বিদেশগামী ছাত্র কি কমে চলেছে?

দিগন্ত এর ছবি
লিখেছেন দিগন্ত (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৯/১২/২০১১ - ৫:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলাদেশের ভাল ছাত্ররা কি বিদেশে চলে যাচ্ছে? এই নিয়ে আমি আগে বেশ কিছু লেখা পড়েছি। সচলায়তনের চটজলদি প্রোফাইল দেখলে ঘটনাটা সত্যি বলে ধরে নেওয়া যায়। মোটামুটি বুয়েটিয়ান বলে যে ক'জনকে চিনি তারা সকলেই বিদেশে অবস্থানরত - হিমু জার্মানীতে, জাহিদ কানাডায় বা মুর্শেদ আমেরিকায়। দিনকয়েক আগে আমি নিজের লিঙ্কড-ইন প্রোফাইল আপডেট করার সময় দেখলাম লিঙ্কডইন সুন্দর পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পিছু। লিঙ্কডইনে আমার বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত পরিসংখ্যান লিখে নিয়ে বুয়েট-সংক্রান্ত হিসাব শুরু করলাম। যা হিসাব পেলাম তা নিয়েই পোস্ট।

প্রথম পরিসংখ্যান খুবই সহজবোধ্য, যাকে বলে ট্রিভিয়াল। বছর বছর লিঙ্কডইনে বুয়েটিয়ানের সংখ্যা গাণিতিক হারে বেড়েই চলেছে।

দ্বিতীয়টা একটু জটিল। বছর গড়ালে বিদেশগামী ছাত্রদের শতকরা হার কমে চলেছে।

এটা অবশ্য দুর্বোধ্য নয়। পাশ করে বেরিয়েই বিদেশ-গমন হয় না। সময় লাগে, সুযোগ লাগে। তবে এটা ট্রেন্ড রিভার্সালও হতে পারে। পরে হয়ত বাংলাদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আর বিদেশ যেতে এতটা ইচ্ছুক থাকবে না - বরং দেশেই অনেকে থেকে যাবে। তবে পুরোনো হিসাবেও দেখলে, ১৯৯০-২০০০ সাল অবধি পাশ করে বেরোনো অর্ধেকের কাছাকাছি ছাত্র বাংলাদেশেই আছেন। যারা বিদেশে আছেন তারা বেশী হারে লিঙ্কডইন ব্যবহার করেন - এরকমটা ধরে নিলে বলা যায় বুয়েটের অধিকাংশ ছাত্রই কিন্তু বাংলাদেশে থেকেই যান। নতুনদের (২০০০-২০১১) হিসাব সেটা আরও ভালভাবেই প্রতিষ্ঠা করছে।

পরেরটা সামগ্রিক চিত্র - কোন দেশে কতজন। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বাইরে গেলে প্রথম পছন্দ আমেরিকা। তারপরে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেন - যথাক্রমে।

এখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রায় অনুপস্থিত। বাংলাদেশ থেকে এত মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে যায়, অথচ প্রকৌশলীরা যায় মূলত পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে।

সবশেষে শহর-বিন্যাস। দেশের বাইরে বুয়েটিয়ানরা কোন কোন শহরে আছেন।

দেশের কাছের সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের শহরগুলোর তুলনায় দূরের আমেরিকায় পাড়ি দেয় বেশী লোকজন। কারণটা বোঝা যায়। কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় আমেরিকায় প্রকৌশলীরা অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। এই কারণে শহরের লিস্টিং-এ আমেরিকার শহরগুলো ততটা একচেটিয়া নেই। আমেরিকায় নিউ ইয়র্কের বাইরে সান ফ্রান্সিস্কো (সিলিকন ভ্যালি), ডেট্রয়েট (গাড়ি-শিল্প), পোর্টল্যান্ড (ইনটেল) বা সিয়াটেল (বোয়িং, মাইক্রোসফট) শহরেও অনেকে আছেন। কানাডায় টরোন্টো, ভ্যাঙ্কুভার আর ক্যালগারি থাকলেও ওটোয়া বা মন্ট্রিলে ততজনকে দেখলাম না।

শেষে বলে রাখা ভাল যে আমার পরিসংখ্যান শুধু লিঙ্কডইনে প্রাপ্ত প্রোফাইলের সামগ্রিক বিচারেই সীমাবদ্ধ। ১৯৯০ সালের পাশ করা ছাত্রের লিঙ্কডইনে প্রোফাইল পাওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু ২০১০ সালে পাশ করা ছাত্রের তুলনায় অনেক কম। একই ভাবে, যারা তথ্য-প্রযুক্তিতে কাজ করেন তাদের তুলনায় সরকারী অফিসে চাকুরীরতদের প্রোফাইল পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। সময় যাবে, এই ব্যবধান কমে আসবে আর আমরাও আরো ভাল করে তথ্য-বিশ্লেষণ করতে পারব। আপনারাও নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সামগ্রিক পরিসংখ্যান দেখুন আর মতামত জানান। আমি বাংলাদেশে থাকি না - তাই পরিসংখ্যানের সত্যতা বিচারে বা বিশ্লেষণে কমেন্ট পেলে খুশী হব।


মন্তব্য

পাঠক  এর ছবি

"বিদেশগামী বুয়েট ছাত্র" হবে তাহলে শিরোনামটা।

রুমঝুম ১ এর ছবি

চলুক
অন্য ছাত্রদের কথা দেখলামনা কোথাও

দিগন্ত এর ছবি

আমি লেখার শেষে লিখেছি যে এ বিষয়ে আপনাদের সাহায্য চাই। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত সংগ্রহ করা আমার একার পক্ষে সম্ভব না।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ড্যাটা সোর্স হিসেবে লিংকডিইনের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং তো!

দিগন্ত এর ছবি

আপনি বাংলাদেশে যা পড়েছেন তার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান কেমন?


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

কানা বাবা এর ছবি

কেবল আমার বিশ্ববিদ্যালয়েই এখন ২৮ জন বাংলাদেশি পিএইচডির ছাত্র আছে যা কিনা সর্বকালীন রেকর্ড। এদের ৩ জন ঢাবির, একজন (এই অধম বান্দা) একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাড, আর বাকি ২৪ই জন বুয়েটের।

/----------------------------------------------------
ওইখানে আমিও আছি, যেইখানে সূর্য উদয়
প্রিয়দেশ, পাল্টে দেবো, তুমি আর আমি বোধহয়
কমরেড, তৈরি থেকো,গায়ে মাখো আলতা বরণ
আমি তুমি, আমি তুমি, এভাবেই লক্ষ চরণ।।

নুসায়ের এর ছবি

লিঙ্কডইনের হিসাবটায় কোনও গোলমাল নেই তো?

বুয়েটকে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বেছে নিলে আপনার মতো একটা হিসাব দেখতে পাচ্ছি। আবার এখন যেখানে পড়ছি (ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়, ফিলাডেলফিয়া), সেটাকে বেছে নিলে দেখাচ্ছে mmmমোট জনসংখ্যার ৯৮.৪৬% যুক্ত্ররাষ্ট্রে, ৭৪.০৫% বৃহত্তর ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলে ইত্যাদি। এই হিসাব গুলি কি তবে মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ নয়?

আবার আরেকটা বিষয় হলো, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে লিঙ্কডইন প্রোফাইল ব্যবহার (নতুন প্রোফাইল/আপডেট ইত্যাদি) শুরু হয় ডিগ্রিপ্রাপ্তির শেষ বছর গুলিতে।

দিগন্ত এর ছবি

না এগুলো মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ নয়, গ্রেটার ফিলাডেলফিয়াকে আমেরিকার মধ্যে ধরেই হিসাব।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হাসান মামুন এর ছবি

সোসাল নেট নিয়া গবেষণা বহুত দেখলাম বিদেশ এ । কিন্তু বাংলাদেশ নিয়া বাংলাদেশির কান্ড এই প্রথম। ছোট হলেও অনেক ভালো উপাত্ত ।

দিগন্ত এর ছবি

ধন্যবাদ, তবে আমি ভারতীয়।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ইন্টারেস্টিং! অন্যান্য সোর্স থেকে কম্পেয়ার করলে আরো পরিষ্কার হোতো। একটা জরিপ করা যায় নাকি?

দিগন্ত এর ছবি

জরিপ করে দেখতে পারেন, তবে সচলায়তনের তুলনায় লিঙ্কড-ইন অনেক বড় বেস - তাই সচলের ডেটা লিঙ্কড-ইনের সাবসেট হয়ে যেতে পারে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হাসিব এর ছবি

কোন সিদ্ধান্তে আসার মতো যথেষ্ট ড্যাটা না এটা।

দিগন্ত এর ছবি

সঠিক, আরো ডেটা দরকার - বাংলাদেশের অন্তত তিনটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য। এ ছাড়া, এই পরিসংখ্যান আমি বছর-খানেক পরে রি-ভিসিট করব।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সচল জাহিদ এর ছবি

আগ্রহ উদ্দীপক। এমনিতে আমার মনে হয়েছে (ব্যাক্তগত অভিজ্ঞতা থেকে) আগের থেকে বিদেশে আসার হার বেড়েছে। আরো কিছু উৎস থেকে তথ্য আসলে বোঝা যেত।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

দিগন্ত এর ছবি

আপনার ব্যাচের পরিসংখ্যান কেমন?


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক হাসান এর ছবি

ইন্টারেস্টিং অবশ্যই। তবে আমার মনে হয়েছে সিদ্ধান্ত নেবার মত ডাটা এখানে অপ্রতুল এবং যা নেয়া হয়েছে সেটা রিপ্রেজেন্টেটিভও নয়। যেমন, ২০০৫ সালে আমরা সিঙ্গাপুরের কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়েই গিয়েছিলাম একসাথে ২২ জন। ডাটা অনুযায়ী সেটা ঐ বছরের ইউএসএর সমান। কিন্তু সাধারণত ইউএসএ তে বেশি বুয়েটিয়ান আসেন।

আরেকটা ব্যাপার, দেশভিত্তিক ভাগ করার সময় কোনটিকে হিসাব করা হয়েছে? বর্তমান অবস্থান?

দিগন্ত এর ছবি

হ্যাঁ বর্তমান অবস্থান। ডেটা অবশ্যই অপ্রতুল কিন্তু সবাই নিজের নিজের ব্যাচের ডেটা সংগ্রহ করতে পারলে অপ্রতুল থাকবে না। রি-ইউনিয়ন গোছের অনেককিছুর জন্যই এই কাজ করা হয় ...


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

দ্রোহী এর ছবি

ইন্টারেস্টিং!

আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে পড়াশোনা শেষ করে বিদেশ গমনের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। সুদূর অতীতে হারটা অনেক বেশি ছিল, মাঝে কিছুটা কমে ইদানীং আবার বেড়েছে।

রাব্বানী এর ছবি

আমি ২০০৪ এর নভেম্বরে বুয়েট থেকে পাশ করে বের হই, ওই সময়টাতে বুয়েটের ছাত্রদের বিদেশ, বিশেষ করে আমেরিকা, আসার হার খুব কমে যাই। এর জন্য দুটো কারণ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছেঃ (১) পাশ করেই উচ্চ বেতনে মোবাইল ফোন কমপানিতে চাকরি (বিশেষ করে কম্পিউটার ও ইলেকট্রিকালদের, সিভিলের অনেকের), (২) আমারিকার ভিসা পাওয়ার সমস্যা। এখন দেখি আমার যেসব বন্ধুরা মোবাইল ফোন কোম্পানিতে জয়েন করেছিলো তারা বেশিরভাগ দেশের বাইরে কোন মোবাইল কোম্পানিতে কাজ করছে (দেশেও আছে অনেকে), অনেকে কয়েক বছর কাজ করে অস্ট্রেলিয়াতে রেসিডেন্তশিপ নিচ্ছে, অল্পকিছু আমেরিকাতে আসছে পড়াশুনার জন্য।

অফটপিক: সিয়াটলে (UW) বাংলাদেশী গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট খুঁজে পায়না! ছয় জনের মধ্যে ১জন বুয়েটের, ২ জন ঢাকা ইউনিভার্সিটির, বাকি ৩ জন আমেরিকাতেই আন্ডারগ্রাড করা... কেউ থাকলে আওয়াজ দিয়েন!

দিগন্ত এর ছবি

আমি আছি সিয়াটেলে (আসলে রেডমন্ডে) - কাজে আসলে বলবেন।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

নুভান এর ছবি

আগে এশিয়ান দেশগুলোতে যাবার হার খুব কম ছিলো কিন্তু এখন এশিয়ান দেশগুলোতে বিশেষতঃ দক্ষিন কোরিয়া, জাপান, হংকং এগুলোতে যাচ্ছে। আমি ২০০৮ সালে যখন দক্ষিন কোরিয়াতে যাই তখন ওখানে বুয়েটিয়ান ছিলো না বলতে গেলেই চলে, বেশীর ভাগ ছাত্র-ছাত্রী ছিলো বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক প্রকৌশল অনুষদের। কিন্তু এখন হিসেব পাল্টেছে, আমি দেশে ফিরবার পরেই দেখছি প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী দক্ষিন কোরিয়াতে যাচ্ছে আর তাদের রিসার্চ ফান্ডিংও বেশ ভালো দিচ্ছে এখন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।