শৌচাগার বিপর্যয় – ২

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি
লিখেছেন লুৎফুল আরেফীন (তারিখ: শনি, ০৫/০১/২০০৮ - ৬:৫৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(শৌচাগার বিপর্যয় সেক্যূয়েলের ২য় খন্ড)

শেয়ার্ড টয়লেটের সমস্যা আরোও অনেক রকমই হতে পারে। এ ব্যাপারে আরোও একটি ঘটনা মনে পরছে। আমি তখন জার্মানীর নয়-উলম (বা নিউ উলম) নামের একটা শহরে থাকি। অবশ্যই ডরমিটরীতে। সেই ডরমের টয়লেট-বাথরুমের বিন্যাস ছিল একটু ভিন্ন। প্রতি ২ টা রুমের জন্য একটা করে কমন টয়লেট এবং ওয়াশরুম। পাশাপাশি ২ রুমের মাঝখানে টয়লেট। প্রত্যেকেই যার যার রুম থেকে সরাসরি এই ওয়াশ-রুমে ঢুকতে পারতো। আমরা যারা প্রতিবেশী হিসেবে নারী রুমমেট পেয়েছিলাম বাকিরা দেখতাম তাদেরকে খুব ঈর্ষা করতো! সেই হিসেবে আমি ছিলাম সহপাঠিদের ঈর্ষার পাত্র! যদিও আমার প্রতিবেশীনী ছিল একটু অনিয়মিত। রুমে প্রায়শঃই থাকতো না। সম্ভবতঃ বয়ফেন্ডের সাথে অন্য কোথাও থাকতো। রুমটা ছিল নামকা ওয়াস্তে। একই ডরমিটরীতে আমার নীচের তলায় থাকতেন দীপন ভাই। ওনার রুমমেট ব্রাজিলীয় এক সুন্দরী তরুণী। যেদিনের কথা বলছি সেদিন সকালে আমি আর দীপন ভাই গেছি একটা ইন্ডিয়ান দোকানে বাজার করতে। দোকানদার লোকটি বড়ই রসিক, নিজেকে আফগান বলে দাবী করতো। অবশ্য আফগান ছাড়াও আরোও ৪টি ভাষায় সে অনর্গল কথা বলতে পারে! যাওয়া মাত্রই নানান ছূতোয় এটা সেটা ধরিয়ে দিতো। সেদিন দোকানে ঢোকামাত্র বেটা কলার জুসের বিজ্ঞাপন করতে শুরু করলো। দেখলাম একটা তাকে থরে থরে কলার জুসের বোতল। অবাক হলাম দাম দেখে – মাত্র ১০ সেন্ট করে বোতল!! তাও আবার ৪৫০ এম. এল. করে প্রতি বোতল!! এ তো পানির চেয়েও সস্তা!! তৎক্ষণাৎ ৪ বোতল ব্যাগে ভরলাম। দীপনভাইকে বললাম। উনিও নিলেন ২ বোতল। ফেরার পথে রাস্তা থেকেই খাওয়া শুরু করে দিলাম। স্বাদটা অতি সুস্বাদু না হলেও দামের কথা ভেবে অমৃত মনে হচ্ছিল!

যাহোক, রাতে রুমে ফিরে খাওয়া দাওয়া সেরে কম্পিউটারের সামনে বসেছি। হঠাৎ রুমের দরোজায় ঘন ঘন কড়া নাড়ার শব্দ পাই। দরজা খুলে দেখি দীপনভাই দাঁড়িয়ে। হেসে ভেতরে আসতে বললাম। ভাবলাম হয়তো আড্ডা মারতে এসেছেন। কিন্তু উনি ঢুকেই জিজ্ঞেস করলেন –

- তোমার নেইবার কি তার রুমে?
- না মনে হয়।
- তাইলে আমি একটু টয়লেটটা ইউজ করি।

আমি কিছু বলার আগেই দেখলাম দীপনভাই অনেকটা দৌড়ে আমার টয়লেটের দিকে এগুলেন। এরপরের ঘটনা বর্ণনা করার মতোন বিপ্লবী ধার আমার কলমে নেই। কম্পিউটারে এটা সেটা ওয়েবপেজ ঘাটাঘাটি করছিলাম, টয়লেটের ভেতর থেকে আসা বিচিত্র শব্দে মনঃসংযোগ ছিন্ন হলো! অতি পুরনো জীর্ণ-শীর্ণ কাঁথা দুইহাতে টেনে ক্রমাগত ছিঁড়তে থাকলে যেমন শব্দ হবার কথা, অনেকটা সেরকমের আওয়াজ হচ্ছে টয়লেটের ভেতরে। আমি আতঙ্ক নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

- বস্ ঘটনা কি?!! কি করেন?!
- আরে মিয়াঁ তোমার কলার জুস। একদম শ্যাষ করে দিছে আমারে!
- বলেন কি?! কেন?!
- শালার (টু--ট্) -টা ডেট এক্সপায়ার্ড মনে হয়। জানি না (টু--ট)…..!!!
- কন কি?! দাঁড়ান দেহি!
আমি তারাতারি বাকি বোতলগুলো বের করে দেখলাম ঘটনা সত্যি। সবগুলো জুসের ডেট এক্সপায়ার্ড!! এ কারণেই এতো সস্তায় দিছে শালার আফগানটা! বোতলগুলো ফেরত দেবার জন্য আবার ব্যাগে ভরে রাখলাম। ইতিমধ্যে দীপন ভাইয়ের “কলা-কীর্তন” রুমের আবহ আমূল পাল্টে দিয়েছে। মনে হচ্ছিল আমি নীলক্ষেতের কোনও ঝুট কাপড়ের দোকানের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছি! এই আবহ বদলে গেল একটু পরেই। এবারে ঝুট কাপড়ের দোকানের পাশে “কলাজাত বায়োগ্যাস” উৎপাদন কেন্দ্রের আভাস পাচ্ছি বলে মনে হলো! এই গ্যাসের স্যাম্পল ঘরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই আমি গৃহত্যাগের উদ্যোগ নিলাম। ওনাকে বললাম,
- আপনে কাজ সারেন; আমি একটু মনজু ভাইয়ের রুমে যাই
- ও কে
নীচের তলায় মনজু ভাইয়ের রুমে এসে আপাতঃ রক্ষা পেলাম। ঘটনা শুনে মনজু ভাই বিমর্ষ মুখে তাকালেন। বললাম, “কি বিষয়, জুস কি আপনেও খাইছেন না কি?!!” জবাবে মনজু ভাই না-সূচক মাথা নাড়ালেন। কিন্তু আমি মনে মনে প্রমাদ গুণতে লাগলাম। জুসতো আমিও ২ বোতল উজার করেছি! এই রাতের বেলায় আবার কীর্তন এর জলসা না বসে যায়!

একটু পরে রুমে আসলে দীপনভাইয়ের কাছে জানতে চাইলাম,
- বস্ আপনি নিজের রুমে না গিয়ে আমার রুমে এই কাজটা করতে দৌড়াইলেন ক্যান সেইটা বুঝলাম না।
- আরে (টু--ট্) জুস খাওয়ার পর থেকেই পেটের মধ্যে গুরুগুরু করতেছিল। এই সময় টয়লেটে গেলে যে পেছন দিয়া রাখালিয়া সূর বের হবে এইটা আমি ঠিকই বুঝছিলাম। পাশের ঘরে আবার ব্রাজিলীয়ানটা আছে। শুনতে পাবে কোনও সন্দেহ নাই। অগত্যা তোমার টয়লেটে!
- ও-ও
- আর এইটা তো তোমার শাস্তি!
- ক্যান?
- তোমার ওসওয়াসায় পইরা কলার জুস খাইছি। কালকে ক্লাস ধরতে পারি কি না কে জানে!
- তা ভালো না হওয়া পর্যন্ত কি আমার রুমে গিয়েই ... ?
- মনজু ভাইয়ের রুম খোলা পাইলে এইখানেও আসতে পারি। আর যাই হোক আমার পাশের রুমে একটা বিদেশী মেয়ে থাকে। তার সামনে বেইজ্জত হওয়া যাবে না।

মনজু ভাই আমাদের আলাপচারিতা এতোক্ষণ চুপচাপ শুনছিলেন। ওনার রুমের প্রসঙ্গ আসায় হৈ হৈ করে উঠলেন।

- আরে না না! খবরদার আমার রুমে এইসব কাঁথা ছেঁড়া চলবো না। অন্য জায়গা দেখো দীপন। আমি এমনিতেই বহুত যন্ত্রনার মধ্যে আছি।
- কি যন্ত্রনা বস?
- আরে কাউলাডারে লইয়া খুব ঝামেলায় আছি।

মনজু ভাইয়ের সেই ঝামেলার কথা বলার আগে প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, মনজু ভাই মানুষটা সহজ সরল। উটকো ঝামেলা এড়িয়ে চলেন। ওনার নেইবার একজন নাইজেরিয়ান ছেলে। সে নাকি আবার ঐ দেশের কোন মন্ত্রীর ছেলে। যাহোক, এই নাইজেরিয়ান কাউলার বদৌলতে শেয়ার্ড (shared) টয়লেটের ধকল কিছুটা ওনার উপর দিয়েও গেছে!

মনজু ভাইয়ের নেইবার বিশিষ্ট ধনী ব্যক্তি সন্দেহ নাই। তবে আর্থিক বৈভবের চেয়েও তার বেশী ছিল প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য। খোদা তাকে আপাদমস্তক পশমী করে বানিয়েছেন! ফলে মাসে অন্ততঃ ২ বার সেই মন্ত্রীপূত টয়লেটে দাঁড়িয়ে গোটা শরীরের বনাঞ্চল উজাড় করতো। মাথার চাঁদি থেকে আরম্ভ করে ২ উরুর সন্ধি-স্থল পর্যন্ত এই মরুকরণের কাজটা সে করতো পুরোপুরি উলঙ্গ হয়ে! ফলশ্রুতিতে, এমন অনেকবার ঘটেছে যে, বেচারা মনজু ভাই পানি বা অন্য কোনও প্রয়োজনে টয়লেটে ঢুকে সেই নিকষকালো নরসুন্দরের ক্ষৌঢ়কর্ম চাক্ষুষ করতঃ বিদ্যুত বেগে দরোজা বন্ধ করে দিয়েছেন। এই দৃশ্যে অভ্যস্ত হতে পারেন নি বলে, পরবর্তিতে টয়লেট থেকে ইলেকট্রিক রেজারের গর্জন ভেসে আসলেই মনজু ভাই “ড্রাই ডে (dry day)” পালন করতেন! ভুলেও সেসময় টয়লেটগামী হতেন না।

নাইজেরীয় ধকলের আরেকটা মাত্রা ছিল। মাঝে মাঝেই বিশালবক্ষা গজ-পশ্চাদদেশ সম্পন্না অতিকায় এক কৃষ্ণাঙ্গিণী এসে নাইজেরিয়ানটার সাথে রাত্রিযাপন করতো। এতে মনজু ভাইয়ের সমস্যা ছিল না। সমস্যাটা হতো টয়লেট-কাম-বাথরুম ব্যবহার নিয়ে। গোসলের সময় হলেই (এটা কখন হবে সেটা স্থির করে বলা মুষ্কিল ছিল!) এই ২ কালোপাহাঢ় একত্রে বাথরুমে গিয়ে ঢুকতো। বলাবাহুল্য ডরমের ১৮ বর্গমিটারের অপ্রতূল একেকটা রুমে বাথরুমের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১ বর্গমিটার! সেই জায়গাটুকুর মধ্যে ১ জনের ছড়িয়ে ছিটিয়ে গোসল করাই কঠিন। সুতরাং একই পরিমান জায়গাতে ২জন অতিকায় মানব সন্তানের জলকেলীকে ধস্তাধস্তি বলে ভ্রম হতো! জলকেলীর মতোন অস্থির এবং মূদ্রাসাপেক্ষ একটি কাজের জন্য এই বাথরুমগুলো যে একেবারেই অনুপোযুক্ত -- এই গুঢ় বিষয়টা কামোদ্যত যুগল ক্ষণকালের জন্যও উপলব্ধি করতে পারতো না। প্রায়ই দেখতাম মনজু ভাই সিডি প্লেয়ারের আওয়াজ বাড়িয়ে দিয়ে বসে বসে খিস্তি খেউর করছেন। এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করতাম,

- কি সমস্যা? এতো জোরে গান শুনেন ক্যান?
- আর কৈও না। রুমে থাকা যাইবো না আর।
- ক্যান?
- কাউলা ২টা ঢুকছে বাথরুমে। ১ ঘন্টা হইছে অলরেডি।
- বলেন কি!!
- আওয়াজে টেকা মুশকিল, তাই শালার গান দিছি বাড়াইয়া।

আমি গানের ভলিউমটা একটু কমাতেই বুঝলাম আদিমতম লিঙ্গুয়াফ্রাঙ্কায় (linguae fran•cae) নরনারীর খুনসুটি চলছে! এরই মধ্যে টের পেলাম, বাথরুম সংলগ্ন রুমের দেয়ালটা মাঝে মাঝে বিকটভাবে কেঁপে কেঁপে উঠছে আফ্রিকান দু’টোর জলকেলীর তান্ডবে। একেবারে হলিউডি ছবির মারামারির দৃশ্যের উপোযোগী সাউন্ড-ট্র্যাক। মনজু ভাই বললেন, "বিভৎস ব্যাপার! মনে হইতাছে হাতি ২টা মারামারি করতাছে! এইডারে গোসল কয়?!"

লেখাটি শেষ করতে গিয়ে আরোও অনেক স্মৃতি উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল যার সবগুলো এই পরিসরে বর্ণনা করার সাহস করি না। ইতিমধ্যেই শৌচাগার সংক্রান্ত এই সেকূয়েলটা আমাকে যথেষ্ট কুক্ষ্যাতি জুগিয়েছে। এটা নিয়ে টানাটানির এখানেই পরিসমাপ্তি হোক।


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

আফগানদের সম্ভবত দোকানদারি আর ভাষাগত দক্ষতা সহজাত গুণ। কাসেলেও একটা আফগান দোকান আছে, তার সেলসম্যান গড়গড় করে মাতৃভাষা দারি বাদেও পশতু, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি আর জার্মান বলে।

শৌচাগারের দিক দিয়ে আমি কিছুটা শান্তিতে আছি, আমার ফ্ল্যাটমেট অত্যন্ত পরিছন্ন ছোকরা। বরং সে-ই আমাকে প্রতিবেশী হিসেবে পেয়ে একটু বাটে পড়েছে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আফগানটার শুধু দুর্নাম করলে অবশ্য অন্যায় হয়ে যাবে। আমি যখনই কেনাকাটা করতে ওর ওখানে যাই, কিছু একটা জিনিস ফ্রী বা কম দামে দেবার জন্য জোরাজুরি করতে হয় না। নিজে থেকেই দেয়। বন্ধুরা অবশ্য বলে শালা যে দাম রাখে তাতে ৩০০% এর ওপরে লাভ হয়। কিন্তু আমি তার এটিচ্যুডের প্রশংসা করি।

আমাদের বাঙালীদের অনেক ব্যবসা শেখার আছে এদের কাছে।

অয়ন এর ছবি

চরম

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

বলেন কি?!!
কোনও অভিজ্ঞতা কি মিলে গেল অয়ন ভাইয়ের সাথে?! হাসি

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

টয়লেট ও বাথরুম সম্পর্কিত কয়েকটি মজার ছবি জনসাধারণের দেখার জন্য আপলোড করলাম। সাইজ এক মেগারও কম। ছবি আটাশটা।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

জুয়েল বিন জহির এর ছবি

ভাইরে, একটানে শেষ করলাম!

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আপনাকে ১ টানে ধন্যবাদ পড়ার জন্য!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমি দুই টানে পড়লাম। তবে আপনার শেষের লাইনের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করছি। এই কাহিনী চলতে থাকুক। নাম নাহয় পাল্টে দিয়েন ; আপানার লেখা পড়তে ভালো লাগে তাই এই আব্দারখানি থাকল।

মাশীদ এর ছবি

আমিও প্রায় একটানেই পড়লাম (মাঝে বোনের সাথে চ্যাট করতে গিয়ে হালকা ডিসট্র্যাক্টেড হয়ে গিয়েছিলাম)। আগেরটাও পড়েছি। দুইটাই কঠিন লিখেছেন। দুর্দান্ত বর্ণনা! থামবেন না প্লিজ। যে বিষয়ে লিখছেন সেটা যেমন থামার কোন সম্ভাবনা নেই, আপনার লেখাও তেমন গতিতেই চলুক।

সিঙ্গাপুরে আমার দু'বছর হস্টেল জীবনে অবশ্য তেমন দুরবস্থা হয়নি কখনো। প্রথম ৩ মাস রুমমেট ছিল এক বাংলাদেশী আপু, তারপর কিছুদিন একা, পরে প্রায় এক বছর হংকং এর এক মেয়ে। ঐ রুমের মধ্যে বাথরুম ছিল যেটা আমরা দু'জন শেয়ার করতাম। কখনোই সমস্যা হয়নি। এরপর আরেক হস্টেলে বেশ কিছু চাইনিজ মেয়ের সাথে বাথরুম শেয়ার করেছি। ঐটায় আবার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বেশ কড়াকড়ি নিয়ম ছিল। বাথরুম তাই মোটামুটি পরিষ্কারই থাকত। চাইনিজ ছেলেদের কথা যেমন শুনি খুব নোংরা, মেয়েদের ব্যাপার তার উল্টা এটা আমি বলতে পারি। শুরুর দেড় বছরের হস্টেলে বেশ কিছু চাইনিজ মেয়ের সাথে থেকেছি, পরের ৭ মাসের হস্টেলেও তাই। দু'টাতেই দেখেছি বাড়ি ফিরেই ওদের প্রথম কাজ কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ফেলে দেয়া। আমি নিজে ওদের থেকে ভাল অনেক কিছু শিখেছি এবং সবসময় দক্ষিণ এশিয়ান কারো সাথে থাকার চেয়ে ওদেরকে প্রিফার করেছি।

যাক, আপনি এই লাইনে লেখায় সচল থাকুন, নতুন বছরে এই একটা আশা রইল।


ভাল আছি, ভাল থেকো।


ভাল আছি, ভাল থেকো।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

@ প্রকৃতিপ্রেমিক এবং মাশীদ,
আপনাদের চূরান্ত হাতছানি মূলক মন্তব্যের
জন্য ধন্যবাদ। হাত তো আমারও চুলকায় কিন্তু শেষে আবার শৌচাগারের তকমা শরীরে না এঁটে যায় সেই ভয়ে থাকি!

@মাশীদ,
আপনার অভিজ্ঞতার কথা শুনে অবাক এবং ঈর্ষান্বিত হলাম, কারণ ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সকল চাইনিজদের ব্যাপারেই আমার অভিজ্ঞতা তথৈবচ।

হিমুর সূরে সূর মিলিয়ে বলতে হয়, "ওদের ইয়ের মডেলটা খোদা চেঞ্জ করে দিন!!!"

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ

হিমু এর ছবি

মজলুম হাগারুরা সবাই নিজ নিজ বেদনার স্মৃতিচারণ একসাথে শুরু করলে আবার মুশকিল। তবে আপনার সিরিজ বেশ গুণগত মানসম্পন্ন। পুড়ে পুড়ে খাঁটি সোনা হয়েছেন আপনি, একেবারে রগে রগে টের পাওয়া যায়।


হাঁটুপানির জলদস্যু

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আপনার মন্তব্যগুলান পড়ার সময় ভাবি, কথা-বার্তাও কি এই স্টাইলেই করেন?! আপনার তো মুখে সাহিত্য লেগেই আছে!! আজব! বড়ই আজব!

আবারও ধন্যবাদ গুণকীর্তন করার জন্য।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

এই সেক্যূয়েলের পরবর্তি কিস্তি চাইলে হয়তো আশাবাদ দিতে পারবো না।
কিন্তু যেকোনও লেখা বুঝিয়ে থাকলে বলবো, অচিরেই। হাসি

আপনাদের উৎসাহ আর প্রেরণার জন্য আমি বরাবরের কৃতজ্ঞ।

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসতে হাসতে দম বন্ধ হইয়া গেলো। দারুন একখান লেখা।আরও চাই।
রবিন

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।