একাত্তরে ধর্ষণের ইতিহাস বিকৃতিঃ একটি পুনর্মিত্রতার ব্যবস্থাপত্র? -০২ (শেষ)

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: শুক্র, ৩১/১০/২০০৮ - ৪:২১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব

ধর্ষণের ইতিহাস বিকৃতি

বোসের নিবন্ধের শেষ পৃষ্ঠায় ক্ষুদ্র একটি প্যারাগ্রাফে পাকিস্তানী সৈন্যরা যে ধর্ষণ করে নি তার সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে তিনি তাঁর “কেসগুলিতে” ধর্ষণের অনুপস্থিতির ব্যাপারটিকে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছেন। উত্তরসূরীর প্রতি জবাবে বোস বলেন- “১৯৭১-এ নিপীড়নের বিভিন্ন নমুনা বিষয়ে ৬,৫০০ শব্দের এ নিবন্ধটিতে ধর্ষণ বিষয়ে মাত্র ১০০-এর কাছাকাছি শব্দ রয়েছে”। ধর্ষণের মত একটি বিতর্কিত বিষয়কে নিপীড়নের কোন “নমুনা” হিসেবে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে, তাও মাত্র ১০০ শব্দ খরচ করে! বোস ব্যাখা করেন- “পরবর্তী আলোচনায় আমি উল্লেখ করেছি- ১৯৭১-এ যে ধর্ষণ নিশ্চিতভাবে হয়েছে তার প্রমাণ অন্যত্র আছে। কিন্তু আমার এ গবেষণা এবং অন্যান্য কাজ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়- ধর্ষণের যেসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করা হচ্ছে, সবক্ষেত্রে হয়ত তা ঘটে নি”।

বোস যে মন্তব্য করেছেন “১৯৭১-এ ধর্ষণ অন্যত্র সংঘটিত হয়েছে”- সেটা তার EPW নিবন্ধে নেই। সেখানে তিনি কোন ঘটনাগুলোয় ধর্ষণ হয়েছে এবং কোনগুলোতে হয় নি তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। আগাগোড়া এখানে দেখানো হয়েছে বাঙালীরা বিহারিদের ধর্ষণ করেছিল কিন্তু পাকিস্তানী সেনারা যুদ্ধের সময় কাউকে ধর্ষণ করে নি। এছাড়া, “ধর্ষণের যেসব ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করা হচ্ছে, সবক্ষেত্রে হয়ত তা ঘটে নি”- এই বক্তব্যের সমর্থনে আসলে কোন ‘কেসগুলোর’ কথা বলা হয়েছে সেটাও স্পষ্ট নয়। এ ধরণের সরলীকৃত বক্তব্য না দিয়ে তিনি যে নির্দিষ্ট “কেসগুলোয়” ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে কিন্তু গবেষণায় পাওয়া যায় নি- তা উল্লেখ করলে বরং এটি বেশি স্বচ্ছ গবেষণা হত।

বোস দেখিয়েছেন, “দুর্বৃত্তরা” যে “বিদ্রোহ” করেছিল সেখানে “নারী অপহরণ ও নিপীড়ন” করা হয়েছিল। অপরদিকে, পাকিস্তানী সেনারা “সবসময়” নারী ও শিশুদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পূর্ণবয়স্ক পুরুষদেরকেই টার্গেট করেছিল। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হামুদুর রহমান কমিশনও (২০০০) বাঙালীদের দ্বারা প্রো-পাকিস্তানী এলিমেন্টের ওপর আক্রমণ ও ধর্ষণের উল্লেখের সময় ধর্ষণের বিভিন্ন ঘটনাও উল্লেখ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সম্বলিত আট খন্ডের দলিল (রহমান ১৯৮২-৮৫: ১০৬, ১৯২, ৩৮৫), সত্তর দশকের বিভিন্ন বই (গ্রীয়ার ১৯৭২; ব্রাউনমিলার ১৯৭৫) এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও সিনেমা যেগুলো বাংলাদেশের মধ্যে মৌখিক ইতিহাসের ভিত্তিতে তৈরী হয়েছে (আখতার ২০০১; চৌধুরী ২০০১; গুহঠাকুরতা ১৯৯৬; ইব্রাহিম ১৯৯৪, ১৯৯৫; কবির ২০০৩; মাসুদ ২০০০) সেগুলোতে দেখা যায় যে পাকিস্তানী সৈন্যরা ধর্ষণ করেছিল এবং তাদের এসব নৃশংসতা ও এর জটিলতাগুলোর বিবরণ খুব ভালোভাবেই এগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। বোস তার নিবন্ধে এর কোন একটি থেকেও কোন তথ্যসূত্র ব্যবহার বা উল্লেখ করেন নি।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে অনেক নারী যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সৈন্য এবং স্থানীয় সহযোগীদের দ্বারা তাদের ধর্ষণকালীন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়েছেন। জনপ্রিয় ভাস্কর, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী তার যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধে পাকিস্তানী সৈন্য ও বাঙালীদের ভূমিকা সম্বন্ধে সরব আছেন। যুদ্ধের সময় ধর্ষিত হয়েছেন এরকম বিভিন্ন মহিলাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমি তাদের উপর সংঘটিত নৃশংস ঘটনার বিবরণে যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পেয়েছি। এসব বিবরণ যুদ্ধ সম্পর্কে যেসব বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী ধারণা বর্তমানে প্রচলিত তার বিরূদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধকালীন এসব স্ববিরোধী বিবরণকে গুরুত্ব দেয়া আর পাকিস্তানী সৈন্য এবং তাদের স্থানীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনাগুলো অস্বীকার করা সদৃশ নয়।

পুনর্মিত্রতার একটি ব্যবস্থাপত্র?

বোসের মতে, যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দ্বারা নিপীড়ন হয়েছে- এরকম একটি স্বীকার্যের মাধ্যমে সব পক্ষের মধ্যে পুনর্মিত্রতা হতে পারে। বলাই বাহুল্য, বোসের এই বক্তব্যের ভিত্তি হচ্ছে পরোক্ষ সূত্র হতে প্রাপ্ত (শুধু মাত্র জেনারেল নিয়াজীর সাথে একটি সাক্ষাতকারের কথা খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে) বিভিন্ন পাকিস্তানী সেনা এবং প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থনের মাধ্যমে এর প্রতি অনায্য আস্থাজ্ঞাপন।

১৯৭১ নিয়ে যে অসংখ্য প্রকাশনা রয়েছে বোস সেগুলোকে একটি “কুটির শিল্পের” সাথে তুলনা করার পাশাপাশি বাঙালীদের অনুভূতিগুলোকে অস্বীকার করতে চেয়েছেন “অস্বাস্থ্যকর বলি সংস্কৃতির চাষাবাদ” এবং “আন্তর্জাতিক মনোযোগ আদায়ে ষাট লক্ষ ইহুদীর সাথে দানবিক প্রতিযোগিতা” ইত্যাদি উক্তির মাধ্যমে। তার এসব উক্তি যাদের নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন তাদের প্রতি উদাসিনতা এবং নিপীড়ন সম্পর্কে তাদের যে উপলব্ধি রয়েছে তার প্রতি সংবেদনহীনতাকেই নির্দেশ করে।

আউশভিতজের ওপর প্রিমো লেভির কাজে দেখা যায় যে যারা নিপীড়িত হয়েছে এবং যারা নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেয়েছে তারা যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে নানা জটিল, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে তাদের বেঁচে যাওয়া এবং “নিপীড়িত” অবস্থাকে তুলে ধরে। এখানে, বাংলাদেশী বিবরণগুলো উল্টো যুদ্ধকালীন বর্ণনাগুলোকে অস্বীকার করার হাতিয়ার।

“পুনর্মিত্রতার” এই ব্যবস্থাপত্র প্রত্যক্ষদর্শীদের এই বিবরণগুলোকে প্রকারান্তরে গলা টিপে ধরবে। আরো গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে, অধিকাংশ বাংলাদেশীর কাছে “পুনর্মিত্রতা” শব্দটি কর্কশ অনুরণন তোলে কারণ একাত্তরে যারা পাকবাহিনীর যুদ্ধ-কালীন সহচর ছিল- যারা বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার পুনর্বাসিত হচ্ছে- এই “পুনর্মিত্রতা” তাদের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হয়।

নিক্সন যাকে বলেছেন “ঈশ্বর-পরিত্যক্ত স্থান” এবং কিসিঞ্জার “তলাবিহীন ঝুড়ি”- সেই বাংলাদেশ গতানুগতিকভাবে আন্তর্জাতিক বিশ্বে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পরিচিত শুধু তার দারিদ্র, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হবার কারণে, তাই এর প্রয়োজন হয় ত্রাতার, বাইরের হস্তক্ষেপকারীর, উন্নয়নের বিভিন্ন নমুনার।

এখানে, বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতি আবার অযৌক্তিক হয়ে পড়ে উপমহাদেশীয় চালিকাশক্তির কাছে, যেন এখানে বাংলাদেশের বৃহত্তর চিত্রের সাথে কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

এই নিবন্ধের বর্ণনাশৈলীই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের পুনর্মিত্রতার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং এসব দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলার জন্য কোন ব্যবস্থা দিতে পারে নি। পাকিস্তানী সৈন্য এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের দ্বারা বাংলাদেশের যুদ্ধে যে ধর্ষণের ইতিহাস রয়েছে এই মৌলিক নিপীড়নকে অস্বীকার না করে যুদ্ধ-কালীন স্ববিরোধিতা, সংযুক্ততা, বিভক্তিকে তুলে ধরা যেতে পারে।

বাংলাদেশের যুদ্ধ কারো কাছে “গৃহ যুদ্ধ” হতে পারে, অথবা ভারত ও পাকিস্তানের কাছে কেবল একটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ; কিন্তু অধিকাংশ বাংলাদেশীর কাছে এটি তাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার যুদ্ধ, এমনকি ঔপনিবেশিক-উত্তর বাংলাদেশে সে স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও। ইন্দো-পাক ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে ইন্ধন যোগানোর চেষ্টায় অহেতুক বিতর্ক না করে শুধুমাত্র বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক ইস্যুগুলো এবং সেই সাথে যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতায় যেসব স্ববিরোধিতা রয়েছে তা তুলে ধরার মাধ্যমেই কেবল পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের পুনর্মিত্রতায় কেউ সাহায্য করতে পারে।

(ডেইলি স্টারের ফিচার পাতা ফোরাম থেকে সংগৃহীত ও অনুদিত। তথ্যসূত্রের জন্য লিংক থেকে মূল নিবন্ধ দেখুন।)


মন্তব্য

রানা মেহের এর ছবি

কোন একদিন হয়তো এও কেউ প্রমান করে দেবে
পাকিস্তান কোন অত্যাচারই করেনি
বরং শান্তির অভয় বাণি নিয়ে এসেছিল
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

আমি একজনা এর ছবি

হায়রে দুঃখিনি বাংলা মা আমার!!!
রানা আপনার কথাই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে---
সেদিনের আর বেশী দেরি নেই মনে হয়।

স্নিগ্ধা এর ছবি

বিভিন্ন লিঙ্ক ধরে চেষ্টা করেও শর্মিলা বসু নামক তথাকথিত গবেষকটির মূল প্রবন্ধে পৌছাতে পারলাম না! এ ব্যাপারে কেউ সাহায্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

যে কারণে আমি মূল প্রবন্ধটা পড়তে চাচ্ছিলাম সেটা হলো - কি ভাবে এরকম একটা মেথডলজিক্যালি দূর্বল এবং বায়াসড পেপার প্রথমতঃ ই পি ডাব্লিউ তে প্রকাশিত হতে পারে, এবং দ্বিতীয়তঃ শুধু বাংলাদেশী বা '৭১ সচেতন কেউ কেন, যে কোন গবেষকরই তো এরকম তৃতীয় মানের একটি প্রবন্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কথা, কোথায় সেগুলো? বিশেষ করে যারা 'কনফ্লিক্ট' বা 'উইমেন ইন ওয়ার' এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন তাদের তো এটা ফর্দাফাই করে ফেলার কথা - যদি
“দুর্বৃত্তরা” যে “বিদ্রোহ” করেছিল সেখানে “নারী অপহরণ ও নিপীড়ন” করা হয়েছিল। অপরদিকে, পাকিস্তানী সেনারা “সবসময়” নারী ও শিশুদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পূর্ণবয়স্ক পুরুষদেরকেই টার্গেট করেছিল। এ সমস্ত কথা লেখা থাকে ?!

তানভীর এর ছবি

শর্মিলা বোসের ঐতিহাসিক নিবন্ধটি এইখানে পাইবেন। বাঙালী অনেক বোদ্ধার প্রিয় ফাকিস্তানি কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের কবিতা দিয়া বোস ম্যাডাম নিবন্ধটি শুরু করিয়াছেন!

= = = = = = = = = = =
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আজ স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠ ফাটা রোদ সেঁকে চামড়া

স্নিগ্ধা এর ছবি

হ্যা, পড়তে পারছি - ধন্যবাদ, তানভীর!

আলমগীর এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধ শুরু সময় সেটা আদতেই যুদ্ধ ছিলো না। নিরস্ত্র নারী-পুরুষের উপর বর্বর অত্যাচারই বলা উচিৎ সেটাকে। প্রতিরোধ আক্রমণ শুরুর আগ-পর্যন্ত বাঙালী পালিয়ে বেঁচেছে। বুদ্ধু লোকেরা সেটাকে ইথনিক ক্লিনজিং, সেপারেটিস্ট মুভমেন্ট, সিভিল ওয়ার অনেক কিছুই বলবেন।
আমি বিশ্বাস করি আজ থেকে আরো বিশ কি তিরিশ বছর পরে, কোন একদিন হলেও পাকিস্তান তাদের কৃতকর্মের কথা স্বীকার করবে, সেজন্য মাফও চাবে।

ধন্যবাদ রেজওয়ানকে। প্রথম পর্ব পড়ার পরই আগ্রহ নিয়ে বসেছিলাম।

শামীম এর ছবি

মাফ চাইলেই কি আর ক্ষত শুকিয়ে যাবে? এমনকি ক্ষমা মহৎ গুণ - এসবের ধুয়া এড়িয়ে যদি পাকিস্থানের যুদ্ধাপরাধীদেরকে যথোপযুক্ত বিচারে শাস্তি দেয়া হয় তাহলেও কি আমরা শান্তি পাবো।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

আলমগীর এর ছবি

এখনকার বাস্তবতা যে শিক্ষা দিচ্ছে আমাদের তা হলো টাকা/বাণিজ্য হলো শক্তি উৎস। আজকে, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া ভারতের সাথে পারমাণবিক চুক্তি করছে। স্নায়ু-যুদ্ধের সময়ে এরাই ছিল বৈরি। ভিয়েতনামিরা তাদের ক্ষতকে লুকিয়ে রেখে দলে দলে নৌকো করে পাড়ি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। যেসব অস্ট্রেলিয় সৈন্য মারতে গিয়ে মারা পড়েছে তাদের জন্য ভিয়েতনামে স্মৃতিস্মম্ভ বানিয়েছে বা বানাতে দিয়েছে ভিয়েতনামিরা। গালিপলিতে তুর্কীদের মারতে গিয়ে মার খেয়েছে রাণীমার দল। তাদের স্মরণে সেখানে প্রতিবছর শোকের আয়োজন হয়। এ পাহাড়ে তুর্কিরা তো পাশের পাহাড়ে অস্ট্রেলিয়রা। টাকায় সব হচ্ছেরে ভাই- সেটাই ওষুধ সর্বরোগের; ভাল হোক আর মন্দ হোক।

যতদিন না আমরা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্ত, বারগেইন করার মতো কোন অবস্থানে যেতে পারব ততদিন কোনকিছু আদায় করা কঠিন।

শিক্ষানবিস এর ছবি

অনুবাদটা সম্পূর্ণ করার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।
শর্মিলা বোস নিয়ে গুগলিং করতে গিয়ে আরও কয়েকটা লিংক পেলাম।
সচলায়তনেই জানুয়ারিতে জ্বিনের বাদশা একটা লেখা দিয়েছিলেন। লিংকটা দিলাম:
http://www.sachalayatan.com/mukit_tohoku/11784

মুক্তিযুদ্ধ উইকিয়াতে শর্মিলা বসু নামে একটা নিবন্ধ তৈরী করছি। সেখানেই শর্মিলার সব অপকর্মের কথা লেখা থাকবে। থাকবে তার অপকর্মের জবাব দিয়ে লেখা সবগুলো ব্লগের লিংক।
লেখককে আবারও ধন্যবাদ। এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জানতামই না।

শিক্ষানবিস এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধ উইকিয়ার নিবন্ধটা তৈরী হয়ে গেছে। পরে আরও যোগ করব। অন্যরাও সাহায্য করতে পারেন। লিংকটা দিচ্ছি:
http://muktijuddho.wikia.com/wiki/শর্মিলা_বসু

তানভীর এর ছবি

ধন্যবাদ, মুহম্মদ। চলুক

= = = = = = = = = = =
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আজ স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠ ফাটা রোদ সেঁকে চামড়া

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আগে দেখিনি, আপনার লেখা দুটো পর্বই এখন পড়লাম। অসংখ্য ধন্যবাদ এই না জানা বিষয়ে আলোকপাতের জন্য।

অভিজিৎ এর ছবি

তানভীর,

একটা ভাল কাজ শেষ করলেন ভাই। অসংখ্য ধন্যবাদ।
যদি কষ্ট করে আখতারুজ্জামান মন্ডলের লেখাটিরও অনুবাদ করতেন তবে উপকৃত হতাম।

লেখাটা আমাদের মুক্তান্বেষা পত্রিকার জন্য পাঠাতে পারি?



পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

তানভীর এর ছবি

মুক্তান্বেষা পত্রিকা সম্বন্ধে আমার কোন ধারণা নেই। তবে ওপেন সোর্সের নীতিমালা মেনে যে কেউ যে কোন জায়গায় লেখাটি পুনর্প্রকাশ করতে পারেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

= = = = = = = = = = =
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা
চোখে আজ স্বপ্নের নেই নীল মদ্য
কাঠ ফাটা রোদ সেঁকে চামড়া

হিমু এর ছবি

আমি মেয়েদের গালি দেই না। শর্মিলা বসুকে গালি দিতে চাই। চিৎকার করে দিতে চাই। ওর গবেষণা ওর পশ্চাদ্দেশ দিয়ে ঢুকানো হোক।


হাঁটুপানির জলদস্যু

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

প্রিয় পোস্টে এ্যাড করে রাখলাম... তবে পড়ার ইচ্ছা নেই। এই নিয়ে তখনই ব্যাপক হইচই হইছে। মেজাজ এতটাই খারাপ যে ঐ মহিলার নাম শুনলেই মুখ দিয়া গালি বাইর হয়... নতুন করে মেজাজ খারাপ করতে ইচ্ছা করতেছে না।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

এই মহিলার নাম উচ্চারণ করলে যে-চিন্তাটি মাথায় আসে, তা লেখার অক্ষরে প্রকাশ না করে বাস্তবায়ন করতে পারলে উপকার হতো দেশ ও জাতির।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
একলা পথে চলা আমার করবো রমণীয়...

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

শর্মিলা বোস দিয়ে গুগল সার্চ মেরে এই লেখা পেলাম।

নয়নিকা মুখার্জির লেখাটা ছাপা হয়েছিল ডেইলি স্টারের ফোরামে। একই সংখ্যায় রুবাইয়াত হোসেনের লেখাও আছে। রুবাইয়াত হোসেন ফোরামের নিয়মিত লেখক। আরো একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখলাম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রুবাইয়াত হোসেন আর নয়নিকা মুখার্জি একই সেশনে তাদের নিজের নিজের পেপার পড়েছেন। বক্তব্যের বিষয়ও দুইমুখী।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।