বৃশ্চিক

মামুন হক এর ছবি
লিখেছেন মামুন হক (তারিখ: মঙ্গল, ১৮/০৫/২০১০ - ৯:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ইদানীং অনুবাদ করার একটা ঝোঁক চেপেছে মাথায়। একদিক দিয়ে ঝক্কি কম, কাহিনি বানানোর ঝামেলা পোহাতে হয় না। গতকাল ভাবছিলাম ক্লাসিক তাইওয়ানিজ গল্পের কিছু অনুবাদ শুরু করব। অনেক খুঁজেও অনলাইন ভার্সন পেলাম না,বাধ্য হয়ে আমাজন কাগুর দ্বারস্থ হতে হলো। বই হাতে পেতে আরও সপ্তাহখানেক লাগবে। এর মধ্যে মিশরের এক বন্ধু আজকের গল্পটার সন্ধান দিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে মিশরের গ্রামাঞ্চলের এক সাদামাটা কাহিনি। পড়ে আমার কাছে দারুণ লাগলো, তাই হুট করে অনুবাদের ঝুঁকি নিয়ে নিলাম।

আশাকরি আপনাদেরও ভালো লাগবে। আলোচনা-সমালোচনা, ভাষারীতি-বানান শুদ্ধি, নির্দেশনা সবকিছুর অপেক্ষায় থাকলাম।

মূল গল্পঃ The Scorpion Hunter

লেখকঃ আব্দেল রহমান আল শারকাভি

এখন মুখে দেয়ার মতো কিছু খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে গেছে হাসান, যদিও মাথা গোঁজার মতো একটা ঠাঁই তোর আছে। গ্রামের অনেকের অবস্থা তোর চাইতেও খারাপ। ইমাম সাহেব তোকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়ার পর থেকে তুই খড়কুটার মতো ভাসছিলি, এই চাকরি থেকে সেই চাকরি ধরে। তুই এমনকি কায়রো পর্যন্ত গেলি,আত্মীয়-কুটুমদের খামারে কাজ করতে। বিমান হামলা মাথায় নিয়ে বাঁচলি, ইংরেজ সৈন্যদের হাতে মারধোর খেয়ে পাঁজরের হাড় ভাঙলি গোটা কয়েক, তারপর আবার একদিন যেভাবে চুপিসারে ভেগে গিয়েছিলি সেভাবেই আবার গ্রামে ফিরে আসলি। ফিরে এসে তুই ইমাম সাহেবের হাতে পায়ে ধরে মসজিদে খাদেমের চাকরিটা ফেরত চাইলি, কিন্তু উনি শুনলেন না। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাইলি, কিন্তু তারা তোকে নিল না। শেষমেশ বিছা শিকার ছাড়া তোর জন্য পেট চালানোর আর কোন উপায়ই বাকী থাকলো না।

বিচ্ছু শিকার? একটা কামড় খেলেই তো তোর কিচ্ছা খতম। তুই আসলেই ফাঁপরে আছিসরে হাসান। কিন্তু একটা বিছা এক টাকায় বিক্রি হয়, আর দশ টাকায় পাওয়া যায় একপাল্লা গম। দশটা বিছা ধরতে পারলেই তুই বস্তাভর্তি রুটির মালিক হয়ে যাবি। পশ্চিম মিশরের একটা জোয়ান ছেলে একাই বিছা দিয়ে বড় একটা কৌটা ভর্তি করে ফেলতে পারবে, একটুও কামড়-আঁচড় না খেয়ে। বুলক জেলার লোকেরা বলে ঐ অঞ্চলের ছেলেদের নাকি কোন ভয়-ডর নাই, ইচ্ছা মতো বিচ্ছুর দল পাকড়াও করে আর দেদার টাকা কামায়।

কিন্তু এই গ্রামে আগে কেউ বিছা শিকার করেনি।

**
হাসান দুই হাতের তালুতে চেপে রাখা মুখ তুলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সে কুঁড়ের বাদশার মতো মেহমানখানার দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে, সকাল থেকে। দেয়ালের সাথে ঘষে ঘষে পীঠ চুলকে নিয়ে সে খালি পায়ে গরম বালি নাড়াচাড়া করতে লাগলো। অলসভাবে হাসান তপ্ত রোদে ভেসে যাওয়া গ্রামের রাস্তার অন্য পাশে মসজিদের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই দমবন্ধ করা গরম দুপুরে আগুনে রোদের কবল থেকে মাথা বাঁচাতে মেহমানখানার দেয়ালের আড়াল ছাড়া ওর আর কোন আশ্রয় নেই।

ইমাম সাহেব পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, হাসানকে দেখে একটু থেমে মাটিতে থুথু ফেললেন।

-‘ আপনে আমার দিকে এত খারাপ নজরে তাকান ক্যান? একটু বিষয়-আশয় তো জিগাইতে পারেন। নাকি আমারে মসজিদ থিকা বাইর কইরাও আপনের মন ভরে নাই?’

ইমাম সাহেব মসজিদের দরজায় থেমে জুতা খুললেন, তারপর মসজিদের ঢোকার দোয়া পড়ে নিয়ে জুতা বগলবন্দী করলেন। গলা খাঁকড়ে নিয়ে আবার বাইরে থুথু ফেলে চড়া গলায় বললেন,‘ তুই ঐখানেই থাক হাসান, গাছের গুড়ির মতো মাটিতে পড়ে থাক এই কাঠফাটা গরমে। এদিকে আসবিনা, যেমনে ইচ্ছা নিজের জান হারাম কর জয়নাবের ব্যাটা।’

‘খবরদার আপনে মায়ের নাম নিয়া কিছু বলবেন না, আল্লাহ্‌ তারে বেহেশ্‌ত নসীব করুক। যদিও তার জন্যই আমার এই অবস্থা। আর নাইলে আজকে আমি সেনাবাহিনীতে থাকতাম, আমার খাওন-দাওনের চিন্তা থাকতো না। প্রথম যেইবার গেলাম যোগ দিতে, তারা কইলো তোমার বুড়া মা আছে, যাও তার খেয়াল রাখো। বুড়ি মরার পর যখন আবার গেলাম, তখন কয় আমি নাকি দুবলা-পাতলা।’—হাসান বিড়বিড় করে বলতে থাকে।

বৃদ্ধ শেখ গোস্বাভরে থামলেন, রাগের দমকে তার সাদা দাড়ি কাঁপতে শুরু করলো--‘গুজগুজ করে কী বলতেছিস তুই ব্যাটা ফাজিল? আল্লাহ্‌র গজবে রাস্তায় নামছিস, বিচ্ছু ধরে খাস তবুও তোর শিক্ষা হয় না? খোদা রহমত করুক এই গ্রামকে। খোদার নাখোশীতে সব ছাড়খার। গজব পড়ুক তোর উপর, ঈমান-আমল ভুলে খাওয়া সব কয়টার উপর—নামাজ নাই, রোজা নাই, আল্লাহ্‌ খোদার নাম নাই, মসজিদের সামনে দিনরাত হাত-পা ছড়াইয়া বসে থাকিস। যোহরের নামাজের সময় হইছে, ওজু-গোসল পর্যন্ত করতে যাস না।’—রাগে ইমাম সাহেবের গলা চড়তে চড়তে চিৎকারের মতো শোনায়।

হাসান গলা আরও কয়েক পর্দা চড়িয়ে বলতে থাকে,‘ খোদার কসম আমি কোনোদিন এই মসজিদে পা দিমু না। এই মসজিদ আমারে কী দিসে? লাথি মেরে বের করে দিসে, রাস্তায় নামাইছে, এইখানে সেইখানে ফকিরের মতো দিন কাটাইছি। কায়রো গিয়া বিমান হামলা আর মাতাল সৈন্যদের মধ্যে পড়ছি। আর এখন শেষমেশ বিছা ধরে জান বাঁচাই। আল্লাহ্‌ই জানে এর পরে কী আছে কপালে?’

হঠাৎ মসজিদের ভেতর থেকে শান্ত, গম্ভীর একটা স্বর ভেসে আসলো, ‘ আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিউ... হুজুর নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেছে, আপনি আজান দিয়ে দেন।’

ইমাম সাহেব চকিতে এক পাক ঘুরে গিয়ে তড়িঘড়ি করে মসজিদের ভেতরে ঢুকে গেলেন। মিম্বারের পাশেই ধবধবে পরিষ্কার জায়নামাযে বসা মাথায় পাগড়ী আর গায়ে দামী পোষাকের উপরে গেলাফ চড়ানো ফর্সা, মোটা মতোন লোকটির পাশে গিয়ে বিগলিত কন্ঠে বলতে লাগলেন, ‘ এখনই যাইতেছি জনাব, একটুও দেরী হবে না।’ তিনি সামনের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পেছনের রঙ চটে যাওয়া মাদুরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসা গরীব লোকগুলোর দিকে তাকালেন। তারপর আবার লোকটির দিকে তাকিয়ে সম্ভ্রমের সাথে বললেন, ‘ আল্লাহ্‌র রহমত পড়ুক আপনার উপর। কেমন ছিলেন এতদিন?’

লোকটি এই অঞ্চলের জমিদার। সোনার তৈরী ঘড়িটি পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে বললেন,‘ শুনতেছি সরকারের নাকি বিছার বিষ খুব দরকার। যুদ্ধের কারণে বিদেশ থেকে আনা যাচ্ছেনা এমন কী একটা কেমিকেলের বদলী হিসেবে ব্যবহার করতে।’

তিনি পেছনের সাধারণ মুসুল্লীদের দিকে ঘুরে বসলেন। সবাই এতক্ষন হা করে তাঁর কথা গিলছিল। হাসতে হাসতে আর লালচে আঙ্গুলে তসবীর দানা গুণতে গুণতে তিনি যোগ করলেন,‘ দেখ দেখি কাণ্ড, যুদ্ধে এসে বিছার দাম বাড়িয়ে দিল।’ তারপর আবার দৃষ্টি সরিয়ে মসজিদের দেয়ালের ফাটলের দিকে তাকালেন। পেছন থেকে কিছুটা ভাঙ্গা, দুর্বল আর ভীত স্বর ভেসে আসলো,‘ আর মানুষরে বানাইছে ফালতু, মানুষের কোনো দামই নাই।’

জমিদার সাহেব এ কথা শুনে ঘুরে তাকাতেই হাসান দুই হাতে তার হাত ধরে বিনীতভাবে সম্মান জানালো। তিনি মুচকি হেসে হাত টেনে নিয়ে বললেন,‘ কেন? কে রে হাসান নাকি? মসজিদের তাহলে আসলি শেষ পর্যন্ত?’

হাসান তার পেছনের কাতারে জায়গা খুঁজে নিয়ে বসার আগ পর্যন্ত তিনি চুপ থাকলেন। তারপর কিছুটা বিরক্তি নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘ কীভাবে যুদ্ধ মানুষরে একেবারে ফালতু বানাইছে বল দেখি হাসান। যুদ্ধের কারণেই না তোর মতো অনেক হাভাতে পোলাপান কাজকাম কিছু করতে পারতেছে , ঠিক কিনা? খোদার প্রতি শোকর করতে তোর এত কষ্ট লাগে কেন? এই এলাকায় আগে কোনোদিন বিছা শিকার করতে দেখছিস কাউকে? কাজকাম কি কিছুই তোর ভালো লাগেনা?’

হাসান জবাব কী দেবে ভেবে পেল না। পাগলের মতো হাসতে শুরু করলো। উপর ইমাম সাহেব আজান দিতে শুরু করেছেন, তার গলার আওয়াজ সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। হাসান হাসি থামিয়ে বলতে শুরু করলো, ‘ এই পুরা গ্রামে কতগুলা বিছা আছে বইলা আপনার মনে হয়? আমাদের একেকজনের কপালে কয়টা কইরা জুটব? কয়টাকা কইরা কামাইতে পারুম আমরা? ইমাম সাহেবের পেটে যদি এত খিদা না থাকতো, উনি কি আমারে এইভাবে খেদাইতে পারতেন? এইটারে কি ইসলাম কয়? ইনসাফ কয়? উনি প্রতিমাসে মসজিদ কমিটি থেকে দুইশ’ টাকা করে পান। সেক্রেটারী সাহেব নিজের হাতে দেন, আমার চোখের সামনে। সেইখান থেকে উনি আমারে মাসে পাঁচটাকা করে দিতেন। আমি সারাদিন ধরে মসজিদে পানি আনতাম, নদী থিকা পানি আইনা চৌবাচ্চা ভর্তি করতাম। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় সব মাথায় নিয়া। কোনদিন আইলসামি করি নাই, কাজেও ফাঁকি দেই নাই। আমার জায়গায় কোন একটা ষাড় বা গাধাও যদি থাকত কাজের চাপে এতদিনে মারা যাইত। এত কিছু সব মাসিক মাত্র পাঁচ টাকার জন্য। আমি খুশি ছিলাম, খোদার কাছে শুকরিয়া করতাম রিজিকে যা মেলে তা নিয়া। কিন্তু যখন বাজারে গমের দাম বাড়লো, আটা-ময়দার দাম বাড়লো, বাড়লো মানে এক লাফে ডাবল হইয়া গেল, আমি ইমাম সাহেবেরে আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে কিছু টাকা বেশি দিতে কইলাম। উনি জবাবে আমারে বিস্তর গালি গালাজ করলেন। আমি তখন উপায় না দেইখা সেক্রেটারী সাহেবের সাহায্য চাইলাম। এতে ইমাম সাহেব আরও গরম হইয়া আমারে মাইরধর কইরা মসজিদ থিকা বাইর কইরা দিলেন। আর আল্লাহ্‌র নামে কসম খাইলেন যে আমারে আর কোনদিন ওজুখানার ধারে কাছেও আসতে দিবেন না, মসজিদ তো দূরের কথা। সেই থিকা আমি একরকম ফালতু মানুষ হইয়া গেলাম।’

ইমাম সাহেব আজান শেষ করে নীচে নেমে আসলেন। মিম্বারের দিকে আগাতে থেকে বলতে লাগলেন , ‘কাতার সোজা করেন ভাইসবেরা, কাতার সোজা করেন।’

হাসান হিসহিসিয়ে বলে উঠলো, ‘দোয়া করি আপনের জানাজা পড়ার দিন যাতে আর খুব বেশি দূরে না হয়।’

এক প্রতিবেশি একথা শুনে হাসানের কাধে ঝাঁকি দিয়ে বললো, ‘ বাদ দে এইসব হাসান। কেন এগুলা ভুইলা গিয়া একটু আল্লাহ্‌-খোদার নাম নেস না?’


মন্তব্য

প্রখর-রদ্দুর [অতিথি] এর ছবি

ভালো লাগলো ধারাবাহিক গতি ময় বর্ননা ।

মামুন হক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আবারো একটা অনুবাদ! অন্যরকম একটা গল্প। মনেই হয়নি অনুবাদ। ঝরঝরে বর্ননা। এই লেখকের নাম কখনো শুনিনি।

আসুক আরো অনুবাদের কাজ! নিজেরই ইচ্ছে হচ্ছে একটা গল্প অনুবাদ করি। হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মামুন হক এর ছবি

নিজেরই ইচ্ছে হচ্ছে একটা গল্প অনুবাদ করি।

--করে ফেলেন বস। অপেক্ষায় থাকলাম হাসি

ফাহিম [অতিথি] এর ছবি

মামুন ভাই , আপনার অনুবাদের হাত অসাধারণ। গল্পে গতি এবং যতির খেলা দেখতে ভাল লাগলো - কাহিনির বুননটাও বেশ পরিপাটি ।

খালি একটা ব্যাপার - scorpion ( বৃশ্চিক ) এর অনুবাদ মাকড়শা করলেন যে ! মিশর কিন্তু এই বিছার জন্য বিখ্যাত । এটা ওখানকার flagship species ... এতে গল্পের মান ক্ষুণ্ণ হয় নি - তবে কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে ।

মামুন হক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ফাহিম। আপনার কথাই ঠিক। তবে কোন এক অদ্ভুত কারণে আমার মাথায় গল্পের শুরু থেকেই বিষাক্ত মাকড়শার কথা ঘুরছিল, একবারের জন্যও বিচ্ছুর কথা মনে আসেনি।

ঠিক করে দিচ্ছি। আবারও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

কেমুন জানি লাগছে ভাই মন খারাপ
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মামুন হক এর ছবি

বেশি খারাপ লাগছে?

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

খ্রাপ্না ভাই। কিন্তু কেন জানি আপনার আগেরগুলার মতো না। ভাল লাগে নাই। আমি বোধ হয় বুঝতেই পারিনি লেখাটা... মন খারাপ
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

মামুন হক এর ছবি

আসলে বোঝার মতো তেমন কিছু নাই রে পাগলা। অভাবী মানুষের নিত্যিদিনের গালগল্প। আমার কাছে খুব গল্পটারে খুব চেনা মনে হইসে, তাই অনুবাদ করলাম হাসি

গৌতম এর ছবি

শিক্ষাবিষয়ক কোনো লেখা অনুবাদ করেন না বস! অনুরোধ ও দাবি জানায়ে গেলাম। হাসি

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

মামুন হক এর ছবি

আচ্ছা লিংক দিয়েন পছন্দের কিছু থাকলে

ফাহিম [অতিথি] এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ । আমার মন্তব্যে "কাহিনি" বানান ভুল আছে ।কাহিনি > কাহিনী ।
আর আপনার আগের গল্প "নার্সিসিজম" ও বেশ ভাল লেগেছে ।

মহাস্থবির জাতক এর ছবি

লেখাটা কি এটুকুই? কেমন অসম্পূর্ণ মনে হলো। তবে, অনুবাদ খাসা। আপনার একটা অনুবাদের বই বের করে ফেলা উচিত। সিরিয়াস।

@ ফাহিম: 'কাহিনি'-ই ঠিক। ওটা হিন্দি 'কহানি' থেকে আসা। বিদেশি শব্দে হ্রস্ব ই-কারই হবে।
_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

মামুন হক এর ছবি

জ্বি স্যার কাহিনি ঐটুকুই। জীবন ঘনিষ্ঠ কাহিনি আসলেই কখনই সম্পূর্ণ হয় না...অনুবাদ এখনও শেখার পর্যায়ে আছি ভাই, উৎসাহের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এবারে মূল গল্পটা পড়ে এসে এটা পড়লাম...

ভালো লেগেছে। তবে, পূর্বের অনুবাদের পর কিন্তু আপনার কাছে চাহিদা বেশি হয়ে গেছে- খুপ খিয়াল কইর‌্যা...

_________________________________________

সেরিওজা

মামুন হক এর ছবি

হ জানিরে ভাই, কিন্তু সব বলে তো আর বাউন্ডারী পিটান যায় না হাসি দুই একবার তুই রান আউট ও হবি

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশ ভাল লাগল। গতিময় এবং ঝরঝরে বর্ণনা। আপনার আরও অনুবাদের অপেক্ষায় থাকলাম।
তার্কিক

মামুন হক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। চেষ্টা থাকবে

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

আজ প্রথম আপনার লেখা পড়লাম। প্রথম দিকে কেমন জানি লাগলেও পরে ভালই লেগেছে। আশা করি সামনে আপনার অনুবাদ আরও পড়তে পারব।
পলাশ রঞ্জন সান্যাল

মামুন হক এর ছবি

কন কী মিয়া! আমি লিখতে লিখতে বুড়া হয়ে গেলাম আর আপ্নে পড়লেন এদ্দিনে হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

বস, নতুন মানুষ, একটু টাইম দেন। আপনার গতিতে এসে যাবনে।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনুবাদের ক্ষেত্রে নিজস্ব একটা প্যাটার্ন তৈরি করা কম কৃতিত্বের ব্যাপারনা ,আমার মনে হয় আপনি সেই দিকে পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছেন।

অদ্রোহ।

মামুন হক এর ছবি

আরে না ভাই, একেক সময় একেক পদের ভূত মাথায় চাপে আর কি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অনুবাদ কর্ম চালিয়ে যা। ভালো হয়েছে।

মামুন হক এর ছবি

আচ্ছা দোস্ত, চালিয়ে যাব। ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিতে ভুলিস না যেন হাসি

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ভালৈসে।

-------------------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

মামুন হক এর ছবি

ধইন্যা। আরও দুই একটা দেন অনুবাদ করতে

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি
মামুন হক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আশরাফ।

নাশতারান এর ছবি

দারুণ অনুবাদ। আমিও অনুবাদ করতে চাই।

|| শব্দালাপ ||

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

মামুন হক এর ছবি

করে ফেল জলদি!

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

ভাল্লাগসে! আরও লিখো! হাসি

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

মামুন হক এর ছবি

হ, কী আছে দুনিয়ায়!

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার সাধারণত অনুবাদের থেকে মূল গল্প পড়তে বেশি ভাল লাগে। কিন্তু আপনার অনুবাদ খুব সাবলীল। তবে 'নার্সিসিজম'-এর চাইতে এই গল্পটা আমার বেশি ভাল লাগল। ধন্যবাদ আপনাকে। অনুগ্রহ করে আরো অনুবাদ করুন।

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

মামুন হক এর ছবি

ভাইরে এই পাওয়া গেল একজন আপন মানুষ হাসি
আমারও নার্সিসিজমের চাইতে এই গল্পটারে অনেক বেশি মানবিক মনে হইসে। কেন তা কইতারিনা

অতিথি লেখক এর ছবি

কারণ এই গল্পটা আসলেই অনেক বেশি মানবিক... কারণ এই গল্পটা আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে বেশি মিলে যায়... কারণ এই গল্পটা মনে করিয়ে দেয় নজরুলের মানুষ কবিতাটা..??
হাসি

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

দ্রোহী এর ছবি

সাবলীল অনুবাদ হয়েছে।

মামুন হক এর ছবি

মিঠা মিঠা কথায় চিড়া ভিজত ন, আপনের কাহিনিও আসতেছে অচিরেই হাসি

বর্ষা এর ছবি

বস চালায় যান।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।