সচলায়তন- হাত’টা ধরো

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ০১/০১/২০১০ - ৫:৫২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

৩১ডিসেম্বর ২০০৯
ভেবে রেখেছিলাম-বছরে’র প্রথম দিনে সচলতায়ন-এ নিবন্ধন করবো, সকালে ঘুম ছেড়েছি ৮:৩৫ এ। ঘুম আমাকে ছাড়তে ছাড়তে আরো ৫মিনিট (জোরকরে)। সময় আছে ৫৫ মিনিট –টয়লেট সারা, শেভ করা, গোসল করা,কাপড় পড়া,খাওয়া,বাস ধরে অফিসে যাওয়া-সময় কিন্তু ৫৫ মিনিট । বাসে লাগবে মিনিমাম ২৫ মিনিট, আর থাকলো ৩০ মিনিট-অফিসের একসেস ডোরে’র ডিভাইসটার সামনে যখন দাড়াই-তখন ৯.৩০ হতে কখনো কয়েক সেকেন্ড বাকি, বা কয়েক মিনিট । যে স্টপি’জ থেকে বাসে উঠি-তাতে বসার সিট থাকে না ,কখনো দাড়াবার-ও।তারপরেও উঠতে হয়-ঠেলাঠেলি-গুতাগুতি, শুরু হয়ে যায় নতুন দিন-প্রতিদিন। আজো বাসের জন্য দাড়িয়ে আছি-দেখি ৬ নম্বর বাস’টা আসছে যার অনেক সিট খালি। অনেকদিন পর বাসে বসে অফিসে যাচ্ছি, অনুভূতি’টা ফুরফুরে। ঠিক এমন একটা আরমদায়ক সময়ে আচমকা’ই মনে এলো-আরো একটা বছর যাবে আজ-আজকে’র দিনটা গেলে আরেকটা বছর-এই’যে একটা বছর ড্যাবেড্যাবে কাটিয়ে দিলাম-ভালো কি কিছু করেছি-মনের গভীরে ডুব দিলাম..
প্রিয়তমা’কে ছেড়ে আরো একটা বছর থাকা-
প্রতিদিন সে আমায় ডেকেছে, আমি যাইনি। একবারের জন্য’ও না । আমার বিষাক্ত প্রিয়তমা- আমি তোমায় ভালোবাসি, এত ভালোবাসি-এত ভালোবাসি-এত ভালোবাসি- মরে যাওয়ার মত করে ভালোবাসি।
আমি বাচতে চাই- বাচতে চাই-
এটা সত্যি হয়ে গেছে, বাচতে হলে,যুদ্ধে যেতে হবে। এ’বছর যখনি আমি আমাকে নিয়ে নিভৃতে গেছি-ততবার’ই হাত বুলিয়েছি-খোকা উঠ, উঠ খোকা, যুদ্ধে যাবো। বুঝাতে পেরেছি বোধহয়।
সন্ধ্যে সাত’টা, অফিস ছুটি। আর কয়েক ঘন্টা পর আসবে নতুন বছর। নতুন বছরে’র প্রথম প্রহরে নাম লেখাবো সচলায়তনে-ভালো লাগছে,
১ জানুয়ারী ২০১০
ভোর ৫:৩১
সচলায়তন-এ নাম লেখানোর সাথে ভালো লাগার কি হলো ? ৬ মাস ধরে সচলায়তন সহ আরো তিন’টা ব্লগে পাঠক হিসাবে অনিয়মিত যাতায়াত ছিলো। শুধুই পাঠক। গত প্রায় ২ মাস ধরে যখন প্রায় নিয়মিত ব্লগে তখন শুধু সচলায়তনে যাই-বাকিগুলো’তে যাওয়ার পরিমান কমে গেছে –যাওয়াই হয়না। পড়তে পড়তে কেন জানি লিখতে ইচ্ছে করলো । লিখতে গেলই তো নাম নিবন্ধনের পালা, এজন্যই সচলায়তন।
সচলায়তন কেন?
সচলায়তনে যারা লেখেন তারা ভালোকরেই জানেন-সচলায়তন কেন । আর যারা এর নিয়মিত পাঠক তারাও জানেন। প্রথম যখন বিভিন্ন ব্লগে যাই , অবাক হয়ে দেখলাম –লেখার সাথে যে মন্তব্যগুলো তা এতই অশালীন আমি বিস্মিত হই, ব্যথিত হই । সচলায়ন আলাদা, অন্যরকম ।এ পরিবারের সদস্য’দের সুস্হ্ পরিবেশ নিশ্চিত করনে এর দায়িত্বে নিয়োজিতরা যে পুরোপুরি সফল,এর সদস্যদে’র পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা,শান্তিপূর্ণ সহাবস্হান দেখলে তা সহজেই অনুমেয়। গলা ছেড়ে বলার মতোন মঞ্চ পেয়ে-কোন নোংরা দিয়ে যাতে অপরিচ্ছন্ন না হয়-এ গৃহ এ সচেতনতা’য় সবাই।
এই প্রথম কোথাও আমার প্রথম লেখা। কৈশোরে কবিতা লিখেছি দু’তিনটা- একটা’র কথা এখনো মনে আছে, প্রেমের কবিতা। পরে শুনাবো। অনেক লিখেছি, বাংলা লিখার অনভ্যাসের কারেন ভালো’ই বেগ পেতে হলো।
সচলায়তন হাত বাড়িয়ে রেখেছি বন্ধু... ধরো।
শুভ নববর্ষ

ইবরাহিম যুন


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

শুভ নবর্বষ।

---নীল ভূত।

তিথীডোর এর ছবি

শুভ নববর্ষ!
সচলে স্বাগতম!!

--------------------------------------------------
"সুন্দরের হাত থেকে ভিক্ষা নিতে বসেছে হৃদয়/
নদীতীরে, বৃক্ষমূলে, হেমন্তের পাতাঝরা ঘাসে..."

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

লিখুন হাত পা খুইল্যা।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

রাহিন হায়দার এর ছবি

স্বাগতম। অবশ্য আমিও একদমই নতুন।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

ইবরাহিম যুন [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ নীল ভূত- আপনার ছাত্রের মনোভাবের শেষ অবস্হা জানতে ইচেছ করছে।
তিথীডোর “সুন্দরের হাত থেকে ভিক্ষা নিতে বসেছে হৃদয়” সচলায়তনে আসার অন্যতম কারন হলো এটা ।
"সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে..." এটাও সুন্দর।
"একদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি!"-আমিও
ধন্যবাদ রাহিন হায়দার-আপনার লেখা “ধূম্র কথন” অনেক মজার। লেখা পড়ে আপনাকে নতুন বলে মনে হয়নি। “এবং বাসিলিকা” ও ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ মাহাবুব ভাই –

ইবরাহিম যুন

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।