দান দান তিনদান ও ১০১টি প্রাইভেট প্রশ্ন ( মালয়েশিয়া-২/৪২)

আরিফ জেবতিক এর ছবি
লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: শনি, ০২/০৫/২০০৯ - ৭:২২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

০১.
সন তারিখে ভুল হতে পারে , তবে প্রায় দশ বছর আগের কথা । শ্যালেতে এক রাতে সঞ্জীবদা বললেন - সায়মন ড্রিং এর ইন্টারভিউ নিতে পারবি ?
- কী বিষয়ে ইন্টারভিউ ?
-বিষয় কোন ব্যাপার না । আমি চিন্তা করে দেখলাম এই দেশে তুই আর আমি , এই দুই মিডিয়াবাজ শুধু সায়মন ড্রিং এর সাথে দেখা করিনি । এখন তুই যদি দেখা করে আসিস , তাহলে পুরা বাংলাদেশে আমিই হব ওয়ান এন্ড ওনলি । হা : হা: হা: ।

রঙ করে বললেও কথাটা সত্যি ছিল । তখন ইটিভি আসছে আসছে করছে , যার সাথে কথা বলি সেই শুনি ইটিভিতে চলে যাচ্ছে ।
সবাই খুব উৎসাহের সাথে বলে - জানো , সায়মনের সাথে দেখা করে এলাম । তাকে কয়েকটা আইডিয়া দিয়েছি , সেতো আইডিয়া শুনে পুরা পাংখা । কফি খাওয়ালো । বেতন শুনছি ভালোই দিবে ।

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি । বাঙালির বাড়িয়ে বলার অভ্যাস ।
কিন্তু অবস্থা বিচারে মনে হচ্ছে ইটিভির এমডি এই ঝানু সাংবাদিক পুরা গবেট প্রকৃতির , দুনিয়াশুদ্ধ লোকজন তাকে আইডিয়া দিয়ে আসছে এবং সে সেই আইডিয়া শুনে আর কফি খেয়েই দিন পার করছে ।

পুরা বাংলাদেশে বোধহয় সত্যি সত্যিই হাতেগোনা কয়েকজন পাওয়া গেল যাদের আইডিয়া সায়মন ড্রিং এর শোনার সৌভাগ্য হয়নি । সেই আইডিয়াহীনদের মাঝে আমি একজন ।

০২.
তারও আগের গল্প বলি । প‌্যাকেজ নাটকের ধুম তৈরী হলো হঠাৎ । আজিজ মার্কেটে একটা বই খুঁজতে গেছি ( অনেককাল আগের কথা , তখন আজিজ মার্কেটে সত্যি সত্যি বইয়ের দোকান ছিল ) পরিচিত এক চালের আড়তদারের সাথে দেখা হলো । হাত ধরে টেনে নিয়ে অফিসে চা খাওয়ালেন । শুনলাম প‌্যাকেজ নাটক বানানোর জন্য আজিজে অফিস নিয়েছেন ।

আমি তব্দা খেয়ে বসে থাকলাম । পরের কয়দিন যার সাথেই ধাক্কা খাই , সেই দেখি প্যাকেজ নাটক বানায় । সিলেট শহরের মজুমদারী এলাকার এক কন্ট্রাকটর- ছাতক থেকে চুনাপাথরের ব্যবসা করে , তাকেও পেলাম পল্টনের ক্যাপিটাল হোটেলে , একমাস ধরে হোটেলে এসে উঠেছে - সেও প্যাকেজ নাটক বানাচ্ছে !
অবস্থা দৃষ্ঠে মনে হলো বিটিভি যদি ২৪ ঘন্টা একের পর এক নাটক দেখাতে থাকে , তবু কয়েক বছরের মাঝে এই প্যাকেজট খুলতে পারবে না । বিটিভি এতো এতো প্যাকেজ নাটকে জ্যাম লেগে গেছে কি না সে খবর যদিও আমি নিতে পারলাম না , তবে নিজ অযোগ্যতার জন্য শেষ পর্যন্ত আমি এই প্যাকেজবিদদের বাইরেই রয়ে গেলাম ।

০৩ .
বার বার ঘুঘু ধান খেয়ে গেলেও এবার ফান্দে পড়ে গেলাম । দান দান তিন দান ; তৃতীয় জোয়ারে না জেনেই ভেসে যেতে হলো ।

এয়ার এশিয়ার টিকিট কাটার পরে পরে দেখলাম , পুরো ঢাকা শহরের লোকজন টিকিট কেটে ফেলেছে । সবাই মালয়েশিয়া যাচ্ছে । যে কারনে বনবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম , সেটা কার্যকর হওয়ার কোন সম্ভাবনাই আর দেখলাম না । সবাই যদি বনে চলে যায় , তাহলে তো মালয়েশিয়ার গহীন অরণ্যই ঢাকা শহর হয়ে যাবে । একবার ভাবলাম ক্যানসেল করে দেই । কিন্তু সেটাও সম্ভব নয় , নো রিফান্ড টিকিট । উড়াল দাও নইলে ভুলে যাও , টাকা ফেরত পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই ।

তবে এতো এতো মালয়েশিয়া গামীদের ভিড়ে যে সমস্যা সবচাইতে প্রকট আকার ধারণ করলো সেটি হচ্ছে , শত সহস্র মালয়েশিয়া বিশেষজ্ঞ তৈরী হয়ে গেল । তাঁরা প্রবল উৎসাহে আমাকে নানা শলা পরামর্শ দিতে থাকলো । আমার অবস্থা হলো পুরোটাই সায়মন ড্রিং এর মতো । সবার পরামর্শই মনোযোগ দিয়ে শুনি , কিন্তু রাতের বেলা কনফিউজড হয়ে বসে থাকি ।

০৪.
সাধারনত কোথাও বেড়াতে বের হওয়ার আগে আমি নেট সার্ফ করে যথাসম্ভব তথ্য নিয়ে যাই । কিন্তু এবারে তাও সম্ভব হলো না । প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় বিদ্যুৎ যায় । যখন আমার বিদ্যুৎ আসে তখন আইএসপি অলাদের থাকে না , যখন তাঁদের থাকে তখন আমার থাকে না । এই অবস্থায় নেট সার্ফ করা সম্ভব হলো না ।

তখন ধাঁই করে অন্য একটা কথা মনে পড়লো । এই যে হাজার হাজার লোকজন মালয়েশিয়া যাচ্ছে , তাদের যারা আত্মীয় স্বজন আছে মালয়েশিয়ায় , তাদের তো নাভিশ্বাস ওঠার কথা । তখনই আমার মনে পড়ল অরূপের কথা । আহা , বেচারাদের কী গতি কে জানে !

০৫.
আমার মনটা বড্ড নরম । অন্যান্য গড়পড়তা বাঙালির মতোই কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে আমিও নিজের মনকে স্থির রাখতে পারি না । মনটা দ্রবীভূত হয়ে পড়ে । চরম আনন্দ হয় ।
সেই আনন্দ বাড়ানোর জন্য আমি তাই সিদ্ধান্ত নিলাম , এবারে কোন নেট সার্ফ করবো না , লোনলিপ্ল্যানেটের বইও সাথে নেব না ।
তথ্য জানার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার-এই আপ্ত বাক্যটি স্মরণ করে আমি তাই অরূপকে মেইল করে দিলাম ।
মেইলে নানা বিষয়ে তথ্য চেয়ে সাহায্য কামনা করা হলো ।
শিরোনাম দিলাম- অরূপের প্রতি ১০১টি প্রাইভেট প্রশ্ন ( উত্তর চাই ) ।

ফিরতি মেইলেই জবাব চলে এলো । অরূপ লিখেছেন - " ১ নং প্রশ্নের উত্তর জানা নেই । "

বাদবাকী ১০০টি প্রশ্নের উত্তর এখনও আসেনি ।

আসুক , তারপর না হয় পরের কিস্তি লেখা যাবে ।
আপাতত “ চলবে...” লিখে ক্ষান্ত দিলাম ।

(চলবে...)


মন্তব্য

মামুন হক এর ছবি

ভাই আপ্নের প্রশ্নগুলা বেগুনী মাত্রার প্রাইভেট না হইলে জনসমক্ষে পেশ করে দিলে মনে হয় ভালো হইত। আরো দুই এক কুতুবের হাল্কা পাতলা কিছু এলেম আপনার কাজে আসতে পারে ।

রণদীপম বসু এর ছবি

সাংঘাতিক অবস্থা ! অরূপ দা' তাইলে ১০০টার মধ্যে ১ম প্রশ্নের উত্তর দিয়া দিছে ! আপনি তো ব্যাপক ভাগ্যবান !
একটা রুশ প্রবাদ আছে- যে চলতে থাকে তার সমস্ত পথটাই ফুরিয়ে যায়।
প্রশ্নের উত্তর যখন আসা শুরু হইয়া গেছে, আর চিন্তা নাই !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হায় হায়, আমার তো এতদিন ধারণা ছিলো সেই সময়ের একমাত্র সাংবাদিক আমি যে ইটিভিতে ইন্টারভিউ দিতে যাই নাই। এমনকি আমার অফিসের সবতে দিছে, আমি ছাড়া।

তবে সঞ্জীবদার ওয়ান এন্ড ওনলির কথা শুনে একটা কথা মনে হইলো। ব্যাচেলর ছবির প্রিমিয়ারে গেছি এক সখী নিয়া। ঢুকতেই সঞ্জীবদার লগে দেখা। দুপুরে সে প্রস্তাব দিছিলো ৩-৬টা শ্যালে বিহারের, আমি যাই নাই। কিন্তু দাদা ঠিকই গেছে এবং খায়া আসছে।
আমারে পাইলো আর ধইরা কইলো শোন, তর লগে কথা আছে বইলা আমারে নিয়া গেলো এক্কেবারে সামনে।
সখীরে পারভেজ হোসেনের কাছে গছায়া আমি তার গুরুত্বপূর্ণ কথা শুনতে গেলাম। সিনেমা হলের যে সিটগুলাতে পারতপক্ষে কেউ বসে না, কারন তালগাছের পাতার দিকে তাকায়া থাকার মতো বেদনাময় অভিজ্ঞতায় সিনেমা দেখে কেম্নে? সেই স্টল কাতারে গিয়া বসলাম দুইজনে।
-দেখ, আমরা এখন প্রধান অতিথিরও আগে বসা, মজা না? এই পঞ্চাশটা সিটে কেউ বসে না। পুরা হলের লোকজন অবাক হয়া দেখবো খালি আমার আর তোর মাথা।

ইন্টারভেলের সময় পলায়া আইছিলাম।

আহারে... দাদার কথা মনে করায়ে দিলেন... মনটা উদাস হইলো... নাহ্... আজকে তো তাইলে একটু দাদার অনুসারি হইতে হয়... চোখ টিপি
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রায়হান আবীর এর ছবি

নিশ্চয়ই বলার প্রয়োজন নেই, তাও বলি আপনার লেখা অসম্ভব সুখপাঠ্য। ভীষণ হিংসা লাগে আপনার লেখার স্টাইলকে।

এনকিদু এর ছবি

সহমত ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

নিবিড় এর ছবি

বিরতির পর ফিরে আসার জন্য ধন্যবাদ হাসি আশা করি আর অনেক গুলো ধন্যবাদ দিতে পারব চলুক


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

অনিকেত এর ছবি

আরিফ ভাই,
আপনার শেষ নামের মতই আপনার লেখার ষ্টাইলটা 'ইউনিক'!!
পড়ে খুব মজা পেলাম।
আরো মজার অপেক্ষায় রইলাম---

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

সুখপাঠ্য

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

আপনাদের বড় অসময়ে চা খেতে ইচ্ছে করে তাই না?

দ্রোহী এর ছবি

নাহ উনি হিমুর সাথে চা খেতে যাননি। উনি এখন বুক ডন দিচ্ছেন।

দ্রোহী এর ছবি

কী চমৎকার করেই না আপনি লিখেন। ইশ যদি এভাবে লিখতে পারতাম। মন খারাপ

মামুন হক এর ছবি

দ্রোহীদা লাইনে খাড়ান, হিংসুকদের দলে আমি সবার আগে, আমার পেছনে রায়হান আর অনিকেত। আফনে এত্ত পিছনে যে আপ্নেরে দেখতে বাইনোকুলার লাগব।

জি.এম.তানিম এর ছবি

উপস্থিত!!!
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

ভুতুম [অতিথি] এর ছবি

ক্ষান্ত দেয়াটা কোন কাজের কথা হইলো না। তরতরি পরেরটা দেন।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
জুম্ম এর ছবি

আফসোস, আপনাদের মতো বড়-মাপের লেখক হইতে পারলাম না..............
দ্রোহীদার মতো বলি--------- ইশ যদি এভাবে লিখতে পারতাম।

তানবীরা এর ছবি

পেরথম উত্তরটাতো জানলাম, বাকিগুলা জানার অপেক্ষায় আছি।
আমি না খাস্তা অবিশ্বাসী বান্দা। আমি মানুষের কথায় আজকাল আর বিশ্বাস যাইতে পারি না। নেট সার্ফতো করিই আর দুই - চারটার বেশী সাইট করি। তার কমেও মন ভরে না। সাইটরেও সন্ধ হয়, মনে হয় ঠিক লেখছে তো ঃ-}

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।