নেটিভ আমেরিকানদের ইনকা ও মায়া সভ্যতা (২)

জিজ্ঞাসু এর ছবি
লিখেছেন জিজ্ঞাসু (তারিখ: শুক্র, ২৪/০৭/২০০৯ - ৪:২৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্বর্ণের প্রতি ইনকাদের আগ্রহের আরেকটি কারণ ছিল তারা স্বর্ণকে সূর্য দেবের প্রতীক ভাবত। তাদের মন্দিরগুলোতে তাই স্বর্ণের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। ফ্রান্সিসকো পিজারো অশ্ব, কামান, বন্দুক নিয়ে ইনকাদের তৎকালীন শাসক আতাউয়ালপাকে পরাজিত করে।

পিজারোর আগমনের কিছু আগে থেকেই এই পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের অশনি সংকেত বেজে ওঠে যখন নিকটবর্তী প্যারাগুয়ে থেকে চিরিউয়ানো গোষ্ঠীর সৈন্যরা পর্তুগীজ দখলদার আলিক্সো গার্সিয়াকে নিয়ে প্রথম তাদের আক্রমণ করে আনুমানিক ১৫২৫ সালের দিকে। সেই আক্রমণ তারা প্রতিহত করেছিল তখন। তখন থেকে স্প্যানিশ সৈনিকদের দ্বারা সিফিলিস, বসন্ত রোগ এবং অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

মহামতি সম্রাট টপা ইনকা শাসন করেছেন ১৪৯৩ সাল পর্যন্ত। তার পরে সিংহাসনে আসীন হন তার উত্তরসূরী সম্রাট ওয়াইনা কাপাক যিনি সাম্রাজ্য বিস্তারে বেশ মনযোগী ছিলেন। এর কিছুকালের মধ্যে ওয়াইনা কাপাক এবং তার নিয়োজিত উত্তরাধিকার মারা যান অজানা কারণে। ধারনা করা হয় ইওরোপীয়দের আমদানীকৃত কোন সংক্রামক ব্যধিতে তাদের মৃত্যু হয়।

ওয়াইনা কাপাকের মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে উয়াসকার ও আতাউয়ালপা ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় এবং ১৫৩২ সালে আতাউয়ালপা জয়ী হয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়। তাদের নিজেদের অন্তর্কলহের কারণে তারা ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

এসময় স্প্যানীয় দখলদার (conquistador) ফ্রান্সিসকো পিজারো ১৮০ জন সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে আবির্ভূত হয় দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে। পেরুর উপকূলে। ইনকা রাজধানী কুসকো থেকে দূরবর্তী কাহামার্কা (Cajamarca) শহরে সম্রাট আতাউয়ালপা সৈন্যদের নিয়ে ক্যাম্পিং করেছেন শুনে পিজারো সেদিকে এগিয়ে যায়।

১৫৩২ সালের ১৫ নভেম্বর পিজারো তার দলবল নিয়ে কাহামার্কায় উপস্থিত হয়। তারা সম্রাটের সম্মানে একটা ভোজের আয়োজন করে। সম্রাট দাওয়াত গ্রহণ করেন। পরদিন স্প্যানীয়রা কৌশলে সম্রাট আতাউয়ালপা ও তার যোদ্ধাদের এক জায়গায় ঘিরে ফেলে এবং তার সৈন্যদের হত্যা করে। সম্রাট বন্দী হন।

সম্রাট বন্দী অবস্থায় থেকে স্প্যানীয়দের ভাষা কিছুটা আয়ত্ত করে এবং তার মুক্তিপণ হিসেবে দুই ঘর ভর্তি রুপা ও এক ঘর ভর্তি স্বর্ণ দিতে চায়। স্প্যানীয়রা সেই মুক্তিপণ হস্তগত করার পরপরই সম্রাটকে হত্যা করে। কারণ তারা ইতিমধ্যে বুঝে নিয়েছিল তারা স্বর্ণের অবারিত গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে। আতাউয়ালপাকে হত্যার পর সম্রাটের সৈন্যদের সাথে স্প্যানীয়দের যুদ্ধে ইনকা যোদ্ধাদের পরাজয় বরন করতে হয়। স্প্যানীয়দের কাছে কামান, বন্দুক এবং ঘোড়া ছিল যার বিপরীতে বর্শা, গদা, লাঠিসোটা টিকতে পারেনি।

ইনকা আর্মি পরাজিত হবার পর থেকেই সেখানে বস্তুত স্প্যানীয় শাসন শুরু হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে স্প্যানীয়রা তাদের উপর জোর জুলুম সহ ইনকা সভ্যতার বড় বড় স্থাপত্য, মন্দির ও বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়। ইনকা সভ্যতার নিদর্শনসমূহ যা মূলত মূল্যবান ধাতুতে গড়া ছিল তা তারা গলিয়ে ফেলে স্বর্ণ-রৌপ্যের লোভে।

ইওরোপীয়দের দখলদারীর প্রায় একইরকম সংস্কৃতি লক্ষ করা যায় এখানেও। বাঙলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত ও হত্যা করার পর ইংরেজরাও যেমন পুতুল শাসক দিয়ে দেশ চালানোর মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে তেমনি ফ্রান্সিসকো পিজারো ইনকা সাম্রাজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় আছে এমনটা দেখাতে আতাউয়ালপাকে হত্যা করার পর তার আরেক ভাই মানকো কাপাককে সিংহাসনে বসায়। ইতিমধ্যে লুটেরা স্প্যানিশদের মধ্যে স্বর্ণরৌপ্যের ভাগাভাগি নিয়ে হাঙ্গামা বাধে। মানকো তাদের এই হানাহানির সুযোগ নিয়ে পালিয়ে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ভিলকা বাম্বায় আশ্রয় নেয় এবং নতুন রাজধানী পত্তন করে।

সেখান থেকে মানকো স্প্যানিশ রেজিমের বিরুদ্ধে গুপ্ত যুদ্ধ পরিচালনা করত। এভাবে কয়েক দশক স্প্যানীয়দের সাথে গুপ্ত যুদ্ধ পরিচালনা করার পর প্রায় চল্লিশ বছর পর ১৫৭২ সালে স্প্যানীয়রা ভিলকা বাম্বার অবস্থান খুজেঁ পায় এবং ভিলকা বাম্বাও তারা ধ্বংস করে দেয়। মানকোর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সর্বশেষ ইনকা সম্রাট ও তার শহরের পতন ঘটে।

পিজারোর সৈন্যরা ভিলকা বাম্বা ধ্বংস করলেও মেঘাচ্ছন্ন পাহাড়ের উপত্যকায় নির্মিত মাচু পিচু তারা খুজেঁ পায়নি। তাই মাচু পিচু অধরা ও অক্ষত থেকে যায়। কিন্তু এর রহস্যের কোন কিনারা হয়নি আজও। হয়তো ইনকাদের অস্তিত্বকে জানান দিতেই এই দূর্গ নগরী অক্ষত রয়ে গিয়েছিল। কারণ পিজারো ভিলকা বাম্বার মন্দির থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পাথুরে নগরী ধ্বংস করে ফেলেছিল। তারা বেছে বেছে স্থানীয় লোকদের সকল ধর্মীয় তীর্থস্থানকে ধ্বংস করে যেহেতু ইনকা সভ্যতা বহু দেবদেবীর পূজা করত যে ধারনা ইওরোপীয়দের খ্রিস্ট ধর্মের একেশ্বরবাদের সাথে বেমানান ছিল বলে অনেকের অনুমান।

চারশ বছর পর ইনকাদের শেষ রাজধানী ভিলকা বাম্বা নগরীর খোঁজ করতে গিয়ে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রভাষক হায়ার‌্যাম বিংগাম ব্যক্তিগত অনুসন্ধিৎসার এক পর্যায়ে দুর্গম পর্বত শৃঙ্গের সরু উপত্যকায় মাচু পিচু নগরী খুজেঁ পান ১৯১১ সালে। আবিস্কৃত মাচু পিচু মেঘের দেশের নগরী। কী কারণে মাচু পিচু স্মৃতি থেকে হারিয়ে গিয়েছিল বা পরিত্যক্ত হয়েছিল তার কোন সঠিক তথ্য আজও অজানা রয়ে গেছে। ইনকাদের কোন লিখন পদ্ধতি বা লিখিত দলিলাদি পাওয়া না যাওয়া এই রহস্যের অন্যতম কারণ।

auto

মাচু পিচু নগরী [Photo courtesy: Wikipedia]

[ইনকাদের মাচু পিচু নগরীর অবস্থান পেরুর কুসকো (প্রাচীন ইনকা রাজধানী) শহর থেকে ৫০ মাইল উত্তর পশ্চিমে আন্দিজ পর্বতমালার দু'টি সুউচ্চ শৃঙ্গের মধ্যবর্তী সরু উপত্যকায়। কুসকো পেরুর রাজধানী লিমা থেকে ৩৫৭ মাইল পূবে অবস্থিত। মাচু পিচুর অবস্থান নিকটবর্তী নদীবাহিত সমভূমি থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উপরে - সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ৭,৫০০ ফুট। নিচে প্রবাহমান নদীটি উরুবাম্বা নদী। পিছনে মাথা উঁচু বিশাল পর্বত শৃঙ্গটি ওয়াইনা পিচু। ধাপে ধাপে বাঁধানো চত্বরগুলো (terraces) পাহাড়ের গায়ে এমনভাবে স্থাপিত যাতে মূল স্থাপনা ধ্বসে না পড়ে। অনেকের মতে এসব বাঁধানো চত্বরে ফসল ফলানো হত যেহেতু বিশেষ কায়দায় এসব বাঁধানো চত্বরের উপরিভাগে কৃষি উপযোগী টপ সয়েল ব্যবহৃত হয়েছে। মূল স্থাপনা, মন্দির, বেদী ও এক কক্ষবিশিষ্ট ঘরগুলোর দেয়াল পাথরের নিপূণ কারিগরি নিদর্শন। ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে, সকল স্থাপনা চালবিহীন, কারণ সম্ভবত তারা বাঁশ, কাঠ ও ছনের চালা ব্যবহার করত যেগুলো কালের বিবর্তনে এখন নিশ্চিহ্ন। তাদের নির্মাণশৈলী বৈশিষ্টমণ্ডিত। কোনরকম চাকা বা লোহার যন্ত্রপাতি ছাড়া তারা কীভাবে সুবিশাল পাথর কেটে কেটে তা পরপর গেঁথে দিয়েছে তা এক রহস্য। মাচু পিচু নগরী এক মাস্টারপিস। স্থাপত্যবিদ, প্রকৌশলী এবং পাথরের কারিগররা তাদের নিরুপম দক্ষতায় নিপূণভাবে পাথারের এসব স্থাপত্য নির্মাণ করেছিল। প্রায় আধ মাইল দূরের প্রাকৃতিক পানির উৎস থেকে মাচু পিচু নগরীতে সয়ংক্রিয়ভাবে পানির সাপ্লাই পানি প্রকৌশলীদের অসাধারণ বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয় বহন করে]


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

ডিসকাভারি চ্যানেলের একটা শো-তে এসব স্থাপত্যকে আটলান্টিস-জাত প্রমাণ করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, যদিও যুক্তিগুলো ছিলো হাস্যকর। কিন্তু এই কারিগরি দক্ষতা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

স্বপ্নহারা এর ছবি

ভাল লাগছে...তবে আরেকটু বিস্তারিত লিখবেন প্লিজ? মনে হল তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল।
--------------------------------
হতাশাবাদীর হতাশাব্যঞ্জক হতশ্বাস!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ভালো লাগলো, আবারো। কিন্তু একটা প্রশ্ন মনে উঁকি দিচ্ছে-- ইনকাদের কিছুই তেমন জানা যায়না অথচ সন তারিখ কিভাবে জানা গেল? এটা কি ইউরোপীয়দের ইতিহাস থেকে জানা গিয়েছে? তাই যদি হয় তাহলে ৫০০ বছর আগের ঘটনার কোন হদিশ পাওয়া যাচ্ছেনা, বিষয়টা কেমন যেন লাগছে।

জিজ্ঞাসু এর ছবি

ধন্যবাদ।
আপনি যে বিষয়টা ইঙ্গিত করেছেন আমারও তেমনই মনে হয়েছে। ইনকা সভ্যতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা, তত্ত্ব এবং কিছু কিছু বিষয়ে বিভিন্ন তাত্ত্বিকদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তথ্য গ্রন্থনা শুরু হয় যখন ১৯১১ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রভাষক হায়ার‌্যাম বিংগাম ভিলকা বাম্বা খুঁজতে গিয়ে মাচু পিচুর সন্ধান পায়। আমি যা কিছু পড়েছি সবই দেখেছি অনেক কনফিডেন্স নিয়ে বলা হলেও এগুলো পেশাদার প্রত্নতত্ত্ববিদ, কঙ্কালবিশারদ সহ নানা বিষয়ে পণ্ডিতেরা নিজেদের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এক একটা তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন; এবং অধিকাংশ পণ্ডিতের যেসব তত্ত্বগুলোতে মিল পাওয়া গেছে সেগুলো ভিত্তি করেই জোরালো বক্তব্যগুলো এসেছে। মিল ছাড়া তত্ত্বও রয়েছে অনেক। বিংগামের নিজের তত্ত্বও হাল আমলের বিশারদদের সাথে মিলে না। প্রতিনিয়ত এ নিয়ে গবেষণা চলছে এখনও। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে যেটুকু জানা গেছে তাতে রহস্যের কিনারা করা যায়নি।

বিভিন্ন নাম ও সন তারিখগুলো স্প্যানিশদের দলিলপত্র থেকে নেয়া বলেই আমি মনে করি। কারণ ইনকাদের লিখিত কোন দলিল বা তাদের লিখন পদ্ধতির কোন চিহ্ন এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরেকটা বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি যে ইনকা সভ্যতা মূলত তিব্বতীদের মত পর্বত আশ্রিত সভ্যতা। তাদের সাম্রাজ্য বিশেষ করে আন্দিজ পর্বতমালায় বিস্তৃত ছিল। একই সময়ে আশে পাশে অন্যান্য আমেরিকান জাতিগোষ্ঠীগুলোর আলাদা সংস্কৃতি ও সভ্যতাও তখন বিদ্যমান ছিল। এখনও পর্যন্ত আবিস্কৃত সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে মনে করা হয় ইনকারাই ছিল সবচেয়ে পরাক্রমশালী এবং তারা নিজেদেরকে অকুতোভয় ও দুর্জয় (invincible) জাতি ভাবত।

আমি লেখায় উল্লেখ করেছি যে ইনকাদের লিখিত দলিলের অনুপস্থিতি ছাড়াও তাদের সম্বন্ধে গবেষণায় পর্যাপ্ত তথ্যের অপ্রতুলতার কারণ হল তাদের সভ্যতার নিদর্শন (artifacts) গুলো স্বর্ণরুপায় গড়া ছিল বলে বেশিরভাগই লুটেরা ইওরোপীয়রা কুক্ষিগত করেছে বা নিশ্চিহ্ন করেছে। যেমন, অনেক মূল্যবান তৈজষপত্র বা আসবাব তারা গলিয়ে ফেলেছে। যদি কোন ইনকা সদস্যরা ইওরোপীয় হত্যাযজ্ঞ ও তাদের আমদানিকৃত মহামারি survive করেওছিল তারাও বংশ পরম্পরায় সে তথ্য জিইয়ে রাখতে না পারার এমন কারণ হতে পারে যে ইনকা সাধারণ জনগণ হয়ত রাজনীতি বিচ্ছিন্ন ছিল, বা তাদের কোন লিখন পঠন পদ্ধতি পাওয়া যায়নি বা আদৌ ছিল না।

হিসেব রাখার জন্য তারা দড়িতে গিঁট বেঁধে বেঁধে যে পদ্ধতিতে গণনা করত সে পদ্ধতিকে কিপু বলে এবং কিপু ইন্টারপ্রেট করার জন্য সম্ভবত একদল বিশেষজ্ঞ ছিল। সাধারণ মানুষের স্পেশালাইজড্ কোন ধরনের জ্ঞান না থাকাও একটা কারণ হতে পারে যে পরবর্তীকালে সাধারণ কেউ সারভাইব করলেও সে নিজের জাতি, সভ্যতা সম্বন্ধে একেবারেই অজ্ঞ, ফলত বংশ পরম্পরায় তথ্য প্রবাহ থেমে গেছে।

___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে

সুমন চৌধুরী এর ছবি

স্কুলে থাকতে ক্লাস সেভেনের র‌্যাপিড রিডারে খুব সম্ভবত ভবেশ রায় নামে কারো একজনের একটা ইতিহাস ভিত্তিক প্রবন্ধে পড়েছিলাম, হিরাম বিংহাম ১৯১১ সালে মাচুপিচু শহর খুঁজে পেলেও, ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ দস্যু ফ্রান্সিস্কো পিজারোর আক্রমণের সময়ে ইংকাদের লুকিয়ে ফেলা বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদের কোন হদিশ পান নি। যার কিছু খোঁজ অষ্টাদশ বা উনিশ শতকের কেউ একজন ইংকা সমাজে বিয়ে করে বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে পেয়েছিলেন। এই ব্যাপারটাতে কেউ একটু আলো ফেলতে পারেন?



অজ্ঞাতবাস

স্নিগ্ধা এর ছবি

আগের পর্বে বলা হয় নি, এ পর্বে তাই জানিয়ে গেলাম - এই সিরিজটা খুবই আগ্রহ নিয়ে পড়ছি!

তুলিরেখা এর ছবি

ইনকা আর মায়াদের সম্পর্কে নানা মিথটিথসমেত এমন সব ব্যাপার আছে, যে ইতিহাসের আসল সুতাটি বার করা বেশ জটিল কাজ।
আগ্রহ নিয়ে পড়ছি সিরিজটা।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

জিজ্ঞাসু এর ছবি

পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।
আমি সংক্ষেপে কিছু একটা লিখতে গিয়ে দেখছি সংক্ষেপে লেখার বিষয় এটা না। ইনকাদের ইতিহাসে মিথের এবং অনুমানের (অনেক ক্ষেত্রে অনুমানটা যথেষ্ট তথ্যনির্ভর না) পরিমান বেশি। তাছাড়া এ বিষয়ে যতই দিন যাচ্ছে নানা মুনির নানা মতের সংখ্যা ততই বাড়ছে। নৃতাত্ত্বিক বলেন এক কথা তো, জিওলজিস্ট বলেন আরেক কথা। সবই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেই ব্যাখ্যা করা। তবে কোথাও কোথাও সামান্য তথ্যের ভিত্তিতে যে উপসংহার টানা হয়েছে তা ছিল দুর্বল। তাই এখন রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলমান বলাই ভাল; রহস্যের কিনারা হয়নি কিছুই।

___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।