জালের জগতে প্রথম ঠিকানা

অভ্রনীল এর ছবি
লিখেছেন অভ্রনীল (তারিখ: রবি, ২৭/০৭/২০০৮ - ৮:০৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জালের জগতের সাথে প্রথম মোলাকাত ইন্টার পরীক্ষা দেবার ঠিক আগে আগে। আমার জালের জগত সম্পর্কে জ্ঞান তখন খুবই করূণ। ইন্টারে রচনা কমন ফেলার জন্য যতটুকু জানা দরকার তার চেয়ে বেশি না। এই জগতের মাজেজা আমার কাছে তাই সম্পূর্ণ অচেনা। এক বন্ধু তখন এমএসএন ম্যাসেঞ্জারে চুটিয়ে প্রেম করছে কানাডা প্রবাসী (আদৌ কানাডা প্রবাসী কি না কে জানে!) এক মেয়ের সাথে। বন্ধুর সাথে সেই মেয়ের ছবি দেখতে গিয়ে আমার জালের জগতে হাতে খড়ি। যাই হোক আমার মত নাদান তখনো এই জগতের মহীমা বুঝতে পারেনাই!

মহীমা বুঝতে পারি যখন আমার প্রথম ইমেইল এড্রেসটা খুলি। জালের জগতে আমার প্রথম ঠিকানা তৈরি করি আইইউটিতে ভর্তি হবার পর। ভর্তি হবার পর একদিন আমাদের ফার্স্ট ইয়ারের সবাইকে একটা এপ্লিকেশন ফর্ম দিয়ে জানানো হলো যে আমাদের সবার নামে স্টুডেন্ট ইমেইল একাউন্ট খোলা হবে, সবাই যেন নিজেদের পছন্দের নাম জমা দেয়। আগেই বলেছি আমি ছিলাম নাদান। তো নাম যেহেতু চাইলো আমি তাই বাবা-মা'র দেয়া আমার ঊনিশ অক্ষরের (আন্ডারস্কোরসহ একুশ অক্ষর) বিশাল নামটাই দিয়ে দিব বলে ঠিক করলাম। এরই মধ্যে একদিন আবিষ্কার করলাম পোলাপান সব কাব্যিক নাম দিচ্ছে। কী বাহার সেই সব নামের! স্বপ্নীল, দলছুট, নীলআকাশ। আবার মারমার কাটকাট নামও ছিলো বেশ কয়টা; যেমন ডেথবয়, হেলকীপার, ফায়ার অফ ফিউরি। একজনতো ম্যাট্রিক্স মুভি দেখে সেই ছবির নায়ক চরিত্র নিও'র নাম দিয়েছিল নিজের একাউন্টে। আমার মত আরেকজন নাদান আবার তার প্রেমিকার নামে একাউন্ট খুলে বসেছিলো! দেঁতো হাসি

এতসব নামের বাহার দেখে আমি বুঝলাম যে স্মার্ট হতে আমার এখনও অনেক দেরী। কী আর করা, আমার ইমেইলের নামতো বদলাতে হবে। স্টাইলিশ নাম দিতে হবে। চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার ঊনিশ অক্ষরের নামের মধ্যে মোট তিনটা অংশ, যার মধ্যে একটা অংশের বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় "যার কোন ক্ষয় নাই"। ডিকশনারি নিয়ে বসলাম এর ইংলিশ প্রতিশব্দ বের করার জন্য। শেষমেষ বের করে ফেললাম। নামটা জমাও দিয়ে দিলাম। আমার প্রথম ইমেইল নিকটা ছিল "ইটারনাল" [ETERNAL]. সেই অনু্যায়ী জালের জগতে আমার প্রথম ঠিকানাটা ছিলো . (যদিও এই ঠিকানাটা খুব একটা ব্যাবহার করিনাই, কারন কদিন পরেই হটমেইল আর ইয়াহু'র খোঁজ় পেয়ে গেলাম) এর পর কত জায়গায় কত নামে ঠিকানা খুলেছি তার ইয়েত্তা নাই। অবশ্য সার্বজনীন ঠিকানায থিতু হতেও খুব একটা সময় লাগেনি। কিন্তু ঐ প্রথম ঠিকানাটা কখনোই ভুলতে পারিনা।

প্রিয় পাঠক, আপনার কি মনে পড়ে জালের জগতে আপনার প্রথম ঠিকানাটা কী ছিল? কীভাবে খুলেছিলেন সেই ঠিকানাটা? যদি এখনো কোনমতে মনে থাকে... তবে আর দেরী কেন... কস্ট করে নীচের মন্তব্য বাক্সে... দুই বা ততোধিক লাইন খরচ করুন। হাসি


মন্তব্য

অভ্রনীল এর ছবি

কোন কারনে পোস্টে তিন নাম্বার প্যারার সাত নাম্বার লাইনের আমার প্রথম ইমেইল এড্রেসটা দেখাচ্ছে না। ইমেইল এড্রেসটা ছিলো eternal(AT)iut-dhaka(DOT)edu.

[আইইউটি ছাড়ার পর এই ইমেইল এড্রেসও বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই বর্তমানে এই ঠিকানার কোন অস্তিত্ব নাই।]

_________________________________
| আবজাব | আদি ব্লগ |
_________________________________

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍তখনও "হাতে মাউস" হয়নি আমার। নব্বই দশকের মাঝামাঝির কথা সেটা। আমার এক অসমীয়া বন্ধু আমার হয়ে হটমেইলে একটা অ্যাকাউন্ট খুলে আইডি আর পাসওয়ার্ড আমাকে ধরিয়ে দিয়েছিল। ব্যবহার করা হয়নি কোনওদিন। তারপর নিজে খোলা ইয়াহু অ্যাকাউন্ট দিয়ে কাজ চালিয়েছি কয়েক বছর।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
মৌমাছির জীবন কি মধুর?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

ভূঁতের বাচ্চা এর ছবি

ভাল লাগল তোমার লেখা পড়ে।
আমার প্রথম তড়িৎডাকের ঠিকানা ছিল হটমেইলের সাথে। ঐটা এখনো ব্যবহার করি। আমার নাম সত্যিকারের নাম দিয়েই বানানো হয়েছিল ওটা। নামের মধ্যের অংশ আর শেষের অংশ যদি পরিষ্কার করে বলতে যাই। কিছুদিন পর ইয়াহুর নানান সুবিধাদি জেনে তাদের সাথে একাউন্ট ওপেন করি। সুবিধাদির মধ্যে চ্যাটরুমের ফাংশনটাই বেশি আকর্ষিত করেছিল আমাকে। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা কি বলব ! আমাদের এখানে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই রোল নম্বর দিয়ে তড়িৎডাক খুলে দেওয়া হয়। অন্য কোনও দেশের কেউ শুনলে হয়তো হাসবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ কার্যকলাপে সেই তড়িৎডাক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যেমন ধরেন আমার রোল যদি '১২৩৪৫৬৭৮' হয় তাহলে তড়িৎডাক হবে- ১২৩৪৫৬৭৮@বিশ্ববিদ্যালয় ডট এডু ডট এইউ।

--------------------------------------------------------

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

প্রথম ঠিকানার কথা মনে নাই, তবে আমার আই.ইউ.টি-র ঠিকানা নিয়ে বলি। কেউ কেউ মজা পেলেও পেতে পারেন।

আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে (স্কুলে ছিলাম তখন) আমার এক বন্ধু আমার লোমশ হাত দেখে ইয়ার্কি করে বলেছিল আমি নাকি 'গরিলা'! কেন যেন নামটা গেঁথে গেল ভেতরে। (চুপি চুপি বলে রাখি, লোমশ হলেও অন্তত গরিলার মত না রে ভাই!)

আরো কিছু বছর পেরিয়ে আই.ইউ.টি-তে প্রথম বছরে আপনার/তোমার (কোন ব্যাচ? দেঁতো হাসি) মত অবস্থায় সাত-পাঁচ না ভেবে লিখে দিলাম গরিলা@আইইউটি-ঢাকা.এডু। সেইটা আবার দেখি কিভাবে যেন সিলেক্টেড হয়ে গেছে! অগত্যা, চারটা বছর আমি ওই ঠিকানা দিয়েই কাজ চালিয়েছি (হটমেইল ছাড়া)। বন্ধুমহলে তো বটেই, এমনকি স্যাররাও যখন অ্যাড্রেসটা (বিশেষ করে, অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব রিপোর্ট ইত্যাদির কল্যাণে) দেখতেন, কেমন একটা অবাক চাহনি দিতেন। প্রথম প্রথম একটু কেমন লাগলেও পরে কিন্তু যথেষ্ট উপভোগ করেছি বিষয়টা। দেঁতো হাসি

যাই হোক, বিভিন্ন সময়ে 'ভাবের নাম' ঠিক করতে গিয়ে আমাকেও পড়তে হয়েছে নানান বিপাকে। সাম্প্রতিক একটা উদাহরণ দেই। সচলায়তনে যখন প্রথম লিখতে শুরু করি, কি নাম নেয়া যায় তা নিয়ে অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলাম 'অতন্দ্র প্রহরী' চরম একটা ভাবের নাম হবে! শেষমেষ খেতাব পেয়ে গেলাম 'সচলের বিডিআর/হাবিলদার/চৌকিদার'! দেঁতো হাসি

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ওহ! ম্যাক! তুমিই অভ্রনীল! দেঁতো হাসি
লেখাটা ভাল্লাগছে। আর, গরিলা-র পরও নিশ্চয়ই আমার নামটা আর বলা লাগবে না! চোখ টিপি

অভ্রনীল এর ছবি

গরিলাকে চিনবনা! কার ঘাড়ে কয়টা মাথা... থুক্কু...হাতে কয়টা লোম। দেঁতো হাসি তুমিও যে এইখানে আছ সেটা জানতামনা। দেঁতো হাসি
_________________________________
| আবজাব | আদি ব্লগ |
_________________________________

রায়হান আবীর এর ছবি

রায়হান১০৭৯@ইয়াহু.কম

---------------------------------
জানিনা জানবোনা... কোন স্কেলে গাইছে কোকিল
গুনিনা আমি গুনিনা...কার গালে কটা আছে তিল

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমি পুরা নাদান। ছিলাম, আছি। ছিল প্রথমটা। শেষ কবে ঢুকেছি ওটায়, মনে নেই।


রাজাকার রাজা কার?
এক ভাগ তুমি আর তিন ভাগ আমার!

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

প্রথমটা তো মনে নাই! তবে udvranto টাই অনেক দিন ব্যবহার করতেছি। এর আগে একটা ছিল।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

প্রখর রুদ্র [অতিথি] এর ছবি

প্রথম ই-মেইল একাউন্ট এআইইউবিতে ভর্তি হবার পর খুলেছিলাম। কি নামে খুলেছিলাম মনে নেই, ইয়াহুতে ছিল একাউন্টটা।

salam এর ছবি

আমার প্রথম জালের ঠিকানাটা খুবই ভালমত মনে পড়ে।এটা আমার জন্য যেমন রোমাঞ্চকর ছিল, তেমনি বিব্রতকর।এক বড় ভাই আমার প্রথম জাল ঠিকানা বুনে দিলেন।সালাম নামটা খুবই কমন হওয়ায় salam এর পর একটা আন্ডারস্কোর দিয়ে বাংলা মায়ের সাথে মিল রেখে bd দেয়া হল।ওতেই ভাল চলছিল,সমস্যা হয়নি।আমার নতুন বসস জাল ঠিকানা চাইলে ওটা দিলাম।বলে বস্লেন, নামের সাথে এই ভিডি টিডি কেন ? তোমার কি ভিডি টিডি হইছিল নাকি ? কিছু চামচা এটা নিয়ে বসের সাথে তাল মিলিয়ে হৈ হৈ করে উঠল।যাহোক ওটা আমি অনেকদিন ব্যবহার করেছিলাম।মাঝখানে ২০০১ এর দিকে প্রায় বছরখানেক এমন এক দুর্গম জায়গায় ছিলাম,জাল যেখানে পৌছতে পারেনি।আর এই জুম টুম তখন ছিল না।
পাসওয়ার্ড আর মনে ছিল না।উদ্ধার করার জন্য কি যে প্রশ্ন দিয়েছিলাম আর কি যে তার উত্তর ছিল,তাও জানিনা।হারিয়ে গেছে আমার প্রথম ঠিকানা।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।