স্বার্থপর জিন

দিগন্ত এর ছবি
লিখেছেন দিগন্ত (তারিখ: রবি, ১৪/১০/২০০৭ - ৮:৪৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্বার্থপর জিন কথাটা রিচার্ড ডকিন্সের The Selfish Gene এর বাংলা অনুবাদ। জীবের আচরণ কিভাবে বিবর্তনের পথে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে স্বার্থপর জিন দিয়ে - সে বিষয়েই বইটা। এই লেখটা মূলত বইয়ের পঞ্চম চ্যাপ্টার থেকে নেওয়া। বাংলা প্রতিশব্দের ব্যাপারে আমি কিছুটা কাঁচা, তাই জনগণ আমাকে সাহায্য করলে বাধিত হব।

বাংলাভাষায় একটা কথা আছে – “অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী”। আমার ধারণা ডারুইনের “যোগ্যতমের উদ্বর্তন” নিয়েও এরকমই কিছু ভয়ঙ্করী ভুল ধারণা রয়েছে – তাদের মধ্যে একটি হল আগ্রাসী মনোভাবের ব্যাখ্যা। খুব সহজ চিন্তাভাবনা করলে মনে হবে যে যদি যোগ্যতমই সবসময় নির্বাচিত হবে তাহলে সব জীবই তো চাইবে অন্যেকে মেরে ফেলতে আর নিজের বংশবিস্তার করতে। তাহলে সেই প্রাণীদেরই আমাদের এখন চারপাশে দেখতে পাওয়ার কথা যারা হিংস্র, শক্তিশালী ও আগ্রাসী। একটি জীবকে যদি জিনসমষ্টি নিয়ন্ত্রিত একটি স্বার্থপর যন্ত্র (যাকে আমরা বলব সজীব যন্ত্র) বলে মনে করা যায়, তবে সেই জিনগুলোই বেঁচে থাকার কথা, যারা প্রাণীদের মধ্যে এই আগ্রাসী নীতি অবলম্বনে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু বাস্তবে আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার ব্যতিক্রম দেখি, কেন?

ব্যাপারটা একটু বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা যাক। একটি সজীব যন্ত্রের কাছে বাকী জীব বা সজীব যন্ত্রেরা হল জল, কাঠ বা পাথরের মত প্রকৃতির আরো কিছু অংশমাত্র। প্রাকৃতিক নির্বাচন সেই জিনগুলোকেই নির্বাচিত করে যারা সজীব যন্ত্রকে তার পারিপার্শ্বিক প্রকৃতির পক্ষে সবথেকে উপযোগী করে গড়ে তোলে। পারিপার্শ্বিক প্রকৃতির মধ্যে অন্যান্য সজীব যন্ত্র বা জীবও অন্তর্ভুক্ত। ভিন্ন প্রজাতির জীবেরা একে অপরকে প্রভাবিত করে – খাদ্য-খাদক সম্পর্ক ছাড়াও পরাগরেণু বাহক প্রজাপতির মত উদাহরণও কম নেই। তবে একই প্রজাতির জীবেদের পারস্পরিক প্রভাব তুলনায় বেশী। কোনো এক জীবের কাছে বাকি সব জীব খাদ্যশৃঙ্খলে তার প্রতিযোগী আবার অর্ধেক (সাধারণভাবে) জীব তার সম্ভাব্য প্রজনন-সঙ্গী, বাকি অর্ধেকের সাথে প্রতিযোগিতা করেই তবে সে বংশবিস্তারে সক্ষম হবে। সাধারণ বিচারে, তাই জীবের পক্ষে তার প্রতিযোগীকে হত্যা করাটা (এবং খেয়ে ফেলাটা) খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। বাস্তবে কিন্তু তার উল্টোটাই বেশী করে চোখে পড়ে। শুধু তাই নয়, কনরাড লোরাঞ্জের ‘অন অ্যাগ্রেসন’ বই-এর মতে, নিজেদের মধ্যে এই মারামারিও জীবজগতে বিভিন্নভাবে হয়, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার ফলে পরাজিত পক্ষের প্রাণসংশয় হয় না। উন্নততর জীবজগতে, বিশেষত মানুষের মধ্যে আবার আগ্রাসনের পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতাই বেশী করে চোখে পড়ে। জীবজগতে হানাহানির পরিবর্তে এরকম সহযোগিতা কেন দেখা যায় যদি স্বার্থপর জিন-বিস্তার করাই জীবের লক্ষ্য হয়ে থাকে?

উত্তরটা প্রথমে একটা উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যাক। ধরা যাক হিমু আর বন্যাদি সচলায়তনে আমার প্রতিযোগী দুই ব্লগার। এটা ভাবা খুবই স্বাভাবিক যে আমি এখন হিমুর মুখোমুখী হলেই তাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হব। কিন্তু, এমন যদি হয় যে হিমু আবার বন্যাদিরও প্রতিযোগী, তাহলে হিমুকে মারলে আদপে বন্যাদির সুবিধাই হয়ে যাবে। বরং, বন্যাদি আর হিমুর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হলেই আমার লাভ বেশী। তাই, প্রতিযোগিতার জটিল ঘূর্ণাবর্তে প্রতিযোগীদের নির্বিচারে হত্যা করাটা নির্বাচিত হবার জন্য খুব একটা ভাল কৌশল নাও হতে পারে। চাষের ক্ষেতে অনেকসময়েই একটি কীটনাশক ব্যবহার করে কোনো একটি ক্ষতিকর কীট ধ্বংস করে তার প্রতিযোগী আরো ক্ষতিকর কীটের সুবিধা করে দেবার ঘটনা ঘটে – যার ফলাফল ক্ষতিকর। উদাহরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রতিযোগিতা বা লড়াইতে নামার আগে বা রণকৌশল নির্ধারণে সব সজীব যন্ত্রেরই সচেতন বা অবচেতন ভাবে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে হবে। আর এখানেই আসে হ্যামিলটনের “বিবর্তনগত স্থিতিশীল কৌশল”।

“বিবর্তনগত স্থিতিশীল কৌশল” হল এমন একটি কৌশল বা নীতি, যেকোনো জীবগোষ্ঠীর অধিকাংশ জীব তা অবলম্বন করলে অন্য কোনো কৌশল এসে তার স্থান দখল করতে পারবে না। পরিবর্তিত পরিবেশে কৌশল পরিবর্তন হতে পারে, প্রতি জীবের নিজে নির্বাচিত হবার কৌশল একই জীবগোষ্ঠীর অধিকাংশ জীবের কৌশলের ওপর সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। মূল কথা হল, একবার জীবগোষ্ঠীর অধিকাংশ জীব এই কৌশল অবলম্বন করা শুরু করলে এর বিরোধীদের প্রাকৃতিক নির্বাচনের সরাসরি বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে।

মেনার্ড স্মিথের কাল্পনিক উদাহরণ দিয়েই ব্যাখ্যা করা যাক। ধরা যাক, একটি জীবগোষ্ঠীর মধ্যে দুধরণের কৌশল অবলম্বনকারী জীব দেখা যায়। প্রথমটি আগ্রাসী নীতি, আরেকটি বিবাদ নীতি। আগ্রাসীরা সবসময় শেষ রক্তবিন্দু অবধি লড়াই করে, মৃতপ্রায় না হলে রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে না। বিবাদীরা মারামারি না করে অন্য উপায়ে লড়াই করে, ঝগড়া করে, রক্তচক্ষু দেখায়, আক্রমণের ভাব করে কিন্তু রক্তপাত করেনা। এদের পার্থক্যটা অনেকটা অনেকটা ডিপ্লোম্যাট আর আর্মির পার্থক্যের মত। আগ্রাসীর সাথে বিবাদীর লড়াই হয়না, বিবাদী পালিয়ে যায়। কিন্তু দুই আগ্রাসীর লড়াইতে সর্বদা কোনো না কোনো একজন মারা যায় (বা গুরুতর আহত হয়)। প্রথমে, হিসাবের সুবিধার্থে ধরে নেওয়া যাক, কোনো জীবই জীবদ্দশায় তার কৌশল বদলায় না, এবং প্রতিযোগিতার শুরুতে একে অন্যের কৌশল জানে না। আমাদের এই মডেলের কাল্পনিক পয়েন্ট সিস্টেমে ধরা যাক, প্রতিযোগিতায় জিতলে ৫০ পয়েণ্ট, হারলে ০, সময় নষ্টের জন্য -১০, গুরুতর আহত হলে -১০০ পয়েন্ট – জিনের নির্বাচনের সম্ভাবনার সাথে মিল রেখেই এরকম পয়েন্ট সিস্টেম। এখানে মনে রাখতে হবে যে, আমরা লড়াইতে কে জিতবে তা নিয়ে আগ্রহী নই, তা নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে। আমরা হিসাব করতে চাই যে এদের মধ্যে কোন কৌশলটি (বা এদের কোনো মিশ্রণ) স্থিতিশীল হতে পারে।

মনে করা যাক, জীবগোষ্ঠীর সব জীবই বিবাদী নীতি অবলম্বন করছে। তাহলে প্রতিটি প্রতিযোগিতায়, একজন জেতে (+৫০), একজন হারে (০) আর দুজনেই সময় নষ্ট করে (-১০x২ = -২০)। সমষ্টিগতভাবে লাভ হয় ৩০ পয়েন্ট, প্রত্যেকের ভাগে যায় ১৫ পয়েন্ট করে। এবার ধরা যাক একটা আগ্রাসী জীব এসে হাজির হল এই গোষ্ঠীতে। সে বিবাদীদের সহজেই লড়াইতে হারিয়ে দেবে, প্রতি যুদ্ধে +৫০ পয়েণ্ট হাসিল করবে। তার ফলে আগ্রাসন নিয়ন্ত্রক জিন খুব সহজেই জীবগোষ্ঠীতে বিস্তার লাভ করবে। এবার ধরি, যথেষ্ট সময় পরে, জীবগোষ্ঠীতে সবাই আগ্রাসী হয়ে গেছে। একইভাবে হিসাব করে দেখা যায়, দুটি আগ্রাসী জীবের লড়াইতে গড়ে -২৫ পয়েণ্ট পায় (জেতায় +৫০, সময় নষ্টে -১০x২ = -২০ আর গুরুতর আহত হওয়ায় -১০০)। একটি বিবাদী সেই দলে থাকলে সে সব লড়াইতে হারে, কিন্তু গড়ে সে ০ পয়েণ্ট পায়। ২৫ পয়েন্টের সুবিধা থাকায় সহজেই বিবাদ কৌশল নিয়ন্ত্রক জিন বিস্তার লাভ করবে।

এতদূর পর্যন্ত গল্পটা শুনে মনে হতে পারে যে জীবগোষ্ঠীতে সবসময় এই দুই কৌশলের জীবেদের মধ্যে একটা বাড়াকমা চলবে। আদপে, অংক কষে দেখানো যায় যে বিবাদী আর আগ্রাসী অনুপাত ৫:৭ অনুপাতে পৌঁছলে স্থিতিশীলতা লাভ করে। মানে, ওই অনুপাতে পৌঁছনর পরে প্রতিটি আগ্রাসী আর প্রতিটি বিবাদীর গড়পরতা লাভ-ক্ষতির হিসাব মিলে যায়। নির্বাচনে আর কেউই অন্যের তুলনায় সুবিধা পায় না। যদি কোনোভাবে আগ্রাসীর সংখ্যা এর চেয়ে বেড়ে যায়, তাহলে বিবাদীরা সুবিধা পেতে থাকে, যেভাবে আগ্রাসীদের দলে একটি বিবাদী সুবিধা পেত। একইভাবে দেখানো যায়, মানবসমাজে নারী-পুরুষের স্থিতিশীল অনুপাত ১:১।

মানবসমাজে অনুরূপ নীতি দেখা যায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে, যা গেম থিয়োরী দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। কোনো ব্যবসায়ী একই দ্রব্য কমদামে বিক্রি শুরু করলে সে সাময়িকভাবে লাভ বাড়িয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু তার প্রতিযোগিরাও সাথে সাথেই দাম কমিয়ে প্রত্যুত্তর দিলে তার আদপে লোকসানই হবে। তাই শেষমেষ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ছাড়া বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লাভ বাড়ানো সম্ভব নয়। (চলবে)


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হুমম। চলুক।

দুর্বাশা তাপস এর ছবি

ভাল। চলুক।

==============================
আমিও যদি মরে যেতে পারতাম
তাহলে আমাকে প্রতি মুহূর্তে মরে যেতে হত না।

অভিজিৎ এর ছবি

ভাল সিরিজ শুরু করেছেন দিগন্ত। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে আকর্ষনীয় এবং একই সাথে জটিল। মাইকেল শারমার তার গবেষনায় দেখিয়েছেন যে, মানব বিবর্তনের ধারাতেই পারষ্পরিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আবার নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সহনশীলতা, উদারতা, স্বার্থত্যাগ, সহানুভূতি, সমবেদনা প্রভৃতি গুনাবলির চর্চা হয়েছে। সভ্যতার প্রতিনিয়ত সংঘাত ও সংঘর্ষেই গড়ে উঠেছে মানবীয় 'প্রভিশনাল এথিক্স', যা মানুষকে প্রকৃতিতে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।

আর শুধু মানুষের কথাই বলি কেন, ছোট স্কেলে তথাকথিত অনেক ‘ইতর প্রাণী’জগতের মধ্যেও কিন্তু এটি দেখা যায়। ভ্যাম্পায়ার বাদুরেরা নিজেদের মধ্যে খাদ্য ভাগাভাগি করে, বানর এবং গরিলারা তাদের দলের কোন সদস্য মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকলে তাকে সহায়তা করর্ জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে, এমনকি 'দশে মিলে' কাজ করে তার জন্য খাবার পর্যন্ত নিয়ে আসে। ডলফিনেরা অসুস্থ অপর সহযাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে সৈকতের দিকে নিয়ে যায়, যার ফলে অসুস্থ ডলফিনটির পর্যাপ্ত আলো বাতাস পেতে সুবিধা হয়, তিমি মাছেরা তাদের দলের অপর কোন আহত তিমি মাছকে দ্রুত সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। হাতীরা তাদের পরিবারের অসুস্থ বা আহত সদস্যকে বাঁচানোর জন্য সবোর্চ্চ ত্যাগ স্বীকার করে। এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রকৃতিতে বিরল নয়। এখন এই উদাহরণ গুলোকে স্বার্থপর জিন-এর সাহায্যে কিভাবে ভাল মত ব্যাখ্যা করা যায় তা নিশ্চয়ই আপনার পরবর্তী পর্বে বলবেন।

আসলে এই অল্ট্রুইজমের ব্যাপারগুলো প্রকৃতিতে বিবর্তনের ফল হিসেবেই সৃষ্ট হয়েছে। পারষ্পরিক প্রতিযোগিতা ব্রডার স্কেলে গ্রুপ সিলেকশনের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়; তখন পুরো প্রজাতিকে রক্ষা করার জন্য তারা আশ্রয় নেয় প্রতিযোগিতার বদলে সসহযোগিতার। আপাতঃ দৃষ্টিতে সহযোগিতা মনে হলেও তলিয়ে দেখলে কিন্তু মুল কারণটি অপরিবর্তিতই থেকে যায় - টিকে থাকার সংগ্রাম। সেই স্বার্থপর স্ট্রাগেল ফর সারভাইভাল! তা সে ব্যক্তিগত ভাবে হোক, আর দলগতভাবেই হোক!

=============================
পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)

দিগন্ত এর ছবি

অল্ট্রুইসমের ব্যাখ্যা অবধি লেখার ইচ্ছা আছে। তার আগে Relatedness আর Family Planning নিয়ে লিখব।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হিমু এর ছবি

যোগ্যতমের উদ্বর্তন কথাটা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেই হয় হাসি ... খুব খটমটে লাগছে শুনতে। "পেকে গেলি তো টিকে গেলি" গোছের কোন সরল বাংলা বাক্য দরকার আসলে "সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট" এর জন্য।

ভুল বুঝবেন না, বেহুদা প্যাঁচ ধরতে আসিনি। বিবর্তন সংক্রান্ত যাবতীয় বিশ্লেষণ বা অনুবাদ খুব সরল বাংলায় হওয়া বিশেষ জরুরি।


হাঁটুপানির জলদস্যু

হিমু এর ছবি

ইএসএস বা বিবর্তনগত স্থিতিশীল কৌশল প্রসঙ্গে আমি একটু যোগ করতে চাইছিলাম। "কৌশল" শব্দটাই অনেক এঁড়ে তার্কিককে উৎসাহিত করে। বস্তুত এখানে "কৌশল" বলতে বোঝানো হয় প্রাণীর কিছু নিজস্ব আচরণের সেটকে, যে আচরণ তার স্বভাবে এবং শরীরে প্রোথিত, সচেতন চিন্তাভাবনার ফসল নয়।


হাঁটুপানির জলদস্যু

দিগন্ত এর ছবি

আপনি একটা ভাল প্রতিশব্দ দেন না ... আমি ত বলেই দিচ্ছি আমি প্রতিশব্দ নির্বাচনে খুব কাঁচা। এখনও আমি এই শব্দগুলোর বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজছি -
1. Relatedness 2. Retaliator 3. Prober-retaliator. 4. Bully.


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হিমু এর ছবি

১. সম্পর্কমাত্রা

২. প্রতিশোধী

৩. এটার ব্যাখ্যা ভুলে গেছি।

৪. গুন্ডা।


হাঁটুপানির জলদস্যু

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

জোশ! জোশ!! চলুক।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

হাসান মোরশেদ এর ছবি

দিগন্তের দেয়া সহজ উদাহরন আমার মতো নন-টেকি কে কিছুটা হলেও বোঝতে সাহায্য করে হাসি
-----------------------------------
মানুষ এখনো বালক,এখনো কেবলি সম্ভাবনা
ফুরোয়নি তার আয়ু

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

দ্রোহী এর ছবি

ভালো লেখা। হিমুর সাথে সহমত - সরল ভাষায় লেখা বাঞ্ছনীয়। “বিবর্তনগত স্থিতিশীল কৌশল” - বাক্যাংশটি পড়ে মাথার ভেতর কোন ছবি দাড়া করাতে আসলেই কষ্ট হয়।
----
চামে হিমুরে একটা ধোলাই দেবার পরিকল্পনা করে ফেললেন? হাসি
---
ছেলেবেলায় মক্তবে যাবার সুবাদে জ্বিন নামটির সাথে পরিচয় ছিল। ইঁচড়ে পাকা আমি বড়দের বিজ্ঞান বইয়ে যখন পড়লাম জীবকোষের জিনের কথা- একেবারে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। হাসি


কি মাঝি? ডরাইলা?

দিগন্ত এর ছবি

হিমুর জন্য আরো ধোলাই অপেক্ষা করে আছে ...


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

বন্যা এর ছবি

দিগন্ত, তুমি কি অনুবাদের কাজ শুরু করে দিলা? তুমি কি সিরিয়াসলি নভেম্বরের মধ্যে লেখা শেষ করার চিন্তা করছো? এটা তো তাহলে খুবই চিন্তার বিষয়ঃ)। ঠিকই বলেছে সবাই, বিবর্তনের লেখা সোজা হতে হবে, এমনিই কেউ এসব বাজে জিনিস বেশী পরে না, তারপর যদি শব্দগুলো মাথায় যেয়ে বাড়ি মারে তাহলে তো খবরই আছে। তবে হিমুর কথা বেশি বোধ হয় শোনার দরকার নাই, ওর কথা শুনলে নিজেদেরই সারভাইভাল নিয়ে সমস্যা দেখা যেতে পারে ঃ), এক্কা দোক্কা পাক্কা ( পেকে গেলি তো টিকে গেলি!!!!!!!) শব্দ ছাড়াও বোধ হয় টেকা যাবে। 'যোগ্যতমের জয়' বললে কেমন হয়? আমি মনে হয় তাই ব্যাবহার করেছি সব জায়গায়। এই শব্দ খোজারে ভয়েই আমি অনুবাদ থেকে কয়েক শো মাইল দূরে থাকতে চাই, মহা ঝামেলার জিনিস সব। ডকিন্স মকিন্স তো লিখেই সাড়া, তারপর বাংলায় সেসব শব্দের অর্থ খুজতে গেলে আমাদের মত কেরানীদের জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়!!!

দিগন্ত এর ছবি

আমি তো সিরিয়াসলি শেষ করার কথাই ভাবছি নভেম্বরের মধ্যে। শব্দের ব্যাপারটা আমাকেও চিন্তায় ফেলছে। 'যোগ্যতমের জয়' টা আমার পছন্দ, আমি এবার থেকে ওটাই ব্যবহার করব, এক্কা-দোক্কা... টা আমি আগে শুনিনি মনে হয়।

আমি দেখলাম dove আর hawk কে আমি বিবাদী আর আগ্রাসী বলায় কারো কোনো মতামত নেই। আমার ধারণা ছিল ওটাই সবথেকে unfit choice।

তবে শব্দগুলো খটমটে বলেই আমি উদাহরণের ওপর জোর দিতে চাই। আমার পরবর্তী পর্বে শুধু উদাহরণই থাকবে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হিমু এর ছবি
দিগন্ত এর ছবি

নির্বিবাদী কি করে বলা যায়, আপনিই বলুন। ঝগড়া করতে তো ছাড়ছে না ...


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হিমু এর ছবি

যো জিতা ওহি ছুছুন্দর তো বলিনি হো হো হো ...

যোগ্যতমের জয় কথাটাও খারাপ শোনাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে মনে পড়লো, সম্ভবত আনউইভিং দ্য রেইনবোতে ডকিন্স "ফিট" কথাটার পাঁচ রকম ব্যাখ্যা করেছিলেন। এ নিয়ে একটা পোস্ট হয়ে যাক।


হাঁটুপানির জলদস্যু

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।