সাবিয়া সুলতানাদের জন্যে

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: রবি, ২৭/০৫/২০১২ - ৪:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম আলোতে একটা খবর পড়ে মনে পড়ে গেলো মালেনা সিনেমাটার কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনী, মালেনার স্বামী যুদ্ধে গেছে, সে শহরে একা। শহরের সব পুরুষ সুন্দরী মালেনার প্রতি লুব্ধ। কিন্তু সামাজিক চাপে মালেনা একঘরে হয়ে পড়ে। তার কাছে কেউ কোনো কিছু বিক্রি করে না। মালেনাকে সামান্য খাবারের বিনিময়ে দেহদান করতে হয় লুব্ধ পুরুষের কাছে। জার্মান সৈন্যরা যখন শহরে আসে, মালেনা দেহোপজীবিনী হয়ে তাদের কাছে যায় জীবিকার তাগিদে, এরই মাঝে তাকে নানা ছুতোয় ভোগ করে চলে শহরের পুরুষেরা। জার্মান সৈন্যেরা চলে যাওয়ার পর নগরের বিবাহিতা নারীরা মালেনার ওপর চড়াও হয়, তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এরই মাঝে ফিরে আসে মালেনার স্বামী, সে যুদ্ধে পঙ্গু। সে এসে খুঁজতে থাকে তার স্ত্রীকে, শহরের সবাইকে অভিসম্পাত করে, এক পর্যায়ে প্রহৃত হয় সে-ও। কিন্তু সে হাল ছাড়ে না, খুঁজে বের করে ফিরিয়ে আনে মালেনাকে, দু'জনে হাত ধরাধরি করে মাথা উঁচু করে হেঁটে যায় বাজারের মাঝ দিয়ে। মালেনাকে আবারও কারো মালিকানায় দেখতে পেয়ে লম্পট স্বামীর স্ত্রীরা নিশ্চিন্ত হয়, তারা মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন করে, শুভেচ্ছা জানায়। গোটা সিনেমাটি দেখানো হয় এক বয়োসন্ধি উত্তীর্ণ কিশোরের চোখে, যার চোখে মালেনা এক অধরা যৌনতার প্রতীক। শহরের সবাই যখন মালেনাকে কামনা করে, একমাত্র সেই কিশোরটিই মালেনাকে ভালোবাসে।

প্রথম আলোতে ছাপা খবরটা পড়ে মন খারাপ লাগছে কয়েকটি কারণে। এক কিশোরী নির্জনে আরেক কিশোরের সাথে ঘনিষ্ট হয়েছে, সেই কিশোর এই ইন্টিমেসির মূল্য দিতে জানে না বলে সেই দৃশ্যগুলো মুঠোফোন আর ইন্টারনেট প্রযুক্তির হাত ধরে চলে গেছে বহু মানুষের কাছে। এর জের ধরে মেয়েটিকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছে।

আমাদের দেশে পাঠ্যক্রমে যৌন শিক্ষার কোনো স্থান নেই। ফলে এ সংক্রান্ত শিক্ষা আসে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট অথবা বহুলাংশে অপ্রীতিকর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। যৌনতার অবদমনই আমাদের দেশে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য পথ, এবং তার বিচ্যুতিকে সামাজিকভাবে শায়েস্তা করাকেই প্রশস্ত বলে ধরে নেয়া হয়। আর এর ঘানি মেয়েদেরই টানতে হয়।

প্রথম আলোতে জানানো হয়েছে,

বাগেরহাট আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুখার্জি রবীন্দ্রনাথ জানান, ৪ এপ্রিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ওই ছয়জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডাকা হয়। পাঁচজন অভিভাবকের উপস্থিতিতে ওই ছয় শিক্ষার্থীকে প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষা ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। এ ছাড়া তাদের স্কুলে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তার মানে, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা ঐ শারীরিক ঘনিষ্টতার দৃশ্যগুলো দেখে সিদ্ধান্তে এসেছেন, এই ঘটনার পাত্রপাত্রীদের সামাজিকভাবে "শাস্তি" দিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে বসে যৌনাভিচার চালানো বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পড়ে, তার শাস্তি নিশ্চয়ই দেয়া যেতে পারে, কিন্তু সে শাস্তি কি অস্ট্রাসিজম বা জনবিচ্ছিন্নকরণ হতে পারে? স্কুল কর্তৃপক্ষ এখানে যা বিবেচনায় আনেননি, তা হচ্ছে, তারা নিজেরাই ডাইনিশিকারের সূচনা করলেন। এই কাজটিকে অভিভাবকরাও সমর্থন করেছেন।

এরপর ঘটনাটিকে আরো বহুদূর টেনে নিয়েছেন দুই সাংবাদিক। প্রথম আলো লিখেছে,

১৫-২০ দিন আগে বাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আবদুর রব ও রিফাত আল মাহমুদ বলেন, ‘আপনার মেয়ের আপত্তিকর কিছু ছবি আমাদের কাছে আছে। আমরা এ বিষয়ে তার সাক্ষাৎকার নিতে চাই।’ তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি না হলে তাঁরা কয়েকটি সংবাদপত্রে ও টেলিভিশনে মেয়ের এ ঘটনা প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে চলে যান। মেয়েটি ঘরের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সব কথা শুনেছিল। এর পর থেকে সে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। গত বৃহস্পতিবার স্যাভলন পান করে আত্মহত্যা করে।

কোনো কিশোরের সাথে কোনো কিশোরীর ঘনিষ্ট হওয়ার ব্যাপারটি ঠিক কী বিবেচনায় সংবাদপত্র বা টেলিভিশনে আসতে পারে? কারো আপত্তিকর ছবি কোনো সাংবাদিকের হাতে এলে এ নিয়ে সাক্ষাৎকার নেয়ারই বা কী আছে? রাস্তার ধারে কারো প্রস্রাব করার দৃশ্যটিও আপত্তিকর, এই নিয়ে কোনো ছবি তো মুঠোফোনে ছড়ায় না, কিংবা সাংবাদিকরাও সাক্ষাৎকার নিতে যান না? ঐ দুই সাংবাদিক মেয়েটিকে আরো হেনস্তা করতেই গিয়েছেন, কারণ মেয়েটির ছবিটির পর্নোগ্রাফিক আবেদন রয়েছে। তার ছবিটি প্রকাশ না করেও তাকে পর্নোগ্রাফির উপকরণ হিসেবে সমাজের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব। মেয়েটিকে শুধু তার স্কুলের শাস্তি বা অভিভাবকের শাস্তিতে এই দুই সাংবাদিক সন্তুষ্ট ছিলো না, তারা মেয়েটিকে মালেনার মতো করে বাজারে টেনেহিঁচড়ে এনে সকলের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়ে শাস্তি দিতে চেয়েছে। মেয়েটির অপরাধ, বা সমাজের চোখে "পাপ" হচ্ছে ভিকটিম হওয়া।

প্রথম আলো বলছে,

সাবিয়া তাকে বলে, ‘ঘটনার জন্য দায়ী ছেলেদের বাড়ি সাংবাদিক যায় না, আমার বাড়িতে সাংবাদিক আসে। আমি কোথাও বের হতে পারি না। বাড়ির মধ্যেও অনেক কথা শুনতে হয়। আমি আর পারছি না। আমার মনে হয় মরে যাওয়াই ভালো।’ ওই বান্ধবী সাবিয়াকে অনেক বুঝিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই স্যাভলন পানে আত্মহত্যা করে সাবিয়া।

পর্নোগ্রাফিক দৃশ্যে একটি ছেলের উপস্থিতি নিয়ে আমাদের সমাজের কোনো মাথাব্যথা নেই, ঐ ছেলেগুলো সে কথা জানে বলেই তারা নিশ্চিন্ত মনে সে দৃশ্য ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা জানে, স্কুল বা অভিভাবক তাদের শাস্তি দিলেও, সমাজ এসে তাদের কিছু বলবে না। তারা হয়তো তাদের অন্য বন্ধুদের কাছে বাহ্বাই পাবে এমন মর্দাঙ্গি দেখানোর জন্যে। মেয়েটাকে শুধু একঘরে হলেই চলবে না, তাকে আবার সেই ঘর থেকে টেনে বের করে অযুতজনের সামনে আবার উন্মোচন করা হবে, মিডিয়ার কল্যাণে।

সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যেরা সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের পর পত্রিকায় তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে কিছু আপত্তিকর লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর পত্রিকায় কলম ধরেছিলেন, মানববন্ধন করেছিলেন, অনেক শোরগোল করেছিলেন। তারা কি এই বাচ্চা মেয়েটার আত্মহননের পেছনে নিজেদের গোষ্ঠীর সদস্যদের ইন্ধন বা দায়ের কথা স্বীকার করে একটা অ্যাপোলজি নোট দিতে পারবেন? কোথাও মানববন্ধন করে বলতে পারবেন, তারা লজ্জিত?

মানুষ কত প্রবল সম্ভাবনা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। মানুষ দুর্গম মরুভূমিতে বসে দূরবীণে চোখ রেখে সহস্র আলোকবর্ষ দূরের তারার কাছে গ্রহের সন্ধান করে একদিন সেখানে পা রাখার আশা নিয়ে, পৃথিবীর হৃদস্পন্দন শুনতে সাগরের গভীরতম খাদে নেমে পড়ে ছোট্ট ডুবোজাহাজে ঢুকে, উন্মত্ত বিশাল উল্কাপিণ্ড থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র জীবাণুর হাত থেকে অন্য মানুষকে রক্ষার জন্যে নিজের সবটুকু সময় ব্যয় করে, কেন করে? মানুষের কাছে মানুষের প্রাণের মূল্য আছে বলে। আমাদের দেশের মানুষ ক্রমশ এই মূল্য দিতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছে। যে কিশোরী সাংবাদিকের ভয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলো, সে কিন্তু এই ক্রমহ্রাসমান মূল্যের কথাই আবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেলো আমাদের। আর তার এই আত্মহননের সংবাদ তার মতো আরো অনেক কিশোরীর কাছে একটি মেসেজই বহন করবে, এমন কিছু যদি তাদের ক্ষেত্রে ঘটে, সমাধান এটিই। স্কুল-অভিভাবক তাদের আড়াল করতে চাইলেও সাংবাদিক এসে তাকে পুনরায় উলঙ্গ করতে চাইবে,তখন বাঁচতে হলে তাকে মরতে হবে।

মানুষের জীবন অনেক বড়। কোনো ছবি তার জীবনের চেয়ে বড় নয়। যারা ছবিকে জীবনের চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়, তারা মানুষ নয়। ঐ দুই সাংবাদিকের শাস্তি চাই। আর এই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের পাশে তার স্কুল আর অভিভাবকরা এসে দাঁড়ান প্লিজ, তারা আপনাদের শিক্ষা, দিকনির্দেশনা আর সহযোগিতা দাবি করে।


সংযোজন: বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এর ধারা ১১ এর উপধারা ২ এর গ অংশে প্রেস কাউন্সিলের উদ্দেশ্যে ও কার্য সম্পর্কে বলা হয়েছে [সূত্র],

to ensure on the part of newspapers and news agencies and journalists the maintenance of a high standard of public taste and to foster a due sense of both the rights and responsibilities of citizenship;

কোনো মানুষের "আপত্তিকর দৃশ্য" জনরুচির উচ্চমানের মধ্যে পড়ে কি না, কিংবা নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের যথাযথ বোধ জাগিয়ে তোলে কি না, তা নিয়ে মাননীয় প্রেস কাউন্সিল কি স্বতপ্রণোদিত হয়ে সাংবাদিকদের কোনো সবক দেবেন? মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের শিক্ষা ছাড়াই অনেকে সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় আছেন।


মন্তব্য

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

মানুষের জীবন অনেক বড়। কোনো ছবি তার জীবনের চেয়ে বড় নয়। যারা ছবিকে জীবনের চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়, তারা মানুষ নয়। ঐ দুই সাংবাদিকের শাস্তি চাই।

আমিও মনে করি, ঐ দুই কথিত সাংবাদিকের শাস্তি নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজেরই সোচ্চার হওয়া উচিত সবার আগে।

অমি_বন্যা এর ছবি

কোথায় যাচ্ছে মানুষের মনুষ্যত্ব । দিন দিন আমরা পশু হয়ে উঠছি। আমাদের সমাজ শুধু ঐ মেয়েটির কথায় বলবে যে কি নষ্টা মেয়ে। আমাদের গল্পে আর মজার বিষয় হয়ে ওঠবে তখন সে। অথচ ঐ পশুর কথাটি আমরা ভুলে যাবো অবলীলায় ।

আর একটা বিষয় হল আমাদের সাংবাদিক সাহেবরা। দিন দিন ওনারা এটাই ভাবা শুরু করছে যে তারা যা ভাবে আর করে সেটাই ঠিক।
মেয়েটির আত্ম হননের জন্য তারাই দায়ী।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

বিডি নিউজে সকালে খবরটা পড়ে খুব আহত হয়েছি। ঘটনা পরম্পরা আমার কাছে পূর্ণ স্পষ্ট হয় নি।

দুই কিশোরের কার্যকলাপ এবং পরবর্তীতে দুই (অপ)সাংবাদিকের কার্যকলাপ খুব ব্যথিত করেছে।

এই ধরণের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মত দৃঢ় মনোবল যদি মেয়েটার থাকত!!! এই মনোবল তার গড়ে উঠতে পারে নি সমাজের জন্য, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য, মানুষের মানসিকতার জন্য!! এর দায়ভার সমাজ এড়াতে পারে না!!

প্রণয়-সম্পর্ক স্থাপনে ঘনিষ্ঠ হবার মত পর্যায়ে যেতে কিছুটা সময় নেওয়া উচিৎ। ঘনিষ্ঠ হবার স্থান, সময় নির্বাচনে আরো সতর্ক হোয়া জরুরি, আর এ মুহূর্ত গুলো ভিডিও করে রাখার কোন যৌক্তিকতাই নাই। এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এধরণের ঘটনার সম্ভাব্যতা কিছুটা কমিয়ে আনতে পারবে বোধ করি।

ঐ দুই কিশোর আর সাংবাদিকদের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করি। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।

"আর এই বাচ্চা ছেলেমেয়েদের পাশে তার স্কুল আর অভিভাবকরা এসে দাঁড়ান প্লিজ, তারা আপনাদের শিক্ষা, দিকনির্দেশনা আর সহযোগিতা দাবি করে।" এখানে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের বলতে কাদের বুঝিয়েছেন ধরতে পারি নি সুস্পষ্ট ভাবে! একটু বলবেন অনুগ্রহপূর্বক?


_____________________
Give Her Freedom!

হিমু এর ছবি

আপত্তিকর দৃশ্যের পাত্রপাত্রীদের। পত্রিকার তথ্যমতে এদের বয়স ১৫ ।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

ভিডিওচিত্রটি উপস্থিত দুই পাত্র(কিশোর) ছড়িয়েছে, তাই অপরাধী বলেছিলাম। তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনা দরকার মনে হল।

তাদেরকে সহযোগিতা করা প্রয়োজনীয় মনে করছেন কেন?


_____________________
Give Her Freedom!

হিমু এর ছবি

তাদের এই অপরাধে সহযোগিতা করতে তো বলছি না।

তাদের এবং তাদের বয়সী আরো অনেক ছেলেমেয়েদের পাশেই স্কুল আর অভিভাবককে দাঁড়াতে বলছি, যাতে তারা এই ধরনের ঘটনা না ঘটায়। পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ধারণ ও প্রচারণা যে একটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, এই তথ্যটা স্কুলের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। স্কুল ক্যাম্পাসে লুকিয়ে ঢুকে শারীরিক সংসর্গ যে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ, সেটা নিয়েও তাদের প্রকাশ্যে বুঝিয়ে বলা উচিত। অভিভাবকদেরও উচিত ব্যাপারটাকে কার্পেটের নিচে চাপা না দিয়ে এটার মুখোমুখি হওয়া। সহযোগিতা বলতে একেই বুঝিয়েছি। এই কাজগুলো না করে যদি এদের অস্ট্রাসাইজ করা হয়, তাহলে তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত মেয়েদের প্রতিকূলেই যায়, ছেলেগুলোর কিছু হয় না এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।

মৃত্যুময় ঈষৎ(অফলাইন) এর ছবি

দুঃখিত।

বুঝেছি এখন। ধন্যবাদ।

তিথীডোর এর ছবি

এই কাজগুলো না করে যদি এদের অস্ট্রাসাইজ করা হয়, তাহলে তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত মেয়েদের প্রতিকূলেই যায়, ছেলেগুলোর কিছু হয় না এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।

চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ইয়াসির এর ছবি

চলুক

নিটোল এর ছবি

এসব খবরে খুব হতাশ লাগে। কল্পনায় দেখতে পাই,পত্রিকায় খবর দেখে বাগেরহাটে সেই ভিডিও সংগ্রহ করার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে।মেয়েটার প্রতিবেশিরা গুজব ছড়াবে- ঐ মেয়েটারই চরিত্র খারাপ। আসামীর বাপ-মা বড়ো গলায় বলবে, আমার সোনার টুকরো ছেলে এটা করতেই পারে না, সব দোষ ঐ মেয়ের। ফেসবুকের নারী-ইজ্জত-রক্ষা-কমিটির পেজগুলো ভিডিওর লিংক দিয়ে বলবে- 'সমাজের এই অধঃপতনের জন্য কে দায়ী?আসুন এই খবর আর লিংক সবখানে ছড়িয়ে দেই।এই খবরের জন্য কয়টা লাইক?"

ওই দুই কুলাঙ্গার সাংবাদিকসহ সকল আসামীর শাস্তি চাই। দিতে হবে।

_________________
[খোমাখাতা]

সাফি এর ছবি

চলুক

বন্দনা এর ছবি

'সমাজের এই অধঃপতনের জন্য কে দায়ী?আসুন এই খবর আর লিংক সবখানে ছড়িয়ে দেই।এই খবরের জন্য কয়টা লাইক?"

এইধরনের ছবি আর খবর শেয়ার করে লাইক চাওয়া টাইপের গ্রুপ এডমিনরে ধরে সমানে থাপড়াইতে মন করে আমার।আর আমাদের মুসুল্লী ভাইবোনেরা এসে ঐসব পেজে নসিহত করা শুরু করে, পুরা গা জ্বালা করে।

মরুদ্যান এর ছবি

চলুক

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

দ্রোহী এর ছবি

মন খারাপ

ভবিষ্যতে হয়তো রাজাকার শব্দটার মতো সাংবাদিক শব্দটাও গালি হিসাবে ব্যবহৃত হবে।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বলে আমাদের দেশে কিছু নাই কেন?

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

এবিএম এর ছবি

স্কুল-অভিভাবক তাদের আড়াল করতে চাইলেও সাংবাদিক এসে তাকে পূনরায় উলঙ্গ করতে চাইবে, তখন বাঁচতে হলে তাকে মরতে হবে

চলুক

নিজেদের স্বার্থে লাফালাফি করতে কারো এতটুকু সমস্যা হয় না। সাংবাদিক ভাইদের কাছে ক্ষমাসূচক স্টেটমেন্ট আশা করতেছি আমরা।

চরম উদাস এর ছবি

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত জড়িত সকলেরই। শুরু হোক ওই দুই সাংবাদিক দিয়েই। চাইল্ড পর্ণ যে কত ভয়ঙ্কর অপরাধ এবং তার সাথে যে কোন ভাবে জড়িতদের শাস্তি যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে পাশ্চাত্য দেশে তা বোধহয় আমাদের দেশের অনেকেরই জানা নেই। এই সুযোগ ব্যপারটা সবাইকে জানানো ও প্রতিবাদ করার।
ওই দুই সাংবাদিক এর পরিচয় এবং তাদের কর্মকান্ডের ডিটেলস জানা দরকার।

ক্রেসিডা এর ছবি

আমি একটা ব্যাপারে তেমন কিছু জানি না, যদি কেউ ক্লিয়ার করেন। পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রায়শই দেখি, এরূপ ঘটনা ঘটার পর যখন সুইসাইড হয়, তখন পুলিশ যেয়ে অপরাধীদের বাসায় যায়, এবং যথারীতি কাউকে খুঁজে পায়না, বা সবাই পালাতক। পুলিশ যায় তখন, যখন কেউ জিডি করে বা কেস করে। কিন্তু প্রথম থেকেই ব্যাপারটা অপরাধ! কেই জিডি না করলে কি অপরাধ হয়ে থাকলেও পুলিশ তাকে সাথে সাথে যেয়ে ধরার চেষ্টা করতে পারে না? নাকি কেই কেস করবে সেটার জন্যে ওয়েট করাটা নিয়ম?

মানুষ যতদিন না সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠবে, এসব বন্ধ করা, এসব নোংরামি ঘটতেই থাকবে! অভিভাবক, মিডিয়া, প্রশাসন সব লেভেল এ যদি সম-ভাবে সচেতনতা আসতো!

__________________________
বুক পকেটে খুচরো পয়সার মতো কিছু গোলাপের পাঁপড়ি;

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

পুলিশের কী দায় পড়েছে যে পুলিশ ঘরে ঘরে অপরাধ-অপরাধী ইত্যাদি খুঁজে বেড়াবে! অপরাধ সংঘটিত হলে ভিকটিম অপরাধের সব আলামতসহ দুর্বৃত্তকে গামছা দিয়ে বেঁধে পুলিশের কাছে নিয়ে আসবে - এটা তার আইনী দায়িত্ব। পুলিশ তারপর বিবেচনা করবে মামলা নেয়া যাবে নাকি সাধারণ ডায়েরী নেয়া যাবে, অথবা আদৌ কোন রেকর্ড রাখা হবে কিনা। যাকে দুর্বৃত্ত বলা হচ্ছে তার বা তার মা-বাবা'র রাজনৈতিক পরিচয়, ট্যাঁকের অবস্থা, সরকারী কর্মকর্তা কিনা বা এলাকার প্রভাবশালী কিনা ইত্যাদি অনেক জটিল সমীকরণ পুলিশকে সমাধান করতে হয়। এসব সমীকরণের সমাধান হলে তারপর পুলিশ ভাববে অ্যাকশনে যাবে কিনা। পুলিশের কাজ সহজ নয়!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অরফিয়াস এর ছবি

প্রথমত এই ঘটনা দেশে বিরল নয়, এর আগেও অনেকবার ঘটেছে এবং মূল হোতারা পার পেয়ে গেছে।

দেশে ছেলে-মেয়েদের সামাজিক মেলামেশায় বাধা, যৌনশিক্ষার অভাব, অভিভাবকদের মানসিকতা, সমাজে নারী-পুরুষের বন্ধুত্বকে তির্যকভাবে দেখা ইত্যাদি অজস্র কারণে আমাদের এই অঞ্চলগুলোতে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক মেলামেশা এবং বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এর বিপরীতে নারীদের প্রতি অধিকাংশ পুরুষের একটি বিকৃত মানসিকতা গড়ে উঠেছে এবং নারীকে শুধুমাত্র যৌনসামগ্রী কিংবা যৌনসঙ্গী ভাবার একটা মানসিকতাও যথেষ্ঠ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এর জন্য সমাজের অতি রক্ষনশীলতা, নারীকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক ভাবা এবং নারী অধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন এর অভাব রয়েছে। এই পরস্পর সংযুক্ত কারনগুলো যতদিন না পর্যন্ত সঠিকভাবে সমাধান করা সম্ভবপর হবে ততদিন এই সমস্যা হ্রাস পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখিনা।

আর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে আমাদের দেশে আর সম্মানজনক স্থানে নেই, এর পেছনে সাংবাদিকদের মানসিকতাই দায়ী। এর মানে এই নয় যে, সবাই একই রকম কিন্তু দেখা যাচ্ছে আজকাল সাংবাদিকরা তাদের ক্ষমতার ব্যবহার করে অজস্র এধরনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন। আমার নিজের আশেপাশে দেখা বেশকিছু ঘটনা এর উদাহরণ আছে।

আর এই নির্দিষ্ট ঘটনাটিতে, অভিভাবক এবং সমাজের সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসা উচিত। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিবেচনা না করে অন্তত চিন্তা করা উচিত এরকম কোনো একটা ঘটনা তাদের সন্তানের সাথেও ঘটতে পারে। কিছু হলেই যে, অপরকে দোষ দিয়ে নিজের চামড়া বাঁচানোর মানসিকতা এটা বুমেরাং হতে কতক্ষণ?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

আদনান নিলয় এর ছবি

দেশে ছেলে-মেয়েদের সামাজিক মেলামেশায় বাধা, যৌনশিক্ষার অভাব, অভিভাবকদের মানসিকতা, সমাজে নারী-পুরুষের বন্ধুত্বকে তির্যকভাবে দেখা ইত্যাদি অজস্র কারণে আমাদের এই অঞ্চলগুলোতে নারী-পুরুষের স্বাভাবিক মেলামেশা এবং বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এর বিপরীতে নারীদের প্রতি অধিকাংশ পুরুষের একটি বিকৃত মানসিকতা গড়ে উঠেছে এবং নারীকে শুধুমাত্র যৌনসামগ্রী কিংবা যৌনসঙ্গী ভাবার একটা মানসিকতাও যথেষ্ঠ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। এর জন্য সমাজের অতি রক্ষনশীলতা, নারীকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক ভাবা এবং নারী অধিকারের সঠিক বাস্তবায়ন এর অভাব রয়েছে। এই পরস্পর সংযুক্ত কারনগুলো যতদিন না পর্যন্ত সঠিকভাবে সমাধান করা সম্ভবপর হবে ততদিন এই সমস্যা হ্রাস পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখিনা।

সহমত।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

সেদিন কোথায় যেন পড়েছিলাম "এদেশে সাংবাদিকদের ক্ষমতা সীমিত" এখন হাসি আসছে।

>দুই হিরো সাংবাদিকের নাম ঠিকানা সহ দারুন হাইলাইট করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া যেতে পারে, তাদের আত্বীয় স্বজনেরা দেখুক তাদের কৃতিত্ব, তারা কতো খাঁটি অনুসন্ধানী রিপোর্টের রিপোর্টার তাও আসলে সকলকে জানানো উচিত,সাংবাদিকই বটে।

>ভালো লোকগুলো নিঁখোজ হয়ে যায় তার বদলে এদের দুয়েকজন সহি সালামতে হাওয়া হয়ে গেলেই পারে।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

সকালে ঘটনাটা পড়ে নির্বাক হয়ে গেছি। মন খারাপ

অপসাংবাদিকদের মধ্যে সর্বশেষ দুটো কুলাঙ্গারের নাম আবদুর রব ও রিফাত আল মাহমুদ। এই দুই অপসাংবাদিককে আইনতঃ শাস্তির আগে জনসমক্ষে জুতোনোর ব্যবস্থা করা উচিত।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

বন্দনা কবীর এর ছবি

এই পোস্টটা পড়ে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল এইরকম--- ঐ দুইটাকে আগে জুতোপেটা করা হোক তারপরে অন্য কিছু। এই সব সাংবাদিক ভংধারীদের জন্যই এই দলটার উপরে ঘেন্না ধরে যাচ্ছে।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এদের ছবি নাম ঠিকানা প্রকাশ করা হোক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কাজি মামুন এর ছবি

আমি মালেনা ছবিটা দেখেছি। সমাজের কাছে নিগৃহীত হলেও ছবিশেষে মালেনা বিজয়ী হয়। কিন্তু মালেনার ঐ বিজয় ছিল একটা বার্তা; বাস্তবে মালেনাদের হার মানতে হয়, যেমন মানতে হয়েছে সাবিয়াকে।
আমিও ঐ দুই সাংবাদিকের শাস্তি কামনা করছি।

কিশোর এর ছবি

যেসব ছেলেরা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের কে আইন বা সমাজের ভয় না দেখিয়ে কি তাদের মধ্যে মনুষত্ত বোধ জাগানো যায় না ? যখন দেশের সকল স্তরের অধিকাংশ মানুষের মাঝে মনুষত্ত বোধ জেগে উঠবে তখন দেশের মানুষ এই ধরনের কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে।
এই ধরণের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মত দৃঢ় মনোবল যদি মেয়েটার থাকত!!! এই মনোবল তার গড়ে উঠতে পারে নি সমাজের জন্য, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য, মানুষের মানসিকতার জন্য!! এর দায়ভার সমাজ এড়াতে পারে না!!

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা এর ছবি

তারা কি এই বাচ্চা মেয়েটার আত্মহননের পেছনে নিজেদের গোষ্ঠীর সদস্যদের ইন্ধন বা দায়ের কথা স্বীকার করে একটা অ্যাপোলজি নোট দিতে পারবেন? কোথাও মানববন্ধন করে বলতে পারবেন, তারা লজ্জিত?

এটা করলে তো খুবই ভালো হত! কিন্তু আমাদের দেশে তো এই প্রবণতা বিরল!

যেহেতু প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় এবং সামাজিক ব্যবস্থায় এই ঘটনাগুলোর জন্য দায়ীদের কোন শাস্তি হয় না, তাই ব্লগগুলো কি এই ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারে না? প্রধান প্রধান ব্লগগুলো যদি একত্রে ঐ ছেলেগুলোর এবং সাংবাদিক দুজনের ছবি, নাম, ঠিকানা এবং কৃতকর্মের সাবটাইটেল দিয়ে ব্যানার বানিয়ে সপ্তাহ দুয়েক স্টিকি করে রাখে, তাহলেও তো সামান্য কিছু একটা করা হয়!

অতিথি লেখক এর ছবি

আমিও ভণ্ড অনেকের মত

অনেকের ক্ষেত্রেই কথাটি প্রযোজ্য হয়ত । কিন্তু এই ভণ্ডামি প্রকাশ না করুক কেউ । যেই হোক সে- ।
আর যার প্রকাশের ইচ্ছা বেশি তাকে কেন পল্টন ময়দানে উন্মুক্ত করা হবেনা ।
'দেখুক সবাই' ।

কড়িকাঠুরে

ধুসর জলছবি এর ছবি

এর আগে ভিকারুন্নেসাতে ধর্ষক পরিমল জয়ধরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়ও সাংবাদিকরা প্রথম আলোতে মেয়েটার পোশাক নিয়ে ফালতু কথা লিখেছে। সেই সময় অনেক সাংবাদিকরা আন্দোলনকারীদের নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়েছে বলেও শুনেছি। এদেশে সাংবাদিক পেশাটা তারা নিজেরাই পচিয়ে ফেলছে। আসলেই কিছুদিন পর লোকে এটাকে গালি হিসেবে ব্যাবহার করবে। ভাল সাংবাদিকদেরই উচিত সবার আগে প্রতিবাদ করা। কিন্তু কাউকে তা করতে দেখলাম না এযাবৎ।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত জড়িত সকলেরই।

হিমু এর ছবি

প্রথম আলোর মালিক লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিলো। প্রথম আলোতে যে সাংবাদিক পরিমল জয়ধরের ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পোশাক নিয়ে প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে, সে শাজনীনের ব্যাপারেও নিশ্চয়ই একই মনোভাব পোষণ করে। আনিসুল হক ভাইয়ার মতে, প্রথম আলোতে তিন চার হাত সম্পাদনার পর সব লেখা ছাপা হয়। কাজেই এই মনোভাব নিশ্চয়ই সেই তিন চার হাতের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা হাতের মালিক খোদ মতিউর রহমানের মাঝেও আছে।

ধুসর জলছবি এর ছবি

তাতো আছেই। তাদের পত্রিকার কীর্তিকলাপই সেটার সাক্ষী।

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

মন খারাপ একের পর এক। আর কয়টা জীবন এভাবে গেলে আমরা বলা শিখব - 'এনাফ ইজ এনাফ ইজ এনাফ'? জানি উত্তরটা কারও কাছেই নেই।

অতিথি লেখক এর ছবি

কিছুই করতে না পারার অক্ষম ক্রোধে নিজের কাছে নিজেই কুঁকড়ে যাচ্ছি ক্রমাগত।

তারেক অণু এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ লেখা, এমন ঘটছে কিন্তু আর যেন না ঘটে সেই জন্য সচেতন হতে হবে সবাইকেই। বলা তো সহজ, যেমন আমি বললাম, কিন্তু কাজ সবাই শুরু করব কি?

মানুষের জীবন অনেক বড়। কোনো ছবি তার জীবনের চেয়ে বড় নয়। যারা ছবিকে জীবনের চেয়ে বড় করে দেখাতে চায়, তারা মানুষ নয়। ঐ দুই সাংবাদিকের শাস্তি চাই।

শাফায়েত এর ছবি

যারা ওড়না পেজে লাইক মারেন তারা কি জানেন এসব মেয়েদের রক্ত আপনার হাতেও লেগে আছে?

বাহিরি এর ছবি

খবরটা পড়ার পর থেকে অস্থির লাগছে।
১৫ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে কতটা অসহায় বোধ করলে মারা যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারে!

সচল জাহিদ এর ছবি

যারা ইন্টারনেটে ঐ দৃশ্যগুলি ছড়িয়েছে তারাও অপরাধের সাথে জড়িত এবং এদের সাথে ঐ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

পুনশ্চঃ হিমু, মুভিটার নামটা কি ?


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

হিমু এর ছবি
সচল জাহিদ এর ছবি

হুম, মুভির নাম যে মালেনা সেটা লক্ষ্য করিনি ইয়ে, মানে... । ধন্যবাদ।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

শেয়ার দিলাম

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

পরিমলের ঘটনায় প্রথম আলোর রিপোর্টারের যেমন মেয়েটির পোশাক আশাকের প্রতি ইঙ্গিতপূর্বক তাকে 'চরিত্রহীন' প্রমানের প্রয়াস ছিল, এ রিপোর্টটিও সেই প্রবণতা থেকে মুক্ত নয়। লক্ষ করুন:

বিয়ার কয়েকজন সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, চার আসামি আর সাবিয়াসহ আরও কয়েকজন বেশ ঘনিষ্ঠ ছিল। সাবিয়া ও অন্য এক মেয়ের সঙ্গে মুজাহিদের এবং আরেক মেয়ের সঙ্গে সীমিন হাসানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৬ মার্চ সাবিয়া, মুজাহিদ, সীমিনসহ ছয়জন বাগেরহাট স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে না গিয়ে বিদ্যালয়ে যায়। একটি শ্রেণীকক্ষে বসে তারা মুঠোফোনে সাবিয়া ও অপর মেয়েটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কিছু ভিডিওচিত্র পৃথকভাবে ধারণ করে।

এখানে যেন কিছুটা carefully careless ভাবেই মেয়েটির প্রতি সমাজের পুরুষতান্ত্রিক চিত্তবৈকল্যকে পুঁজি করে ঋণাত্মক কনোটেশন উস্কে দেয়া হয়েছে। প্রথম আলোর এই রিপোর্টটিও প্রতিবাদের দাবি রাখে।

পথের ক্লান্তি এর ছবি

খুবই মর্মস্পর্শী ঘটনাটা।
আসলেই এই আত্মহননের জন্য খালি চোখে সবাই অবশ্যই দায়ী; তথা ভিডিও ধারণকারী, সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কুলাঙ্গার,,,, কিন্তু সবচেয়ে বড় দায়ী হচ্ছে এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীর সমাজ। যে সমাজ মেয়েটাকে এই বার্তাই পাঠিয়েছে, তুই মর! মৃত্যুই একমাত্র নিয়তি।

রায়হান আবীর এর ছবি

খুবই খারাপ লাগলো ঘটনাটা পড়ে ... মন খারাপ

মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের শিক্ষা ছাড়াই অনেকে সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় আছেন।

যাবতীয় কোনো ব্যাপারেই কোনো ধরণের শিক্ষা ছাড়াই অনেকে সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় আছেন। এই কয়দিন আগেই প্রথম আলো R.I.P এর বাংলা করতে গিয়ে বলেছে এর অর্থ ছিড়ে ফেলা। অশিক্ষিতরাও আজকাল সাংবাদিক হতে পারে।

সাফি এর ছবি

R.I.P এর বাংলা করেছিল টেনে ছিড়ে ফেলা।

হিমু এর ছবি

আনিসুল ভাইয়া বলেছেন, তিন চার হাত ঘুরে আলুতে সব ছাপা হয়। কাজেই বুঝতে হবে এই অনুবাদের পেছনে খোদ মতিউর রহমানের অনুমোদন আছে। কিংবা কে জানে, মতিউর রহমান ভাইয়াই হয়তো এই খবর নিজের হাতে অনুবাদ করেছেন।

সাফি এর ছবি

"সামাজিক চাপ" নামক মেয়েদের এভাবে ভিকটিমাইজ করার হাতিয়ারটা বাতিল করা দরকার, আর এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া অন্য উপায় দেখছিনা। সেই মুক্তিযুদ্ধফেরত বীরাঙ্গনাদের অনেকেই তাদের শিশুদের রাখতে চায়নি সমাজের ভয়ে, নিজেদের নির্যাতনের কথা জানাতে চায়নি সমাজের দ্বারা অপাঙ্তেয় হওয়ার ভয়ে - এবং অনেকে হয়েছিলেন ও। এই ছোট্ট মেয়েটার প্রতি এরুপ আচরণ নতুন কিছুনা, এর ই ধারাবাহিকতা মন খারাপ

আমার দেখা অন্যতম সেরা ছবি মালেনার রিভিউটা খুবই ভাল লাগলো।

বুনোফুল এর ছবি

উত্তম জাঝা! উত্তম জাঝা!

তাপস শর্মা এর ছবি
সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

একটা খুব বড় সাংস্কৃতিক আন্দোলন খুব জরুরী

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

বৃষ্টির রঙ এর ছবি

কেন আমরা ক্ষয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন? এইসব খবর ঘুরে ফিরে ক'দিন বাদে আবার আসবে সংবাদপত্রে। আবার সবাই সরব হবে দিন কয়েকের জন্য। তারপর? নিজ পথে ব্যস্ত মৌমাছি সবাই। আমরা তো গর্জে উঠিনা এই বলে যে "এমনটা আর হতে দেবোনা।" মেয়েরা, মায়েরা আর কতভাবে যে নির্যাতিত হতে পারে এই দেশে!

Shormee Amin এর ছবি

ভিকারুননিসা কলেজে জখন পরতাম, তখন আমার এক বান্ধবির সাথে এক ছেলে শারীরিক সম্পর্ক করে তার ভিডিও নেট এ ছেড়ে দেয়। কি ভয়াবহ যন্ত্রণা যে সেই মেয়ে পেয়েছিল তা চিন্তাই করা যায় নাহ!! এখনও পর্যন্ত আমাদের ভার্সিটি তে ওকে নিয়ে যেসব কথা বলা হয় তা কেউ ভাবতেও পারবে নাহ!! অথচ আমি এই জীবনে এত ভাল মেয়ে খুবই কম দেখিছি। বলা বাহুল্য সেই ছেলের কিছু হয়নি। শুনেছি আরেক মেয়ের সাথে তার নাকি আরেকটা পর্ণ বের হয়েছে !!!

হিমু এর ছবি

সাংবাদিক ভায়েরা এই ঘটনার আর কোনো ফলোআপই করেন নাই। ঘটনা কী?

হিমু এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।