কতিপয় ট্রাডিশন ও একজন সাচ্চা আওয়ামী লীগার

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: শুক্র, ০৪/১১/২০১১ - ৭:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

২০০৭ এর ঘটনা। বিকেলে ক্লাস শেষ করে মধুর ক্যান্টিনের সামনে আসতেই মাসুমের সাথে দেখা। মাসুম আমার রুমমেট, মার্কেটিং-এ পড়ে। ও খুব উত্তেজিত, হাতে ইয়া মোটা এক লাঠি। আমাকে দেখেই বললো, কই ছিলি তুই?
ক্লাসে। কিন্তু তোর এ অবস্থা কেন?
তুইতো দেখি কোন খবরই রাখস না! শাহবাগে এক ছাত্র অ্যক্সিডেন্ট করছে। তাই গেলাম, গাড়ি টাড়ি ভাইঙ্গা আসলাম।
আমি অবাক হয়ে গেলাম। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন ছাত্র কেন গাড়ি ভাংচুর করবে এটা কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকলো না। একই রকম অবাক করা জিনিস দেখেছিলাম অন্য এক ঘটনায়। আমার হলের (সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, ঢাবি) ছাত্রদলের পাতি নেতাদের সাথে পলশীবাজারের ব্যাবসায়ীদের কথা কাটাকাটির জের ধরে ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে হামলা চালালো। হামলার সময় তারা কেউ কলা, কেউ মুরগী, কেই গরুরু সিনা, কেউ ছাগলের মাথা, কেউ কাচকি মাছ, কেউ পাটালি গুড় এভাবে যে যেটা পারলো লুট করে নিয়ে এলো! রাতে তা দিয়ে হলো দলীয় ভোজ সভা! এই জিনিসটা এখনো আমি মেলাতে পারি না। যে ছেলেটি এইচ এসসি পাস করে অনার্স পড়তে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলো তার বিচার বিবেচনাবোধ অন্যদের চাইতে উন্নত হবে এটাই আশা করা স্বাভাবিক। কিন্তু তারা যখন সমাজের অশিক্ষিত,সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর কাতারে যোগ দিয়ে অবুঝের মত আচরণ করে তখন অবাক লাগে বৈকি।

এইতো কিছুদিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের দাবীদাওয়া জানাতে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর করেছে! শিক্ষামন্ত্রী স্বয়ং তাদের হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পরশুর পত্রিকায় পড়লাম- নরসিংদী জ্বলছে। মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার জেরে ছাত্রলীগের ছেলেপেলে বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে এক হয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পত্রিকায় ছবি এসেছে জ্বলন্ত ট্রেন থেকে যাত্রীরা প্রাণভয়ে জানলা দিয়ে লাফিয়ে নামছে। কী ভয়ানক দৃশ্য! অথচ আমাদের দেশে এসব দৃশ্য খুবই সাধারণ। কদিন আগেও রাজধানীতে যাত্রীবোঝাই বাসে জামাতশিবিরের বেপরোয়া অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেখে আমরা হতবাক হয়েছি- একী একবিংশ শতাব্দী নাকী প্রাগৈতিহাসিক আমলের মগের মুল্লুক! যেন কিছু হলেই গাড়ি ভাংচুর, আগুন ধরিয়ে দেয়া, দোকানপাট লুট করা নাগরিকের বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের নায্য অধিকার! আমরা স্বীকার করি বা না করি এটা একটা ট্রাডিশনে দাঁড়িয়ে গেছে। কোন রাজনৈতিক দলকেই এই ধ্বংসাত্মক ট্রাডিশনের বিরুদ্ধে কিছু বলতে দেখি না। বরঞ্চ মিছিল হলেই দেখি নেতারা নির্দেশ দিচ্ছেন- জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো! আগুন জ্বালানো ছাড়া কি অন্যভাবে দাবী দাওয়া আদায় করা যায় না!

এরকমই আরেকটি ট্রাডিশন হলো বড় কোন অপরাধ ঘটলেই সবার আগে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো, তাদের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা। দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হবার পর এই ট্রাডিশনটি বন্ধ হবে বলে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় সবখানেই যাই ঘটুক না কেন, কেষ্ট ব্যাটাই চোর হয়ে ধরা পড়ে।আমি তখন অনার্স ফােইনালে পড়ি,আমার হলে সবার সামনেই ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারিতে খোকন ভাই মারা গেলেন। পুলিশ এসে চোখ কান বুজে চড়াও হলো ছাত্রলীগের ওপর। ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হলো,সরকারের ইশারায় পুলিশ তড়িৎ জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে ফেললো। সরকারি নেতারা মাইক লাগিয়ে বলা শুরু করলেন আওয়ামী লীগ নিজেরাই এটি ঘটিয়েছে। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ হলো। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো এতে বিএনপির হাত আছে। তেমনি ভাবে নরসিংদীর মেয়র নিহত হতে না হতেই ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হলো বিরোধী দলীয় সাংসদ খায়রুল কবির খোকন! অথচ নিহতের পরিবার এবং এলাকার মানুষের ভাষ্যমতে সম্ভাব্য অপরাধী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তারা সবাই সরকারী দলের এমপি, মন্ত্রী। এমনকী যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের মধ্যেও খোকনের নাম নেই। এখন কথা হলো নাম না আসা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সন্দেহের জোরেই যদি বিরোধী দলের একজন সাংসদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাওয়া হয় তবে যাদের নাম এসেছে তাদেরতো আরো আগে গ্রেপ্তার করা উচিত। কিন্তু আমরা জানি এটা কখনোই হবে না। এটাই আমাদের ট্রাডিশন- দেশের চেয়ে সরকারি দল সহস্রগুণ বড়। আর এই উধোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতাই আমাদের দেশের অপরাধীদের আরো শাক্তিশালী করে, সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে তারা আরো উচ্চতর অপরাধ করার লাইসেন্স পেয়ে যায়।

এই লাইসেন্স প্রাপ্তির জ্বলন্ত প্রমাণ নারায়নগঞ্জের শামীম ওসমান। মেয়র নির্বাচনে হারার পর গতকাল তিনি "চেঞ্জ ইমেজ, চেঞ্জ নারায়নগঞ্জ" শ্লোগান নিয়ে মাঠে নেমেছেন!এ নিয়ে তিনি এক কর্মীসভাও করেছেন http://www.youtube.com/watch?v=61Ot7LIwY9A&feature=player_embedded। সেখানে তিনি যেসব কথা বলেছেন, যেভাবে হুমকি ধামকি দিয়েছেন তাতে তার গডফাদার ইমেজ বেড়েছে বই কমেনি বলেই সবাই একমত হবেন। কিন্তু এতে তার কিছু আসে যায় না। কারণ সাধারণ মানুষ না থাকলেও দল তার পেছনে আছে। আর দল যখন ক্ষমতায় তখন তার সাত খুন মাফ। এ কারণেই তিনি নিজেকে সাচ্চা আওয়ামী লীগার ঘোষণা করতে দ্বিধা করেননি। আর শামীম ওসমানের মত মানুষেরা যখন সাচ্চা আওয়ামী লীগার ঘোষণা দিয়ে নিজের ইমেজ পাল্টাতে চান এবং দল এতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় না তখন দল তথা আওয়ামী লীগের ইমেজ নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হওয়া অমূলক লাগে না।

নিজেকে সাচ্চা হিসেবে জাহির করা নতুন কিছু নয়। জামাতের রাজাকারেরাও দাবী করেন তারা সাচ্চা দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা,তারেক রহমানও ছিলেন নতুন প্রজন্মের নির্ভেজাল সাচ্চা জাতীয়তাবাদী। এরকম খন্দোকার মুশতাকও ছিলেন সাচ্চা বঙ্গবন্ধু প্রেমিক। এবং ইতিহাস বলে এসব সাচ্চা লোকজনই দেশ এবং দলের বিপদ ডেকে এনেছেন, দলের দুর্দিনে গা বাঁচাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তারপরও রাজনৈতিক দলগুলোর শিক্ষা হয় না। এসব সাচ্চা নামধারী লোকজনকেই তারা জামাই আদর করে, নির্বাচনের নমিনেশন, সাপোর্ট দিয়ে মাথায় তোলে;এটাই আমাদের রাজনৈতিক ট্রাডিশন।

আমার মনে হয় যে ট্রাডিশনগুলোতে লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না সে ট্রাডিশনগুলো ভাঙ্গার সময় এসেছে। গাড়ি ভাংচুর জ্বালাও পোড়াও, বিরোধী দলের উপর নানা ছুতোয় দোষ চাপানো বা সাচ্চা সাইনবোর্ডধারী লোকজনকে প্রশ্রয় দেয়ার ট্রাডিশন আগে কোন এক কালে স্বাভাবিক লাগলেও জনগণের কাছে এখন তা মারাত্মক বিরক্তির বিষয়। শুধুমাত্র কিছু পুরোনো রাজনীতিবিদ ছাড়া আর সবাই জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো ধ্বংসাত্মক এই বৃত্ত থেকে বের হতে চায়, রাজনীতির পরিবর্তন চায়। নারায়নগঞ্জ নির্বাচনে আইভীর জয়লাভ কিন্তু এই ট্রাডিশন ভাঙ্গারই একটা ইঙ্গিত। সুরঞ্জিত সেনের মতে, আইভির এ বিজয় দেশের ৪০ বছরের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনবে। আমাদের আশা সেটাই। যে রাজনৈতিক দল যত তাড়াতাড়ি মানুষ তথা নতুন প্রজন্মের এই আশার সাথে তাল মিলিয়ে ট্রাডিশন ভেঙ্গে নতুন ট্রাডিশনের পথ দেখাতে পারবে সে দলই আগে লাভবান হবে।

তথ্যসূত্র:
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-04/news/199135
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-02/news/198688
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-02/news/198696
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-01/news/198430
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-04/news/199134
http://www.youtube.com/watch?v=61Ot7LIwY9A&feature=player_embedded

৪/১১/১১
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া


মন্তব্য

পিয়াল এর ছবি

১০০% সহমত । বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়য় ছাত্রদের নির্বিচারে গাড়ি ভাঙ্গা আর লুটপাট কোনোভাবেই মানতে পারিনা ।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

ধন্যবাদ।

মূর্তালা রামাত

তানজিম এর ছবি

নাসিক নির্বাচনের উপর নজরুল ভাইয়ের দেয়া পোস্টে বলেছিলাম, আওয়ামীলীগ ডাঃ আইভিকে জনপ্রিয় জেনেও শামিমকে মনোনয়ন দিয়েছিল হয়ত এই ভেবে,নির্বাচনে হেরে যেন তার তাফালিং বন্ধ হয়। কিন্তু নেত্রী যখন নির্বাচনের পর দুজনের মাথায়ই হাত বুলিয়ে দিলেন...তখন শামিমের পাঞ্জাবী খুলে জিন্স পরতে তো বেশি সময় লাগার কথা না।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

খারাপ বলেননি।

মূর্তালা রামাত

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সাচ্চা তার সাচ্চা রূপ প্রকাশ করে দিয়েছে।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

ধন্যবাদ।

মূর্তালা রামাত

তাপস শর্মা এর ছবি

আমার খুব বেশী ধারণা নেই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি নিয়ে। তবে পত্রিকায় এবং ওয়েবসাইটে যা দেখি তাতে শুধু এটুকুই বলতে পারি। কত ছোট একটা দেশ, সুন্দর সবুজ। এখানে মানুষের চাহিদা, মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে মাথা ঘামায় না কোন রাজনীতিক দল। অথচ ইচ্ছে করলেই দেশটাকে কত ভালো ভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। শুধু স্বদিচ্ছার প্রয়োজন। কবে আর বুঝবেন রাষ্ট্র পরিচালকরা ??

মূর্তালা রামাত এর ছবি

সেই স্বদিচ্ছাটাই আমাদের হচ্ছে না- এটাই চিন্তার বিষয়.....আপনাকে ধন্যবাদ।

মূর্তালা রামাত

দ্যা রিডার এর ছবি

ভাংচুর করলে / আগুন জ্বালালে শুধুমাত্র নিরীহ জনসাধারণের ক্ষতি এবং ভোগান্তি বাড়ানো ছাড়া আর কোন কাজ হয় না ... এই সাধারন সত্যটুকু প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্ররা কেন বুঝতে পারে না এটা আমারও বোধগম্য নয় । ছাত্রদের সচেতন হবার সময় কি এখনো আসেনি?
অ টঃ শামীম ওসমান এর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কারো কাছ থেকে একটি দায়িত্বশীল পোস্ট আশা করছি ।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

শামীম ওসমানের ব্যাকগ্রউন্ড জানতে আমিও আগ্রহী।

মূর্তালা রামাত

কল্যাণF এর ছবি

মন্তব্য করলে ধৃষ্টতা হয়ে যাবে, তাই লাইক করলাম।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

ধন্যবাদ।

মূর্তালা রামাত

তারেক অণু এর ছবি

বাস ভাঙচুরের এই ছবি দেখে এক ভিনদেশী বন্ধু বলল, আগুন লাগল কি করে! বললাম, উত্তর শুনে সে বলল, কিন্তু এউ ভাবে ভাঙচুর করলে তো নিজেদের সম্পদের ক্ষতি, তোমাদের টাকা দিয়েই তো আবার এগুলো আমদানি করতে হবে!
হা কপাল, এটাই যদি আমরা বুঝতাম।।

কল্যাণF এর ছবি

চলুক

মূর্তালা রামাত এর ছবি

সত্যিই, হা কপাল, এটাই যদি আমরা বুঝতাম।

মূর্তালা রামাত

guest_writter এর ছবি

আপনার লেখার সাথে একমত। আমি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কিন্তু তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কর্মকান্ড দেখলে আমি নিজেই আমার পরিচয় নিয়ে লজ্জিত হয়ে পড়ি.........

মূর্তালা রামাত এর ছবি

আমারও লজ্জা হয়...

মূর্তালা রামাত

রিম্মী এর ছবি

আমরা কোন সভ্যতায় দাঁড়িয়ে আছি? কি জাতি হিসেবে পরিচয় দিলে মানাবে আমাদের সাথে? লেখকের কাছে প্রশ্ন আমার।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

শামীম ওসমানের বক্তব্য নিয়ে প্রথম আলোর নিউজটা আমার কাছে বিরক্তিকর লেগেছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এরকম গরম গরম বক্তৃতা দেয়ার রেওয়াজ আছে। বিশেষ করে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর কর্মীদের মোটিভেট করার জন্য এরকম বক্তৃতা একজন হারু প্রার্থী দিতেই পারেন, এটা নতুন কিছু না।

প্রথম আলো সম্ভবত খবরটাকে কিছুটা টুইস্টও করেছে। আমি ভিডিওতে দেখলাম শামীম ওসমান দাবি করেছেন, তিনি সাংবাদিকদের মিষ্ট দিয়ে বলেছন, 'খান, খান'; কিন্তু প্রথম আলো এটাকে করেছেন 'খা' 'খা'। আমার কানে সমস্যা হয়েছে কি না বুঝতে পারছি না।

আমরা যেন রাজনৈতিক দানবদের প্রতিরোধের জিগির তুলে অন্য কোনো দানবের উত্থান পর্বকে পর্যবেক্ষণ থেকে বাদ না দেই।

সচল জাহিদ এর ছবি

আরিফ ভাই আমি আবারো শুনলাম। সে কিন্তু বলছে "খান, খা না তরা খা না'।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

বোবার চিতকার এর ছবি

শামীম ওসমান অনুগতদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনে হারার পরে সাংবাদিক সব্বাইরে ডাকাইয়া অপর পক্ষের হয়ে মিষ্টি খাওয়াইতে পারে কেউ? আমি সাংবাদিকদের মিষ্টি খাওয়াইছি, আমাগো বইন (আইভী) জিতছে দেইখা। কইছি—খা, খা না, তোরা খা না। তো, এইটা ব্রিটেনেও আজ পর্যন্ত হয় নাই।’

এই অংশটুকু পাবেন ভিডিও এর শুরুর ২২ সেকেন্ড থেকে ৪২-৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে। শামীম ওসমান বলছেন "খান, খান আপনারা খান"।

লিঙ্কঃ তথ্যসূত্রে দেওয়া শেষ লিঙ্কটি শুনুন।

সচল জাহিদ এর ছবি

আবারো শুনলাম। এবার মনে হচ্ছে উনি বলেছেন 'খান, খান আপনারা খান'। আসলে খুব দ্রুত বলায় শুনতে ওরকম লেগেছে। ধন্যবাদ।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

হারু পার্টি এরকম বক্তব্য দিতে পারে তা ঠিক আছে। কিন্তু তিনি যখন এমনভাবে হুমকি দেন যে জনগণ নিরাপত্তাহীন বোধ করে তখন বিষয়টি ব্যাক্তিগত থেকে সামগ্রিক হয়ে দাঁড়ায়। সেকারণেই শামীম ওসমানের বক্তব্য শুধু আর কর্মীসভার গরম বক্তব্য থাকে না।

অবশ্যই অন্য দানবের ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে, মাঝে মাঝে মনে থাকে না- মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

মূর্তালা রামাত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।