পাহাড়ে গণহত্যার খলনায়ক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি
লিখেছেন অনার্য সঙ্গীত (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৯/০৩/২০১৫ - ৬:৫৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সভ্য দেশের একটা সাধারণ নিয়ম আছে। সভ্য দেশের সেনাবাহিনী ব্যারাকে থাকে। উর্দি পরে, বন্দুক নিয়ে সাধারণের ভেতরে তাদের কোনো কাজ নাই। যেই মুহূর্তে কোনো দেশের সেনাবাহিনী রাস্তায় নামে, তখন দেশটা আর সভ্য থাকে না। অসভ্য সময়ের দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ সহ্য করেছে কম নয়। ২০০৮ সালে সর্বশেষ দেখা গেছে বাংলাদেশের হেরে যাওয়া! দেখা গেছে বাংলাদেশের রাস্তায় উর্দি আর বন্দুক! কিন্তু সত্যি কি তাই?

চট্টগ্রাম কি বাংলাদেশের বাইরের অংশ? পাহাড়ের মানুষেরা কি বাংলাদেশের বাইরে বাস করেন? তারা কি গণপ্রজাতন্ত্রের নাগরিক নন?

স্বাধীনতার পর থেকে পাহাড়ে সেনা নিয়ন্ত্রণ! কেন? বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রাজত্ব পাহাড়ে? কতজন কল্পনা চাকমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিচ্ছিন্নতা ঠেকিয়ে দিল সেনাবাহিনী? পাহাড়ের মানুষগুলো যে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তার কী হবে? যে তীব্র ঘৃণা নিয়ে নির্লজ্জ পাকিস্তান আর তাদের এদেশীয় দোসর জামাত-শিবিরের দিকে আমরা তাকাই, পাহাড়ের আমাদের মা-পিতা-ভাই-বোন-পুত্র-কন্যাদের দৃষ্টিতে কি তারচে কিছু কম ঘৃণা এখন?

যেই রাষ্ট্রের আমি অংশ, সেই রাষ্ট্র কতবার বেইমানী করেছে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে?

দিনের পর দিন রাস্তাঘাটে হেনস্তা, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ আর সেনা সহায়তায় উড়ে এসে বসা সেটলার শুয়োরের পালের যন্ত্রণা সহ্য করতে না চেয়ে পাহাড়িরা যখন অস্ত্র তুলে নিল হাতে, তখন জাতির পিতার কন্যা সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে এলেন। আমরা নির্ভার হলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কি তাঁর কথা রেখেছেন? শান্তিচুক্তির ধারাগুলো বাস্তবায়ন করার মতো যথেষ্ঠ সময় কি তিনি ক্ষমতায় ছিলেন না? আমাদের সরকার যে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে স্পষ্টত বেইমানী করেছে, সেটা কি আমরা অস্বীকার করতে পারি?

পাহাড়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে কেউ কথা রাখেনি। পাহাড় মানেই আজব এক মগের মুল্লুক। পাহাড়ের শিশু-নারীরা প্রতিক্ষণে নির্যাতিত হচ্ছে, আর রাষ্ট্র প্রাণপণে চোখ বন্ধ করে আছে। সেনাবাহিনীর কথা আর বলি। ব্যারাকের বাইরে ছেড়ে দেয়া সেনাবাহিনীর সভ্য আচরণ করার কথা নয়। পাহাড়ে কেন সেনা ছেড়ে দেয়া আছে? স্থানীয় জীবনযাত্রা-সংস্কৃতি আর মাটির সঙ্গে একেবারেই বেমানান সেটলাররা কেন পাহাড়ে? তাবৎ উর্দিওয়ালাই বা কেন পাহাড়ীদের প্রতি এরকম পাশবিক আচরণ করে যুগের পর যুগ ধরে পার পেয়ে যাচ্ছে? কোনো সন্দেহ নেই, এর কারণ আমরাও।

আমরা সারা বাংলাদেশের মানুষ পাহাড় প্রসঙ্গে চোখ বুঁজে বাস করি। সাধারণের বেশিরভাগে পাহাড়ে কী হচ্ছে, কী হয়, তার স্পষ্ট ধারনা রাখে না। আমাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো পাহাড় প্রসঙ্গে নোংরাভাবে নীরব। আমরা যারা ব্লগ ইত্যাদি প্রগতিশীল মাধ্যমে নানারকম দেশোদ্ধার করি, তারাও পাহাড় প্রসঙ্গে 'ছুঁলে জাত যাবে' নীতি মেনে নীরব থাকি। বাংলাদেশের মূল ধারার পত্রিকা ঘেঁটে দেখেন, নিতান্ত কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত উঁকিঝুঁকি ছাড়া সেখানে পাহাড়ের অস্তিত্ব কেবল ভ্রমণ পাতায়। বাংলাদেশের ব্লগগুলো দেখুন, সেইখানে পাহাড় সম্পর্কিত কথা-লেখা-আলোচনা আর উগান্ডার রুইমাছ সম্পর্কিত আলোচনার পরিমাণ প্রায় সমান! বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক দেখুন, সেইখানে পাহাড়ের মানুষ, তাদের জীবন, তাদের বঞ্চনা আর সংগ্রামের কথা নেই! পাহাড় তাহলে আছে কোথায়? মানচিত্রে আর বুটের তলায়?

পাহাড়ে ভোট নেই। এবং পাহাড়ে সেনা আছে। শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুললে সেনাবাহিনীকে খেদানোর সাহস রাখে যে মানুষেরা, সেই মানুষেরা পাহাড়কে আপন মনে করেন না। আর সেইখানে যেটুকু প্রতিবাদের ভাষা, সে বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানের প্রেতাত্মা রয়েছে পাহাড়ে। যারা পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে মারে, নারী আর শিশু নির্যাতন করে। সব মিলিয়ে পাহাড়ের কিছু নেই। নিয়াজীর মতো আমরাও মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি, পাহাড়ে মানুষ দরকার নেই, মাটি হলেই চলবে। মুখে প্রকাশ করতে পারছি না বটে। কিন্তু মনে মনে আমরা নিয়াজীর মতোই ভাবছি!

কিন্তু এরকম হওয়ার কথা ছিল না। বাংলাদেশের যেখানেই হোক, নির্যাতনের প্রতিবাদ হওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্র যখনই বিভ্রান্ত হয়েছে তখনই নাগরিকের সরব হওয়ার কথা ছিল। সেনাবাহিনী যখনই বন্দুক নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, তখনই মানুষের দায়িত্ব ছিল তাদের ব্যারাকের রাস্তা চিনিয়ে দেয়ার। আমরা সেটা করিনি। এখনো করছি না। একটি দেশের নাগরিকেরা যেরকম, সেই রাষ্ট্রটিও ঠিক তেমন। রাষ্ট্র কোনো গায়েবি বস্তু নয়, সেনাবাহিনীও নয়। রাষ্ট্রের নাগরিকেরাই রাষ্ট্রের চেহারা তৈরি করে দেন, সশস্ত্রবাহিনীর সীমানা চিহ্নিত হরে দেন। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্বে লজ্জাজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছি।

এবং আমাদের ব্যর্থতার জন্য যে পাহাড়ের শিশুটির রক্ত ঝরছে, সেই রক্ত ঝরানোর দায় থেকে আমাদের পালিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। পাহাড়ে যে নারী নির্যাতিত হচ্ছে, সেই নির্যাতনের ভাগ আমাদেরও। পাহাড়ের প্রতিটি খুনে, আমরাও খুনী। পাহাড়ের হাজারো ঘর ভেঙেছি আমরাও। আমরাই পাহাড়ের নিরপরাধ মানুষদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বুনো কুকুরের মতো আচরণ করছি! এবং আমাদের চরিত্রের এই ইতিহাস আমাদের কপালেই সাঁটা থাকবে সকল ভবিষ্যতে।

আমরা যেন মনে রাখি, ইতিহাস সব সত্যের সাক্ষী থাকে। চট্টগ্রামের পাহাড়ে যুগের পর যুগ গণহত্যা আর নির্যাতনের জন্য ইতিহাস বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট সরকার অথবা সেনাবাহিনীর বিচ্ছিন্ন অংশের নামোচ্চারণ করবে না। পাহাড়ে গণহত্যার খলনায়ক হিসেবে ইতিহাস কোনো রাখঢাক না করে বাঙালিদের নামই বলবে!


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখকের ক্ষুব্ধ হওয়া যৌক্তিক। পাঠকের কি করণীয় থাকতে পারে , জিজ্ঞাসা রইল।
পাহাড়িরা নিজেরাই তো দুভাগে বিভক্ত। সেখানে অসংখ‌্য জাতিগোষ্ঠী আছে , তারা সবাই জন্মসুত্রে বাংলাদেশী।
তাদের অধিকারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে।
তবে তাদের হরতাল-ভাংচুর প্রবণতা বেশি লক্ষ‌্য করা যাচ্ছে। এই উচ্ছৃংখলতার উদ্দেশ্য মোটেও সৎ নয়
ট্রোল

অন্যকেউ এর ছবি

"পাহাড়িরা নিজেরাই তো দুভাগে বিভক্ত।"
বাঙালিরা নিজেরাই আম্লীগ-বিম্পিতে বিভক্ত। কাজেই তাদের রাস্তাঘাটে পুড়ে মরার ব্যাপারে আপনি কথা বলতে চান না। ঠিক?

"সেখানে অসংখ‌্য জাতিগোষ্ঠী আছে..................আমার শ্রদ্ধা আছে।
তবে তাদের হরতাল-ভাংচুর প্রবণতা............."

আমিও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই, তবে তেল-গ্যাস, সাগর-রুনি, বিশ্বজিত হত্যা.........

দয়া করে জানুন, তারা কেন ভাঙচুর করে। দয়া করে জানুন, যে কারণে আমরা চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, সিলেটে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রাখি না, সেই একই কারণে পাহাড়েও আমরা সেনা মোতায়েন করে রাখতে পারি না। অর্থহীনভাবে ভ্যাদরভ্যাদর করার আগে চিন্তা করুন, সীমান্তরক্ষার দায়িত্ব বিজিবির, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। এর কোনটাতেই সেনাবাহিনী দেওয়া যেতে পারে না। কোনওভাবেই না। অন্তত যদি নিজেকে সভ্য কোনও রাষ্ট্রের অধিবাসী বলে আপনি ভেবে থাকেন।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমিও যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই, তবে তেল-গ্যাস, সাগর-রুনি, বিশ্বজিত হত্যা.........

আমি একজন বইংগ্যা , যারপরনাই আমি সেরকম মতবাদ ধারণ করিনা যেটা উক্ত উদ্ধৃতিতে বোঝান হ‌য়েছে।
ধন‌্যবাদ অধমকে সুন্দর মন্তব‌্য ‌উপহার দেয়ার জন‌্য

ট্রোল

অতিথি লেখক এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পাঠক এবং এই লেখকের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নাই।
আশা করেছিলাম আমার মূল বক্তব্যটি পরিষ্কার হয়েছে। আপনার প্রশ্নে মনে হলো তা হয়নি। পাহাড় বাংলাদেশের অংশ, পাহাড়ীরা বাংলাদেশের নাগরিক। পাহাড়ের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকল বাংলাদেশির সরব হওয়া উচিত ছিল। অথচ পাহাড় প্রসঙ্গে আমাদের মাঝে বাজে রকমের ঢাকগুড়গুড় নিরবতা আর এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। পাহাড়ে কী হচ্ছে সেটাই আমরা জানিনা! জানার চেষ্টাও করিনা!
পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মাঝে হরতাল-ভাংচুরের প্রবণতা বেশি কিনা সে সম্পর্কে আমার খুব স্পষ্ট ধারনা সেই। কিন্তু সেই প্রবণতা বেশি কী কম সেই বিচার করার আগে আমাদের দেখা উচিত আমরা গত ৪৪ বছর ধরে তাদের সঙ্গে কীরকমের আচরণ করেছি! আমাদের আচরণের হিসেবে তাদের প্রতিবাদ কি অন্যায্য? তাদের এই প্রবণতা কীভাবে পরিমাপ করা হলো? বাংলাদেশের বাকি অংশের প্রেক্ষিতে সেটি বেশি, নাকি ওই অঞ্চলেই পূর্বের তুলনায় বর্তমানে এই প্রবণতা বেশি?

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখক একজন ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হিসেবে আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ট্রোল

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এত এত খুনের রক্ত আমাদের হাতে। তারপরেও হাসিমুখে মেকি জীবন যাপন করি, খাই দাই সঙ্গম করি, যেন কোথাও কিছু হচ্ছে না আমরা হয়ত পাকিপনা বলে নিজেদের নাম জড়াতে চাই না, কিন্তু যারা এর শিকার তারা এটাকে পাকিপনা না বলে বাঙালিপনাই হিসেবেই মনে রাখবে

আমি নিজেই কিছু করিনি, মানুষকে দোষ দিতে মানুষের নিষ্ক্রিয়তা দেখিয়ে দেয়াও লজ্জা। শুধু চেষ্টা করি আয়নায় নিজের চেহারাটা না দেখতে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হ্যাঁ, সেটাই।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মনিরুল ইসলাম এর ছবি

ফালতু একটা লেখা ।একবার বলছে ''//সেনা সহায়তায় উড়ে এসে বসা সেটলার শুয়োরের পালের//'আবার বলছে-
//শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুললে সেনাবাহিনীকে খেদানোর সাহস রাখে যে মানুষেরা, সেই মানুষেরা পাহাড়কে আপন মনে করেন না''//যে বাংগালিকে পাহাড়ে গেলে সেটেলার শুয়োর বলছে তারা আবার পাহাড়ীদের কেন আপন মনে করে না সেই অভিযোগে নাকি কান্না ।হাস্যকর সব আবদার।আবার বলছে-//স্থানীয় জীবনযাত্রা-সংস্কৃতি আর মাটির সঙ্গে একেবারেই বেমানান সেটলাররা কেন পাহাড়ে?//তাহলে ঢাকার সংস্কৃতির সাথে বেমানান পাহাড়িরা কেন ঢাকায় ?লেখকের আতলামি মার্কা অনলাইন বিপ্লবী সাজার চেষ্টা দেখে মনে হয় তিনি বিদেশে থাকেন ।সেখান থেকে তারেক জিয়ার মতমাঝে মাঝে বিপ্লবের ডাক দেন ।বাংলাদেশের নাগরিকরা কেন প্রতিবাদ করে নাই তা বলার আগে লেখকের আসল পরিচয় দিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত এই ইস্যুতে ব্যক্তিগতভাবে কি কি প্রতিবাদ করেছেন(অনলাইনে রাজাউজির মারা ছাড়া) তার একটা লিস্ট ছবি সহ দেয়ার অনুরোধ করছি।

কল্যাণ এর ছবি

খুব জ্বলে না?

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অন্যকেউ এর ছবি

"যে বাংগালিকে পাহাড়ে গেলে সেটেলার শুয়োর বলছে তারা আবার পাহাড়ীদের কেন আপন মনে করে না সেই অভিযোগে নাকি কান্না।"

পাহাড়ি মানুষদের আপন মনে না করা দস্যুদেরকে শুয়োর বলাটাই আসলে কম। এই শুয়োর ডাকার বিষয়ে যা কিছু দ্বিধা ছিলো, সেটা এরকম মানসিকতা চোখের সামনে দেখতে পেয়ে একেবারেই কেটে গেলো।

"হাস্যকর সব আবদার।"
না না, নট রিয়েলি। আপনার বাপদাদার ভিটে থেকে কোনও শুয়োর এসে যদি আপনাকে উচ্ছেদ করে দেয়, তারপর আরও কিছু শুয়োর যদি এসে দন্তবিকশিত করে তাতে সায় দিতে থাকে, এবং আদালত যদি আপনার মামলা না নেয়, তাহলে তো আপনি অন্তত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ক্ষোভে চিৎকার করবেন, তাই না? আপনার সেই ক্ষোভ যদি কিছু 'মানুষ' এসে সমর্থন করে, তাহলে সেটা হাস্যকর হয় না। সেটার নাম হয় স্বাভাবিক মানবিক বোধ।

তবে এরকম কোনও কিছুর সাথে আপনার পরিচয় না থাকতেই পারে। বিভিন্ন প্রাণী বিভিন্ন ধরণের বাসস্থানে বাস করে কিনা।

"তাহলে ঢাকার সংস্কৃতির সাথে বেমানান পাহাড়িরা কেন ঢাকায়?"

পাহাড়িরা পাহাড়ি সেনাবাহিনী দিয়ে ঢাকার সংস্কৃতি পালন করা লোকজনকে তাদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে জেঁকে বসেছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সত্যিই ভাষা হারিয়ে ফেললাম।

মন্তব্যের বাদবাকি অংশ এর আগেরটুকুর চেয়েও অর্থহীন গার্বেজ। এটা প্রকাশিত হয় কীভাবে হে মডারেটরবৃন্দ?

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ওরে, নারে। কলা খাইনা কইয়া চিল্লান পাড়ে ক্যারে? অ্যাঁ
পাহাড়ের কয় বিঘা জমি লইছেন মনিরুল ইসলাম? ইয়ে, মানে...
নাকি গত সপ্তায় মালে গনিমতের ভাগা পাইছিলেন? চিন্তিত

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

সেটলারদের সঙ্গে গড়পরতা বাঙালিকে মেলাতে আমার আপত্তি আছে। পাহাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের সবচে বড় অন্তরায় সেটলাররা। এরা হত্যা করে, ধর্ষণ করে, নির্যাতন করে। একটা বাংলাদেশি খুন করলে বাকি বাংলাদেশিদের তার বিরোধিতা করা যৌক্তিক নয়, কী বলেন? জামাত-শিবির অথবা উগ্রবাদী বাংলাভাই গোষ্ঠী ইত্যাদি বাঙালিদের মধ্যেই গড়ে উঠলে বাঙলাদেশের বাকি বাঙালিদের তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া হাস্যকর, ফালতু নাকি কান্না হয়ে যাবে, তাই তো? অনলাইন কমিউনিটির একটা ডায়ালগ মনে পড়ল, Do you even logic? হো হো হো

স্থানীয় জীবনযাত্রা-সংস্কৃতি আর মাটির সঙ্গে একেবারেই বেমানান সেটলাররা কেন পাহাড়ে?//তাহলে ঢাকার সংস্কৃতির সাথে বেমানান পাহাড়িরা কেন ঢাকায় ?

চমৎকার যুক্তি। এরকম যুক্তির আরো উদাহরণ আছে। যেমন, মা শিশুকে দুধ খাওয়ালে, শিশু মা'কে কেন দুধ খাওয়াবে না? চুলার উপর কড়াই বসলে, কড়াইয়ের উপর কেন চুলা বসতে পারবে না? প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে বক্তৃতা দিতে পারলে, সোহরাওয়ার্দীর চায়ের দোকানদার কেন গণভবনে গিয়ে বক্তৃতা দিতে পারবে না? আরো দেবো উদাহরণ?

লেখকের আতলামি মার্কা অনলাইন বিপ্লবী সাজার চেষ্টা দেখে মনে হয় তিনি বিদেশে থাকেন ।সেখান থেকে তারেক জিয়ার মতমাঝে মাঝে বিপ্লবের ডাক দেন ।বাংলাদেশের নাগরিকরা কেন প্রতিবাদ করে নাই তা বলার আগে লেখকের আসল পরিচয় দিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত এই ইস্যুতে ব্যক্তিগতভাবে কি কি প্রতিবাদ করেছেন(অনলাইনে রাজাউজির মারা ছাড়া) তার একটা লিস্ট ছবি সহ দেয়ার অনুরোধ করছি

খুব জ্বলে না? হো হো হো

মনিরুল ইসলাম, আমার মন্তব্যের এই অংশটা আপনার মাথায় ঢুকবে না। এইটা লিখছি বাকি পাঠকের জন্য।

পাহাড়ীদের অনেক ছোট ছোট গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের সংস্কৃতি এবং জীবন যাত্রায় ব্যতিতক্রম রয়েছে। ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত এইসব জাতিগোষ্ঠীর আবাসে যখন পালে পালে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ঢুকে পড়ে তখন পাহাড়ীরা তাদের আবহমান সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারেন না। তাদের জীবনযাত্রা একরকম থাকেনা, থাকা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অন্য যেকোনো একটা গ্রামেও ঠিক এরকম হবে, যদি সেখানে একেবারেই ভিন্ন সংস্কৃতির অসংখ্য মানুষ এসে বসবাস শুরু করে। ৫০০ জনের জেলেপল্লীতে হাজারখানেক কুমোর বসিয়ে দেন, জেলেদের জীবনযাত্রা ওলটপালট হয়ে যাবে। কুমোর পল্লীতে একগাদা তাঁতী বসিয়ে দেন, তাদের জীবন যাত্রাও ঠিক থাকবে না। এতো উদাহরণ হিসেবে কেবল একটি পেশার কথা বললাম। যেখানে পাহাড়ীদের পেশা, পোষাক, বাদ্য-নৃত্য, ধর্ম, খাদ্য, আবাস সবই আলাদা। বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলে পাহাড়ের মতো এরকম সেটলার বসে যাওয়ার নজির নেই। থাকলে বাঙালির হাতেই সেটলারের ছেলা চামড়ার ডুগডুগি দেখা যেতো!

বাংলার অন্য সকল অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতির মতো পাহাড়ীদের সংস্কৃতি রক্ষায় সকল প্রচেষ্টা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাহাড়ের পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় সেইখানের মানুষের প্রতি "বিশেষ" যত্ন দেখানো উচিত রাষ্ট্রের। সেটলাররা সেই হিসেবে পাহাড়ের জন্য ভাইরাসের মতো! এরা তো পাহাড়কে আপনই ভাবে না! যেখানে পাহাড়ীরা পাহাড়কে দেখে মায়ের মতো করে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলে পাহাড়ের মতো এরকম সেটলার বসে যাওয়ার নজির নেই। থাকলে বাঙালির হাতেই সেটলারের ছেলা চামড়ার ডুগডুগি দেখা যেতো!

একলাইনের এই সোজাসাপ্টা বাংলা কথাটা ইচ্ছে করে বুঝতে না চাইলে মনিরুল ইসলামদের শুয়োরানুভূতি ছ্যাঁত করে উঠবে সেটাই স্বাভাবিক। সংকোচের বিহ্বলতা মনিরুলে অপমান। চোখ টিপি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

স্পর্শ এর ছবি

চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

এক লহমা এর ছবি

চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ইয়ামেন এর ছবি

ইয়ে মানে, বাদ দেন। দেখেন দুষ্টু ভারতীয়রা কিভাবে আমাদের দারিয়ে দিয়ছে। আমরা ওগুলো নিয়ে প্রতিবাদ করে নিজেদের দেশপ্রেম দেখাতে ব্যস্ত থাকি।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

সেটাই

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

boka এর ছবি

অতি খারাপের মাঝেও ভালো-টা যা দেখি পাহাড়ী মানুষ তাদের কথাগুলো অর্ন্তজালের মাধ্যমে সবার মাঝে জানানোর কাজটা কিছুটা হলেও শুরু করেছে,
হয়তো কোন একদিন আমরা বাঙ্গালীরা বুঝতে শিখবো সত্যিকারের শক্তিধরের কাছে সবাইর নিরাপদবোধ করার কথা্,
সংখ্যাগরিষ্ঠের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সু-ব্যবস্হা করা ।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পাহাড়ীদের কথা বলাতেও সমস্যা আছে। তাদের নানা নজরদারীতে থাকতে হয়। তাদের অনলাইন পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা শুনেছি। বাংলাদেশ পাহাড়ীদের জন্য খুব সহজ নয়, এখনো। এইটা আমার দেশ, ভাবতে কষ্ট হয়।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অন্যকেউ এর ছবি

পাহাড় এবং তার অধিবাসীদের আমরা যেভাবে চিড়িয়াখানা বানিয়ে রেখেছি, যে আচরণ তাদের সাথে করেছি এবং করে চলেছি, তার বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্ষোভের আঁচ একদিন না একদিন খুব খারাপভাবে আমাদের কারও গায়ে এসেই লাগবে। আমাদেরই কারও আপনজন হয়তো অপহৃত হবে, আহত হবে, নিহত হবে। এখনই আমরা তাদের যৌক্তিক প্রতিবাদকে যেভাবে হেয় করছি, সেদিন হয়তো আরও নোংরামিতে মেতে উঠবো।

কিন্তু আমাদের তথাকথিত আপনজনদের রক্ত ঝরার দাগ কি আসলে আমাদের হাতেই লেগে থাকবে না?

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

নিয়াজীর মতো আমরাও মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি, পাহাড়ে মানুষ দরকার নেই, মাটি হলেই চলবে। মুখে প্রকাশ করতে পারছি না বটে। কিন্তু মনে মনে আমরা নিয়াজীর মতই ভাবছি!

চলুক মন খারাপ

[বিদ্রঃ কথাটা টিক্কায় কইছিল, নিয়াজি না। তয়, তাতে তেমন কিছু আসে যায় না]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

টিক্কা বলেছিল? ভুল করেছি। তবে ঠিকই বলেছেন, তাতে তেমন কিছু আসে যায় না!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

সভ্য দেশের একটা সাধারণ নিয়ম আছে। সভ্য দেশের সেনাবাহিনী ব্যারাকে থাকে। উর্দি পরে, বন্দুক নিয়ে সাধারণের ভেতরে তাদের কোনো কাজ নাই। যেই মুহূর্তে কোনো দেশের সেনাবাহিনী রাস্তায় নামে, তখন দেশটা আর সভ্য থাকে না।

আমাদের দেশের পুলিশ লাঠি/বুটের ভাষায় কথা বলে,এটা নিতান্তই দুর্ভাগ‌্যজনক ব্যাপার।তবে এটাও ঠিক যে,যে সন্দেহভাজন লোকের পকেটে পিস্তল থাকতে পারে।পুলিশ যাকে খুশি তাকে চ‌্যালেন্জ করতে পারে, এমনকি গুলি করে পংগু করার পর যদি দেখা যায় সে নির্দোষ তাহলেও তার চাকরি বহাল থাকে ( উদা: লিমন )।

পাহাড়ে সেনা থাকবেনা এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন‌্য বড় হুমকি হতে পারে।যেমন-পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তান আর পাখতুন খাওয়া।ওখানে সেনা বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আল কায়েদা হঠাতে পারছেনা। আগেই যদি আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণে রাখত তাহলে তো এরকম আর হতে পারতনা।আরো বলতে পারি তিব্বতের কথা-ওখানে জমি নিয়ে সমস্যা নেই ‌ কিন্তু চীনা সেনাবাহিনী দাপটে টেকা দায়।ফলশ্রুতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তো দুরে থাক কোন স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে মিছিল-মিটিং ও হতে দেয়না।সেক্ষেত্রে পার্বত‌্য চট্টগামের মিছিল-মিটিং বৈধতা আছে।

বাংলাদেশ ঘনবসতির দেশ এবং ব‌্যবসা-চাকুরী সহ অন‌্যান্য কারণে সারাদেশের মত পাহাড়েও জনস্রোত হওয়া স্বাভাবিক। যে দেশের অধিকাংশ লোকের দৈনিক আয় ২-৩ $ সেখানে জীবিকার জন্য জনস্রোত ঠেকানো মুশকিল।
চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী ও বায়েজিদ থানার পাহাড় গুলোতে উত্তরবংগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বলে মনে হবে ওখানের অধিবাসীদের দেখলে !

প্রকৃত সমাধান যারা চায় তারা কোন দোষারোপ করে বলে আমার মনে হয়না।সব সমস্যার ‌সমাধান হয়ে গেলে সন্তু লারমা জাতীয় লোকজনের ভাত বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশংকা থাকে।
ট্রোল

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনার লেখার দ্বিতীয় অংশটি ভালো লাগলো না।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে যেন কোনোভাবেই তুলনা করতে না হয় সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল। পাকিস্তানের যে অঞ্চলগুলো শোষিত, সেইসব অঞ্চলের সমস্যার সমাধান "আগে থেকেই সেনাশাসন" নয়। সন্ত্রাসের সমাধানও সেনাপ্রয়োগ নয়। পাকিস্তান সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। সেনা দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছে যতটা পারে। সেনা দিয়ে তারা যদি সন্ত্রাস থামিয়ে রাখতে পারত, তাহলেও সেটা সমস্যার সমাধান হতো না।
তিব্বতের চীনা বাহিনীর অবস্থানকে আপনি একটি ভালো পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির বিকল্প সমাধান হিসেবে দেখছেন! আশ্চর্য হলাম! পাকিস্তান এই স্টাইলে (তাদের বিচারে) বাংলাদেশ সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিল। এইধরনের 'সমাধান'গুলোও সাধারণত সেনাশাসক/সেনাপ্রভাবিত নীতিনির্ধারকদের মাথা থেকে বের হয়। তারা কিন্তু মানুষ, সমাজ রাষ্ট্র কোনোটাই বুঝতে পারেনা। তাদের বুঝতে পারার কথাও নয়। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, তারা যে বুঝতে পারেনা সেটাই তারা জানেনা/মানেনা।

বহিঃশত্রুর আক্রমণবাদে, পার্বত্যঞ্চলে যে সমস্যাই থাকুক, তার সমাধান সেনাবাহিনী নয়। প্রকৃত সমাধান বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন সেইটা জানার ইচ্ছে রইল। সন্তু লারমার ভাত কীভাবে আসছে সেটাও জানতে চাই। এই দেশের কোনো অঞ্চলের একজন নেতার প্রতি অপমানজনক অভিযোগ করার যুক্তি কী সেটাও জানতে চাইলাম। আমি বলছি না, কোনো নেতার কোনো অপরাধ থাকলে সেটা বলা যাবে না। আমি জানতে চাইছি সন্তু লারমা প্রসঙ্গে আপনার কাছে কী যুক্তি প্রমাণ রয়েছে?

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

"বাঙালি"রা যে "পাহাড়ের মানুষ"দের নিয়ে এই উদাসীনতা দেখান, সেটা খুব সহজ একটা সমস্যা *না* বলেই মনে হয়। রাষ্ট্রীয় পরিচয় আর জাতিগত পরিচয় আমাদের দেশে বেশ মাখিয়ে-মিশিয়ে আছে,(বাঙালি আর বাংলাদেশী) আইনত আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হলেও, এই আইনী পরিচয়ের চেতনা এখনো "পাহাড়ের মানুষ"দের মূলত এক্সক্লুড করে থাকে। এর জন্য জাতিগত পার্থক্য যেমন দায়ী (চেহারা ও সংস্কৃতির পার্থক্য, "পাহাড়ী মানুষ"রা ছাড়া বাকীরা অত্যন্ত সমবৈশিষ্টপূর্ণ) তেমনি দায়ী হচ্ছে মূলধারার সামাজিক আলোচনায় এই "পাহাড়ের মানুষ"দের অনুপস্থিতি। এই পার্থক্যগুলো থাকার কারণে "পাহাড়ের মানুষ" ও বাকীদের মধ্যে বেশ সুষ্পষ্ট একটা সীমারেখা তৈরী হয়ে গিয়েছে, আপনার লেখাতেও এই সুষ্পষ্ট পার্থক্যগুলি পরিষ্কার ফুটে উঠেছে (আপনি "পাহাড়ের মানুষ" আর "বাঙালি" আলাদা করেছেন।) আর আমাদের দেশের আইনী পরিচয়ের চেতনা এই সীমারেখা অতিক্রম করার সামর্থ রাখে কিনা, সে বিষয়ে আমি সন্দিহান।

এর কোনো সহজ সমাধান আমার চোখে পড়ে না। মূলধারার মিডিয়ার পাহাড়ের মানুষদের দুঃখ-কষ্ট-নির্যাতনের ছবিগুলো যতটা সম্ভব তুলে ধরতে হবে, পাহাড়ে গণমুখী রাজনীতির বিস্তার বাড়তে দিতে হবে, আর পাহাড়ের মানুষরা যাতে মূলধারার আলোচনায় আরো বেশী করে সক্রিয় হন, সে চেষ্টা করতে হবে----এই দীর্ঘমেয়াদী পথ ছাড়া সম্ভবত আর কোনো শর্টকাট নেই।

-------যান্ত্রিক বাঙালি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনি ঠিক বলেছেন। পথটা দীর্ঘ, কোনো শর্টকাট নেই।
আমি আমাদের পার্থক্যগুলোর কথা জানি। এবং সেটাই যে থাকা উচিত নয় তা বলতে চাইছিলাম। আমার লেখায় দুটো অংশকে আলাদা করে না বললে বক্তব্য পরিষ্কার হতোনা বলে মনে হয়। আমরা পাহাড়টাকে আলাদা করে দেখি। ঢাকা, খুলনা সিলেটকে আলাদা করিনা। এই পরিস্থিতি বদলানো দরকার।
আপনার মন্তব্য ভালো লাগলো।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

গগন শিরীষ  এর ছবি

খুব দরকারি একটা লেখা।আশেপাশের বেশির ভাগ মানুষই দেখি ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত নয়।যা করার সেটলার করেছে, আমাদের কোন দোষ নেই এমন একটা ভাব।কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে আমরা শুধু পাকি সৈনিকদের ঘৃনা করিনা,অন্য পাকিদেরও করি, তাদের নিষ্ক্রিয়তার জন্য।তাই বাংগালি সেটলারদের পাপের কিছুটা ভাগ আমাদের নিতেই হবে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমাদেরকে পাপের প্রায় পুরোটা ভাগই নিতে হবে।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

ইয়ে, আজকেও সাজেক যাওয়ার কথা বলছিলাম একজনকে।
পাহাড়ের সৌন্দর্য চিনি, সেখানকার যন্ত্রণাকিষ্ট মানুষদের চিনি না!

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হ্যাঁ, সেটাই।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

পাহাড়ের প্রতিটি খুনে, আমরাও খুনী। পাহাড়ের হাজারো ঘর ভেঙেছি আমরাও। আমরাই পাহাড়ের নিরপরাধ মানুষদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বুনো কুকুরের মতো আচরণ করছি! এবং আমাদের চরিত্রের এই ইতিহাস আমাদের কপালেই সাঁটা থাকবে সকল ভবিষ্যতে।- এই সহজ সত্য যত দ্রুত বুঝতে পারা যাবে তত দ্রুত সমাধানের দিকে আগানো যাবে।

পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে, লারাম, মম্বাচিংসহ আরো অনেক বন্ধুর সাথে পরিচয়। শুরুর অপরিচয়টা কেটে গেলে, ক্ষোভের বিষয়টা জানতে সময় লাগে না। নির্বাক হয়ে শুনতে হয় কেবল। লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়। সেটলার কী জিনিস, কীভাবে সবকিছুর দখল নিয়ে বসে আছে তা একটা পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাবে-- বগায় যেতে রুমা থেকে গাইড নিতে হয়। সর্বশেষ যখন যাই তখন মোট জন গাইড ছিল, লিস্টেড, এর মধ্যে পাহাড়ের কয়জন জানেন? একজন। এটা খুব সহজ একটা উদাহরণ।

মুশকিলটা হচ্ছে, সমতলের খুব সচেতন ব্যক্তিরা ছাড়া পাহাড়ের সঙ্কট নিয়ে কেউ কথা বলাতো দূরের কথা, ঠিকঠাক জানেও না। মনে আছে প্রথম যেবার যাই সেবার বন্ধুদের সারারাত জেগে সেটলার সংকট নিয়ে লেকচার দিতে হয়েছিল। প্রথমে তর্ক। পরে তা লেকচার হয়ে যেতে হয়। তথ্য এবং তা প্রচারের এতোটাই সংকট।

সেখানকার একজন বাঙালি সেটলার বলেছিল- ‘ওই পাহাড়টা আমার’। এই পাহাড় কীভাবে তার হলো, সে কথা থাক।
এ ধরনের লেখা যত বেশি আসবে তত মঙ্গল। অনেক ধন্যবাদ লেখাটার জন্য।

স্বয়ম

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পাঠ্যবইয়ের যুক্ত করে বাঙালিদের পাহাড় সম্পর্কে মনোভাব বদলানো উচিত বলে মনে হয়!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

পাঠ্যবইয়ে কোনটা যুক্ত করবার কথা বলছেন? আমাদের পাঠ্যবইগুলো থেকে শিশুরা সেই ক্লাস থ্রি-তে শিখে যায় ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ কথাটা আর মাৎসান্যায় অনুযায়ী-ক্ষুদ্রকে গ্রাস করবার অধিকারটাও তারা হয়ত সেই ছোটবেলা থেকেই রপ্ত করে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক স্তরের জন্য বই লিখতে গিয়ে কিছুতেই এই শব্দটা বাদ দিতে পারছি না, আমার টিমমেট-বস, যিনি নিজে গারো সম্প্রদায়ের, প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পারছেন না, কারণ জাতীয় শিক্ষাক্রম মেনে চলবার বাধ্যবাধকতা রয়ে যায়। আমাদের পরিসরটা ক্ষুদ্র, তাই এই গুটিকয়েক বাদ দিলে দেশের বেশিরভাগ শিশুই বোধহয় এইটুকুও শিখছে না বার্গী চাকমাদের সংস্কৃতিতে ‘পাজন’ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনই আমাদের কাছে এটাও গুরুত্বপূর্ণ- বার্গী আর ওর বন্ধু সিনপাট ম্রোকে বন্ধু মনে করা, তাদের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যটুকুসহ তাদের আলাদা করে না দেয়া, তাদের পাহাড়টায় নিজেদের দাপট না দেখানো... আর জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আনতে বোধহয় অনেক সময় লেগে যাবে কিংবা আদৌ সম্ভব হবে না। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, নিজেদের মতামত আর পছন্দ-অপছন্দ তাঁরা এত বেশি গুরুত্ব দেন, বলার মতো নয়! তার পাশাপাশি আছে রাষ্ট্রীয় পরিভাষা, প্রপঞ্চগত বিষয়-আশয় মন খারাপ মন খারাপ তারপরও জোরেশোরে পদক্ষেপ নিলে হয়তো একসময় বদলাতেও পারে ঘটনার দিক।

অতিথি লেখক এর ছবি

কমেন্টটা আমার। নাম লিখতে ভুলে গেছি।

দেবদ্যুতি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমার মনে হয়, পাঠ্যবইতে আলোচনায় যুক্ত করে শিশু থেকে পাহাড়ের প্রতি মমতা, সেখানকার সংস্কৃতির অনন্যতা বুঝে সে ধরে রাখার গুরুত্ব বুঝতে শিশুদের উৎসাহী করে তোলা কার্যকরী হতে পারে। একটি শিশু যেন মাধ্যমিকের আগেই স্পষ্ট জেনে যায় তার দেশের কোথায় কী রয়েছে আর কোথাকার পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখতে হবে, কীভাবে দেশের কোন অংশের যত্ন নিতে হবে।

আপনার অভিজ্ঞতা থেকে একটি লেখা লিখে ফেলতে পারেন। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক প্রসঙ্গের সমস্যাগুলো আলাদা করে আলোচনা হতে পারে।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা অনেক জরুরি আর উপস্থাপনটাও চমৎকার... পাহাড়ি বন্ধু, পরিচিতজনরা কিছু বললে ফিরে কিছু বলার থাকে না। আমাদের মনোভাব এতটাই দখলদারিত্বের যে পাহাড়ি-বাঙালি বা সমতলের আদিবাসী-বাঙালি বিভাজনটা ক্রমশ বাড়ছেই, বাড়তেই থাকবে বোধহয়।

দেবদ্যুতি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধন্যবাদ

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সুমন চৌধুরী এর ছবি

১৯৯৭এর পার্বত্য শান্তিচুক্তির সময় আমি জাহাঙ্গীরনগরে। বন্ধুমহলে জেএসএস/ইউপিডিএফ দুই পক্ষই ছিল। জেএসএস চুক্তি সম্পর্কে আশাবাদী ছিল। ইউপিডিএফ'এর দাবী ছিল পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন। এরপরে প্রায় দুই দশক চলে গেছে। জেএসএসের দাবীমতে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয় নাই। ইউপিডিএফ ছত্রভঙ্গ। পাহাড়ে অশান্তি চলছেই। শান্তিচুক্তি কেন বাস্তবায়িত হলো না বা হতে পারলো না এটাই এখন সব থেকে স্পষ্ট করে বুঝতে হবে। পাহাড়ে সেটলার বসিয়েছে মূলত জিয়া-এরশাদের সামরিক সরকার। ১৯৯৯ এ একবার যাওয়া হয়েছিল ঝটিকা সফরে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান। সেটলারদেরকে হিংস্র ধরণের বর্ণবাদী মনে হয়েছে। আমার অভিজ্ঞতায় তুলনায় পাহাড়িদেরই অনেকবেশি সহনশীল মনে হয়েছে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পাহাড়ের সেটলাররা শিক্ষিত শ্রেণী নয়। তারা পাহাড় চেনেও না। নিজের মতো করে যতটা পারে পাহাড় বদলে নিয়েছে, নিচ্ছে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

হাসিব এর ছবি

শিক্ষিত অশিক্ষিত আসলে ম্যাটার করে না। বাংলাদেশে শিক্ষা মানবতা শেখায় না। শিক্ষিত অশিক্ষিত দুপক্ষই সমান বর্বর।

সাইদ এর ছবি

@হাসিব চলুক

সুমন চৌধুরী এর ছবি

রাঙ্গামাটি শহরের শিক্ষিত বাঙ্গালীদের অনেকেই চিন্তাভাবনা করে বর্ণবাদী

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হাসিব ভাই, বদ্দা, সার্টিফিকেট যে মানুষ বানায় না সেই অভিজ্ঞতা তো বহু আগে থেকেই হচ্ছে। আমি বলতে চাইছিলাম একটু আধটু শিক্ষিত হলে, আপাত শিক্ষিত সমাজে চক্ষুলজ্জার খাতিরে আর 'পলিটিকালি কারেক্ট' থাকার জন্যে হলেও মানুষের মাঝে বর্বরতা কম দেখা যায়! অন্তত প্রকাশ্যে খুন/ধর্ষণ হয়তো কমে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

তারেক অণু এর ছবি

আবার যাবার কথা, যতবার যাওয়া হয় আদিবাসী বন্ধুদের দেখি, লজ্জায় নুয়ে পড়ি, ধিক দেই নিজেকে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পাহাড়ি কারো সামনে পড়লেই লজ্জা লাগে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নজমুল আলবাব এর ছবি

কয়েকটা মন্তব্য এলোতো এখানে। এটাই বেশিরভাগ বাঙ্গালের মতামত। এর বাইরে যারা কথা বলবে, তাদেরকে বিপ্লবী বলে ফাইজলামি করা হবে। সেনাশাসন, জাতীগত শুদ্ধতা কোনভাবেই সভ্য মানুষ সমর্থন করতে পারে না। কিন্তু আমরা পাহাড়ের ক্ষেত্রে সেটাই করি। বাঙ্গাল সভ্য হতে, মানবিক হতে বহুত পথ পাড়ি দিতে হবে। সেই পথ নিয়া আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পথ বহুত লম্বা সে নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই! লম্বা পথটাও যে 'ঠিক' আছে কিনা সে নিয়ে আমিও সন্দিহান!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

এক লহমা এর ছবি

"আমরা যেন মনে রাখি, ইতিহাস সব সত্যের সাক্ষী থাকে। চট্টগ্রামের পাহাড়ে যুগের পর যুগ গণহত্যা আর নির্যাতনের জন্য ইতিহাস বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট সরকার অথবা সেনাবাহিনীর বিচ্ছিন্ন অংশের নামোচ্চারণ করবে না। পাহাড়ে গণহত্যার খলনায়ক হিসেবে ইতিহাস কোনো রাখঢাক না করে বাঙালিদের নামই বলবে!"
মন খারাপ

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মাসুদ সজীব এর ছবি

পাহাড়ে সন্ত্রাস, চোরাচালান, খুন, অস্ত্রব্যবসা, জাতিগত বিদ্বেষ (চাকমা-মারমা) সহ অসংখ্য সমস্যা আছে। আর এই সমসা সমাধানের একমাত্র সহী সমাধান জলপাই বাহিনী, আর তাদের ক্যাম্প স্থাপন।

এমনটািই মনে করে অর্ধ আধুনিক থেকে বর্বর সকল বাঙালি। ভাইজান রা, সারা বাংলাদেশেই তো সন্ত্রাস আছে, চোরাচালান আছে, খুন আছে, অস্ত্র ব্যবসা আছে, মাদক আছে, দলগত বিদ্বেষের (আওয়ামি-বিম্পি/জামাত) চরম রেষারেষি আছে, এমনকি কোথাও কোথাও হিন্দু-মুসলমান দ্বন্দ আছে তাহলে সারা বাংলাদেশেই জলপাইদের ক্যাম্প থাকা আবশ্যক। তো নেই কেন? নিজেরা নিজেদের মতো স্বাধীন কর্ম করে যাবেন, ঘুরে বেড়াবেন আর পাহাড়ের মানুষদের জন্যে অন্য আইন করে দিবেন সেটা ক্যাম্নে হয়? ভুলে গেছেন জলপাই ভাইদের আদুরে শাসনের কথা, অপারেশান ক্লিন হার্টের কথা?

পাহাড়ে সেনা থাকবেনা এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন‌্য বড় হুমকি হতে পারে।

দেশের মাঝে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব কি সেনাবাহিনীর নাকি পুলিশ প্রশাসনের? নাকি বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়িকে দেশ-ই মনে করেন না? ওখানে বসবাসকারীদের বাংলাদেশের নাগরিক মনে করেন না? নাকি ওদের জন্যে এক সংবিধান, এক আইন আর আমাদের জন্যে আরেক আইন। যদি সবাই এক মনে করতেন তাহলে কোন ভাবেই পাহাড়ে সেনাশাসনের পক্ষে সাফাই গাইতেন না।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

বাঙালির একটা বড় অংশ কিন্তু জলপাইরাজ সমর্থন করে! জুতা খায়া যে কারো অর্গাজম হইতে পারে তা এদের দেখে বোঝা যায়!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

বিষণ্ন ভাললাগা লেখাতে। ভাবনার দুয়ার বন্ধ করে আর কতকাল বসে থাকবো?

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

রানা মেহের এর ছবি

এই লেখাটার দরকার ছিল।
আমাদের অনেক ভাগ্য আমাদের পাহাড় যে এখনো জম্মু-কাশ্মির টাইপ কিছু হয়ে যায়নি। পাহাড়িরা মার খেয়ে যাচ্ছে আর সহ্য করে যাচ্ছে।

অনার্য, সেটেলারদের ইতিহাস, চরিত্রগতবৈশিষ্ঠ, উদ্দেশ্য এই জায়গাগুলো একটু পরিষ্কার করে বললে ভাল হতো

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

তানিম এহসান এর ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিতাত্বিক জনগোষ্ঠীতে বন্ধুত্ব হয়েছে। আমরা সাধারণত আবেগাক্রান্ত হয়ে লজ্জিত হলে-ও সেই লজ্জা বেশিদিন থাকে-না, আবারও সত্যের মুখোমুখি হলে পুরনো লজ্জা আবার পেয়ে বসে। সেনাবাহিনী’তে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই পাহাড়ে বসবাসরত জাতি তাত্বিক গোষ্ঠী সম্পর্কে ভুল তথ্য পড়ানো হয় বলে জেনেছি, একজন একবার বলেছিলেন, ‘আরে, ওরা ওখানে খুব বেশি হলে ৩০০ বছর আগে এসে জোর করে সবকিছু দখল করেছে!’ আমি জানতে চাইলাম ওনার পূর্বপুরুষ কবে বাংলায় এসেছিলো? সেইরকম জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে আমাকে নৃবিজ্ঞান পড়তে বললেন তিনি, যখন জানালাম আমি নৃবিজ্ঞানের ছাত্র তখন বললেন, ‘আপনাদের তাহলে ঠিকমত পড়ানো হয়নি!’

শুধু পাহাড় কেন, সমতলে-ও কি কোনভাবে রাষ্ট্র তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেয়? সেটলার কিন্তু সারা বাংলাদেশ থেকে নেয়া শুরু হয়নি, নেয়া শুরু হয়েছিল চর এলাকা থেকে, কতদূর পরিকল্পনা তৈরি করে এইসব করা হয়েছিল চিন্তা করা যায়?

কিছু মন্তব্য পড়লাম, চান্দে ক্যানভাসারের ছবি পশ্চাৎদেশের চোখ দিয়ে কেন দেখা যায় সেটা বুঝে নিতে সমস্যা হয় না আসলে!

আর আপনার জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

সবই বুঝলাম। বিচার মানি কিন্তু তাল গাছ আমার, ব্যপারটা মনে হয় এই রকম, কেননা একদিকে এই রাষ্ট্র বলছে পাহাড়ি-বাঙ্গালী ভাই ভাই, আবার পাহাড়িদের কে ঘাড় ধাক্কা দিচ্ছে। একজন পাহাড়ী যখন ক্রোধান্বিত হয় বাঙ্গালীর প্রতি তখন কেন ক্রোধান্বিত হলো সেই বিচার কেউ করেনা। ১৯৪৮ -১৯৭১ পর্যন্ত আমরা যেমন স্বায়ত্বশাসন ই চেয়েছিলাম কিন্তু পরে স্বাধীনতাও পেয়েছি তাহলে পাহাড় বাংলাদেশের অংশ ঠিক আছে কিন্তু তাদেরকে তাদের মতো করে থাকতে দিতে ও স্বায়ত্বশাসন দিতে রাষ্ট্রের প্রবলেম কই?
তাদের উপর দিনের পর দিন চলা অত্যাচার ই তাদের বুকে বাঙ্গালীদের প্রতি ঘৃনার জন্মদিচ্ছে যেমন আমাদের বেলায়ও হয়েছিল সেই সময়ে!!!

------------
রাধাকান্ত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।