জলবাস

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ১৬/০৯/২০১৪ - ৭:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জলবাস

ডেকচির মাছ ক'টি দেখে গোলাপজান আনন্দ চেপে রাখতে পারে না। মনে খুব আনন্দ ধরলে নিজের অজান্তেই ওর বিসদৃশ দাঁতের সারি বের হয়ে পড়ে। কালো মাড়ির গায়ে সাদা দাঁতের সারি আরও সাদা দেখায়। গোলাপজানের দাঁতের গড়ন নিপুন হলেও সৃষ্টিকর্তার অলঙ্ঘনীয় ইশারায় এরা বেকায়দা রকম উর্ধ্বমুখী। তাই সারাদিন দাঁতের উচুঁ পাটিকে দুঁঠোটের ফাঁকে কায়দা করে লুকিয়ে থাকতে হয়। তবু একবার পৃথিবীকে দেখবার সুযোগ পেয়ে যেন তারা ঝকমকিয়ে জানান দেয়, আমরাও এ আনন্দের নিরঙ্কুশ অংশীদার। গোলাপজান কথা বলে খুব কম। হাসে তার চেয়ে আরও কম। হাসলেও মুখটা আঁচলে ঢাকা পড়ে নতুবা মুখ টিপে এক বিচিত্র কায়দা করে বুঝিয়ে দেয় তার সুখ-উচ্ছ্বাসের আভাস। তখন বিব্রত অবয়বের গোলাপজানকে দেখে বেশ বোঝা যায় এ হচ্ছে তার শরীরের বেখাপ্পা অংশ ঢেকে রাখবার সর্তক প্রচেষ্টা। তার সমস্ত সর্তকতা ব্যর্থ করে তবু নাকের নিচের অংশটুকু উইঢিবির মত উচুঁ হয়ে থাকে। তখন হাস্যরত গোলাপজানকে আরও হাস্যকর দেখায়। ভাগ্য ভাল যে মমতাহীন দারিদ্র্যের চাপে খুব বেশি হাসার সৌভাগ্য তার হয় না।

গোলাপজানের দাঁতের কথা যতই নির্লজ্জ ভাবে বর্ণনা করি না কেন এটা স্বীকার করতে হবে যে শরীরের এই অসঙ্গতিটুকু ছাড়া সে দেখতে মোটেও খারাপ নয়। বরং ওর শরীরের গড়ন এতই নিখুঁত যে দ্বিতীয়বার ফিরে তাকাতে হয়। ত্যানার মত শাড়ি এক প্যাঁচে গায়ে জড়ানো থাকে বলে গমের মত গায়ের রঙের সাথে শরীরের প্রতিটি বাঁক দৃশ্যমান হয়ে ওর সৌন্দর্যের খুঁতটুকু আড়াল করে দেয়।
-চাচী ডেচকিটা তড়াতড়ি খালি কইরা দ্যান। এইবার শেষ খ্যাপ মারব।
গোলাপজানের দেরি দেখে টিয়া তাড়া দেয়।
-দাঁড়া মা। এহনই দিতাছি।

গোলাপজান এক দৌড়ে রান্নাঘরে ঢোকে। চুলার পাশে উপুড় করে রাখা ভাতের পাতিলের মধ্যে মাছগুলো ঢালে। তারপর মাছগুলোকে একবার নেড়ে চেড়ে দেখে। খুব আমোদ লাগে গোলাপজানের। কতদিন পর এক সাথে এতগুলি মাছ নিজ হাতে নাড়ছে সে। কাঁচা মাছের গন্ধে তার জিহ্বা জলীয় হয়ে ওঠে। গোটা পাঁচেক তেলাপিয়া, চারটা বড় নলা, গোটা দশেক টাকি আর পোয়াখানেক কুঁচো চিংড়ি। ভালই। আজ দুপুরে তেলাপিয়াগুলো ভেজে পিঁয়াজ কুচি দিয়ে রাঁধবে। সফু আর সে একটা অর্ধেক। আর সনু-সনুর বাপের জন্য আস্ত দুইটা। বাকি দু'টো বাপ-ব্যাটার জন্য তোলা থাকবে। নলা চারটা আজ রাতে আর কাল সকালে দুইবেলা খাওয়া যাবে। টাকিগুলো জ্বাল দিয়ে রাখতে হবে। পরশু পানিখোলা করে রাঁধবে। একদিনেই তো আর সব খেয়ে ফেললে চলবে না। নাকি আজকের জন্য দুইটা টাকি ভর্তা করবে? ইস্ মরিচ পোড়া দিয়ে টাকির ভর্তার সোয়াদ কত! বাপজানতো এক মুঠ টাকি ভর্তা দিয়ে দুই থালা ভাত খেয়ে ফেলত। সনুর বাপও সোয়াদ করে খায়। আহা ঘরে শুকনা মরিচ নেই। থাক টিয়ার মায়ের কাছ থেকে কয়টা চেয়ে আনলেই হবে।

- ও চাচী... কি হইলো? ডেচকিটা দ্যান। চাচাজান কইছে এক ছুট্টে যাবি...এক ছুট্টে আবি।
অসহিষ্ণু টিয়ার দিকে তাকিয়ে গোলাপজান দাঁতে জিভ কাটে। দাঁড়া মা, এইতো হইছে। হাতদু'টিকে কোন রকম ধুয়ে আঁচলে মুছতে মুছতে গোলাপজান ঘরে ঢোকে। হাতে করে দুইটি মুড়ির মোয়া নিয়ে বেরোয়। টিয়ার হাতে মোয়া দু'টো গুজে বলে, যা দৌড় মার। একটা সনুরে দিস। আর তোর চাচাজানরে কবি দেরি য্যান না করে।
-আইচ্ছা চাচী। যাই।
খুশীমনে মোয়াতে কামড় দিতে দিতে টিয়া ছুট লাগায়।

-----
মাছের রক্ত থেকে তার নিজের রক্ত আলাদা করা যায় না বলে কতটা কেটেছে প্রথমটায় গোলাপজান ঠিক বুঝতে পারে না। তবু মাছের ঝকঝকে আঁশ ছাড়াতে গিয়ে বুড়ো আঙ্গুলের জ্বলুনি ভুলে যায়। কাঁচা মাছের গন্ধে তার শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে। যেন বহু দিনের পতিত শরীরে নদীর জল প্রবাহ সঞ্চারিত হয়। জাউলার বেটি সে। মাছের গন্ধের মাঝে আছড়ে-পিছড়ে বড় হয়েছে। পুকুরের আধ হাত নলা-তেলাপিয়ার মাঝে না। আমিন জাউলা জাল ফেলত নদীতে। রুপালী নদীর বুকে তখন যক্ষের ধন। রুই, কাতল, বোয়াল, টেংরা, পুঁটির ঝাঁকের নিশ্চিত বিচরনে হানা দিয়ে বাপজান একে একে মায়ের নাকে নথ, দু'গাছি চুড়ি করে দিয়েছিল।

চ্যাংড়াকালে বাপের কাছা মোড়া সবল পায়ে ঝুলে কতবার বায়না করে শীতলক্ষ্যার বুকে ঘুরে এসেছে। বাপজানের পায়ের পাকানো পেশি দেখে বেটা ছাওয়াল হয়নি দেখে কতবার তার আফসোস হয়েছে। ঘাট থেকে যেসময় ফিরত বাপজান, তখন কেমন যেন অচেনা লাগত তাকে। গোলাপজান অবাক চোখে দেখত। যেন বাপজানও মাছ। ইয়া বড় কাতলের মত নিপাট শরীর। বাপজানের গায়েও মাছের গন্ধ। বাড়ি ফিরলে মা কলপাড়ে বসা বাপকে খুশবু সাবানের ফেনায় ঘষে ঘষে সাফ করার কাজে লেগে যেত। সাবানের ফেনায় বাপজানকে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে ঠেলে ঘাটে পাঠাত। বলত, ভাল কইরা ডুব মাইরা আয়েন। নাইলে রাইতে কাছে আইবেন না। নাকছাবির নিচে মায়ের চোখে-মুখের লাজুক হাসি দেখে গোলাপজানও বুঝে যেতো ওই চোখে মেছো গন্ধ পাবার জন্য কত আকুলতা।

বাপজান যখন জীর্ণ লুঙ্গি কাছা মেড়ে জাল হাতে জাউলাদের সঙ্গে মিশে যেত তখন দূর থেকেও বোঝা যেত তার সুগঠিত শরীরে রোদের রুঢ়তাও পিছলে পিছলে যায়। একসময় আমিন জাউলার শরীরটা বসে গেল। দু'পায়ের তালুতে নদীর পাকের মত গভীর শালগোড়ায় তার তামাটে পাকানো শরীর ভার বহনের অক্ষমতায় উঠানেই শেকড় গাড়ল। একে একে মায়ের গায়ের সোনাটুকু যতখানি দ্রুততায় এসেছিল তার চেয়ে বেশি দ্রুততায় উধাও হয়ে যায়। অরক্ষনীয়া কন্যার চিন্তায় উঠোনে চিৎ হয়ে থাকা আমিন জাউলার অসার শরীর ভেদ করে সময়ে-অসময়ে তীক্ষ্ম চিৎকার ভেসে আসত। একদিন ভোর রাতে সেই চিৎকারও স্তব্ধ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত মায়ের তদবিরে গোলাপজানের বেশ ভাল বিয়েও হল। তিন বেলা পেটে দানা দেবার মুরোদ পুরুষ মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা। সেই মুরোদ সনুর বাপ হারুন জাউলার ভালই আছে। তবে নামের শেষে বংশ পরিচয় বহনকারী 'জাউলা' উপাধিটি এখনও বহাল থাকলেও নেই শুধু মাছের আঁশটে গন্ধ। জাউলার পোলা জাউলা হবে তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু শহরের বুকে জীবনের টানে জীবিকারও পরিবর্তন ঘটেছে। হারুন জাউলা এখন পেশায় যোগানদার। প্রচলিত ভাষায় জোগালী। শহরের কংক্রিটের উঁচু উঁচু অট্টালিকার গাঁথুনিতে যেসব নিচুতলার মানুষেরা ক্রমশ শ্রম দিয়ে চলে তাদেরই একজন এই হারুন জাউলা। তবু মাঝে মধ্যে যখন সেই পুরনো পেশার ডাক আসে তখনই কাছা মেরে ছুটে যায় সে।

সেদিন গোলাপজানের যে কি আনন্দ! ক্ষণে ক্ষণে হাসি-কান্নার ঢেউ ওঠে বুকের ভেতর। আর সেই সাথে নগরায়নের হাত থেকে বেঁচে থাকা জলাভূমিগুলোর জন্য বুকের অতল থেকে উঠে আসে পরম মমতা। কতদিন পর সেই পুরনো গন্ধ! বাপজানের গায়ের সেই আঁশটে গন্ধ! ভাঙা আয়নায় নিজের চেহারা আজ তার বড়ো মায়াময় লাগে। হাতের কাজ সেরে কলপাড়ের দীর্ঘ লাইন শেষে গোসল সারে সে। আহা! আর একটু যদি সুন্দর হতো! তবু গোলাপজানের বিশেষ যত্নে সারাদিনের ঘর্মাক্ত শরীর সাবানের ফেনায় বুঁদ হয়ে যায় আর ক্রমেই মায়াময় থেকে মোহনীয় হয়ে ওঠে। বাইরে অপেক্ষমান ধৈর্য্যহীন জনতার গালাগালি শুনে মুখ টিপে হাসে গোলাপজান, আজ আর তোমাগোর গাইল শুইনা হুড়পাড় কইরা বাইর হইতাছি না, বুঝছো?

-----
'সালাউদ্দিন' মার্কেটের দোতালায় টানা বারটি ঘরে প্রায় বারটি পরিবারের বাস। প্রতি চারটি পরিবারের ভাগে একটি বারোয়ারি রান্নাঘর আর বারোয়ারি গোসলখানা। গোলাপজানের সংসার বলতে এই একটিই ঘর। আর তাতে একটি চৌকি বিছানো। ছেলেমেয়ে দু'টিকে আজ মেঝেতেই বিছানা করে দিয়েছে গোলাপজান। হঠাৎ বুকের গভীরে কি এক সংগাহীন অনুভূতি খোঁচা দেয়। জানে সে এই অনুভূতি এই মুহূর্তে একক হলেও খানিক পরে তা অভিন্ন থাকবে না। নিজেকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা করে গোলাপজান। ইস্ দুই ভাই-বোন ঘুমিয়েছে। সারাদিনতো কম হুটোপুটি করে না। এখন এই এক ঘুমেই রাত কাবার। চারপাশে রাতের নিশ্চুপ নীরবতা তবু খুব সাবধানে মরচে পড়া জীর্ণ ট্রাংক খুলে মাড় দেওয়া কমলা রঙের শাড়িখানা বের করে গোলাপজান। কেউ যেন টের না পায়। নাহ্ গোলাপজান নিশ্চিন্ত হয়। রাতের নীরবতা যে আজ মানুষের চেয়েও নিষ্ঠুর!

কমলা শাড়ির কোমল জমিন ছুঁয়ে কেঁপে ওঠে গোলাপজান। মানুষটা যে কমলা রঙ বড়ো পছন্দ করে। ইস্ মেয়েটা এতো পাজী হয়েছে না। কাজলের পেন্সিলটা ভাঙা। যাকগে লিপিস্টিকটা তবু অক্ষত আছে। ফিরে ফিরে ঘুমন্ত মানুষটাকে দেখে গোলাপজান আর নিজেকে সাজিয়ে নেয় পরিপাটি সচেতনতায়। গোলাপজানের ঘ্রানেন্দ্রিয় আজ বেয়াড়া রকমের সজাগ। কিন্তু সারাদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত পাশের শরীরটি গভীর ঘুমে। গোলাপজান স্বামীর শরীর ঘেঁষে শোয়। ধীরে ধীরে লোমশ বুকে নাক মুখ ঘষে। আহা! মেছো গন্ধে তার নেশা ধরে যায়। নিত্যকার মানুষটিকে তার আজ বড় রহস্যময় লাগে। ঘুমের ভেতর মানুষটা পাশ ফিরে একটা পা গোলাপজানের পায়ের ওপর তুলে দেয়। গোলাপজান শিউরে উঠে ঘরের মেঝেতে তাকায়। তারপর পরম মমতায় স্বামীর পিঠে হাত বুলায়, আহারে সারাদিন কত খাটনিই না যায় লোকটার। ব্লাউজের গোপন কোঠর থেকে কি যেন বের করে সঙ্গোপনে।
-এই যে হুনছেন? ঘুমাইছেন? একটা পান খাইবেন, মিষ্টিপান?
নিথর শরীরে বার দুয়েক সাবধানী ধাক্কা দেয় গোলাপজান। আচমকা রাতের নীরবতা ভেদ করে সুতীব্র চিৎকারে কেঁপে ওঠে চারপাশ, সর.......মাগী, সোহাগ য্যান ধরে না, যা ঘুম যা।

আবছা অন্ধকারে গোলাপজানকে দেখে মনে হয় জলবাস বঞ্চিত একটা মাছ শুকনো ডাঙ্গায় ছটফট করতে করতে ক্রমেই নিথর হয়ে পড়ছে।

পরিচয়-সুলতানা সাদিয়া


মন্তব্য

গান্ধর্বী এর ছবি

চমৎকার! সচলে এটা বোধ হয় আপনার প্রথম লেখা। গল্পের ভাষা সাবলীল, সুন্দর। আরো লিখবেন আশা করি।

শুভকামনা।

------------------------------------------

'আমি এখন উদয় এবং অস্তের মাঝামাঝি এক দিগন্তে।
হাতে রুপোলী ডট পেন
বুকে লেবুপাতার বাগান।' (পূর্ণেন্দু পত্রী)

অতিথি লেখক এর ছবি

এই ব্লগের পরিচ্ছন্নতা দেখে মাস ছয়েক আগে খুব চেষ্টা করেছিলাম নিবন্ধন করার, লেখা দেইনি। বোকা আমি বুঝতেই পারছিলাম না কি করে কিভাবে এই ব্লগে লেখা দেয়া যায়। সেদিন হঠাৎ পদ্ধতিটা পরিষ্কার হলো। আবার বুঝলাম আমি কত বোকা! এই সহজ জিনিসটা বুঝতে ছয় মাস লাগলো! আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা। আশা করছি নিয়মিত লিখতে পারবো। শুভকামনা রইল।

সুলতানা সাদিয়া

গান্ধর্বী এর ছবি

নিয়মিত লিখুন আর অন্যদের লেখা পড়ুন, পাশাপাশি মন্তব্য করুন। আশা করি লেখনীর মাধ্যমে দ্রুত সচল হয়ে যাবেন। হাসি

------------------------------------------

'আমি এখন উদয় এবং অস্তের মাঝামাঝি এক দিগন্তে।
হাতে রুপোলী ডট পেন
বুকে লেবুপাতার বাগান।' (পূর্ণেন্দু পত্রী)

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার মন্তব্যে প্রতিউত্তর আগেই দিলাম, সংরক্ষণ করেছি কিনা বুঝতে পারছি না। যাচাইকরণের পর না পেলে আবার আসবো। শুভকামনা।
সুলতানা সাদিয়া

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

খুব ভালো লাগলো, আপনার আরো গল্প নিয়মিত পড়তে আগ্রহী। সচলায়তনে স্বাগতম।

প্রথমে গোলাপজানের দাঁতের বর্ণনাটা আরেকটু সংক্ষিপ্ত হলে ভালো হতো বলে মনে হয়েছে। আর শেষে "সর.......মাগী, সোহাগ য্যান ধরে না, যা ঘুম যা।" এখানে ........ কেন?

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। আশা করছি ফোল্ডারে লুকানো লেখাগুলো একে একে দিতে পারবো। কেন যে এই লাইনে.......দিয়েছি তখন ভাবিনি, হয়তো জোরে বলেছে বোঝাতে! আপনি ধরিয়ে দেবার পর ভাবছি, কি দিলে ভাল হয়। ভাল থাকুন। আশা করছি এভাবেই পাশে পাবো।

সুলতানা সাদিয়া

মেঘলা মানুষ এর ছবি

এরকম গল্প লিখতে পারি না, খালি লেখক/লেখিকাদর ঈর্ষা করি ইয়ে, মানে...

গল্পের ভাষা অসাধারণ লেগেছে গুরু গুরু

শুভেচ্ছা হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

সীমাহীন কৃতজ্ঞতা। আপনার জন্যও শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

প্রথমেই বলি, গল্প ভালো লেগেছে, বেশ ভালো লেগেছে। ভালো লাগার কারণগুলোও খুব স্পষ্ট।

১। গল্পের ভাষা সহজ ও সাবলীল।
২। কিছু কিছু খুঁটিনাটি (যেমন মাছ রান্না করার পদ্ধতিগুলো, খাবার ভাগের হিসেব) চমৎকার। এতে গল্পটা আরো অথেনটিক হয়েছে।
৩। গল্পটাতে গোলাপজানকে কেন্দ্র করে ঐ শ্রেণীর মানুষের এবং একজন নারীর জীবনের বেশ কিছু অপ্রাপ্তি-বঞ্চনা ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটা আরোপিত মনে হয়নি।

আরো গল্প আসুক।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার প্রথম পোস্টে আপনাদের আন্তরিকতায় খুব ভালো লাগছে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য। আশা করছি নিয়মিত লিখতে পারবো।
সুলতানা সাদিয়া

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

অতশত বিশ্লেষণ করতে পারবোনা। গল্পটা দারুণ ভাল লেগেছে! হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

অশেষ কৃতজ্ঞতা। শুভকামনা রইল।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে আপনি আগেও লিখেছেন। অর্থাৎ আপনার লেখা বলে যে এ কোন আনাড়ির লেখা না। পাঠক আকৃষ্ট করার ক্ষমতা আপনার আছে। আগামী লেখাগুলোর জন্য শুভকামনা চলুক

ফাহিমা দিলশাদ

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ। লিখছি বহু বছর ধরে কিন্তু কি লিখছি বুঝতে পারি না। আশাকরি সবসময় পাশে পাবো।
সুলতানা সাদিয়া

নজমুল আলবাব এর ছবি

খুব ভালো লাগলো পড়ে। খুব খুব ভালো। আপনার এমনতরো চমৎকার সব গল্পের অপেক্ষায় থাকলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

রিসালাত বারী এর ছবি

চমৎকার চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।
সুলতানা সাদিয়া

Sohel Lehos এর ছবি

আপনার গল্প ভাল লেগেছে। চমৎকার লেখা। চলুক

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালি করো না। এসো এ বাহুডোরে।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

সাধারণ্যের গল্পে অসাধারণ নিখুঁত বর্ণনার কারুকাজ। যত্নে গড়া দেবীপ্রতিমার আভা যেন উপচে পড়ছে। এককথায় চমৎকৃত করলো। লিখুন, এমন লেখা আরো পড়তে চাই।

তখন বিব্রত অবয়বের গোলাপজানকে দেখে বেশ বোঝা যায় এ হচ্ছে তার শরীরের বেখাপ্পা অংশ ঢেকে রাখবার সর্তক প্রচেষ্টা। তার সমস্ত সর্তকতা ব্যর্থ করে তবু নাকের নিচের অংশটুকু উইঢিবির মত উচুঁ হয়ে থাকে। তখন হাস্যরত গোলাপজানকে আরও হাস্যকর দেখায়। ভাগ্য ভাল যে মমতাহীন দারিদ্র্যের চাপে খুব বেশি হাসার সৌভাগ্য তার হয় না।

দ্বিতীয় 'তখন' মুছে দিলে কেমন হয়?

সর.......মাগী, সোহাগ য্যান ধরে না, যা ঘুম যা।

এটুকু বাস্তবানুগ কিন্তু,

আচমকা রাতের নীরবতা ভেদ করে সুতীব্র চিৎকারে কেঁপে ওঠে চারপাশ,

অতি বিশেষায়িত ঠেকছে যেন।
বিমুগ্ধ ও ঈর্ষান্বিত হবার এমন আরো আরো লেখা চাই। অল্প লিখুন, কিন্তু সবটুকু প্রতিভা ঢেলে দিন।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

সত্যি এতটুকু কারেকশনে আমি আরও পরিণত হই। কিন্তু এডিট করবো কিভাবে বুঝতে পারছি না। আপাতত আমার পিসিতে করে নিচ্ছি। মনোযোগী পাঠকের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

কল্যাণ এর ছবি

ভাল লাগল গল্পটা, একটানে পড়ে ফেলা গেল। আরো লেখা দিন।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

ধন্যবাদ। দিবো নিশ্চয়ই ধীরে ধীরে। ভাল থাকুন।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

গৌতম হালদার এর ছবি

দেশজ আর নির্ভেজাল গ্রামীন জীবনের বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি।
মন ছুয়ে যায়।

গৌতম হালদার

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।