ক্ষুদ্রঋণ, দারিদ্রমুক্তি ও বরিশালের ইউনুস আলীর আত্মহত্যায় দায়মুক্তি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি
লিখেছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর (তারিখ: রবি, ২০/১১/২০১১ - ১০:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ধান নদী খাল, এই তিনে বরিশাল।
বাংলার 'ভেনিস' এই বরিশালে রিকশা চালান ইউনুস আলী। পঁচিশ বছরের টগবগে যুবক। বিয়ে করেছেন, স্ত্রীর নাম লাইজু বেগম। আর্থিক অনটন ব্যতিত আর কোনো অশান্তি নেই। দুজনে মিলেই এই দৈন্যদায় মেটাতে চেষ্টা করেন। লাইজু বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। দাম্পত্য জীবন সুখের।

ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস যখন শান্তিতে নোবেল পেলেন, সারাদেশ যখন উল্লসিত, তখন বরিশালের এই ইউনুস কি খুশি হয়েছিলেন? হয়তো। হবারই কথা।
গোটা জাতির মতো হয়তো তার বুকটাও ফুলে গিয়েছিলো এক হাত। পত্রিকায় এক ইউনুসের দুহাত ছড়ানো আকর্ণ বিস্তৃত হাস্যময় ছবি দেখে অন্য অনেকের চেয়ে বরিশালের ইউনুসের খুশিটা একটু বেশিই হওয়ার কথা। লোকে জিজ্ঞেস করুক আর না করুক, হয়তো আগ বাড়িয়েই নিজের নাম বলতেন। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্রকে বঙ্গোপসাগরে জলাঞ্জলী দেওয়ার অঙ্গীকার করা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসকে মিতা ভাবতেই যে আনন্দ হয়!

এর বেশ কিছু বছর পরে প্রিয়তম স্ত্রী লাইজু বেগম যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, চিকিৎসার জন্য যখন প্রয়োজন হলো বেশ কিছু টাকার। তখন বিপাকে পড়লেন বরিশালের ইউনুস আলী। এতো টাকা তিনি কোথায় পাবেন? রিক্সা চালিয়ে সামান্য আয়। তাই দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, চিকিৎসার ব্যায় মেটাবেন কীভাবে?

দ্বারস্থ হলেন ক্ষুদ্রঋণের। স্বপ্নের ক্ষুদ্রঋণ। দারিদ্রমুক্তির ক্ষুদ্রঋণ। ততদিনে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা শুধু আর গ্রামীনব্যাঙ্ককেন্দ্রীক না, দারিদ্র বিমোচনে যোগ হয়েছে আরো মহান মহান সব মহাজনী এনজিও। "টাকা পয়সা হাতের ময়লা"। ঋণ জুটে গেলো বরিশালের ইউনুসের কপালেও। টাকার অভাবে চিকিৎসা হবে না এ তো হতেই পারে না। দারিদ্রমুক্তি তো হাতের মুঠোয়।
ঋণ জুটলো, চিকিৎসা হলো, স্ত্রী লাইজু বেগম সুস্থ হয়ে আবার সুখের সংসারে ফিরলেন, কাজে ফিরলেন। আবার টোনাটুনির সুখের সংসার। কিন্তু সুখের হলো কী?

অচিরেই ক্ষুদ্রঋণের ভয়াবহতা টের পেলেন ইউনুস আলী। দারিদ্রমুক্তি তো দূরের কথা, ঋণমুক্তি কীভাবে হবে তাই হলো ভাবনার বিষয়। ঋণমুক্তিও পরের কথা, মাস ফুরোলেই যে কিস্তির টাকা জমা দিতে হয়। দারিদ্রমুক্তির আশায় ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ইউনুস আলী জড়িয়ে পড়লেন দারিদ্রের দুষ্টচক্রে। এই চক্রবুহ্য ভেদ করে তিনি আর বের হতে পারলেন না।

সবশেষে তিনি নিজেই খবর হয়ে গেলেন। ২০ নভেম্বর ২০১১ তারিখের জাতীয় দৈনিকের এক কোনায় ক্ষুদ্র আকারে ছাপা হলো বরিশালের ইউনুসের খবর- ঋণের দায়মুক্তি আত্মহত্যায়!

স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে যে ইউনুস আলী ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছিলেন, সেই ইউনুস আলী ঋণের দায় মেটাতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন। ডঃ ইউনুসের মতো অতো বড় খবর হবার যোগ্যতা তার নেই। চোখের আড়ালের মতো অথবা ক্ষুদ্রঋণের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি খবর এলো শুধু পত্রিকায়। প্রতিদিন গণ্ডায় গণ্ডায় অপঘাতের খবরে অভ্যস্ত এই জাতির কাছে যা এক চিমটি লবনের মতো। ক্ষুদ্র।

বোকা ইউনুস আলী বোধহয় ভেবেছিলেন মৃত্যুই মুক্তির সহজ পথ। হয়তো তিনি জানেন না, যে স্ত্রীর আরোগ্যআশায় ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছিলেন, সেই স্ত্রী লাইজুকেও হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই আত্মহননের পথ গ্রহণ করতে হতে পারে। খবরের শেষ বাক্যটা পড়লে এই আশঙ্কাই হয় বৈকি-

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে যারা কাজ করে, তারা ঋণগ্রহীতার মৃত্যুর পরও তার স্বজনদের কাছ থেকে সুদসহ ঋণের টাকা আদায় করে। হাতে গোনা কয়েকটি এনজিও মৃত ব্যক্তির ঋণ মওকুফ করে থাকে।

বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যের ঝাণ্ডা উড়বে, বিপ্লব হবে... তার বিনিময়ে কিছু ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে। তাই তো বরিশালের ইউনুস আলীর মতো শ্যামলী আদাবরের শাহিদা বেগম, নওগাঁর আব্দুস সামাদ ও জরিনা দম্পতিদের প্রাণ ঝরতে থাকে ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যে। অজস্র টিনের ঘরের চাল খুলে যায়, গরুবাছুর বেদখল হয়। আমরা আশায় থাকি, একদিন এই দেশ দারিদ্রমুক্ত হবে। অবশ্যই হবে, দরিদ্ররা সব মরে গেলেই দারিদ্রমুক্তি সম্ভব...


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হায়রে ঋণ। এই ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ ঋণের জালে আস্তে আস্তে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হুম... সারাদেশে জাল বিস্তার শেষ। এই জাল ছিন্ন করে বের হওয়া আর সম্ভব না

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

এক চিমটি লবণ খুব তিতা লাগল। শালার ক্ষুদ্র ঋণ।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অগত্যা এর ছবি

লেখায় আবেগ রয়েছে যথেষ্ট অনেকটা পরিহাসের ভাষাও লক্ষ্য করা গেল -- কিন্তু এই মৃত্যুর দায় কার বা কিসের ওপর চাপালেন পরিষ্কার হোল না। কিন্তু মোহাম্মদ ইউনুসের প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋনের ওপর চাপালেন কিনা বোঝা যায়নি। যদি চাপিয়ে থাকেন তাহলে অবাক হবার অনেক কারন রয়েছে -- কারন এই ব্লগ সাইটে এর আগে অনেকেই ইউনুসের প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋনের মূলনীতি গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন দেখেছি। সেই বিবেচনায় লেখাটির অভিমুখ এবং উদ্দেশ্য অস্পষ্ট।

অন্যকেউ এর ছবি

ক্ষুদ্রঋণের দুষ্টচক্রটা কীভাবে কাজ করে? প্রতিমাসে সুদের টাকা দিতে দিতে আসল টাকাটায় তার পৌঁছানো হয়ে ওঠে না আর, এইভাবে?

এইসব ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলাটা খুবই দরকার। যত কথা হবে, মানুষের সচেতন হবার সম্ভাবনাটা বাড়তে থাকবে। একই কথা খাটে এমএলএম সম্পর্কে। তবে এমএলএম-এর চেয়েও, ক্ষুদ্রঋণের ভয়াবহতা অনেক বেশি। ইতিবাচক যেসব random(বাংলায় লেখা যায় না! :/) উদাহরণ প্রচারমাধ্যমে উঠে আসে, সেসবের আড়ালে থাকা সত্যিকার দারিদ্রবিমোচন কতখানি হচ্ছে, সেই চিত্রটা কীভাবে পাওয়া যাবে কে জানে!

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

উজানগাঁ এর ছবি

বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যের ঝাণ্ডা উড়বে, বিপ্লব হবে... তার বিনিময়ে কিছু ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে। তাই তো বরিশালের ইউনুস আলীর মতো শ্যামলী আদাবরের শাহিদা বেগম, নওগাঁর আব্দুস সামাদ ও জরিনা দম্পতিদের প্রাণ ঝরতে থাকে ক্ষুদ্রঋণের সাফল্যে। অজস্র টিনের ঘরের চাল খুলে যায়, গরুবাছুর বেদখল হয়। আমরা আশায় থাকি, একদিন এই দেশ দারিদ্রমুক্ত হবে। অবশ্যই হবে, দরিদ্ররা সব মরে গেলেই দারিদ্রমুক্তি সম্ভব...

এরপর আসলে কিছুই বলার থাকে না।

দময়ন্তী এর ছবি

কৃষিতে স্বনির্ভর ভারতে যেমন কৃষকদের আত্মহত্যা রোজের খবর৷

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আমাদেরও এটা রোজকার খবর হয়ে যাবে অচিরেই... আমি আশাবাদী

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

নিটোল এর ছবি

মন খারাপ

_________________
[খোমাখাতা]

হিমু এর ছবি

লাইজু বেগম একটা সামাজিক ব্যবসা শুরু করলেই পারেন। স্বামী মরছে তো কী হইছে? পথের বাধা সরিয়ে দিন, দেশকে এগোতে দিন। বদলে দাউ বদলে যাউ।

রু (অতিথি) এর ছবি

আরেকটা এন জি ও থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে এটা পরিশোধ করা উচিত ছিল। এক মাস যেতে না যেতে আরেকজনের কাছ থেকে দ্বিতীয়টি পরিশোধ করা যেতে পারে। এভাবে ঋণ নিজে ঘুরতে থাকবে, কিন্তু মাসিক সুদ আর দিতে হবে না। আর একটু খেয়াল করে যদি সুদের হার কমিয়ে আনা যায়, তবে মাস শেষে পকেটে কিছু থেকেও যেতে পারে। ভেবে দ্যাখেন, বুদ্ধিটা খারাপ না।

থিওরীটিকালি ভাবলে ক্ষুদ্রঋণ খারাপ মনে হয় না। কিন্তু বাস্তবে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর জন্ম হয় কেন?

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

বাহ্, ভালো নিদান দিছেন। আপনার পদ্ধতিতেই গ্রামের দরিদ্র লোকগুলো দিনে দিনে ক্ষুদ্রঋণের জালে আটকাচ্ছে। একবার ঋণ নিলে সেটার মাসিক কিস্তি দিতেই আরো ঋণে জড়িয়ে যায়... এভাবে এভাবে একসময় এমন অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে শুধুই অন্ধকার।

আপনার থিওরীটিকালি ভাবনাটা একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন?

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রু (অতিথি) এর ছবি

টেস্ট মন্তব্য ছাড়ার জন্য দুঃখিত। খুব মন্তব্য একটু বড় হলে মনে হয় ওয়ার্ড ভেরিফিকেশনে আটকায় যায়।

প্রথম প্যারাটা স্যারকাস্টিক ছিল শিবরামের একটা গল্পের ভিত্তিতে। গল্পের নাম মনে করতে পারছি না। শিবরাম দুইজনের কাছ থেকে সাইক্লিকভাবে টাকা ধার নেয় আর পরিশোধ করে। বাকিটুকুর উত্তর পরের কিস্তিতে দিচ্ছি।

রু (অতিথি) এর ছবি

ক্ষুদ্রঋণের মুলভাবনাটা উইকিপিডিয়া থেকে তুলে দিলাম আমার প্রশ্নটার ব্যাখ্যা দিতে।
"Microcredit is the extension of very small loans (microloans) to those in poverty designed to spur entrepreneurship. These individuals lack collateral, steady employment and a verifiable credit history and therefore cannot meet even the most minimal qualifications to gain access to traditional credit. Microcredit is a part of microfinance, which is the provision of a wider range of financial services to the very poor."

আমি ধরে নিচ্ছি যারা গ্রহীতা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক কম এবং যেকোনো ধরণের নতুন ব্যবসা শুরু করার অভিজ্ঞতা প্রায় শুন্যের কাছে। এরকম একজন টাকা পেয়ে সফল কিছু করে বসবে সেটা আমি ভাবতে পারি না। এখন যারা একটা রিস্ক নিয়ে (যেহেতু গ্রহীতার সফল হবার সম্ভাবনা কম, তাই টাকা পানিতে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়) টাকাটা ধার দিচ্ছে তাদের ব্যবসায়িক বুদ্ধি আমার থেকে অনেক ভালো ধরে নিচ্ছি। তারা কি এই হিসাবটা করছে না যে, একটা মানুষ যেই ব্যবসা করতে যাবে, বা এই ক্ষেত্রে চিকিতসার জন্য, সেটার কিস্তি দিতে পারার সম্ভাবনা কতটুকু আছে।

একজন দরিদ্রকে সাহায্য করাটাই যদি মুখ্য হয়ে থাকে, তাহলে মাসিক কিস্তির পরিমান এবং শর্ত সেই পরিমানে শিথিল হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধে জর্জরিত মানুষের কথা শোনা যায়। এটাকে দাতাদের অদূরদর্শীতা (কে কীভাবে শোধ দিতে পারবে, যাচাই করতে না পারা) ধরে নিব, নাকি 'টাকা নিয়েছো এখন যেইভাবে হোক ফেরত দিবা' অ্যাটিচ্যুড বুঝবো। দ্বিতীয়টা হলে কিন্তু উপরের থিওরীতে যেই ভাব দেখানো হয়েছে, সেটা খাটে না।

অগত্যা এর ছবি

ক্ষুদ্রঋনের ধারনাটি থিওরিটিকালি ভাল কিনা সেটা এই পোস্টের সাপেক্ষে বোঝা দরকারি কিনা আপনি ভাল জানেন।
এই পোস্টের বক্তব্য এবং উদ্দেশ্য অস্পষ্ট; উপরে বলেছি যেটা লেখক এখনো অস্বিকার করেননি -- হয়ত তিনি এটা নিয়ে এখনো ভাবছেন -- অথবা তিনি মানছেন আমার অভিযোগ যথার্থ। তবু আপনি ক্ষুদ্রঋনের সাথে সংবাদটির সংযোগ বোঝার চেষ্টা করছেন বলে আমি আমার উপরের মন্তব্যের আলোকে এই সংযোগের অভাবগুলো কিভাবে আসলো সেটা চিহ্নিত করার চেষ্টা করব এভাবেঃ
১) এখানে বলা হচ্ছে -- ঋন নেয়া হয়েছে অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য। সেটা যদি আকারে ক্ষুদ্র হয় ক্ষুদ্রঋন অবশ্যই। কিন্তু ইউনুসের প্রস্তাবিত ধারার ক্ষুদ্রঋন সেটা নয়। কেননা ইউনুসের ক্ষুদ্রঋন হতে হবে উপার্জন সম্ভব খাতে। কাজেই কোন ক্ষুদ্র ঋন প্রতিষ্ঠান যদি এই টাকা দিয়ে থাকে তাহলে এটা তাদের ঋন গ্রহীতা নির্বাচনের ভুল -- অথবা সরকারের তথাকথিত দেখভাল করার প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার দায়িত্বের বিচ্যুতি।

২) দ্বিতীয়ত গ্রামীন ব্যংক যেভাবে কাজ করে তাতে ঋনগ্রহীতার মৃত্যুর পর ব্যক্তি ঋনের দায়মুক্ত হয়ে যায়। কারন তারা সুদের একটা অংশ দেয় এই ধরনের সম্ভাবনার বিপরীতে বীমা বাবদ। ফলে স্ত্রী ওপর দায় চেপেছে বলার অর্থ হচ্ছে এই নীতিও সেই প্রতিষ্ঠান মানেনি।

কাজেই কি বিচারে এই মৃত্যুর দায় ইউনুসের ওপর চাপানো যায় সেটা অস্পষ্ট। কিন্তু মজার কথা হচ্ছে পোস্টে কোথাও স্পষ্ট করে দায়িকে চিহ্নিত করা হয়নি। কারন আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে সমস্যার মূলে ঢোকার চেয়ে ইউনুসের ক্ষুদ্রঋনের ওপর একটা দায় চাপানো হচ্ছে এখানে--তাও ধরিমাছনাছুইপানি নীতিতে।

হিমু এর ছবি

সেটাই। ইউনূসকে শুধু ক্ষুদ্রঋণের সুফলগুলির জন্য দায়ী করতে হবে। কুফলগুলি অন্যদের দুষ।

কল্যাণF এর ছবি

আপনারা একটা জিনিস কেউ খিয়াল করলেন না। উপরে অগত্যার তথ্যানুযায়ী

গ্রামীন ব্যংক যেভাবে কাজ করে তাতে ঋনগ্রহীতার মৃত্যুর পর ব্যক্তি ঋনের দায়মুক্ত হয়ে যায়। কারন তারা সুদের একটা অংশ দেয় এই ধরনের সম্ভাবনার বিপরীতে বীমা বাবদ।

এর দুইটা দিক আপাতত দেখা যাইতাছে। একঃ গ্রামীণ ব্যাংক অতি বিচক্ষণ। তারা নাসিরুদ্দিনের গেলাস ভাঙ্গার আগেই চড় দেয়ার নীতি অনুসরন করতেছে। চমৎকার। দুইঃ দেশে যে হারে লোক বাড়তেছে, তাতে এখন গ্রামীণ ব্যাংকের সব ঋণগ্রহীতা আত্মহত্যা করে দেশের ভার কমায় দিবে এই বাবদে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাঝে রাখার একটা অভুতপূর্ব বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রবর্তন ও প্রদর্শন হইতে পারে। অতি চমৎকার। লে লুল্লু।

সদানন্দ ঘরামী এর ছবি

চমৎকার যুক্তি। এর ওপরে আর কোন কথা হয় না।

"লে লুল্লু"।

অগত্যা এর ছবি

গ্লাস ভাঙ্গার আগে চড় ব্যাপারটা এই ক্ষেত্রে কি বোঝায় সেটা একটু ব্যখ্যা করলে বোঝার সুবিধা হয়। হাসি

রু (অতিথি) এর ছবি

প্রতিমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আমার জেনারেল কনফিউশন মার্কা প্রশ্নটা মনে হয় এই পোস্টে করা উচিত হয়নি। একবার বলেই যখন ফেলেছি তাই জিজ্ঞেস করি, ক্ষুদ্রঋণ উপার্জন খাতে নেওয়া অনেকেও কি একই পরিণতির শিকার হয়নি? ওগুলো কি এক্সেপশনাল কেস যা কিনা উদাহরণ হিসাবে টানা যায় না?

অগত্যা এর ছবি

“ক্ষুদ্রঋণ উপার্জন খাতে নেওয়া অনেকেও কি একই পরিণতির শিকার হয়নি?” – দেখা যাচ্ছে উপরে সংবাদপত্র থেকে পাওয়া যেই সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে সেটা এই ধরনের উদাহরন নয়। এছাড়া যেহেতু ইউনুসের কাজের ফল “নিরীক্ষা” করার ব্যপারে “অনুসন্ধিৎসু” গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠান অনেক থাকা সত্ত্বেও উপরের ঘটনার মত একটা ঘটনাকে টেনে হিচরে ইউনুসের ক্ষুদ্রঋনের মডেলের ওপর জোর করে আরোপ করা হচ্ছে – তাতে প্রমান হয় অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও সেই ধরনের উদাহরন বেশি পাওয়া যায়নি। একজন পর্যবেক্ষক হিসাবে এটাকে ইউনুসের আলোচিত ক্ষুদ্রঋনের পক্ষে একটা জোরালো এভিডেন্স হিসাবেই দেখছি। তবে তাত্ত্বিক ভাবে বলা যায় উপার্জন ক্ষম খাতে ক্ষুদ্রঋন গ্রহন করেও কেউ কেউ এই ধরনের পরিনতির শিকার হতে পারে। সেটা বৃহত ঋনের ক্ষেত্রেও ঘটা সম্ভব। ফলে এটা ক্ষুদ্রঋনের বিশেষ ক্ষেত্রে “ক্যারেকটারিস্টিক ফিচার” হবে না। ঋন ব্যবস্থার স্বভাবগত যেসব সীমাবদ্ধতা সেটা থেকে ক্ষুদ্রঋন মুক্ত হবে না, যদিনা এর সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর নিয়ে আলাদা কোন নিরাময় ব্যবস্থা চালু না হয়। আমরা যদি সব যায়গা থেকে ধনীদের ব্যঙ্কগুলো তুলে দিতে রাজি থাকি তাহলে গরীবদের ব্যঙ্কগুলোও তুলে দেয়া হোক – আপত্তির কোন প্রশ্নই আসবে না।

“ওগুলো কি এক্সেপশনাল কেস যা কিনা উদাহরণ হিসাবে টানা যায় না?”
অবশ্যই টানা যায় কিন্তু কোনটা কিসের এক্সেপশান কিভাবে এক্সেপশান আর কিসের উদাহরন কিভাবে উদাহরন সেটা যদি স্পষ্ট করা হয় – এখানে সেটা করা হয়নি। এই পোস্ট যেই ঘটনাটির উল্লেখ করেছে সেটাকে আমি দরকারি মনে করি কিন্তু ক্ষুদ্রঋনের মডেলের সীমাবদ্ধতা দেখাতে নয় – ক্ষুদ্রৃন প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে নীতিবিচ্যুত হয়ে ভুল খাতে ঋন দিচ্ছে সেটার এবং সরকারের রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে তাদের দায়িত্বের অবহেলা করছে সেটার। সমস্যাকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হলে সেই সম্ভাবনাগুলো নষ্ট হয়। জন্ডিস হলে তার নিরাময়ে ক্যন্সারের চিকিৎসা করলে ফল যা হবার তাই হবে আরকি!!

হাসিব এর ছবি

থিওরীটিকালি ভাবলে ক্ষুদ্রঋণ খারাপ মনে হয় না।

কোন থিওরির কথা বলেন?

রু (অতিথি) এর ছবি

গতকাল থেকে এইটার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি কমপক্ষে পঞ্চাশবার। ওয়ার্ড ভেরিফিকেশনের প্যাঁচে আটকায় যাচ্ছি শুধু।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

দরিদ্রশ্রেণীর এটাইতো নিয়তি। রাষ্ট্র এদের দায়িত্ব নেবেনা। সমাজ এদের শ্রমের ফল ভোগ করবে, কিন্তু দায়িত্ব নেবেনা। এটা একটা চক্রানুক্রমিক চক্র।

ধন্যবাদ এমন একটি হৃদয়গ্রাহী লেখার জন্য।

কুলদা রায় এর ছবি

ইউনুস নবীকে নিয়ে বছর দুই আগে একটি গল্প লিখেছিলাম--শুয়াচান পাখী। এই গল্পটি লেখার পরে ইউনুস নবীর পায়ের নিচে থেকে সরকারী মাটি সরে গেল।

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

পাঠক এর ছবি

খারাপ লাগছে পড়ে। আমার রিসার্চের বিষয় ক্ষুদ্রঋণ। ক্ষুদ্রঋণ যদিও নিজেকে “ideology free” বলে দাবি করে, দেখা যাচ্ছে, ক্ষুদ্রঋণের ধারণা খুব সুন্দর ভাবে “neoclassical economics” এর সাথে যায়- বাজার ব্যবস্থায় তাঁদের অগাধ বিশ্বাস এবং এই ধারণাটা খুব সুন্দর করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব (যেমন সম্পদ পুনবণ্টন, social welfare) প্রত্যেক মানুষের নিজের কাঁধে উঠিয়ে দেয়। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে পড়তে গিয়ে যা হলো, দেখা গেলো যদিও বাংলাদেশ এই ধারণাটার কৃতিত্ব দাবি করে, সফলতার হার বাংলাদেশেই অনেক কম অন্য অনেক দেশের তুলনায়। এটার মূল কারণ, আমাদের সামঞ্জস্যহীন অর্থনীতি, institution এর অভাব যেগুলো ঋণগ্রহীতাদের স্বার্থ দেখবে এবং মূলত ডঃ ইউনুসের এই ধারণাটা যে দারিদ্রের একমাত্র কারণ, “not having access to finance.” যেহেতু ওরা মনে করে দারিদ্রতার কারণ এতো সহজ, ওরা টাকা দিয়েই সমস্যার সমাধান করতে চায়। কিন্তু দারিদ্রতার ফলাফলই দেখা যায় দারিদ্রতার কারণ – যেমন যে মানুষের টাকা নেই, সেই স্কুলে যায়নি, কারিগরি শিক্ষা নেই, টাকা নিয়ে শুধু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অনেক দেশেই অনেক NGO দেখা যাচ্ছে অমর্ত্য সেনের “Capabilities approach” ব্যবহার করছে – মানে একটা মানুষকে টাকা দেয়ার সাথে সাথে তার Capabilities (যেমন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ) বাড়ানো হচ্ছে, যাতে সে টাকাগুলো ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। এখানে আবার আরেকটা সমস্যা আছে – অনেকেই ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছে ভোগ ব্যয়ের জন্যে, কিংবা দুর্ঘটনার কারণে, সেই ক্ষেত্রে ওই টাকা পরিশোধ করার জন্যে, আরও টাকা নিয়ে হচ্ছে, এবং যেটার সবচেয়ে করুণ সমাপ্তি হয়তো আপনার গল্পটাই।

সাফি এর ছবি

ক্ষুদ্র ঋণ এবং ডঃ ইউনূস নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই এক ধরনের ফ্যান্টাসি দেখেছি। ক্ষুদ্র ঋণের দারিদ্র্য বিমোচনের যেসব মিথ আছে, সেসব নিয়ে আপনার রিসার্চের ভিত্তিতে সচলে লেখা দিতে পারেন। আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় রইলাম

পাজানি পথিক এর ছবি

ডঃ ইউনুসের কর্মকান্ড সাধারন মানুষের হতাশার কারন অনেক আগে থেকেই । অর্থনীতিবীদ হয়েও একারনেই হয়ত শান্তিতে(!) নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তি। প্রার্থনা করি ভারতের মত আমাদের দেশেও এই অযাচিত মৃত্যু সংক্রামিত হবেনা। লেখাটি খুবই সময়োচিত এবং চাইব মানুষ এগিয়ে আসুক এই চক্র ভাঙতে। যারা ক্ষুদ্রঋণের মূল গ্রাহক তাদের কোনভাবে সাবধান করার পথ নেই? - "সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরন ক্ষুদ্রঋণ মৃত্যুর কারন হতে পারে"- এর মত?

পাঠক এর ছবি

ডঃ ইউনুস শান্তিতেই নোবেল পাওয়ার যোগ্য হতে পারে! কারণ, অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর মস্তিষ্ক উদ্ভূত ক্ষুদ্রঋণের ধারণাটা চরম ফালতু। ১ম বর্ষের অর্থনীতির ছাত্রও জানবে “economies of scale” কিংবা “fallacy of composition” এর কথা। যেটা ইউনুস উদ্ভূত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা খুব সুন্দরভাবে অগ্রাহ্য করে। ক্ষুদ্রঋণের উপর করা যতটুকু অর্থনীতির কাজ আছে, সেটা অন্য অনেক অর্থনীতিবিদের কাজ, ডঃ ইউনুসের না।

অগত্যা এর ছবি

কারণ, অর্থনীতিবিদ হিসেবে তাঁর মস্তিষ্ক উদ্ভূত ক্ষুদ্রঋণের ধারণাটা চরম ফালতু

কি ভাবে বুঝলেন? অন্য অর্থনীতিবিদ যারা ক্ষুদ্রঋন নিয়ে কাজ করেছেন তারা কি এই ধরনের কিছু বলেছেন নাকি আপনারই এটা মনে হোলো?

পাঠক এর ছবি

কিভাবে বুঝলাম, সেটাতো বলেছি। অন্য অনেক অর্থনীতিবিদরা আমার আগেই বলে গেছেন। ধারনাটার উৎপত্তি অনেক অনেক আগে। আর শুধু গরিব মানুষকে এক বেলা না খাইয়ে, তাকে কুড়াল কিনে দেবার কথাতো গল্পেও শোনা গেছে। তারও বেশ পরে ১৮০০ শতাব্দীতে বেশ কিছু ব্যক্তি এই ব্যাপারে লেখেন। তার মানে ধারণাটা নতুন কিছু না। নতুন হচ্ছে মোড়কটা, যেটা ডঃ ইউনুস মার্কেট করেছে। ডঃ ইউনুসের ধারণাটার অর্থনৈতিক দিক আছে, ফিলোসফিকালও – কিন্তুর সেটার উপর তার কোনো টেকনিকাল (নতুন) কাজ নেই। কোনো অর্থনীতিবিদ যদি মনে করেন – দারিদ্রতার কারণ শুধু “lack of access to finance”- তাহলে তার কাজে আমি সন্দেহ প্রকাশ করতে বাধ্য। এই ধরণের থিওরি দিয়ে অন্তত অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া যায় না।

আপনার উপরের আরেকটা মন্তব্যের উত্তর এখানেই দিচ্ছি, কিছু মনে করবেন না।

এছাড়া যেহেতু ইউনুসের কাজের ফল “নিরীক্ষা” করার ব্যপারে “অনুসন্ধিৎসু” গোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠান অনেক থাকা সত্ত্বেও উপরের ঘটনার মত একটা ঘটনাকে টেনে হিচরে ইউনুসের ক্ষুদ্রঋনের মডেলের ওপর জোর করে আরোপ করা হচ্ছে – তাতে প্রমান হয় অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও সেই ধরনের উদাহরন বেশি পাওয়া যায়নি।

আপনি মনে হয় খুঁজলেই এই ব্যাপারে অনেক ডাটা পাবেন। আমি শুধু আমার যুক্তির স্বপক্ষেই বলি – microinstitutions গুলোর turnover রেট সাধারণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। তার মানে যারা টাকা নিচ্ছে তারা অনেকেই শোধ করতে পারছে না। এটার কারণ, প্রত্যেকটা ফার্মের একটা স্কেল থাকে, যার নিচে ওদের টিকে থাকা সম্ভব না। যেহেতু ক্ষুদ্রঋণের প্রতিষ্ঠানগুলো আদতে “ক্ষুদ্র” প্রতিষ্ঠান হয়, তাদের জন্যে এটা বিশাল সমস্যা। দুইটা উদাহরণ দেই -

(১) কৃষিকাজে – ধরুন, কাউকে টাকা দেয়া হলো গরু কিনে দুধ বিক্রি করার জন্যে। তার টাকা দিয়ে সে একটা গরু কিনতে পারবে। এই লোকটা গরুর দুধ বিক্রি করবে একটা নিদিষ্ট মার্কেটে- মানে তার গ্রামে/আশপাশের এলাকাতে। তার কাস্টমার সীমিত। এরপর যখন দেখা গেলো আরও কয়েকজন গরু কেনার জন্যে টাকা নিলো, ওই গ্রামের/ এলাকার মার্কেট খুব জলদি “saturated” হয়ে গেলো। কারণ, দুধ কেনার মানুষ কয়েকজন, আর বিক্রি করার মানুষ অনেকে। তখন এই যারা গরু কিনলো, ওই টাকাই তাদের উঠছে না। তারপর দেখা যাচ্ছে, ওদের কয়েকজনের পক্ষে একা একা বড় বড় ফার্মের সাথেও প্রতিযোগিতা করা সম্ভব না, যারা কম দামে দুধ বিক্রি করতে পারে। - এই ব্যাপারটাই ঘটেছে বসনিয়াতে, ইন্ডিয়ার অনেক গ্রামে যখন সরকার ক্ষুদ্রঋণকে উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নিয়ে কিছু এলাকার সবাইকে ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছিল।
(২) বাংলাদেশে যে সমস্যাটা বেশি প্রকট সেটা হচ্ছে আমাদের “informal sector”. শুধু ঢাকাতেই ৬৩% মানুষ ইনফরমাল সেক্টরে কাজ করে। ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে তারা ছোট ছোট দোকান কিনে, পাশাপাশি এক রকম একই দোকান, রিক্সা চালায়, ফেরি করে। কিন্তু, একটা জায়গার অপরিকল্পিত ইনফরমাল সেক্টর খুব সহজেই “saturated” হয়ে যায়। যেটা ঢাকার ক্ষেত্রে হয়েছে – “hyper-competitive microfirms with low rewards.”

ডঃ ইউনুস যদি অর্থনীতিবিদ হিসেবে ভাবতেন, তাহলে তিনি এই বিশাল দুইটা সমস্যা চিহ্নিত করতেন। কারণ, এগুলো অর্থনীতির ABCD. তিনি বরং উল্টো পথে হেঁটে গ্রামীণ ১ কে গ্রামীণ ২ বানিয়ে দিয়েছেন। যেখানে গ্রামীণ ১ এ গ্রুপে ঋণ দেয়া হতো – সেটাকে মার্কেট, স্বকীয়তা, প্রতিযোগিতার নাম দিয়ে বন্ধ করে, গ্রামীণ ২“effectiveness” এর কথা বলে তথাকথিত বুর্জোয়া ব্যবস্থাপনার তৈরি পথেই হেঁটেছে।

অগত্যা এর ছবি

সর্বনাশ -- মুহাম্মদ ইউনুস অর্থনীতির ABCD জানেননা -- এহেম!! নড়ে চড়ে বসলাম।

এইবারে বলেন জোসেফ স্টিগলিটস, উইলিয়াম ইস্টারলি, অমর্ত্য সেন এদেরকে অর্থনীতির ABCD জানা লোক বলে মনে করেন কি?

আপনি মনে হয় খুঁজলেই এই ব্যাপারে অনেক ডাটা পাবেন

আপনার মতের সপক্ষে ডাটা আমাকে কেন খুঁজতে হবে? কষ্ট করে কাজটা আপনিই করুননা বরং।

আপনি বলছেন অনেক অর্থনীতিবিদ ইউনুসের চিন্তাভাবনা ফালতু বলেছেন-- আপনি কিন্তু এখনো কোন রেফারেন্স দিলেননা না।

আপনার উপরের সিনারিও দেখে কেবল দু'টো পয়েন্ট ধরিয়ে দেবঃ

১) কেবল Economies of Scale নয় Diminishing Return বলেও একটা ধারনা রয়েছে অর্থনীতিতে। Increasing Return-- scale বাড়ার ক্ষেত্রে একমাত্র সেটিং নয়। এছাড়া দেশভেদে Return to Factor কিভাবে পাল্টাতে পারে একটু দেখে বুঝে নেবেন এবং ক্ষুদ্রঋনের ওপর সেটার তাৎপর্য বোঝার চেষ্টা করবেন।

২) এখন পর্যন্ত এমন কোন অত্থনীতিবিদ বা অর্থনৈতিক ধারনার জন্ম হয়নি যেটা দারিদ্রের grand solution দিতে পারে। কাজেই যারা ইউনুসের ক্ষুদ্রঋন grand solution নয় বলে মাথা খারাপ করে ফেলছেন তারা কাকে এবং কেন ডিফেন্ড করছেন সেটা তারাই জানেন।

আর সবশেষে Harold Demsetz এর Nirvana Fallacy ব্যপারটা কি একটু ঘেটে দেখবেন দয়া করে। সেটাও এই সমস্যাটার আলোকে বোঝার চেষ্টা করবেন। সবটা ভেঙ্গে বললামনা। নিজ চেষ্টায় কিছুটা বোঝার চেষ্টা না করলে বোঝাতা অপূর্ণ থেকে যাবে।

পাঠক এর ছবি

(১)হু, মনে করি। সেনের মতে দারিদ্রতা ইউনুসের বর্ণনা দেয়া “lack of access to finance” এর মতো সাধারণ একটা জিনিষ না (Development as Freedom). সেন বলেছেন দারিদ্রতা হচ্ছে “ deprivation of capabilities”. ওদের তুলনাটাই কেমন না? মানে একজন অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া, আরেকজন শান্তিতে। আপনার দেয়া নামের বাকি তিনজনের বই পড়তে পড়তে সারা বিশ্বের ইকনোমিক্স স্টুডেন্টদের সকাল সন্ধ্যা হয়, আরেকজনের নাম ইকনোমিক্স বইয়ের এক লাইনে থাকে, ক্ষুদ্রঋণের রেভুলেশনারী হিসেবে। আমি ওনাকে ছোট করার জন্যে বলছি না – আমি শুধু বলছি- উনি হয়তো বড় মাপের মানুষ হতে পারেন, কিন্তু বড় মাপের অর্থনীতিবিদ না।
(২) আপনি বাংলাদেশের ডাটার কথা বলছিলেন। আমার কাজের বিষয় বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে না এবং আমি বাংলাদেশে কাজ করিনা। ওখানের কোনো স্কুল কলেজে পড়িনি, ওখানে থাকিনি, ওখানে মাঠ পর্যায়ে কোনো কাজ করিনি। বাংলাদেশের ডাটা আমার মতো অলস মানুষের পক্ষে এখন ওটা খুঁজতে চাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া আপনিই তো বলেছেন - আমি কিন্তু বসনিয়া আর ইন্ডিয়ার গ্রামের কথা বলেছিলাম। আমি পড়েছি – Bateman বলেছেন জোবরা গ্রাম সম্পর্কে বলেছেন - ‘It’s still trapped in deep poverty, and now debt. And what is the response from Grameen Bank? All research in the village is now banned!’ আর অন্য অনেক জায়গায় পড়েছি – ওই গ্রাম হচ্ছে গ্রামীণের সবচেয়ে সফল মডেল প্রোজেক্ট। যেহেতু আমি এখনো ওখানে যাইনি, সত্য জানা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি আসলে কয়েকদিন পরেই ওখানে যাচ্ছি- জোবরা ঘুরে এসে নাহয় আপনাকে জানাবো। আরেকটা কথা - আমি যদ্দুর জানি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা একটা “national pride”- যেখানে সবাই উন্নতির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে যেসব ডাটাগুলো বাংলাদেশে দেয়া হয় – ওখানে প্রায় কাজ করে এইসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে, মানে গ্রামীণের হয়ে, বিভিন্ন এন জি ওর হয়ে, অথবা ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের হয়ে। সেই ক্ষেত্রে এইসব ডাটা কতোটুকু নির্ভরযোগ্য? আমি বলতে চাচ্ছি এখানে তো conflict of interest কাজ করছে, তাই না?
(৩) Bateman, Ha-Joon Chang.
(৪)Armendáriz De Aghion আর Morduch লিখেছেন Diminishing return নিয়ে। আমিতো সেটা নিয়ে কিছু বলিনি। এটা খুবই সম্ভব এবং তাই ক্ষুদ্রঋণ কাজ করতে পারে। কিন্তু, এর মানে economies of scale এর সমস্যা সমাধান হয়ে গেলো না। আমি তো উদাহরণ দিয়েছি।
(৫) Grand solution না। কিন্তু, আমি Grand solution খুঁজতেও যাইনি। কোনো থিওরি আমি সাপোর্ট করলেই ওটার সব ভালো এমন হয়ে গেলো না। থিওরির কমতিগুলো মেনে নেয়া হচ্ছে এটাকে আরও effective করার প্রথম স্টেপ।
(৬) আপনি যদি mainstream economics এর অনুসারী হয়ে থাকেন, এই আলোচনা কোল্ড ওয়ারের মতোই চলতেই থাকবে। এটা এই কারণে বলছি যে ডঃ ইউনুসের কমার্শিয়াল ক্ষুদ্রঋণের ধারণাটা mainstream economics এর pro market society (Polanyi এর ভাষায় “society with markets” এর চেয়ে আলাদা), pro globalization, methodological individualism এর সাথেই যায়। আপনি ওনার অনুসারী হলে সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের পলিসি আলাদা হবে। তাই হলে আপনি আপনার পছন্দের voila ! Market পড়ুন আর আমি কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্তো।

অগত্যা এর ছবি

-- কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো আর Development as Freedom পাশাপাশি পড়ছেন এটা বেশ ভাল কথা, সেই ক্ষেত্রে কোল্ড ওয়ার খুব তাড়াতাড়িই খতম হবে -- কেবল Development as Freedom আরেকটু মনযোগ দিয়ে পড়বেন। তবে Capability approach এর মত দারিদ্র বিষয়ক ধারনাগুলিকে অপারেশানালাইজ করার ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে কতটা কঠিন সেটা প্র্যাক্টিশনারদের কাছ থেকে জানতে পারবেন। এবং ক্ষুদ্রঋন নিয়ে কাজ করতে গেলে সেগুলো জানাটা জরুরী।
-- Bateman, Ha-Joon Chang ইউনুসের ক্ষুদ্রঋনের কাজকে ফালতু বলেছেন জানলাম আপনার কাছ থেকে -- খুঁজে দেখব। আপনাকে যেই তিন জন অর্থনীতিবিদের নাম বললাম, যাদের বই পড়ে আপনার মতে অর্থনীতির ছাত্রদের সকাল সন্ধ্যা হয় -- ইউনুস, গ্রামীন ব্যাঙ্ক আর ক্ষুদ্রঋন সম্পর্কে তাদের কিছু মতামত সকাল সন্ধায় ছাত্ররা পড়ে কি জানতে পেরেছে জানার চেষ্টা করুন। তারাও তার ধারনাকে ফালতু বলছেন কিনা একটু খুঁজে দেখবেন। তাদের পপুলার বইগুলো ঘাটলেই পাবেন -- অম্রত্য সেনের জন্য argumentative indian দেখবেন, ইস্টারলির বেলায় দেখবেন white man's burden আর স্টিগলিতস কোন বইতে লিখেছেন সেটা একটু দেখে জানাতে পারব। তবে স্টিগলিতস ইউনুসের ক্ষুদ্রঋনের বিশেষ কিছু ফিচার নিয়ে কাজ করেছেন। একজন ফালতু অর্থনীতিবিদ নিয়ে তাদের অবস্থান গুলো একটু কষ্ট করে জেনে নেবেন।

অগত্যা এর ছবি

আপনি বলেছেন আপনার গবেষনার বিষয় ক্ষুদ্রঋন -- সে ক্ষেত্রে ইউনুসের প্রবর্তিত ক্ষুদ্রঋন কিভাবে এর আগের ক্ষুদ্রঋনের থেকে আলাদা একটু জেনে নেবেন -- নাহলে ক্ষুদ্রঋন গবেষক হিসাবে আপনার গ্রহনযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ক্ষুদ্রঋন বিষয়ের যেকোন টেক্সটবই ঘাটলেই এই বিষয়ে জানতে পারবেন। বেশি কিছু নয় Beatriz Armendáriz এর Jonathan Morduch লেখা টেক্সটটাই দেখুননা। আপনি যদি ক্ষুদ্রঋন বিষয়ে গবেষনা সত্যিই করে থাকেন তাহলে যারা বিষয়টা সম্পর্কে যথেষ্ট জানেননা তাদের সঠিক তথ্য দেয়াটা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে -- সেটা লক্ষ্য রাখবেন। প্লিজ!!

অগত্যা এর ছবি

বাইদ্যাওয়ে ঢাকায় আরবান মাইক্রোফাইনান্সের কার্যক্রম শূরু হয়েছে? এ নিয়ে মাঠপর্যায়ে রিসার্চের কথা শুনেছিলাম -- rate of return মাইক্রোইন্সটিটিউটে বেশি এটা দেখা গিয়েছিল সেই গবেষনায়। গবেষনাটি করেছিল Institute of Microfinance (InM) -- যদি ক্ষুদ্রঋন বিশেষ করে আরবান মাইক্রোফাইনান্স নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে খুঁজে বের করে রিপোর্টটি পড়ে নেবেন।

সাফি এর ছবি

বেচারা ইউনুস ভেবেছিলো মরে যেয়ে বৌটাকে বাঁচিয়ে দেবে, কিন্তু অন্য ইউনুসেরা তা হতে দেবে কেন?

হিমু এর ছবি

এক ইউনূস লোকান্তরে...

Rashed এর ছবি

ক্ষুদ্রঋণ এর টাকা দিয়ে চিকিৎসা করলে তো আর দারিদ্র্যমুক্তি সম্ভব না! প্রতিটা প্রতিষ্ঠান কে তার দায়িত্ব নিতে হবে। সবাই কে মনে রাখতে হবে যে গাড়ির একটা চাকা গাড়ির একটা অংশ মাত্র! চাকাটাকেই যদি গাড়ি মনে করেন তা হলে ভুল করছেন! ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচন করার একটি সহায়ক কৌশল মাত্র, একমাত্র পন্থা নয়। আর পরিকল্পনা বিহীন ঋণ গ্রহন আত্মহত্যার সামিল। যা আপনার লেখায় প্রমানিত।

সাফি এর ছবি

পরিকল্পনাহীন ঋণ গ্রহণের দায় থাকলে পরিকল্পনাহীন ঋণ বিতরণের দায় নেই?

কল্যাণF এর ছবি

পরিকল্পনাহীন ঋণ বিতরণের দায়? সেইটা আবার কি বস্তু? কি যে কন, মাথা মুথা ঠিক আসে? আল্লাহ্‌র মাল আল্লাহ্‌ই দেখবো। ডঃ ইউনুস প্রাতঃস্মরণীয়, রাতঃস্মরণীয়, দিনভর স্মরণীয় ব্যাক্তি। এমুন দারুণ বিজনেস পেলান একটা দিছে, আপনারা ভালু কিছু দেখবার পান না। দেখেন কি চমৎকার প্রডাক্ট, খালি বেচতে থাকেন কোন আফটার সেলস বা ওয়ারেন্টি সার্ভিস দেয়া লাগবো না। পাশাপাশি আবার মানবতা, সেবা, দেশ উদ্ধার লেপে দিয়ে কি চমৎকার নাম কামানির সুবিধা ফিরি।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ডঃ ইউনুস প্রাতঃস্মরণীয়, রাতঃস্মরণীয়, দিনভর স্মরণীয় ব্যাক্তি।

কঠোর আপত্তি জানিয়ে গেলুম। রাতঃস্মরণীয় আমার ট্রেডমার্ক। অন্য কাউকে এটার ভাগ দেবো না। মরে গেলেও না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

পাঠক এর ছবি

সেটাই।

ক্ষুদ্রঋণ এর টাকা দিয়ে চিকিৎসা করলে তো আর দারিদ্র্যমুক্তি সম্ভব না!

কিন্তু, আপনি কি জানেন, ক্ষুদ্রঋণের সবচেয়ে বিশাল অংশ consumption purpose এ দেয়া হয়? এইসব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ইনস্যুরেন্স থেকে শুরু করে সব রকমের ব্যাংকিং ব্যবস্থা আছে, যেটা অন্য সব ব্যাংকের থাকে। কিন্তু, এদের দায় অনেক কম। কারণ, এদের ক্লায়েন্টরা এতো কিছু বুঝে না। যদি বুঝতো, এই বেচারা নিশ্চয় আত্মহত্যা করার পর্যায়ে চলে যাবার মতো ঋণ নিতো না।

ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচন করার একটি সহায়ক কৌশল মাত্র, একমাত্র পন্থা নয়।

সেন্ট্রাল ব্যাংক কিন্তু এইসব ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাংকগুলোকে (আসলে সব ব্যাংককেই) নাম মাত্র সুদেই টাকা দেয়। কিন্তু ওরা যখন ক্লায়েন্টদের সুদ দেয়, ওটার হার এতো বেশি কেন হয়? মানে আমি বলতে চাচ্ছি- এটা যদি দারিদ্র মুক্তির উপায়ই হয়ে থাকে, তাহলে চড়া সুদ নিশ্চয় দারিদ্রমুক্তি ঘটাচ্ছে না। ডঃ ইউনুস বারবার বলেছেন চড়া সুদের কারণ, অন্যদের ব্যবসায় আকর্ষণ করা – এখন গরিবদের রক্ত চুষে “feel good” ফ্যাক্টরটা বোনাস!

আমি অস্বীকার করছি না ক্ষুদ্রঋণের ধারণাটা দারিদ্র মুক্তির জন্যে “সহায়ক কৌশল”। মূলধারার অর্থনীতিবিদদের বাজার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও বুঝতে পারি আমাদের মতো দেশে কেন রাষ্ট্রের উপর আমরা ভরসা রাখতে পারি না। Social welfare সিস্টেম শুরু হলেই দেখা যাবে মন্ত্রীরা নতুন খাতে টাকা উপার্জন শুরু করে দিয়েছে। আমাদের নিজেদের দায়িত্ব হয়তো অনেকটা আমাদেরই, অন্তত যতদিন এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু, সরকার চাইলেই এইসব ক্ষুদ্রঋণের প্রতিষ্ঠানের সঠিক মূলকাঠামো তৈরি করে দিতে পারে যাতে এরা দারিদ্র বিমোচনের নাম করে বুর্জোয়াশ্রেণীর স্বার্থে, নতুনভাবে মহাজনী ব্যবসায় নেমে কাজ না করতে পারে।

সাফি এর ছবি

ক্ষুদ্রঋণ যদি consumption purpose এ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলেতো এটা স্রেফ মার্কেট বড় করার কৌশল ব্যতীত কিছুনা!

নীড় সন্ধানী এর ছবি

গরীব মানুষদের অসুস্থ হওয়া অপরাধ
গরীব মানুষদের ঋন নেয়া অপরাধ
গরীব মানুষদের জন্ম নেয়া অপরাধ
গরীব মানুষদের ঘরে চুরি হওয়াও অপরাধ

ডাক্তার মাষ্টার ব্যাংকার উকিল মোক্তার কোথাও গরীব মানুষদের জায়গা নেই।
গরীব মানুষদের জন্মপূর্ব মৃত্যু ঘটা উচিত। তাহলেই দেশ দারিদ্রমুক্ত সমাজ পাবে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

দ্রোহী এর ছবি

এহহে! বিদেশিদের কাছে দেশের উচ্চতা এক মিলিমিটার কমে গেল!

মন খারাপ

মুনতাসীম মুনিম মিশু এর ছবি

খুবই দু:খজনক

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।