ভৌতিক অভিজ্ঞতা (দ্বিতীয় পর্ব)

মৃদুল আহমেদ এর ছবি
লিখেছেন মৃদুল আহমেদ (তারিখ: বুধ, ০৭/১০/২০০৯ - ১:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভূতের যেকোনো ঘটনা শুনলেই আমাদের আগ্রহ জাগে অতি স্বাভাবিক কারণে। সহ্যশক্তির মধ্যে ভয় পেতে আমরা ভালোবাসি।
আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। ভয়ের আনন্দটা নেয়ার পাশাপাশি আমি আসলে ভিন্ন কোনো এক পৃথিবীর আভাস খুঁজে বেড়াই। একটা বিশ্বাস আমার ভেতরে প্রবলভাবে বসবাস করে, আমাদের এই চোখে দেখা, কানে শোনা, হাতে ছুঁয়ে অনুভব করা পৃথিবীর পাশাপাশিও আরো এক বা একাধিক পৃথিবী (প্যারালাল ওয়ার্ল্ড) আমাদের আশেপাশেই আছে, যেটাকে দেখার বা অনুভব করার মতো ইন্দ্রিয় আমাদের এখনো গজায় নি। বাদুড যেমন কখনো জানে না তার দৃষ্টিশক্তি নেই বা দেখতে পাওয়া কী জিনিস, তেমনি আমরাও জানি না সেই ইন্দ্রিয় কেমন বা কীরকম হতে পারে, বা এই ইন্দ্রিয়াতীত পৃথিবীকে দেখা বা জানাটাইবা কেমন হবে?
তাই আধিভৌতিক বা ভৌতিক, দৈবিক, অতীন্দ্রিয় যেকোনো কাহিনীর সূত্র পেলেই আমি এগিয়ে যাই, কান পেতে শুনি, জানার চেষ্টা করি। এটাকে "ভূতে বিশ্বাস করা"-এর সরলীকরণ দিয়ে মাপা যাবে না। আমি আসলে খুঁজি সেই প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে যাবার কোনো রাস্তা আছে কিনা। কোথায় আছে তার আভাস, কোথাও কোনো ক্লু রেখে গেছে কি সে?
অনেকেরই যে অনেক রকম বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়, এর অর্থ আমার কাছে অন্যরকম। আমাদের অদেখা, অজানা সেই ভিন্ন পৃথিবীর প্রবাহ তার শরীর-মনের বড় কাছে দিয়ে বয়ে গেছে। সেই তরঙ্গকে ধরা যাবে কীভাবে, আমার বড় জানতে ইচ্ছে করে।
আমার নিজের বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে পরে। বেশি ভূমিকা না করে সেগুলো লিখছি একে একে। কিন্তু এবারে জানাই আমাদের সেই ২৭/এ, মায়াকাননের চারতলার বাসায় আমার দুই বোনের কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেটা।
তার আগে আমাদের বাসার ডিজাইনটা একটু বুঝিয়ে দেই।
পূব দিকে একটা বড় বারান্দা। তার পাশে ড্রয়িংরুম। বারান্দা থেকে একটা করিডোর ড্রয়িংরুমের পাশ দিয়ে চলে গেছে ডাইনিং প্লেসে। ডাইনিং প্লেসের দু পাশে দুটো বেডরুম। আর ঐ পাশে আরেকটা বারান্দা। যে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি গভীর রাতে বিচিত্র সেই সুরেলা গান শুনতে পেয়েছিলাম। ঐ বারান্দায় যেতে হলে এই দুই বেডরুমের যেকোনো একটার ভেতর দিয়ে যেতে হবে।
ড্রয়িংরুমে ঘুমোতেন বাবা-মা, আর দুই বেডরুমের একটায় আমরা চার ভাইবোন, আরেকটায় আমার মামা-মামি।
ঘটনাটা ঘটল আমার বড় দুই বোনের মধ্যে মেজো যে বোন, তার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সময়। সে সিরিয়াস টাইপের ছাত্রী, মরিয়া হয়ে পড়াশোনা করে। এসএসসি পরীক্ষা সামনে আসায় সে রাত জেগে পড়া শুরু করল।
সেই সময় আমার মামা-মামি চলে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে। মামির তার বাড়ির জন্য ছিল বিশাল টান। কিছুদিন পর পরই গ্রামের বাড়িতে চলে যেতেন লম্বা সময়ের জন্য, আর তার সঙ্গে আমার বউপ্রেমী মামাও। ফলে তাদের বেডরুম সেইসময় ছিল তালাবন্ধ।
রাতের ভাত খাওয়া শেষে মা একটা পান মুখে দিয়ে একটু কথাবার্তা বলতেন আমার বোনের সাথে। "বেশি রাত করিস না, শরীর খারাপ হবে" জাতীয় কথা বলে বেডরুম ছাড়া আর সবগুলো ঘরের আলো নিভিয়ে চলে যেতেন ঘুমোতে। আমরা দু-ভাই ততক্ষণে ঘুমের অতলে। বড় বোনও ঘুমাই ঘুমাই করছে।
দু-তিন রাত জেগে পড়ার পর আমার মেজ বোন একটি বিচিত্র জিনিস আবিষ্কার করল। বারোটা সাড়ে বারোটার দিকে মা ঘুমোতে চলে যাবার খানিক পরই আমাদের বাবা ঘুম থেকে উঠে ঘরের ভেতর হাঁটাহাটি করতে থাকেন। তাঁকে দেখা যায় নি, কারণ বেডরুমের দুদিকেই পর্দা। পর্দার ওপাশে এসেই পায়ের আওয়াজ আবার চলে গেছে উল্টোদিকে।
আমার বোন প্রথমে খুব একটা মাথা ঘামায় নি। পড়ায় মগ্ন সে তখন। বাবা বেশ দাপটের লোক ছিলেন, ভীষণ কড়া। আমরা বাঘের মতো ভয পেতাম তাঁকে। হয়ত মেয়ে রাত জাগছে, বাবাও উঠে একটু হাঁটছেন বা দেখছেন মেয়ে ঠিকমতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা। ঐরকম ভারী পায়ে হেঁটে বেড়ানোর আমাদের বাসায় একজনই আছে।
কদিন পরেই খাবার টেবিলে বসে আমার বোন বাবাকে জিজ্ঞেস করল, বাবা, তোমার কি রাতে ঘুমের সমস্যা হয়?
বাবা গম্ভীর গলায় বললেন, কেন?
না, তুমি ঘুম থেকে উঠে হাঁট যে, তাই জিজ্ঞেস করছিলাম!
না তো! আমি তো হাঁটি না রাতে!
বাবা অবাক হয়ে গেলেন। আলাপ আর বেশি এগোয় নি। কিন্তু আমার বোন ভয় পেয়ে গেল। ঘরের ভেতর তাহলে কে হাঁটবে?
সে রাতে পড়তে বসে তার আর পড়ায় মন বসে না। সে অপেক্ষা করে আছে পায়ের শব্দের জন্য।
মা চলে গেলেন সব লাইট নিভিয়ে, সারা বাড়ি অন্ধকার।
আমার বোন সামনে বই নিয়ে স্থাণুর মতো বসে আছে, তার মন কিন্তু অন্যখানে। কান পেতে আছে, কখন শুরু হবে পায়ের আওয়াজ।
ঐ যে, ঐ যে শুরু হল! ধুপ....! ধুপ...! ধুপ...! ধুপ...!
পূবদিকের বারান্দা থেকে শুরু হল সেই আওয়াজ! না, বাবার পায়ের আওয়াজও তো আসলে এরকম না। যে হাঁটছে বেশ ভারী তার শরীর, কিন্তু সে হেঁটে বেড়ায় পা ঘষে ঘষে। একটু ক্লান্ত ভঙ্গিতে। বাবা অমন করে হাঁটেন না মোটেই।
যিনি হাঁটছিলেন, তিনি এসে থেমে গেলেন আমাদের বেডরুমের যে দরজাটা ডাইনিংরুমের দিকে, সেটার সামনে। সেখানে পর্দা ঝোলানো। মনে হল, সে যেন উসখুস করছে ভেতরে ঢুকবে কি ঢুকবে না। তারপর সেই পায়ের আওয়াজ আবার ফিরে চলে গেল সেই পূবদিকের বারান্দায়।
আমার বোন এবার স্পষ্টতই ভয় পেয়ে গেল। আমার বড় বোনকে ধাক্কা দিয়ে জাগাল সে।
রুনুদি, আমার ভয় করছে!
কেন? কী হয়েছে?
কে যেন ঘরের মধ্যে হাঁটে... বাবা না! বাবার পায়ের আওয়াজ এরকম না!
আমার বড় বোন থমকে রইল। সে তখন বলি বলি করেও বলল না, গত বছর সে যখন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য এরকমই রাত জেগে পড়ছিল, এই পায়ের আওয়াজ চমকে দিয়েছে তাকেও। সে একটু চাপা স্বভাবের মেয়ে বলে এই নিয়ে কোনো কথাই বলে নি কাউকে।
সে বরং তখন বলল, ঠিক আছে, তোর যখন ভয় করছে, আর পড়ার দরকার নেই। সকালে উঠে পড়িস, এখন ঘুমিয়ে পড়!
আমার মেজ বোন সে কথায় কান না দিয়ে বলল, শুনতে পাচ্ছিস, ঐ যে! শোন! শোন!
ধুপ! খ্যাসসস! ধুপ! খ্যাসসস! ধুপ! খ্যাসসস!
ক্লান্ত পায়ে কোনো এক অক্লান্ত দু-পেয়ে হেঁটেই চলছে, হেঁটেই চলছে। যেন পায়চারি করছে বড় চিন্তামগ্ন মন নিয়ে। হাঁটতে হাঁটতে এসে থমকে যাচ্ছে পর্দার সামনে। ভাবছে, পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢুকবে কিনা। ঐ বাচ্চা দুটো মেয়েকে ভয় পাইয়ে দেয়া ঠিক হবে কিনা!
আমার দুই বোন নির্নিমেষে তাকিয়ে আছে পর্দার দিকে। একটু নড়ল কি? এখনই কি ভেতরে চলে আসবে কেউ?
না, পায়ের আওয়াজ চলে গেল আবার উল্টোদিকে।
বাবাকে পরদিন বলতেই তিনি হেসে উঠলেন হো হো করে। বললেন, ভূতপ্রেত বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। তোরা ভুল শুনেছিস!
মা শুধু বললেন, আর রাত জেগে পড়ার দরকার নেই। সকাল সকাল উঠে পড়তে বসবি!
এই ঘটনার বহু পরে আমি আমার বোনকে নানা ধরনের ইন্টারোগেশন করে মূল ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। বললাম, এমন তো হতেই পারে, বাবাই স্লিপ ওয়াকার ছিলেন! বা এমন হতে পারে, ঐ সময় ছাদে উঠে কেউ হাঁটত!
আমার বোন ম্লান হেসে বলল, বাবা স্লিপওয়াক করলে তো মা সবার আগে টের পেতেন! আর ছাদের কথা বলছিস? ছাদ তো সবসময় তালা মারা থাকত রাত এগারোটার পর! আর তাছাড়া...
তাছাড়া কী?
আমার বোন একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, ঐ পায়ের আওয়াজ শুধু সেই করিডোরেই থেমে থাকত না, আমরা তাকে শুনতে পেতাম দক্ষিণ দিকের বারান্দাতেও!
তুমি শিওর?
আমি আর রুনুদি দুজনেই শুনেছি!
এবার আমিও চুপ। ঐ বারান্দায় যেতে হলে যেতে হবে হয় আমাদের বেডরুমের ভেতর দিয়ে, নয় তো মামার ঘরের ভেতর দিয়ে। কিন্তু সে ঘর তো তালাবন্ধ!
যে হাঁটছিল, তার অশরীরি দেহে তালাবন্ধ ঘর কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে নি। এ ঘরের দুটি মেয়েকে ভড়কে না দিয়ে সে নিঃশব্দে চলে গেছে ওদিকের বারান্দায়। তার পায়ের আওয়াজ দিয়ে স্রেফ জানিয়েছে তার উপস্থিতি।
তখন ছোট ছিলাম, এখন হলে ব্যাপারটা দেখার আর জানার চেষ্টা করতাম। কিন্তু কিছু জানতে পেতাম কি?
মায়াকানন আমি ছেড়েছি ২০০৬ সালে। ২৭/এ নম্বরের সেই চমৎকার ফ্ল্যাটগুলোকে পরে শুনেছি ভেতরে পার্টিশান দিয়ে দু টুকরো দু টুকরো করে দুই ফ্যামিলির কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে।
কলেজে পড়ার সময় কমলাপুর স্টেশনের মাঠে যখন ক্রিকেট খেলতে যেতাম, পরিচয় হয়েছিল এক ছেলের সাথে, তার নাম রাসেল। কথায় কথায় একদিন জানলাম সে থাকে ২৭/এ-এর চারতলার দক্ষিণ দিকের এক টুকরো ফ্ল্যাটে। মানে আমাদেরই সেই পুরনো বাসার এক অংশে।
তাকে আমাদের অভিজ্ঞতার কথা শোনালাম। জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কোনো আধিভৌতিক অভিজ্ঞতা হয়েছে কিনা!
রাসেল দাঁত কেলিয়ে বলল, ভাই, এত ছোট ছোট সব রুম, মানুষেরই থাকনের জায়গা নাইক্কা, ভূতে থাকব ক্যামনে?

সে যাই হোক, এরপর থেকে আমার মেজবোন তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে লাগল রাতে। বাড়ির সমস্ত লাইট নিভিয়ে মা যখন ঘুমোতে যেতেন, তার সঙ্গে সঙ্গেই।বড়বোনও জেগে থাকত তখন।
বিচিত্র কায়দায় ঘুমোতে যেত তারা। এক বোন বিছানায় উঠে বসে মশারির কোনা তুলে ধরে বসে থাকত, যেন অপরজন লাইট নিভিয়ে দৌড়ে এসে ঢুকে পড়তে পারে বিছানার ভেতরে।
কোনো কোনোদিন পায়ের আওয়াজ শুরু হয়ে যেত আলো নিভে যাবার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই। কোনো কোনোদিন একটু দেরিতে।
শুয়ে পড়লেও চোখে ঘুম আসে না। দু-বোন শুয়ে শুয়ে শুনতে থাকে।
ধুপ! খ্যাসসস! ধুপ! খ্যাসসস! ধুপ! খ্যাসসস!
ক্লান্ত পায়ে টেনে টেনে সেই অক্লান্ত অশরীরি হেঁটেই চলছে।
কাঁটা দেয়া গায়ে, শিরশিরে অনুভূতি ভেতরে নিয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে একসময় ঘুম নেমে আসত চোখে। কী আর করা যাবে, যখন কোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো সমাধান নেই, তখন স্বাভাবিক জীবনের পাশাপাশি কোনো অস্বাভাবিককে মেনে না নিয়ে উপায় থাকে কোনো?


মন্তব্য

অবাঞ্ছিত এর ছবি

ছোটো বেলায় আমারো মনে হত রাতের বেলা আমার বাবা ঘরের মধ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। দুই এক সময় যদিও সত্যি তাই হত, মাঝে মধ্যে তাঁর প্রবল নাক ডাকার শব্দে বোঝাই যেত যে তিনি হাঁটছেন না। মারাত্মক ভয় পেতাম। এখন মনে হয় আসলে অন্য কোনো শব্দকে আমার মন এভাবে শুনত। আমরা যে বাসায় থাকতাম, সেই বাড়ি নাকি তৈরী করা হয়েছিল অনেক পুরোনো একটা কবরস্থানের উপরে। সেইটা শোনার পর ভয় হাজার গুন বেড়ে গিয়েছিল। শেষে এমন অবস্থা হল যে দিনের বেলাতেও একা থাকলে ভয়ে খাট থেকেই নামতাম না, মনে হত খাটের নিচে কেউ বসে আছে। এখনই হাত বের করে ধরতে আসবে।

এই সেদিন, ঘুমের মধ্যে হঠাত্ জেগে দেখি আমার চেয়ারে বসে কে যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। জ্বল জ্বল করছে চোখ। আমি যে এক মানুষের অবয়ব দেখেছি আমি যে কোনো কিছু বাজি ধরে বলতে পারতাম। আত্মা উড়ে গেল। তখন পুরো বাসায় আমি সম্পূর্ণ একা। আর আমরা বাসার দরজা লাগাই না কখনোই (অবিশাস্য হলেও সত্যি)। তখন আমার রুমমেট বাংলাদেশে যাওয়ায় আমি একাই ছিলাম।

চোখ বন্ধ করে ফেললাম। সাহস করে চোখ খুলে ভালো করে তাকিয়ে দেখি, চেয়ারের উপরে আমার স্তুপীকৃত জামাগুলো দেখেই আলো আঁধারিতে মনে হচ্ছে অবিকল এক মানুষের অবয়ব- কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর বাকিটা উর্বর মস্তিকের কল্পনা।

ভূত দেখাতে আমার দৌড় এই পর্যন্তই। আপনার অভিজ্ঞতা পড়ে আগ্রহ জাগছে।

অধিভৌতিকে আগ্রহী হলে ঘোস্ট অ্যাডভেঞ্চারার্স দেখতে পারেন। দুয়েকটা পর্ব বেশ মজাদার।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আমিও কিছু জবরদস্ত রকমের ভয় পেয়েছি। সেই গল্প করব পরে।
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

খেকশিয়াল এর ছবি

কন কি! ওই বাড়িটা এখন আছে? এখনো শোনা যায় শব্দ ?

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

খেকশিয়াল এর ছবি

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

যুধিষ্ঠির এর ছবি

এইবার ভয় পেলাম। একটু, বেশি না। হাসি

আসল কথা কিন্তু ওটাই, শেষ লাইনটা। আর কোন উপায় না থাকলে অস্বাভাবিকতাকে মেনে নিয়ে ঘুমাতে যাওয়াই ভালো। সেটা করতে পারলে শুধু ভুতভীতিই না, আরও অনেক ভীতিই কেটে যাবে হয়তো।

হিমু এর ছবি

ভাটকতি হুয়ি আতৃপ্ত আৎমা। নাহ, আগেরটা বেশি ভয়প্রদ ছিলো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সৌরভ এর ছবি

হাহা। ভয় পাওয়ার কিছু পাইলাম না। অনেক বছর একা এক ফ্লাটে থাকি, ভয় পাওয়ার বদলে অনেকদিন মনে করতাম, একটা ভূত-টুত সাথে থাকলে মন্দ হতো না।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এখন রাত সাড়ে তিনটা বাজে...। এই পোস্টটা পড়ে ভয় পাইতেসি। কারণ আমার ঘর পুরা বাসা থেকে প্রায় ডিটাচড...ইয়া আল্লাহ, ঘুমাইতে যাই।

---------------------------------------------------------------------------

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

অমিত এর ছবি

উরি বাবারে, ভয়ে আমার হা-হাত পা
জোকস অ্যাপার্ট, লেখাটা ভাল লেগেছে। সবাই মিলে একটা থট এক্সপেরিমেন্ট করলে কেমন হয় ? ধরে নিচ্ছি এটা আসলে সত্য ঘটনা এবং ভূত বলে কিছু নাই। তাহলে আর কি হতে পারে ?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- শরতের আকাশের মেঘের মতো ব্যাপার। কখনো হাতি, কখনো পঙ্খীরাজ, কখনো পালতোলা নৌকা আবার কখনো নিজের অবয়ব— সব কিছুই দেখা যায় ঐ মেঘের মাঝে। রাতের বেলা, একটা বয়সে যে কোনো শব্দকেই একই সূত্রে ফেলে বর্ণনা করা যায়। এটা দিনের বেলাতেও হয়, তবে রাতের বেলাতে হওয়ার মাত্রাটা বেশি। স্লীপ ওয়াকারও হতে পারে। এমন কি মৃদুলদাকে দেখে তো মনে হয় ছেলেবেলায় বেশ 'দোতলার নন্দী বাবু' টাইপেরই ছিলেন। কে জানে তিনিই হয়তো ঘুমের ঘোরে পা টেনে টেনে ধুপ ধুপ করে হাঁটতেন কীনা! চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আমার পায়ে গোদ আছে, আপনি জানিলেন কীরূপে? চোখ টিপি
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

অতিথি লেখক এর ছবি

ভূতুড়ে গল্প চেনা কারও জীবনে ঘটেছে শুনলেই কেমন যেন ভয় ভয় লাগে

স্বপ্নহারা এর ছবি

এহহে আপনি ত আমার প্রতিবেশী ছিলেন! ষ্টেশনের এইপার আর ওইপার! মায়াকাননে অনেক টিউশনি করছি...আর জীবনেও যামু না...মন খারাপ আমি ভূতে বিশ্বাস করিনা একদম...কিন্তু ডরাই অনেক!

-------------------------------------------------------------
স্বপ্ন দিয়ে জীবন গড়া, কেড়ে নিলে যাব মারা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

তাই নাকি? জিমেইলে নক কইরেন, চিনলেও চিনতে পারি!
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আপনি নিজে কখনও শোনেননি ঐ শব্দ? বা রাতজেগে শুনতে ইচ্ছে হয়নি?
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আমি তখন অনেক ছোট ছিলাম যে ভাই! আর আমাকে কেউ জানায়ই নি! জেনেছি অনেক পরে!
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

মৃত্তিকা এর ছবি

খালি বাড়িতে আমিও মাঝে সাঝে এরকম দেখেছি! যেমন দরজার হাতল শুধু শুধু উপর নীচ হচ্ছে একবার দুইবার কিন্তু ফুটো দিয়ে দেখি কেউ নেই। আবার আমার এক আত্নীয়ের এক ঘটনা বলি। গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে ফিরছেন রাতের বেলা। শুনলেন কেউ তার পেছনে পেছনে হেঁটে আসছেন, অথচ কেউ নেই। তারপর আরও জোরে পা ফেললেন, শুনলেন সেই শব্দও চলার গতি বাড়িয়ে তার পেছনেই আসছেন। ভয় পেয়ে তিনি বাকিটা পথ দৌড়ে বাড়িতে ঢুকলেন এবং শুনলেন তীব্র গতিতে সেইটিও ধেয়ে আসছে। ঘেমে নেয়ে দরজা বন্ধ করে হাঁপাচ্ছিলেন তিনি!

মামুন হক এর ছবি

আমার কথাটা যদিও ধুগো বলে দিয়েছে( মিসির আলি বিষয়ক মন্তব্য দ্রষ্টব্য) তবুও কই এইসব দেশী ভূত-পেত্নীগো পুরানা প্যাচাল বাদ্দিয়ে ক্যানাডিয়ান ব্লন্ড পেত্নীগো কাহানী কুছ বলিয়ে, বহুৎ মজা আয়েগা হাসি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

মজা পাইলাম।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মূলত পাঠক এর ছবি

সাধারণত ভূতটুতের গল্প পড়ে ভয় বিশেষ পাই না, কিন্তু এই অশরীরীর পদচারণার কথা শুনে গায়ে কাঁটা দিলো! আগের পর্বের চেয়েও এটা ভালো লাগলো বেশি।

কীর্তিনাশা এর ছবি

চলছে দারুণ গল্পগাড়ি। চলতে থাকুক..........

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

ভুতুম এর ছবি

ভৌতিক আমেজটা বেশ পেলুম আপনার লেখনীর গুণে। আরো বলুন।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

অতিথি লেখক এর ছবি

মৃদুলদা, পড়ে আমার শিরশির ধরণের এক অনুভুতি হচ্ছে। আপ্নিতো ভাই চরম পাব্লিক! ডর ধরাইয়া দিসেন। এখন আজকে রাতে ঘুমাইতে পারলে হয়!

---- মনজুর এলাহী ----

উইপোকা এর ছবি

এপর্বও বেশ লাগল। এবার আপনার অভিজ্ঞতাগুলো শুনি।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।