বাংলাদেশী

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ০৬/০৬/২০১০ - ৯:৫০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দীর্ঘদিনের লালিত বাসনা সত্যি সত্যি যে বাস্তবায়িত হইবে ইহা আমি কখনও চিন্তা করিতে পারি নাই। আমি জাপানের নাম বহুদিন হইতেই শুনিয়া আসিতেছি। এইটি একটি উন্নত দেশ এবং টোকিও একটি উন্নত শহর। আমি সেই শহরেই আজ অবস্থান করিতেছি। আজ বিশ্বের বহুদেশের জনসাধারণ এবং ফুটবল তারকারও এই টোকিও শহরে শুধু অবস্থান করিতেছে না, তাহারা ফেরত যাওয়ার সময়ে কি কি ক্রয় করিয়া দেশে যাইবে সেই প্রস্তুতিও লইতেছে। তবে দেশের বাড়ি যাওযার সময় শুধু বাংরাদেশী খেলোয়াড়গণই জিনিসপত্র বেশি ক্রয় করিয়া থাকে এই কথা সকলেইর জানা। মূলত: আমরা খেলার চাইতে মার্কেটিং এ নজর বেশি দিয়া থাকিলেও এইবার তাহার ব্যতিক্রম হইয়াছে। বিশ্বকাপ খেলিতে হইলে অনেকগুলি পর্ব অতিক্রম করিতে হয়। আমর ও তাহাই করিয়াছি। মহাদেশ পর্যায়ে আমাদের সহিত খেলিয়াছে সৌদি আরব, ইরাক, বাহরাইন, ইরান ও ভারত। সেমিফাইনালে ইরাককে ৫-০ গোলে পরাজিত করিলাম। আর ফাইনাল খেলিলাম দক্ষিণ কোরিয়ার সহিত। দক্ষিণ কোরিয়া যে এত গোলের ব্যবধানে হারিয়া যাইবে তাহা ভাবিতে গেলে আজও আমার হাসিতে ইচ্ছা করে। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার মাঠে স্বাগতিক দেশ হিসাবে তাহারা যে ১২-০ গোলে পরাজিত হইবে এবং আমি একাই দিব দশ গোল এইটাও আমার জীবনে একটি নতুন অভিজ্ঞতা। ফিফার সভাপতির কর্ণে যখন এই সংবাদ পৌঁছিল তখন হইতে আমাকে তিনি সুনজরে রাখিলেন। আর এই জন্যই আমি দলপতি হইয়া আজ বিশ্বকাপে খেলিতে আসিয়াছি। তবে আমি কখনও আমার দেশের সহিত বেঈমানী করি নাই। যদি বেঈমানী করিতাম তাহা হইলে জার্মান, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের অনুরোধ রক্ষা করিয়া শতকোটি টাকার বিনিময়ে সেই দেশের পক্ষেই খেলিতাম। এশিয়া হইতে আমরা তিন দেশ খেলিতে আসিয়াছি, মালদ্বীপ, ভুাটান আর বাংলাদেশ। ভুটানও সেমিফাইনালে উন্নীত হইয়াছে। মালদ্বীপও কম খেলে নাই। প্রথম পর্বে উন্নীত হইয়াছিল শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে ৫-০ গোলে পরাজিত করিয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাদাগাস্কারের বিরুদ্ধে আর জয়লাভ করতে পারিল না। মাদাগাস্কার পৃথিবীর ধনী দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আর বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় ধনী দেশ। ফাইনালে যদি মাদাগাস্কার যাইতে পারিত তাহা হইলে আমাদের সহিত সমানে সমানে হইত। আমাদের দেশের সহিত সেমিফাইনালে পড়িয়াছিল আর্জেন্টিনা দল। আর্জেন্টিনাকে ৭-০ গোলে পরাজিত করিলাম। ব্রাজিল এই খেলা দেখিয়া খুবই ঘাবরাইয়া গেল। তাহারা যে চোখে সরিষার ফুল দেখিতে লাগিল তাহা আমাদের জানা হইয়া গিয়াছিল এই জন্য যে, ব্রাজিল তখন সারা বিশ্বের নামকরা খেলোয়াড় সংগ্রহ করিতে ব্যস্ত হইয়া গেল। আমরা যখন বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলিতে মাঠে প্রবেশ করিলাম তখন সারা পৃথিবীর খেলোয়াড় ও দর্শকদের করতালির আওয়াজ পাইতে আরম্ভ করিলাম। যখন উভয় সারিতে মুখোমুখি দন্ডায়মান হইলাম করমর্দন করিবার জন্য তখনই অবাক হইয়া গেলাম। একি! আমাদের বিপক্ষে দন্ডায়মান পাওলোরোসি, পেলে, রুডগুলিত, ম্যারাডোনা , রজার মিলার, মোঃ আলী ক্লে, জো, ফ্রেজিয়ার, জো বাগনার টাইসন এবং মার্কটোনি ইহাদের সহিত কিভাবে খেলিব তাহা ভাবিয়া অস্থির হইলাম। জানি এই মুহূর্তে ভাবিলে চলিবে না, আমাদিগকে অবশ্যই খেলিতে হইবে। যদিও আমাদের একজন খেলোয়াড় তাহাদের দেখিয়া অজ্ঞান হইয়া গেল। অনেকের হাত-পা কাঁপিতেছিল আমরা খেলা শুরু করিলাম। যথাযথই ভাল খেলিলাম। খেলার প্রথমার্ধে যখন ৩-০ গোল দিতে সক্ষম হইলাম তখনই আর বুঝিতে কষ্ট হইল না যে, আমরা বিশ্বকাপ ঘরে তুলিবই। খেলার শুরুতেই মোঃ আলী ক্লে ফাউল করিয়া লালকার্ড পাইল। আর পেলে ও পাইলো হলুদকার্ড। এতক্ষণে ওরা বুঝিতে পারিল বাংলাদেশ কত ভাল খেলিতেছে। বাংলাদেশ ছোট হইলেও পনের কোটি মানুষের পনের জন সেরা খেলোয়াড় আসলে কি। ইহারা কি মানুষ না জাদু শিখিয়া মাঠে নামিয়াছে। অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন খেলা খেলিয়া সারা পৃথিবীর মানুষকে তাক লাগাইয়া দিল বাংলাদেশ। নির্বোধ ব্রাজিল শুধু ফাউল করিল না, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কাছ হইতে অনেক কৌশল শিখিল, যাহাতে তাহারা আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে উচিৎ শিক্ষা দিতে পারে তাহার প্রতিজ্ঞা ও করিল। প্রাজিল যখন একের পর এক গোল খাইতে আরম্ভ করিল তখন খেলোয়াড়রা গোল গুণিয়াই ঠিক রাখিতে পারিল না। বাংলাদেশের ১৩তম গোল এবং আমার ৭ম গোলের মধ্যদিয়াই সমাপ্তি হইল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ফাইনাল। বিশ্বকাপ হাতে লইয়া যখন ঢাকা এয়ারপোর্টে আসিলাম তখন এয়ারপোর্টে লাখো কোটি দর্শক আমাদিগকে অভ্যর্থনা জানাইতে আসিল। আমাদিগকে বিশেষ ব্যবস্থায় হোটেল সোনারগাঁয়ে যাওয়ার জন্য এক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস আসিল। বাসটি যখন মহাখালী রেল ক্রসিং পার হইতেছে এমন সময় আর একটি বাস আসিয়া মুখোমুখি ধাক্কা দিল। হঠাৎ কি হইয়া গেল আমরা কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। এতক্ষণ আমি অজ্ঞান হইয়া কোথায় আছি বলিতে পারিলাম না। একটি বাঁশির শব্দে আমার দিবাস্বপ্ন ভাঙ্গিয়া গেল। এত সুন্দর অভিজ্ঞতা ও আনন্দঘন মুহূর্ত গুলি পিটি শিক্ষক মহোদয় নস্যাৰ করিয়া দিলেন। তবে ঘুম হইতে উঠিয়া আমি এই প্রতিজ্ঞা করিলাম যে, বিশ্বকাপ ফুটবলে আমরা একদিন জিতবই। আগামী ২০১৪ সালে না হয় ২০১৮ অথবা ২০২২ কিংবা ২০২৬ সালে অবশ্যই বিশ্বকাপ জিতিব এবং সেখানে যেই দলটি খেলিবে তাহারা হইবে বাংলাদেশ দল।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

আমরা একদিন জিতবই....
এমন আশাবাদী লেখনীর জন্য লেখককে শুভকামনা...
_____________________________________________
বর্ণ অনুচ্ছেদ

গৌতম এর ছবি

যত্ন করে লিখলে এবং আরেকটু রস মিশালে এটা খুবই উপভোগ্য লেখা হতো। যা হোক, লেখকের কাছ থেকে নিশ্চয়ই এর চেয়ে আরো ভালো লেখা পাবো। কিন্তু লেখকের নামই তো জানা হলো না!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

আলমগীর এর ছবি

স্ক্রিনে পড়ার সময় প্যারা করা না থাকলে পড়তে সমস্যা হয়। লেখাটা হয়ত উপভোগ্য ছিল কিন্তু পড়তেই পারলাম না। পরের বার পারব আশা করি।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ক্যাসিয়াস ক্লে যখন মোহাম্মদ আলী হন তখন তিনি নিজের নাম থেকে "ক্লে" অংশটা বাদ দেন বলেই জানতাম। সেই বাদ দেয়া অংশ আবার জুড়ে দেবার কি কোন দরকার ছিল?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মহাস্থবির জাতক এর ছবি

আশা করি, ভবিষ্যতে আরো পরিণত আর রমণীয় লেখা পাবো। লেখাটায় অযত্নের ছাপগুলো বড্ড বেশি চোখে পড়ে।
_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

অতিথি লেখক এর ছবি

আশাবাদি ভাষা..........
আর, সুখের অভিলাসা../

ভালোলাগে... সবসময়-ই_
..................................
-তুহিন নূর

আগ্রহী [অতিথি] এর ছবি

নামটা শেষে দিযেছিলাম।আসেনি কেন বুঝলাম না। পরামশের্র জন্য ধন্যবাদ।আমি নবীন লেখক।আপনাদের পরামর্শ একান্ত কাম্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।