মধ্যবিত্তের বৃত্ত

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি
লিখেছেন প্রৌঢ় ভাবনা [অতিথি] (তারিখ: সোম, ২১/০৫/২০১২ - ৮:০৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শুরুতেই বলি, একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে লেখা। যাঁদের সময় মূল্যবান, তাঁরা সময় অপচয়ের জন্য আমায় দায়ী করবেন না।

আজ ২০ মে, ২০১২ ইং তারিখে অ্যামহার্স্ট লিবারাল আর্টস কলেজ, অ্যামহার্স্ট, ম্যাসাচুসেটস এর ১৯১ তম কমেন্সমেন্ট অনুষ্ঠান। আমার বড় ছেলেটাও এই ২০১২ ক্লাশের একজন সদস্য।

গত চার বছর ধরে নানাবিধ কথা বার্তায় তার বড়ই আশা ছিল, আমরা, তার আব্বা-আম্মা ও ছোট ভাই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত্য সেটা আর হয়ে ওঠেনি। সে ভারাক্রান্ত মন নিয়েই গত রাতে আমাদেরকে জানিয়েছে, তার প্রায় সব বন্ধু-বান্ধবেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দ করে বেড়াচ্ছে আর সে সারাদিন তার রুম থেকেই বের হয়নি। অথচ আমাদের মনোকষ্টের কথা তো কেউই জানবেনা।

অভিমান তো তার হতেই পারে। জীবনে বড় কিছু হবার জন্য ১৯ বছর বয়সেই তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়েছে। যখন পরিবারের কেউই আমরা মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। পদে পদেই আমরা একে অপরের অনুপস্থিতি প্রবল ভাবেই অনুভব করেছি।
যদিও ছুটি-ছাটাতে দু-একবার পরিবারের সাথে মিলিত হয়েছে বটে।

সে বরাবরই একটু পরিবার কেন্দ্রিকই ছিল। বাইরের টান তার কমই ছিল। সে তার ছোটভাই এবং পরিবারের সাথে সময় কাটাতেই পছন্দ করতো। দু-একজন ভাল বন্ধু অবশ্য ছিল। তাদের সাথেও সে যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতো।

আমরা যেতে পারিনি, তা বলে তার কাছের লোক কেউ ছিলনা তা বলা যাবেনা। সন্ধ্যায় তার এক ফুফাতো বোন তার আব্বার সাথে অ্যামহার্স্টে পৌঁছেছে। আর অধিক রাতে তার দুই চাচা, চাচী, ফুফু নিউইয়র্ক থেকে এবং বোস্টন থেকে আরেক ফুফাতো বোনও গেছে। আমার ছেলেকে সময় দেবার জন্য এবং আপনজন হিসাবে বিশেষ মুহূর্তে তার পাশে থাকার জন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমার এই বোন ও ভগ্নীপতিটি অর্থাৎ তার ফুফা-ফুফু, এই ক'বছরে তাঁকে অনেক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তাঁদের উপর ভরসা করে আমরাও অনেক শঙ্কামুক্ত থাকতে পেরেছি। সে কারনে এই পরিবারটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা সত্যিই আমাদের জানা নেই। তাঁরা এমন ভাবে ছেলেটাকে আগলে রেখেছে যে ছেলেটি তেমনভাবে কখনই বাবা-মায়ের অভাব বোধ করেনি। ফুফা-ফুফুর সাথে তার একটা বন্ধুত্বের সম্পর্কই গড়ে উঠেছে।

বিদেশে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রাজুয়েসন শেষের এই কনভোকেশন অনুষ্ঠানে বাবা-মায়ের উপস্থিতি এক ধরনের বিধিসম্মত আবশ্যক কর্ম হিসাবেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় সফলতার সাথে শেষ করার যে আনন্দ, তা বাবা-মা ছাড়া আর কার সাথেই বা পরিপূর্ণ ভাবে শেয়ার করা যায় যদি না কোন মেয়েবন্ধু বা ছেলেবন্ধু থাকে!

আমাদেরও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবার প্রবল বাসনা ছিল কিন্তু মধ্যবিত্তের মানসিক টানাপোড়েনে বিত্তভাবনারই জয় হলো। আমরা হলাম সেই হতভাগ্য পিতা-মাতা যারা মধ্যবিত্তের আজন্ম লালিত মানসিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সামান্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সেই আনন্দে সামিল হতে পারলাম না। এই যে রক্ষণশীল মনোভাব, এর থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার ব্যার্থতা, এটিই আমার ছেলের অভিযোগ।

এ সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণী যাঁদের সারাটা জীবনই কাটে প্রয়োজনীয়তার গুণ বিচার করে মৃদু প্রয়োজনীয় বিষয়কে জীবন থেকে ছেঁটে ফেলে দেওয়ার কসরৎ এ। এভাবে জীবনের কত সাধ-আহ্লাদ যে বাদ পড়ে যায় । জীবনে অর্থের প্রয়োজন বা অভাব হয়তো একদিন মিটবে কিন্তু এই সময়গুলোকে আর ছুঁয়ে দেখা যাবেনা।

ছেলেটার মায়ের মনটা অত্যন্ত বিষন্ন। আমারও বটে। জীবনের এতটা পথ পার হয়ে এসে আজ কেন জানি মনে হচ্ছে, কোথায় জানি একটু খামতি রয়ে গেছে। তারপরও সান্তনা এই যে মধ্যিবিত্তের কয়টা সাধ-আহ্লাদই বা পূরণ হয় ?

আমার ছেলেটা তো অন্তত একটা ভাল কলেজ থেকে গ্রাজুয়েসন শেষ করে ইতিমধ্যে আমেরিকার একটি ভাল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডিরও সুযোগ পেয়েছে।

সফলভাবে তার পাঠ শেষ করতে পারলে হয়তো সে এই তথাকথিত মধ্যবিত্তের মানসিকতা ও গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারবে।

আমারই এক লেখার মন্তব্যে অছ্যুৎ বলাই লিখেছিলেন, 'মধ্যবিত্তের জীবন হলো খাটের তুলনায় ছোট মশারির মতো। এক দিকে গুঁজতে যাবেন তো আরেক দিকে ফাঁকা হয়ে যাবে'।

মনটা বড়ই বিষন্ন। সেটা কাটাতেই অগোছালো ভাবে মনে যা আসলো লিখে ফেললাম। দুঃখ বাটলে নাকি কমে, সেই ভরসায়।


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আপনি সম্ভবতঃ সচলায়তনের কনটাক্ট থেকে আমাকে একটা মেসেজ দিয়েছিলেন। সেই মেসেজের উত্তর আমি দিয়েছিলাম। জানি না পেয়েছিলেন কিনা। আপনার ছেলের আবাসন সমস্যা সমাধান না হলে আমাকে udvranto এট জিমেইলে ইমেইল করলেই হবে।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

জী, পেয়েছিলাম। ছেলেটা পরীক্ষা ও অন্যান্য কিছু কাজে ব্যস্ত থাকার কারনে সে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি। দু-চারদিনের মধ্যেই যোগাযোগ করবে, আশা করছি।
আপনার এই আশ্বাসের জন্য আপনার প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।

শান এর ছবি

হাই রে মধ্যবিত্তের জীবন। ''মধ্যবিত্তের জীবন'' সেটা আবার কোন জীবন নাকি ?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

মরুদ্যান এর ছবি

আপনার, আপনার স্ত্রী এবং আপনাদের ছেলের দীর্ঘশ্বাসটুকু ছুঁয়ে গেল। আপনারা ভাল থাকুন এই কামনায়...

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, সাথে থাকার জন্য।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনাদের কে অনেক শুভেচ্ছা।ভাল থাকবেন।

___________অলস অনড়

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, আপনার প্রতিও রইল শুভেচ্ছা।

স্বপ্নখুঁজি এর ছবি

মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস
প্রতিনিয়ত হাঁসফাঁস।।
তারপরেও থাকবেন ভাল
অতিবৈভবেও আছে কাল।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

'যে নিজের প্রাপ্তিতেই সন্তুষ্ট তাঁর সন্তুষ্টির অভাব হয়না' বলেছেন, চৈনিক দার্শনিক লাও-ৎসু।
ধন্যবাদ।

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

আপনার লেখাটি পড়ে জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসা সীমাবদ্ধতাগুলো আবার মনে চলে আসল, হাত ধরাধরি করে। আপনার ছেলের জন্য শুভ কামনা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ফেলে আসা সীমাবদ্ধতাগুলো মনে করিয়ে দেবার জন্য দুঃখিত।
ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

তানভীর এর ছবি

আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। আশা করছি ছেলের পিএইচডির 'কনভোকেশনে' যেতে পারবেন। শুভকামনা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, আশা করছি।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

মধ্যবিত্তদের সবগুলো স্বপ্ন পুরণের নিয়ম নেই। অপূর্ণ স্বপ্নের তালিকাটা তাই দীর্ঘতর হতে থাকে বয়সের সাথে সাথে। এটা মেনে নেয়াকে নিয়তি না বলে আমি বলি নিয়ম।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য।
কখনও সখনও আপনার বলা নিয়ম বড় কঠোর মনে হয় যে।

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

এই মধ্যবিত্তের ট্যাগিং এর বাইরে যাওয়ার আমাদের আপ্রাণ প্রয়াস বেশিরভাগ সময়ই সফলতার মুখ দেখে না। এইখানে আমাদের পাওয়া হল মানবিক সম্পর্কগুলি। এই যে আপনারা অনুভব করছেন যাওয়া দরকার ছিল, আপনার ছেলে অনুভব করছেন আপনারা গেলে তাঁর কতটা ভাল লাগত; এইটাই আমাদের পাওয়া। যদি উচ্চবিত্ত হতেন তবে হয়তো যেতে পারতেন কিন্তু আনন্দের তীব্রতা কম হতো; এমনকি যাওয়াটা যে প্রয়োজন তাই হয়তো বুঝতেন না। তখন হয়তো এই কারণে এক হপ্তা নষ্ট করার চাইতে ব্যবসার জন্য কোনও ভ্রমণই বেশি কাম্য হতো। কিছু পেতে হলে কিছু হারাতেই হয়। (বহুত উচ্চমারগিয় কথা বলে ফেললাম। কিছু মনে করবেন না। যদ্দুর সম্ভব, আঙ্গুর ফল টক সিনড্রোমে আক্রান্ত আমি। মন খারাপ )

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আপনার উচ্চ-মার্গীর কথাগুলো বাস্তবসম্মত বলে ভালোই লাগলো। আর আপনার পাশে থাকবার মানসিকতাটাও।
দেখি পাঁঠা, না না ছাগল খাওয়ার ব্য।বস্থা করা যায় কিনা!

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

ধন্যবাদ। পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

দুর্দান্ত এর ছবি

অভিনন্দন।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

যুমার এর ছবি

কিছু করতে পারার চেয়ে না করতে পারার এই যে বিষাদ,দীর্ঘশ্বাস তা থেকেই তো অটুট বন্ধন।আপনার কষ্টগুলো ছুঁয়ে গেল।
ভালো থাকবেন,সতত শুভকামনা ।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, শুভকামনা।

কানা বাবা এর ছবি

অন্জন দত্ত'র গান 'ধর্মতলার মোড়ে' গানের কথা মনে পড়ে গেলোঃ

"চিপে চিপে চলা মান-অভিমান,
টিপে টিপে খরচা,
চারটে চৌক মধ্যবিত্ত,
বাঁচার প্রচেষ্টা।

বদলে যাবে না কোন দিন এই
দুইয়ে দুইয়ে চার
কেবলা-কান্ত কেরানির কবিতা।

তবু একটা দিনে জন্য সব উল্টো-পাল্টা হোক
চুলোয় যাকগে আপোষ অভাব লাভ লোকসান ক্ষোভ
একটা দিনের জন্য সেই হারানো সুর বাজুক। "

/----------------------------------------------------
ওইখানে আমিও আছি, যেইখানে সূর্য উদয়
প্রিয়দেশ, পাল্টে দেবো, তুমি আর আমি বোধহয়
কমরেড, তৈরি থেকো,গায়ে মাখো আলতা বরণ
আমি তুমি, আমি তুমি, এভাবেই লক্ষ চরণ।।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

সুদীপ এর ছবি

খুব ভাল লাগ্ল লেখাটি। একদম মনের কথা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

আব্দুল গাফফার রনি এর ছবি

পৃথবীর সবচেয়ে অসহায় প্রাণী বোধহয় মধ্যবিত্তেরা

----------------------------------------------------------------
বন পাহাড় আর সমুদ্র আমাকে হাতছানি দেয়
নিস্তব্ধ-গভীর রাতে এতোদূর থেকেও শুনি ইছামতীর মায়াডাক
খুঁজে ফিরি জিপসি বেদুইন আর সাঁওতালদের যাযাবর জীবন...
www.facebook.com/abdulgaffar.rony

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ। ভাবছি---

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশ ভালো লাগলো। সুন্দর বর্ণনা করেছেন।

_________
বুনোফুল

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, মন্তব্যে মনটা ভরে গেল।

উচ্ছলা এর ছবি

আপনি মন খারাপ করবেন না, প্লীজ। "সঙ্গত কারনেই বাবা-মা ছেলের কনভোকেশনে যেতে পারেন নি" - এটি হাসিমুখে মেনে নেবার মত ম্যাচ্যুরিটি আপনার পিএইচডি-রত ছেলের নিশ্চয়ই আছে; ওর সাময়িক দুঃখবোধ অচীরেই কেটে যাবে, আমি জানি হাসি

ছেলের সাফল্যে আমরাও আনন্দিত। অনেক অনেক অভিনন্দন।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

মন খারাপ করিনিতো। ভাবছি, নিজের কাছে সৎ থাকা, বিবেকের কাছে সৎ থাকা কখনও সখনও কষ্টেরও কারন হয়। কি উপকারটা সমাজের করতে পেরেছি ? বরং----
অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। আনন্দে থাকুন।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

মনটাকে নাড়া দিয়ে গেলো...
ছেলের জন্য শুভ কামনা। হাসি

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। আনন্দে থাকুন।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

আমাদের মধ্যবিত্তের জীবন মানে হলো কম্প্রোমাইজের জীবন!!! মন খারাপ

অভিনন্দন তবু, মন খারাপ করবেন না.....আমাদের অল্পতেই সুখ খুঁজে নিতে হবে.........


_____________________
Give Her Freedom!

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ। এইটুকু ব্যতিক্রম ছাড়া সুখেই আছি।।

তাপস শর্মা এর ছবি

স্বপ্নগুলো এমনই হয়। আমার বাবাকেও বলতে শুনলাম যেন.........
ওর জন্য শুভেচ্ছা রইলো।

ভালো থাকা হোক দাদা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন আপনিও। মাঝে মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছেন যে!

অতিথি লেখক এর ছবি

হাহাকারটি চিরকাল শুধু জিইয়েই থাকে।।।

আশরাফুল কবীর

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

কল্যাণ এর ছবি

ঝেঁড়ে ফেলেন সব চিন্তা ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আর্থিক সামর্থ্য থাকলে তখন কি আর আপনি মধ্যবিত্ত থকতেন? নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সৎভাবে নিজের টার্মসে চলতে পারাটাই সফলতা। নিজের অবস্থানের জন্যে মন খারাপ করার কিচ্ছু নাই যতক্ষণ আপনি ঠিক রাস্তায় আছেন। যে ছেলে পি এইচ ডি করতে যায়, সে অনেক বড় এবং প্রাপ্ত বয়স্ক। আপনার ছেলে অবশ্যই বুঝবে। পুরাণের একটা লেখা দিয়েন কিন্তু সময়মত।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সৎভাবে নিজের টার্মসে চলতে পারাটাই সফলতা।

ধন্যবাদ। এই স্বান্তনাটুকু নিয়েইতো বেঁচে আছি। কিন্তু যখন দেখি---

তাসনীম এর ছবি

আপনাকে অভিনন্দন। আশা রাখছি পিএইডির কমেন্সমেন্টে যেতে পারবেন।

আমি মার্কিন দেশের মাস্টার্স আর বাংলাদেশে বুয়েটের কনভোকেশন কোনোটাতে যেতে পারিনি। আমাদের বুয়েটের কনভোকেশন যখন হয় তখন আমি মার্কিন দেশে। এতো টাকা খরচ করে আসা সম্ভব ছিল না।

মার্কিন দেশের কমেন্সমেন্ট যখন হয় তখন একদম নতুন চাকরি শুরু করেছি। অর্থনৈতিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। বিমানভাড়া দিয়ে আর যাওয়া হয় নি।

আমার শিক্ষা সমাপনী উৎসবগুলোতে আমার পরিবার শুধু নয়, আমি নিজেও যাইনি। মধ্যবিত্ত হওয়ার হ্যাপা যে অনেক মন খারাপ

আমার মেয়ের স্কুলে কিন্ডারগার্টেনে একটা কমেন্সমেন্ট হয়, বাচ্চাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য গাউন-টাউন এনে পরানো হয়। গত বছর হয়েছিল, সেটাতে গিয়েছিলাম - জীবনের প্রথম দেখা কমেন্সমেন্ট হলো মেয়েরটা হাসি

তবে একটা জিনিস, আমার বাবা হয়ত জীবনেও আমেরিকাতে আসবেন না, এখন হয়ত সামার্থ্য থাকলেও শরীরে কুলাবে না। তবু কেন জানি আমি টের পাই উনি সর্বত্রই আমার সাথে আছেন, কোন এক ইন্দ্রজালে ওনার অদৃশ্য উপস্থিতি রয়ে যায় একদম নিকটেই। বাবারা এমনই - আপনার ছেলেও নিশ্চয় বুঝে গেছে এতোদিনে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবার জন্য।
আবারও ধন্যবাদ, আশাবাদ ব্যক্ত করার জন্য।

তিথীডোর এর ছবি

চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ক্রেসিডা এর ছবি

মধ্যবিত্ত হবার যে সুফল আমি ভোগ করি - অনেক স্বপ্ন- আর অনেক লিমিটেশন - এর মধ্যে যেটুকু মিলে যায়, পাওয়া যায়, সেটাকে পাওয়ার আনন্দ আর অন্য কোন বৃত্তে হয়তো সেভাবে উপভোগ হয় না। কিছুটা লিমিটেশন আছে বলেই আমরা যেটুকু পাই তার আনন্দ সেরকম করে উপভোগ করতে পারি। যাদের সব আছে, তাদের বোধহয় সেই আনন্দটুকু নেই।

লেখা সুন্দর।

__________________________
বুক পকেটে খুচরো পয়সার মতো কিছু গোলাপের পাঁপড়ি;

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ ক্রেসিডা। মনটা ভরে গেল।

চরম উদাস এর ছবি

আমিও চেষ্টা করেছিলাম বাবা মাকে আনার আমার কনভোকেশনে বাবা মাকে আনার। বদের দল ভিসা দিলনা। আমার বাবাও এরকম করেন। বাসায় ফোন করলে ওইদিক থেকে মাকে হুড়ো দেন, আমার অনেক টাকা বিল খরচ হয়ে যাচ্ছে বলে। তার মাথায় কিভাবে যেন ঢুকে গেছে, আমার অনেক টানাটানি। ছাত্রজীবন শেষ করে এখন মোটা মাইনেতে চাকরী করি, কিন্তু তারপরেও তার খালি চিন্তা আমি বোধহয় কষ্ট করে চলি।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আমার ছেলেও হয়তো চেষ্টা করবে আমাদেরকে নেওয়ার কিন্তু বদের দল হয়তো ভিসা দেবেনা।
ধন্যবাদ আর্য রসিক, আনন্দে থাকুন, আনন্দে রাখুন সকলকে।

Zoom_Russel এর ছবি

আনন্দের মুহু্্রতে কাছের মানুষেরা না থাকলে মন খারাপ হয়, পরিবারের সংস্পরশে থাকতে না পারলে হতাশা কাজ করে। তবে দুরে থাকলেও আপনি বা আপনার ছেলে নিশ্চ‌য় একটা মুহুরতের জন্যও বিচ্ছিন্ন অনুভব করেননি। এবং এটাই আসল আনন্দ। অভিনন্দন রইল।।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা সর্বক্ষণ সাথেই আছি।

সাবেকা  এর ছবি

আপ্নার কষ্টটা মনকে ছুঁয়ে গেল । ছেলে নিশ্চ্য়ই বুঝবে আপনাদের কষ্ট । ভাল থাকবেন আপনারা ।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আমরা অনেক কিছু বুঝেও বুঝতে চাইনা। মধ্যবিত্তের আবেগ বলে কথা।

বন্দনা এর ছবি

আপ্নার কষ্টটা আমার বেশ চেনা, আমার বাবামা ও আমার কাছে আসতে চাননা, এতে আমার একগাদা টাকা খরচ হবে এই ভেবে। তবে এইবার আসতে রাজী হয়েছেন, সব ঠিক থাকলে এই অগাস্টে বাবামার সাথে ঈদ করবো।
আপনার ছেলেকে অভিনন্দন, আর আপনার পরিবারের জন্য অশেষ শুভকামনা রইল।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার আনন্দের প্রাবল্যও অনুভব করতে পারছি। আমার ছেলেটাও দেশে আসছে, সেও পুরো পরিবারের সাথেই ঈদ করবে।
আপনার সময়গুলো আনন্দে কাটুক। আপনার বাবা-মায়ের সুস্থতা কামনা করছি।

Guest_Writer নীলকমলিনী এর ছবি

ছেলে ও ছেলের বাবা মায়ের জন্য অভিনন্দন। প্লিজ মন খারাপ করবেন না। ছেলের পরের ডিগ্রীর সময় আসতে পারবেন আশাকরি। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন বড়লোকের ছেলেমেয়েরা বছরে দুটো ছুটিতেই বাড়ি যেতো, অন্যরা চার বছরেও যেতে পারেনি। আমরা আমেরিকা আসার পর প্রথম বিশ বছরে মাত্র তিনবার গেছি।

আমাদের দেশের বেশির ভাগ বড়লোক অসৎ। আমি একজন সৎ মানুষের মেয়ে বলে সবসময় গর্ব অনুভব করি। আমি জানি আপনার ছেলেও আপনাকে নিয়ে অনেক গর্ব করে।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, সাথে থাকার জন্য।
নিজের কাছে, বিবেকের কাছে সৎ থাকার কষ্টটাও চোখে পড়ে আশেপাশে তাকালে।

তিথীডোর এর ছবি

চমৎকার, মনছোঁয়া লেখা। চলুক
শুভ কামনা পরিবারের সবার জন্য। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, তিথীডোর।
ভাল থাকুন সব সময়।

তানিম এহসান এর ছবি

আপনার এবং আপনার নিজস্ব পৃথিবীর জন্য শুভকামনা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

এবিএম এর ছবি

পুরো লেখাটা পড়লাম। সবগুলো মন্তব্যও পড়লাম।
ছেলেকে নিয়ে এবারের ঈদ ভালো কাটুক আপনাদের, এই শুভ কামনা করি।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, আপনার ঈদও কাটুক আনন্দে।

মাহবুব এর ছবি

”মধ্যবিত্ত হলো তারা যারা ভিক্ষুকের কাছেও মাফ চায় “

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

দারুণ বলেছেন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।