ঢাকা মেট্রোপলিটন, গ্রাউন্ড ওয়াটার নিঃশেষন ও ভূ-অবনমন

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ২৯/১২/২০১০ - ১০:০৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাহফুজ খান

ভূ-অবনমন (Land Subsidence) ও ভূ-জলীয় চাপ তলের (Hydraulic Head) সম্পর্ক:
ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমনের কারণে কোনও একুইফারের ভেতর মোট তরলের চাপ (Fluid pressure) হ্রাস পায় এবং ফলশ্রুতিতে ঐ একুইফারের উপর মোট কার্যকরী চাপ (Effective stress) বৃদ্ধি পায়। যার ফলে একুইফারটি সঙ্কুচিত হয়। আবার নীচের একুইফারে (কনফাইন্ড একুইফারের ক্ষেত্রে) তরলের চাপ হ্রাস পাওয়ার ফলে উপরের একুইটার্ড হতে পানি ধীরে ধীরে নিচের একুইফারে প্রবেশ করতে থাকে এবং একইভাবে একুইটার্ডের উপর মোট কার্যকরী চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে একুইটার্ডটি সঙ্কুচিত হতে থাকে। চিত্রে বিষয়টি দেখানো হল-

Idealized Aquifer System
চিত্র-একুইফার সিস্টেম

সকল একুইফার বা একুইটার্ড একই হারে সঙ্কুচিত হয় না, সঙ্কোচনের হার ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমনের হার এবং তাদের ভৌত অবস্থার উপর নির্ভর করে। যেমন, কাঁদার সঙ্কোচন ক্ষমতা বালির চাইতে অনেক বেশী, আবার নরম কাঁদার সঙ্কোচন ক্ষমতা শক্ত ও জমাট কাঁদার চাইতে বেশী। পললের সঙ্কোচনের ক্ষমতা বা সঙ্কোচাঙ্ক (Compressibility) কে α দ্বারা প্রকাশ করা হয়। সাধারণ কিছু পললের α এর মান নিচের সারণিতে দেওয়া হল
Table_Compressability of Sediments
সারণি: সঙ্কোচাঙ্ক

একুইফারে জলীয় চাপ তলের পতন (dh) ও ভূ-স্তর সমূহের সঙ্কোচনকে (db) নিচের সমীকরণ দ্বারা প্রকাশ করা হয়-
db = -αbρg dh
যেখানে, b=স্তরটির পু্রত্ব, ρ=পানির ঘনত্ব, এবং g=অভিকর্ষজ ত্বরণ।
যেহেতু, বালির চেয়ে কাঁদার সঙ্কোচাঙ্ক অনেক বেশী (১০ থেকে ১০০০ গুন), কাজেই পুরু কাঁদার স্তরের উপস্থিতি ভূমি অবনমনের ঝুঁকি অনেকাংশে বৃদ্ধি করে দেয়। উপরের চিত্রটি বিবেচনা করি যেখানে কাঁদার পুরুত এবং সর্বনিম্ন বালির স্তরের পুরুত সমান এবং ধরা যাক তা ৫০মিটার। তাহলে ঐ স্তর গুলোর সঙ্কোচাঙ্কের উপর ভিত্তি করে, প্রতি মিটার জলীয় চাপ তলের অবনমনের কারণে কাঁদার স্তরের ৫মিমি থেকে ৫০০মিমি হারে সঙ্কোচন ঘটবে আর বালির স্তরটির ০.৫ থেকে ৫০ মিমি হারে সঙ্কোচন ঘটবে।

ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমনের ফলে ভূ-সঙ্কোচন একটি ধীর কিন্তু অবিরাম প্রক্রিয়া এবং এর হার মূলত কোনও অঞ্চলের মোট কাদা/মিহি দানার পললের পুরুত, তাদের ভৌত অবস্থা, এবং ঐ অঞ্চলে ভূ-জলীয় চাপ তলের পতনের হারের উপর নির্ভর করে। সাধারণত বয়সে নবীন পলল তুলনা মূলক ভাবে বেশী বয়স্ক পললের চেয়ে বেশী নরম হয়, আবার সামুদ্রিক পলল নদীবাহিত পললের চেয়ে নরম হয়। কাজেই যে সকল অঞ্চলে বেশ পুরু, নবীন, সামুদ্রিক পলল আছে সেই অঞ্চলসমূহ ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমনের ফলে ভূ-সঙ্কোচনের জন্য অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমনের ফলে ভূ-সঙ্কোচনের ঘটনা নতুন নয়। পৃথিবীর অনেক অঞ্চলেই এই ঘটনার চিহ্ন আছে। চায়নার সাংহাই নগরীতে এই ঘটনা সর্বপ্রথম পরিলক্ষিত হয় ১৯২১ সালে। এছাড়াও ইতালির ভেনিস, মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, এবং টেক্সাসের হিউস্টন নগরী সহ পৃথিবীর নানা স্থানে এই ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একাধিক নরম, পুরু সামুদ্রিক কাঁদার স্তরের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।

Sanghai Hydrostratigraphy
চিত্র: সাংহাই (তথ্যসূত্র-৪)

Venice Hydrostratigraphy
চিত্র: ভেনিস (তথ্যসূত্র-৪)

Bangkok Hydrostratigraphy
চিত্র: ব্যাংকক (তথ্যসূত্র-৪)

Mexico Hydrostratigraphy
চিত্র: মেক্সিকো সিটি (তথ্যসূত্র-৪)

ঢাকা মেট্রো, ভূ-অবনমনের বর্তমান হার:
এবার ঢাকার দিকে নজর দেওয়া যাক। সাম্প্রতিক সময়ে (২০০৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসানো Trimble SES GPS এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা শহর ১২.২৫ মিমি/বছর হারে নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে (তথ্য সূত্র-১)। নিচের চিত্রে GPS কর্তৃক ধারণকৃত কয়েক বছরের অবিরাম রেকর্ড দেখানো হল-

Rate of Subsidence GPS measurement
চিত্র: ঢাকা ও সিলেট শহরের অবনমন (তথ্যসূত্র-১)

এই অবনমন বেশ কতগুলো বিষয়ের মিথস্ক্রিয়ার ফসল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
১) টেকটনিকস্‌
২) আইসোস্টেসি
৩) উপরিস্থ নতুন পললের চাপে পুরাতন পললের সঙ্কোচন
৪) ভূ-অভ্যন্তরস্থ পানি, তেল বা গ্যাস উত্তোলনের ফলে ভূ-স্তরের সঙ্কোচন।

এছাড়া আরও অনেক কারণে ভূমি দেবে যেতে পারে। ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থাভেদে বিশেষ এলাকায় বিশেষ একটি বিষয়ের আধিপত্য থাকতে পারে। ঢাকা শহরে হয়তো ভু-জলের অবনমন সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকার ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থা:
বৃহৎ পরিসরে বলতে গেলে, ঢাকা শহর মধুপুর কাঁদার উপর অবস্থিত। এই কাঁদা ঢাকা শহরের মোটামুটি সব জায়গাতেই বিদ্যমান। কোনও এলাকাতে হয়তো ভূ-উপরিভাগেই দৃশ্যমান, আবার কোথাও কোথাও হয়তোবা সাম্প্রতিক কালের পলল দ্বারা আবৃত হয়ে আছে। নিচের মানচিত্রে বিষয়টি দেখানো হল-
Geomorphology of Dhaka city
মানচিত্র: ঢাকার জিওমরফলজি
ঢাকা শহরের মূল একুইফারটি এই মধুপুর ক্লে এবং কোথাও কোথাও মধুপুর ক্লে ও সাম্প্রতিক পললের স্তরটির নিচে অবস্থিত। এটি পূর্ব-পশ্চিম দুইদিকেই ফল্ট দ্বারা আবদ্ধ; যারা, এই ডুপিটিলা স্তরটির, আশে পাশের এলাকা থেকে আপেক্ষিক ভাবে উপরে অবস্থানের জন্য দায়ী। নিচের চিত্রে বিষয়টি দেখানো হল।

Dhaka aquifers cross section
চিত্র: ঢাকার একুইফার সিস্টেম (তথ্যসূত্র-২)

এটি ডুপি টিলা নামক বালির স্তর দিয়ে গঠিত। যদিও অঞ্চল ভেদে এর পুরত্বে হেরফের হয় তবু এটি গড়ে প্রায় ১৪০মি পুরু। আর এর উপরের একুইটার্ড (যা মধুপুর ক্লে ও সাম্প্রতিক পলল দিয়ে গঠিত) এর পুরুত অঞ্চলভেদে ৮মি থেকে ৬০মি পর্যন্ত হয়। নিচে এই একুইটার্ডটির পুরুত্বের একটি মানচিত্র দেওয়া হল-
Clay Thickness
মানচিত্র: কাঁদার পুরুত (তথ্যসুত্রঃ ৩)
ঢাকা শহরে ভূ-জলীয় তলের অবনমনের হার এলাকা ভেদে এখন বছরে ১ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত। ২০০২ সালের ভূ-জলীয় চাপ তলের অবস্থানের একটি মানচিত্র নিচে দেওয়া হল-
GWL Dhaka (2002)
মানচিত্র: গ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল (তথ্যসূত্রঃ ৩)

ঢাকা, ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমন ও ভূ-অবনমনঃ
আমরা ইতোমধ্যে ঢাকা শহরের ভূতাত্ত্বিক অবস্থা সম্পর্কে এবং, ভূ-জলীয় তলের অবনমনের হার সম্পর্কে জানলাম। এখন যদি ঢাকার একুইফার এবং একুইটার্ডের সঙ্কোচাঙ্কের মান জানতে পারি তাহলে খুব সহজেই ভূ-জলীয় চাপ তলের অবনমন ও ভূ-অবনমনের কারণে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ-অবনমনের হারের একটি মানচিত্র তৈরি করা যাবে। যেহেতু আমাদের এই মানগুলো জানা নেই, কাজেই আমরা যুক্তি তর্কের সাহায্যে একটি মান নির্ণয়ের চেষ্টা করব। আমরা সারণী-১ থেকে দেখতে পাই যে, কাঁদার সঙ্কোচাঙ্ক ১০-৬ থেকে ১০-৮ মি২/নিউটন, আর বালির সঙ্কোচাঙ্ক ১০-৭ থেকে ১০-৯ মি২/নিউটন পর্যন্ত হয়। খুবই নরম, সামুদ্রিক কাঁদার ক্ষেত্রে সঙ্কোচাঙ্কের মান সর্বনিম্ন হবে, আর শক্ত ও জমাট কাঁদার ক্ষেত্রে সঙ্কোচাঙ্কের মান হবে সর্বোচ্চ। বালির ক্ষেত্রে, ঝুরঝুরে ও মিহি দানার বালির সঙ্কোচাঙ্ক কম আর জমাট ও বড় দানার বালির সঙ্কোচাঙ্ক বেশী। পললের এই ভৌত বৈশিষ্ট্য সমূহ পললের বয়সের উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সাধারণত একটি পলল যত বেশী বয়স্ক সে তত বেশী জমাট ও শক্ত হয়। ঢাকা শহরের মধুপুর ক্লে প্লাইস্টোসিন (১০,০০০ থেকে ১.৮ মিলিয়ন বছর) আমলের। ডুপিটিলার বয়স আরও বেশী। সাধারণ ভাবে এই ক্লে লাল রঙের, খুবই শক্ত ও আঠালো হয়। আবার কোথাও কোথাও এর মধ্যে মিহিদানার বালির বা সিল্টের স্তরও দেখা যায়। এই কাঁদার সঙ্কোচাঙ্কের মান সাধারণ কাঁদার সঙ্কোচাঙ্কের গড় মানের (১০-৭) চেয়ে অনেক কম হওয়া স্বাভাবিক। একই ভাবে ডুপিটিলার সঙ্কোচাঙ্কের মান সাধারণ বালির সঙ্কোচাঙ্কের গড় মানের (১০-৮) চেয়ে অনেক কম হবে। এখানে সাধারণ কাঁদা ও বালির সঙ্কোচাঙ্কের গড়মান ধরে ঢাকা শহরে প্রতি মি ভূ-জলীয় চাপ তলের পতনের ফলে ভূ-অবনমনের এলাকা ভিত্তিক একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ।
LS Medium compressability
মানচিত্র: ঢাকা শহরের ভু-অবনমন
মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে যে পানির স্তরের প্রতি মিটার পতনের ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ভু-অবনমনের হার ২ থেকে ৫সেমি পর্যন্ত হতে পারে। এ হিসাব অনুযায়ী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে, যেখানে প্রতি বছর ভূ-জলীয় তলের পতনের হার ২.৫ মি, সেখানে ভূ-অবনমনের হার হয় প্রায় ৫সেমি। অথচ GPS এর মাধ্যমে আমরা ঐ অঞ্চলে ভূ-অবনমনের হার পেয়েছি ১২.২৫মিমি। আবার আমরা যদি ডুপিটিলা ও কাঁদার স্তরের সর্বনিম্ন সঙ্কোচাঙ্কের মান ধরে হিসাব করি তাহলে ঐ অঞ্চলে ভূ-অবনমনের হার হয় ৫ মিমি আর সর্বনিম্ন মানের দ্বিগুণ নিয়ে হিসাব করে দেখা যায় যে ঢাকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ভূ-অবনমনের হার প্রায় ১০ মিমি, যা GPS এর নিরীক্ষিত মানের কাছাকাছি। কাজেই স্তর দুটির সঙ্কোচাঙ্কের মান, তাদের সর্বনিম্ন তাত্ত্বিক মানের দ্বিগুণ নিয়ে প্রতি মিটার ভূ-জল চাপ তলের পতনের ফলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূ-অবনমনের একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ-

Land subsidence per m drop in head
মানচিত্র: ঢাকা শহরের ভু-অবনমন-২
কোনও অঞ্চলের ভূ-অবনমনের বাৎসরিক হার জানতে চাইলে, এই মানচিত্রের মানের সাথে ওই এলাকায় ভূ-জলীয় চাপ তলের পতনের হার দিয়ে গুন দিলেই হবে।
এই মানচিত্রে একটি বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় হল, ঢাকার পূর্ব এবং দক্ষিণে সমপরিমাণ ভূ-জল চাপ তলের পতনের জন্য ভূ-অবনমনের হার ঢাকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশী। এর মুল কারণ এই অঞ্চলে কাঁদার স্তরটির অধিক পুরত্ব এবং মধুপর ক্লের উপর একটি নরম পলির স্তরের উপস্থিতি। বর্তমানে এই অঞ্চলে পানির স্তরের অবনমন কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মত অত্যধিক নয়, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে হয়তো এই হার পরিবর্তিত হবে। এই অঞ্চলে যেভাবে নিম্নাঞ্চল ভরাট করে বিভিন্ন হাউজিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট গড়ে উঠছে, তাতে করে এরা পরিবেশের উপর দ্বিমুখী প্রভাব সৃষ্টি করছে। প্রথমত; এটি একুইফারের রিচার্জ কমিয়ে পানির স্তরের পতন দ্রুততর করবে এবং দ্বিতীয়ত; গোটা এলাকাটি ভূমিকম্প ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে গড়ে উঠবে।
একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন যে, গ্রাউন্ড ওয়াটার উত্তোলনের ফলে কোনও এলাকায় ভু-অবনমন একদিনে ঘটে না; বরং ধীরে ধীরে প্রতিনিয়ত এই ঘটনা ঘটতে থাকে। সুতরাং কেউ যদি বলেন যে অমুক বছর পর্যন্ত ভূ-অবনমনের সম্ভাবনা নেই তাহলে সেটি ভুয়া কথা।
আরেকটি বিষয় হল, যদি একটি বিরাট এলাকা (যেমন গোটা বাংলাদেশ) একই হারে ধীরে ধীরে নিচের দিকে দেবে যেতে থাকে, তবে সেটা আমরা টের পাইনা, এবং সাধারণত সেটা ক্ষতিকারক হয় না (ব্যতিক্রম: উপকূলীয় অঞ্চল, যেখানে ভূ-অবনমনের ফলে বিস্তর ভূমি সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে)। কিন্তু যখন ছোট পরিসরে দুটি পাশাপাশি এলাকার মধ্যে বিভিন্ন হারে ভু-অবনমন ঘটে তখনি সাধারণত ভু-পৃষ্টে বিভিন্ন ফাটলের দেখা দেয়, বিভিন্ন ভবন হেলে পড়ে, ইত্যাদি ঘটনা ঘটে।
পরিশেষে একথা বলা যায় যে, হয়তো মধুপুর ক্লে’র দৃঢ়টা এবং স্বল্প পুরত্ব ঢাকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে এখনো পর্যন্ত বড় রকমের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে; বিশেষ করে ঢাকার পূর্বাঞ্চলে কি হবে সেটা অনুমান করা দুরূহ কিছু নয়।

তথ্যসূত্র সমূহঃ
1. Steckler, et_al., 2010 : Modeling Earth Deformation from Monsoonal Flooding in Bangladesh using Hydrographic, GPS and GRACE Data

2. Morris, et al., 2003: Response of the Dupi Tila aquifer to intensive pumping in Dhaka, Bangladesh

3. Hoque, et al.,2007: Declining groundwater level and aquifer dewatering in Dhaka metropolitan area, Bangladesh: causes and quantification

4. Land subsidence Case studies

5. Akhter, S. H., 2010: Earthquakes of Dhaka

6. Causes of Land Subsidence


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

প্রথম ইক্যুয়েশন পর্যন্ত পড়লাম। b সংকোচাঙ্ক আবার পুরুত্ব কেন? দুটার আলাদা সিম্বল হবে না?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

মোর্শেদ ভাই এখানে, b = পুরত্ব, আরেকটা db = সঙ্কোচন, alpha=সঙ্কোচাঙ্ক
মাহফুজ

সাইফ তাহসিন এর ছবি

অফঃটপিক - মাহফুজ মিয়া, নামের বানান খউপ খিয়াল কৈরা, 'মুর্শেদ' হবে, মোর্শেদ না। আমি এজন্যে সাধারনত রিস্কে যাই না, কপি পেস্ট মারি সন্দেহ থাকলে!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মাহফুজ খান [অতিথি] এর ছবি

দুঃখিত বস আর ভুল হইবোনা, এইবার থেকে আমিও কপি পেস্ট চালামু চিন্তা করতেছি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চমৎকার!
১। সব মিলিমিটারে হিসেব দেখালে তুলনা করতে সুবিধে হত

২। সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগ হয়েছে কোনো?
====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

মোর্শেদ ভাই, এখানে যে হিসাবটা আমি দেখিয়েছি তা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের গানিতিক হিসাব, এই হিসাব করতে আমি প্রতিষ্টিত জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেল সমূহ থেকে তথ্য ব্যবহার করেছি। আমি আবারও বলছি, এখানে যে হিসাবটি দেখানো হয়েছে তা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ের হিসাব এবং এটি আমি আমার ব্যাক্তিগত উদ্যগে করেছি। এই ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার কাজ করছেন বলে জানি। আর সরকারি কোনও কাজ হচ্ছে বলে আমার জানা নেই।
মাহফুজ

শামীম এর ছবি

চমৎকার পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।

আমার জিজ্ঞাস্য:
ডুপিটিলা স্তরের সাধারণ ভয়েড রেশিও কত? Porosity কত? - আনুমানিক হলেই চলবে।
MODFLOW ব্যবহার জানেন? - তাহলে আমি শিখতে চাই।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বস, মাহফুজ কিন্তু একজন পটেনশিয়াল উবুন্টু ইউজার হইতে পারবে, আপনে একটু চাপ দিলে। এরে কিছু সফট্‌ওয়ারের লোভ দেখান, আমি তো জানি না, জানলে ধরায়া দিতাম।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মাহ্ফুজ খান এর ছবি

ব্স আমি এখন উবন্ত ব্যবহার করতেছি, কিন্ত টাইপ করতে সমস্য হচছে।

মাহ্ফুজ খান  ্ব এর ছবি

বস, আমি দুঃখিত আপনার মন্তব্য়টির জবাব আমি জবাব আকারে না দিয়ে ভুল বসত আরেকটি মন্তব্য় আকারে দিয়েছি।

আবদুল মুমিন এর ছবি

মাহফুয ভাই, পুরাটা এখোনো পরিনি, কিন্থু মনে হয় অনেক তথ্যবহুল। ডাটা কই পেয়েছেন?

সচল জাহিদ এর ছবি

তথ্যবহুল পোষ্ট। ঢাকার ভূমি অবনমন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা হলো।

একটি প্রশ্ন ছিল "চিত্র: ঢাকা ও সিলেট শহরের অবনমন (তথ্যসূত্র-১)" সম্পর্কে। নিঃসন্দেহে দারুণ তথ্য এটি। চিত্রটি দেখায় যে সার্বিক ভাবে ঢাকা বা সিলেট অঞ্চলের মাটির লেভেল ( সম্ভবত msl এর ভিত্তিতে) কমে যাচ্ছে। কিন্তু একটি বাৎসরিক সাইকেলের মধ্যে এই ট্রেন্ডের উঠানামার কারন কি ? এটি কি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের উঠানামার সাথে সম্পর্কিত ?

পোষ্ট নিয়ে একটি পরামর্শ বা মতামতঃ

ভূমিকার প্রয়োজন ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে হঠাৎ করেই একটি কারিগরী বিষয় শুরু হয়ে গিয়েছে।

কিছু কিছু জিনিসের সহজ ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল যেমনঃ এক্যুইটার্ড, টেকটনিকস্‌, আইসোস্টেসি (যদিও শেষ দুইটির ক্ষেত্রে আপনি তথ্যকণিকার লিঙ্ক দিয়েছেন তবুও সহজ সংগায়ন দিলে ভাল হতো)। সেক্ষেত্রে সাধারন পাঠকদের বুঝতে সুবিধে হত।

সর্বশেষে আবারো ধন্যবাদ চমৎকার একটি আলোচনার জন্য।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সচল জাহিদ ব্লগস্পট


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

জাহিদ ভাইয়ের অবজার্ভেশন গুলোর সাথে একমত। টেকনিক্যাল বিষয় হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিধায় আরেকটু সহজভাবে আলোচনা করা গেলে ভালো হত।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মাহফুজ খান [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ জাহিদ ভাই, খুবই গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নটি করেছেন, এবং আপনি উত্তরটিও মোটামুটি ঠিকই অনুমান করেছেন।

একটি প্রশ্ন ছিল "চিত্র: ঢাকা ও সিলেট শহরের অবনমন (তথ্যসূত্র-১)" সম্পর্কে। নিঃসন্দেহে দারুণ তথ্য এটি। চিত্রটি দেখায় যে সার্বিক ভাবে ঢাকা বা সিলেট অঞ্চলের মাটির লেভেল ( সম্ভবত msl এর ভিত্তিতে) কমে যাচ্ছে। কিন্তু একটি বাৎসরিক সাইকেলের মধ্যে এই ট্রেন্ডের উঠানামার কারন কি ? এটি কি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের উঠানামার সাথে সম্পর্কিত ?

ঐ চিত্রের যে তথ্যসূত্র দেওয়া আছে সেই আর্টিকেলটি পড়লে আপনি এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর জানতে পারবেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ঐ সিজনাল ট্রেন্ডটা শুধু ভূগর্ভস্থ পানির স্তরই নয় বরং ভুপৃষ্টের পানির উঠানামার সাথে সম্পর্কিত। প্রতিবছর বর্ষাকালে যে বিপুল পরিমান পানি আমাদের দেশের উপরদিয়ে বয়ে যায় (both surface and groundwater) তার ভারে প্রতি বর্ষায় কিছুটা ভূ-অবনমন ঘটে, আবার শুস্ক মৌসুমে যখন এই ভার সরে যায় তখন আইসোস্টেটিক ভারসাম্যের কারণে ভূ-পৃষ্ট আবার উপরে উঠে আসে।

পোস্টসম্পর্কিত আপনার মন্তব্যগুলো শিরোধার্য্য।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

দাঁতের ব্যথা নিয়া বেশ তথ্যবহুল পোস্ট পড়লাম, বুঝলাম এইখানে চুপচাপ পইড়া তারা দাগায় কাইটা পড়নের কাম, তাই কাইটা পড়লাম।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

অট: ঢাকার ম্যাপটা এক্স ফাইলসে দেখা চুপাকাবরার মত লাগছে। হাসি

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মাহফুজ খান [অতিথি] এর ছবি

শামীম ভাই ধন্যবাদ, আপনার মন্তব্যের জন্য। ডুপিটিলা স্তরটি কিন্তু আমাদের দেশের বিরাট অংশ জুড়ে বিস্তৃত, এবং আমাদের দেশের অন্যসকল পললের মতই উত্তর থেকে দক্ষিন দিক বরাবর ইহা মোটা থেকে মিহিদানার বালিতে পরিনত হয় এবং এলাকাভেদে এর Porosity তেও ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন দেশের উত্তরাঞ্চলে এর মান সর্বোচ্চ ২৯% পর্যন্ত হতে পারে। ঢাকা শহরে ডুপিটিলার Porosity ১৫% থেকে ২০% এর মধ্যে। আর সে অনুযায়ী Void Ratio ০.১৮ থেকে ০.২৫ এর মধ্যেই হওয়ার কথা।

ভাই MODFLOW তো গ্রাউন্ডওয়াটার ফ্লো মডেলিং এর জন্য লেখা একটা কোড মাত্র, নানা রকম প্লাটফর্মের ঊপর ভিত্তি করে এটি কাজ করে যেমন ArgusOne, PMWin, আবার এর স্বয়ংসম্পুর্ন ভার্শনও আছে যেমন Visual MODFLOW ইত্যাদি। Schlumberger এর VISUAL MODFLOW খুব ইউজার ফ্রেন্ডলি। আপনি চাইলে এর একটা ট্রায়াল ভার্শন ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
আমি ঠিক জানিনা আপনি MODFLOW পারি কিনা বলতে আসলে কি বুঝিয়েছেন। যদি আপনার প্রশ্নটি হয় আমি গ্রাউন্ডওয়াটার মডেলিং পারি কিনা, তবে বলব- শিখছি, আর যদি বুঝিয়ে থাকেন আমি MODFLOW সফটওয়্যারটার ব্যবহার পারি কিনা তবে বলব হ্যা আমি VISUAL MODFLOW ব্যবহার করেছি এবং , ArgusOne প্লাটফর্মটাও আমার অপরিচিত নয়।

শামীম এর ছবি

তথ্যগুলোর জন্য ধন্যবাদ।

আমি খুব সাধারন কয়েকটা মডেল রান দিতে চাই আসলে (ড্রেনেজ কাম একুইফার রিচার্জের ব্যাপারে)। মাথার ভেতরে সমস্যা বা ঘটনার সেটিং আছে, আশা করছি একটা ছোট ফিজিকাল মডেলও রান দেব ল্যাবে, এর সাথে সাথে গ্রাউন্ডওয়াটার মডেল দিয়েও একই কাজ করে দেখতে চাই। পরামর্শের জন্য আপনার সাথে আমি ইমেইলে যোগযোগ করবো সামনে (আদৌ ব্যাপারটা গবেষণার যোগ্য কি না সেটা + যৌথ পেপার হতে পারে কিনা ইত্যাদি)।

আমি কোডটা রান করিয়েছেন কি না মূলত সেটাই জানতে চেয়েছিলাম। ইনপুটগুলো কী কী, কীভাবে দিতে হয় এগুলো জানতে পারলে আরেকটু সাহস করে ডাউনলোডকৃত ম্যানুয়ালটা পড়া শুরু করতাম। আর বেসিক ব্যাপারগুলো জানা থাকলে ফিজিকাল মডেল দাঁড় করাতেও সুবিধা হয়।

ভিজ্যুয়াল মডফ্লো = ৩৬৯৫ ডলার মন খারাপ
ফ্রী সফটওয়্যার ব্যবহার করে করে টাকা পয়সা দেখলেই .... ... ওঁয়া ওঁয়া
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

মাহফুজ খান [অতিথি] এর ছবি

আপনার কোন উপকারে আসতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম। দয়া করে আপনার ধারনাগুলো শেয়ার করলে, আপনি কি করতে চাইছেন এবং সেখানে আমি কিভাবে সাহায্য করতে পারি বুঝতে সুবিধা হত।

শামীম এর ছবি

এবছরে তো আর সম্ভব না চোখ টিপি

জানুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে ইমেইল দেব। একত্রে বসে আড্ডাও দেয়া যেতে পারে।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

অমিত এর ছবি

পোস্ট চমৎকার।
তবে "সারণি: সঙ্কোচাঙ্ক" টেবিলে Clay হয়ে গেছে Caly হাসি

দ্রোহী এর ছবি

চমৎকার লেখা।

খাড়ার উপ্রে পাঁচ তারা। হাসি


কাকস্য পরিবেদনা

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।