হাসতে নাকি জানেনা কেউ -০৫

সচল জাহিদ এর ছবি
লিখেছেন সচল জাহিদ (তারিখ: রবি, ২৬/০৪/২০০৯ - ১১:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত কয়েকদিন ধরে ফেইসবুকে এই ভিডিও টা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এটি মুলত এন টিভির একটি রিপোর্ট যা দেখে আমি কেন খোদ বিধাতাও বুঝি বিষ্মিত হয়েছেন, জানিনা আমাদের সরকারের তাতে টনক নড়েছে কিনা। এই ভিডিওটাতে দেখা যাচ্ছে রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে ঢাকা মেডিকেলের ওয়ার্ড বয়, ব্রাদার এমনকি সুইপাররাও কেমনে ডাক্তার বনে যায়। নাহ আমি কোন কল্পকাহিনী শোনাচ্ছিনা এটাই এখনকার টপ হিট। এর কিছু ইতিবাচক দিক আছে, যেমন কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে মেডিকেল কলেজ না পড়ে আমরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় কিংবা সুইপারের কাজ করতে পারি তাহলেই পাশ না করে রাত দুপুরে ডাক্তার হয়ে যাব, কষ্ট করে আর এনাটমী, ফিজিওলজি পড়তে হবেনা। কিন্তু যারা ইতিমধ্যে ডাকারী পাশ করে ফেলেছেন তাদের কি হবে ? হাসপাতালের এহেন ঝাড়ুদার, ওয়ার্ড বয় কিংবা ভবিষ্যতে কুলি, মেথর যদি ডাক্তার হতে শুরু করে তখনত আসল ডাক্তারদের পসার থাকবেনা, কিছুটা সেই নাপিতের ফোঁড়া কাটার গল্পের মত অবস্থা হবেঃ

এক দেশে ছিল এক নাপিত। নাপিতের কাজ তো চুল, দাড়ি কাটা কিন্তু এই নাপিত তার পাশাপাশি মানুষের ফোঁড়াও কাটত। যেহেতু সে কবিরাজ বা ডাক্তার ছিলনা তাই তার রেটও ছিল কম আর সাধারন মানুষও কম টাকার জন্য ডাক্তারদের কাছে না যেয়ে নাপিতের কাছেই যেত। নাপিতের এই ডাক্তার সাজায় বিপদে পড়ল আসল ডাক্তাররা, তাদের পসার আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকল আর নাপিতও সেই সুযোগে ফোঁড় ছাড়াও ছোট খাট আরো অপারেশন করতে লাগল কম খরচে। ডাক্তাররা প্রমাদ গুনল, অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেশের সমস্ত ডাক্তারদের নিয়ে একটা সভা ডাকল।

যাই হোক দলে দলে ডাক্তাররা নাপিতের হাত থেকে বাঁচার জন্য আসলে লাগল সেই সভায়। ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করেও কেউ ভাল কোন সমাধান দিতে পারলনা। কেউ বলে মানুষকে বুঝানো হোক যে নাপিত ফোঁড়া কাটার সময় কোন এন্টিসেপটিক নেয়না এটে ধনুষ্টংকার হতে পারে, কেউ আবার বলল নাপিতকে থ্রেট দেয়া হোক, কেউবা আবার নপিতের সাথে লিঁয়াজো গঠনের প্রস্তাব দিল।

সভায় উপস্থিত এক বয়ষ্ক ডাক্তার সারাদিন ধরে সবার মতামত শুনছিলেন তিনি এইবার উঠে দাড়ালেন। সবাই তাকে শ্রদ্ধা করতেন তাই তাকে দেখে সবাই চুপ হয়ে গেল কিছু শোনার জন্য। চারদিকে তাকিয়ে তিনি বললেন,

'বন্ধুগন আমি আপনাদের সব কিছু শুনলাম। এবার আমার একটা প্রস্তাব আছে যা সবাই ভেবে দেখতে পারেন।'

সবাই উচ্চস্বরে তাকে তার প্রস্তাব করতে বলল। তিনি বললেন,

'এর থেকে বাচার উপায় একটাই সেটা হলো নাপিতকে ডাক্তারী শেখাতে হবে'

এহেন নির্বোধ কথায় সবার মাথায় বাজ় পড়ল, যে কিনা ডাক্তারী না জেনেই ডাক্তারী করে আমাদের অন্ন ধ্বংস করছে তাকে কিনা আবার চিকিৎসা বিদ্যা শেখাবে, এত সাক্ষাৎ খাল কেটে কুমীর আনার মত অবস্থা। যাই হোক অভিজ্ঞতার মূল্য দিয়ে সবাই এক বাক্যে মতের বিরুদ্ধে হলেও তার কথা মেনে নিল। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টীম গঠন হলো যারা নাপিতকে ডাক্তারী শেখাবে। যথারীতি শুরু হয়ে গেল নাপিতের ডাক্তারী প্রশিক্ষণ। তাকে এনাটমী, ফিজিওলজি, সার্জারী সব শেখানো হল। সবাই মিলে তার নামে আগে তাকে একটা ডাক্তার উপাধী বসানোরও ব্যবস্থা করল।

কিছুদিন পরের কথা, এক রোগী এসেছে নাপিতের কাছে ফোঁড়া কাটাতে। নাপিত এইবারে প্রথমে এন্টিসেপটিক দিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করে নেয়, ক্ষুরের পরিবর্তে রীতিমত ডাক্তারী ছুড়ি কাঁচি নিয়ে অপারেশন শুরু করতে যায়। কিন্তু বিপত্তি হয় কাটা শুরু নিয়ে, আগেত সে কিছুই জানতনা তাই নিমিষেই ক্ষুর দিয়ে কেটে ফেলত কিন্তু এখনত সে জানে কোন দিক দিয়ে নার্ভ গেছে, কোন দিক দিয়ে রক্তনালী গেছে। সে চিন্তায় পড়ে যায়, নার্ভ কেটে গেলেত এই সমস্যা হবে, রক্তনালী কেটে গেলে সেই সমস্যা হবে। এত চিন্তা হওয়াতে কাটতে গয়ে তার ভয়ও ঢুকে যায়, সে আর ফোঁড়া কাটতে পারেনা। এইভাবে একের পর এক মানুষের কাছে ব্যার্থ হতে থাকে, দু একজনের অপারেশন করার পরে কিছু সমস্যাও তৈরী হয় আর লোকজনও তাকে নিয়ে আগের মত আর ভরসা পায়না। ধীরে ধীরে নাপিতের পসার কমে যায় আর ডাক্তাররা ফিরে পায় তাদের পেশা।


মন্তব্য

স্বাধীন [অতিথি] এর ছবি

জম্পেস-----------ঃ))

সচল জাহিদ এর ছবি

ধন্যবাদ ভাইয়া
-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

মামুন হক এর ছবি

চমৎকার!!!!

সচল জাহিদ এর ছবি

থিঙ্কু থিঙ্কু গুরু

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

জানতাম। তবু্ও ভালো লাগলো। বিশেষতঃ আপনার লেখার ভূমিকাগুলো বেশ দরকারি। চালিয়ে যান। চলুক

সচল জাহিদ এর ছবি

ভুমিকাগুলোই মুখ্য আর গল্পগুলো গৌন। অনেক ধন্যবাদ উৎসাহের জন্য।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

খবর দেখে তো পুরা টাশকি !
পরের অংশে আবার হাসলাম। হাসি

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

সচল জাহিদ এর ছবি

এই খবর দেখে আমরাত বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। দেখলাম এক আধ পাগলা লোকও ( যে কিনা সুইপার) অপারেশন করছে। আমি জানিনা এর পর আমাদের আর কি বলার আছে!!

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

মজা পেলাম!
---------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

সচল জাহিদ এর ছবি

ধন্যবাদ মৃদুল ভাই

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।