ফেরা - ০৩

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৭/১০/২০১১ - ৬:১০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


আর মাত্র নয়দিন

টিএ শেষ করেই এক দৌড়ে বিল্ডিংএর পাঁচতলায় উঠে যায়। মাথায় বনবন করে সেই এক কথাই ঘুরছে শুধু, কামালি আর অনি, অনি আর কামালি, যোগসূত্রটা কোথায়? কিছুতেই ভেবে পায়না। মাথায় ঘুরতে থাকে অনির রেখে যাওয়া সেই নোট আর ছয়টা সার্কেল আর ছয়টা নাম। কামালির রুমে গিয়ে একটু দেখতে চায়, কোন অন্যরকম কিছু চোখে পড়ে কিনা। অন্যরকম কিছু কেন খুঁজছে হেলাল? অন্যরকম কোন কিছুতে তো ওর বিশ্বাস নেই! কিন্তু অনির ওই নোটের কথা শোনার পর থেকে হুট করে সবকিছু উড়িয়েও দিতে পারছেনা। এতদিনের বিশ্বাসে কি একটু চিঁড় ধরে ওর? বিশ্বাস কি এত সস্তা? নিজের মনে ভাবতে ভাবতে পাঁচতলায় উঠে আসে।

ক্রাইম সিন ক্লোজ করা হয়েছে। স্টুডেন্টরা সবাই নিজেদের রুমে, কাজ করছে। শুধু কামালির রুম ফাঁকা। রুমের সামনে দিয়ে একবার হেঁটে গেল। রুমের দরজা হাট করে খোলা। একবার ভাবল, ভেতরে ঢুকে দেখবে, কিন্তু ফাঁকা রুমে একা ঢুকলোনা হেলাল। কে আবার কি মনে করে বসে। হয়ত ভেবে বসবে কামালির নিখোঁজ হওয়ার সাথে ওর কোন যোগসাজোস আছে। কারও সন্দেহের পাত্র হতে চায় না ও। দুই রুম পরেই রাসেলের রুম। ওকে রুমে নক করে ডেকে নেয়,

- ভাই, একটু আসোতো আমার সাথে। কামালির রুমটা থেকে একটু ঘুরে আসি। একটা লোক হুট করে উধাও ক্যামনে হয়ে হয়ে গেল আমার তো ভাই মাথায় ঢুকে না।

- হ, ভাই আমিও বুঝলাম না। কামালি ভাই সাদাসিদা মানুষ, পড়াশোনা নিয়া ব্যস্ত থাকে, কারও সাথে নাই, পাঁচেও নাই, ওনার এইটা কি হইল! আচ্ছা ভাই ওনার বাসায় কি জানানো হইছে?

- হুমম, ওর বাসায় জানানো হইছে আরকি একরকম। কালকে কয়েকজনের সাথে কথা বলে ওর বাসায় ফোন দিছিলাম আমি। সরাসরি বলি নাই। মানে ক্যামনে কই যে ওরে পাওয়া যাচ্ছে না!

- তো কি কইলেন?

- আন্টি তো কান্নাকাটি শুরু করছে। আমি একটু মিথ্যা বললাম আরকি। হয়ত বিশ্বাস করে নাই। কইলাম যে কামালি একটা রিসার্চের কাজে প্রভিন্সের বাইরে গেছে, ওখানে কোন নেটওয়ার্ক নাই, তাড়াহুড়া করে গেছে তাই আপনাদের জানাতে পারে নাই। বিশ্বাসযোগ্য কিছু হয় নাই আরকি। কিন্তু কি বলব বল? তাছাড়া যখন কথা বলছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমার বিশ্বাস ছিল, কামালি হয়ত ফেরত আসবে। ভাবছিলাম আধপাগলা মানুষ, হয়ত কোথাও হাপিস হইছে। কিন্তু এখন ভাই আমি নিজেও কনফিউজড। অনেক ঝামেলা আছে মনে হচ্ছে। তোমারে পরে কমুনে, এখন চল ওর রুমটা একটু ভিজিট দিয়া আসি।

কামালির রুমে ঢুকে এদিক ওদিক একটু ভালভাবে দেখে নেয় হেলাল। রাসেলের সাথে আপাতত কোন আলোচনায় যায় না। হুট করে চিন্তা ভাবনা ছাড়া কিছু বলে দেয়া বা করে ফেলা ওর স্বভাব না। তেমন কোন অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে না। রুমের একপাশে বইয়ের র‍্যাকে বেশ কিছু বই রাখা, আগের মতই। টেবিলের ড্রয়ার খুলে দেখে, একটা আধখোলা বিস্কুটের প্যাকেট, কফি আর কফিমেটের কৌটা, একটা সুগার কিউবের প্যাকেট। উপরের ড্রয়ারে কিছু অ্যাসাইনমেন্টের কপি, কিছু কলম পেন্সিল আর একটা গ্লাভস। টেবিলের পাশে যেখানে কামালির স্যান্ডেল রাখা থাকে সেখানে ওর জুতাজোড়া পড়ে আছে।

আর তেমন কিছু চোখে পড়ে না ওর। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখে পাশের বিস্তীর্ণ পাইন বন আর কোলঘেঁষা ছোট্ট লেক। একটু মনে খারাপ হয়ে যায় কামালির জন্য, জানালা দিয়ে তাকিয়ে গভীর ভাবনায় ডুবে যায়। রাসেলের ডাকে সম্বিত ফিরে আসে ওর,

- ভাই, কি বুঝলেন?

- নাহ ভাই কিছু বুঝি নাই। শুধু একটা জিনিস বুঝতেছি যে প্যাঁচ আছে।

হঠাৎ করে আবার ওর ওই সুইসাইড নোটের কথা মনে পড়ে যায়। নোটের তৃতীয় নামটার কথা, হ্যা, 'ইলেন'। কিন্তু আপাতত রাসেলের সাথে এই বিষয়ে আলোচনায় যেতে না। প্রসঙ্গ পাল্টানোর ভান করে।

- আচ্ছা বাদ দাও, এইটা নিয়া আমার চিন্তা করার কিছু নাই। এইগুলা পুলিশ কেইস।

- হ ভাই এইসব ঝামেলার মধ্যে জড়াইয়েন না। আপনি তো ভাই আবার ঝামেলা দেখলে মাঝখানে বাম হাত না দিলে শান্তি পান না।

- ঠিকই কইছ। কিন্তু এই ঝামেলার মধ্যে আমি নাই। আচ্ছা বাদ দাও, বাদ দাও। আচ্ছা ইলেন নামের কোন মাইয়ারে চিন নাকি?

- ভাই, কাহিনী কি কনতো আপনে তো ভাই মাইয়া মানুষ নিয়া গাবানির লোক না! ইলেনরে দিয়া আপনি কি করবেন?

আগে হেলাল কোনদিন শোনেও নাই এই নাম। এ নামে এখানে কেউ আছে কিনা তাও জানতো না। এমনিতেও ক্যাম্পাসে কম আসে ও, তাই ক্যাম্পাসের অনেক চরিত্রই ওর অচেনা। কিন্তু ওই নোটের কথা শোনার পর থেকে ও মোটামুটি শিওর যে ইলেন নামে কেউ তো এখানে থাকতেই হবে। তাই কিছুটা অন্ধকারেই ঢিল ছোঁড়ে,

- নাহ কিছু করব না। শুনলাম আরকি লোকমুখে, মাইয়া নাকি হট? চিন নাকি?

- ভাই আমি ক্যামনে চিনব? মাইয়া মানুষের সাথে আমার হয় না এইডা তো জানেন।

- আরে ধুরো মিয়া, কিছু হওয়াইতে কইছি নাকি? চিন নাকি সোজা প্রশ্ন জিগাইলাম, তুমি দেখি এখন বিটলামি কর। আমার এট্টু দরকার আছে মনে কর।

- ভাই আমিতো চিনি না, মানে চিনি কিন্তু পরিচয় নাই আরকি। আজম ভাইয়ের সাথে ভাল খাতির আছে। ওনারে জিগাইলে খোঁজখবর পাইবেন।

- আচ্ছা খোঁজখবর পরে নিমুনে, আপাতত তুমি যেট্টুক চিন আমারে এট্টু ডিটেইলস দাও।

- ভাই ডিটেইলস কি দিমু আর? মাইয়া হট আছে, এইডা কইতে পারি। ধরেন এই ৩৪, ...

- আরে ধুরো মিয়া, ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক চাই নাই আমি, মানে এমনিতে মাইয়া কি করে, কোন সাবজেক্ট এইসব আরকি? আর ক্যাম্পাসে থাকলে আমারে এট্টু দেখাইতে পার। তোমারে পরে বুঝায়ে কমুনে।

- ভাই আপনে এই লাইনে কবে থিকা আইলেন?

- ভাই ফাইজলামি বাদ দেও, চল আজম ভাইয়ের রুম থিকা একটু ঘুইরা আসি, একটু খোঁজখবর নেয়া দরকার।

আজমের রুমে এসে নক করে ওরা। দরজা খুলে দেয়। রুমে একা না আজম। পাশে একটা ইরানি মেয়ে। দুইজন একবার চোখ বুলায়। তারপর আজমের দিকে তাকিয়ে অর্থপূর্ণ হাসি দেয়। হেলাল বলে,

- বস একটু বাইরে আসবা? গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে তোমার সাথে।

- হুম চল বস। আমার সাথে হঠাৎ এত গুরুত্বপূর্ণ কথা?

রাসেল ফোঁড়ন কাটে মাঝখান থেকে,

- ভাই আপনার খবর আছে, হেলাল ভাই আপনার সম্পদে চোখ দিছে।

- ধুরো রাসেল এখন ফাইজলামী কইরনাতো ভাই। আচ্ছা আজম বস ইলেনকে চেন তুমি?, বলে হেলাল।

- হুম বস, চিনিতো হালকা পাতলা আরকি, আমার সাথে ক্লাস করে। কেন ইলেন কি করছে?

- না না কিছু করে নাই। আমার একটু দরকার আরকি। তোমরা যে লাইনে ভাবতেছ সেসব কিছু না। আমি পরে ক্লিয়ার করবোনে। কিন্তু আপাতত আমার সাথে একটু কথা বলায়ে দিতে পারবা?

- কিন্তু আজকে তো ইলেন কে ক্লাসে দেখলাম না! ওর রুমেও নাই। হয়ত কোন কাজ আছে বা শরীর খারাপও হইতে পারে।

আবারও ফোঁড়ন কাটে রাসেল,

- ভাই এই আপনার প্রেম? একবার ফোন কইরা খোঁজ নিবেন না ভাই?

- হুম রাসেল ভাল কথা কইছ। বস ফোন নাম্বার থাকলে একটা ফোন দিয়ে দেখবা? এমনি জিগাও যে, ক্লাসে আসল না ক্যান? জাস্ট জিগাও। সেও খুশী হবে, আর আমারও কাজটা হয়ে যাবে।

ফোন দেয় আজম। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে। কিন্তু ফোন বন্ধ। বারবার অপারেটরের যান্ত্রিক নারীকন্ঠ একঘেয়ে স্বরে বলতে থাকে, 'দিস নাম্বার ইজ আউট অব সার্ভিস এরিয়া'। হেলাল খুব অবাক হয় না, যেন এরকমই আশা করেছিল। কিন্তু ওদেরকে বুঝতে দেয় না। স্বাভাবিকভাবেই বলে,

- হয়ত ফোনে চার্জ নাই। আচ্ছা সমস্যা নাই আমার কথা বলা এত জরুরী না। আমার একটা ইনফর্মেশান দরকার বস। ইলেনের সাথে কি তোমার ফেসবুকে অ্যাড করা আছে? ওর বার্থডে কবে আমাকে একটু জানাইতে পারবা? বস কোন রকম মিস ইউজ হবে না এইটা তোমারে বলতে পারি। আর তোমারে পরে ডিটেইলস কমুনে।

ফেসবুক থেকে ইলেনের জন্মদিনটা একটা কাগজে টুকে নেয় হেলাল। ৫ নভেম্বর। আর মাত্র নয়দিন পরেই।

মাত্র নয়দিন!


আলোচনা

রাতে বাসায় আসতে আসতে রাত দশটা বেজে যায়। বাংলাদেশ সময় সকাল এগারোটা। পুরোপুরি অফিস আওয়ার। কিন্তু তর সয় না হেলালের। সাঈদকে ফোন দিতে হবে। এখানকার ফোন সার্ভিস জঘন্য, ছোট শহর হলে যা হয়। মাসে ত্রিশ ডলারের প্যাকেজ, তাও আবার কলার আইডি নেই, নর্থ আমেরিকার বাইরে আউটগোয়িং কল নেই, শহরের বাইরে হলেই লং ডিস্ট্যান্স চার্জ আসে। দেশে কল করতে হলে তাই ভিওআইপিই একমাত্র ভরসা। তাতেও খরচ কম না। কিন্তু আপাতত খরচের চিন্তা করে না। ফোন লাগায়। তিন চারবার রিং হতেই ওদিক থেকে আওয়াজ আসে,

- হ্যালো, স্লামালাইকুম।

- হ্যালো দোস্ত, আমি হেলাল। দোস্ত ফ্রি আছিস নাকি, সকালে তো কথা শেষ হইল না। আর সারাদিন দৌড়ের উপ্রে আছিলাম।

- দোস্ত, ঠিক ফ্রি না। কিন্তু ফ্রি হইতেছি আরকি। কথা বলা তো দরকার।

- হ দোস্ত দরকার। আমি কামালির রুমে গেছিলাম আইজ সকালে। কোন কিছু ওরকম নোট টোট পাই নাকি খুঁজতে গেছিলাম আরকি। দোস্ত আমার নিজের উপ্রেই একটু মেজাজ খারাপ হইতেছে। আমার চিন্তা ভাবনা অন্য লাইনে ডাইভার্ট হইয়া গেছে, ওই নোটের কথা শোনার পর থিকা আমার চিন্তা ভাবনা ভূত-প্রেত লাইনে টিউনড হইয়া গেছে। কিন্তু দোস্ত আমার কেন জানি মনে হয় কামালি কিডন্যাপড হইছে। মানে ঠিক কিডন্যাপড কিনা জানিনা, মনে হইতেছে যে ও ইচ্ছা কইরা ক্যাম্পাস থিকা বাইর হয় নাই আরকি, কোন ঝামেলা হইছে। অন্য কোন ইস্যু আছে নাকি বুঝতেছিনা।

- কি বলিস দোস্ত?? কিডন্যাপড হইছে এইটা ক্যামনে কস? ক্যামনে বুঝলি?

- মানে, আমি কোন দাবী করতেছিনা। আমি নিজেও শিওর না। তবে কামালি ক্যাম্পাস থেকে স্বেচ্ছায় বের হয় নাই এটা বুঝতেছি।

- ক্যামনে দোস্ত? একটু ভাইঙ্গা ক।

- এইটা দোস্ত খুবই লেইম কজের উপ্রে বেজ কইরা দাড়া করানো হাইপোথিসিস। বিশ্বাস-অবিশ্বাস তোর উপর। আমি নিজেও আসলে কনভিন্সড না আমার লজিকে। বাট আমি কেন জানি ফিল করতেছি আরকি। মানে বুঝস তো ঠিক লজিক না, কিন্তু হয় না? মানে ...

- আচ্ছা মনে যা আছে কইয়া ফালা, ত্যানা প্যাঁচাইস না।

- এখন দোস্ত, এখানে বেশ শীত পড়ছে। মাইনাসে আছে মনে কর। সবাই তো উইন্টার বুট পইড়া বাইর হয়। অনেকে আবার বাসা থিকা জুতা পইড়া আসে, ক্যাম্পাসে মনে কর রুমে স্যান্ডেল রাখে, সারাদিন বিল্ডিং এর মধ্যে থাকলে স্যান্ডেলেই মনে কর কমফোর্ট আরকি। তো আমি আগেও লক্ষ্য করছি, কামালিও একই কাম করে।

- এই থিকা ক্যামনে বুঝলি, যে কামালি কিডন্যাপড হইছে?

- আমি কামালির রুমে গেছিলাম। দেখলাম, রুমে জুতা পইড়া আছে। অনেক খুঁইজাও স্যান্ডেল পাইলাম না। এর দোস্ত একটাই মানে হইতে পারে, কামালি ক্যাম্পাসে আসছিল, এইটা শিওর। ক্যাম্পাসে আইসা জুতা খুইলা স্যান্ডেল পড়ছে। আর যদি ক্যাম্পাস থিকা বাইরও হয়, প্ল্যান কইরা বাইর হয় নাই। এখন দোস্ত যেই অবস্থা ঠান্ডার তাতে কেউ স্যান্ডেল পইরা বাইর হইলে পা জইমা যাইব।

- বুঝলাম দোস্ত, কিন্তু এইটা থিকা তো কোন ডিসিশানে আসা কঠিন।

- দোস্ত আমি তো আগেই কইছি, আমি কোন ডিসিশানে আসতেছিনা, জাস্ট তোর লগে ডিস্কাস করলাম আরকি। মনে হইছে এরকম হইতে পারে।

সাঈদ মনে মনে ভাবে, শালার মাথায় মাল আছে। হেলাল ওর দেখা ওয়ান অব দ্যা মোস্ট শার্প ব্রেইনগুলার মধ্যে একটা। সবাইকে বাদ দিয়ে হেলালকে ফোন দেয়ার এটাও একটা কারণ। সামান্য ঘটনা থেকে চমৎকার অ্যানালাইসিসে হেলালের আসলেই জুড়ি নেই। কিন্তু এখানে অ্যানালাইসিসে কী কাজ হবে ঠিক বুঝতে পারে না ও।

- দোস্ত আমি ফুললি কনভিন্সড না যদিও, বাট তোর চিন্তার লাইন মনে হয় ঠিক আছে। অনির সাথে লিঙ্ক না হইলে হয়ত তোর এই অ্যানালাইসিস আমি উড়ায়ে দিতাম। এখন তো মনে হইতেছে কোন কিছুই এই কাহিনীতে এত সরল না। সব কিছুই এট্টু প্যাঁচ দিয়া চিন্তা করা লাগবে।

- দোস্ত আরও কয়েকটা পয়েন্ট আমার মাথায় আসতেছে। সবগুলা হাইপোথিসিস লেভেলে যদিও, কিন্তু তোর লগে শেয়ার করি এট্টু। কারও লগে শেয়ার না কইরা শান্তি পাইতেছি না।

- হ কইয়া ফালা।

- দোস্ত এক নাম্বার পয়েন্ট হইল গিয়া, এইখানে দুজন ভিক্টিম এখন পর্যন্ত আমাদের পরিচিত। খেয়াল করার মত বিষয় দেখ, দুইজনই আমগো স্কুলের। অনির লিখা লিস্টের কথা যদি কনসিডার করিস তাইলে তাইলে শামনুনরে ধরতে হয়। তাইলে কি দাড়াইল? এই ঘটনায় যদি ভিক্টিম তিনজনরে ধরি তাইলে তিনজনই সেম ব্যাচ, সেম স্কুল এর। এই কথাটা বাংলাদেশের একজনের কাছে যতটা সিগনিফিক্যান্ট কোন ফরেনার এর কাছে কিন্তু ততটা না। আসলে এখানে কারও জানারই কথা না যে কার ইন্টারের ব্যাচ কোনটা বা কে কোন স্কুলে দেশে পড়াশোনা করছে। কিন্তু খেয়াল কইরা দেখ কোন আজিব কারণে এই তিনজন একসাথে গিট্টু লাগছে। তারমানে এট্টুক তো বলা যায় যে এর পিছনে বাংলাদেশী কারও হাত আছে। যদি ঘটনাগুলা কাকতালীয় না হয় আরকি।

- দোস্ত এই কথাটা আমারও মাথায় আসছিল। আসলেই দোস্ত ওখানকার কারও পক্ষে একেবারে খুঁইজা খুঁইজা আমগো ব্যাচের আমগো স্কুলের তিনজনরে বাইর করা একটু বেশীই অসম্ভব হইয়া যায়। আর যদি হয়, সেটা হইব পুরাই কাকতালীয়, তয় এতটা কাকতালীয় ব্যাপার মনে হয় কাকরাও বিশ্বাস করে না। তয় দোস্ত এইখানে যদি কোন বাংলাদেশীর হাত থাকে, কি মোটিভ থাকতে পারে বইলা তোর মনে হয়? তিনজন আম্রিকার তিন জায়গায়, তিনজনের লেখাপড়ার ফিল্ড পুরাই আলাদা। শুধু তিনজন একই স্কুলের এই ছাড়া কোন লিঙ্ক নাই। কোনভাবেই মিলাইতে পারি না দোস্ত।

- দোস্ত কি মোটিভ থাকতে পারে এই বিষয়ে আমি বিন্দুমাত্র আইডিয়া পাইতেছি না। তয় চিন্তা করার মত কয়েকটা লিঙ্ক পাইছি আমি। তয় শুধু লিঙ্কই পাইছি, সেই লিঙ্ক থিকা চিন্তা করার কোন রাস্তা পাইতেছি না। দুই নাম্বার পয়েন্ট কই। কামালির জন্মদিন জানস কবে? ৫ নভেম্বর।

- জন্মদিন দিয়া কি হবে? ক্লিয়ার কর দোস্ত আমার মাথা তোর মত ক্লিয়ার নাহ। তোর মত মাথা হইলে তো আর দেশে পইড়া থাইকা কেরানীগিরি করতাম না, তর মত গবেষণা করতাম।

- দোস্ত এহন বালের প্যাঁচাল পারিস না। পচানি পরে দিতে পারবি। আপাতত কামের কথা কইতে দে। আমি সেই ইলেনরে খুঁইজা পাইছি। ওই যে সেই লিস্টের ইলেন।

- কস কি?

- আমগো এহানেই পড়ে। আমি চিনতাম না। পয়েন্ট হইল গিয়া সে আইজকা ক্লাসে আসে নাই। অর পরিচিত একজনরে দিয়া ফোন দেয়াইলাম, কিন্তু ফোন বন্ধ। ফোন এমনেও বন্ধ থাকতে পারে। কিন্তু এখন তো বুঝতেছিস যে এই বন্ধ থাকার কারণ আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হইল গিয়া ওর জন্মদিন হইল গিয়া ৫ নভেম্বর। মানে কামালির সাথে একই দিনে।

- এই থিকা দোস্ত কি বুঝা যায়?

- এইটা যদি বুঝতাম তাইলে তো আর এতক্ষণ ধইরা প্যাঁচাল পারি না। কিন্তু আমার মন বলতেছে দোস্ত এই ৫ নভেম্বরের কোন কাহিনী তো আছেই। আজকে মনে কর আমগো এখানে ২৬ অক্টোবার। আমার মনে হয় যা হওয়ার এই নয়দিনের মধ্যেই হবে। কোন লজিক দিব না দোস্ত। এই কাহিনীতে কোন লজিক অচল।

- তো আমাদের এইখানে কি করার আছে?

- আমার মনে হয় দোস্ত ব্যাসিক্যালি আমগো এইখানে কিছু করার নাই। কিন্তু চিন্তা ভাবনা তো আর থামায়ে রাখা যায় না। এইটা তো ধর করতে পারি। আচ্ছা দোস্ত, তুই একটু অনি আর ওইদিকে যারা আছে ওদের ইনফো যোগার করতে পারবি? আর তোর ওই কাজিনের ফোন নাম্বার আমারে একটু দিস তো আমি একটু কথা কইতে চাই।

- ওকে দোস্ত আমি ওর নাম্বার তোরে ফেসবুকে মেসেজ করতেছি। তয় ওদের খোঁজখবর কদ্দুর নিতে পারুম আমি শিওর না। কারণ অনির তো ফেসবুক আইডি আছিল না। ওর জন্মদিন আমারও মনে নাই। এখন জন্মদিন জানতে হইলে ওর বাসার কারও কাছে জিগানো লাগবে। আচ্ছা আমি জিগামুনে, পাইলে তোরে মেসেজ দিমুনে। দোস্ত আপাতত রাখতে হইতেছে, বসে বুলায়। ভাল থাকিস।

- ওকে দোস্ত, বাই, কথা হবে।


শীতল সেই আঙ্গুল

জ্ঞান ফিরে মনে হল একশ বছর ধরে ঘুমিয়ে ছিল বোধহয়। হুট করে কিছুই মনে করতে পারে না। শুধু অনুভব করে তলিয়ে যাচ্ছে গভীরে। আর তেমন কোন অনুভূতি নেই। কোন ভয় বা আতঙ্কও কাজ করে না। শুধু তলিয়ে যাওয়া, গভীরে, অনেক গভীরে। চুপচাপ শুয়ে থাকে, অনেক্ষণ। চোখের পাতাও মনে হয় অনেক ভারী। চোখ খুলতেও ক্লান্তি লাগে। শুধু কানে আসে একঘেয়ে একটা খটখট শব্দ, অনেক দূর থেকে। এভাবে অনেক্ষণ শুয়ে থাকে। শরীরে রাজ্যের ক্লান্তি। ধীরে ধীরে সব মনে পড়ে যায়। অসম্ভব এক আতঙ্ক এসে ভর করে। চোখ খুলতেও ভয় পায়। শুধু অনুভব করে বেশ নরম একটা বিছানায় শুয়ে আছে।

আস্তে আস্তে চোখ খোলে। বেশ বড় একটা ঘর। ছাদের ঠিক মাঝখানে খুব কম পাওয়ারের একটা বাল্ব। বিচ্ছিরি অস্বস্তিকর একটা হলদে আলো। ঘরের ছাদ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উঁচুতে। দেয়াল, ছাদ পুরোটাই কুচকুচে কালো রঙ করা। কম পাওয়ারের বাল্বের আলো সেই দেয়াল আর ছাদ একসাথে জোট বেঁধে শুঁষে নিচ্ছে যেন। শুধু একটা রঙ দিয়ে একটা রুমকে এতটা ভয়ংকর অস্বস্তিকর করা যায়, কামালির কোন ধারণাই ছিল না। পাশ ফিরে চারদিকে অস্বস্তি নিয়ে তাকায় কামালি। তারপর উঠে বসে।

বসে আছে একটা বেশ বড় পালঙ্কের উপর। এরকম পালঙ্ক যে এসব দেশে আছে, কোন ধারণাই ছিল না ওর। পরিপাটি করে গোছানো বিছানা। বিছানার চাদরও কুচকুচে কালো। পালঙ্কের মাথার দিকে একটা টেবিল। টেবিলের ওপর বিশাল একটা মোমবাতি। আর অনেক অনেক বই, বেশ গুছিয়ে রাখা। বই গুলোতে ধুলার আস্তর, হাত না দিয়েই বেশ বোঝা যায়। নীচে তাকিয়ে দেখে মেঝের দিকে, পুরো মেঝেটা মনে হয় কুচকুচে কালো মার্বেল পাথরের তৈরী, আর তাতে অদ্ভুত সব কারুকাজ। সবচেয়ে অবাক হয় পালঙ্কের উচ্চতা দেখে। মেঝে থেকে প্রায় দশ-বারো ফিট উঁচু। লক্ষ করে দেখে এক পাশ দিয়ে একটা দড়ির মই নেমে গেছে, মেঝে পর্যন্ত। ঘরের অন্য পাশে অনেকগুলো বাক্স রাখা। বাক্সগুলোও সব কুচকুচে কালো। চারিদিকে এত কাল জিনিস জীবনে কখনও দেখেছে বলে মনে করতে পারে না ও। সব কিছুতেই কেমন যেন অস্বস্তিকর একটা ভুতুরে অনুভূতি। পুরো ঘর জুড়ে একটা বোটকা গন্ধ। মনে হয় অনেকদিন এঘরে কেউ ঢোকেনি। কোন জানালাও নেই। আলো বাতাস আসার কোন সুযোগ নেই। একপাশে একটা ছোট্ট দরজা। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ ফিট উঁচু ঘরের তুলনায় বাড়াবাড়ি রকমের ছোট।

হঠাৎ করেই নিজের দিকে খেয়াল হয় কামালির। মনে পড়ে যায় কি হয়েছিল আসলে। কিভাবে এখানে আসল কিছুতেই মনে করতে পারে না। শুধু মনে পড়ে দুজন লোক শক্ত করে ধরে ওকে বেঁধে ফেলল আর তারপর শুধু তলিয়ে যাওয়া, আর কিছুই মনে করতে পারে না। মনে পরে প্রফেসর বিটলার আর প্রফেসর জুবায়েরের কথা। কিন্তু বেশীকিছু ভাবতে ইচ্ছা করে না। কিছুই মেলাতে পারে না। মেলাতে ইচ্ছা করে না। গায়ে অপরিচিত পোষাক। কুচকুচে কালো সিল্কের কাপড়ের একটা পাজামা আর উপরে একটা ঢিলেঢালা আলখাল্লা। কাপড়ে এক অদ্ভুত রকমের গন্ধ। অনেকটা ধূপের গন্ধের মত, নেশা ধরানো। কিন্তু অতটা তীব্র নয়।
দড়ির মই বেয়ে নীচে নেমে আসে। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। কয়দিন এই জায়গায় আছে ওর নিজেরও কোন ধারণা নেই। খুবই দুর্বল লাগে নিজেকে, যেন পা ফেলারও শক্তি নেই। কিছু খেতেই হবে। আশেপাশে খুঁজতে থাকে। কিছুই পায় না। কানে আসে সেই একঘেয়ে খটখট শব্দ। দরজার দিকে এগিয়ে যায়। নীচু হয়ে দরজার বাইরে চোখ রাখে।

অন্ধকার একটা করিডোর। সামনে যতদূর চোখ যায় কিছু দেখতে পায় না। আবার মই বেয়ে খাটে ওঠে। টেবিলের ওপর থেকে মোমটা নিয়ে নেয়। তারপর দরজা দিয়ে হামু দিয়ে বের হয়ে আগায় সামনের দিকে। কুচকুচে কালো দেয়াল। মোমের সামান্য আলোয় সামনে খুব বেশীদূর দেখা যায় না। শুধু মনে হয় অনেক দূর থেকে আসছে সেই খটখট শব্দ। শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে চলে ধীর পায়ে।

এভাবে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর পৌছে যায় করিডোরের অন্য প্রান্তে। বিশাল একটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সন্তর্পণে ঠেলা দেয় দরজাতে। মৃদু ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে খুলে যায় বিশাল দরজা। বোটকা বাতাস এসে নাকে লাগে। বাতাসে ভয়ঙ্কর পঁচা গন্ধ। ইঁদুর বা অন্যকিছু পঁচে গেলে যেমন গন্ধ হয় অনেকটা সেরকম। বিশাল একটা বৃত্তাকার ঘরের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ও। ঘরের ছাদ যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ঘরের চারিদিকে প্রায় পঞ্চাশটা একই রকম দরজা। ও কোনটা দিয়ে বের হয়েছে সেটার চিহ্ন রাখার জন্যে মোমবাতিটা দিয়ে ওই দরজার সামনে একটা চিহ্ন দেয়।

কী করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। ভয় মোটামুটি কাটিয়ে উঠেছে ও। বুঝতে পারছে এখন আর ভয় পেয়ে লাভ নেই। ভাগ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দেয়া ছাড়া আপাতত আর কিছুই করার নেই বুঝতে পারে। এই ঘরটাতে বেশ আলো। অনেক উপর থেকে ঝারবাতির মত কিছু একটা ঝুলে আছে। এখানেও শোন যাচ্ছে সেই একটানা খটখট শব্দ। শব্দের উৎস খোঁজার জন্য সবগুলো দরজায় এক এক করে কান পাততে থাকে।

কয়েকটা দরজা পরে গিয়ে মনে হয় আওয়াজ বোধহয় ওই দরজার ভেতর থেকেই আসছে। দরজা খোলে একহাতে, আরেকহাতে মোমবাতি ধরা। এখানেও সামনে ঘন অন্ধকার। একই রকম একঘেয়ে কাল দেয়াল। কিছুদূর হেঁটে যেতেই দেখে করিডোরের একেবারে শেষপ্রান্তে চলে এসেছে। ওখান থেকে উপরে উঠে গেছে একটা প্যাচানো লোহার সিঁড়ি।

সিঁড়িতে হাত দিয়েই চমকে হাত সরিয়ে নেয় কামালি। বরফ শীতল। একবার ভাবে ফিরে যাবে। কিন্তু মনে মনে ভাবে ওরতো ফিরে যাওয়ার জায়গা নেই আসলে। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে শুরু করে। বেশ বড়বড় সিঁড়ির ধাপগুলো। মনে মনে গালি দেয়, কোন ...মারানি ডিজাইন করছে এই সিঁড়ি। ক্ষুধার্ত শরীর আর দুর্বল পা উঠতে চায় না। কিন্তু সেই একটানা নেশা ধরানো খটখট শব্দ টেনে নিয়ে যায়।

সিঁড়ির শেষ মাথায় চলে আসে। বেশ বড় একটা ঘর। দেয়ালে সেই কুচকুচে কাল রঙ। ঘরের মাঝখানে একটে টেবিল। সেখানে কয়েকধরণের ফল-আর একটা পানির পাত্র দেখতে পায়। খুব কাছে থেকেই আসছে সেই শব্দ। এখন অনেক তীব্র। মনে হচ্ছে একটানা কোথাও বিশাল এক হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। কোন বিরাম নেই। আপাতত শব্দটাকে মাস্তিষ্ক থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কামালি। টেবিল থেকে তুলে রাক্ষসের মত দুটা কলা আর গোটাদুই আপেল খেয়ে ফেলে। তারপর ঢকঢক করে পুরা পানিটা শেষ করে।

তারপর শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে যায় আবার সামনের একটা দরজার দিকে। দরজা দিয়ে দেখতে পায় দুজন মানুষ, দরজার দিকে পেছন ফিরে বসা। গায়ের উর্ধাংশে কোন কাপড় নেই। আর নীচে ওর মতই পরা কুচকুচে কালো পাজামা। ওদের সামনে একটা হাপর। একজন হাপরের চেন টানছে আর দ্গদগে আগুন থেকে বের করে সামনে ধরছে একটা বিশাল তরবারির মত জিনিস। বিশাল হাতুড়ি দিয়ে উত্তপ্ত লাল হয়ে যাওয়া সেই তরবারিতে আরেকজন পিটিয়ে যাচ্ছে, সমান তালে। এক মুহূর্তের বিরাম নেই।

ওখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে কামালি। ওদের কোন বিকার নেই। আর প্রচন্ড শব্দে পেছেনে কে এসে দাঁড়িয়েছে বোঝারও কোন উপায় নেই আসলে। কামালি চেনার চেষ্টা করে, কিন্তু চিনতে পারে না ঠিক। পেছন থেকে সাইজ দেখে ওর মনে হয় ওকে যে দুজন দু'পাশ থেকে ধরে রেখেছিল, ওরা দু'জন হতে পারে। এরপর কি করবে ঠিক ভেবে পায় না কামালি। ফিরে যাওয়ার জন্যে পেছন ফিরতে যাবে, এমন সময় ঘাড়ের উপর অনুভব করে কয়েকটা অসম্ভব শীতল আঙ্গুল।

পেছন ফিরে দেখেই চোয়াল যেন আধাহাত ঝুলে পরে নীচের দিকে। সাথে সাথে জ্ঞান হারায় কামালি।
(চলবে)

ফেরা - ০১
ফেরা - ০২


মন্তব্য

পাঠক এর ছবি

ভয় লাগছে.............

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

শয়তানী হাসি শয়তানী হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শাব্দিক এর ছবি

ইটা রাইখ্যা গেলাম... রাখলাম, এবার পড়ি।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- পইড়া কেমন লাগল জানাইয়েন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শাব্দিক এর ছবি

ঘটনা জমে গেছে, মালাই কলফি, আইস্ক্রিমের মত। তাড়াতাড়ি পর্ব না ছাড়লে ধইরা ঠুয়া দিয়া দিমু...
ওঁয়া ওঁয়া আমার আগেও কমেন্ট আসল ক্যামনে?

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ডড়াইছি, আপাতত (গুড়) দিয়া পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম খান

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শাব্দিক এর ছবি

এইসব ঘুষ দিয়া পেট ভরলেও মন ভরবে না। খাইছে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ঘুষ দেখলেন কই? গুড়মুড়ি খাইতে দিলাম। নাহ আপনাদের মনে পাপ দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

বন্দনা এর ছবি

হুম খুব ভাল এগুচ্ছে... পরের পর্ব কবি হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- কেবল রাত জেগে এক পর্ব লিখলাম। ঘুমাইতে দেন এট্টু।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

sd এর ছবি

বাহ

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ধইন্যবাদ সুমন ভাই।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

পাঠক এর ছবি

ত্রিমাত্রিক কবি, এবারের লেখায় কিন্তু শ্ল্যাং এর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তবে মাত্রাতিরিক্ত টেনশন হচ্ছ। টেনশন করাও কিন্তু ডাক্তারের বারণ। তাড়াতাড়ি টেনশন রিলিজ করুন। কিছু হয়ে গেলে কিন্তু আপনাকেই......।

ভাল লাগছে।

প্রৌঢ়ভাবনা

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ধন্যবাদ। একটু হাতখালি হলেই পরের পর্ব নামাবো। আসলে আধা আধা লেখাও আধা আধা পড়ার চেয়ে কম পেইন না কিন্তু। আর স্ল্যাং এর কথা যদি বলেন তাহলে আমি বলব এ পর্বে বন্ধুর কতোপকথনে কিছুটা সচেতন ভাবে এড়িয়ে গেছি, কারণ হল এর আগের দিন ছিল এমনিতেই ফোন করা, তখন ঘটনার গুরুত্ব ছিল না। ওরা তখনও ঘটনার মধ্যে ঢোকেনি। কিন্তু এই পর্বে তারাও কিন্তু টেন্সড, তাই আলোচনা মূল থিমের আশে পাশে ছিল।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সাফি এর ছবি

গুল্লি হৈতেছে। টেক হোম এক্সাম দেওয়া বাদ্দিয়া পইড়া গেলাম

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- আমিও আইজকার মিটিং এর কথা মাথা থিকা আউট কইরা রাইত জাইগা লিখছি এহন খাল ঘুম্পায়।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

বন্দনা কবীর এর ছবি

জমে ক্ষির হয়ে গেছে। খেতেও সুস্বাদু হয়েছে। রান্না চলুক, ঘুম বাদ্দেন আপাততঃ আগে আমাদেরকে টেনশন ফ্রি করেন...

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
শুধু ঘুমাইলেই যে হয় না মন খারাপ রান্না বান্না আক্ষরিক অর্থেই করতে হবে এই উইকে, দিলেন তো মনডা খারাপ কইরা ওঁয়া ওঁয়া

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

চরম উদাস এর ছবি

একটানে পড়ে শেষ করলাম।
জটিল হচ্ছে। হাততালি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ধইন্যবাদ উদাস ভাই।
উদাস হইয়া বইসা আছি। সাহিত্যিকের অপেক্ষায় হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কাশফুল এর ছবি

ভয় পাই নাই।
দারুণ হচ্ছে। চলুক
ভাই কালকে কোন মিটিং নাই। খাইছে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
কালকে নাই ... এইযে মন্তব্যটা দিয়াই যাইতেছি মিটিং এ মন খারাপ ... দোয়া কইরেন

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

উচ্ছলা এর ছবি

তারপর কী হলো?!...তারপর?!!

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চিন্তা করতেছি চিন্তিত

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কল্যাণF এর ছবি

জবর জমতেছে, তয় রিকোয়েশট বেশি দেরি কইরা মজাটা মাটি কইরেন না পিলিজ। চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। ভাবতেছিলাম আপনি কি হারায়ে গেলেন নাকি? যাক হারান নাই, এবার তো তাইলে লিখতেই হবে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তদানিন্তন পাঁঠা  এর ছবি

ভাই, হিমু ভাইয়ের চণ্ডীশিরার মত ঝুলায়েন না।। মইরাই যামু। জম্পেশ হচ্ছে।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ঝুলাইতে হইলে তো উচায় উঠা লাগে রে ভাই। হিমু ভাইয়ের মত উচায় উঠলে মাঝে মাঝে ঝুলানোর চেষ্টা করব দেঁতো হাসি আপাতত ঝুলানোর যোগ্যতা বা ইচ্ছা কোনটাই হয় নাই।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নসাহা লরুমকা এর ছবি

জটিলুন জটিলুন চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

(ধইন্যাঃ) ভাই কামরুল হাসান

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।