এ দিল মাঙ্গে মোর

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি
লিখেছেন লুৎফুল আরেফীন (তারিখ: শুক্র, ০৮/০১/২০১০ - ৭:০০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মি লুঙ্গি পরি না। কারণ, লুঙ্গি পরে কখনই আমার 'কাপড়-চোপর পরার' - আত্মবিশ্বাস হয় না। প্রথমবার লুঙ্গি পরার পরে মনে হয়েছিল, বিবস্ত্র হয়ে হাঁটছি কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেটা কেউ খেয়াল করছে না! অনেকটা গুহামানবদের যুগের মতন - কেউ উলঙ্গ থাকল, নাকি কচুপাতার মিনি-স্কার্ট পরে থাকল, সেটা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই! তবে নিজে না পরলেও বাবা, চাচা কিংবা মামাদের দেখেছি এই জিনিস খুব আনন্দ নিয়ে পরতে। আমার বাবা অবশ্য লুঙ্গি নিয়মিত পরলেও ঠিকঠাক মতন পরতে পারতেন না। এখনও পারেন না। তাঁকে সারাজীবন দেখেছি খানিক পর পর লুঙ্গির গেরো টাইট দিচ্ছেন। বেশিরভাগ যাদুর অনুষ্ঠানেই কবুতর আর দড়ির কিছু বাঁধাধরা যাদু দেখানো হয় - ৪/৫ জন লোক অনেক ঝামেলা করে দড়ির মধ্যে একটা বিষ-গিট্টু পাকিয়ে দেয় আর যাদুকর সাহেব ফুৎকার দিয়েই সেটা আলগা করে দেন! বাবা লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় হাঁচি বা কাশী দিলে লুঙ্গির গেরোতেও এরকম যাদুকরী কাণ্ড ঘটতে দেখেছি! অবশ্য বিষয়টা আগে থেকেই আঁচ করতে পারতেন বলে বাবা হাঁচির আগে লুঙ্গির গেরোতে হাত চাপা দিয়ে নিতেন। ফলে কখনই অপ্রীতিকর কিছু ঘটে নি। এছাড়াও ঘরে টেলিফোনের রিং বাজলেই বাবা অস্থির হয়ে ওঠেন, পরিমরি করে ছুটে যান টেলিফোন ধরতে। এই ছোটাছুটির সময়েও লুঙ্গির বাঁধন আলগা হয়ে যেত। ফলে টেলিফোনে কথা বলার সময় বাবা প্রায়ই আরেক হাতে লুঙ্গি ধরে রাখতেন! ঘটনাটা এতটাই নিয়মিত ছিল যে, বাসায় ফোন বাজলেই মা ফোন ধরার কথা না বলে রান্নাঘর থেকে চিৎকার দিতেন, 'এ্যাই, লুঙ্গি ধরে রেখো'।

মি শুধু লুঙ্গিই নয়, স্কুল জীবনে সামগ্রিকভাবেই পোষাক আশাক বিষয়ে যতটা স্পর্শকাতর ছিলাম, ততটা মনে হয় না আর কখনও ছিলাম। আর এই স্পর্শকাতরতার পেছনে মূল ইন্ধন যুগিয়েছিল তখনকার বয়স। বয়সের একটা ঘোর থাকে। স্কুলের শেষের বছরগুলাতে আমাদের অন্যতম ঘোর ছিল মেয়ে সংক্রান্ত! সমবয়সী যেকোন মেয়ে দেখলেই তাকে 'প্রেমোপযোগী' ভেবে নেওয়াটা আমাদের ব্যামোয় পরিনত হয়! এই ব্যামোর একটাই লক্ষণ - অতি দ্রুত মস্তিষ্কের 'খারাপ লাগা'-ব্যবস্থা ধ্বসে পরে; সবকিছু মাত্রাতিরিক্ত ভাল লাগতে শুরু করে। বয়েজ-স্কুলে পড়ালেখা করলেও সপ্তম শ্রেণী থেকেই হাসান আর সামিরার নির্লজ্জ লীলাকীর্তন পড়ে পড়ে বড় হয়েছি। হাসান বেহায়া'টা নিউ-ইয়র্ক থেকে নুডুলসের বর্ণনা দিয়ে কেন সামিরাকেই চিঠি দিয়েছিল সেই প্রশ্ন কচি বয়সেই মাথাটা নষ্ট করে দেয়। তবে যেকারণেই হোক, মেয়েজাতির বিষয়ে সেই সময় একপ্রকারের দূর্বলতা মনে দানা বাঁধে। কোন মেয়ে পেছন থেকে একটু 'সাইড' দিতে বললেও উত্তেজনার কারণে মনে হত সাইড নয়, প্রেমপত্র চাইছে! মনের এইরকম "নোঙ্গর তোল তোল" অবস্থার সাথে সঙ্গতি রাখতেই পোশাক-আশাক, চালচলনসহ সবকিছুতেই একটা অতি সচেতনতার ভাব চলে এসেছিল।

এস.এস.সি পরীক্ষার আগে বন্ধুদের দেখাদেখি ভর্তি হই ধানমন্ডির 'মিশাও' কোচিং সেন্টারে। তখন সেই কোচিং সেন্টারের রাজধানী-জোড়া খ্যাতি। তবে খ্যাতির চাইতেও বড় কথা সেখানে ছেলেমেয়েতে একসাথে পড়াশুনা করে!! প্রথম দিন ক্লাসে ঢুকেই সে বিষয়ে নিশ্চিত হলাম - অবশ্য আদম-হাওয়ার এই মিলন মেলা দেখে আনন্দিত হবার পাশাপাশি খানিকটা ভীতও হলাম! কারণ, শুধু ছেলে হলে যেনতেন ভাবেই চলে আসা যেত; মেয়ে থাকাতে সেটা আর হবে না। ফিটফাট হয়ে আসতে হবে। চিন্তার বিষয় হল - এখানে সাধারণত স্কুল থেকে সরাসরি আসা হবে; সারাদিন ক্লাসের পরে ঐ সময় চেহারা হয়ে থাকে কারেন্টের তারে ছ্যাঁকা খাওয়া দাঁড়কাকের মতন। তদুপরি গায়ে থাকবে সাদা শার্ট আর নীল প্যান্ট; মাঞ্জা মারার তো কোন সুযোগই নাই!!

কি আর করা! স্কুল ড্রেসের ওপরেই যতরকমের কাষ্টোমাইজেশন[১] আরোপ করা সম্ভব সেটার ব্যাপারে ক্লাস শেষে বন্ধু হেলালের সাথে নিবিড় আলোচনা করলাম। নিজেকে অন্যদের চাইতে আলাদা করার সবচাইতে সহজ এবং কার্যকরি উপায় হল চুলের মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করা - ফুটবলের মাঠ থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রাঙ্গন পর্যন্ত এই কথা সত্য। সিনেমাতে দেখতাম, নায়কের মাথায় ক্যাকটাসের মতন শক্ত একরকম পরচুলা থাকে। গানের দৃশ্যে যখন ফ্যান দিয়ে সাইক্লোন তৈরি করা হয় তখন কাপড়-চোপড় উড়ে গেলেও এই চুল নির্বিকারভাবে মাথা কামড়ে পরে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরচুলার রঙ জামা-কাপড়ের সাথে ম্যাচিং হয়; জামা বেগুনী বা হলুদের মতন চ্যালেঞ্জিং[২] রঙের হলেও ম্যাচিং এর বিষয়টা সচরাচর উপেক্ষিত হয় না! অন্যদিকে নায়িকার মাথায় পরচুলা না থাকলেও চুল এমনভাবে সেট করা হয় যে মনে হবে, খানিক আগেই নায়িকা পাটের দড়ি মনে করে কারেন্টের তারে হাত দিয়েছিলেন! এই বিশেষ ট্রিটমেন্ট[৩] নায়িকার শরীরের দৃশ্যমান অন্যান্য কেশব অঞ্চলেও প্রয়োগ করা হয়, ফলে চোখের পাপড়ি, ভ্রূঁ সবকিছুর মধ্যেই এই খিঁচিয়ে থাকা ভাবটা লক্ষ্য করা যায়।

যাহোক, ঢালিউডের মতন লাগামছাড়া ভাবে না হলেও আমরা নিজেদেরকে এবং স্কুলের পোষাককে অনেকটাই ঢেলে সাজালাম। হিন্দি ছবি-র নায়ক রাহুলের মতন চুল কাটালাম, কিন্তু চেহারায় তার সাথে কোন মিল না থাকায় আমাকে দেখে মনে হচ্ছিল, চুল কাটার মাঝখানে জরুরী ফোন পেয়ে উঠে চলে এসেছি! চুল পুরাপুরি কাটা হলে এরকম দেখাবার কথা না! তবে এতে হতোদ্যম না হয়ে বঙ্গবাজার থেকে বিশেষ কাটিং এর নীল প্যান্ট কিনলাম। প্যান্টের 'পায়ার ফোল্ডিং ভিতরে না বাইরে হবে', 'টিকেন হবে, নাকি হবে না', 'পকেট ক্রস হবে, নাকি ভার্টিকেল' ইত্যাদি নানাবিধ প্যারামিটার সঠিকভাবে মিলিয়ে সেই প্যান্ট কেনা হলো। সাথে সাদা শার্ট। শার্টেও লাগল বিবর্তনের ছোঁয়া - সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন যা একই সাথে স্কুলের পি.টি. টিচারের শ্যোন দৃষ্টি এড়াতে, অথচ মেয়েদের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়!

কিন্তু চুল আর পোষাকের এইসব সূক্ষ্ম পরিবর্তনে একসময় আমরা নিজেরাই বিরক্ত হয়ে গেলাম, রোজ রোজ একই পোষাক পরে কোচিং যাওয়া আর ভাল্লাগছিল না। “এ দিল মাঙ্গে মোর” – সুতরাং, আমরা বাড়তি এক্সেসরিজের দিকে নজর দিলাম। বলাকা হলের সামনে ধাতুর চুড়ি, রুদ্রাক্ষের মালা ইত্যাদি পাওয়া যেত। সেখান থেকে আমি আর হেলাল একটা করে অষ্টধাতুর চুড়ি কিনলাম। চুড়ি কিনে ফেরার পথে চোখ পরল রাস্তার পাশে ফুটপাতে; এক ব্যাটা ছোট্ট একটা ব্রিফকেইসের মধ্যে বিভিন্ন রং আর ডিজাইনের সানগ্লাস সাজিয়ে বসে ছিল। আমি আর হেলাল দুজনেই উল্লসিত হয়ে উঠলাম – ইয়েস্ ! পাওয়া গেছে আসল জিনিস! আমার পকেটে মেরে কেটে ২০ টাকা আর হেলালের ৩০ এর মতন হবে। উপরন্তু আজকে হেলালের 'স্কুল–টু-কোচিং' রিকশা ভাড়া দেবার কথা। রিকশা ভাড়া ঠিক করা হয়েছে আট টাকা। অর্থাৎ হেলালের কাছে (জাঙ্গিয়ার ভিতরে লুকানো সিকিউরিটি মানিটুকু বাদ দিলে) আছে সর্বসাকূল্যে ২২ টাকা। তথাপি, ব্যাটাকে শুধালাম দাম কত? ব্যাটা আগে থেকেই আমাদের ক্রেতা হিসেবে অপছন্দ করে বসে আছে। সুতরাং অত্যন্ত বেজার মুখ করে বলল, '২০০ টাকা, একদাম'। কচলাকচলিতে হেলালের দক্ষতা সর্বজনবিদিত; যথেষ্ঠ সুযোগ থাকলে ও স্কুলের বেতন নিয়েও দরদাম করত! স্বভাবতই পরবর্তী ৫ মিনিটে জিনিসটার দাম ২০০ থেকে নেমে ৪০ আর ৪৫ এর মধ্যে ঝুলতে লাগল - হেলাল কোনভাবেই ৪০ এর বেশি দেবে না, দোকানিও ৪৫ এর নিচে নামতে পারবে না। অবশেষে হেলাল বোঝাল যে, "পকেট ঝেড়ে দিলেও ৪২ টাকার বেশি দেওয়া সম্ভব না, দরকার হলে চশমার একটা কাঁচ খুলে রাখুক"! এই কথার পরে দোকানি বলার মতন আর কিছু পেল না - আমার ২০ আর হেলালের ২২ টাকা মিলিয়ে কেনা হলো জীবনের প্রথম সানগ্লাস!

রিকশায় উঠে হেলাল ব্যাখ্যা করল যে, সানগ্লাসটা যেহেতু শেয়ারে কেনা, সেটা পড়তেও হবে শেয়ারে। ও ২ টাকা বেশী (!!) দিয়েছে, সুতরাং ওই সিদ্ধান্ত দিল, নিউ মার্কেট থেকে সিটি কলেজ পর্যন্ত চশমা আমি পরবো আর বাকি পথটা, অর্থাৎ সিটি কলেজ থেকে মিশাও কোচিং পর্যন্ত হেলাল পরবে। আমাকে বোঝাল - সিটি কলেজে এখুনি ছুটি হবে, মেয়েরা বেরুবে, সুতরাং টাঙ্কি মারার একটা বিরাট সুযোগ আমি নিতে পারি। বেশ বুঝলাম যে, কলেজের সিনিয়র মেয়েদের আমার ঘাড়ে গছিয়ে দিয়ে কোচিং এর মূল সুযোগটা হেলাল হস্তগত করতে চাইছে।

যাহোক, সিটি কলেজটাও যেন মিস না করি সেই লক্ষ্যে দ্রুত চশমা নিয়ে নিলাম হেলালের কাছ থেকে। চোখে দিয়ে শোয়ার্জনিগারের মতন দাঁতে দাঁত চেপে, চোয়াল ফুলিয়ে তাকালাম সামনের দিকে। ওয়েস্টার্ন সিনেমায় কাউবয়েরা ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের পিঠে চড়ে একরকমের 'মুই কি হনুরে'-খেলা খেলে - ষাঁড় ফেলে দিতে চাইবে, কিন্তু আরোহীকে 'অসুবিধা হচ্ছে না' চেহারা বানিয়ে বসে থাকতে হবে। চশমা চোখে দেওয়ার পরে মনে হল, আমাকে জোর করে ঐরকম ষাঁড়ের পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হয়েছে! চশমার এপাশে আমি ঠিক থাকলেও ওপাশে রীতিমতন লঙ্কাকান্ড! তখন ব্যাটার সামনে ট্রায়াল দেবার সময় বুঝিনাই - চশমার কাঁচজোড়া মসৃণ নয়, কেমন ঢেউ ঢেউ - ছোটবেলায় একরকমের কার্টুনওয়ালা স্কেল পাওয়া যেত, স্কেল এদিক সেদিক কাত করলেই কার্টুনের ভাবভঙ্গী বদলে যায়! এই চশমা পরে আমারও একই দশা হল - শ্বাস পর্যন্ত নেবার জো নেই, চুল পরিমাণ নড়লেই সামনের দৃশ্য বদলে যাচ্ছিল! চশমার ভেতর দিয়ে যার দিকেই তাকাই, মনে হয় অম্বলের ব্যথায় মোচড়াচ্ছে! সিটি কলেজ পার হবার সময় মেয়ে দেখবো কি, চোখের সামনে তখন নজরুলের "জলতরঙ্গ ঝিলিমিলি ঝিলিমিলি ঢেউ তুলে সে যায়" গানের মিউজিক ভিডিও চলছে! অবশ্য একটু পরেই হেলাল টুক করে আমার চোখ থেকে চশমাটা খুলে নিল - “টাইম’স আপ্”। আমিও বাধা দিলাম না কারণ, চশমা খোলা মাত্র মাথার যন্ত্রনাটা কমে গিয়ে গভীর একরকম শান্তি অনুভব করছিলাম! চোখে দেবার পরে ওর কি অনুভূতি হয় সেটা দেখার অপেক্ষা করতে লাগলাম।

- ঐ শালা! এইটা কি রে!
- ক্যান কি হইছে?!
- দুনিয়া তো (টুট্) ঘোরে!!
- হু। একটু মাথা ঘুরায়! পাওয়ার আছে মনে হয়!
- পাওয়ার না (টুট্)! চশমার এইগুলা তো কাঁচ না … !!
- তাই নাকি?!! - দ্যাখ ব্যাটা, প্লাস্টিক!!!

আমি দেখলাম, ঘটনা সত্য। চশমার কাঁচের জায়গাগুলো দেখতে কাঁচের মতন হলেও আদতে প্লাস্টিকের। কোণায় ইংরেজীতে 'RayBon(!)' লেখা। হেলালকে শেষ পর্যন্ত চশমা চোখে না দিয়ে শুধু পকেটে রেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল; অবশ্য একটা ডাঁটি বের করে রাখতে সে ভোলে নাই, এতে অন্তত বোঝা যাচ্ছিল যে, পকেটে একটা সানগ্লাস আছে!

যাহোক, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এইরকমের দুই একটা অভিজ্ঞতা আমাদের ফ্যাশন প্রীতিকে মোটেই আটকে রাখতে পারে নাই। বাজারে যখন যেটার চল এসেছে, মানাক না মানাক, আমরা সেইটার ওপরেই ঝাঁপিয়ে পরতাম। একবার প্যান্টের চেয়ে বেশী ওজনের বেল্টের চল এল। বেল্ট দেখলেই যে কেউ বুঝবে এইগুলা সর্বসাধারণের বেল্ট নয়, সম্ভবতঃ কুস্তি খেলোয়াড়দের জন্য। মাইক টাইসন কুস্তিতে 'খেতাব' জিতলে তাঁর কোমরেও অনেকটা একই রকম বেল্ট পরাতে দেখেছি। কিন্তু সেই বেল্ট কেনার জন্যই পাগলপারা হয়ে এলিফ্যান্ট রোডে ছুটতাম! বেল্টের মূল ওজনের জায়গাটা ছিল বকলেস। সেখানে ঢালাই লোহার তৈরি মোটর সাইকেল, মরা মানুষের খুলি, গানস এন্ড রোজেস- ইত্যাদি মোটিফ বসানো থাকত। এই বেল্টের সাথে মানানসই জুতাও চলে আসে একই সময়। তিন ইঞ্চি উঁচু সেই ওয়েস্টার্ন খড়ম পরে হাঁটার সময় মনে হত পায়ের নিচে শবে-বরাতের পটকা ফুটছে! এহেন বেল্ট আর জুতোর সাথে রঙচটা, ফুটাফাটা বিশিষ্ট বেলবটম প্যান্টও পাওয়া যেত বঙ্গবাজারে। টাকা দিয়ে ছেঁড়া প্যান্ট কেন কিনতে হবে বাবার সাথে সেই নিয়ে প্রচুর বাকবিতন্ডা হয়েছে। বাসে ভিড়ের মধ্যে ইস্ত্রী করা শার্টে কেউ হেলান দিলে তেঁতে উঠেছি, অথচ একটা সময় একই রকমের দুমড়ানো মোচড়ানো শার্ট বাজার থেকে পয়সা দিয়ে কিনেছি! ধোয়ার পরে আবার সোজা হয়ে যাবে কি না, সেই আশঙ্কার কথা দোকানিকে বারবার জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়ে নিয়েছি!

মরা ছেলেরা যখন কাপড়-চোপর আর এক্সেসরিজের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মেটানোয় ব্যস্ত তখন লক্ষ্য করেছি, ছেলেদের মতন মেয়েদের ফ্যাশন কখনই শুধু কাপড়চোপড় নির্ভর ছিল না, সাজগোজ বা মেকআপ সেটার একটা বড় অংশ হয়ে থেকেছে সবসময়। এই সাজগোজ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল নিজের চেহারাকে পাল্টে অন্য একটা চেহারা দাঁড় করান। বিষয়টা খুবই বিভ্রান্তিকর! উদাহরণ দেই - একটা বিশেষ ধরনের সাজ দিলে দেখেছি, যেকোন মেয়েকেই আমার কাছে ‘বেবী নাজনীন’ বলে মনে হয়! এটা আমার ব্যক্তিগত সমস্যা হতে পারে ভেবে স্ত্রীকেও জিজ্ঞেস করেছি। তবে সেও স্বীকার করেছে ঘটনা প্রায় সত্যি! সেদিন টিভির একটা টকশো'তে 'চাঁদনী' নামের এক অভিনেত্রীকে আমি বেবী নাজনীন বলে ভুল করলাম। এর আগে সম্ভবতঃ 'রুমানা' নাম্নী আরেক মহিলাকে বেবী নাজনীন বলে গুলিয়ে ফেলেছিলাম। আমার স্ত্রী ভুলটা ধরিয়ে না দিলে আমি হয়তো আদৌ বুঝতাম না যে, কেন বেবী নাজনীনকে কখনও 'অভিনেত্রী' আবার কখনও 'মডেল' হিসেবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে! তবে এই অসাধারণ ঘটনার কারণটা খুবই সাধারণ - বিউটি পার্লারগুলোতে কিছু 'অবিমৃশ্যকারী' সাজগোজ আছে। এই সাজগুলোর কাজই হচ্ছে চেহারায় একটা 'নির্দিষ্ট ভাব' ফুটিয়ে তোলা! আমার ছোট খালা 'সাজঘর[৪]' নামক একটা পার্লারে সাজুগুজু শেখার কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন - কোর্সের শিক্ষিকা বিউটিশিয়ান 'দিলারা আপা[৫]'। কোর্স সফলভাবে সমাপ্ত হবার পর থেকে খালা নিজে যখনই সাজতেন বা কাউকে সাজিয়ে দিতেন, তাদের সকলের চেহারা হতো 'দিলারা আপা'র মতন। মহিলা নিজে যেভাবে সাজতেন, বাকিদেরও সেইভাবে সাজতে শেখাতেন, সুতরাং এই একীভূতকরণের কোন বিকল্প ছিল না। অতীতে পার্লারগুলোর এই অসামান্য ক্ষমতা ছিল না। দিনে দিনে হয়েছে। এরা আরো উন্নত হলে, সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে মেয়েদেরকে ভোটার আইডি গলায় ঝুলিয়ে আসতে হবে!

পোষাক আশাকের বিষয়ে খুঁতখুঁত আমার এখনও আছে। সবসময় চলতি ফ্যাশনের সাথে খুব একটা খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করি না। নিজের মত করে একটা কিছু দাঁড় করাই। তবে এই দাঁড় করানোর বিষয়টা আজকাল দেশে ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলেই মনে হয়। দেশের ফ্যাশন হাউজগুলো পোষাকে বৈচিত্র আনতে গিয়ে আর কোন সীমারেখা মানছেন না। সেদিন এক নাটকে দেখলাম মোশাররফ করিম অদ্ভূত এক পোষাক পরেছেন - জিনিসটার নাম 'কাতুয়া' - কামিজ আর ফতুয়া মিলিয়ে তৈরি! এমনকি টকশোতেও একজন ডিজাইনারকে বলতে শুনলাম, ওনারা ব্লেজার, ফতুয়া আর পাঞ্জাবী মিলিয়ে নতুন কি একটা পোশাক বাজারজাত করতে যাচ্ছেন - সেটা নাকি ব্যপক আলোড়ন তুলবে! এই ডিজাইন মহা-পরিকল্পনায় 'পায়জামা'কে কেন বাদ দেওয়া হল সেটা বুঝলাম না, তাহলে তো আলাদা করে সেটা কেনার ঝামেলা পোহাতে হত না ক্রেতাকে! যাহোক, পোশাকে পোশাকে এরকম মিলমিশ করাটা যে নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা বোঝা যায় টিভি নাটক বা টকশো-তে পাত্রপাত্রীদের দেখেই। কিছু পোশাক সুকুমারের হাঁস আর সজারু মিলিয়ে হাঁসজারু তৈরির মতই রসালো এবং চিন্তা উদ্দীপক (?!)।

টিকা:
১, ২ এবং ৩ - যথার্থ ইংরেজী শব্দ খুঁজছি।
৪ এবং ৫ - ছদ্মনাম ব্যবহৃত হয়েছে।


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

পরে মন্তব্য করছি, দাঁড়ান।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাহহাহাহা.....ঠিক আছে কইরেন! এখন ঘুমামু, রাত জেগে এইসব লিখালেখি করলে আমার ক্ষুধা পায়।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

প্রথম প্যারার শেষ লাইন পড়েই হাসতে আছি। কিন্তু আপনি তো আমার প্রথম কমেন্টটা আর বাড়াতে দিলেননা। মন্তব্যে জবাব দিলে তো কিছু যোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

সরি ভাইজান হাসি

রেনেট এর ছবি

গুল্লি গুল্লি গুল্লি গুল্লি গুল্লি গুল্লি
---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

দ্রোহী এর ছবি

হা হা হা!

আপনার এই লেখা সকাল বেলার চায়ের মতো। শরীর ও মন চনমনে করতে এর জুড়ি নেই।

স্বপ্নহারা এর ছবি

হা হা হা হা হা...বস, এত্ত কম লেখেন কেন?
অনেক স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন...'ক্লাস নাইন রোগ' হলে স্কুলের স্যাররা বিশেষ যত্ন-আত্তি করতেন...আপ্নে মনে হয় চিপা জিন্সের আগের ব্যাচ্‌...দেঁতো হাসি
অনেক অনেক ধন্যবাদ...অনুরোধ, নিয়মিত লেখেন...মিস করি...

-------------------------------------------------------------
স্বপ্ন দিয়ে জীবন গড়া, কেড়ে নিলে যাব মারা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আমি বেলবটম ব্যাচ, সেটা চিপা'র আগে না পরে, সেটা কইতে পারি না হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

সেই সময়টা আসলেই ফানি ছিলো । এখন যেমন ডিজুষদের নানান কিসিমের কাটিং দিতে দেখি -- আসলে একেক যুগের একেক ভাও ।
সেই আমলে মেকআপ মেখে মান্জা মেরে ছাদে উঠাটা একটা ফ্যাশন ছিলো মনে পড়ছে -- ছাদে তো না --কোথায় বেড়াতে যাচ্ছে এমন ভাব ছিলো ।

হাসতেই আছি -- লেখাটা চরম হৈসে ।

--
ইমতিয়াজ মির্জা ।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

লুঙ্গি নিয়ে কত যে দুঃসহ স্মৃতি... সেগুলো নাহয় পরে বলে যাবো। খাইছে

তিথীডোর এর ছবি

লাফিং গ্যাসের অলটারনেটিভ...
হুঁ হুঁ বাবা, না হেসে যাবে কোথায়!!

--------------------------------------------------
"সুন্দরের হাত থেকে ভিক্ষা নিতে বসেছে হৃদয়/
নদীতীরে, বৃক্ষমূলে, হেমন্তের পাতাঝরা ঘাসে..."

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সাইফ তাহসিন এর ছবি

গুরু গুরু
আপনার লেখা পড়তে গেলে আমার পেটে এমন ব্যাথা হয় যে কি বলব, ভাগ্যিস আপনে ঘনঘন লিখেন না, নাহলে পেটের ব্যাথায় হাসপাতালে যেতে হত। লুঙ্গি দেখেই আমার বিষম খাবার অবস্থা হয়েছিল, আমি ৪ ধাপে গিট্টু দিয়ে লুঙ্গি পড়তাম, সকালে উঠে তারপরেও দেখতাম তা হয় আমার মাথায় নাহলে মাটিতে পরে আছে। কাজেই বাধ্য হয়ে কাঁথা গায়ে দেওয়ার অভ্যাস করলাম, অন্তত কাঁথার নিচে লুঙ্গি থাকলেই কি, না থাকলেই কি হাসি.

লক্ষ করেছেন কিনা জানি না, ঢাকায় এখন জোড়াতালি ছাড়া, উদ্ভট স্থানে পকেট ছাড়া কোন সার্ট পাওয়া যায় না, তারপরে আবার তা হয় আকারে খুব আঁটোসাঁটো, নাহলে চরম ঢিলেঢালা। খুবই উদ্ভট।

আপনার সানগ্লাসের কথা শুনে আমার পুরানো আফসোস আবার মরি হায় হায় করে কেঁদে উঠল, আমার চশমা পড়তে হত বলে কখনো সানগ্লাস পড়তে পারতাম না, চশমা খুললে আমি প্রায় কানা কিনা হাসি.

পেটের ব্যাথা ৩ দিনে ভালো হয়ে যাবে, আশাকরি এর মাঝে আপনে আরেক পাতা বিষ্ফোরক লেখা নিয়ে হাজির হয়ে যাবেন। লুদমিলা মামণির জন্যে অনেক ভালোবাসা দিয়ে আজকের মত বিদায় হই।
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আপনার মন্তব্যের স্বাস্থ্য হঠাত এরকম ভালো হয়ে উঠল কেমনে?!!

যাহোক, মন্তব্য পড়ে হাসছি, হাসছি আর হাসছি দেঁতো হাসি
ভালো থাকুন।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

গুরু, আগেরবার লেখা পড়েছি জানান দিতে কমেন্ট দিয়ে ফুট মেরেছিলাম, পরে এসে আসল কমেন্ট ঝেড়েছি
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

আলমগীর এর ছবি

পুরা গুল্লি।
আমরা যখন হাইস্কুলে ছিলাম, ২২টি পকেট সমেত জিন্স/কডের প্যান্ট চলে আসে। প্রতিটা প্রকেটের উপর আবার মোটা জিপার থাকা আবশ্যক। আরো একটা কাজ করত প্রেমগ্রাহী কয়েকটা পোলা, হাফ-হাতা শার্টের হাতা আরো দুইটা বাড়তি ভাঁজ দিয়ে কমিয়ে রাখত যাতে বগল দেখা যায়। কারণ কী ছিল আল্লা মালুম।

লুঙ্গি নিয়ে আরেকটা কথা কই। ছোটবেলায় হুজুরের কাছে পড়তে গেলে কইত লু্ঙ্গি হাঁটুর উপরে তোলা যাবে না, অজু ছুটে যাবে, কারণ শয়তান ছতর দেখে ফেলবে। এই ভাবনায় প্রতিবার লুঙ্গি গিট দেয়ার আগে ঝাড়া দেয়ার সময় মনে হইত, শয়তানটা আমার মাথার ঠিক উপরে না থাকলেই হয় দেঁতো হাসি

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাহাহাহাহাহা....জব্বর!!!

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের কাজ কর্ম ফালায় পড়া শেষ করলাম। এখন ফ্রেশ ফ্রেশ লাগতেছে দেঁতো হাসি
পুরা গুল্লি হইছে!!! হাসতে হাসতে শেষ আমি!!

---------------------
আমার ফ্লিকার

অনিকেত এর ছবি

আরে আরেফীন ভাই
এইভাবে বিনা নোটিশে মেরে ফেললেন ভাই?
আমি গোবেচারার মত লেখা পড়তে শুরু করেই বুঝলাম বিপদ।
কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে

হে হে হে ,ফ্যাঁ ফ্যাঁ ফ্যাঁ, খিক খিক ইত্যাদি নানান জাতীয় হাসির লহরা শুরু হয়ে গেল। আপিসের লোকজন চমকে চমকে ঊঠছিল।

একসময় মনে হতে লাগল আজ মনে হয় হাসতে হাসতেই ভবলীলা সাঙ্গ হবে।
যাক কোন মতে প্রাণ হাতে নিয়ে শেষ করেছি।

এইভাবে আমার জীবনের উপর খতরনাক 'আক্যুমন' করার তেব্র পেতিবাদ ও দিক্কার----

পরের বার এমুন লেখা দিলে আগে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দিবেনঃ"এই লেখা পড়িলে লুঙ্গি খুলিয়া যাইতে পারে, শার্টের বোতাম আলগা হইয়া যাইতে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে বিষম খাইয়া প্রাণ সংহার হইতে পারে। অতএব সাধু সাবধান!'

অনেক শুভেচ্ছা রইল

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাহাহাহা...অনেক আনন্দ পেলাম মন্তব্যে হাসি

এরপর থেকে মনে হয় সতর্কীকরণ দিতেই হবে, কেউ স্যু করে ফেললে পরে সমস্যায় পরব ইয়ে, মানে...

বর্ষা এর ছবি

জটিল!!!
********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

ভূঁতের বাচ্চা এর ছবি

চ্রম মজার হইসে আরেফীন ভাই।
আমিও লুঙ্গি পড়িনা দু'টো কারণে।
এক- আপনার মতন আমারো মনেহয় যে উলঙ্গ হয়ে ঘুরতেসি
আর
দুই- আমি যতই গিট্টু টাইট করে দেইনা কেন আমার মনে হতে থাকে... এই রে খুলে গেল বুঝি ...
এমন মজার লেখা আরো চাই।
--------------------------------------------------------

--------------------------------------------------------

অতিথি লেখক এর ছবি

মজা পেলাম দারুণ...‘বেবী নাজনীন’ সমস্যাটা আমারো আছে...যাক দেখা গেল আমিই একমাত্র নই।

### তাসনীম ###

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

ফাইন্যালী .... !!! আমিও জানতাম এরকম সমস্যায় কেবল আমিউ পরি না, আপনি প্রমান দিলেন!! থ্যাঙ্ক্যু হাসি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

লেখা পড়ে হাসাহাসি করছিলাম, বউ বলল ঘটনা কি?
বউকে গিয়ে বললাম, "প্রথম ম্যারিজ অ্যানিভার্সারির সময় তোমাকে পার্লার থেকে সেজে আসাে পর তোমাকে বেবী নাজনীন‌ ‌ বলেছিলাম না; এবার দেখ আমি ছাড়াও মানুষের বেবী নাজনীন‌ ‌ সমস্যা আছে " (২০১১ সালের ঘটনা)

এই সমস্যায় আমরা কেউই একা না হো হো হো
হয়ত রাহুল কাটের মত বেবী নাজনীন‌ ‌ মেকাপ বলেও একটা জিনিস আছে মনে হয় চোখ টিপি

মামুন হক এর ছবি

বস আমার দিনের শুরুটাই ঝলমলে করে দিলেন।
লুঙ্গি আমি কোনকালেই পড়া শিখতে পারি নাই। তবে হাল ফ্যাশনের ছেঁড়া-ফাড়া , বাহাত্তর পকেটের প্যান্ট, ঝুনঝুলি ওয়ালা বুট সবই চলছে এক কালে।
আহা কী সব সোনার দিন ছিল !

নিবিড় এর ছবি

সকালটা ভাল করে দেওয়ার জন্য এমন একটা লেখাই যথেষ্ঠ আরেফীন ভাই চলুক


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

মুস্তাফিজ এর ছবি

খুবই চমৎকার হইছে।
আহ্‌ ঐটা একটা বয়স।

...........................
Every Picture Tells a Story

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

রেনেট ভাইয়ের মন্তব্য কপি মার্লাম...
বস- আপনে একটা পনির...

হেলাল ভাই আর আপ্নের মেয়েমেশা বিষয়ক মিশাও কোচিং এর বর্ণনা শুনতে মঞ্চায়...

_________________________________________

সেরিওজা

অবাঞ্ছিত এর ছবি

পরের বার এমুন লেখা দিলে আগে সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দিবেনঃ"এই লেখা পড়িলে লুঙ্গি খুলিয়া যাইতে পারে, শার্টের বোতাম আলগা হইয়া যাইতে পারে, ক্ষেত্র বিশেষে বিষম খাইয়া প্রাণ সংহার হইতে পারে। অতএব সাধু সাবধান!'

একমত!

হাসতে হাসতে মারা গেলাম.... পুরাই গুল্লি ঠাশ!

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

তুমি মিয়া মানুষ না, পুরাই লুৎফুল আরেফীন। এত কম লিখ ক্যান?
দারুণ হইছে!!
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

হিমু এর ছবি
নৈষাদ এর ছবি

চমৎকার লাগল।

মনে আছে স্কুলের শেষ দিকে অথবা কলেজে পড়ার সময় ডন জনসনের প্রভাবে (মায়ামী ভাইস খ্যাত) ঢোলা প্যান্টের প্রচলন হয়েছিল। মুখরা এক কিশোরীর কাছে এক উৎসাহী বড় ভাইয়ের অপদস্থ হওয়ার (আল্লাহ্‌!… আপনি প্যান্ট পরে এসেছেন, আমি তো মনে করেছি প্যান্টের পিস পরে চলে এসেছেন… হিহিহি…) পর অবশ্য আমাদের ইন্টারেস্ট চলে গেছল।
যে জায়গায় বড় হয়ে উঠেছি তার প্রভাবে লুঙ্গি পড়া হয়ে উঠেনি। এই অপরাধে ছাত্র জীবনে বিশাল এক অপবাদ শুনতে হয়েছিল – বাংগালীর হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে টানাটানি করে ……

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাহাহাহাহাহা..এবারে আমার অজ্ঞান হবার পালা ভাই!

সেরা মন্তব্য! ৫ তারা আপনাকে হাসি

ওসিরিস এর ছবি

অতীতে পার্লারগুলোর এই অসামান্য ক্ষমতা ছিল না। দিনে দিনে হয়েছে। এরা আরো উন্নত হলে, সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে মেয়েদেরকে ভোটার আইডি গলায় ঝুলিয়ে আসতে হবে!

হোঃ হোঃ হোঃ......
***********************************************
সিগনেচার কই??? আমি ভাই শিক্ষিৎ নই। চলবে টিপসই???

মৃত্তিকা এর ছবি

ভয়ংকর মজা পেলাম! হাসতে হাসতে শেষ!
গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ওডিন এর ছবি

অতীতে পার্লারগুলোর এই অসামান্য ক্ষমতা ছিল না। দিনে দিনে হয়েছে।

হ!

বন্ধুর বিয়েতে গেছি। বন্ধুপত্নীর সাথে পরিচয় আর কথাবার্তাও হয়েছে। কয়েকদিনপরে বন্ধুকে দেখি আইডিবিতে ল্যাপটপ দরাদরি করছে। আমি গিয়ে বললাম- কিরে, এইখানে ঘুরতেছিস ক্যান, তুই না কইলি তুই নাকি শ্বশুরবাড়ী থেকে ম্যাকবুক নিবি? একটা ৬৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাইও লগে নিয়া ফেল- কবি যে ম্যাকে একটু বেশি পাওয়ার খায়। সেইটা নাহয় আমারে দিস।
- তার পাশে যে একজন ছিলো তাকে আমি চিনতেই পারি নাই। খাইছে
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাসি

আপনি তো পরের বউরে চিনেন নাই, আমি তো আমার নিজের বউরেই চিনতাম পারি নাই .... হাহাহাহাহাহাহা....সে আরেক কাহিনী, পরে হবে।

পাঠক [অতিথি] এর ছবি

দুপুরে জম্পেশ করে মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে বেশ একটা ঝিমুনি এসে গেছিল, ঝিমাতে ঝিমাতেই ভাবলাম ২-১টা লেখা পড়লে ঘুমটা আরো ভাল হবে, ভুল করে আপনার লেখায় ঢুকে পড়ে সর্বনাশ হয়ে গেছে। মন খারাপ হাসতে হাসতে ঘুম যে গেছে, সেটার মাশুল গুণতে হবে সন্ধ্যাবেলায় ঝিমিয়ে, জরিমানাটা আপনার কাছ থেকেই আদায় করবো কিনা ভাবছি।

"আমি লুঙ্গি পরি না। কারণ, লুঙ্গি পরে কখনই আমার 'কাপড়-চোপর পরার' - আত্মবিশ্বাস হয় না।" ---- সমস্যাটা আমার নিজেরও। মন খারাপ হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে কেন যেন কখনোই নিজের মাঝে ধারণ করতে পারলাম না।

সবাইকে "বেবী নাজনীন" ধরণের সমস্যাটা আমার লাগে বিয়ের কনে দেখলে, বিয়ের কনে যেখানেই দেখি, সবক'টাকেই আমার একরকম লাগে, পরে যদি কখনো সেই কনেকে দেখি কোথাও, কখনো চিনতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না। আরেক ঝামেলা হলো ইদানিংকার কালো ফ্রেমের আয়তক্ষেত্রের মত বিচিত্র ধরণের চশমা আর স্ট্রেইট ইস্ত্রি করা চুল, সেজন্য আজকাল বেশিরভাগ মেয়েকেই একরকম লাগা শুরু হয়েছে। ফ্যাশন আসলেই বিশাল সমস্যা।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

কথা খুউব ঠিক। শতভাগ সহমত হাসি

রেশনুভা এর ছবি

ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৪ ওভারে ৪ উইকেট নাই। ভাগ্যিস একই সাথে আপনার লেখাটাও পড়ছিলাম। তাই মনটা অত খারাপ হল না। চ্রম লেখা হইছে।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

প্রিয় সচল, আধা-/এবং অতিথি সচল ভাই ও বোনেরা,

সবাইকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ। আপনারা যারা জানেন এবং যারা জানেন না, আমার একটি কণ্যা হয়েছে, তাকে নিয়ে ব্যস্ততার বৃদ্ধি ঘটায় সবার মেসেজের নির্দিষ্ট করে উত্তর দিলাম না, তবে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং "হ্যাপি নিউ ইয়ার!!"

ভাল থাকুন।

নাশতারান এর ছবি

লেখার জন্য গুল্লি

"বেবী নাজনীন" সমস্যাটার সাম্প্রতিক নাম "ফারজানা শাকিল" সমস্যা। ভদ্রমহিলা সব মেয়েকে ছাঁচে ঢেলে সাজান। সবাইকে দেখতে একই রকম লাগে। কাউকেউ আলাদা করে চিনতে পারিনা।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

প্রবাসিনী এর ছবি

ঠিক...সবার চোপা ভাঙ্গা।
________________________________________________

হইয়া আমি দেশান্তরী, দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী রে

________________________________________________

হইয়া আমি দেশান্তরী, দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী রে

প্রবাসিনী এর ছবি

সারাদিন ক্লাসের পরে ঐ সময় চেহারা হয়ে থাকে কারেন্টের তারে ছ্যাঁকা খাওয়া দাঁড়কাকের মতন।

দেঁতো হাসি :D দেঁতো হাসি
________________________________________________

হইয়া আমি দেশান্তরী, দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী রে

________________________________________________

হইয়া আমি দেশান্তরী, দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী রে

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

লুৎফুল ভাই, এত হাসির বর্ণনার মধ্যেও আপনি কিন্তু একটা সময়কে তুলে এনেছেন। সে বিচারে এধরনের লেখার মূল্য অসীম। আজ থেকে ২০ বছর পরের কথা চিন্তা করেন, চোখ বন্ধ করে ভাবার চেষ্টা করেন, মনে হবে কী সুন্দরই না ছিল সে দিন গুলি।

আপনি আরো সুন্দর সুন্দর করে লিখুন সে কামনা করি। যতটা ভালো লেগেছে, মন্তব্যে ততটা প্রকাশ করতে আমি অপারগ।

স্পার্টাকাস এর ছবি

দুইতিন বছর আগে এমনকি এখনো মাঝে মাঝে ব্যাগি জিন্স পরিহিতদের রাস্তা থেকে কয়েন তুলতে দেখা যায়। অলিখিত নিয়ম- অইসব প্যান্টের ভিতরে আবার কিছু পরতে হয়না।

-------------------------------------------
জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছ পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবি হও।

জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছ পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবি হও।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হু ঐগুলার নাম আছে একটা - হাগা প্যান্ট। নামকরণের কৃতিত্বটা যে কার সেটা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না, তবে শানে-নযুলটা সহজ, যেই প্যান্ট দেখলে মনে হয় যে, হাগা ভেতরে কোথাও লটকে আছে, সেটাই হাগা প্যান্ট।

এইসব প্যান্ট দেখি যার যত কোমর তার চেয়ে ৫/৬ ইঞ্চি বাগিয়ে পরার একটা প্রবণতা আছে। ফলে প্যান্টের 'হাই' গিয়ে মাটির কাছে পরে থাকে। পেছনের পকেট (যার একেকটাতে ২/৩ কেজি করে চাল অনায়াসে এটে যাবে) গিয়ে ঝুলে থাকে হাঁটুর কাছাকাছি! এই জিনিসের আবিষ্কর্তা কি ভেবে এটা করেছিলেন কেউ বলতে পারেন?!

তুলিরেখা এর ছবি

মরে গেলাম, একেবারে হাসতে হাসতে মারা গেলাম।
আমাদের বার্মিজ অধ্যাপকমহাশয় বাড়ীতে লুঙ্গি পরেন, কোনো টুরে আমেরিকান ছাত্র নিয়ে গেছিলেন, সেখানে হোটেলে নাকি ঘরে লুঙ্গি পরেছেন, সে দেখে বেচারা আমেরিকান আতঙ্কিত হয়েছে! উনি ওকে ব্যাখা করে সব বুঝিয়ে বলেছেন বর্মায় সব ছেলেরা লুঙ্গি পরে, শুধু লুঙ্গিই পরে, আন্ডারগার্মেন্টস বিনা। ওকে নাকি কোন প্রোজেক্টে পাঠাবেন, সেখানে ওকে লুঙ্গি পরতে হবে, শুনে সে ছেলে প্রায় উল্টাদিকে দৌড় দেয় আরকি! হাসি
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আমি অবশ্য গতবার দেশ থেকে ফেরার পথে এয়ারপোর্টে অন্য দৃশ্য দেখেছি। তখন পহেলা বৈশাখ চলছিল। বিমান বন্দরেও দেখলাম পহেলা বৈশাখ বয়ে নিয়ে এসেছে কয়েকটা এমেরিক্যান যুবক। সবাই বাটিকের লুঙ্গী পরিহিত। ওদের চামড়া সাদা হওয়াতে দেখতে অতোটা ভয়ঙ্কর লাগছিল না। আমাদের দেশীদের যেখানে অভ্যেস হচ্ছে প্লেনে ওঠার আগে জীবনের সেরা এবং সবচাইতে জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকটি পড়ার (পারতপক্ষে স্যুট-কোট), সেখানে এই বিদেশীদের এমন বঙ্গীয় পোশাকে দেখতে খারাপ লাগছিল না।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

অতি সুন্দর ...
পড়ে খুব মজা পেলাম...হাসি

(জয়িতা)

রাহিন হায়দার এর ছবি

আয়ু বাড়িয়ে দিলেন ভায়া!

আমার যে বয়স তাতে ঘরদোরে থ্রি কোয়ার্টার বা পাজামা পরা স্বাভাবিক এবং তাই পরি। তবে লুঙ্গি পরার চেষ্টা করেছিলাম একবার। দিনে তাও সামলে রাখা গেছে, কিন্তু রাতে? পরদিন থেকে বাদ।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

গল্পটা আগে বলেছিলাম কিনা মনে নেই। প্রাসঙ্গিক, তাই আবার বলি।

এক জামাই গিয়েছিলেন শ্বশুর বাড়ি। শীতের সকাল, পিঠা বানানো হচ্ছে। বাইরে বসে সবাই রোদ পোহাচ্ছে। সামনেই একটা শিশু খেলছিল। জামাই তাকে খেলাচ্ছলে উপরে ছুঁড়ে মারছিল আর লুফে নিচ্ছিল। বাচ্চা খুশি, জামাই খুশি, শ্বশুরালয়ের বাকি সবাইও খুশি। হঠাৎ শ্যালক এসে হাজির। জামাই বাচ্চা উপরে ছুঁড়ে মারতেই শ্যালক বাবাজী লুঙ্গির গিট খুলে দিয়ে দৌঁড়। বাচ্চা বাতাসে, তাই লুঙ্গি ধরার সুযোগ হলো না বেচারা জামাইয়ের। বাকিটা বলতে হবে?

এটা সত্য ঘটনা। বেচারা শ্যালক তিন দিন বাড়ি ফেরেনি মার খাওয়ার ভয়ে। জামাই জীবনে আর কখনও লুঙ্গি পড়েননি।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি কোন জন??
জামাই নাকি শ্যালক?? চোখ টিপি ;) চোখ টিপি

- মুক্ত বয়ান।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

পুরাই কোপা সামসু টাইপ লেখা।

এই সাজ নিয়া মজার একটা ঘটনা গত ২ মাস আগেই ঘটে গেছে। বোনের বিয়া উপলক্ষে আমার বউ ধানমন্ডির এক স্বনামধন্য পার্লারে কইশা সাজা দিছে, সাথে ওর এক বান্ধবী নিয়া গেছিলো। আমি ঐখানে পৌছায়া ওর বান্ধবীরে খুব উত্তেজিত হয়া জিগাইলাম - ঐ আমার বউ কই??? পরে একজন আমার হাত ধইরা কইলো - 'এইযে আমি, চলো'। আমিতো পুরাই আৎকা খায়া গেলাম - এই মহিলা কেডা??? এবং আবিষ্কার করলাম যে ফারজানা আপা আমার বউরে ধইরা এক্কেরে বিরল প্রজাতীর সোনালী বান্দর বানায়া দিসে।

আমি আর আপনি মনে হয় একই ব্যাচের লুক। আমিও এলিফেন্ট রোড থিক্কা ২.৫Kg ওজনের এ্যাংকর বকলেস দেয়া একটা বেল্ট কিনছিলাম। তেজগাঁও কলেজে পড়ার সুবিধার্থে ঐ এ্যাংকর বকলেসটা টেম্পো ওয়ালা আর হেলপারগো হাতে পায়ে বেশ মোক্ষম আঘাত হানতে সক্ষম হইছিলো। আর বেল-বটমও ছিলো ৪-৫টা সাথে ঐ হিমালয় উচ্চতার 'রক বুট' । আহা, সেই দিন গুলি কই ?????

===============================================
রাজাকার ইস্যুতে
'মানবতা' মুছে ফেলো
টয়লেট টিস্যুতে
(আকতার আহমেদ)

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

হাহাহাহাা..হতে পারে আমরা একই ব্যাচের হাসি
আমার স্ত্রী ঐ মহিলার পারলারেই গিয়ে সেজেছিল বউভাতের দিন সন্ধ্যায়। আমাকে গোলাপী গ্লডিউলাস আনতে পাঠাল সাজানো শুরুর আগে। আমি বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনলাম ৮ পিস গোলাপি গ্লডিউলাস। ফিরে এসে পারসোনার ওয়েটিং রুমে মাথা ঘুড়িয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছি আমার বউকে। বুঝলাম সে এখানে নেই, এখনও সাজানোর সিরিয়ালই হয়তো পায় নাই। এইরকম আগামাথা ভাবনার মাঝখানেই দেখি একজন আমার দিকে হাত তুলে ইশারায় ডাকছে। তার দিকে খানিকখন সন্দেহের চোখে তাকানোর পরে বুঝলাম সমস্যা নাই, উনিই আমার স্ত্রী হাসি

এই হল ঘটনা!!

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

||ধন্যবাদ ২য় কিস্তি||

সবাইকে আরেকপ্রস্থ ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

দূর্দান্ত লেখা... মজা পাইলাম বহুত...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

মাইরি লিখেছেন দাদা। লিখতে থাকুন এভাবে।

তানবীরা এর ছবি

হাসতে হাসতে চোখে পানি

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমি লুঙ্গি পরি, বেশ ভালো ভাবেই পরি। মানে গিট্টুটা অন্তত ভালোভাবেই মারি। কারণ, এই লুঙ্গি পরেই কিচেনে গিয়ে মাল্টিকালচারাল পোলাপানের সাথে রান্নাবান্না খেলি। খুলে গেলে তো সমস্যা! তো যেটা হয় তা হলো গিট্টু সামলাতে গিয়ে নিচের দিকে "জল তরঙ্গে ঢেউ খেলিয়া যায়" অবস্থা।

প্রথম দিকে, যখন লুঙ্গি সবে পরতে শিখছি, তখন প্রায়ই যে সমস্যাটা হতো তা হলো রাতে লুঙ্গি পরে ঘুমালেও সকালে ঘুম ভেঙে সেই লুঙ্গির টিকিটিও খুঁজে পেতাম না। সেই লুঙ্গি পাওয়া যেতো খাটের নিচে মেঝেতে। আরেকটু বড় হয়ে শক্ত করে গিট্টু দিতে শেখার পর লুঙ্গির কাজ হতো আমার নিম্নভাগে বাতাসের সঞ্চালনে বাধা প্রদান না করে আমার শরীরের উপরিভাগে ছতর ঢাকা। ঘুম থেকে উঠে প্রায়ই আবিষ্কার করতাম লুঙ্গি আমাকে পর্দানশীল করে রেখেছে। নাক, মুখ, চোখ, বুক, পেট সব ঢাকা, কিন্তু যে জিনিষ ঢেকে থাকার কথা সেটা পুরা সদরঘাট হয়ে আছে! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

এই ঘটনার সাক্ষী আমি নিজেও, যাক ঐসব মনে করতে চাইনা!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

বিয়াফক হাসলাম।

তারানা_শব্দ এর ছবি

মোটমাট ৫ জায়গায় সশব্দে হেসে উঠলাম! আর বাকি সময় দাঁত বের করে থেকে পড়লাম। দেঁতো হাসি

এত্তো মজার লেখা খুব কম পড়সি! হিহিহিহি।
দারুণ!!

"মান্ধাতারই আমল থেকে চলে আসছে এমনি রকম-
তোমারি কি এমন ভাগ্য বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!
মনেরে আজ কহ যে,
ভালো মন্দ যাহাই আসুক-
সত্যেরে লও সহজে।"

জি.এম.তানিম এর ছবি

ব্যাপক মজা পেলাম...

ছোট বেলায় লুঙ্গি পড়া শেখার পরে এক বড় ভাই ডিজাস্টার থেকে বাঁচার এক উপায় শিখিয়েছিলেন, সেটা হল নিচে আরেকটা অতিরিক্ত গিঁট মারা।
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

রাহিন হায়দার এর ছবি

লুঙ্গি বিষয়ক একটা ঘটনা শুনেছিলাম এক বন্ধুর কাছ থেকে, মনে পড়াতে শেয়ার করতে এলাম। ঘটনাটা তার আরেক বন্ধুর। সে লুঙ্গি প'ড়ে রাতে ঘুমিয়েছে। গায়ে দিয়েছে একটা পাতলা কাঁথা। সকালে উঠে দেখে পরনে লুঙ্গি নেই, তবে গায়ের ওপর কাঁথা আছে। লুঙ্গি আর কোথায় যাবে, ভেবে সে কাঁথার ভেতর উঁকি দিল। লুঙ্গির হদিস নেই। গা থেকে কাঁথা সরতে না দিয়ে বিছানার আনাচে কানাচে খুঁজেও পাওয়া গেল না। হঠাৎ তার চোখে পড়ল ঘরের কোনায় কাজের লোক কাপড় ভাঁজ করে রাখছে। সেখানে লুঙ্গিটাও দেখা যাচ্ছে।

________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

নিবিড় রাজীবি এর ছবি

পেটটা ব্যথা হয়ে গেলো!

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

||ধন্যবাদ তৃতীয় কিস্তি||

সবাইকে আরেক দফা ধন্যবাদ জানাতে এলাম, যারা নতুন মন্তব্য করেছেন, যারা আগেই করেছেন বা যারা পড়েছেন, যারা তারা খুঁচিয়েছেন - সব্বাইকে অনেক অনেক আন্তরিক ধন্যবাদ এমন করে উত্সাহ দেবার জন্য।

সবাই ভাল থাকুন।

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি

ইবরাহিম যুন [অতিথি] এর ছবি

সিডির উপরে লেখা থাকে হাসির নাটক, হাসি আসেনা। কতদিন মন ভালো করার জন্য জোকস নিয়ে বসেছি বৃথা চেস্টা । মানুষকে হাসানো রীতিমতো কঠিন একটা ব্যাপার। আর আজ কঠিনটাকেই অনেক সহজ করে করলেন। অনেকদিন পর ভিতরের জমানো হাসি আর বাঁধ মানে নাই। হাসতে যে কি ভালো লেগেছে । ধন্যবাদ আপনাকে -অনেক ধন্যবাদ।

ইবরাহিম যুন

আশ্রাফ এর ছবি

হাসতে হাসতে কয়বার যে গড়াগড়ি খেলাম তার হিসাব নেই। মুখ, চাপা, পেট সব ব্যাথা হয়ে গেল

ফাহিম এর ছবি

ধুর মিয়া, অফিসে বইসা আর আপনার লেখা পড়া যাইবো না। প্রবল হাসি আসতেসে, কিন্তু হাসতে পারতেসি না। জোর করে চাপা বন্ধ করে রাখসি, খালি মাঝে মাঝে নাক দিয়ে ঝড়ো হাওয়ার মতো বাতাস বাইর হইতেসে। কি একটা বিপদে ফালাইলেন!

=======================
যদি আমি চলে যাই নক্ষত্রের পারে —
জানি আমি, তুমি আর আসিবে না খুঁজিতে আমারে!

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

পুতুল এর ছবি

প্রথম বিবি পড়সে, তারপর আমি।
আমাদের হাসি দেখে মেয়ে সামনে খাড়ায়া কিছু না বুঝেই হাসে। আপ্নে পারেন ভাই। আপ্নেরে মানছি।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অর্ক [অতিথি] এর ছবি

চ্রম হইসে...বেশিই চ্রম... হাহাহাহাহাহাহাহা আমি ত শ্যাষ !!

জিয়া শামছ [অতিথি] এর ছবি

খুব ভালো হয়েছে। ক্যারি অন দ্যা গুড জব।

অতিথি লেখক এর ছবি

হিংসা হয় যে কেন এরকম নিজে লিখতে পারি না , কিন্তু হাসতে হাসতে এখন যে আমার পড়া-লেখা মাথায় উঠল?লুঙ্গির বদলে অবশ্য।সাধুবাদ জানবেন।

অরফিয়াস এর ছবি

পেট ব্যাথা হয়ে গেলো !!!

প্রায় সবগুলো ঘটনা কিছুটা হলেও জীবনের সাথে মিলে গেলো, আহ কোচিং এর সেইসব দিন !!

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

অস্বাভাবিক এর ছবি

আমি যা বলতে চাই সবাই আগেই বলে দিছে
লেখায় পাঁচতারা

আলতাইর এর ছবি

একটু দেরিতে পড়লাম। এই এলাকায় আগে ঢুকি নাই। দুঃখিত
ইয়ে মানে... আপনাদের আমলে ১৬ পকেটওলা প্যান্ট ছিলো না??

তিথীডোর এর ছবি

সিটি কলেজ পার হবার সময় মেয়ে দেখবো কি, চোখের সামনে তখন নজরুলের "জলতরঙ্গ ঝিলিমিলি ঝিলিমিলি ঢেউ তুলে সে যায়" গানের মিউজিক ভিডিও চলছে!

ইয়া মাবুদ! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

মেঘলা মানুষ এর ছবি

প‌্যাট ব্যাথার অষুধ দ্যান -আপনার লেখা পড়ে হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা করে ফেলেছি দেঁতো হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।