ছুপা জামাতী চিনবেন কিভাবে?

আড্ডাবাজ এর ছবি
লিখেছেন আড্ডাবাজ (তারিখ: শনি, ১৮/১২/২০১০ - ১২:৪১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অসম্ভব একটা প্রত্যাশা নিয়ে এবারের ১৬ই ডিসেম্বর জাতি উদযাপন করল। প্রথমবারের মতো ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের কয়েকজনকে জেলে পুরে জাতি সগর্বে এবং প্রবল আত্মবিশ্বাসে বিজয় উৎসব উদযাপন করল। আমি যুদ্ধাপরাধী শব্দ ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বর্তমান সরকার "মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ আর আন্তর্জাতিক অপরাধ" বলে বিষয়টিকে অতি সাধারণীকরণ করেছে, সম্ভবত: কৌশলগত কারণে। সংজ্ঞাগত বিশ্লেষণের বিতর্কে আপাতত না গিয়ে করণীয় বিষয় কি তা নিয়ে একটু আলোকপাত করতে চাই।

বিজয় দিবসে এবারেও সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন ছিল: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে? প্রত্যাশা আর বাস্তবতা একটু ভিন্ন। তার মাঝে অতি উৎসাহী কর্তাব্যক্তিদের কথা শুনলে মনে হয়, এই তো রাত ফুরোবার আগেই ৭১'এর "জানোয়ার" ও তাদের সহযোগীদের ফাঁসীর দড়িতে ঝুলিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা একটু কঠিন। এমনিতেই আওয়ামী লীগ একটু বেশী আত্মবিশ্বাসী। তার মাঝে তাদের দলের পাতি নেতারা আরও এক কাঠি সরেস। এরকম একজন পাতিমন্ত্রীর কথা বলতেই পাশ থেকে একজন বলে উঠলেন, "ঐ ব্যাটাতো মূর্খ, কি বলতে কি বলে"? গরুর মতো জাবর না কেটে মুখে একটু লাগাম টেনে কাজে নামুন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবী করা এক কথা। আর এটি বাস্তবায়ন কর পুরোপুরি ভিন্ন কথা। এক্ষেত্রে যে সমন্বিত কৌশলগত দিক-নির্দেশনা প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। বাস্তবায়ন তো আরও অনেক দূরের কথা।

এধরণের সিরিয়াস কথা কোন এক আসরে যখন চলছিল, সেখানেই একজন বলেছিলেন: "আপনি ছুপা জামাতী চিনবেন কি করে"? মনে আছে, আইসিটি প্রথমেই হোঁচট খেল। সরকার যাকে নিয়োগ দিল, তাকে সরাতে হলো। কেন? ছুপা জামাতী চেনার মতো লিটমাস টেস্টের ব্যবস্থা কোথায়? ব্লগে একবার নব্য রাজাকার আর তাদের সহযোগীদের চেনার জন্য একটা জনপ্রিয় টেস্ট বেশ জনপ্রিয় ছিল। সেটা ব্লগে হয়তো সম্ভব। কিন্তু সরকার যখন সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তখন কিন্তু ব্যাপারটা আরও ব্যাপক, গভীর ও দুরুহ! আর সর্ষের মধ্যে ভুত লুকিয়ে থাকলে ব্যাপারটা মোটামুটি অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

দু'বছর আগে এক শ্রদ্ধেয় সিনিয়র ভাই বলেছিলেন: "লিস্টটা তৈরী করো"? জিজ্ঞেস করলাম, কাদের? তিঁনি উত্তর দিয়েছিলেন: "তথাকথিত সুশীলদের, ছুপা জামাতীদের"। কাজটা কেউ করেনি। এখন বুঝতে পারছি, কেন তিনি কথাটা বলেছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী প্রবলতর হচ্ছে, সাথে সাথে বাড়ছে ছুপা জামাতীদের আনাগোণা। অনেকে রং পাল্টিয়েছেন। পাল্টাচ্ছেন। পাল্টাবেন। চিনবেন কিভাবে? এরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ে রুমে বসে নীরবে লেখাপড়া করেছে? কোন মিছিলে যায়নি। এরা বর্ণচোরা। এদেরকে সেমিনারে দেখবেন। দেশ নিয়ে এদের আশঙ্কাটা একটু বেশী? খুব সমবেদনায় ভোগেন। সীমান্ত আজকাল খুব অরক্ষিত বলে আতঙ্কটা একটু বেশী বোধ করেন? দেশের অবস্থা খুব খারাপ হচ্ছে? তখন টেনে একটা চড় কসিয়ে জিজ্ঞেস করতে মন চায়: "হারামজাদা, এই অভাগা দেশটা ভাল ছিল কবে? কোন আমলে"?

ইকনোমিস্টে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সদ্য প্রকাশিত লেখাটা কি পড়েছেন? পড়লে হতাশ হবেন। তার এক কপি জেলের সেলে কম্বলের নীচে নিয়ে উনারা বুকে ধরে আছেন। উনারা আশার আলো দেখছেন। খুবই স্বাভাবিক। তাদের চ্যানেলগুলো খুব গভীর। জামাত শিবিরের প্রোপাগান্ডা মেশিন নিয়ে "সাপ্তাহিক" এর লেখাটা নিশ্চয়ই অনেকে পড়েছেন। তাদের চ্যানেলগুলোর সাথে যোগ হবে তথাকথিত ভদ্রবেশী সুশীলরা যারা "গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা আর সহনশীলতা" নিয়ে একটু বেশী চিন্তিত হয়ে পড়েন, কাতর হয়ে পড়েন। কারণ, এই আমলে আবার ক্রস ফায়ারের ভয়টা সঙ্গতকারণেই একটু কম।

ওয়াশিংটন, লন্ডন, আর মধ্যপ্রাচ্যে গত দু'বছরে কারা সবচেয়ে বেশী আনাগোণা করেছে তার তালিকাটা একটু খুঁজে বের করুন। মনে পড়ে, ভিআইপি গেইট দিয়ে সসম্মানে যুদ্ধাপরাধী দেশ বিদেশ ঘুরে এসেছে সেদিনও। "বজ্র আঁটি, ফস্কে গেরো" আর কাকে বলে?

একটা বিষয় ভুললে চলবে না, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এনেছিল এদেশের সাহসী জনতা। যুদ্ধাপরাধীদেরে বিচারের দাবী নির্বাচনী ম্যান্ডেট করে দিয়েছে এই জনগণ যারা বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এর সাথে বেইমানী করলে বাংলাদেশের জনগণ মাফ করবে কি না জানি না? তবে রাজাকার-জামাতীরা করবে না। তারা এই ভুলের মাশুল কড়ায় গন্ডায় শোধ করে নিবে।

তাই, ছুপা জামাতী চেনার জন্য আপনার পাশে যিনি বসে আছেন তাকে জিজ্ঞেস করুন। তালিকাটা তৈরী করুন, সযত্নে কাছে রাখুন। মনে রাখবেন, এর প্রয়োজন হতে পারে যে কোন মূহুর্ত্তে। ব্লগে ঠিক এখনই শেয়ার করতে হবে না। যখন দরকার হবে, তখন আপনি নিজেই জানবেন।


মন্তব্য

দ্রোহী এর ছবি

বহুদিন পর! ওয়েলকাম ব্যাক।

কেমন আছেন?


কাকস্য পরিবেদনা

দ্রোহী এর ছবি

জামাতি বুদ্ধিজীবীদের প্রিয় বাক্য "গ্যাস নাই, পানি নাই, কারেন্ট নাই আর সরকার করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।"


কাকস্য পরিবেদনা

আড্ডাবাজ এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি যুদ্ধাপরাধী বলে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন... আমি রাজাকার-আলবদর বলে আরো বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করি!

--- থাবা বাবা!

পাগল মন এর ছবি

সবার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। প্রত্যেকটা জামাতী, রাজাকারের দোসর সবার চেহারা চিনতে হবে, জানতে হবে।
ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।
_________________________________________________
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

অমিত এর ছবি

বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার জন্য কেপি টেস্ট পাশ করাটা বাধ্যতামূলক করা উচিত

অতিথি লেখক এর ছবি

হুমম চিনতে চেষ্টা করব

------মন-----

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

ছুপা জামাতী বা ছুপা-রাজাকারের কথা বলতে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে বাংলাভিশন আর আরটিভি চ্যানেলে অতিমাত্রায় হাজিরা দেয়া ৩ বর্ণচোরার কথা। বিশেষ করে বাংলাভিশন এই তিনজনকেই শিয়ালপন্ডিতের একই কুমিরছানা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখানোর মত করে নিয়মিত ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখায়। এদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আইনবিভাগের ছিক্ষক, একজন 'নতুন আমল' পত্রিকার এক ছুপা-ছম্পাদক, আর অন্যজন পুরনো ছিনিয়র ছাম্বাদিক কোন এক উল্লাহ ছাহেব।

ভারি মজার লোক এঁরা ! ওনারা যুদ্ধাপরাধ-বিরোধী বিস্ফোরক চে-লেনিন-মাও একেকজন। এতটাই যে, যেকোন ঠক-শো'তে এসেই অবধারিত ভাবে নিজেদের 'মুক্তিযুদ্ধের/প্রগতিশীলতার' সপক্ষের ও তীব্র যুদ্ধাপরাধ-বিরোধী ক্রেডেনশিয়ালের পক্ষে 'ঠাকুর ঘরে কে রে / আমি কলা খাই না' টাইপের একটা ছোট্ট ফুটনোটের মত ডিসক্লেমার দিয়ে রাখেন। কেউ কেউ এমনকি যুদ্ধাপরাধের দাবীতে 'আমিই হবো প্রথম ব্যক্তি' এমন ঘোষণাও দিয়ে দেন নিজের বীরত্ব জাহির করতে (যদিও জামাতি নেতার বাসায় তাদের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীর তালিকায় এর নাম পাওয়া গেছে)। এই ডিসক্লেমারটি তাঁরা খুব দ্রুত ও সংক্ষেপে সেরে ফেলেন যাতে বেশি সময় নষ্ট না করে মূল আলোচনায় চলে যাওয়া যায়। আর মূল আলোচনায় থাকে যুদ্ধাপরাধের বিচার, যুদ্ধাপরাধী-বিরোধী বা মৌলবাদ বিরোধী সরকারের বা অন্যকারো যেকোন কাজ , যেকোন জনমত - সবকিছুর বিরুদ্ধে অতি সুকৌশলে ধরি-মাছ-না-ছুঁই-পানি-মার্কা নিরপেক্ষতার ভান করে অনবরত ত্যানা-পেঁচানো। নিজের সম্পর্কে কয়েক সেকেন্ডের ডিসক্লেমারে যাই বলুন না কেন, ৯৯.৯৯৯৯৯৯৯% মূল আলোচনায় কিন্তু কখনই যুদ্ধাপরাধের বিচার, যুদ্ধাপরাধী-বিরোধী, মৌলবাদ-বিরোধী, কূপমন্ডুকতা বা প্রতিক্রিয়াশীলতা-বিরোধী সরকারের বা অন্যকারো কোন কাজ সম্পর্কে কোনই সমর্থন, প্রশংসা বা পজিটিভ মূল্যায়ন থাকে না। এরকম যেকোন কাজেই তাঁদের সমালোচনা আর বিরোধিতার খড়্গ সদা উদ্যত। ঐ উল্লিখিত ডিসক্লেমার সত্ত্বেও, এদের মুখ দিয়ে আমি আজ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধী-বিরোধী বা তাদের বিচারের পক্ষে তেমন কড়া/জোরালো বা সুস্পষ্ট, দ্ব্যররথহীণ, আনইভেইসিভ, রিপিটেড কোন কথা বের হতে শুনলাম না - অথচ তাদের বিচারের প্রসঙ্গে এঁরা সমালোচনামূলক তেনা-পেঁচানি একবার শুরু হলে আর থামতেই চান না কিছুতে। তখন তাঁদের এনার্জি আর এন্থুসিয়াজম অফুরন্ত। কি আশ্চর্য দ্বিচারিতা। আরো আশ্চর্য, এর সবটাই আবার তাঁরা করেন মুক্তবুদ্ধি, যুক্তিশীলতা, মানবাধিকার, নিরপেক্ষতা আর নিপাট ভদ্রলোকির মধুর ছদ্মাবরনে। তাঁদের এই আপাতঃ 'লেভেল-হেডেড' ইন্টেলেকচুয়ালিজম ও ইলোকুয়েন্সের মধুরতা, ভেনাস-ফ্লাইট্র্যাপের মধু-র চেয়েও লক্ষগুন বেশি মধুর ! এর আকর্ষন অনেকের কাছেই বেশ অপ্রতিরোধ্য।

মূল আলোচনায় তাঁদের আকর্ষনীয় চতুর তেনা-পেঁচানির চরিত্র নিয়ে এখানে কিছু বলবো না, তবে ঐ ডিসক্লেমারটি নিয়ে আমার প্রিয় একটা সাদৃশ্যমূলক উদাহরণ দেই। একটা গ্রাম্য গল্প শুনেছিলাম অনেক আগেঃ এক গৃহকর্ত্রী একবার নিজের বাসায় ঢুকে পড়া অন্য কারো একটা মুর্গি আবিস্কার করে তার ভৃত্যকে বললেন - যাও, মুর্গিটা নিয়ে কার মুর্গি হারিয়েছে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করতে করতে পুরো পাড়ার রাস্তায় একটা টহল দিয়ে এসো। মালিক পেলে ফেরত দিয়ো। ভৃত্যটির মোটেই ইচ্ছা ছিল না মুর্গিটা ফেরৎ দেয়ার - তার নোলা/জিহবা ততক্ষণে রসে টসটস করছে। ফলে সে মুর্গি হাতে বেরলো বটে এবং কথা মতো ঐ কথাগুলি বলতে বলতে পাড়াময় টহলও দিল। তবে বললো এরকম -- "কী~স্কা ~ মুরগি ?" 'কিস্কা'-টা একদম গলা ফাটিয়ে পাড়া মাত করে বাজখাঁই গলায়, আর 'মুর্গি'-টা একদম ফিসফিসিয়ে, মিনমিনিয়ে - যাতে করে কেউ শুনতে পেয়ে নিজের বলে চেয়ে না বসে (এবং ফলতঃ যাতে পরে সে নিজে খেতে পারে), অথচ গৃহকর্ত্রী চার্জ করলেও যাতে সে বলতে পারে যে সে 'মুর্গি'র কথা আসলেই বলেছে - কিন্তু মালিক পায়নি। সে কাজে ফাঁকি দেয়নি।

তো আমাদের এইসব ছুপা-জামাতী বুদ্ধিজীবী বা ছাম্বাদিকদের 'ডিসক্লেমার'-গুলিও ঠিক এই চাকরের 'মুর্গির' মত। 'কিস্কা'-র জাগায় থাকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে যত মধুমোড়া বিষোদ্‌গারের গোলাবর্ষন আর ফাস্ট ও স্লো-পয়জনিং, ডিস্ক্লেমারটি থাকে 'মুরগি'-র মত ফিসফিসিয়ে - যাতে করে যুদ্ধপরাধের ভয়ঙ্কর গর্হিত দিকটি ও তার বিচারের ওভারওয়েল্মিং, ওভাররাইডিং পরম ন্যায়পরতা ও ঔচিত্যের প্রতি বেশি দৃষ্টি আকর্ষন না করেই আলোচনার ভন্ড টোনটা সেট করা যায় এবং পাব্লিক চেপে ধরলে যাতে ভালো মানুষ সেজে ঐ 'মুর্গি' বলার মত ব্যাখ্যা দিয়ে পিছলে যাওয়া যায়।

আমার মনে হয় এই - "কিস্কা ~ মুরগি" ছুপা-রাজাকার বুদ্ধিজীবী, সেমিনারজীবী, ও ঠকশো-জীবীদের চেনার অন্যতম উপায় হতে পারে।

অতিথি [অতিথি] এর ছবি

অফ টপিক ,
আপনাদের কি মনে হয় বিচার আদৌ হবে ? আমার মনে হয়না। এটা আওয়ামী লীগের একটা আইওয়াশ ছিল মাত্র । এই সেশনের পরে বলবে এবার বিচার শেষ করতে পারিনি, আবার ভোট দিয়ে বিচারের সুযোগ দেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

আওয়ামী লীগ বিচার করবে কিনা এটা এখনই বলা একটু কষ্টকর... কিন্তু কেন দেরি হচ্ছে তার একটা ব্যখ্যা আছে আমার মতে,

এত ঢাক-ঢোল পিটায় বিচার করার পরে যদি নিজেদের গাফিলতির কারনে কেউ ছাড়া পায় তাহলে বিচার জীবনেও আর করা সম্ভব না।

বিচার পরিচালনা করার জন্য যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা মোটেও বাংলাদেশের সেরা আইনজ্ঞ নন। খোদ সরকারেরই সন্দেহ আছে তাদের দক্ষতা নিয়ে। তাহলে কেন তাদের নিয়োগ? কারন আওয়ামীপন্থী সেরা উকিলরা ১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার কেস না নেওয়ায় তিনি তাদের উপর রুষ্ঠ। যেমন রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আমিরুল ইসলাম, ব্যরিস্টার জহির।

নিজামীর কোন এক শুনানিতে বিচারক প্রশ্ন করেন যে নিজামী কোথায় কোথায় অপরাধ করেছেন? জনাব টিপু নাকি জবাব দিয়েছিলেন যে "এদের অপরাধের কোন এলাকা নাই...সারা দেশে এদের অপরাধ..". কথা সত্য কিন্তু এভাবে তো বিচার চলে না... তখন নাকি তার এক সহকারী শুধ্‌রে দেন পাবনার বেঁড়া, সাথিয়া এর কথা বলে। জামাত নিশ্চই আটঘাট বেধেই নামবে... তবে নতুন শুনলাম যে আমিরুল ইসলামদের সাথে নাকি সমঝোতা হয়েছে...

যুদ্ধপরাধীদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তারও সেই কারনে... সরকার চায় না অন্তত যুদ্ধপরাধী মামলায় কেউ জামিনে বের হয়ে যাক...

সবই আমার ধারনা......ঘটনা অন্যরকম হতেও পারে

-
বঙ্গসন্তান

ফারুক হাসান এর ছবি

যুদ্ধপরাধীদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তারও সেই কারনে... সরকার চায় না অন্তত যুদ্ধপরাধী মামলায় কেউ জামিনে বের হয়ে যাক...

এটা একটা কারণ। আরেকটা হচ্ছে ট্যাক্টিক্যাল, যাতে কেউ 'প্রমাণ করার আগেই গ্রেপ্তার কেন' বইলা আজাইরা মাঠ গরম করতে না পারে। সাকাচৌরে গ্রেপ্তারের পর বিএনপি মহাসচিবের জাতিসঙ্ঘের প্রতি আকুল আবেদন মাঠে মারা গেছে সাকাকে বাসে আগুন ও ফারুক হত্যা মামলায় আসামি দেখানোর কারণে।

অতিথি লেখক এর ছবি

সুবিধা হচ্ছে যে একদিন না একদিন এদের ল্যাঞ্জা বের হয়ে যায়। এটাকে ঢাকা খুব কঠিন। বড় বড় পত্রিকাতে দেখা যাচ্ছে কলামিস্টরা রাজাকারদের বিচারের চেয়ে দেশ নিয়ে হা-হুতাশ করছে। অথচ এইসব লোককে এক সময় শ্রদ্ধা করতাম। তাই এদেরকে হয়ত সহজে চেনা যাবে। সমস্যা হবে যদি এদের কেউ বিচার ব্যবস্থার মধ্যে চুপটি মেরে থাকে।

অনন্ত

নাশতারান এর ছবি

যেসব "মানবতাবাদী" অতীতের সব ঘৃণা আর তিক্ততা ভুল্র গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় তারা( অধিকাংশই পাঁড় জামাতী, কেউ কেউ উদীয়মান জামাতী)।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

মনির [অতিথি] এর ছবি

যুদ্ধপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সম্পূর্ণ হয় না। আমার আপত্তি সরকার বিষয়টা নিয়ে যেভাবে এগুচ্ছে সেটাতে।

আমি মনে করি যুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য সরকারের সবগুলো মন্ত্রণালয় ব্যাস্ত থাকে না। মূলত আইন, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই এটার জন্য শ্রম দিতে হয়। আর এক কাজে অনেকগুলো মন্ত্রী উপদেষ্টা লাগালে ঝামেলা ছাড়া আর খুব একটা লাভ হয় না। এইট খুব গুরুত্বপূর্ণ সরকারের অন্য কাজগুলোও যাতে এগোয়। কারন সময়টা সত্যি খুব কম। আর বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে সামান্য ধারনা থাকলেই যে কেউ জানবেন যদি আগামি নির্বাচনে বি এন পি জোট আসে তাহলে এরা সবাই ছাড়া পাবে। এদের ছাড়া পাওয়াটাই হবে একটা পরাজয়। এজন্য আমি মনে করি দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ পরিস্হিতি এসব নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রনালয় গুলোর একটু ভাবার, একটু সচেতন হওয়ার দরকার আছে। নইলে ভয়টুকু আগামি নির্বাচনে সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক খানি।

বিচার প্রক্রিয়ারও একটু স্পিড আপ দরকার। সরকার খুব একটা গা করছে বলে মনে হচ্ছে না। সাকা বা সাঈদীকে রিমান্ডে মার দেওয়া আমার কাছে কোন অর্জন নয়, আমি তাদের কনভিক্টেড দেখতে চাই। সময় কিন্তু আর মাত্র তিন বছর।

guest_writer rajkonya এর ছবি

হুম, আমিও তাই বলি। আগে প্রয়োজন রাজাকারদের তালিকা

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কেপি টেস্টের একটা জাতীয় ভার্ষন দরকার!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

বোকাবলাকা এর ছবি

guest_writer rajkonya লিখেছেন:
একটা বিষয় ভুললে চলবে না, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এনেছিল এদেশের সাহসী জনতা। যুদ্ধাপরাধীদেরে বিচারের দাবী নির্বাচনী ম্যান্ডেট করে দিয়েছে এই জনগণ যারা বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এর সাথে বেইমানী করলে বাংলাদেশের জনগণ মাফ করবে কি না জানি না? তবে রাজাকার-জামাতীরা করবে না। তারা এই ভুলের মাশুল কড়ায় গন্ডায় শোধ করে নিবে।
guest_writer rajkonya লিখেছেন:
হুম, আমিও তাই বলি।

যথার্থ।যুদ্ধপরাধীর বিচার করা গেল কিনা । তা দেশবাসী বেশী দিন মনে রাখবেনা। কারণ বাংগালীরা সহজেই ভুলতে পারে।কিন্তু জামাত-শিবির/রাজাকার-আলবদর সারা জিন্দেগীতেও ভুলবেনা। তারা সুযোগ পেলেই এর যথাযথ প্রতিশোধ নিতে একটুও বিলম্ব করবেনা। কথাটা ক্ষমতাসীনরা যদি মাথায় রেখে কাজ করে তাহলেই সঠিক কাজটি করা হবে।

ইপ্সিতা এর ছবি

কেউ কি তালিকাটা করেছে? এখনো কি সময় আসে নি সেই তালিকা প্রকাশের? আর আসলেই কি কোন উপায় কারো জানা আছে সাথে চলে ফিরে যাচ্ছে এমন মুখোশধারী যুদ্ধাপরাধীগুলোকে চেনার? কেউ চেনার একটা উপায় থাকলে বলেন। এতো অন্যায় করেও এরা আমাদের দেশের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে! আমাদের পাপ বাড়ছেই। শাস্তি হোক! দেশটা শান্তি পাবে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA