দোষ কার?

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
লিখেছেন সুবিনয় মুস্তফী (তারিখ: বুধ, ১১/০২/২০০৯ - ৬:৫১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

auto

একটু দেরীতে হলেও অবশেষে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে - দোষ কার? এই যে পুরো পৃথিবী ভেসে যাচ্ছে লাল কালির জোয়ারে, দেশে দেশে বাড়ছে বেকারত্ব আর নামছে জিডিপি - এর পেছনে কার দায়-দায়িত্ব সবচেয়ে বেশী? পুরো সাবপ্রাইম ক্রাইসিস+ক্রেডিট ক্রাঞ্চ বিষয়টাই ভয়ংকর ঘোলাটে, বিশ্বের তাবত বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদরা এই ঘটনা বুঝতে গিয়ে বারবার উশ্‌টা খেয়েছেন এবং সামনেও খাবেন। সমগ্র অর্থনীতিবিদ প্রফেশনের মধ্যে থেকে হাতে-গোণা কয়েকজন (যেমন নুরিয়েল রুবিনি সাহেব) এই ক্রাইসিস থেকে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আর মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পেরেছেন। বাকি সব বিশেষজ্ঞরা আম-জনতার মতই খারাপ খবরের বন্যায় খাবি খাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত দোষ কাদের কাদের ঘাড়ে পড়েছে, তার একটা শর্ট-লিস্ট করা যাক। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন প্রধাণ সর্বজন-ধিকৃত অ্যালান গ্রীন্সপ্যানের দোষ-ত্রুটি এর আগে ডিটেইলে আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে, আসামীর তালিকা ততো লম্বা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং সেক্টর থেকে যেহেতু ক্রাইসিসের শুরু, তাই এই হাউজিং সেক্টরে যারা কাজ করতেন তাদের দায়-দায়িত্বও প্রচুর। যেমন বিভিন্ন মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান, তারপরে বাড়ি-বিক্রির এজেন্ট ইত্যাদি। এরাই আজে-বাজে লোকের হাতে বাড়ি আর লোন তুলে দিয়ে হাউজিং সেক্টরের চরম বারোটা বাজিয়েছেন

কিন্তু তার পেছনেও লোক আছে। হাউজিং সেক্টরের সাথে যারা সরাসরি জড়িত, তারাও এক প্রকার চাপের মুখে পড়ে এই কাজগুলো করতে বাধ্য হয়েছিলেন - এমন অভিযোগ আছে। সেই দোষ মূলত গিয়ে পড়েছে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-দের ঘাড়ে। এদের বাড়াবাড়ি বোনাস কালচার সম্প্রতি পশ্চিমে প্রচন্ড বিতর্কের কারন হয়েছে। আর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের পক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আরো গভীর জল থেকে মাছ তুলে এনেছেন কেউ কেউ। এরা বলেছেন যে দোষ মূলত মার্কিন আর বৃটিশ সরকারের, কারন এরাই ৮০ আর ৯০-এর দশকে ফিনানশিয়াল ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত নিয়মকানুন শিথিল করে দিয়ে এই সর্বনাশের বীজ রোপন করেছিল।

এদের মূল বক্তব্য অনেকটা এই রকম। ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি আর ৫-১০টা ইন্ডাস্ট্রির মত না। একটা মুদির দোকান উঠে গেলে বৃহত্তর অর্থনীতির ক্ষয়-ক্ষতি সামান্য। একটা শিল্প কারখানা নাই হয়ে গেলে বা একটা গাড়ী কম্পানী দেউলিয়া হয়ে গেলে সেটা শ্রমিক মালিকের জন্যে কষ্টকর, কিন্তু আবারও ম্যাক্রো-অর্থনীতির কাঠামো তাতে বিচলিত হয় না।

কিন্তু একটা ব্যাংক খেলা করে মানুষের টাকা পয়সা নিয়ে। গোটা ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি একদিকে মানুষের গচ্ছিত টাকার হেফাজত করছে, সেভিংস-এর সঞ্চালন করছে, আর অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানাকে লোন দিচ্ছে, ফান্ড সরবরাহ করছে তাদের উন্নতি-বৃদ্ধির জন্যে। এইখানে একটু সরলীকরণ করি। গোটা অর্থনীতিকে যদি একটা মেশিনের মত করে দেখেন, তাহলে সেই মেশিনের একটা কলকব্জা হতে পারে একটা মুদির দোকান বা একটা গাড়ির ফ্যাক্টরি। আগেরটা একটু ছোট, পরেরটা একটু বড়। কিন্তু দুটোই সেই অর্থনীতি নামের মেশিনের দুটো মুভিং পার্ট। একটা ইউনিট নষ্ট হয়ে গেলে সেটার পরিবর্তে আরেকটা ইউনিট বসিয়ে দিয়ে সুন্দর কাজ চালানো যেতে পারে।

কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টর? এই ব্যাংকিং সেক্টর সাপ্লাই দিচ্ছে সেই পুরো মেশিনের গ্রীজ বা লুব্রিকেন্ট - যার অপর নাম ঋণ বা লোন বা পুঁজি। ব্যাংকিং সেক্টরে যদি কোন বড় কোন এক্সিডেন্ট ঘটে, বা সেই সেক্টর যদি থুবড়ে পড়ে, তাহলে পুরো অর্থনীতির মেশিন চলাচল বিকট শব্দ করে বন্ধ হয়ে যাবে। মেশিনের একটা পার্টও আর নড়বে না। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সেটাই হয়েছে - মেশিনে কোন গ্রীজ নেই, তাই কল-কব্জা কিছুই নড়ছে না। স্থবির আটকে আছে সব কিছু।

তাই প্রশ্ন উঠেছে - যেখানে ভোক্তার ব্যবহার্য জিনিসপত্রের গুণগত মান উন্নয়নের পেছনে এতো মনোযোগ দেয়া হয়েছে, তখন ব্যাংকিং সেক্টরে কেন ঠিক উল্টো কাজ করা হলো? ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগের তুলনায় একটা গাড়ির নিরাপত্তা ফীচার্স আজকে অনেক বেশী। সুপারমার্কেটে খাদ্যসামগ্রী বা রোগীর ঔষধ-পাতির কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক বেশী নিয়ম-কানুন বসানো হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে ব্যাংকিং-এর সেফটি ফীচার্স-গুলো একে একে কেড়ে নেয়া নেয়া হয়েছে। ব্যাংকিং-এ চলেছে সীমাহীন ডি-রেগুলেশান (deregulation), যেখানে ভোক্তা সামগ্রীর ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে হয়েছে রেগুলেশান।

ব্যাংকিং-এর মত ক্রিটিকাল খাতেই কি যথাযথ রেগুলেশান আরো বেশী জরুরী ছিল না? এই স্বল্পবুদ্ধির কাজ ওরা কিভাবে সম্পাদন করলো?

দোষের আরো দু-তিনটে লেভেল আছে। লিকুইডিটির এপিঠ ওপিঠ। (লিকুইডিটির বিষদ ব্যাখ্যা এই পুরনো লেখাটায় পাবেন।) পশ্চিমা অর্থনীতিতে গত কয়েক বছরের বেপরোয়া লিকুইডিটি বৃদ্ধি আজকে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। আবার অনেকে বলছেন যে লিকুইডিটি তো আর এমনি এমনি চলে আসেনি, সেটা এসেছে লিকুইডিটি সমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে - চীন অথবা তেল উৎপাদক দেশগুলো যেমন। বিতর্কিত দাবী - যে এদের ঘাড়েও দোষের কিছু অংশ বর্তায়।

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে, এদের লিকুইডিটির উৎস কি ছিল? চীনের লিকুইডিটির উৎস তাদের বিশাল রপ্তানী সেক্টর - যেই পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা তারা অর্জন করেছে গত ত্রিশ বছরে সেটার বিরাট অংশ তারা আবার পশ্চিমেই রিসাইকেল করেছে। চীনের ডলার পলিসি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। বারবার এই অভিযোগ করা হয়েছে যে নিজস্ব কারেন্সি-কে জোর করে সস্তা রেখেই চীন পশ্চিমে তাদের রপ্তানীর এতো বড় বাজার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।

পাশাপাশি দোষ পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর বৃটেনের সমগ্র ভোক্তা শ্রেণীর উপর। যারা ৬০-৭০ বছর আগে ডিপ্রেশন আর বিশ্বযুদ্ধ দেখে এসেছে, তারা তো আগে টাকা-পয়সা খরচে আরো অনেক বেশী হিসাবী ছিল (যেমনটা জার্মান জনগোষ্ঠী আজ পর্যন্ত আছে।) কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আর বৃটেনের জনগণের মধ্যে (ইঙ্গভাষী বিধায় এদের একত্রে নাম দেয়া হয়েছে Anglo-Saxon nations) বিশেষ করে গত ত্রিশ বছরে ভোগবাদী কালচার এত বেশী করে প্রোথিত হলো কি করে? কেন প্রতিটা পরিবার এখানে হাজার হাজার ডলার বা হাজার হাজার পাউন্ড ক্রেডিট কার্ড দেনার বোঝা ঘাড়ে নিয়ে চলে, যখন এদের দাদা-দাদীরা আরো অনেক রক্ষণশীল জীবনযাপন করতো? প্রতিটা মানুষের পকেটে চার-পাঁচ বা তার অধিক ক্রেডিট কার্ড - এটা কিসের আলামত? তাৎক্ষণিক ভোগ (instant gratification) জিনিসটা কি এতই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল?

এর পেছনে যদি আরো অনুসন্ধান করি, তাহলে গোটা পুঁজিবাদ নিয়েই প্রশ্ন উঠে। Anglo-Saxon মডেলের পুঁজিবাদ কি কোন ভালো জিনিস? (এই বিষয়ে ফরাসী ব্লগার জেরোম গত দুই বছরে অনেক অনেকগুলো দামী লেখা দিয়েছেন - আগ্রহীদের জন্যে তার লেখার থেকে ভালো প্রথম পাঠ আর হয় না। ) যে কোন মডেলের পুঁজিবাদই কি ভালো? ইউরোপীয় ভূখন্ডে প্রচলন রয়েছে অনেক নিয়ম-নীতি দিয়ে বাঁধা সোশ্যাল মার্কেট ঘরানার পুঁজিবাদের - এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জার্মানী, ফ্রান্স আর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোতে। এই রেগুলেটেড মডেল কি তাহলে মার্কিন-বৃটিশদের থেকে শ্রেয়? আর উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্যেই বা এসবের কি মানে?

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তাদের নিজস্ব রপ্তানী-ভিত্তিক পুঁজিবাদ সাধন করে আসছে চার দশক ধরে এবং অল্প সময়ে দারিদ্র্য দূরীকরণে বেশ সফলতাও অর্জন করেছে। যদিওবা ইদানীং পশ্চিমে রপ্তানী বাজারগুলোর পতনের ফলে তারাও বেশ কষ্টে সৃষ্টে আছে। তাহলে এই তিন চার রকম মডেলের মধ্য থেকে কোনটা গ্রহণযোগ্য? পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্যেই অন্তর্নিহিত র‌য়েছে অস্থিতিশীলতা। এর সমর্থকরা বলেন পুঁজিবাদের ফ্লেক্সিবিলিটি থেকেই অস্থিতিশীলতা আসে, আবার একই ফ্লেক্সিবিলিটি থেকে আসে ক্রমশঃ অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ। এপিঠ ওপিঠ। অপরদিকে এর ক্রিটিকরা বলেন এই সিস্টেম মূলত শোষণ আর জুলুমের হাতিয়ার।

আর শেষ দুটো চিন্তা দিয়েই শেষ করা যাক - পরিবেশ সচেতনতা। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিবেশের ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে চরম। পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে বাংলাদেশ থেকে শুরু করে কাট্রিনা-কবলিত খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। আপাত-সমাজবাদী চীন তাদের পরিবেশের ব্যাপক ধ্বংস ইতিমধ্যে সাধন করেছে এবং তার জন্যে চরম মাশুল গুণছে। দূষিত পরিবেশে এখন বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম দিচ্ছেন চীনা মহিলারা।

আর চিরায়ত রক্ষণশীল সমাজের বন্ধনগুলোও হয়ে পড়েছে অনেক অনেক শিথিল - সেটা বাংলাদেশ-ভারতে হোক বা চীন-জাপানে হোক। অনিবার্যভাবেই বাড়বে সামাজিক 'অনাচার', পারিবারিক বিচ্ছেদ, আর ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ কনফ্লিক্ট আর মানসিক টানা-পোড়েন। এই যে নতুন এলিয়েনেশান আর সংঘাত - আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বনাম রক্ষণশীল সমাজ - এর থেকে যে কি রকম বিচিত্র সমস্যা তৈরী হয়, ভারতে রাম সেনাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আবার ওদিকে পরিবেশ বিপর্যয় আর সামাজিক ব্রেকডাউন যদি মানদন্ড ধরি, সেই বিচারে এককালের সমাজবাদী দেশগুলোর রেকর্ডও ছিল তথৈবচ।

তাইলে মুশকিলের আসান কোন রাস্তায়??????


মন্তব্য

সৌরভ এর ছবি

বরাবরের মতোই চমৎকার আর সহজবোধ্য।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

s-s এর ছবি

দোষ কার , এখন এটা খুঁজে বের করা গেলেও, তাকে বা তাদেরকে শাস্তি দিতে যে পরিমাণ এফোর্ট (পড়ুন সময়, আরও টাকা, প্ল্যানিং, তদন্ত, ইন্টারন্যাশনাল নেগোসিয়েশন ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি) ব্যায়িত হবে, তার থেকে অনেক জরুরি শর্ট টার্মে মানি মার্কেটে লিকুয়িডিটি ফিরিয়ে আনা এবং লং টার্মে ইনভেস্টর কনফিডেন্স কি করে ফেরানো যায় ( এটাও আর আদৌ সম্ভব কি'না এ বিষয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্র ও আই এম এফ ই সন্দিহান), সেটার "সমস্ত" রকম চেষ্টা করা, কারণ বেইল আউট অথবা স্টিমুলাস প্যাকেজ দিয়েও কোনোভাবেই কনজুমার স্পেন্ডিং বাড়ানো যাচ্ছেনা, যার ফলে , ১০০ টাকা রিডানডেন্সি প্যাকেজের ৮০ টাকাই একজন মানুষ ধরে রাখছে, ২০ টাকা তার নিত্যপ্রয়োজনীয়তে খরচ করে। এটা পুরো ২০০৯ জুড়েই চলবে, এই কাদা ছোঁড়াছুড়ি, ব্লেইম গেইম ও চলতে থাকবে, খুব মোটা দাগে বললে , কিছু মানুষের অপরিসীম লোভ , মাত্রাতিরিক্ত খাই খাই এবং অনিয়ন্ত্রিত বাটপারি এবং এতে রাষ্ট্রীয় মদত - এ সবকিছুই এর কারণ। ওবামার একটা কথা অবশ্য খুব ভালো লাগলো যে ব্যংকের সি ই ও দের সে তিরষ্কার করে বললো যে ইউ হ্যাভ নো পারফরম্যান্স আ্যাট অল, তোমাদের যদি কোনো পারফরম্যান্স থেকেও থাকে সেটা হচ্ছে সারা পৃথিবীকে ফাইন্যানশিয়ালি এক্সট্রিমলি মিসম্যানেজ করা , হাউ ক্যান ইউ আস্ক ফর আ পারফরম্যান্স বোনাস?? কিন্তু এই জরুরি কথাটাও গত বিশ বছর ধরে কেউই বলেনি, ইনফ্যাক্ট, গত পঞ্চাশ বছরে শুধু আমরা ছাত্রছাত্রীরা এবং গবেষণাগারে উইপোকারা দেখে এবং পড়ে এসেছি যে ব্যাংকের পারফরম্যান্সের সাথে সিইওদের বোনাস বা বেতনের কো রিলেশন সবসময়ই নেগেটিভ। খুবই ফানি ব্যাপার, যে রিগার্ডলেস অফ পারফরম্যান্স, সিইওরা, ইন জেনারেল, কোনো বড়সড় ধরা খাওয়ার আগ পর্যন্ত, কেবলই বোনাস পেয়ে গেছেন, সেটা ব্যাংক ( এবং নন ব্যাংকি ফাইন্যানশিয়াল ইন্সটিট্যুটও) যে রকমই ফলাফল করুক না কেন! এটা নিয়ে চায়ের কাপ ছাড়া অন্য কোথাও ঝড় উঠলেও লবিস্ট গ্রুপ হিসেবে ফাইন্যানশিয়াল প্রতিষ্ঠান গুলো সব সময়ই তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে সরকারগুলোর কাছে, ফলে তাদের "প্রো" পলিসিগুলো সব সময়ই সব আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেছে অথবা আইন লেখা হয়েছে নতুন করে তাদের জন্য। আনবিলিভেবল আ্যনার্কি এটা! স্পেশালি এতটা রেগুলেশনের ধুঁয়া যেখানে তোলা হয় সেই সেক্টরে!
এবং সমাধান? ওয়েল, নোবডি রিয়েলি হ্যাভ এনি ফাকিং আইডিয়া, কারণ আইডিয়াবাজরা প্রচুর গলাবাজি করেছে, এখন নবীনতম হিসেবে সেখানে যোগ হতে পারে সরকারগুলোর লং টার্ম ইনফ্রাস্ট্রাকচারে টাকা খরচ করা, কারণ তাতেই আরো কর্মসংস্থান হবে , লং টার্মে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের দিকে যাওয়া। অবশ্য এটি একটি মাত্র পন্থা, আরও হয়তো অনেক গুলোই আছে, মোটা দাগে এটুকুই মনে এলো।

জীবন জীবন্ত হোক, তুচ্ছ অমরতা

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

সিইও ডিরেক্টর লেভেলের লোক যে কি রকম হারামি, তার উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। যেই কম্পানীতে কাজ করি, তার শেয়ার ২০০৫-২০০৭ সালে হুহু করে বাড়ে। সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৩৫ পাউন্ডে সেটা উঠেছিল। এমন সময় পত্রিকায় খবর বেরুলো যে কম্পানীর বড় হুজুরেরা একেকজন লাখো লাখো পাউন্ডের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। এবং ঠিকঠিকই তার কয়েক সপ্তাহ পরেই ক্রাঞ্চ আরম্ভ হয় আর কম্পানীর শেয়ারের দাম নামতে শুরু করে।

৮.৩৫ পাউন্ডের শেয়ারের এখনকার দাম হচ্ছে সাকুল্যে ০.২৮ পাউন্ড বা ২৮ পেনি। কম্পানীর যারা সাধারণ পুরান কর্মচারী তারা যে কি লোকসান খেয়েছেন বলার মত না। আমি নতুন বিধায় এই যাত্রা বেঁচে গেছি।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

জিজ্ঞাসু এর ছবি

আপনার লেখাটা দারুন লাগল। অর্থনীতি বুঝি না। তবে বাজারে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের গেমলিং, এবং সুযোগ বুঝে নিজেদের পকেটে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টা আমিও খেয়াল করেছি। মার্কিন সরকার উদার অর্থনীতির নামে বিদেশি টাকা যুক্তরাষ্ট্রে যেমন প্রবেশ করতে দিয়েছে তেমনি এসব বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেকে তাদের বিনিয়োগ গুটিয়েও নিয়েছে। এটাও মার্কিন অর্থনীতিতে একটা ভাল আঘাত। আবারও ধন্যবাদ দিচ্ছি আমার মত অশিক্ষিতদের জন্য সহজবোধ্য করে লেখার জন্য।

___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

দায়ী ব্যক্তি অনেকেই, তবে আমার চোখে মূল সমস্যা হল "লোভ"। সকল স্তরে অপরিমিত লোভেরই কুফল এটা। এই বিপর্যয়ের জন্য পু্ঁজিবাদকে দায়ী করি না আমি। দূরপাল্লার বিবেচনায় ইউরোপীয় ঘরানার পুঁজিবাদ অবশ্যই অনেক ভাল।

সমস্যা সমাধানের একটাই পথ -- রেট্রোস্পেক্টিভ ফিক্সিং। সমস্যা হল, সেই কাজটা কেউ করতে পারবে না। আইনেও নেই, হিম্মতেও কুলাবে না। যেই সি-ই-ও কম্পানি ধসে যাচ্ছে বুঝে কোটিপতি হয়ে ভেগেছেন, তিনি একজন ক্রিমিনাল, এবং তাকে সেভাবেই সাজা দেওয়া উচিত। বর্তমান মডেলে এটি অসম্ভব।

সেকারণেই বাকি থাকছে পাবলিকের শেষ সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে বেইলা-বেইলি খেলা। এতে করে দুষ্টচক্রের আরো ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে সবাই। ঘাড় ধরে ৮-১০ টা সি-ই-ও'র বোনাস ফেরত নিলেই পাবলিকের অনেকটা আস্থা ফেরত আসতো, যা কিনা ট্রিলিয়ন ডলারের বেইল-আউট বা স্টিলুলাস দিয়েও হবে না।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ওহ, লেখা বেশি জোশ।

নিবিড় এর ছবি

সহজবোধ্য ভাবে এই জটিল বিষয় টি তুলে ধরার জন্য সুবিনয় দা আপনাকে ধন্যবাদ চলুক
*********************************************************
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

সবজান্তা এর ছবি

সুবিনয়দা অন ফায়ার গুল্লি

আপনার হাতে এই লেখাগুলা চিরকালই দুধর্ষ লাগে। দেখি, আরো একবার ধীরে সুস্থে পড়ে, কিছু প্রশ্ন করার আশা রাখি।

এমন লেখা আরো পয়দা করেন...


অলমিতি বিস্তারেণ

এনকিদু এর ছবি

সবজান্তার সাথে সহমত । সুবিনয়দা, আপনার কল্যানে অনেক অর্থনীতি শিখেছি সচলে বসে বসে । লিখতে থাকুন এরকম লেখা আরো ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

সৌরভ ও বাকি সবাইকে ধন্যবাদ।

সচলে লিখে আমার নিজের কন্সেপ্টও কিছু কিছু ক্লিয়ার করার চেষ্টা করি। সত্যি বলতে গত দেড় বছর ধরে আর সবার মত আমিও দৈনিক খাবি খাইতেছি এই জিনিসের মার-প্যাঁচে। প্রত্যেকদিনই কাজের খাতিরে এক গাদা জিনিস পড়া লাগে কিন্তু তার বিরাট অংশ মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। একবারে বুঝি না দুইবারে বুঝি না, পাঁচ-দশবার পড়া লাগে, অনেক লোকের হাতে অনেক ভাবে লেখা। তারপরেও অনেক জিনিস দুর্বোধ্যই থেকে যায় - যেমন বেইলআউট প্যাকেজের খুঁটিনাটি। তবে আউটলাইনগুলা মোটামুটি ধরতে পারি। সেগুলাই শেয়ার করার ক্ষীণ প্রচেষ্টা।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

শাহ্ আসাদুজ্জামান এর ছবি

সুবিনয়দা বরাবরের মতই ভাল লিখেছেন। ঠিকই বলেছেন, মন্দার স্বরূপ উদঘাটন করতে গিয়ে পশ্চিমে বাহারি ব্যাখ্যার শেষ নেই। এর বেশ চমত্কার একটা সারাংশ করেছেন আপনি।

ধীরে ধীরে পুঁজিবাদের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা গুলো নিয়ে আলোচনা-বিশ্লেষন ফিরে আসছে। এখনই এই বিশ্লেষণের প্রকৃষ্ট সময়।

দোষ যদিও বিশেষ গোষ্ঠীর থাকতে পারে, কিন্তু একের পর এক মন্দা, তারপরে মহামন্দা পুজিবাদী ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত দুর্বলতার দিকেই আঙুল নির্দেশ করে।

আর ইউরোপীয় সামাজিক পুজিবাদ আর মার্কিন নব্য-উদারনৈতিক পুজিবাদের পার্থক্য তো কিছু আছেই। ইউরোপ পুজিবাদের অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোকে একটু জোরেশোরে স্বীকার করেছে বলেই তারা এর প্রতিষেধক হিসাবে সংস্কারবাদী কিছু ব্যবস্থা নিতে পেরেছে।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

সহমত। অর্থনৈতিক দর্শনের ব্যাপারে অন্ধত্ব আর একগুঁয়েমি খুব বাজে জিনিস, সেটা ডানের হোক বা বামের হোক। dogmatism ছেড়ে pragmatism দরকার। ইউরোপীয়রা এদিক থেকে মার্কিনদের তুলনায় বেশী বুদ্ধি রাখে।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

পড়লাম। ভালো লাগলো। তবে প্রশ্ন তো রয়েই গেলো? পরের পর্বে কিছু আসবে নাকি?

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

হাহা, সেটা তো নির্ভর করবে পরের পর্বে কি চান তার উপর?! দেঁতো হাসি
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চমৎকার!! মুশকিলের আসান তাহলে কোথায়?

আমার মাথায় একটা জিনিস ঢোকেনা। এই যে ট্রিয়লন ডলার মার্কেটে ঢোকাচ্ছে সেই টাকাটা আসছে কোথা থেকে? কিংবা এই যে এতো ক্রেডিট বাজারে ছিল, এগুলো কোত্থেকে আসল? একবার ভাবলাম আমেরিকা হয়ত চীন কিংবা ইউরোপের কাছ থেকে ধার হিসেবে টাকা গুলো নিয়েছে। তাহলে তো এখন ওই দেশ গুলোর অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্টেবল থাকার কথা। কিন্তু তাতো হয়নি। তাহলে কি আমেরিকা ভবিষ্যত থেকে টাকা গুলো টাইম মেশিনে করে বর্তমানে এনেছে? আমেরিকার ভবিষ্যত তো তাহলে ঝরঝরা!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

নতুন ট্রিলিয়ন ডলার-টা আক্ষরিক অর্থেই শুন্য থেকে সৃষ্টি করেছে ফেড। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে money creation-এর সেই ক্ষমতা ফেড-এর আছে।

এই কাজ কেন করলো ওরা? কারন মুশকিল হচ্ছে কোন সাধারণ ব্যাংকই আর কোন লেনদেনের মধ্যে যেতে নারাজ। যেগুলো ফাউল ব্যাংক, তারা তো বিশাল লস দিয়েছে - এদের গ্রীজের কৌটা খালি। আর যারা অত লস দেয়নি, তারা এই ভয়ংকর পরিবেশে কাউকে টাকা ধার দিতে নারাজ - হোক ব্যক্তি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এদের গ্রীজের কৌটা তালা মারা।

এই পরিস্থিতে ফেড-এর আর কিছুই করণীয় ছিল না। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক-রা কি করে? লেনদেন উৎসাহিত করতে অফিশিয়াল ইন্টারেস্ট রেট কমিয়ে দেয়। কিন্তু ইন্টারেস্ট রেট তো এখন শুন্যের কাছাকাছি চলে গেছে। আর কিভাবে কমাবে?

তাই এখন টাকশালে নতুন অনেকগুলো টাকা ছাপিয়ে সেটাই অর্থনীতির অস্থিমজ্জায় পৌঁছে দিতে হবে। দেখা যাক কাজ হয় কি না। ইউকে-র কেন্দ্রীয় ব্যাংক-ও একই কাজ করছে এখন।

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় quantitative easing। আর এই শেষ অস্ত্র তুলে নেয়ার কারণ হলো প্রথম অস্ত্র আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেই প্রথম অস্ত্র - রেট কমানো - সেটাকে বলা হয় qualitative easing।

উইকির বিবরণ একটু টেকনিকাল। এই সহজিয়া ভিডিওটা দেখতে পারো। গুগল নিউজেও সাম্প্রতিক অনেক বিবরণ আছে।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বড় ধরণের কাজের/প্রজেক্টের (বিশেষতঃ সরকারী) একটা মজার ক্রনোলজী আছে। সেটা হচ্ছে-

Stage-1: Enthusiastically initiation
Stage-2: Confusion
Stage-3: Chaos
Stage-4: Search for the guilty
Stage-5: Punish the innocent
Stage-6: Praise the bystander

এখন চতুর্থ স্টেজ চলছে। চিন্তা নেই অচিরেই পঞ্চম আর ষষ্ঠ স্টেজের মঞ্চায়ণ অনুষ্ঠিত হবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

যে বাবলটা ফাটছে সেটার ইকুইলিব্রিয়াম তৈরী হলেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে, টাকার অংকে সবার বেতন একটু কইরা কমবো আর কি, এর বেশী কিছুনা -- অত চিন্তা কইরেননা চোখ টিপি
এমনতো কিছুনা যে দূর্যোগের জন্য দুনিয়ায় খাদ্য উৎপাদন কমে গেছে, বা তেলের সংকট শুরু হইছে বা মহামারী লাগছে, কাজেই ভয় পাইয়েননা
(মন্তব্য বেশী সমাজতান্ত্রিক হইয়া গেল নাকি! চোখ টিপি)
=========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

কথা ঠিকই বলেছেন - আবার পুরানো ইকুইলিব্রিয়ামে ফিরে যেতে হবে। দুঃখের কাহিনী হলো এই এডজাস্টমেন্ট কিভাবে সাধন হবে। সাধারণত এটা মানুষের বেতন কমিয়ে হয় না। বরং মানুষ ছাটাই করে হয়। এক দিক দিয়ে ভাবলে সেটা করা উচিৎ - ব্যাপক বেকারত্ব প্রতিরোধে সবাই কম বেতন মেনে নিলেই তো হলো। তাহলে তাদের কলীগদের চাকরিগুলো তো রক্ষা পায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা হচ্ছে। অনেক কম্পানী salary freeze ঘোষণা করেছে, মুষ্টিমেয় কিছু ফার্ম salary cut পর্যন্ত যাবে। কিন্তু যেই কম্পানী দেউলিয়া হয়েছে, তাদের কর্মীদের বাঁচানোর কোন উপায় নেই আর। যেই ডিপার্টমেন্টের কোন কাজ নেই, সেটাকে জিইয়ে রেখেও কোন ফায়দা নেই। তাই বাস্তবে বেকারত্ব হুহু করে বাড়বে। মার্কিন অর্থনীতি গত তিন মাসে ২০ লক্ষ নতুন বেকার সৃষ্টি করেছে, আর চীনে নতুন বেকার ২ কোটি। প্রতিটা দেশেই বাড়ছে এই সংখ্যা। প্রবল আশংকা করা হচ্ছে যে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাস অবিচ্ছিন্ন গতিতে বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব বাড়বে।

অর্থনীতি যেহেতু cyclical, একবার রিসেশন শুরু হয়ে গেলে চট করেই তা আবার সেরে যাবে, এমন ভাবার কোন কারন নেই। বরং ধীরে ধীরে রিসেশন আরো ঘন হবে, কয়েক কোয়ার্টার ধরে সেটা নানা রূপে বিস্তৃত হবে। ব্যবসা লাটে উঠবে, চাকরি খোয়া যাবে, অনেককে ঘর-বাড়ি ছাড়তে হবে। এতগুলো মানুষকে দুঃখ-কষ্টের স্বাদ টেস্ট করিয়ে তারপরেই আবার চাকা আস্তে আস্তে ঘুরে আসবে। অতীত অভিজ্ঞতা অন্তত তাই বলে।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আমাদের এদিকেও কোম্পানীগুলা সালারী/প্রমোশন ফ্রিজ, বোনাস ডাউন -- এসব করে সামাল দিচ্ছে। তাও বড় বড় কোম্পানীগুলা ৫% এর মতো ছাঁটাই করছে! মন খারাপ বেতন কমতেছে গড়ে ৭% থেকে ১০% ... অনেক কোম্পানীই কারখানাগুলোতে আপাততঃ সপ্তায় তিনদিন ছুটি করে দিয়েছে

আসলে বস রিসেশন সেরে যাওয়াটাকে কিভাবে দেখা হবে সেটা একটা পয়েন্ট ... জাপানীরা গত পনের বছর ধরে রিসেশন রিসেশন বলে হাহুতাশ করতেছে ... নব্বইর দশকরে নাম দিছে "দ্য লস্ট ডিকেড"... কিন্তু রিসেশনের রিকভারী বলতে এদেরকে যেইটা বুঝতে দেখছি তা হলো আবার সেই বাবল যুগের প্রত্যাবর্তন ...
যেমন আমি চাকরীতে ঢুকলাম আড়াই বছর ... প্রতি কোয়ার্টারেই কোম্পানীর পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন হয় আগের চেয়ে কতটুকু ভালো করছে সেইটা নিয়া ... এক জায়গায় যে থিতু হতে হবে সেই চিন্তাটা নাই ... অথচ এদের জনসংখ্যা কমতেছে ... পুঁজি বাড়ানোর এই যে সর্বগ্রাসী এ্যাপ্রোচ, এইটা এখন টান খাবে ... সবারই টার্গেট রিভাইজ করতে হবে ... নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অন্যান্য সামগ্রীর প্রোডাকশন কমবে .... এসব কোম্পানীর বাজেট কইমা লোক ছাঁটাই হবে ....এর আফটারইফেক্টে উন্নত দেশ গুলোতে বেশ কিছু লোক সমস্যায় পড়বে এটা সত্যি

কিন্তু একবার ভেবে দেখেন অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কত কত লোক এইরকম দুর্দশায় আছে ... তাও তো টিকে আছে ... মানুষ কোন না কোনভাবে টিকে যাবেই, এটা আমার মনে হয়... না খেয়ে কেউ মরবেনা

আর প্রফেশনালদের সাঁই সাঁই করে বেড়ে চলা ক্যারিয়ারের স্পীডে একটু টান পড়বে ...

জাপানের রিসেশনের পুরা যুগটাই এদেশে আছি, টিভিতে হরহামেশাই এদের রিসেশন নিয়া কান্নাকাটি দেখছি ... কিন্তু সত্যি বলতে, দুনিয়াদারীর প্রতি হতাশ হইয়া বাড়ি ছেড়ে আসা কিছু মধ্যবয়সী পুরুষ হোমলেস ছাড়া এই দেশে আমি অভাব বলতে কিছু দেখিনাই ... কিন্তু সমস্যা হইলো আমার চোখে দেখা এই অভাবহীন জাপানই বাবল যুগ দেখে ফেলা জাপানীদের চোখে খুব বিরান!
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

নোবেল বিজয়ী উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা লিখেছেন - Capitalism Beyond the Crisis। ছাপা হয়েছে এই সংখ্যার নিউ ইয়র্ক রিভিউ অফ বুক্স সাময়িকীতে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য লিংক দিয়ে দিলাম।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখা পড়ি আর মুগ্ধ হই

---আশফাক আহমেদ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।