, "তুই এত চাপা কেন? তুই একসময় খুব কষ্ট পাবি, সব ক্ষেত্রে ইগো রাখা ভাল না"। আমি স্বভাবসুলভ দীর্ঘশ্বাসটা চেপে রেখে হেসে উড়িয়ে দিতাম।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারলাম না। যার সাথে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট হত, তাকে কিছু সরাসরি বলতে পারলাম না। মেইল দিলাম একটা। খুব ক্লিয়ার করে কিছু লেখা না। মুখ শুকনা করে কম্পিউটারের সামনে বসে আছি, মেসেঞ্জারে অ্যাপিয়ার অফ্লাইন হয়ে। দুই-একবার নক করল, আমি ভয়ে কোন রিপ্লাই দিলাম না। রিজেকশানের ভয় আমার ছিল না। ভয় ছিল এতদিনের একটা নাম না দেয়া উষ্ণ সম্পর্কের নাম না দেয়া একটা শীতল সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার ভয়। ও রিপ্লাই করল শেষ পর্যন্ত, পরিষ্কার কিছু না, লিখল, "চল কোথাও দেখা করি আমরা, বাসার বাইরে, ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাপারগুলা ক্লিয়ার করি"।

অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়। অনেক কিছু ক্লিয়ার হয় না। ওর কথা শুনে একটা জিনিস বুঝি ওর হয়ত আপত্তি নেই। কিন্তু ওর কথায় কোন ড্রাইভ খুঁজে পাই না আমি। কেন যেন কথা শুনে মনে হয়, আমি চাচ্ছি তাই কোন আপত্তি নেই ওর। ও নিজে কী চায় স্পষ্ট করে বলে না। আমি ঝুলে থাকি। আমাদের কথা চলে, কথা প্রসঙ্গে মাঝে মাঝে ওর বিয়ের কথা চলে আসে। আমাকে জিজ্ঞেস করে ওর বিয়ে হলে আমি কতটা কষ্ট পাব। নাটকীয় কথা আমি বলতে পারি না, কিন্তু তারপরও আমার মুখ দিয়ে তখন অনেক নাটকীয় কথা বেরিয়ে আসে। ইয়াহু মেসেঞ্জার এর স্ট্যাটাসে ন্যাকা ন্যাকা ছাঁকা খাওয়া ডায়ালগে ভরিয়ে দেই।

একটা বাঁধা থেকে যায়, অনেক বড় বাধাই। কী বাঁধা সেটা আমি কখনও বলি না। কাউকে বলিনি, কখনও বলব না। আমি এসব কিচ্ছু মানতাম না। সবকিছু ছেড়ে দিতাম, যদি আমি ওর চোখে একটু ড্রাইভ দেখতাম। কিন্তু ও বলত, "দেখ এখন হয়ত চাচ্ছিস, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরে খারাপ কিছু হলে এটাকে কিন্তু দোষ দিবি"। এসব লেকচার শুনি তখন। আমি ওর হাত ধরে পাগলের মত বলতে পারি না, "চল আমি কিচ্ছু মানি, কাউকে মানি না, তুই সাথে থাকলে আমার কিচ্ছু লাগবে না", চুতমারানি ইগো এসে বলে, "ওর তো ড্রাইভ নাই, তোর এত ড্রাইভ ক্যান, একটা জীবন একা কাটায়ে দিতে পারবি না?"

এরপর সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে যায়। ততদিনে ওকে মেসেঞ্জার আর ফেসবুক থেকে ডিলিট করেছি, নাহ ওর ওপর রাগ থেকে না, ওকে কোথাও দেখলে খুব কষ্ট হত। ওকে ভুলে থাকার জন্যে, ওর আপডেট যেন আমার কাছে না আসে, এজন্যে। ওদের আসার কথা থাকলে বাসা থেকে আস্তে করে সটকে পড়তাম। নাহ ওর ওপর আমার কোন রাগ নেই, রাগ আছে আমার নিজের উপর, রাগ আছে নিজের চুতমারানি ইগোর ওপর। এরপর বাইরে চলে আসি, মাস্টার্সের জন্যে। এখন খবর না রাখতে চাইলেও খবর চলে আসে। শুনতে পাই অন্য একটা ছেলের সাথে ওর রিলেশান হয়েছে। আমি এগুলা কানে ঢুকাই না। আমার ঘরের একটা জানালা বন্ধই থাকে, মাঝে মাঝে দমকা বাতাসে খুলে যেতে চায়, তখন আমি আরও শক্ত করে আটকে দেই। ওখানে যে একটা জানালা ছিল সেটাই ভুলে যেতে চেষ্টা করি। এরপর ওর বিয়ে হয়ে যায়, সে খবরও কানে আসে, এরপর দেশ ছেড়ে চলে আসে এখানে, জামাইয়ের সাথে, সে খবরও কানে আসে, ফেসবুকে পরিচিত অনেকের অ্যালবামে ছবি দেখি। এগুলো এখন আর পাত্তা দেই না, দীর্ঘশ্বাসকে কিভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছোট করতে হয় সেই টেকনিক আমি শিখে গেছি।

ও এবার মুখ তুলে কথা বলা শুরু করে, গলায় এখন আর কান্না মিশে নেই। বেশ শক্ত করে বলে, "তুই নাকি লেখালেখি করিতেছিস এখন?"

আমি কোন মাথামুণ্ডু খুঁজে পাই না। আমি লেখালেখি করতেছি সেই প্রশ্ন করতে এতদূর কেন আসবে ও? আমি কোথায় থাকি তাইবা কিভাবে জানল? আর জানলেই বা এভাবে একা একা আমার বাসায় চলে আসবে কেন? আমার মাথায় কিছুই ঢোকে না।

ও আবার বলে, "আমারে নিয়ে গল্প লিখিস এখন? হিপোক্রেট। একবার তো মুখ শক্ত করে বলতে পারিস নাই, আমাকে ভালবাসিস। বল এখন, আমাকে ভালবাসিস? এত কথা লিখতে গেলে বের হয়, আমাকে একদিন বড় করে বলছিস কখনও গাধা? এখন সাহিত্য ফলাস? আমারে নিয়ে সাহিত্য ফলাস?"

বোকার মত তাকিয়ে থাকি। শুধু আস্তে আস্তে বলি, "আমার জীবনে তো গল্প ছাড়া আর কিছু বাকি নাই? তুই শুধু শুধু কেন আসলি? আমার একটা জানালা তো সেই কবে থেকে বন্ধ, তুই কেন আসলি আবার? কেন আসলি?"

ও পকেট থেকে দোমড়ানো মোচড়ানো কয়েকটা কাগজ বের করে আমার দিকে ছুঁড়ে দেয়। দেখি আমার লেখা 'গল্প' গল্পটার প্রিন্টাউট। আবার কাঁদতে থাকে ও, একটা চড় মেরে বলে, "আমারে নিয়ে সাহিত্য ফলাস এখন?, আমারে নিয়ে সাহিত্য ফলাস? হিপোক্রেট।"

আমি বরাবরের মতই কিছু বলার পাই না। ওর হাতদুটো ধরে রাখতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু গল্পে ওভাবে লেখা নেই। গল্পে ওভাবে লেখা থাকে না।


মন্তব্য

মাসুম এর ছবি

লেখাটা পড়ে ভাল লাগলো । শিরোনাম টা গল্প না দিয়ে অন্য কিছু দিলে ভাল দেখাবে মনে হয়

masum14

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে গল্পটাতো 'গল্প' নামের গল্পটা নিয়েই, তাই গল্পের নাম 'গল্প'

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নীড় সন্ধানী এর ছবি

সম্পর্কের সূচনাটা নিয়ে রহস্য রয়ে গেলেও গল্পটার সমাপ্তিটা দারুণ। চলুক

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

সূচনাটা খুব জরুরী নয় বলে ইচ্ছে করে সূচনাটা ঝাপসা রেখেছি। কারণ সূচনাতেও যথেষ্ট জটিলতা আছে, সেক্ষেত্রে আমার গল্পের মূল থিম অ্যাটেনশান হারাত। অন্য কোন সময় সূচনা নিয়ে অন্যভাবে লিখব হয়ত।

অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

আফরিন এর ছবি

ধুর!!!!!!!!!! আর একটু বড় হইত গল্পটা ............ নায়ক নায়িকার মিল হইত .................. মন খারাপ

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

বাস্তবে নায়ক নায়িকার মিল হয়নি, এই গল্প বাস্তবের সাথে প্রতারণা করবে না।
অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তাপস শর্মা এর ছবি

কবি ভাই। গল্পটা এক কথায় অসাধারণ লেগেছে। প্রথম থেকে শেষ একটা গতি নিয়ে শেষ করলাম...

তবে আমি যে গল্প লেখার চেষ্টা করলে সেগুলো হালুয়া হয়ে যায়, তার জন্য যে কি দুক্ষু হয় খাইছে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ তাপসদা।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ওয়েল্কাম ব্যাক উইথ ইয়োর আইডি। লিখে ফাটিয়ে দেন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

sumondhrubo এর ছবি

মজা পাই নাই কেনো যেন...।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

সুমন ভাই, প্যানপ্যানানী গল্পতো, ভাল না লাগার যথেষ্ট কারণ আছে। মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তারেক অণু এর ছবি

শেষের লাইন দুটি ঝাঝা ! আরো লিখতে থাকুন, অবিরাম !

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ধন্যবাদ অনুদা। সচলে এত এত লেখক আর লেখা, পড়তে পড়তে আর লেখা হয়ে ওঠে না।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললামা ভাল লাগলো।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ঝুমন এর ছবি

কিন্তু ফেরা কই?

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ফেরা লেখার জন্যে হাতের জড়তা কাটালাম। আসবে ফেরা।
অনেক ধন্যবাদ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শাব্দিক এর ছবি

"গল্প" টা ঠিক গল্প মনে হল না, খুব পরিচিত কোন ঘটনার সাথে কেমন করে যেন মিলে গেল।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

গল্প তো আসলে বাস্তব ঘটনাই, মিশিয়ে টিশিয়ে বলে দেয়া আরকি। ধন্যবাদ। অনেকদিন আপনার লেখা পাই না!

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শাব্দিক এর ছবি

আমার আবার লেখা কি!!! আমি তো পাঠক।
আপনি বরং তাড়াতাড়ি কামলি ভাইয়ের একটা ব্যবস্থা করে ফেলেন।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এইতো হাত দিলাম লেখায়।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

স্বপ্নলোভী এর ছবি

ভাল লাগল, মন একটু উদাস হয়ে গেল মন খারাপ

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অসুবিধা নাই, হোম্পেজ এ চরম উদাস ভাইয়ের একটা লেখা আসছে, ওটা পড়েন উদাস ভাব কেটে যাবে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কালো কাক এর ছবি

ভালো লাগলো তো হাসি
মাঝের ঘটনাটুকু সবাই যার যার "জীবন থেকে নেয়া" ভাবতে পারে, শুরু আর শেষ অবশ্য একেকজনের জন্য একেকটা।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ধন্যবাদ।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নসাহা লরুমকা এর ছবি

টুপি বন্ধ (হ্যাটস অফ) দেঁতো হাসি খুব ভাল লাগল :clap:

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

থ্যাঙ্কু ভাই।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

উচ্ছলা এর ছবি

আপ্নে দুইটা থাপ্পর খাইসেন দেঁতো হাসি

চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

থাপ্পড়দুইটাই দেখলেন? তার সাথে যে ভালবাসার মধু মেশানো ছিল সেটা দেখলেন না?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

বন্দনা এর ছবি

প্রেম-ভালুবাসার গল্প ব্যাপক ভালু পাই। আর আপনার ফেরার ফিরে আসতে আর কতদূর হে কবি।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

নিজের প্রেমকাহিনী লিখে ফেলেন। আমাদেরও একটু ভালু পাইতে দেন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

বিবর্ন সময় এর ছবি

অসাধারণ লাগলো যে ভাই!
কিন্তু আপ্নে জানলেন কেম্নে!!! বলতে গেলে পুরোটা মিলে গেল তো!!!... শেষটুকু ছাড়া; শেষটুকুর মঞ্চায়ন এখনো বাকি! হাসি

ভালো থাকবেন!

--
বিবর্ন সময়

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনার সাথে কী মিলে গেল?? দোলনা থেকে প্রেম আপনার?? আমি তো ভাবতাম এগুলা গল্প উপন্যাসেই হয়। আর শেষটুকুর মঞ্চায়ন না হওয়াই বোধহয় ভাল। ভাল থাকুন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কল্যাণ এর ছবি

দেঁতো হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ভাই আপনি কই আছিলেন এতদিন? আপনি না থাকায় লোকজন সব অলস হইয়া যাইতেছে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নিলয় নন্দী এর ছবি

দুইটা মাইর লাগানোতে সিনেমার মতো টেস্ট পাইলাম।
তারপরও... লাইক দিলাম।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।