বান্ধবীর চিঠি যেন বউয়ের কাছে না যায় - মুনির হাসান

শামীম এর ছবি
লিখেছেন শামীম (তারিখ: মঙ্গল, ২৭/০৭/২০১০ - ৭:৫০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত ২৩শে জুলাই বন্টু মিন্টুর আড্ডায় গিয়েছিলাম। সচলায়তন এটার লাইভ ব্লগিং পার্টনার ছিল সেটা সকলেই জানেন আশা করছি (গৌতম দাদাকে আন্তরিক ধন্যবাদ)। সেই আড্ডা সম্পর্কে একটু ছোট রিভিউ লেখার খায়েশ জাগলো বলেই .... ....।

বেশ কিছুদিন যাবৎ (সাড়ে ৩ বছর +) নিয়মিত শুধুমাত্র লিনাক্স ব্যবহার করছি বলেই, বুঝি বা না বুঝি - এ বিষয়ে খুটিনাটি বিষয়গুলো অনলাইনে পড়ে রাখার চেষ্টা করি সবসময়। কারণ আমি জানি যে, কম্পু বিষয়ে বিপদে পড়লে নিজেকেই নিজের সাহায্য করতে হবে। এই একই কারণে প্রথম যখন কম্পিউটার কিনি ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে, তার প্রায় দুই বছর আগে থেকে নিয়মিতভাবে কম্পিউটার জগত নামক একটা পত্রিকার শুরুর মলাট থেকে শেষ মলাট পর্যন্ত পড়তাম এবং কপিগুলো সংগ্রহে রাখতাম। নিঃসন্দেহে সেই পড়াগুলো এই যন্ত্রটাকে ভালভাবে(?!?) বুঝতে অনেক সাহায্য করেছিলো - এবং কম্পুটারের সমস্যা হলে প্রায় সবসময় নিজে নিজেই হাতুড়ে চিকিৎসা দিতে পারতাম।

যা হোক, নিজের পড়ার উপরে একটু আত্মপ্রসাদ থাকলেও বন্টু মিন্টুর আড্ডাতে গিয়ে রেভুলুশন ও.এস. তথ্যচিত্র দেখে এমন কিছু নতুন তথ্য জানলাম যা লিনাক্স ও মুক্তসোর্স সম্পর্কে নিজের আগ্রহ ও শ্রদ্ধাটাকে আরও উপরে তুলে নিল। মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের জনক রিচার্ড স্টলম্যান সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে ব্লগে ফোরামে পড়েছি ... ... কিন্তু জানতামই না যে এই ব্যাটা MIT'র (= খ্যাতনামা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে গবেষণা দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। MIT বা স্ট্যানফোর্ড শুনলেই কেমন যেন শিরশিরে একটা অনুভুতি জাগে বেশ আগে থেকেই, আর এই ব্যাটা সেখানকারই একজন ... ...। বাকী যেসব লোকেরা এই লিনাক্স বা ওপেনসোর্স আন্দোলনের সাথে জড়িত এবং এই তথ্যচিত্রে দেখালো তারাও কিন্তু বাণের জলে ভেসে আসা কেউ না .... ... নামী সব ইউনিভার্সিটির পাগলাটে সব গবেষক। ওপেনসোর্সের জন্য কর্মরত বেশিরভাগ লোকজনই এমন সব ব্রিলিয়ান্ট লোকজন .... .... .... .... তা-ই-তো বলি, আমার কাছে জানালার তুলনায় লিনাক্স কেন এ্যাত বেশি নিঁখুত মনে হয়।

তথ্যচিত্রর শুরুর দিকে একটা হিট ডায়লগ না জানালে তো ব্লগটাই নিজের কাছে অসম্পুর্ন মনে হবে। ওপেনসোর্স পথিকৃতদের একজন বললেন যে একদিন লিফটে সুটেড বুটেড লোককে মাইক্রোসফটের লোগো বা আই.ডি. লাগানো দেখে বলেছিলেন: So .... ... you work in microsoft! ঐ লোক একটু হয়তো খুশি, জবাব দিলেন "হ ঠিকাছে, তয় তুমি কী কর চান্দু?" .... .... আমি তো একজন হ্যাকার, এ কথা ওরে বুঝাই কীভাবে ..... কিছু তো একটা বলা দরকার ... ... একটা কঠিন বিষদৃষ্টি দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম: I am your worst nightmare.

যা হোক, তথ্যচিত্রের পর শুরু হওয়া আড্ডায় এক পর্যায়ে শ্রদ্ধেয় মুনির হাসান ভাই অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন। তিনি জানালেন যে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মহোদয়কে ওপেনসোর্সের বিষয়টা উপলব্ধি করাতে পেরেছেন, তাই সরকারী কাজকর্মগুলোতে ওপেনসোর্স চলে আসছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া, যেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা বা চেয়ারম্যানদের প্রশিক্ষণ হয় সেই ল্যাবের কম্পিউটারগুলো উবুন্টুতে চলে। কিন্তু প্রশিক্ষণ অফিসের যেই কম্পুতে তিনি উবুন্টু রেখেছিলেন, পরবর্তী ব্যক্তি সেটা আবার জানালাতে নিয়ে গেছে, কিন্তু ল্যাবের গুলো পরিবর্তন করেনি ... ... কারণ জানালা বিশিষ্ট নেটওয়র্কের জানালা গলে অনেক ঝামেলা চলে আসে যা উবুন্টুতে হয় না। এরকম একবার উবুন্টু আবার জানালা দেখে মনখারাপের কিছু নাই, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, আর এভাবেই আগুপিছু করতে করতে একসময় ওপেনসোর্স চুরি করা জানালার স্থান নিয়ে নেবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন যেটা নিঃসন্দেহে আমাদের নীতিনির্ধারক মহলের মাথাতেও দিয়েছেন - সেটা হল "বান্ধবী বা গার্লফ্রেন্ডের কাছে লেখা চিঠির কপি যেন বউয়ের কাছে চলে না যায়" - নাইলে কিন্তু বিরাট ক্যাচালের মধ্যে পড়তে হবে! জানালাতে তথ্যচুরির কিছু ব্যাকডোর মাঝে মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবেই দেয়া হয়, এবং NSA নামক উইজেটের কী কাজ, এই ব্যাপারে মাইক্রোসফট কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি; তবে এটা খুবই স্পষ্ট যে এন.এস.এ. আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নামের অদ্যক্ষর ... কাজেই এই উইজেট কী করছে সেটা সহজে অনুমেয়।

মুনির হাসান ভাইয়ের মুখে এই কথা শুনে আমার একটা পঠিত ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। জার্মানীর পার্লামেন্ট জানালা বাদ দিয়ে লিনাক্সের দিখে ঝুকেছে এমন খবরটা ২০০১ সালের; কারণ হল জানালার খরচ বেশী ছাড়াও এর ফাঁক গলে সমস্ত গোপনীয়(!) তথ্য আমেরিকায় চলে যাচ্ছে বলে একটা থলের বেড়াল বের হয়ে পড়েছিলো। ব্লগটি লেখার জন্য এই খবরের রেফারেন্সের জন্য গুগল করলাম একটু ... ...সামান্য কিছু অবশিষ্ট খবর পেলাম এখানে এবং এখানে

আড্ডার এমন পর্যায়ে চা বিরতি দিয়েছিলো, আর আমিও এর পরে থাকতে পারিনি (শুক্কুরবারেও ক্লাস নিতে হয় মন খারাপ ) ... ... তাই বাকীটুকুর জন্য হয় গৌতম দাদা অথবা রণদীপম দাদার পোস্টের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নাই ... .... থুক্কু ...সকাল সকাল ব্লগ লিখে সচলে পোস্টাইতে এসে দেখি রণদীপম দাদা দারুন একখান পোস্ট দিয়ে ফেলেছেন গতরাতেই


মন্তব্য

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ভালো লাগলো অনুষ্ঠানের বর্ণনা পড়ে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

শামীম এর ছবি

আড্ডার অনেকগুলো দিক আছে বা ছিলো। কিন্তু আপাতত এই লেখায় আমার ফোকাস ঐ একটাই চোখ টিপি

রণদীপম দাদার লেখাটা আড্ডাকে তুলে ধরেছে দারুনভাবে। চলুক
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

রাহাত এর ছবি

শামীম ভাই আমিও সেদিন আপনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি...
কিন্তু কাছে গিয়ে কথা বলার সাহস পাই নাই...কারন আমি এখন পর্যন্ত মাষ্টার দেখলে ভয় পাই...যাই হোক প্রজন্ম তে আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম...
যদি কষ্ট করে উত্তর টা দিতেন...
রাহাত।

অতিথি লেখক এর ছবি

মাহে আলম খান

"বান্ধবীর চিঠি যেন বউয়ের কাছে না যায়" - ভাল একটা ক্যাচফ্রেশ হয়ে গেলো। ধন্যবাদ শামীম ভাই এ ব্যাপারটি মনে করিয়ে দেবার জন্য।

কৌস্তুভ এর ছবি

হায়, যাদের বান্ধবীও নাই বউও নাই তাদের কি হবে? ওঁয়া ওঁয়া

বন্টুমিন্টুর উপর সব কথা মন দিয়ে পড়ি, আপনার লেখাটাও খুব ভাল লাগল।

রণদীপম বসু এর ছবি

ধন্যবাদ শামীম ভাই।
একটা অতৃপ্তিবোধ ছিলো। প্রযুক্তিকানা বলেই যে কথাগুলো ভয়ে ভয়ে আমার পোস্টে আনতে পারি নি, কি জানি প্রাযুক্তিক পরিভাষা বা প্রতিশব্দ ব্যবহারে ও বর্ণনায় উল্টোপাল্টা ঘটনা ঘটিয়ে ক্যাচাল বাঁধিয়ে ফেলি, আপনি খুব চমৎকার ও প্রাঞ্জলভাবে সে কথাগুলো এনেছেন।

ইশশ্, ক্যান যে টেকি হতে পারলাম না ! হা হা হা !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

তানভীর এর ছবি

একটা গপ্পো মনে পড়লো। তখন ডায়ালাপের যুগ। পোঁ করে নেটে ঢুকলেই টাকা কাটতে শুরু করে। পাব্লিক ইমেইল-টিমেইল সব আগেই অফলাইনে লিখে তারপর অনলাইনে কপি-পেস্ট করে সেন্ড করে। আমার এক পরিচিতার স্বামী, শ্বশুর দু’জনই বিদেশে থাকে। ওয়ার্ডে হাজবেন্ডকে আবেগময় বিশাল চিঠি আর শ্বশুরকে ‘কেমন আছেন আব্বাজান’ জাতীয় ছোট চিঠি লিখে সে কপি-পেস্ট করে ইমেইল করে দিলো। রিভিশন দিতে গিয়ে দেখে স্বামীর চিঠি শ্বশুরের কাছে আর শ্বশুরের চিঠি স্বামীর কাছে চলে গিয়েছে খাইছে

কুটুমবাড়ি এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

অভ্রনীল এর ছবি

_NSAKEY এর খবরটা আসলেই জানতামনা! এটাতো বিশাল ব্যাকডোর! এই ব্যাকডোরটা দিয়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রায় সব কম্পিউটারের সমস্ত তথ্যই মার্কিনীদের হাতে চলে যাচ্ছে! ব্যাপারটা চিন্তা করেই গা শিউরে উঠছে।

_NSAKEY নিয়ে আরেকটি লেখা পেলাম এখানে
_______________
.:: উবুন্টু ও মিন্টকে ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে! ::.

রণদীপম বসু এর ছবি

পোস্টে একটা পাঁচতারা দিলাম। কারণ মুনির ভাই'র বক্তব্যের মাধ্যমে উঠে আসা এই এনএসএকী-এর ভয়ঙ্কর তথ্যটা সবার জানা উচিত। উইন্ডোজ যে তলে তলে এমন ভয়ঙ্কর স্পাই-এর ভূমিকা নিয়েছে, তা ভাবলে যে কারোরই গা শিউরে উঠার কথা !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

শামীম এর ছবি

আমেরিকার সরকার তার আকামের কথা প্রকাশ হয়ে গেলেই সেগুলোকে কন্সপিরেসি থিওরি বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করে -- এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু জার্মানীর তথ্য প্রযুক্তিবিদগণ নিশ্চয়ই কিছু সত্যতা পেয়েছিলেন ... তা-নাহলে পার্লামেন্টের মত বড় একটা জায়গায় ও.এস. পাল্টিয়ে সকলকে প্রশিক্ষিত করা চাট্টিখানি কথা নয়।

এই ফাকে জানিয়ে রাখি যে ক্যানোনিকালের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে উবুন্টু ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১.২ কোটি। (উইকিপিডিয়া)
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

সালাহউদ্দিন পাশা এর ছবি

যদিও প্রথম আলো ও ওপেনসোর্সের সাইনবোর্ডধারী মনির হাসানকে যতটা দেখেছি তাকে বহুমুখী স্বাভাবের ভাল আমলাই মনে হয়েছে। সে যাই হোক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যাই নাই যাই।

কিন্তু আপনার লেখার বক্তব্যের সঙ্গে ২০০% একমত যে ওপেনসোর্স প্রযুক্তিতে আসা ছাড়া উপায় নেই। তবে জার্মান এর সঙ্গে আমাদের দেশের পরিস্থিতির কিছু পার্থক্য আছে। ওপেন সোর্সের সাপোর্টের জন্য দক্ষ আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার জরুরী। বাংলাদেশে আইটিতে অভিজ্ঞ লোকজনের অভাবই বলা চলে। ফ্রাঙ্কফুর্টে দেখেছি সমস্ত সাইবার ক্যাফে চলছে লিনাক্স, ফ্যাস্ক ফোনের দোকানও লিনাক্স। তার জন্য অনেক সাপোর্ট প্রতিষ্ঠান আছে।শুধু টেকনোলজির খরচ ধরলেই হবে না। কারণ উইন্ডোজের ব্যবহারকারী ঘরে ঘরে। শিখে নেয়া বা বিপদে সাহায্য চাওয়ার জন্য লোকের অভাবে হয়না।

লিনাক্সের অভিজ্ঞ লোকে খুঁজতে গিয়ে দেখেছি, বিডিকমের সাবির সুমন বা আইএসপির কিছু পুরনো এডমিন ছাড়া অভিজ্ঞ কেউই নেই। যারা আছে তারা বেতনও চায় উইন্ডোজ দ্ক্ষ লোকের চেয়ে বেশি। সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে লোকবল তৈরী করা এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় লিনাক্সের লোকবল বৃদ্ধি না হলে জোর করে লিনাক্স ইন্সটল করে দিলেও, কর্মচারীরা লুকিয়ে ঠিকই উইন্ডোজ ব্যবহার করবে।

রিং এর ছবি

শামীম ভাই খুবই সুন্দর একটা লেখা। পড়ে খুব মজা পেলাম। আর নিজের জানার ও কিছু ঘাটতি ছিলো, আপনার লেখাটা পড়ে সেই ঘাটতিটা পূরন হয়েছে।1

বোহেমিয়ান এর ছবি

ছিলাম সেই দিন আড্ডায় কিছু সময়ের জন্য হলেও worst nightmare কথাটা শোনার পর গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছিলো!
ওপেনসোর্সের জয় হোক।
_________________________________________

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

মুনির হাসান এর ছবি

পাশার কথাটা জরুরী। এটা হয়তো ঐদিন আমার বক্তব্যের মূল সুর ছিল- হরাইজন্টালি বেড়ে ওঠা। কারণ যখন কেহ নতুন কম্পিউটার কিনতে যায় তখন সে তার কম্পিউটার ব্যবহারকারী ভাইপো, ভাগনি, বন্ধুর শরণাপন্ন হয়। সেখান থেকে তাকে ওপেন সোর্সের পরামর্শটা পেতে হবে। দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে।

সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলার কাজটাও জরুরী। কারণ বিপদে পড়লে কার কাছ থেকে জানবে? বিডিএএসএনের একটি ই‌মেইল সেবা আছে। সেটি অনেকানি কাজ করে, মেইলিং লিস্টগুলো আছে, সেটাও ভাল। সাজ্জাদুর, জিকোর মতো অনেকের টেলিফোন নম্বর থাকে, তাদেরকে ফোন করা যায়। তবে, এখন মনে হয় ব্যক্তিগত সাপোর্টের পাশাপাশি ইনস্টিটিউশনাল সাপোর্ট সেন্টারেরও দরকার। জিকোর মাধ্যমে বিডিওএসএন মাসে একটা টিউটোরিয়াল করে। কোন মাসে পারে, কোন মাসে পারে না।
যদি বেশ কিছু ভলান্টিয়ার রাজী হয়, তাহলে সপ্তাহের একটি দিন নির্ধারিত সময়ে বিডিএএসএন অফিসে হাতে কলমে দেখিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা করা যায়। যদি চারজন হয়, তাহলে মাসে মাত্র একদিন ৩ ঘন্টা সময় দিলেই হবে। বিডিওএসএন অফিসের কথাটা বলেছি সেটি আমার হাতের নাগালে বলে। অন্য কোথাও যদি করা যায়, তাতেও চলবে!
গণিত অলিম্পিয়াডে আমরা ওপেন সোর্সের কথা বলি কারণ স্কুলেই আজকাল সবার কম্পিউটারে হাতে খড়ি হয়। সেখান থেকে তাই ক্যাম্পেইন হওয়া দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেনসিটাইজ করাটা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, আসল লড়াকু সৈনিকদের বড় অংশ সেখান থেকে আসবে।

আর শামীম, ঠাট্টার ছলে বললেও বান্ধবীর চিঠির ব্যাপারটা আসলে জরুরী ‌ সরাসরি এবং প্রতীকী দুই অর্থে। তাই না?

ধন্যবাস সকলকে।

অভ্রনীল এর ছবি

ওপেনসোর্স সফটওয়্যারগুলো নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখা আসা দরকার। বাংলাদেশে এখনো সংবাদপত্র দিয়ে যে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব, অন্য কোনো মাধ্যমে সেটা সম্ভব হয়না। তাই পত্রপত্রিকায় ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটরের টিউটোরিয়ালের পরিবর্তে গিম্প ও ইংকস্কেপের টিউটোরিয়াল ছাপা হওয়া দরকার। উবুন্টু-মিন্টের নতুন ভার্সন রিলিজ হলে সেগুলোর রিভিউ পত্রিকায় প্রযুক্তির পাতাগুলোতে ছাপানো যেতে পারে। তাছাড়া উবুন্টু-মিন্টের বিভিন্ন ফিচারগুলো ফলাও করে ছাপানো দরকার। খুব ভালো হয় যদি প্রথমআলো'র মত জাতীয় দৈনিকগুলো মানুষজনকে কম্পিউটারে সুশিক্ষিত করার জন্য প্রতি সপ্তাহে প্রজন্ম-ডট-কমের মত একটি সাপ্লিমেন্ট বের করতে পারে আর সেখানে ফ্রি-ওপেনসোর্স সফটওয়্যারগুলোর বিভিন্ন রিভিউ-টিউটোরিয়াল-টিপ্স-ট্রিক্স থাকবে। এতে করে হাতের কাছে ফ্রি-ওপেনসোর্স সফটওয়্যারগুলোর রেডিমেড টিউটোরিয়াল সহজলভ্য হওয়ায় লোকজন এগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হবে (কৌতুহলী হয়েও অনেকে ব্যবহার করবে)।

_______________
.:: উবুন্টু ও মিন্টকে ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে! ::.

নীল রোদ্দুর এর ছবি

মুনির স্যার হচ্ছেন মজার একজন মানুষ! আমাকে দেখে যার প্রথম জিজ্ঞাসা ছিল, তুমি কোন স্কুলে পড়। দ্বিতীয় প্রশ্ন, হেলথ কেয়ার সার্ভিসে মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারের কি কাজ!

আমি যে এক তারছিড়া, স্যারের বুঝতে বাকি নাই, আর স্যারের তার, থাক সে নিয়ে আর নাই বললাম। এইটুকু বলতে পারি, এমন সময়ে, এমন অবস্থায় তাদের সাথে আমার পরিচয় হল, যে আমি ফিল্ড ওয়ার্কের সুযোগ পেলাম না, পেলাম না রুম ওয়ার্কের সুযোগও। কেবল অনলাইনে চালিয়ে যাচ্ছি মুনির স্যারের দলবলের সাথে যোগাযোগ। খুটি হয়ে দাঁড়াতে বড় মন চায়। দাঁড়াবো একদিন। তখন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ দেয়া বালিকাকে স্কুলবালিকা বলে ভ্রম না হলেও, বয়সের ছাপ পড়া শিশু মনে হতেই পারে, ওদের মাঝে গেলে আমি ওদের সহপাঠীই তো হয়ে যায়। হাসি
--------------------------------------------------------
নির্জন স্বাক্ষর

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

জহিরুল হক  এর ছবি

আমি বন্টু-মিন্টুর সদস্য হতে আগ্রহি.....দয়া করে বলবেন কি ভাবে হব?

শামীম এর ছবি

এ বিষয়ে বিশদ জানতে http://forum.linux.org.bd তে একটু ঘোরাঘুরি করতে পারেন। অথবা, আমাকে মেইল দিতে পারেন mmhzaman এট জিমেইল ডট কম - এই ঠিকানায়।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

তার-ছেড়া-কাউয়া এর ছবি

মিয়াভাই, প্রথুম আলুতে অনুষ্ঠানের একখান ফোটু আইসিলো। ঐখানে আপনার খালি শার্টটাই বোঝা যায়। আর কিছু বোঝা যায় না। মজার ব্যপার হইলো যে ঐটা আম্মাকে দেখাইলাম আর আম্মা অইত্যেন্ত যত্ন সহকারে পেপারটা তুইলা রাইখা দিলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

এমন আড্ডায় মাঝে মধ্যে দাওয়াত পেলে মন্দ হতো না।
সুন্দর লেখার জন্য বিলম্বিত ধন্যবাদ।

শামীম এর ছবি

প্রতিমাসে আড্ডা হয়, তবে ওরকম আয়োজন করে নয়।

আর এমাসের ২৬ তারিখে একটা পার্টি করার ইচ্ছা আছে। এই থ্রেডটায় লক্ষ্য রাখুন।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।