ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে

কৌস্তুভ এর ছবি
লিখেছেন কৌস্তুভ (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৩/০২/২০১১ - ১০:১১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কল্‌কত্তা হাওয়াই অড্ডা অর্থাৎ কিনা কলকাতা বিমানবন্দর থেকে রাত আড়াইটেয় প্লেনে উঠলাম। ফ্রাঙ্কফুর্ট-বোস্টন। প্রবল ঘুম পেয়েছে, কিন্তু প্লেনে ঘুম আসে না, তাই কিংকর্তব্য ভাবছি। যাত্রী বোর্ডিং চলছে, আইল সিটে বসে স্থূলাঙ্গী বধূ থেকে স্থূলাকৃতি লাগেজ সবার গুঁতো খাচ্ছি। এমন সময় এক মাঝারিউচ্চতাবিশিষ্ট ছোটকরেছাঁটাগাঢ়সোনালীগোঁপদাড়িওয়ালা শ্বেত(তামাটে)’আঙ্গ মাঝবয়সী ব্যক্তি আমার লাগোয়া উইন্ডো সীটটায় সুড়ুৎ করে বসে পড়ে তীব্রবদগন্ধযুক্তওষ্ঠাধরে আমার দিকে এক আশিভাগ-করুণা-বিশভাগ-বিষাদ মিশ্রিত স্মিত হাস্য ভাসিয়ে দিলেন। অতএব দ্রুতই অনুমান করলাম, (১) ইনি আমেরিকান, (২) মুমিন ব্যক্তি, (৩) ব্যাটার উদ্দেশ্য সুবিধার নয়।

নিজে থেকেই আলাপ শুরু করলেন। আমি কোথায় যাব, কী করি। আমি খবর্দার কোথাও ইউনির নাম করি না – বস্টনে গোবেষণা করি, এইটুকুই। তা বেশ, কী পড় খোকা? বললাম, বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স। নামে কেউই বোঝে না, তাই এক লাইনে টীকাও জুড়ে দিতে হয়। কিন্তু উত্তরের জবাবে ওনার যেমন নির্লিপ্ত মুখচ্ছবি দেখলাম, তাতে (১) এবং (২) সম্পর্কে প্রতীতি জোরদার হল।

কথাবার্তা একতরফা হলে অসামাজিক দেখায়, তাই এবার কিছু খেজুরে প্রশ্ন করা শুরু করলাম। হে মহান বৈদেশিক অতিথি, এই নগণ্য শহরে আপনার পদধূলি পড়ল কী প্রকারে? উত্তর শুনে মেজাজটা যেমন গরম হয়ে গেল, তেমনই (২) ও (৩) সম্বন্ধে আমার গণনা যে নির্ভুল ছিল তা প্রমাণিত হয়ে গেল। উনি ভারতে এসেছেন ধর্মপ্রচারে!

অর্থাৎ আমরা যখন চেষ্টায় আছি বিদেশ থেকে কিছু শিক্ষাদীক্ষা সংগ্রহ করে ফিরে এসে দেশের মানুষজনের সাথে ভাগ করে নেওয়ার, ইনি নিজের দেশ থেকে বয়ে এনে বস্তাখানেক গাঁজাগুল-কুসংস্কার আমাদের গছিয়ে দিয়ে যাওয়ার তালে আছেন। এই মহাশয় একটি খ্রীষ্টধর্ম-আলোচনা-প্রচার-সমিতির সভ্য। তাঁরা (কারণ আছে, পরে বলছি) অবশ্য এইবার সরাসরি প্রচারব্যাটিংয়ে না নেমে ‘জ্ঞান’বিস্তারে ফিল্ডিং করছেন, অর্থাৎ ওঁদের সমিতি-নির্বাচিত কিছু উত্তম উত্তম ধর্মগ্রন্থের অনুবাদযুক্ত লিফলেট বয়ে নিয়ে এসেছেন আমাদের শহরগুলিতে বিতরণের জন্য।

শুনলাম, ইনি গেছেন দিল্লী, বেঙ্গালুরু, উত্তর ভারতের আরো দুএকটা শহর আর সবশেষে কলকাতা (সেখানে সিকিম থেকে আসা আরো কিছু ধার্মিক বন্ধুরা মেহফিল করেছেন, মূলত সেজন্যই এ শহরে আগমন)। জিজ্ঞাসা করলাম, তাজমহল দেখেছেন? বললেন, নাঃ, কোথাওই দর্শনীয় কিছু দেখেন নি। যেখানে গেছেন, দুএকদিন করে থেকেছেন, বন্ধুদের সাথে চার্চে চার্চে সভাসমিতিতেই লিপ্ত থেকেছেন। এমন কি কলকাতায় টেরিজা’র হোমেও যান নি। ধুত্তোর, বিদেশাগতরা এমন হলে আমাদের ট্যুরিস্টনির্ভর ব্যবসাগুলোর বড়ই লস।

বেশি কোথাও না যাবার আরো একটা কারণ ব্যাখ্যা করে বললেন। ওনাদের সমিতি ও পরিচিতরা নাকি সাবধান করে দিয়েছিল, ভারতে ভিন্ন ধর্মের লোকেদের নাকি ভাল চোখে দেখা হয় না। ইনি যতটা ঘুরেছেন তাতে সেরকম কিছু মনে হয় নি বটে, কিন্তু তাও প্রকাশ্যে বেরোতে ওনারা তেমন ভরসা পান নি। শুনে হাসব কি কাঁদব বুঝতে পারলাম না, তবে জ্ঞানের বহর দেখে (১) এর ধারণা কিছু জোরদার হল। বললাম, শুনুন মশাই, শ্বেতাঙ্গ ট্যুরিস্ট মানেই খ্রীষ্টান ধরে নেওয়া হলেও, বড় বড় শহরে তো এমন ট্যুরিস্ট কোনো ব্যাপারই না, মফঃস্বলের দিকে গেলে হয়ত একটু আগ্রহের বস্তু হবেন, কিন্তু ভিন্ন জাতি বা ভিন্ন ধর্ম কোনোটার কারণেই ভারতীয়রা সচরাচর হোস্টিলিটি দেখায় না। তবে হ্যাঁ, রাস্তায় রাস্তায় ঘাপলা প্রচার করতে গেলে হয়ত তারা বিরক্তি প্রকাশ করবে, কারণ তারা যা নিয়ে শান্তিতে আছে তাতে অহেতুক টানাহ্যাঁচড়া চাইবে না, এছাড়া কোনো সমস্যাই নেই।

শুনে ভদ্রতা করে বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, আমিও কোনো তেমন নিরাপত্তার অভাব টের পাই নি বটে, অবশ্য আমি তো কেবল ওই কাগজগুলো সঙ্গে এনে দিয়েছিলাম, মূল প্রচার করবে এখানকার চার্চের লোকেরাই। এই যেমন আমি একবার সপরিবারে চার বছর জামাইকায় ছিলাম সক্রিয়ভাবে ধর্মবিস্তার করার জন্য, সেরকম কিছু না।

তারপর একটু খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তা দাদাগো, আপনি যে এদিক-ওদিক ধর্ম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন, তা আজকালকার ছেলেপিলেরা তো আরো মোনাফেক হয়ে যাচ্ছে, নাকি? ভালো কথা প্রীচ করলে পাত্তা দেয় না, আচার-টাচার তেমন মানে না, চার্চেফার্চে যায় না, বিশ্বাসীদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে, তা কী বলেন?

অনেক দুঃখটুঃখ করে বললেন, হ্যাঁ, সে ট্রেন্ড তো খানিক দেখছিই, কিন্তু কী করা? আসলে মুশকিল হল, আজকাল লোকে সত্য ধর্মের চেহারাটা দেখতে পাচ্ছে না – যে বিকৃত রূপ দেখছে তাতে স্বীকৃত হতে পারছে না। অল্প কয়েকজন লোক হলেও, তাদের নামে যে স্ক্যাণ্ডাল ছড়াচ্ছে (সরাসরি না হলেও শিশুনিপীড়কদের কথা যে তুলেছেন, এতেই আমার চোদ্দপুরুষ উদ্ধার হয়ে গেছে, অ্যাপলজিস্ট হয়ে অল্প কয়েকজন তো বলবেনই), কারুর কারুর প্রবল বিত্তশালী যে চেহারা মিডিয়ায় আসছে – আমাদের প্রভু যেমন বলে গেছেন আড়ম্বরহীন সৎ-সাধারণ-জীবনযাপন করতে তার পবিত্র ইমেজ তুলে ধরতে এরা ব্যর্থ হচ্ছে – তা দেখে লোকজন বলছে, এই যদি ধর্মের চেহারা হয় তবে এ ধর্ম আমরা চাই না।

তারপর উত্তেজিত হয়ে পড়ে বললেন, আর দেশের ব্যবস্থাও সব যাছে গোল্লায়! এই তো, সম্প্রতি আমাদের অকম্মা সরকার আইন করেছে, স্কুলের শিক্ষকেরা ছাত্রছাত্রীদের প্রেয়ারে লীড করতে পারবে না। এটা একটা কথা হল? তারা সুকুমারমতি, একটু সদিচ্ছা নিয়ে ঈশ্বরের নাম করবে, সত্য পথে একটু শিক্ষা পাবে, সেই অধিকারটুকুতেও বাগড়া!

আরো চটে গিয়ে বললেন, আবার কিছু পাষণ্ড এসবে ইন্ধন যুগিয়ে লোকেদের পথভ্রষ্ট করে বেড়াচ্ছে! এই তো, আমাদের পবিত্র পিতৃভূমি, ওয়ান নেশন আন্ডার গড, তা আমাদের টাকাপয়সা ইত্যাদিতে যে ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ কথাটুকু লেখা রয়েছে, সেই টাকাপয়সা দেওয়ানেওয়ার মধ্য দিয়ে একটুখানি রোজ সর্বশক্তিমানের মহিমার কথা লোকে স্মরণ করতে পারে, সেই লেখাটুকু তুলে দেওয়ার আন্দোলনও শুনি কোন হারামজাদারা শুরু করেছে! সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে পড়ে গেল, যখন লন্ডন যাই তখন পাউন্ডের নোট হাতে নিয়ে বড় পুলক হয়েছিল, কারণ তাদের নোটে ডারউইনের ছবি, আর এদিকে মার্কিন নোটে গডস্তুতি। ফ্যাকফ্যাক করে হেসে উঠতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু চেপে গেলাম।

একটু শান্ত হয়ে এবার প্রসঙ্গ বদলে বললেন, আমি জীবনে তেমন বড় বিদেশী শহর দেখি নি যদিও, কিন্তু একটা জিনিস আমার চোখে লাগে, এখানে অন্ত্যজ মানুষদের জীবনে বড় দুর্দশা! এই তো কাল কলকাতার রাস্তায় একটু বেরিয়েছিলাম, দেখলাম ফুটপাথে একজন শীর্ণকায় একখণ্ড কাপড় পরা লোক শুয়ে রয়েছে, ঘুমিয়ে আছে কি মারা গেছে বোঝা যাচ্ছে না, জনস্রোত তার সামনে এসে দুভাগ হয়ে দুপাশ দিয়ে গিয়ে আবার জুড়ে যাচ্ছে। এমনই অবস্থা কী সারা দেশেই?

দেখলাম, এর সঙ্গে সহমত হয়ে দেশের সমস্যার কথা আলোচনা করে কোনো লাভ নেই, বলবে সবই ঈশ্বরের লীলা আর তোমাদের সিন’এর শাস্তি। তাই সোজা ব্যাটে খেললাম। বললাম, আপনাদের আমেরিকায় তো আমি বড় শহরেই থাকি, বস্টন-নিউইয়র্ক-ডিসি-ফিলি যত শহরই দেখেছি সর্বত্রই হোমলেসদেরও যথেষ্ট দুরবস্থা। তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেক ঝাঁ-চকচকে আমেরিকায় এসে এদের দেখে আমিই বরং প্রচণ্ড আশ্চর্য হয়েছিলাম। তা কালকেরটা এরই তৃতীয় বিশ্ব ভার্শন। অবাক হন কেন?

তারপর আরো বললাম, দেখেন, ভারতে জনসংখ্যা একটা বড় সমস্যা; লোকজন অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বাড়লে দারিদ্র্যও বাড়বে বই কি। তাও তো সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণের দিকে কিছু সদর্থক পদক্ষেপ নিচ্ছে – আপনাদের মতে তো গর্ভপাত পরিবারপরিকল্পনা সবই ঈশ্বরেচ্ছাবিরোধী (পরে শুনলাম, ওনার ফ্যামিলি সাইজও যথারীতি মাশাল্লা) – কি ভাগ্যি সেসবে কান না দিয়ে।

আমার কাউন্টার-অ্যাটাকের জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিকই, (লোকটি দেখলাম বড়ই বিনয়ী, তা ধর্মব্যবসায় নামতে গেলে সে গুণটা আবশ্যক বইকি) তবে কি, আমি তো গ্রামেই বড় হয়েছি, বড় শহরে তেমন যাই নি, ওই মাঝে সাঝে ধর্ম-কনফারেন্সে যাই, তাই সেখানের হোমলেসদের সম্বন্ধে যেমন তুমি বললে তা নিয়ে আমার তেমন ধারণা নেই।

তা শুনলাম, ইনি পরিবারগতভাবে চাষা – বিস্তীর্ণ জমিতে গম-ভুট্টা-সয়াবীন-আলফাআলফা-গরুর চাষ করেন। ছোটবেলায় শূকর পেলে বড় হয়েছেন, জামাইকা যাবার সময় সেগুলি বিক্রি করে দিতে হয় বলে প্রচুর কান্নাকাটি করলেন।


জানতে চাইলাম, কোথাকার চাষা আপনি? উত্তরে শুনলাম, কানসাস। ধাঁ করে মনে পড়ে গেল, কানসাস শিক্ষাবোর্ড একসময় স্কুলপাঠ্য বিজ্ঞান বইতে বিবর্তনের বদলে বাইবেলের সৃষ্টিকাহিনী ঢোকাবার জন্য কত চেষ্টাচরিত্রই না করেছিল। সেখানের বাসিন্দা এরকম অসামান্য ধারণাবিশিষ্ট তো হবেই। তা সেই কথা এনে প্রশ্ন করলাম, আচ্ছা, কানসাসে যখন থাকেন, স্কুলের কথাও তুলেছেন, তখন মনে পড়ল, জিজ্ঞেস করি, এই স্কুলে বিজ্ঞানশিক্ষা বনাম ক্রিয়েশনিজম নিয়ে ওখানে কিছু বিতর্ক হয়েছিল, তা সেই সম্পর্কে একটু আলোকপাত করতে পারেন? ধর্মপ্রচার করেন ঠিকাছে, কিন্তু চার্চ আর স্টেট অর্থাৎ ধর্মশিক্ষা আর বিজ্ঞানশিক্ষা দুটো আলাদা রাখা উচিত নয় কি?

ধীরে ধীরে উত্তর দিলেন, দেখ, আমার নিজের কথা যদি বলি, তাহলে এই যে তোমাদের এসব বিবর্তন-টিবর্তন বিজ্ঞান আমার আদপেই জুতের লাগে না। বান্দর থেকে মানুষ হয়েছে, কয়েক কোটি বছর আগে একটা ছোট্ট বোমা ফেটেছিল আর তার থেকেই পৃথিবী আদি দুনিয়া তৈরী হয়েছে, এসব কোনো কথা হল? কোনো সুস্থ লোকে এসব কল্পনায় বিশ্বাস করবে? আর এই তো, ছ হাজার বছরটা অনেক বোধগম্য সময়; ছ হাজার বছর আগে একটা সময় খোদাতালা সব কিছু গুছিয়ে সৃষ্টি করলেন, মানুষ ইত্যাদি সব সুন্দর ব্যবস্থা করে দিলেন, এটা অনেক স্বাভাবিক আর প্রণিধানযোগ্য না? এই যে কুকুর-বেড়াল সব হীনতর প্রাণী, এদের মানসিক পরিণতি – বুদ্ধিবৃত্তি – কল্যাণবোধ – ঈশ্বরচেতনা – এসব কিছু কি মানুষের সঙ্গে তুলনীয়, যে এদের থেকে বিবর্তনের প্রশ্ন আসবে?

শুনতে শুনতে আমার মুখ ব্যঙ্গের তীব্র চাপা হাসিতে ভরে যাচ্ছিল, আর মনে ভাবছিলাম, যে দুনিয়া কোথায় অগ্রসর গিয়েছে যে এরকম একটা আধুনিক পরিবহনে এমন ভাবনার একটা লোক আমার পাশের আসনটায় বসে থাকতে পারছে, শুধু তাই নয়, অর্ধেক গোলার্ধ পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে এসে আবার এইসব ভাবনা ছড়িয়ে যেতে পারছে? এ সব অগ্রগতিই তো অবশ্য বিজ্ঞান, থুড়ি, বিশুদ্ধ ধর্মালোচনার মাধ্যমেই হয়েছে, বলাই বাহুল্য। বুদ্ধিমান শিম্পাঞ্জি-ডলফিন-পাখিদের রেফারেন্স এনে কতটুকু লাভ হবে ভাবছিলাম, এমন সময় আমার মুখের হাসি দেখে উনি বললেন, আমি বুঝতে পারছি, তুমি আমার কথা মানছ না, কিন্তু আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি, যে এটাই সত্য, আর সত্যের জয় করাবেনই ভগবান।

তারপর আমাকেও কিঞ্চিৎ বিশ্বাসী করাবার চেষ্টায় বললেন, যে দেখ, আমাদের সনাতন অর্থাৎ খ্রীষ্টীয় ধর্ম কত প্রাচীন, সুবিস্তৃত এবং যুক্তিযুক্ত! তোমাদের ভারতের হিন্দুদের অনেকের ঘরেই দেখলাম কল্যাণকামনায় দরজায় লাল ফোঁটা, কপালে লাল ফোঁটার চল। এটা নিঃসন্দেহে বাইবেল-বর্ণিত মোজেসের সেই অনুশাসনের অনুসারে। ঘটনাটা জানো তো? সেই যে, মিশরে থাকাকালীন মোজেস ঈশরের কাছ থেকে বাণী নিয়ে নেমে এসে বললেন, যারা যারা সত্য ধর্মের অনুসারী তারা সবাই একটা করে কচি ভেড়া কেটে তার রক্ত দিয়ে দরজায় ফোঁটা দেবে। যারা দেবে না সেই রাত্রে তাদের জন্মানো সব সন্তান মারা যাবে। মুমিনরা সব সে আদেশ পালন করল, কিন্তু মিশরীয়রা সেটা না শোনায় পরদিন সকালে উঠে তারা দেখল সমস্ত নবজাত সন্তান মারা গেছে। এভাবেই মোজেস ধার্মিকদের বেছে নিলেন, আর তাদের নিয়ে এক্সোডাসে যাত্রা করলেন।

দেখলাম, আর কিছু না'ও বলি, এই নব আইনস্টাইনের ভুলটুকু ভেঙে দেওয়া দরকার, নইলে দেশে ফিরে গিয়ে সবাইকে ধর্মানুসারী কী বিরাট আবিষ্কার করে এনেছেন তার গল্প শোনাতে লেগে যাবেন। তাই বললাম, ভাইটু, আমাদের দেশে লাল আর সাদা দুই ধরনের লেপনেরই যেমন প্রচলন আছে, তেমনই ওই দুই রঙেরই সাজগোজ আর ধর্ম দুটোতেই প্রয়োগ আছে। আর ওই লালটার সঙ্গে রক্তর কোনো সম্পর্ক নেই, ওটা কিছু খনিজ যৌগ থেকে বানানো হত।

আর যদি বল খ্রীষ্টধর্মের ছড়িয়ে পড়ার কথা, তাহলে বলতে হয়, মানুষের বিস্তারটা হয়েছে অনেক আগে, তোমাদের ধর্ম বিলিতি অভিবাসীরা আসার আগে ভারতে বিশেষ আসেইনি। অনেক হাজার বছর আগে – সেটা আবার পুস্তকবর্ণিত ছয় হাজারেরও আগে, অতএব হয়ত বিশ্বাস করবে না – এশিয়া মাইনরের ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর এক শাখা আর্য হিসাবে ভারতে এসেছিল, আরেক শাখা ভূমধ্যসাগর উপকূলে গিয়ে বসতি গাড়ে, যাদের মধ্যে ইহুদী এবং পরে খ্রীষ্টধর্ম চালু হয়। লালরঙের প্রচলন থাকলে সেই মূল জাতির মধ্যেই ছিল। কিন্তু নিশ্চিত নই, কারণ ভারতের মূল জাতি দ্রাবিড়দের মধ্যে এধরনের প্রচলন কতটা আর কতটা আর্যদের আনা সে নিয়ে নিঃসংশয় নই।

বলাই বাহুল্য, দ্রাবিড় জাতি ইত্যাদি সম্বন্ধে ইনি কিছুই জানতেন না। বিস্তারিত বুঝিয়ে বলায় বললেন, ও, তাই দেখি, ভারতের এক দল লোক অনেকটাই ফর্সা আর এক দল বেশই কালো। সে সব তো বললাম, তবে এনার আবিষ্কারের আনন্দে যে কিছুমাত্র ভাটা পড়ল বলে তো মনে হল না। শেষে বললেন, ভাই, তোমার সঙ্গে আলাপ করে বড়ই আনন্দ হল, কিন্তু আমি পথশ্রমে ক্লান্ত, এবার নিদ্রা যাওয়া প্রয়োজন... আমি মনে মনে বললাম, হ্যাঁ, যান, দূরে গিয়া মরেন, আমারেও একটু ক্ষ্যান্ত দেন। চেয়ার এলিয়ে একটুখানি চোখ বুজলাম।


মন্তব্য

তাসনীম এর ছবি

বান্দর থেকে মানুষ হয়েছে, কয়েক কোটি বছর আগে একটা ছোট্ট বোমা ফেটেছিল আর তার থেকেই পৃথিবী আদি দুনিয়া তৈরী হয়েছে, এসব কোনো কথা হল?

কিছু কিছু লোক এখন বান্দর রয়ে গেছে। আপনি তাদের একজনের পাশেই বসেছিলেন।

মার্কিন দেশে এই পদের লোকের অভাব নেই, বিশেষত আমাদের এই দক্ষিণাঞ্চলে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কৌস্তুভ এর ছবি

দেঁতো হাসি

আপনার লেখা দেখিনা যে অনেকদিন?

তাসনীম এর ছবি

এই এখনই দেখতে পাবেন হাসি

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখা যথারীতি ভাল হয়েছে। বাংলাদেশে গিয়েছিলেন? কোন ভ্রমন্থন চোখে পড়ল না তো। -রু

কৌস্তুভ এর ছবি

নাহ দাদা, এবার শ্রীযিশুর ইচ্ছা সেরকম ছিল না বলতে গেলে, ভিসা পাই নি...

অতিথি লেখক এর ছবি

বাংলাদেশের ভিসা দেয় না, এমনও হয়? এরপরেরবার ডিসি থেকে নিয়ে ভিসা যেয়েন। -রু

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি তবুও বলবো আপনি অনেক ইনোসেন্ট শাখামৃগের পাশে বসেছিলেন। আমি একবার ট্রেনে প্রায় এমনই এক সহযাত্রীর পাল্লায় পড়েছিলাম যার সাথে ইশ্বরের বিশ্বসৃষ্টি ও এব্রাহমাইক জিনিওলজি বনাম বিবর্তন প্রসঙ্গটা আমারও উঠেছিল। বলা ভালো শুনতে হয়েছিল। তবে আমি বোকার মত বিবর্তন প্রসঙ্গে বিভিন্ন তথ্যপ্রমান ও যুক্তির কথা তুলতেই উনি বললেন ঐসব ফসিল-টসিল ও অন্যান্য তথ্যপ্রমান নাকি ইশ্বর ইচ্ছে করেই ওভাবে করে রেখেছেন যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। এগুলি নাকি তার 'বিশ্বাসের' পরীক্ষা। বিশ্বাসীদের থেকে অবিশ্বাসীদের পার্থক্য করার জন্য। আমি সাহস করে আর জিজ্ঞেস করতে পারিনি: এটাতো তাহলে মহা প্রতারনা। মানুষকে প্রতারনা করাই কি ওনার ইশ্বরের পেশা তাহলে ? একটা প্রতারকই তাহলে ওনার উপাস্য দেবতা ?

মনমাঝি

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

কঠিন কইছেন ভাই

কৌস্তুভ এর ছবি

প্রতারণা আবার কী? সবই ওনার লীলাখেলা, আমরা তো নিমিত্ত মাত্র। দেঁতো হাসি

রানা মেহের এর ছবি

এখানে একবার একটা ক্যারাবিয়ান মেলায় গিয়েছিলাম।
ক্যারাবিয়ান তো। প্রচুর হাউকাউ। গানের চোটে ভালো করে কথাই শোনা যায়না।
সেখান থেকে বের হবার সময় দেখি এক্সিটের কাছে দুজন হ্যান্ড মাইক হাতে দাঁড়ানো।
এক ভাই মুসলিম। আরেক ভাই ক্রিশ্চিয়ান। সমানে চেঁচিয়ে heaven বিক্রি করে যাচ্ছেন।
ক্যারাবিয়ানরা এমনিতেই পোষাকের পেছনে টাকা অপচয় করতে চায়না।
আর তখন দুদ্দাড় সামার।
একটু পরপর ভাইদের চেহারা হচ্ছিলো দেখার মতো দেঁতো হাসি

আপনার লেখাটা অনেক মজা লাগলো

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

কৌস্তুভ এর ছবি

দেঁতো হাসি

থ্যাঙ্কু মেহেরজানাপু খাইছে

তারাপ কোয়াস এর ছবি

ইংল্যাণ্ডে নোটে ডারউইনের ছবি আর ফেইথ স্কুলের(যা কিনা মোট সংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ) ছাত্র ছাত্রীরা উপসংহারে আসে(অবশ্যই শিক্ষকের সঠিক দিকনির্দেশনায়!) যে বিবর্তনবাদ গ্রহণযোগ্য নয়!!( সূত্র)


love the life you live. live the life you love.

কৌস্তুভ এর ছবি

বিলেতে ইসলামী জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে নিয়ে কদিন আগে হাল্লা শুনছিলাম। নানাবিধ ফেথ স্কুলও যে ডবল হবে তার আশ্চর্য কী?

অতিথি লেখক এর ছবি

হে হে, এ তো তেমন কিছু না। আমি গত বছর দুই হুজুরের তর্কের মাঝে ছিলাম। একজন খ্রিষ্টান আরেকজন মুসলমান। সেটা ব্যাপক আমোদের ছিল। একটা লেখা দেয়ার ইচ্ছা আছে সেটা নিয়ে।

অনন্ত

কৌস্তুভ এর ছবি

দ্যান দ্যান লেখা দ্যান...

অপছন্দনীয় এর ছবি

আহা, এ তো নিরীহ তৃণভোজী! আমি ওই জাতের মাংসাশী কিছুর পাল্লায় পড়েছিলাম, পারলে তখনি গলা কেটে ফেলে, গোটাকয় ছিল কলিগদের মধ্যে আর বাকিগুলো তাদের পরিচিত।

কোন এক মোবাইল ফোন কোম্পানী নামীয় প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন ছিলাম, সেখানে একজন জি এম ছিলেন, অতিশয় 'খোদাভীরু'(!) ব্যক্তি। তা ওনার ভক্তকুলের মাধ্যমে জেনেছিলেন যে আমি একটু বেলাইনে চলে গেছি, ধর্মের বিধান নিয়ে প্রশ্ন করি কাজেই যথারীতি আমাকে লাইনে ফেরানো ওনার পবিত্র কর্তব্য। একদিন আমাকে পাকড়াও করে বললেন ইসলামের অসাধারণত্ব আমাকে প্রমাণ করে দেবেন, যুক্তি এবং রেফারেন্সের সাহায্যে। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে দেখলেন যে রেফারেন্স আমিও দুই একটা জানি, আর বোকা মানুষ হলেও ওনার কথার পিঠে দুই একবার দুই একটা কথাও বলে বসতে পারি যেগুলোর কোন ব্যাখ্যা উনি খুঁজে পান না। ঘন্টাদুয়েক পরে আমাকে একটা মহা উপদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত আমার জীবনে পাওয়া সেরা উপদেশঃ

"কোন কিছু ভালো না মন্দ সেটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে হলে আগে অন্ধভাবে সেটাতে বিশ্বাস করতে হয়। ইসলামের সব বিধানে কোন সন্দেহ ছাড়া বিশ্বাস করো, দেখবে সেগুলো যে ভালো সেটা প্রমাণ করতে আর কষ্ট হবে না।"

আর মাংসাশী যেগুলো, সেগুলো আর কি বলবো, প্রথম দিন পরকালের ভয় দেখালো, কোন কাজ না হওয়ায় দুই দিন পর আবার ধরে ইহকালের ভয় দেখালো, সেগুলোও যখন কাজ করলো না পঞ্চম দিনে মাথায় হাত টাত বুলিয়ে "লক্ষ্মী ভাই আমার, এমন করে না, ইসলামের বিরুদ্ধে গেলে লোকে পচা ছেলে বলবে..." ইত্যাদি অনেক কিছু বোঝালো, এক সপ্তাহ পরে ট্যারা চোখে তাকাতে শুরু করলো। ভাগ্যে অফিশিয়াল কোড অফ কন্ডাক্টে 'মারামারি নিষিদ্ধ' জাতীয় কিছু একটা ছিলো, নইলে মুন্ডুটা খোয়াতেই হতো মনে হয়, 'জেহাদী জোশ' বলে কথা।

কৌস্তুভ এর ছবি

কোন কিছু ভালো না মন্দ সেটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে হলে আগে অন্ধভাবে সেটাতে বিশ্বাস করতে হয়। ইসলামের সব বিধানে কোন সন্দেহ ছাড়া বিশ্বাস করো, দেখবে সেগুলো যে ভালো সেটা প্রমাণ করতে আর কষ্ট হবে না।

গুরু গুরু

আহারে, সত্যিই মাংসাশীদের পাল্লায় পড়েছিলেন দেখি। তবে বুঝতে পারছি, তারা আপনাকে একটুও পছন্দ করে নি... খাইছে

অপছন্দনীয় এর ছবি

আসলেই করেনি মন খারাপ - এবং আমাকে 'পছন্দনীয়' বানানোর চেষ্টারও কসুর করেনি (অবশ্যই আমাদের নায়েক সাহেবের বক্তৃতা সহযোগে)। একজন তো রীতিমত এক অতিপর্দানশীন পাত্রীর খবর এনে হাজির করেছিলো বেহেশতী পাসপোর্ট হিসেবে - বলা তো যায় না, এই অস্ত্রে যদি মতি ফেরে! কয়েকমাস পরে ওখান থেকে লেজ তুলে পালানোয় খুব দুঃখ পেয়েছিলো বেচারীরা, পূণ্য অর্জনের এতবড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলো...কি আর করবো, স্বর্গে যাওয়া আমার কপালে নেই - নইলে এই সুযোগ ছাড়ে কেউ? মন খারাপ

কৌস্তুভ এর ছবি

সে কি, কাফের মারার এমন সুযোগ ছেড়ে দিলেন? খাইছে

তুলিরেখা এর ছবি

ভাগ্যে অফিশিয়াল কোড অফ কন্ডাক্টে 'মারামারি নিষিদ্ধ' জাতীয় কিছু একটা ছিলো, নইলে মুন্ডুটা খোয়াতেই হতো মনে হয়, 'জেহাদী জোশ' বলে কথা।

ভাগ্যিস ছিলো, নইলে হুঁ হুঁ , মুন্ডু গেলে খেতেন কী? চিন্তিত

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

কৌস্তুভ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

অপছন্দনীয় এর ছবি

ব্যাপারটা তো এভাবে ভেবে দেখিনি, চিন্তিত ... গুপীদাকে জিজ্ঞেস করতে পারলে হতো...

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

বান্দর থেকে মানুষ হয়েছে, কয়েক কোটি বছর আগে একটা ছোট্ট বোমা ফেটেছিল আর তার থেকেই পৃথিবী আদি দুনিয়া তৈরী হয়েছে, এসব কোনো কথা হল? কোনো সুস্থ লোকে এসব কল্পনায় বিশ্বাস করবে? আর এই তো, ছ হাজার বছরটা অনেক বোধগম্য সময়; ছ হাজার বছর আগে একটা সময় খোদাতালা সব কিছু গুছিয়ে সৃষ্টি করলেন, মানুষ ইত্যাদি সব সুন্দর ব্যবস্থা করে দিলেন, এটা অনেক স্বাভাবিক আর প্রণিধানযোগ্য.....

হো হো হো

ভালো লিখসেন ।

---------------------------------------
আমার চারপাশ ডট কম

কৌস্তুভ এর ছবি

আমার লেখা তো নিমিত্তমাত্র, এসব ওই মহাপুরুষের বাণী...

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

হো হো হো
মজার লেখা।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফাহিম হাসান এর ছবি

অসাধারণ! হো হো হো গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

হ, ওই পরমজ্ঞানী সত্যিই অসাধারণ!

সজল এর ছবি

হলে থাকতে এক বন্ধুর রূমে আড্ডা দিতে গিয়ে এক জ্যামাইকান তাব্লিগি হুজুরের পাল্লায় পড়েছিলাম। চারজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিই একমাত্র মুসলিম ছিলাম না। মনের মাঝে একদিন বিদেশ যাওয়া লাগবে, ইংলিশে কথা বলা প্র্যাক্টিস করার দরকার, এই ভেবে বেশিরভাগ আলাপচারিতা আমিই চালিয়ে গেলাম। ঘন্টা খানেক এখনকার মানুষ কেন মসজিদে যায়না আগের মত তা নিয়ে অনেক দুঃখ করলো বেচারা। শেষে সবার নাম আর রূম নাম্বার জানতে চাইল, দ্বিতীয় দফা বয়ান দেবার জন্য। আমার নাম শুনে তার সাথে আসা এক সিনিয়র বলল, ও কিন্তু মুসলিম না। তারপর হুজুরের মুখ দেখার মত হয়েছিল, আর আমার সাথে একটা কথাও বললনা। বুঝলাম না, সে আমাকে আর হেদায়েত করলনা কেন, ডাবল পূণ্যের ব্যাপারটা সে জানতনা নাকি!

লেখা ভালো লেগেছে।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

কৌস্তুভ এর ছবি

হো হো হো

ব্যাটায় জামাইকা থেকে ওখানে আসছে কি কামে? দেশে কি অমন লোকের অভাব?

অপছন্দনীয় এর ছবি

মনে হচ্ছে এই ভাইসাহেবদের সঙ্গে আপনার ঠিক পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি দেঁতো হাসি

এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিবর্গ নিজের জীবন এবং পরিবারকে উৎসর্গ করেছেন ঘরের খেয়ে বনের মোষের 'ইয়ে'কে খাওয়া পরবর্তি মিষ্টিমুখ করণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। ওনারা টাকার শ্রাদ্ধ করে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ান, মসজিদে থাকেন, এলাকার লোকও বেহেশতের শর্টকাটের লোভে ওনাদের রেঁধেবেড়ে খাওয়ান, ওনারাও প্রাণভরে তাঁদের ওয়াজ নসিহত করে স্বর্গের রাস্তায় একটা লাল কার্পেট বিছানোর ব্যবস্থা করে দেন। যে সব বুজুর্গব্যক্তি বিদেশে যেতে পারেন না তাঁরা দেশের মধ্যেই কোন এক চুলোয় তিনদিন অথবা চল্লিশ দিন মসজিদে থেকে একই কর্ম করে আসেন। আন্ডারগ্র্যাডে আমার হাউজমেট এই দলের একজন ছিলো, এবং তার সূত্রে এক বৃটিশ বুজুর্গ একদিন আমার রুমে পদধূলি দেন ইমেইল চেক করার জন্য। এই ব্যাটার চেয়ে বড় মৌলবাদী আমি আর কোনদিন দেখিনি। খুব সম্ভবতঃ সে সাইবার ক্যাফেতে যায়না ওখানকার কিবোর্ডে 'বেগানা আওরত'দের হাতের ছোঁয়া লেগে আছে কিন্তু তাদের হাতটা ছোঁয়ার ব্যবস্থা করা নেই বলে। এই ব্যাটাও দেখেছে আমি ওই মসজিদে যাইনা, কাজেই আমার পরকালেরও একটা প্রেসক্রিপশন দিয়ে গিয়েছিলো। যাওয়ার সময় জানিয়ে গেছে তার বউ লন্ডনে থেকেও বোরখা পরে, কিন্তু এই দেশের মেয়েগুলো বড্ড বেপর্দা, কাজেই আমি যেন বিয়ে করলে দেখেশুনে করি।

এদের এই তবলিক একটা অতিবিস্তৃত ক্যান্সারটাইপ রোগবিশেষ, এবং খুব সম্ভবতঃ পৃথিবীর সব জায়গায়ই আছে।

কৌস্তুভ এর ছবি

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়!

কৌশিক (নাম ব্লক্‌ড্‌ বলছে কেন?) এর ছবি

এদের এই তবলিক একটা অতিবিস্তৃত ক্যান্সারটাইপ রোগবিশেষ, এবং খুব সম্ভবতঃ পৃথিবীর সব জায়গায়ই আছে।

"তবলিক" মানে ঠিক জানিনা, তবে এই ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনাটা খুবই যুক্তিযুক্ত - এই ধারণা আমার অনেকদিন ধরে রয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে আরও জোরালো হয়েছে। আজকে আপনার কমেন্টে দেখে ভাল লাগল।

অপছন্দনীয় এর ছবি

উইকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে "তবলিক (বা তাবলিগ) জামাত" শব্দের আভিধানিক অর্থ "Society for Spreading Faith", সর্বপ্রথম ১৯২৬এ ভারতে উৎপত্তি, এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গেছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কে যেন বলেছিলেন- ত্রিভঙ্গ মোর অঙ্গখানি এই রঙ্গভরা দুনিয়ায়...

বলাই বাহুল্য, দ্রাবিড় জাতি ইত্যাদি সম্বন্ধে ইনি কিছুই জানতেন না।

আম্মো জানি না। বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেন। দেঁতো হাসি

কুটুমবাড়ি

কৌস্তুভ এর ছবি

কে যেন বলেছিলেন- ত্রিভঙ্গ মোর অঙ্গখানি এই রঙ্গভরা দুনিয়ায়...

কোন অঙ্গ? চিন্তিত চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রাতঃস্মরণীয় সৈয়দ মুজতাবা আলীর "চাচা কাহিনী"তে এক ক্যারেক্টার বলেছিল "আফ্রিকায় মিশনারীদের যাওয়া বন্ধ করতে হবে কেন শুনি? তারা না গেলে জংলীগুলো খাবে কী?"

--দিফিও

কৌস্তুভ এর ছবি

চোখ টিপি

আমরা তো আর অমন লোক নই, তা হলে ওদের ভারতে আসার সময় ভয়ে ভয়ে আসা যুক্তিযুক্ত হত।

সিরাত এর ছবি

মিয়া তুমি তো বাংলাদেশি বাংলা কওন শুরু করসো! হাসি

এরকম কিছু আমি আমেরিকান ইন্টারনাল ফ্লাইটে পাইসি। আমি এককথায় গাধা-বোকা-বেআক্কেল বলতে রাজি না; বলতেসি না তুমি বলসো। সবই আপব্রিঙ্গিং আর ইনফরমেশন প্রসেসিং; অবশ্য সেভাবে দেখাটা কতক রিস্কিও। তবে এক পর্যায়ে এনার্জি ফুরায় গেলে আমিও একটু ঘুমায় লইসি। হাসি বেসিকালি গুড পিপল - ইনডক্ট্রাইনড কইতারো। হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।