৭১ নিয়ে শর্মিলা বোসের অপপ্রচার আবারও

আড্ডাবাজ এর ছবি
লিখেছেন আড্ডাবাজ (তারিখ: মঙ্গল, ১৫/০৩/২০১১ - ১০:৫২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ড: শর্মিলা বোসকে নিয়ে সচলের পাতায় লিখেছিলাম প্রায় তিন বছর আগে। সম্প্রতি তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছেন তার লেখা বই "ডেড রেকনিং: মেমোরীজ অফ বাংলাদেশ অফ দ্য নাইনটিন সেভেনটিন ওয়ান" বইটি প্রকাশের প্রাক্কালে। সেই বই নিয়ে তিঁনি আলোচনা করতে আসছেন মার্কিন মুল্লুকের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি'র উড্রো উইলসন সেন্টারে আগামীকাল (সূত্র: আইসিএসএফ ভলিন্টিয়ার গ্রুপ)। ঢাকার সময় ১৬ মার্চ রাত দু'টো থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অনলাইনে দেখা যাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার একচোখা ও পাকিস্তানঘেঁষা তত্ত্বকথা। পুরো অনুষ্ঠানটি দেখার মতো ধৈর্য্য বা আগ্রহ হলে এই লিংকে ক্লিক করতে পারেন। অবশ্য ওদের আর্কাইভে ভিডিওটা পরেও পাওয়া যাবে।

কিন্তু মূল ব্যাপারটা হচ্ছে এক শর্মিলা বোস তার পক্ষপাতমূলক বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হয়তো বদলাতে পারবেন না। কিন্তু তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশিত বিকৃত ইতিহাস ও তার অসম্পূর্ণতা পাকিস্তানপন্থী ও ৭১ বিরোধী শিবিরের জন্য কিছুটা স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনবে। পাকি পত্রিকাগুলো বরাবরের মতো শর্মিলার জন্য সপ্রশংস সম্পাদকীয় কলাম যে লিখে রেখেছে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু উইলসন সেন্টার হঠাৎ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এতোটা আগ্রহী হলো কেন সে ব্যাপারে আমি নিজেও কৌতূহলী হয়ে উঠি। শুরু করি অন-লাইনে গবেষণা। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলসনের নামে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্র নিরপেক্ষভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর গবেষণা করে এবং গবেষকদের জন্য ফেলোশীপ প্রদান করে। তাদের মোট ব্যয়ের এক তৃতীয়াংশ আসে মার্কিন সরকারের তহবিল থেকে (সূত্র: উড্রো উইলসন সেন্টার)। কিন্তু বাংলাদেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে তখন উইলসন সেন্টারের ১৯৭১ এর বিকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠার জন্য একজন শর্মিলা বোসকে খুব পরিকল্পিতভাবে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে তার হেতুটা কি?

এগুলোর পেছনে হয়তো রয়েছে কোন অদৃশ্য হাত। এর মধ্যে সেখানকার এক্টিভিস্টদের সাথে যদ্দুর যোগাযোগ করতে পেরেছি তাদের সূত্র মতে, "কনসপিরেসী থিওরী"র ধারণাটা বেশ প্রবল। এধরণের ধারণা বেশ নিরাপদ যেহেতু তা প্রমাণের অপেক্ষা করে না। প্রমান হিসেবে এদেরই একজন ই-মেইল করে জানালেন, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত (১৯৯০-৯৩) উইলাম বি মাইলামের কথা (সূত্র: উইলাম বি মাইলাম: সিনিয়র পলিসি স্কলার, উড্রো উইলসন সেন্টার)। তিনি সেই উইলসন সেন্টারের একজন সিনিয়র পলিসি স্কলার। রাষ্ট্রদূত (অবসরপ্রাপ্ত) মাইলাম সম্প্রতি উইলসন সেন্টারে এক সেমিনারে "বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বিরোধীদলকে ঘায়েল করার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের ছুতো" বলে দাবী করেন। কিন্তু শ্বেতাঙ্গ অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক মাইলামের সাথে শর্মিলা বোসের কি সম্পর্ক সেই প্রশ্নও প্রবলতর হতে থাকে।

শর্মিলা বর্তমানে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র গবেষক। কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এলো। রাস্ট্রদূত মাইলাম আর শর্মিলা বোস দু'জনে মিলে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরে পাকিস্তানে এফ সিক্সটিন বোমারু বিমান বিক্রির সপক্ষে (সূত্র: ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর, এপ্রিল ১১, ২০০৫)। মাইলামের সূত্র ধরে শর্মিলা যদি বাংলাদেশের ৭১ নিয়ে বিতর্কিত ও উপাত্তহীন কথাবার্তা শুনিয়ে হয়তো টু-পাইস কামাই করতে পারেন তাতে সমস্যা কি? দেহজ পতিতাবৃত্তির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক পতিতাবৃত্তি কতোটা ভয়ঙ্কর তা দেশের আকেলমন্দরা ভাল করেই জানেন।

কিন্তু শর্মিলার মতো নির্লজ্জ ও অন্ধ পদলেহীদেরকে ঠেকাবেন কিভাবে? এ ব্যাপারে যে লেখা হয়নি তা নয়। একটু গুগল করলে দেখতে পাবেন অনেক ব্লগার ও গবেষকদের লেখা। আজ বিডিনিউজে দেখলাম শর্মিলাকে নিয়ে আমেরিকায় অধ্যাপনারত একজন বাংলদেশী শিক্ষকের "রিটার্ন অফ শর্মিলা বোস" শীর্ষক লেখা। কিন্তু এ ধরণের এক্টিভিজমে শর্মিলা কি বদলাবে? উত্তরটা বেশ সহজ। না, শর্মিলার মতো একপেশে লেখকরা বদলাবেন না। কিন্তু একটা জায়গায় খুব ভালভাবে আঘাত করা যায়, সেটা হচ্ছে শর্মিলাকে যারা প্রাতিস্ঠানিক প্লাটফর্ম দিচ্ছে।

আর কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বক্তব্য আশা করাও নির্বুদ্ধিতা। এসব ছোটখাট বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবার মতো সময় আমাদের মহারথীদের কোথায়? আমি বরাবর আমাদের তরুণ প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে থাকি। ওরা পারবে। ওরাই পারবে আবেগতাড়িত না হয়ে খুব ঠান্ডা মাথায় শর্মিলার গবেষণা কর্মের অসারতাকে প্রমাণ করতে। উড্রো উইলসন সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখা যায়। আমাজন ডট কম যেখানে শর্মিলার বই যারা প্রায় তিন হাজার টাকা দিয়ে যারা কিনবেন সেখানে পাঠক প্রতিক্রিয়ার জায়গায় চমৎকার একটা ইংরেজী রিভিউ লিখে আসতে পারেন। যারা মার্কিন মুল্লুকের নাগরিক তারা তাদের এলাকার কংগ্রেসম্যান ও সিনেটরদেরকে উইলসন সেন্টারের বিতর্কিত ভূমিকার ব্যাপারে সচেতন করেও লিখতে পারেন।

শর্মিলা বোস স্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানীদের স্বার্থে নিজের গবেষণাকর্ম উৎসর্গ করেছেন। নির্লজ্জভাবে শর্মিলা বলতে থাকেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের নারীদের সম্ভ্রমহানিটা এক অতিরঞ্জিত গল্প। কোথায় হয়েছে নারীদের সম্ভ্রমহানি? সেটা জানার জন্য তিনি ছুটে যান পাকিস্তানী জেনারেলদের কাছ। শুধু মুখোমুখি হতে পারেন না বাংলাদেশের নির্যাতিত নারীদের সামনে। এটা বলার মতো গবেষণাকর্ম না থাকলেও ছয় কোটি টাকার বাজেটে পাকিস্তানী সেনাপ্রেমী মেহেরজানের জন্য দরাজ দিল মানুষের অভাব নেই। অভাব নেই মুক্তিযুদ্ধকে হালকা রোমান্সে ঝাপসা করে দেখার মানুষের? মাঝে মধ্যে ভুলে যাই, আমাদের দরিদ্রতা শুধু আর্থিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিকও।

ছবি: 
02/06/2007 - 12:12am

মন্তব্য

অপছন্দনীয় এর ছবি

একের পর এক তো চলছেই দেখি, প্রথমে মেহেরজান, তারপরে আবার শর্মিলা বোস।

এই সমস্ত প্রচারণার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন উত্তর না দিয়ে সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করা উচিত বলে মনে করি। একটা ওয়র্কিং গ্রুপ তৈরী করা যায় যাদের কাজ হবে এই ধরণের ক্ষেত্রে সংগঠিত এবং পরিকল্পিতভাবে এইসব প্রচারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

হয়তো এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন যে শর্মিলার পিতামহের দিক থেকে আত্মীয় নেতাজী সুভাস বোস হিটলারের জার্মানীর হলোকাস্টের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য। সেই একই রক্তের বাঁধনের শর্মিলা বোস স্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানীদের স্বার্থে নিজের গবেষণাকর্ম উৎসর্গ করেছেন।

সব "হলোকাস্ট সাপোর্টারের উত্তরপুরুষ হলোকাস্ট সাপোর্টার হয়" এটা যদি প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে দয়া করে রক্ত, বংশ, চৌদ্দপুরুষ ইত্যাদির বদলে মানুষকে নিজের কর্ম দিয়ে বিচার করুন। কেউ আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে তার পূর্বপুরুষ হলোকাস্ট সাপোর্টার ছিলো নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলো তাতে কিছু যায় আসে না।

ফাহিম হাসান এর ছবি

লেখার জন্য ধন্যবাদ। এই মহিলা তো দেখি পিছু ছাড়ে না।

------------------

হয়তো এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন যে শর্মিলার পিতামহের দিক থেকে আত্মীয় নেতাজী সুভাস বোস হিটলারের জার্মানীর হলোকাস্টের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য।

একটু যদি ব্যাখ্যা করতেন। কারণ আমি কোথাও পড়ি নি উনি হলোকাস্ট সমর্থন করেছেন। ১৯৪২ সালে ওনার সাথে হিটলারের দেখা হয়েছিল এবং তিনি সাহায্য চেয়েছিলেন এইটুকুই জানি। তো উনি তো স্টালিনের কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন। তাই বলে আমি বলবো যে উনি স্টালিনের হত্যাকান্ড সমর্থন করেছেন?

ফাহিম হাসান এর ছবি

এখানে দেখেন তাঁর নিজের লেখা চিঠি -

"Today I regret that I have to return to India with the conviction that the new nationalism of Germany is not only narrow and selfish but arrogant. The recent speech of Herr Hitler in Munich gives the essence of Nazi philosophy......The new racial philosophy which has a very weak scientific foundation stands for the glorification of the white races in general and the German race in particular. Herr Hitler has talked of the destiny of white races to rule over the rest of the world. But the historical fact is that up till now the Asiatics have dominated Europe more than have the Europeans dominated Asia. One only has to consider the repeated invasions of Europe by Mongols, the Turks, the Arabs (Moors), the Huns, and other Asiatic races to understand the strength of my argument...."

Bose to Dr. Thierfelder of the Deutsche Academie, Kurhaus Hochland, Badgastein.

The Essential Writings of Netaji Subhas Chandra Bose Edited by Sisir K. Bose & Sugata Bose (Delhi: Oxford University Press) 1997 p155

সূত্র

নাশতারান এর ছবি

শর্মিলা বোস
মেহেরজার
স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্মাননা
আবারো শর্মিলা বোস

কী আছে সামনে?

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

ফাহিম হাসান এর ছবি
অপছন্দনীয় এর ছবি

পড়ে দেখলাম, আমিও পুরো বিভ্রান্ত...

ওই লেখায় মূল লেখার যে ব্যাপারগুলো বলা হয়েছে সেগুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আরো বেশি বিভ্রান্ত...

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ ।
আমরা তথ্যটি জানামাত্রই প্রতিবাদে শামিল হই । উড্রো উইলসন সেন্টারের নিকট একে বাদ দেয়ার অনুরোধও করা হয় । উড্রো উইলসন সেন্টারের কর্মকর্তাদের সাথে আমাদের ইমেইলের মাধ্যমে তর্ক চলছে ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

কৌস্তুভ এর ছবি

হয়তো এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন যে শর্মিলার পিতামহের দিক থেকে আত্মীয় নেতাজী সুভাস বোস হিটলারের জার্মানীর হলোকাস্টের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য। সেই একই রক্তের বাঁধনের শর্মিলা বোস স্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানীদের স্বার্থে নিজের গবেষণাকর্ম উৎসর্গ করেছেন।

নেতাজী জার্মানীর সাহায্য চেয়েছিলেন (অবস্থান্তরে পড়েই), তার মানে এই নয় যে উনি তাদের সমর্থন করেছিলেন, আরো বিশেষভাবে, হলোকাস্টের সমর্থন করেছিলেন। এইটা দেখছি উপরে ফাহা লিঙ্কসহ বলেছেন, তাই আর কথা বাড়াচ্ছি না। আর রক্তের সম্পর্কের এই কথা অহেতুক টেনে আনা নিয়েও অপছন্দনীয় বলেছেন। তবে ওনার প্রতি আপনার এরকম ধারণা দেখে খারাপ লাগল।

সাফি এর ছবি

যতদূর জানি, ব্রিটিশ আমলে শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু নীতিতে জার্মানীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। লেখায় শর্মিলার পূর্বসুরির উল্লেখ লেখার মূল বক্তব্যকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সাফি এর ছবি

মেহেরজানের লেখিকাওতো মনে হয় শর্মিলা বোসকে উদ্ধৃত করেছিলেন সাক্ষাৎকারে বা তার একাডেমিক পেপারে। এই মহিলাকে একাডেমিকভাবেও প্রতিরোধ করা জরুরী। বিষয়বিচারে এই গুরুত্বপূর্ণ লেখার জন্য ধন্যবাদ।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ বিষয়টি আবার সামনে আনার জন্য।
শর্মিলা বোসকে নিয়ে দৃষ্টিপাত একবার একটি প্রকল্প নিয়েছিল, যার আওতায় বেশ কিছু প্রতিবাদ ছাপানো হয়েছিল। সহব্লগার ম্যাশের লেখার গুগল লিংক আপনি দিয়েছেন, এখানেও আরো কিছু লেখা দেখতে পাবেন

ভদ্রমহিলা 'এনি পাবলিসিটি ইজ গুড পাবলিসিটি' ধারনায় বিশ্বাস করেন। প্রকৃত গবেষণায় যে যোগ্যতা দরকার হয়, প্রপাগান্ডায় তা দরকার হয়না, বরং সহজেই 'বিতর্কিত' হওয়া যায়। তাকে তার 'গবেষণা'র বা ধারনার ভুল ধরিয়ে লজ্জা দেয়া কঠিন। কিন্তু তার লেখা পড়ে অন্যরা যেন বিভ্রান্ত না হয়, তার জন্যই আমাদের এই প্রতিবাদগুলো দরকার।

-----------
চর্যাপদ

নীড় সন্ধানী এর ছবি

এই মহিলা নীরদ চৌধুরীর দূরবর্তী আত্মীয়া হলেও বাংলাদেশ নিয়ে তার চশমাটা নীরদ চৌধুরী থেকেই নেয়া। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরুর কালে এদের নড়াচড়াগুলো সন্দেহ জনক। এর প্রতিবাদ অতি অবশ্যই হওয়া দরকার।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অমিত আহমেদ এর ছবি

বিষয়টি তুলে আনার জন্য ধন্যবাদ। তবে গুরুত্বপূর্ণ লেখাটিতে নিচের অংশটুকু প্রচন্ড ভাবে বেমানান। অপছন্দনীয় ও ফাহিম হাসান বিস্তারিত বলেছেন। এই অংশটুকু পরিমার্জন করবেন আশা করি।

হয়তো এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন যে শর্মিলার পিতামহের দিক থেকে আত্মীয় নেতাজী সুভাস বোস হিটলারের জার্মানীর হলোকাস্টের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য। সেই একই রক্তের বাঁধনের শর্মিলা বোস স্বাধীন বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানীদের স্বার্থে নিজের গবেষণাকর্ম উৎসর্গ করেছেন।

মুস্তাফিজ এর ছবি

দেহজ পতিতাবৃত্তির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক পতিতাবৃত্তি কতোটা ভয়ঙ্কর তা দেশের আকেলমন্দরা ভাল করেই জানেন।

কথা সত্য।

মেঘলা 2011 এর ছবি

এই বদ মহিলা কে ধরে কয়েকটা চড় থাপ্পর মারতে পারলে শান্তি হতো...

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

তিনি নিরোধ চৌধুরীর আত্মীয় হলে তো কথাই নেই। সেই বোজর্গান নিরোধ চৌধুরী তো বাংলাদেশকে তথাকথিত বাংলাদেশ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাস্ট্রদূত (১৯৯০-৯৩) উইলাম বি মাইলামের কথা

এটা মনে হয় "বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের প্রাক্তন রাস্ট্রদূত (১৯৯০-৯৩) উইলাম বি মাইলামের কথা" হবে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নজরুল ইসলাম এর ছবি

সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারী থাকুক

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

আড্ডাবাজ এর ছবি

আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। বিশেষত: নেতাজী সুভাষ বোসকে নিয়ে কথাটা মুছে দিলাম। লেখাটা থাকুক শুধু শর্মিলাকে নিয়ে। নেতিবাচক প্রচারণা হয়তেো শাপে বর হতে পারে যদি তাকে সফলভাবে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা যায়। সেই আশাবাদ ও বিশ্বাস আমার মধ্যে ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারী থাকুক। সঙ্গে আছি।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

দুর্দান্ত এর ছবি

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।
অপরাধী যেই হোক, তার আত্মীয়স্বজনকে অকারনে অপরাধের ভাগীদার করবেন না।

আড্ডাবাজ এর ছবি

দুর্দান্ত: সহমত। লেখাটি সংশোধন করা হয়েছে। ধন্যবাদ।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আসলেই, সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারী থাকুক ...

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

পাগল মন এর ছবি

যেকোন ধরণের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি থাকুক, এই আশায়।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

দ্রোহী এর ছবি

দু'মুঠো ভাতের জন্য শর্মিলা বোস সব কিছুই করতে পারে।

ফাহিম হাসান এর ছবি

দু' মুঠো ভাত?? অ্যাঁ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

দেহজ পতিতাবৃত্তির চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক পতিতাবৃত্তি ভয়ঙ্কর

শর্মিলা বোস'দের ব্যাপারে আর কিছু বলার নেই।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমরা আছি

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

Md. Salam এর ছবি

উনি কি সেই রুবাইয়াত কথিত, "উপমহাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ???"

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

চমৎকার পোস্ট।

রুবাইয়াত হোসেনের বুদ্ধিবৃত্তিক আম্মিকে নিয়ে বিশদে লেখার চিন্তা করছি। হাসি

আড্ডাবাজ এর ছবি

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যদ্দুর জানি, শর্মিলার সেই বৈঠকে জামাতীরা সদলবলে যোগ দিয়েছিল। শর্মিলার অটোগ্রাফসহ তার সেই বই কিনতে তাদের দেখা যায়। তার মধ্যে ছিল একজন চিন্হিত রাজাকার যিনি ৭১-এর শেষের দিকে ঢাকা থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে চলে আসেন আমেরিকায়।

মাল মশলা জোগাড় সম্পূর্ণ হলে পরের পর্ব প্রকাশ করব। ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি

ওয়েবকাস্ট দিলাম

পার্ডন মাই ফ্রেঞ্চ, বাট শর্মিলা বসু একটা চুতমারানি।

ফাহিম হাসান এর ছবি

গলার স্বর তো দেখি পুরাই ফাহমিদুল হকের মত।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কত পদের ছেনাল মাগী দেখলাম, এরকম ছেনালের ছেনালীপনা দেখাটাই বাকী ছিল, রাগে গা জ্বলে যাইতেছে, ভদ্র ভাষায় কিছু চিন্তাও করতে পারতেছি না...

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দিফিও-1 এর ছবি

হিমু, আপনাকে ধন্যবাদ ওয়েবকাস্টের লিংকের জন্য। ওনার আগের লেখাগুলোর ইতিহাস মাথা থেকে সরিয়েই দেখতে বসেছিলাম, তবে ঘন্টা দেড়েকের পুরো অনুষ্ঠানটা দেখে মুখে শুধু একগাদা থুথুই জমল। নির্লজ্জ পাকিস্তানী এপোলজিস্ট কোথাকার!

তিনি দেখলাম সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন পাকিস্তানের বর্বরতা আর বাংলাদেশীদের "হিংস্রতা"(ভায়োলেন্স)কে এক কাতারে নামিয়ে আনতে(বাঙালির ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকেও রেফারেন্স করে বোঝাতে চাইলেন, বাঙালী আদতে ভায়োলেন্ট এবং ৭০-৭১ এও তাই ছিল), এবং নামিয়ে আনার পর দোষারোপ করলেন বাঙালীদের এই বলে যে তারা নাকি পাকিস্তানীদের "শালা পাঞ্জাবী", "নরপশু" "বর্বর" "হায়েনা" "কুকুর" ইত্যাদি গালি দিয়েছে (এইগুলা বলার সময়ও ওনার মুখ ব্যাথায় বেঁকে যাচ্ছিল, একটুও বাড়িয়ে বলছিনা) যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানীরা নাকি শুধু "মিসক্রিয়েন্ট" বা "আওয়ামী থাগ" এর থেকে খারাপ কোন গালি দিতেই পারে নাই! আহারে দুব্বল পাকিস্তানীরা!

দেখলাম একজন সোজা প্রশ্নই করে বসেছেন যে তিনি আইএসআই এর টাকা খান কিনা। প্রশ্নটা করা ভদ্রজনোচিত হয়েছে কিনা জানিনা, তবে মহিলার কাজ কোনভাবেই এর থেকে ভাল কিছু ডিজার্ভ করেনা। সেই হিসাবে, এই প্রশ্নটাকেই আসলে সবচেয়ে ভাল প্রশ্ন বলে মনে হয়েছে।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

বসু শুয়রের বাচ্চার জন্য মেজাজ বিলা । যা হোক, আমাদের দেশি পত্রিকার দিকে একটু নজর দেই । এনা পরিবেশিত রিপোর্ট আমারদেশে -

ওয়াশিংটনে বই প্রকাশ : ’৭১-এ পাকবাহিনী কাউকে হত্যা বা ধর্ষণ করেনি!
এনা ওয়াশিংটন
একাত্তরে পাক হানাদাররা বাংলাদেশে কোনো নারীকে ধর্ষণ করেনি কিংবা কাউকে হত্যা করেনি। বাঙালিরা অনুমাননির্ভর হয়ে সুসংগঠিত একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার চালাচ্ছে। কবিতা, গান, গল্প-উপন্যাস সর্বত্র পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুুদ্ধে অপপ্রচার চলছে—যা খুবই দুঃখজনক। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ র্যাংকধারী একজন সৈন্যকে হায়েনা হিসেবে চিহ্নিত করে কামরুল হাসান নামক একজন শিল্পী চিত্র এঁকেছেন—এটাও বিবেকপ্রসূত নয়। একাত্তরে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ এবং ২ লাখ নারী সম্ভ্রম হারানোর তথ্য সঠিক নয়। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ ধরনের বক্তব্য উপস্থাপনের পর উপস্থিত প্রায় সবার তীব্র
আপত্তির মুখে চুপসে যান বাঙালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখিকা শর্মিলা বসু।
পশ্চিম বঙ্গের প্রখ্যাত রাজনীতিক নেতাজী সুভাষ বসুর ভাই সনদ চ্যাটার্জির কন্যা (বস্টনে জন্মগ্রহণকারী এবং বর্তমানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো) শর্মিলা বসুর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘ডেড রেকনিং’-এর প্রকাশনা উত্সব হয় ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ববিখ্যাত উড্রো উইলসন সেন্টারে। সারা বিশ্বের মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন নিয়ে গবেষণারত উইলসন সেন্টারের এশিয়াবিষয়ক প্রোগ্রাম অফিসার রবার্ট হ্যাথওয়ের সঞ্চালনে প্রকাশনা উত্সবে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম, ১৯৭১ সালে এপির সংবাদদাতা হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক আর্নল্ড জিটলিন, সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ, ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক আনিস আহমেদ, টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা বিজ্ঞানী ড. নূরন্নবী প্রমুখ। উল্লেখ্য, বহু বিতর্কিত তথ্যে পরিপূর্ণ গ্রন্থটি ছাপার কাজ শেষ হয়েছে ৩ দিন আগে। প্রকাশের আগেই উড্রো উইলসন সেন্টারে প্রকাশনা উত্সবের আয়োজন করায় সুধিজনে কথা চালাচালি হচ্ছিল। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রকাশনা উত্সবে লেখিকা শর্মিলা বসুর উপস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস ব্যুরোর কর্মকর্তা এবং কম্যুনিটি লিডার ড. খন্দকার মনসুর। তিনি বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, ১৯৭১ সালে শর্মিলা বসুর বয়স ছিল ১২ বছর, সে সময় তিনি বাংলাদেশে যাননি, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোনো ধারণাও তার নেই। অথচ তিনি লিখেছেন, একাত্তরের স্মৃতিচারণ এবং এর পুরোটাই হচ্ছে পাকিস্তানিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। শর্মিলা বসুর তথ্যকে সর্বৈব মিথ্যা ও সত্যের অপলাপ হিসেবে অভিহিত করে এপির সাবেক সংবাদদাতা আর্নল্ড জিটলিন বলেন, শর্মিলা বসু ইয়াহিয়া খানের মতো মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়াস চালিয়ে সে সময়ের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। আনিস আহমেদ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভায়োলেন্স’ হিসেবে চিত্রিত করার কোনো অবকাশ নেই। একাত্তরে পাক হানাদারদের আচরণ যারা প্রত্যক্ষ করেছেন, তারা কখনোই তাদের পক্ষ অবলম্বন করতে পারেন না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. নূরন্নবী বলেন, খান সেনারা হানাদার বাহিনীর মতো আচরণ করেছে, ওদেরকে হায়েনা বলাই শ্রেয়, ইয়াহিয়া খানকে পিশাচ, বিশ্ববেহায়া, হায়েনার সঙ্গে তুলনা করে প্রখ্যাত শিল্পী কামরুল হাসান যে চিত্র এঁকেছেন তার বিকল্প ছিল না। ড. নবী বলেন, শর্মিলা বসু যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যাননি, তাহলে তিনি কীভাবে সত্য লিখবেন? অন্যের কাছে শোনা কথায় প্রকৃত চিত্র উপস্থাপিত হবে কি? এছাড়া তিনি সবকিছু শুনেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সে সময় যারা সাপোর্ট দিয়েছেন তাদের কাছে। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার মিশনে কেন তিনি নেমেছেন—এ প্রশ্ন রাখেন ড. নবী। আরশাদ মাহমুদ আলোচনায় অংশ নিয়ে শর্মিলা বসুর কাছে জানতে চান, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে মোটা অর্থের বিনিময়ে তিনি এ ধরনের অসত্য তথ্যে পরিপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন কিনা। এর জবাবে শর্মিলা বসু ‘না’ বলেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি’ মাইলাম হতবাক হয়ে মন্তব্য করেন, একাত্তরে বাংলাদেশে নারী ধর্ষণ এবং গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে—এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। তবে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে প্রকৃত তথ্য সবিস্তারে উদঘাটনে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ম্যারিল্যান্ডের হেমায়েতউল্লাহ পলাশ নামক এক বাংলাদেশী। তিনি তার মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জঘন্য অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে শর্মিলা বসু মাঠে নেমেছেন বলে অনেকের ধারণা। এহেন অবস্থা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে ৩৫-৩৬ জনের মতো দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫-৬ জন আলোচনা শেষে শর্মিলা বসুর ওই গ্রন্থ কেনেন এবং তার অটোগ্রাফ নেন। তারা শর্মিলা বসুকে অভিনন্দন জানাতেও কার্পণ্য করেননি।

অথচ এনা পরিবেশিত একই রিপোর্ট খবরে -

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রতিবাদের মুখে চুপসে যান লেখিকা শর্মিলা বসু
এনা, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে: (বৃহষ্পতিবার ১৭ মার্চ ২০১১, ৩ চৈত্র ১৪৭১, ১১ রবিউস সানি আউয়াল ১৪৩২) - একাত্তরে পাক হানাদাররা বাংলাদেশে কোন নারীকে ধর্ষণ করেনি কিংবা কাউকে হত্যা করেনি। অনুমান নির্ভর হয়ে সুসংগঠিত একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালিরা লাগাতার অপপ্রচার চালাচ্ছে। কবিতা, গান, গল্প-উপন্যাস সর্বত্র পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে-যা খুবই দু:খজনক। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ র‌্যাংকধারী একজন সৈন্যকে হায়েনা হিসেবে চিহ্নিত করে কামরুল হাসান নামক একজন শিল্পী চিত্র এঁেকছেন-এটাও বিকেকপ্রসূত নয়। একাত্তরে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ এবং ২ লাখ নারী সম্ভ্রম হারানোর তথ্য সঠিক নয়, এ সংখ্যা প্রচার করা হয়েছে সোভিয়েত রাশিয়ার মদদে-এ ধরনের বক্তব্য উপস্খাপনের পর উপস্খিত প্রায় সকলের তীব্র আপত্তির মুখে চুপসে যান বাঙালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখিকা শর্মিলা বসু।

উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধেও স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে (বাম থেকে) লেখিকা শর্মিলা বসু, সঞ্চালক রবার্ট হ্যাথওয়ে এবং সাংবাদিক আর্ণল্ড জিটলিন। অন্যদিকে শর্মিলা বসুর গ্রন্থে অসত্য তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে অভিযোগ করে নিজের লেখা ‘বুলেট অব একাত্তর’ প্রদর্শন করে ড. নূরন্নবী মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার তথ্য জানতে তা পাঠের আহবান জানান।

পশ্চিম বঙ্গের প্রখ্যাত রাজনীতিক নেতাজী সুভাষ বসুর ভাই সনদ চ্যাটার্জির কন্যা (বস্টনে জন্মগ্রহণকারী এবং বর্তমানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো) শর্মিলা বসুর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘ডেড রেকনিং’ এর প্রকাশনা উৎসব হয় ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্ববিখ্যাত উড্রো উইলসন সেন্টারে। সারাবিশ্বের মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন নিয়ে গবেষণারত এ প্রতিষ্ঠানের এশিয়া বিষয়ক প্রোগ্রাম অফিসার রবার্ট হ্যাথওয়ের সঞ্চালনে এ প্রকাশনা উৎসবে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম মাইলাম, ১৯৭১ সালে এপির সংবাদদাতা হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক আর্ণল্ড জিটলিন, সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ, ভয়েজ অব আমেরিকার সাংবাদিক আনিস আহমেদ, টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্য হিসেবে পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা বিজ্ঞানী ড. নূরন্নবী প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, বহুল বিতর্কিত তথ্যে পরিপূর্ণ গ্রন্থটি ছাপার কাজ শেষ হয়েছে ৩দিন আগে। প্রকাশের আগেই উড্রো উইলসন সেন্টারে প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করায় সুধিজনে কথা চালাচালি হচ্ছিল। এরই বহি:প্রকাশ ঘটে প্রকাশনা উৎসবে লেখিকা শর্মিলা বসুর উপস্খাপনার সাথে সাথে। অনুষ্ঠানে উপস্খিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস ব্যুরোর কর্মকর্তা এবং কম্যুনিটি লিডার ড. খন্দকার মনসুর। তিনি বার্তা সংস্খা এনাকে বলেন, ১৯৭১ সালে শর্মিলা বসুর বয়স ছিল ১২ বছর, সে সময় তিনি বাংলাদেশে যাননি, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ কোন ধারণাও তার নেই। অথচ তিনি লিখেছেন একাত্তরের স্মৃতিচারণ এবং এর পুরোটাই হচ্ছে পাকিস্তানীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে। এ কারণে তিনি তার গ্রন্থে লিখেছেন যে, বাংলাদেশে সে সময় পাক বাহিনীর সদস্যরা হত্যাযজ্ঞ চালায়নি। কোন নারীকেও ধর্ষণ করেনি। সে সময় বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত ছিলেন। শর্মিলা বসু তার গ্রন্থে আরো উল্লেখ করেছেন যে, পাঞ্জাবী সৈন্যদের চেয়ে বালুচরা অনেক ভদ্র আচরণ করেছেন বাঙালিদের সাথে। ইত্যাদি।

শর্মিলা বসুর তথ্যক সর্বৈব মিথ্যা ও সত্যের অপলাপ হিসেবে অভিহিত করে এপির সাবেক সংবাদদাতা আর্ণল্ড জিটলিন বলেন, সে সময় আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্যে ঢাকায় ছিলাম। আমি অনেক সময়ই দেখেছি ইয়াহিয়া খানকে মাতাল অবস্খায় তার অধস্তন কর্মকর্তা এবং তার সমর্থক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলতে। অনেক সময় ইয়াহিয়া খান আমাকেও গালমন্দ করেছেন। আমিও নাকি পাকিস্তানের অষন্ডতা নষ্ট হয় এমন সংবাদ পরিবেশন করছি। মি: আর্ণল্ড বলেন, শর্মিলা বসু ইয়াহিয়া খানের মত মানুষকে ভাল মানুষ হিসেবে উপস্খাপনের প্রয়াস চালিয়ে সে সময়ের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছেন-যা উচিত হয়নি। আনিস আহমেদ বলেন, একাত্তরের ২৬ মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরও পাক বাহিনী সেখানে অবস্খান করায় তারা দখলদার বাহিনীতে পরিণত হন এবং দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ হয়, সেটিকে ‘ভায়োলেন্স’ হিসেবে চিত্রিত করার কোন অবকাশ নেই। একাত্তরে পাক হানাদারদের আচরণ যারা প্রত্যক্ষ করেছেন তারা কখনোই তাদের পক্ষ অবলম্বন করতে পারেন না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. নূরন্নবী বলেন, খান সেনারা জারজ সন্তান ছিল, হানাদার বাহিনীর মত আচরণ করেছে, ওদেরকে হায়েনা বলাই শ্রেয়, ইয়াহিয়া খানতে পিশাচ, বিশ্ববেহায়া, হায়েনার সাথে তুলনা করে প্রখ্যাত শিল্পী কামরুল হাসান যে চিত্র এঁেকছেন তার বিকল্প ছিল না-ইত্যাদি বিশেষণেরই যোগ্য পাক বাহিনীর তদানিন্তন সদস্য-কর্মকর্তারা। ড. নবী বলেন, আমি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি, আমার চেয়ে বেশী কেউ বলতে পারবেন না পাক হানাদারদের ব্যাপারে। শর্মিলা বসু যুদ্ধের সময় বাংলাদেশে যাননি, তাহলে তিনি কীভাবে সত্য লিখবেন? অন্যের কাছে শোনা কথায় প্রকৃত চিত্র উপস্খাপিত হবে কি? এছাড়া তিনি সবকিছু শুনেছেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সে সময় যারা সাপোর্ট দিয়েছেন তাদের কাছে। এভাবে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে হেয়প্রতিপন্ন করার মিশনে কেন তিনি নেমেছেন-এ প্রশ্ন রাখেন ড. নবী। আরশাদ মাহমুদ আলোচনায় অংশ নিয়ে সর্মিলা বসুর কাছে জানতে চান, পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্খা আইএসআইয়ের কাছে মোটা অর্থের বিনিময়ে তিনি এ ধরনের অসত্য তথ্যে পরিপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন কিনা। এর জবাবে শর্মিলা বসু ‘না’ বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম মাইলাম আলোচনায় হতবাক হয়ে মন্তব্য করেন, একাত্তরে বাংলাদেশে নারী ধর্ষণ এবং গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে-এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। তবে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে প্রকৃত তথ্য সবিস্তারে উদঘাটনে।

অনুষ্ঠানে উপস্খিত ছিলেন ম্যারিল্যান্ডের হেমায়েতউল্লাহ পলাশ নামক এক বাংলাদেশী। তিনি তার মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সত্য নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জঘন্য অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে শর্মিলা বসু মাঠে নেমেছেন বলে অনেকের ধারণা। এহেন অবস্খা সম্পর্কে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। এ অনুষ্ঠানে উপস্খিত ৩৫/৩৬ জনের মধ্যে অন্তত : ৫/৬ জন ছিলেন জামাত-শিবিরের সমর্থক। তারা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ না নিলেও আলোচনা শেষে শর্মিলা বসুর ঐ গ্রন্থ ক্রয় এবং তার অটোগ্রাফ নেন। তারা শর্মিলা বসুকে অভিনন্দন জানাতেও কার্পণ্য করেননি। ড. খন্দকার মনসুর এনাকে বলেছেণ, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর শর্মিলা বসুর এ ধরনের গ্রন্থ রচনার মাজেজা নিয়ে সকলকে ভাবতে হবে। অনুষ্ঠানে একাক্তরের চিহ্নিত একজন ঘাতকের উপস্খিতি কারো দৃষ্টি এড়ায়নি।

নমুনা হিসেবে আমার বোলড করা অংশ দেখুন । হেমায়েতউল্লাহর 'জামাত-শিবিরের সমর্থক'আমারদেশে হয়ে গেছে- 'দর্শক-শ্রোতা'!আর ডঃখন্দকার মনসুরের বক্তব্য আমারদেশে আসেনি !

(হেমায়েতউল্লাহ সাহেব বসুর প্রকাশনা উৎসবে তার অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া আমাকে ইমেইল করেছে । তার অনুমতি পেলে এখানে শেয়ার করব ।)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

হিমু এর ছবি

দুটো খবরেই অনেক ভুলভাল আছে। সম্ভবত রিপোর্টাররা মিসইনফর্মড, কিংবা ইংরেজিতে কাঁচা।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

শুয়রের বাচ্চা শর্মিলার জবাবে কিছু লেখা-
১। Return of Sarmila Bose-ABM Nasir
২। Rape in 1971: in the name of Pakistan -Afsan Chowdhury
৩। Skewing the history of rape in 1971 A prescription for reconciliation?-Nayanika Mookherjee
৪। Sarmila Bose's “Research” Exposed
৪।বাঙালি রমণীর পাকিস্তানি সৈন্যপ্রীতি -মুনতাসীর মামুন (পিডিএফ করে মুক্তমানয় আমি পাঠিয়েছিলাম)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

চিত্ত এর ছবি

শর্মিলা বোস একজন বিতর্কিত লেখিকা। তার প্রথম বইয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে অনেক তথ্যের সন্নিবেশন করা হয়েছে। অনেকেই তাকে পাকিস্থানের গোয়েন্দা বিভাগের এজেন্ট হিসাবে বিবেচনা করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার মিশন নিয়ে নিয়ে কাজ করছেন বলেই অনেকেই মন্তব্য করেন। ডিসির উড্রো উইলসন সেন্টারের মত স্থানে শর্মিলা বোসের এই বিতর্কিত বইয়ের প্রকাশনার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মুক্ত চিন্তার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকেই অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত থেকে এই বিকৃত এবং ভূল তথ্য পরিবেশনের প্রতিবাদ করছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীবাদী একটি ক্ষুদ্র অংশের সমর্থন লাভ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বৃহত্তর গোষ্ঠীর বিরাগভাজন এবং বর্জনের মত পরিস্থিতিতে শর্মিলা বোসকে নিজের সাফল্য ব্যর্থতার খতিয়ান খুজে ফেরার অনুরোধ রইল। আসুন আমরা সবাই শর্মিলা বোসের বই বর্জন করি।
http://www.news-bangla.com/index.php?option=com_content&task=view&id=6856&Itemid=40

http://www.facebook.com/login/setashome.php?ref=home#!/thappor

Talk Straight এর ছবি

Content of the book is story/ fantasy not historical facts
==================================

Stop reading this book. It is not about the true facts which are represented from research elements.

Mostly it is based on her assessments or opinions which could be influenced by some of the past biased articles. In some or either cases, she copied some of the historical contents with her own style of writing but significantly all numbers have been portrayed in the book are of complete fallacy related to historical counting on dead population and associated loss of assets etc.

So, reading this book will not provide any true historical facts to the readers either way it will create wrong views over the facts.

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA