জোহরা ফেরদৌসী এর ব্লগ

অক্টোবর

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: সোম, ০৬/১০/২০১৪ - ৬:৪৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাগো, কবে প্রথম শুনেছিলাম- “তোমায় আমি হ’লেম অচেনা/ আমি কেমন করে পত্র লিখি রে বন্ধু/ গ্রাম পোস্টাপিস নাই জানা”...?

কোন এক শীতের রাতে ধান কাটা মাঠ-জুড়ে শামিয়ানার নীচে হ্যাজাক লাইটের আলোয় বসা গানের আসরে এক গ্রামীণ বাউল গাইছে সে গান...তার এক হাতে উঁচু করে ধরা একতারা, তর্জনী ছুঁয়ে আছে একতারার তার, বন্ধ দু’চোখের কোল বেয়ে নেমেছে জলের ধারা...বাউলের গলায় কোন সে এক অন্য ভুবনের অপার্থিব বেদনা... সুর হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে মঞ্চের চারিধারে... রাতজাগা সব মানুষেরা কেউই জানে না কখন তাদের দু’চোখের জল মিশে গিয়েছে সেই বেদনার ধারায়...


অসুখ

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৭/০২/২০১৪ - ৭:২০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

...এক...

এ জন্মের জন্য ওপরওয়ালার প্রতি আমার নিদারুণ অনুযোগ আছে। দুর্বল স্বাস্থ্য ও ততোধিক দুর্বল চিত্ত সহকারে এই ধরাধামে আমাকে পাঠানোর জন্য। কেন তার কারখানায় কি এর চেয়ে ভালো কিছু ছিল না? নিশ্চয়ই ছিল। আমার বদ্ধমূল ধারনা, ব্রান্ড নিউ তো দূরের কথা আমাকে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসও দেয়া হয়নি। নির্ঘাত কারখানার কোনায় অন্ধকারে মরচে পড়া বহু ব্যবহারে (কয়েকবার এই পৃথিবী পরিভ্রমণ করে ফেরত যাওয়া) জরাজীর্ণ পুরানো জিনিস আমার দেহ ঘড়িতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।


ফ্রিজিং রেইন

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: বিষ্যুদ, ২২/০৮/২০১৩ - ১:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দীর্ঘ ছুটির পরে কাজে ফিরেছে মিলি। বিচ্ছিরি অসুখের চিকিৎসায় ভেঙ্গে পড়েছে শরীর। নিজেকে টেনে টেনে চলে ও। এ শহরের বাসগুলো ইচ্ছে করলেই নিচু করা যায়। বয়স্ক কিংবা হুইল চেয়ারের যাত্রী দেখলেই বাসের চালকেরা বাস নামিয়ে নিচু করে দেয়। কিন্তু মিলিকে বাইরে থেকে দেখে ওর শারীরিক অবস্থা বুঝার উপায় নেই। তারপরেও চালককে অনূরোধ করলে, নিচু করে দিতো যাতে বাস থেকে নামতে সহজ হতো। মিলি কিছুতেই তা করবে না। অদ্ভুত এক আত্মমগ্ন অভিমানে ডুবে আছে ও। তাই প্রতিবার বাসে ওঠা নামা করতে কষ্টে নীল হয় ও। নিজেকে নিজেই বলে, “কষ্টেরা নীলই হয়, মিলি, নীলই হয়...”


ফেরা, না ফেরা

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: শনি, ১৭/০৮/২০১৩ - ১:৩৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গভীর ঘুমের মধ্যে ছুটছে এক বালিকা। পরনে তার সমুদ্র নীল জামা। ঘটি হাতায় সাদা রঙ্গের লেইস। গুচ্ছের চুল বিনুনি করে হলদে ফিতায় বাঁধা। মাঠ ভর্তি হলুদ সর্ষে ক্ষেত। ক্ষেতের আইল ধরে ছুটছে সেই অবোধ বালিকা... ছুটছে...ছুটছে...ছুটছে...

কবে থেকে এই ছোটার শুরু?


তার চেয়ে বেশী কিছু না...

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: বুধ, ২৬/০৬/২০১৩ - ৮:৫৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আট বছর। দিন, মাস,ক্ষণের হিসেব করে কী হবে?


বৃত্ত

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: বিষ্যুদ, ৩০/০৫/২০১৩ - ৭:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

।।এক।।

ছুটির দিনের শেষ বিকেল। কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি থেমে গিয়েছে। আনোয়ারা বেগম বসে আছেন আট তলার ফ্ল্যাট বাড়ির ড্রয়িং রুমের সামনের এক চিলতে বারান্দায়। সদ্য বৃষ্টির পরের রোদটা তেমন জোরালো না। ফ্লাট বাড়িটার সামনেই রাস্তা। রাস্তার ওপারের মুখোমুখি বাড়িটা দোতলা। অনেক গাছ গাছালীতে ভরা। তারপর সামনে যতদূর দৃষ্টি যায় সারি সারি উঁচু উঁচু বিল্ডিং। আকাশে এখনো দল বেঁধে চলেছে মেঘের সারি। মেঘের দলের ফাঁক দিয়ে এক চিলতে রোদ এসে পড়েছে সামনের বাড়িটার জানালার ছাদে, কার্নিশে। ফুরুৎ করে একটা ছোট্ট শালিক উড়ে এসে বসল কার্নিশের ওপর। সরু চঞ্চু দিয়ে জমে থাকা বৃষ্টির পানি শুষে নিচ্ছে শালিকটা। ওর দেখাদেখি আরও একটা শালিক উড়ে এলো। এক টানে অনেক খানি পানি খেয়ে নিলো দ্বিতীয় শালিকটাও, যেন অনেক দিন খায় নি এমন স্বাদু বৃষ্টির পানি।


ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি...০১৩

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: রবি, ২৬/০৫/২০১৩ - ১২:০৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাতাসে শীতের গন্ধ । প্রকৃতিতে রংয়ের উৎসব শেষ করে পাতাদের ঝরে পড়াও শেষ । বাদামী রংয়ের শুকনো পাতা মাড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে কোথা থেকে ভেসে এল অনেক দিন আগের এই রকম শীতের কোন ইউক্যালিপটাসের শুকনো পাতার গন্ধ...নজরুলের সমাধির পাশে লাইব্রেরীর গেইটে লাল রঙ্গা বাস থেকে নেমে কলা ভবন পর্যন্ত হেঁটে আসতে আসতে মাটি থেকে কুড়িয়ে নিতাম ইউক্যালিপটাসের শুকনো পাতা । একটু ছিড়লেই সেই পাতা থেকে বের হ’ত অদ্ভুত এক সৌরভ...কোথা হতে ভেসে এলো ফেলে আসা দিনের গায়ে লেগে থাকা সেই সৌরভ...আর তার হাত ধরে চলে এল বন্ধুর মত বন্ধুদের স্মৃতিরা...


এনাফ ইজ এনাফ

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: রবি, ০৫/০৫/২০১৩ - ১০:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অবিন্যস্ত দৃশ্যগুলো

বাড়ির গিন্নি প্রতিদিন দু’বেলা সবার খাওয়ার পরে গৃহপরিচারিকাকে খাবার বেড়ে দেন। মেলামাইনের প্লেটের ওপর ভাত। নিজেরা যে চালের ভাত খান, সে চালের না। আলাদা করে কেনা হয় মোটা চাল। কাঁকড়-টাকড় বাছা হয় না। উঁচু ঢিবি করা ভাত। এক পাশে গতকালকের বাসি মাছের তরকারির উচ্ছিষ্ট, একটু ডাল। আর বড়জোর আজকের ভাজি।


আজ আমি কাঁদতে আসিনি

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: মঙ্গল, ৩০/০৪/২০১৩ - ৭:১৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ধ্বংস স্তুপের নীচে কাটানো প্রতিটি মুহুর্তের মৃত্যুময় অন্ধকার,
মায়ের কোল হারা প্রতিটি শিশুর কান্না,
স্বজনের আহাজারি
আর নিঃস্পন্দ প্রতিটি লাশ ছুঁয়ে
আজ আমি অভিশম্পাত দিচ্ছি- ধ্বংস হ’ নরপিশাচেরা
যারা কেড়ে নিয়েছিস আমার ভাই, আমার বোনকে-
নিশ্চিহ্ন হ’ তোরা চিরতরে ।


ফিরে আমরা যেতেই পারি, কিন্তু কেন যাব?

জোহরা ফেরদৌসী এর ছবি
লিখেছেন জোহরা ফেরদৌসী (তারিখ: শুক্র, ১৯/০৪/২০১৩ - ৮:৫৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তাহলে আমাদের ফিরে যাওয়াই উচিত?
পাবনা, রামু, হবিগঞ্জ, ফেনী, পঞ্চগড়, লাউয়াছড়া,
বাগেরহাট, দাউদকান্দি, চাপাইনবাবগঞ্জ, লালমণিরহাট, বাঁশখালি আর বাংলাবান্ধায়...
ছাই দিয়ে মাজা টিনের গেলাসে পানি
আর তাওয়ায় ছ্যাঁকা ফুলকো গমের রুটি
কিংবা এক চিমটে নুন মাখা ভাতের বাসন
এগিয়ে দেয়া উচিত স্বামী, পুত্রকে।
এই সব মন্দ্রস্বরের মিছিলের নষ্ট স্লোগান ভুলে
গাওয়া উচিত শুধুই ঘুম পাড়ানি গান।
মুষ্টিবদ্ধ নয়,