আমি কি ভুলিতে পারি?

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি
লিখেছেন ইশতিয়াক রউফ (তারিখ: মঙ্গল, ২১/০২/২০১২ - ২:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দেশ, খুঁটি, মাটি। খুব অদ্ভুত রকম শক্তিশালী এক ধারনা। দেশ ছেড়ে দূরে সরে যাওয়া যায়, দেশের সাথে সকল সংস্রব ত্যাগ করা যায়, শুধু যায় না দেশের সাথে জড়িয়ে থাকা অস্তিত্বটুকু অস্বীকার করা। যত দূর পথ হাঁটি না কেন, যত উচ্চতায় আরোহণ করি না কেন, শিকড় তো আমাদের ছোট্ট দেশেই পড়ে আছে। বিদেশে এসে এই বোধটুকু প্রায় সবার মাঝেই অনেক গভীর হয়। বিশেষ করে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায়গুলো এলে।

দেশের মানুষ নিজ আলো-হাওয়ায় আছেন দেখেই হয়তো সব সময় উপলব্ধি করতে পারেন না কত আষ্ঠে-পিষ্ঠে ভাষা জড়িয়ে আছে আমাদের পরিচয়ের সাথে। প্রবাসে এসে বিজাতীয় ভাষার প্রাচুর্যে বসবাস করতে গেলে ভাষার প্রকৃত তাৎপর্য টের পাই। ব্যাথা পেলে ‘মা গো’ করি বাংলায়, ক্লান্ত দেহে রিসার্চ মিটিং করতে করতে মুহূর্তের বেখেয়ালে সম্মতি জানাই ‘আচ্ছা’ বলে, বিদঘুটে কোনো শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হলে মার্জিনে ছোট করে লিখে রাখি বাংলায়, আমেরিকান ফুটবল দেখতে বসে নিজের দল খারাপ খেললে ‘ভুয়া’ বলে গালি দেই বাংলায়।

দেশ এভাবেই আমাদের মধ্যে জড়িয়ে আছে, জড়িয়ে থাকে। মাটি হারিয়ে মাটিরই প্রতিভূ হিসাবে এভাবেই আমরা নৈমিত্তিক জীবনে নিজের ভাষাকে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করি, নিজের মতো করে নিজের কৃষ্টি ধরে রাখতে চেষ্টা করি। এই প্রয়াস খুবই প্রশংসাযোগ্য, কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে আছে অনিবার্য এক শঙ্কা। প্রথম জীবনে যত চেষ্টাই করি না কেন, মনের গভীরে এক ভয় কাজ করে। কী লাভ, ক’দিন পর তো সেই ইংরেজির কাজেই সমর্পণ করতে হবে। বাংলা শিখিয়ে কী হবে, মেয়ে তো স্কুলে গেলে ইংরেজিই শিখে যাবে। কেন অনর্থক বাঙালি বানানোর চেষ্টা, ছেলে তো ভার্সিটিতে গিয়ে সেই বিদেশিই হয়ে যাবে।

এই হতাশার কাহিনী প্রবাসী সবার মধ্যেই বিদ্যমান। সবাই একটা সময় পর্যন্ত সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুরোটা সময় মনের গভীরে পরাজয় মেনেই সংগ্রাম করে যান। টিক টিক টিক করে এক ঘড়ির কাঁটা রাত জাগিয়ে রাখে সবাইকেই। আমরা এ থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করি শুধুই বাঙালিদের সাথে মিশে। ফলাফল হিসাবে পূর্ব-প্রজন্ম অনেক আত্মপ্রসাদ পেলেও নতুন প্রজন্ম অন্যায্য রকম দ্বন্দ্বে বড় হয়।

অভিবাসী হিসাবে বাঙালিরা আমেরিকায় এসেছেন অনেক দেরিতে। এর আগে আইরিশরা এসেছে, ইতালিয়রা এসেছে, চাইনিজরা এসেছে, জাপানিজরা এসেছে, ইহুদিরা এসেছে। সবাই একটা সময় পর্যন্ত শুধুই নিজেদের মধ্যে মিশলেও অবশেষে মূলধারার অংশ হয়েছে। তবে কি বাঙালিদের জন্যও সেই পরিণতি অনিবার্য?

জবাব হ্যাঁ, তবে সাথে কিছু সংযোজন সহ। প্রবাসে আমরা যেই সমাজে বসবাস করি, তা শুধুই একটি জাতির তৈরি করে দেওয়া নয়। একটু আগে যাদের কথা বললাম, তারা শুধু নিজেরা মূলধারার সাথে জড়িত হয়নি, মূলধারাকেও কিছুটা নিজেদের দিকে সরিয়ে এনেছে। সেটা করার মধ্য দিয়েই সংশ্লেষণ হয়েছে। দুঃখের বিষয়, আমরা বাঙালিরা আজও খুব অন্তর্মুখী, নিরিহ, ভীতু, নির্বাক, সংকুচিত, এবং মূক একটি জাতি হিসাবে পরগাছার জীবন যাপন করে যাচ্ছি প্রবাসে। আমাদের উল্লাস, বেদনা, ও সংকল্প শুধুই টলে যায় সংশয়ের ভারে। অনেক গৌরবময় কীর্তির জাতি হয়েও আমরা শুধু লুকিয়ে থাকি নিজেদের পরিচিত গণ্ডিতে, বড় জোর দুই-একবার আন্তর্জাতিক মহলে মুখ দেখাই বিজাতীয় চিড়িয়া হিসাবে।

প্রবাসে বাঙালি, বাংলাদেশি এখন সংখ্যায় বিপুল। আমাদের এখন সময় হয়েছে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার, অন্য অনেক জাতির মতো করে নিজেদের অবদান ও ঐতিহ্য সমুন্নত করার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছ বছরে ছয় মিলিয়ন ইহুদি হত্যার কথা স্মরণ করে যেই পৃথিবী শোক করে, তাকে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে তিন মিলিয়ন বাঙালি নিধনের কথা জানানোর সময় এখন। সংখ্যাগরিষ্ঠের মুখের ভাষা বাংলার অধিকার চাইতে গিয়ে প্রাণ দেওয়ার কথা জানানোর সময় এখন।

এই উদ্দেশ্য থেকেই এই ভাষা দিবস উপলক্ষে সাউথ ক্যারোলাইনায় আমরা আয়োজন করি ক্যাম্পাসব্যাপী প্রসারিত একটি অনুষ্ঠান। এবারের ভাষা দিবস শুধুমাত্র শ’খানেক বাঙালির জন্য আয়োজন করা হয়নি, হয়েছে বিভিন্ন দেশের অতিথিদের জন্য যাঁরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেন না। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় সফল ভাবে আয়োজিত হয়েছে আমাদের অনুষ্ঠান।

এই অনুষ্ঠানকে পরিকল্পনায় রেখে গত বছর আমরা স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট থেকে কিছু অর্থসাহায্য চাই, এবং প্রথম বছর বিবেচনায় ৪০০ ডলার অর্থায়ন পাই। এই অর্থ দিয়ে আমরা ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় বলরুম ভাড়া করি, এবং সেখানে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করি। পরিকল্পনা পর্যায় থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো যেকোনো ভাবে হোক বাংলাদেশের পরিচিতি ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষক ও প্রশাসকদের নিমন্ত্রণ করি, যোগাযোগ করি স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ সংগঠনের সাথে।

আমাদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন ভাইস প্রভোস্ট। শেষ মুহূর্তে অন্য শহরে যেতে হওয়ায় আসতে পারেননি প্রেসিডেন্ট। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন এবং চারটি পৃথক ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান। আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও অনেক শিক্ষক অনুষ্ঠানে আসেন। তাঁদের প্রায় সবার কাছেই বাংলাদেশ ছিলো স্রেফ একটি দেশের নাম, বাংলাদেশের যাবতীয় সংগ্রামের ইতিহাস ছিলো সম্পূর্ণ অজানা। তাঁরা সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন, আপ্লুত হয়ে বলেছেন এ-ধরনের আয়োজন যেন আরও করা হয়।

স্রেফ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে বাংলাদেশকে পরিচিত করানো দুষ্কর। অনেক মহল এই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেবে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা বলে। কিন্তু একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এমনতর যেকোনো আক্রমণের ঊর্ধ্বে। আমাদের অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে তাই বাংলাদেশের ভাষা সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে, স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে পাকিস্তানি জান্তার আক্রমণের কথা, এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণার কথা। দ্বিতীয় অংশে থেকে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার গান, কবিতা, গল্প। এতে অংশ নিয়েছে ভারত, তুরস্ক, বলিভিয়া, পেরু, জার্মানি, আমেরিকা, চীন, নাইজেরিয়া, সেন্ট লুসিয়া, ইত্যাদি দেশের ছাত্ররা।

এই সুদীর্ঘ লেখাটির মূল প্রতিপাদ্য আমাদের অনুষ্ঠানের বয়ান দেওয়া নয়, বরং সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা। প্রবাসে দেশের নাম প্রচার করতে গেলে আমাদের আচরণ করতে হয় একই কুমিরছানা বারবার দেখানো শিয়ালের মতো। বছর খানেক আগে প্রকাশিত ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ ছাড়া মানসম্মত কোনো অডিও-ভিস্যুয়াল সারবস্তু নেই বললেই চলে। সব জায়গায় এই একই ভিডিও চলতে থাকে। উপায় নেই, কারণ আমাদের কোনো নথিবদ্ধ ইতিহাস নেই, মানসম্মত ছবি নেই, ভালো কোনো ভিডিও নেই, প্রচার ও প্রসারের মতো যথেষ্ট বিষয়বস্তু নেই। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে আমরা চেষ্টা করেছি অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে কিছু সহায়িকা তৈরি করতে।

আমাদের অনুষ্ঠানটি আমার জানামতে প্রথম (বা প্রাথমিক) আয়োজন যা কোনো ইউনিভার্সিটির অর্থসহায়তা পেয়েছে। এই সুযোগ যেকোনো জায়গায় পাওয়া সম্ভব, শুধু সাহস করে স্টুডেন্ট গভর্নমেন্টে বাজেট জমা দিতে হবে। সেখানে স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে যে ক্যাম্পাসে “ডাইভার্সিটি” বাড়াতে এই আয়োজন।

যথেষ্ট সংখ্যক শিল্পীর অভাব একটি মৌলিক সমস্যা। সেই সমস্যার সমাধান করতে আমরা অনুষ্ঠান দুই ভাগে ভাগ করেছি। প্রথম পর্বে আমরা শুধু বাংলায় কোরাস গেয়েছি। চিরপরিচিত এই গানগুলোয় যে-কেউ কণ্ঠ মেলাতে পারেন। দ্বিতীয় পর্বে আমরা বিভিন্ন ভাষার শিল্পীদের আমন্ত্রণ করেছি। যা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা এনেছে, এবং আমাদের উপর প্রস্তুতির চাপ কমিয়েছে।

অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ছিলো একটি স্যুভেনির। এই পুস্তিকায় আমরা একুশে, বাংলাদেশের সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিপণ্ন ভাষা, ইত্যাদি নিয়ে কিছু লেখা জড়ো করেছি। সাথে আছে ইউনেস্কো থেকে প্রকাশিত পোস্টার, ভাষা আন্দোলনের ছবি, ইত্যাদি। সচল মুস্তাফিজ ভাই একটি অসামান্য প্রচ্ছদ তৈরি করে দিয়েছেন আমাদের। বাংলাদেশ থেকে পাই-ল্যাবস এই ব্যস্ত মৌসুমেও মাত্র ৪ দিনের মধ্যে পুস্তিকার ৩০০ কপি ছেপেছেন এবং আমেরিকায় পাঠিয়েছেন --- পুরোটাই তাঁদের নিজেদের খরচে। আমরা আমাদের এই স্যুভেনিরটির প্রিন্ট-রেডি ভার্শন অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। যেকোনো প্রয়োজনে যে-কেউ এটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে ব্যবহৃত প্রায় সব ছবির জন্যই অনুমতি নেওয়া আছে। সবাই সম্মতি দিয়েছেন যেকোনো অবস্থায় এর ব্যবহারের জন্য। এখানে বিশেষ করে বলতে হয় এক অজানা বিদেশিনীর কথা। জেসিকা ডুরান্ট নামে এই শিল্পী তাঁর আঁকা একটি অনবদ্য ছবি দান করেছেন আমাদের এই প্রয়াসের জন্য। আর বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, এবং একুশে বিষয়ক সবকিছুতে যিনি থাকেন, সেই জালাল ভাই তো আছেনই।

নিচের লিংক থেকে স্যুভেনিরটির ইপিএস ভার্শন ডাউনলোড করতে পারবেন। আনুষাঙ্গিক যেকোনো সহায়তার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন নিঃসংকোচে।

স্যুভেনির

আমাদের এই আয়োজন আজ ক্যাম্পাসের পত্রিকায় ছাপা হয়েছে বড় করে। নিচের লিংকে দেখতে পাবেন সেই খবর।

ডেইলি গেমকক

অনুষ্ঠানটি ভিডিও করা হলেও সেই ফুটেজ এখনও হাতে পাওয়া যায়নি।

ছবিঃ
১) অনবদ্য শিল্পী চমক হাসান গাইছে বাউল গান
২) বাংলাদেশি শিল্পীদের সমবেত সংগীত
৩) স্থপতি রুবাইয়া শারমিনের তৈরি শহীদ মিনার
৪) একুশ উপলক্ষে প্রকাশিত পুস্তিকা

ছবি: 
07/02/2007 - 1:02পূর্বাহ্ন
07/02/2007 - 1:02পূর্বাহ্ন
07/02/2007 - 1:02পূর্বাহ্ন
07/02/2007 - 1:02পূর্বাহ্ন

মন্তব্য

মরুদ্যান এর ছবি

চলুক

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

হাসি

সাফি এর ছবি

গত বছর আমরা প্রথম বারের মত অনুষ্ঠান করি। তাতে প্রায় ১০টা ভিন্ন ভাষাভাষি অংশ নিয়েছিল। এবারের অনুষ্ঠানে রিহার্সেলের সময়াভাবে আর বিভিন্ন ভাষার সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। আমাদের অনুষ্ঠানের ছবি এখানে দেখতে পারো। তোমাদের শহীদ মিনারের বেদীটা খুব চমৎকার হয়েছে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমাদের বেদীর স্থপতি পরিবার কিন্তু আর দুই মাসের মধ্যেই আপনাদের পড়শি হতে যাচ্ছে। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম পরিচয় করিয়ে দিবো আপনাদের, হয়ে উঠে নাই।

সাফি এর ছবি

আমাদের জন্য ভাল খবর, পরিচয় করায় দিও।

দুর্দান্ত এর ছবি

অসাধারণ উদ্য়োগ। আমারা সাবাই আমাদের দেশের, আমাদের সংস্ক্ররিতির এক একজন দূত। আমাদের মাধ্য়্মেই বাংলা ছড়িয়ে পড়বে, পরিচিত হবে, সম্ররিদ্ধ হবে এবং বদলেও যাবে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আশা করি আগামী দিনে আরো বড় অনুষ্ঠান হবে

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অসাধারণ উদ্যোগ।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ

প্রদীপ্তময় সাহা এর ছবি

হাততালি
খুবই ভাল উদ্যোগ ।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ

নিটোল এর ছবি

চমৎকার উদ্যোগ।

_________________
[খোমাখাতা]

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ

সৃষ্টিছাড়া  এর ছবি

চলুক

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ

কাজি মামুন (অতিথি লেখক) এর ছবি

ফলাফল হিসাবে পূর্ব-প্রজন্ম অনেক আত্মপ্রসাদ পেলেও নতুন প্রজন্ম অন্যায্য রকম দ্বন্দ্বে বড় হয়।

ঠিক বলেছেন, ভাইয়া। দুই সংস্কৃতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বাচ্চাগুলোকে এক ''অন্যায্য দ্বন্দ্বেই'' পড়তে হয়, যার জন্য বাচ্চাগুলো মোটেই দায়ী নয়। তবে পূর্ব-প্রজন্ম কি সবসময় আত্মপ্রসাদ লাভ করে? অনেক ক্ষেত্রেই বাচ্চাগুলো বিদেশী সংস্কৃতির কাছেই এক সময় আত্মনিবেদন করে; ফলে অভিভাবকদের দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'পূর্ব-পশ্চিম'-এর শেষাংশে পূর্ব-প্রজন্মের মাটির টান ও নতুন প্রজন্মের বিচ্ছিন্নতার দ্বন্দ্ব সুনিপুনভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

একটু আগে যাদের কথা বললাম, তারা শুধু নিজেরা মূলধারার সাথে জড়িত হয়নি, মূলধারাকেও কিছুটা নিজেদের দিকে সরিয়ে এনেছে। সেটা করার মধ্য দিয়েই সংশ্লেষণ হয়েছে।

চমৎকার বলেছেন ভাইয়া। আমেরিকা অন্যান্য জাতির নাগরিকদের সংস্কৃতি বদলে দেয়নি শুধু, আমেরিকা নিজেও বদলেছে অন্য জাতির লোকদের হাতে; আর এখানেই মনে হয়, একটা সমাধান বেরিয়ে আসে আপনার কথিত দ্বন্দ্বের।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছ বছরে ছয় মিলিয়ন ইহুদি হত্যার কথা স্মরণ করে যেই পৃথিবী শোক করে, তাকে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে তিন মিলিয়ন বাঙালি নিধনের কথা জানানোর সময় এখন।

আমরা জানাতে পারিনি, তা আমাদেরই ব্যর্থতা। দেখুন, শর্মিলা বসুরা পাক মদদে তিন মিলিয়নকে এক লাখে নামিয়ে আনে; আর এ দেশের অনেক দোসর তাকে কায়মনোবাক্যে সমর্থন দিয়ে যায়। আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রী ঐ দোসরদের পক্ষে কথা বলে!

এবারের ভাষা দিবস শুধুমাত্র শ’খানেক বাঙালির জন্য আয়োজন করা হয়নি, হয়েছে বিভিন্ন দেশের অতিথিদের জন্য যারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেন না।

আমরা যারা দেশে আছি, তারা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ! আমরা যা পারিনি, আপনারা নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে, তা করে যাচ্ছেন। দেশ ছেড়ে গেলেও দেশের টান এতটুকু কমেনি; প্রবাসে দেশকে, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে চেনানোর এই মহতী উদ্যোগের জন্য আপনাদের স্যালুট! গুরু গুরু

ঝরাপাতা এর ছবি

আমাদের এই আবেগগুলোর যুথবদদ্ধতাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা ।


বিকিয়ে যাওয়া মানুষ তুমি, আসল মানুষ চিনে নাও
আসল মানুষ ধরবে সে হাত, যদি হাত বাড়িয়ে দাও।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

শুধু আবেগে কি চলে? আমাদের সার্বিক ভাবে আরো করিতকর্মা হতে হবে, নয়তো এই প্রয়াসগুলো একবারে আটকে থাকবে...

সচল জাহিদ এর ছবি

এবছর আমরা পারিনি মন খারাপ । তোমাদের আয়োজন দেখে খুব ভাল লাগছে।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আপনাদের তো অনেক বাঙালি ওখানে... আমি মনে করি আগামী বছর থেকে বিভিন্ন বিএসএ-র উচিত পরস্পরকে সাহায্য করা, তাহলে সার্বিক গুরুত্ব বাড়বে

স্বাধীন এর ছবি

আমি মনে করি আগামী বছর থেকে বিভিন্ন বিএসএ-র উচিত পরস্পরকে সাহায্য করা, তাহলে সার্বিক গুরুত্ব বাড়বে

সহমত। সবাইকে একত্র করার উদ্যোগ নিতে পারো। এই কাজটি আরেক ভাবে করা যায়। প্রতিটি এসোসিয়াশেন একটি করে ফেইসবুক একাউন্ট খুলতে পারে যা কেবল মাত্র বর্তমান কমিটির কেউ পরিচালনা করবেন (ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টার এরকম একটি অফিশিয়াল একাউন্ট রয়েছে)।, তারপর একটি ফেইসবুক গ্রুপ খোলা যায় যেখানে সকল এসোসিয়েশনকে যুক্ত করা যায়। এভাবে সব এসোসিশিয়েন একটি কমন প্লাটফর্মে নিজেদের চিন্তাভাবনাগুলো শেয়ার করতে পারবে একে অন্যের সাথে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

সেটা করতে পারলে আসলেই ভালো হয়। একটা সম্মিলিত ডেটা-ব্যাংক থাকলে সেখান থেকে সবাই উপকৃত হতে পারবে। আমরা সেই উদ্দেশ্য থেকে এবারে দুইটা কাজে হাত দিয়েছিলাম --

১) স্যুভেনির, যেটার প্রিন্ট-রেডি কপি এই পোস্টেই শেয়ার করে দিয়েছি। আমরা এই কাজকে আরও এগিয়ে নিতে পারি ১৬, ৩২, এবং ৬৪ পৃষ্ঠার কিছু পত্রিকা তৈরি রেখে।

২) বাংলা কবিতা ও গানের অনুবাদ। এই দিকটায় একেবারেই দৈন্যদশা আমাদের। হুড়াতাড়া করে কিছু কাজ করা হয়েছে, তবে সেটা আরো গুছিয়ে আনা দরকার। দেখি, সামনে হয়তো পোস্ট দেবো এটা নিয়ে আবার।

চিলতে রোদ  এর ছবি

আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা। এই ধরনের উদ্যেগগুলোর দেখে খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, এই বঙ্গীয় ব-দ্বীপ একদিন বিশ্বের বুকে চিৎকার করে নিজের অবস্থান প্রমান করবেই! সেদিন আর বেশী দূরে নয় ভাই গুরু গুরু

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ... আশা করতে তো দোষ নেই...

পরিবর্তনশীল এর ছবি

অসাধারণ।

চলুক

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

তারেক অণু এর ছবি
স্বাধীন এর ছবি

চলুক

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

গুরু গুরু

খালিদ এর ছবি

পুরোটা পড়ার আগেই একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে শেষে চমকের ছবি দেখলাম, আর তার ক্লাসমেট হিসাবে আমি গর্বিত, তা জানিয়ে গেলাম! হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।