আমি জানি আমাকে চোখ খুলতেই হবে, কিন্তু খুললে তারা কি দেখবে সেই আতঙ্কেই সিঁটিয়ে আছি।
আগে হোক - পরে হোক, খুলতেই হবে জানি। কিন্তু আরেকটু খানি যদি অপেক্ষা করা যায়...
আমি আর আমার বান্ধবী প্রতিদিন সকালে এই খেলাটা খেলি। ঘুম ভাঙার পর কাজে যাওয়ার জন্য দুজনের একজনকে তো আগে বিছানা ছাড়তেই হয়। তখন আমরা বলি, "এক মিনিট..."
বুদ্ধিটা ওর ছিল। ও ব্যাখ্যা করল যে, সারা দিনব্যাপী সবার দাবি-দাওয়া-প্রয়োজন মেটানোর ঘানি-টানার কারখানায় ঢোকার আগে আমাদের নিজেদেরকে অন্তত একটা মিনিট সময় বিছানায় দেয়া উচিত, যখন আমরা মাথা থেকে সমস্ত চিন্তা দূর করে দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে রিলাক্স করবো। অবশ্যম্ভাবীর জগতে প্রবেশের আগে একান্ত নিজস্ব একটা পরম প্রশান্তির মিনিট।
দু'জনের যে জন বিছানায় থাকবে পরে উঠার জন্য, সে-ই এই মিনিট গণনা করবে। অন্যজন ততক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকবে তার উষ্ণ আলিঙ্গনে। নিশ্চিন্ত প্রশান্তিতে।
আমি আকুল হৃদয়ে আশা করছি, ঐ শান্তির মিনিটটা আমি এখন পেলে খুব ভাল হয়। কিন্তু না, কেন জানি মনে হচ্ছে চোখ বন্ধ করে আমি কতক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকলাম - তাতে কিছুই আসবে যাবে না। কোন শান্তিই আমার জন্য অপেক্ষা করে নেই।
কেবলই অকথ্য যন্ত্রণা আর বিভীষিকা যেন আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে বন্ধ চোখের-পাতার ওপাশে। আমি খুলব কি খুলব না এভাবে গয়ংগচ্ছ করতে করতে যতটুকু পারি দুইয়ে নিচ্ছি এই সময়টুকু। কিন্তু সকলই গরল ভেল। আমাকে চোখ খুলতে হলই। হতই।
আমার শরীরে ঠেকে থাকা নিঃসীম শীতলতা টুকুই আমার হৃদয়, আত্না, ইচ্ছাশক্তি, সবকিছু এভাবে ভেঙে খান খান করে দিচ্ছিল। ওর বাহুপাশ, সেই বাহুই যা আমাকে এতকাল কত আদর করেছে, আজ এক হিমশীতল আতঙ্কে অবশ করে দিচ্ছে। আমি জানতাম আমাকে আমার চোখ খুলতেই হবে। শুধু জানতাম না তারপর ওর স্থির চোখগুলি কিভাবে সহ্য করব।
মূলঃ এলেক্স একুটেইন
অনুবাদঃ মন মাঝি
মন্তব্য
মাঝে মাঝে আমারও এমন লাগে। কাজে যাওয়ার আগে বউয়ের কাজের তালিকা দেখার ভয়ে অথবা কয়েক সপ্তাহের জমে থাকা বাড়ির কাজ বাকী থাকায় বউয়ের রক্তচক্ষু দেখার ভয়ে। অনুবাদ ভাল হয়েছে। আরো চাই।
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!
****************************************

এইটুকুই! হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো, মুখে দিতে না দিতেই গলে গেল।
****************************************

বরাবরের মতই ভাল লেগেছে ।
****************************************

আগের মতনই অসাধারণ।
[আমার চারপাশ]-[ফেবু]-[টিনটিন]
আরে, আপনি কোত্থেকে? এদ্দিন কই ছিলেন?
****************************************

অফিস, পরীক্ষা এগুলো নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলাম। তাই একটু ঢুব মারতে হয়েছিল।
আপনার কি খবর?
[আমার চারপাশ]-[ফেবু]-[টিনটিন]
রাজাসাহেব আছেন কেমন? বহুদিন পর!
এই তো ভাই, আছি একরকম।
আপনি কেমন আছেন?
[আমার চারপাশ]-[ফেবু]-[টিনটিন]
এই লাইনটা নিয়ে আরেকবার একটু ভাবুন। "ওরগুলি" শব্দটা একেবারেই কনফিউজিং। দুটো প্যরাগ্রাফের মাঝখানে একটার বদলে তিনটা করে স্পেস হয়ে গেছে। এটা একটু কমান, পড়তে তাহলে আরাম হয়।
তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।
ঠিকই বলেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই।
"ওরগুলি" আসলে আক্ষরিক অনুবাদের ফল। এর অর্থ হবে আসলে "ওর চোখগুলি"। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্ষরিকতা এড়ানোর চেষ্টা করলেও এক্ষেত্রে করিনি, কারন ইংরেজিতে অনেক সময় আগের বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে শর্টকাট মারার একটা রীতি আছে - যা কিনা আমার খুব পছন্দ। বাংলায় যে এটা খুব প্রচলিত বা মানানসই না, সেটা খানিকটা খেয়াল হলেও গুরুত্ব দেইনি। ভুলই হয়েছে মনে হয়। ঠিক করে দিচ্ছি।
ও হ্যাঁ, শেষ লাইনের বা তার আগের বিল্ড-আপের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতটুকু পরিষ্কার হয়েছে তো - যে তার বান্ধবী আসলে মারা গেছে?
পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
****************************************

আপনার অনুবাদাণুগল্প ভালো পাই।
****************************************

facebook
****************************************

কন কী, বান্ধবীকে ওই অবস্থায় খুন করেছেন?
শ্শ্শ্শ্শ্! আপনার জানে ভয়ডর নাই? বাঘে একবার রক্তের স্বাদ পাইলে কি হয় জানেন না?!
****************************************

হ্যাঁ। বনবিভাগ এসে গুলি করে ঘুম পাড়িয়ে বাঘটারে চালান দেয়।
(ঘেঁয়াও)
****************************************

নতুন মন্তব্য করুন