ভাতের থালায় বিষ

পথিক পরাণ এর ছবি
লিখেছেন পথিক পরাণ [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৬/০৯/২০১২ - ২:১৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার অপছন্দের তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। তার ভেতর বাজারের থলে হাতে বাড়ি ফেরা একটি। তবুও পথ পেরুতে গিয়ে কোন বাজারের গলি উপচে সবজিওয়ালার সবুজ বেচার হাতছানি আমায় অন্য অনেকের মতই সমান প্রলুব্ধ করে থাকে। মফঃস্বলের কাঁচা বাজারগুলো খুব সড়কমুখী। কাজেই চলতি পথে প্রায়ই কৃষকের ঝাঁপি আর টুকরীর ভেতর থেকে সতেজ লাউয়ের ডগা কিংবা পুঁই-কলমির ডাটা, চকচকে বেগুন আমায় ইশারা করে তুলে নিতে। আর শীতের দিন হলে এই বাজারগুলোই সাজানো থাকে লাল সবুজ নানান সুন্দরতম রঙ মেশানো শাকসবজিতে। একটা হয়ত টুকটুকে লাল শাকের ঝাঁপি। তার ঠিক পাশেই হালকা নরম হলুদ মাখানো ফুলকপি। ওপাশে একটা বাধাকপির স্তুপ পেরিয়ে বেগুনি শিরে মোড়ানো টাটকা হরিৎবর্ণ শিম। আমাদের বৈচিত্র্যময় সবজির তালিকাটি আরও দীর্ঘতর হতে পারে।

বাজারটা যেমন তেমন হোক না কেন। বাড়িতে সবার গিন্নীই একটু টাটকা সবজিটা হাড়িতে চাপাতে ইচ্ছে করেন। টাটকা সবজিতে পুষ্টি বেশি। কাজেই কেনার সময় সবাই আমরা বাজারে বেছে বেছে সবজি কিনি। সবুজ রঙিন আর টাটকা তাজা দেখে। পোকামাকড় লাগা দুর্বল সবজি কারুর বাড়ির চৌকাঠ মাড়ায় না সহজে।

আমাদের খুব টাটকা আর স্বাস্থ্যকর সবজির জোগান দিতে কৃষকদের মেহনত হয় ভীষণ। জমি তৈরি থেকে শুরু করে চারা বাড়িয়ে তোলা, গাছের যত্ন এসব ভীষণ ঝক্কির কাজ নিঃসন্দেহে। সবজি ক্ষেত অল্প বৃষ্টিতেই পচে যায়। ক্ষরায় আবার গাছ মরে যায়। নানান হ্যাপা। এর থেকেও বড় উৎপাত- পোকামাকড়ের আক্রমণ। আপনার দুপুরের খাবারের মজাদার ভাজির বেগুনটির কথাই ধরুন না কেন। এই বেগুনটিকে আপনার পাতে আসবার আগে অন্তত ১৫ প্রজাতির পোকা এবং অন্তত একটি প্রজাতির মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে। এখন আমার মত কোন বোকা বাঙালির মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে- রঙিন ভোলাভালা টাটকা এবং অতি সুস্বাদু (মানুষ এবং পত্রভোজী পোকা- উভয়ের জন্যই) এই বেগুন এবং অন্যান্য সবজীগুলো কি করে এইসব পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখে? উত্তরটি বেশ জটিল। এবং আমার বিচারে ভয়ংকর অশুভ এক পদ্ধতির ভেতর দিয়ে এই সবজিগুলো আমাদের পাতে উঠে আসছে।

ভালো ফসলের জন্য আবহাওয়ার পড়েই বোধ হয় বড় শত্রুটি হচ্ছে কীটপতঙ্গ। ফসলের কীটপতঙ্গ দমন করে বেশি উৎপাদন এবং ফসলকে স্বাস্থ্যকর দেখানোর জন্য কৃষকরা খুব সহজলভ্য কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যশোর অঞ্চলের অনেক কৃষক এক মৌসুমে বেগুন/ফসলে ৮৪ বার পর্যন্ত কীটনাশক ব্যবহার করে থাকেন। এই কীটনাশকগুলোর কোন কোনটি প্রাণীদেহ এবং পরিবেশের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর বিবেচিত হওয়ায় পৃথিবীর বহু দেশ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের সরল কৃষকগণ ঐ সব নিষিদ্ধ বা অধিক ক্ষতিকর কীটনাশকের দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন দিনদিন। কেননা ঐ কীটনাশকগুলো ফসলের ক্ষেতে খুব চমৎকার কাজ করে। অল্প ব্যবহারে অধিক লাভ। কীটনাশক মরে সাফ। ফসল হয় ভালো। দেখতে সতেজ আর টাটকা ঐ ফসল বাজারে দামও পায় ভালো। কৃষকতো সেদিকে ঝুঁকবেই। আর কৃষকদের এই ঝুঁকে পড়া দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সবজি ফল আর অন্যান্য খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ ও বর্জন করি প্রাকৃতিক নিয়মে। কৃষকের অজ্ঞতায় এই খাদ্যদ্রব্যের সাথে মেশানো কীটনাশকগুলো কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে বর্জন হচ্ছেনা শরীর থেকে। আর শরীরের ভেতর রয়ে যাওয়া সেসব রাসায়নিক উপাদান আমাদের গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।

২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের উপর বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশের বেশি কৃষক তাদের ফসল রক্ষার্থে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করে। বোরো ধান, আলু, শিম, বেগুন, বাঁধাকপি, আখ ও তামাক চাষীদের ওপর জরিপ চালিয়ে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

ওই প্রতিবেদনে খুব গুরুত্বপূর্ণ চারটি ফলাফল তুলে ধরে বলা হয়ঃ

ক। দেশের চার শতাংশেরও কম কৃষকের কীটনাশক ব্যবহার বা বালাই দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ রয়েছে।

খ। সাতাশি শতাংশেরও বেশি কৃষক স্বীকার করেন যে, কীটনাশক ব্যবহারের সময় তারা কোন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।

গ। কীটনাশক বিক্রেতারাই কৃষকের বড় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।

ঘ। কীটনাশক বিক্রেতাদের অন্তত ৫৪ ভাগের ভেতর কীটনাশকের বিষক্রিয়াজনিত তীব্র প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে।

কীটনাশকের যথেচ্ছ এবং অনিরাপদ ব্যবহারের ফলে কৃষকদের স্বাস্থ্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকির মধ্যে রয়েছে। হু-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে পৃথিবীব্যাপী অন্তত ১ থেকে ১০ মিলিয়ন কৃষক ও কৃষি শ্রমিক কীটনাশকজাত বিষক্রিয়ার শিকার। এর ভেতর প্রতি বছর অন্তত বিশ হাজার জন প্রতি বছর মৃত্যুবরণ করেন, যাদের অধিকাংশই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বাস করেন।

কীটনাশকের এই ভয়াবহতা আমাদের উপলব্ধিতে হয়ত আসেনি তেমন যতটা এসেছে পাঞ্জাবের কৃষক জারনেইল সিং-এর (Jarnail Singh) চেতনায়। তিনি বলছেন ৬০- ৭০ এর দশকে এই সমস্যাটি ছিল না। ভারতে সবুজ বিপ্লব শুরু হবার পর থেকেই বলা হচ্ছে- বেশি বেশি কীটনাশক ব্যবহার কর। বেশি আর ভালো ফসল ফলাও। বেশি কীটনাশক ব্যবহারে ফসল হয়তো বেড়েছে একটু। এর সাথে পাঞ্জাবের ভাতিন্ডা থেকে বাইকানের পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন চালু করতে হয়েছে। বিশেষ ট্রেনটি যাচ্ছে ক্রমবর্ধমান ক্যান্সারের রুগী নিয়ে। লোকে বলছে এটি ক্যান্সার ট্রেন- যা কিনা কীটনাশক পরোক্ষভাবে নিয়ে এসেছে।

কীটনাশক থেকেই যে ঐ এলাকায় কান্সারের এতটা বিস্তার ঘটেছে, হয়ত খুব জোর দিয়ে একথা বলার মত প্রমাণ এখনো হাতে নেই। কিন্তু পার্শ্ববর্তী কানপুর আই আই টি এর গবেষক ডঃ রাশমি সাংহির (Dr Rashmi Sanghi) গবেষণার তথ্যটি ভেবে দেখার মতো বৈকি। কানপুরের মহিলাদের বুকের দুধ পরীক্ষা করে তিনি এন্ডোসালফ্যান- নামীয় (endo sulphan) এক বিশেষ কীটনাশকের উপস্থিতি টের পান। তিনি দেখেন ঐ এলাকার মহিলাদের বুকের দুধে স্বাভাবিক মাত্রার থেকে ৮০০% বেশি এন্ডোসালফেন রয়েছে। এই এন্ডোসালফেন এলো কোথা থেকে? এরপর বেড়িয়ে এলো এক ভয়ংকর তথ্য।

কেরালা রাজ্যের কাসারগুড এলাকায় বিপুল কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যে কীট দমনে প্রায় ২৫ বছর ধরে হেলিকপ্টারের সাহায্যে ক্ষেতে এন্ডোসালফেন ছিটানো হয়েছে। এই ক্ষতিকর কীটনাশকটি বাতাসে, মাটিতে এবং ফসলের ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে প্রবেশ করেছে মানুষের শরীরে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার মত ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি
আমির খান

তাঁর সাম্প্রতিক সাড়া জাগানো ধারাবাহিক সত্যমেভ জয়েতে (Satyamev Jayate) এর অষ্টম পর্বে বিপুল তথ্যসহযোগে চমকপ্রদভাবে তুলে ধরেছেন।

আমাদের দেশের কীটনাশকজাত বিষক্রিয়ার পরিস্থিতি এর থেকে ভালো নয় মোটেও। দেশে বর্তমানে অন্তত ১২৩ ধরনের কীটনাশক ১৩৯০টি বাণিজ্যিকি নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। পেস্টিসাইড নিয়ম না মানায় প্রতিবছরই বিভিন্ন কীটনাশক বাজারজাত প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হচ্ছে। এই কীটনাশকগুলোর মধ্যে অনেকগুলো এতটাই ক্ষতিকর যে পানিতে বাঁ শরীরে প্রবেশের পর এগুলো এক থেকে পনের বছর পর্যন্ত বিদ্যমান থাকতে পারে। আর কীটনাশকযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে থেকে যাওয়া বিষক্রিয়ায় এই সময়ে শারীরিক প্রক্রিয়ায় পরিপাকতন্ত্র ও যকৃতে জটিলতা, বৃক্কে স্থায়ী সমস্যা, প্রেসার, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম ও প্রজনন প্রক্রিয়ার সমস্যা সৃষ্টিসহ জটিল দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে।

জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলাফল কি হচ্ছে?

ব্যাপক কীটনাশক প্রয়োগে কৃষক সাময়িক কিছুটা সুফল পাচ্ছে হয়ত। কিন্তু এর কুফল সুদূরপ্রসারি। কীটনাশক ব্যবহারে কেবল অপকারী কীটই মারা পড়ছে না। কীট সমাজে দুই ধরণের কীট আছে। কতক কীট কেবল ফসলের পাতা/ ফল খায়। আবার কতক কীট সবজি পাতা ইত্যাদি খায় না। এরা বরং পত্রভোগী কীটদের ভক্ষণ করে। এখন কীটনাশক বব্যহারের ফলে নির্বিচারে দুই প্রকার কীটই মারা যাচ্ছে। আবার এই কীটপতঙ্গ খেয়ে আরও কতগুলো জীব বেঁচে থাকে। যেমন পাখি, সাপ, ব্যাঙ ইত্যাদি। কীটপতঙ্গ দূর করার জন্য ব্যবহৃত বিষক্রিয়ায় এই জীবগুলোও কিন্তু মরে যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খলে ব্যপক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

আবার একটা ক্ষেতে কীটনাশক ছোড়া হলে সব কীট মারা যায় না। যেগুলো দুর্বল, সেগুলো প্রথমে মারা যায়। শক্তিশালীগুলো আরও প্রতিরোধ শক্তি অর্জন করে। এভাবে একটা সময় কৃষক দেখে আগের ব্যবহার করা কীটনাশক কাজ করছে না। ফলে তাঁকে আরও শক্তিশালী (নাকি অধিক ভয়ংকর ও ক্ষতিকর?) কীটনাশকের খোঁজ দি সার্চ করতে হয়। আরও শক্তিশালী কীটনাশক মানে প্রকারান্তরে প্রাণী দেহের উপর আরও অধিক ক্ষতিকর প্রভাব পড়া।

শুধু কি এই? নব্বইয়ের দশকে আমরা যারা বেড়ে উঠেছি, তাঁদের হয়ত মনে পড়তে পারে। সেসময় গ্রামে ধানক্ষেতগুলো কি বিপুল মাছের আড়ত ছিল! সবুজ বিপ্লব সেই দেশি মাছের সব প্রজাতি আজ বিলুপ্তপ্রায় করে তুলেছে। ১৯৯২ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন বলছে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার আমাদের মাছের উৎপাদন প্রজননকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জনাব আলাউদ্দিন আহমেদ (Alauddin et al. (1995, p. 242) তাঁর এক নিবন্ধে দেখিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের শেষে চট্টগ্রাম আর নেত্রকোনা জেলায় ধানক্ষেতে মাছের উৎপাদন ৬০-৭৫ ভাগ কমিয়ে ফেলেছে। আমি চোখ বন্ধ করে সেসময় সারা দেশে ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়া মড়ক লাগা মাছের চেহারাটি দেখতে পাচ্ছি।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮,০০০ মে.ট. কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে অধিক ফলনের জন্য। কৃষি জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের আনুমানিক শতকরা ২৫ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ২,০০০ মে.ট. বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিকটবর্তী উন্মুক্ত জলাশয়ে মিশছে। কৃষি জমিতে এত ব্যাপক পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জলজ জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণের হুমকি সৃষ্টিসহ পরিবেশের উপর নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

একজন সম্পন্ন কৃষক তাঁর ক্ষেতে যথেচ্ছ কীটনাশক ব্যবহার করছেন। কিন্তু নিজ পরিবারের খাবারের জন্য রাখা ফসলে তিনি খুব সচেতনভাবেই কীটনাশক ব্যবহার করছেন না। ব্যক্তিগতভাবে অনেক আম, লিচু, সবজি আর অন্যান্য ফসলের চাষিদের থেকে এই তথ্যটি আমি জেনেছি। যে ফসল তারা নিজেরা খেতে সাহস করেন না, তা অনায়াসে সাধারণ মানুষের জন্য নির্দ্বিধায় বাজারে বেচে দিয়ে আসছেন।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে- কীটনাশক ছাড়া ফসল ফলানো কি সম্ভব?

সিকিম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পওয়ন চামলিং ভীষণ আশার কথা বলছেন। তাঁর মতে কীটনাশক বিহীন জৈবিক চাষ পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বাড়বে। ভূমির উৎপাদনশীলতা অটুট থাকবে। জৈবিক উপায়ে উৎপাদিত এই ফসলের চাহিদা বেশি। কাজেই কৃষক দামও পাবে বেশি। সিকিম রাজ্য কীটনাশক পরিত্যাগের এই দুরূহ পথে এলো কি করে? তথ্য বলছে, প্রথমে সরকার রসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে। তবে সরকার কেবল কীটনাশক নিষিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি। একই সাথে রাজ্যের কৃষি বিভাগ কৃষকদের শিক্ষা দিয়েছেন কি করে জৈবিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।

সিকিম সরকার আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে সিকিমকে একটি ‘অর্গানিক স্টেট’ হিসেবে পরিচিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

এলক্ষ্যে পৃথিবীব্যপী অনেকেই কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডঃ জি ভি রামাঞ্জন ইয়েলু (Dr. G V Ramanjaneyulu)। অন্ধ্র প্রদেশে কৃষি নিয়ে গবেষণা করার সময় সেখানে তিনি একদল মহিলার দেখা পান। এই মহিলাদের সমিতির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন গ্রামের মহিলারা ফসলের ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহারের পরিনতি নিয়ে ভাবছেন। তাছাড়া কীটনাশক ব্যবহার বেশ খরচ সাপেক্ষ। এর ব্যবহারে স্বাস্থ্য সমস্যা ধরা পড়ছে।

সেসময় তিনি কৃষির জৈবিক ফলন নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজেই গ্রামের মহিলাদের চিন্তার সাথে মিলে যাওয়ায় তিনি জৈবিক চাষের উপায় এবং এর সুফল খুঁজতে মনোযোগ দিলেন। আর তার ফল মিলল খুব দ্রুত। তিনি দেখলেন, ফসলের কীট সমস্যা নয়। বরং কীটনাশকই সমস্যা। ১০০০ একর আয়তনের একটি গ্রামে কীটনাশক বাবদ ২৫ লাখ রুপী খরচ হয়। কাজেই তিনি বিকল্প উপায়ে কীট দমনের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন।

প্রথম বছর ২৫ হাজার কৃষককে তিনি এবিষয়ে পরামর্শ দেন। তিন বছরের মাথায় অন্তত দুই লাখ কৃষক কীট দমনে জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহী হয়ে উঠে। তিনি আরও তথ্য যোগ করে বলেন বিহারে ২০১১ সালে জৈবিক পদ্ধতিতে চাষ করা আলু উৎপাদনে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। জৈবিক পদ্ধতিতে কার্পাস চাষ করে বিশ্ব শ্রেষ্ঠ হয়েছে বিহার।

আমাদের দেশে কি জৈবিক কৃষি চালু সম্ভব?

আমরা হয়ত সিকিমের মত এতো দ্রুত অর্গানিক স্টেট হবার স্বপ্ন দেখতে পারিনা। তবে পঞ্চগড় ভ্রমণকারী যে কেউ হয়ত কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট-এর কথা স্মরণ করতে পারবেন। এই চা বাগানটিতে কোন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়না। এর চায়ের চাহিদা বিশ্বজোড়া। পঞ্চগড়ের চা বাগানটি জৈবিক চাষ পদ্ধতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

আমাদের কৃষি বিভাগ বলছে, পোকামাকড়ের হাত থেকে ফল ও ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক প্রয়োগের আগে সমন্বিত বালাই দমনের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পদ্ধতি রয়েছে। এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করলে অবশ্যই পোকামাকড় দমন সম্ভব। নিম, নিশিন্দা, বিষকাটালী, মেহগনিসহ প্রায় ৮০টি কীটবিনাশী গাছপালা দিয়ে কীটনাশক তৈরি ও তা ব্যবহার করে ফসলের বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিভিন্ন দ্রব্য যেমন চুন, লবণ, চিনি, গোমূত্র, গোবর দিয়ে বালাই দমন করা যায়। ফাঁদ পেতেও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে খেয়াল রাখতে হবে, উপকারী ও কৃষিবান্ধব পোকামাকড় যাতে ধ্বংস না হয়। সমন্বিত বালাই দমন পদ্ধতিতে ফল ও ফসলের গুণমান ও স্বাদও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (Integrated Pest Management (IPM))

কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক এবং ভোক্তার জন্য কম ক্ষতিকর এমন দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা আজ সময়ের দাবী। বিজ্ঞানীদের মতে একাধিক দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা নামে পরিচিত। সম্প্রতি বাংলাদেশে বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের জন্য অত্যন্ত সহজ, কার্যকরী এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয় সম্পন্ন সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সুপারিশ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি কতোগুলো পরস্পর পরিপূরক উদ্যোগের একটি উপযুক্ত সমন্বয়-

১. সহনশীল জাতের চাষ।

কৃষি খামারগুলোতে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা করে বেশ কিছু ফসলের সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফসলের এইজাতগুলো ব্যবহার করলে বেশ কিছু পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করা সম্ভব।

২. পোকার আক্রমণমুক্ত চারা ব্যবহার।

পোকায় আক্রান্ত চারা রোপণ করলে সারা মাঠে পোকা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। চারায় পোকার আক্রমণের লক্ষণ দেখা গেলে সে চারা রোপণ না করাই ভালো।

৩. সুষম সার ব্যবহার :

ফসলের ক্ষেতে সুষম সার ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশের চাষিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেবল ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। এই সারের ব্যবহার আবার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এতে ফসলের গাছ নরম হয়ে যায় এবং পোকামাকড় দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়। কাজেই পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করতে হলে জমিতে সঠিক মাত্রায় সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। ফসলের ভিত্তিতে জৈব সার, সবুজ সার, কেঁচো সার ইত্যাদি ব্যবহারে সুফল পাওয়া যায়।

৪. শস্যপর্যায় অনুসরণ করা :

বছরের পর বছর একই জমিতে একই ফসল চাষ করলে ওই জমিতে পোকার জীবনচক্রের বিভিন্ন স্তর থেকে যায়। ফলে এ পোকা দমন কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই শস্যপর্যায় অনুসরণ করলে অর্থাৎ একই জমিতে বারবার একই ফসল চাষ না করে মাঝে মধ্যে অন্য ফসল চাষ করলে পোকার জীবনচক্র ব্যাহত হয় এবং পোকার আক্রমণ অনেক কমে যায়।

৬. পোকা আক্রান্ত ডগা ও ফল ধ্বংস করা ও মাটিতে পুঁতে ফেলা।

৭. সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা :

পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করার জন্য স্ত্রী মথ এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে যা সেক্স ফেরোমন নামে পরিচিত। সেক্স ফেরোমন প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ। তাই এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। মাত্র ২৫ টাকায় একটি সেক্স ফেরোমন ফাঁদ কিনে তাতে কৃত্তিম ফেরোমন ব্যবহার করে খুব সহজে পোকা দমন সম্ভব।

৮. কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করে প্রাকৃতিক শত্রু সংরক্ষণ ইত্যাদি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ফসলের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার বেশ কয়েকটি পরজীবী ও পরভোজী পোকা শনাক্ত করা হয়েছে। জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ রাখলে এসব পরজীবী পোকা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে এবং ফসলের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার কীড়া ধ্বংস করে থাকে। কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করলে কেবল এসব পরজীবীই নয় বরং আরো অনেক পরজীবী ও পরভোজী পোকামাকড় যেমন- ম্যানটিড, ইয়ার উইগ, লেডি বিটল, মাকড়সা এসবের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে থাকে। এরাই তখন প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে সাবাড় করে ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।

==================================================================

রাজস্থানের মনপুরা গ্রামের হুকুমচান্দ পাতিধর (Hukumchand Patidhar) ৮ বছর জৈবিক কৃষি কাজ চালাচ্ছেন। জৈবিক চাষ শুরু করার প্রথম বছর তাঁর ফসল কিছুটা কম হয়েছিল। তবে তিনি ঘাবড়ে যান নি। পরের বছর বসুমতি তাঁকে ক্ষতি পুশিয়ে দেন। কীটনাশক ব্যবহার ত্যাগ করে জৈবিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অতি সফল হুকুমচান্দের উক্তি দিয়ে শেষ করছি।

তিনি বলেছেন- মানুষের জীবনীশক্তি আছে। তেমনি ধরিত্রীরও জীবনীশক্তি আছে। কীটনাশক ধরিত্রীর এই জীবনীশক্তি কমিয়ে দেয়। আমরা যদি ধরিত্রীর জীবনীশক্তি আমাদের পরের প্রজন্মের জন্য অটুট রাখতে চাই- তবে যেন জৈবিক চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল ফলাই।

দোহাইঃ
১। উইকিপিডিয়া
২। সত্যমেভ জয়েতে
৩। বিশ্বব্যাংক
৪। কৃষি তথ্য সেবা
৫। জৈবিক চাষাবাদ

দায়মুক্তিঃ আমি কৃষিকাজ জানিনা মোটেও। এমনকি একটা নিরীহ মাছি মারবার নতুন উপায় বের করবার মতন ন্যূনতম বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিও আমার নেই। কাজেই এই পাতায় ভুলত্রুটি ক্ষমার্হ।


মন্তব্য

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

খুব খুব প্রয়োজনীয় লেখা। এবং সেরকমই চমৎকার লেখনী।
এই বিষয়ে রাষ্ট্রের সব শক্তি প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকে খুন করতে পারিনা।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

পথিক পরাণ এর ছবি

ঠিক বলেছেন অনার্য দা।
তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা নিয়ে আসাটা সবচেয়ে জরুরী। ধন্যবাদ।

কড়িকাঠুরে এর ছবি

দারুণ লিখেছেন- সহজ ভাষায় । যদিও বিষয়টা ঐরকম না মোটেই ।

চোখের সামনে এক ফসলি জমি এখন দু'বার-তিন'বার ফসল ফলায় । ফলন নিশ্চিত করতে চাষী ক্ষেতে কীটনাশক ছিঁটিয়ে যায়, নিজেকে কোনরূপ নিরাপদ অবস্থায় না রেখে । এই কীটনাশক এর দরুন ক্ষেতের পুঁটি-টেংরা-দারকিনার কথা আজ স্বপ্নের মত শোনায় বা বাবা-দাদা'দের কাছে শোনা বোয়াল-গজার তো আমাদের কাছেও অবিশ্বাস্য ছিল ।

ধন্যবাদ লেখাটির জন্য । উত্তম জাঝা!

পথিক পরাণ এর ছবি

পরিবেশ আমাদের রক্ষা করে। বাঁচিয়ে রাখে। আমরা পরিবেশকে মেরে ফেলতে নিলে তার ফলটিও তেমনই তো হবে।
মন্তব্যর জন্য ধন্যাবাদ।

সত্যপীর এর ছবি

চমত্কার পোস্ট. এ ব্যাপারে আরো লেখা আশা করছি আপনার কাছ থেকে.

..................................................................
#Banshibir.

পথিক পরাণ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ পীরভাই।

মাজহার এর ছবি

প্রাঞ্জল

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কালো কাক এর ছবি

চলুক

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

শামীম এর ছবি

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল লেখা চলুক

কিছুদিন আগে একটা প্রাকৃতিক পদ্ধতির কথা জেনেছিলাম, যেটা জাপানী এক মহিলা যশোরে কৃষকদের শিখাতে এসেছিলো ---- এই পদ্ধতিতে জমির আইলে গাঁদা বা অন্য ফুলের গাছ লাগানো হয়। বেশ কিছু পোকামাকড় এতে ফসলে না গিয়ে ফুলের গাছে চলে যায় (ডাইভারশন?)। ইদানিং দেখি ক্ষেতের মাঝে কিছু জায়গায় গাছের ডাল পুতে দিয়ে পোকা শিকারী পাখিদের বসার জায়গা করে দেয়া হয়।

পানিতে বা অন্য কোনো নমুনাতে কীটনাশকের উপস্থিতি প্রমাণ করার জন্য পরীক্ষা করার ব্যবস্থা দেশের কোথায় আছে জানতে ইচ্ছুক।

লেখা শেষের লিংকগুলো দেখতে হবে। হাততালি

অনুচ্ছেদ ৪ --> পড়েই = পরেই; WHO কে "হু' না লেখাই ঠিক। লেখক অতিথি হওয়াতে মডুদের অনুরোধ করবো সংশোধনের জন্য।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

পথিক পরাণ এর ছবি

ক্ষেতের মাঝখানে ডাল পুঁতে পাখিদের বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে পতঙ্গ শিকারের উপায়টি বেশ পুরনো এবং কার্যকরী। একে মনে হয় পার্চিং বলে।

পানিতে কীটনাশকের উপস্থিতির তথ্যটি একটা লিংক থেকে পেয়েছি। ওরা ঠিক কি উপায়ে এটি বের করেছে, এই তথ্যটি বলা নেই।

মূল্যবান সংশোধনী এবং পাঠ প্রতিক্রিয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

নাশতারান এর ছবি

জরুরি লেখা, চমৎকার উপস্থাপন।

ছোট্ট একটা সংশোধন আছে। "কীটনাশক মরে সাফ"-এর জায়গায় "কীটপতঙ্গ মরে সাফ" হবে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

পথিক পরাণ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ বুনো দি।

''পতঙ্গ'' কে ''নাশক'' দিয়ে প্রতিস্থাপিত করে তো পুরো অর্থটাই বদলে দিয়েছিলাম। সংশোধনীর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

পথিক পুরাণ

বেশ সময়োপযোগী লেখা। আমাদের কৃষি অধিদপ্তর এ ব্যাপারে মাঠ পর্জায়ে আন্তরিক হয়ে কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেই কেবল আমরা এ বিষের হাত থেকে রক্ষা পাব। বেসরকারি উদ্যোগে মোবাইল সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে পারে অনলাইনসহ ইউনিয়ন পর্জায়ে কৃষি সেবা কেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে। তাহলে সহজেই কৃষকেরা যেকোনো কীটপতঙ্গ দমনের ব্যাপারে অনলাইনভিত্তিক সেবা গ্রহণের সুফল পাবে।
ব্যক্তি উদ্যোগে শাইখ সিরাজ তাঁর "হৃদয়ে মাটি ও মানুষ" অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষকদের এ ব্যাপারে সচেতন করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বৃহৎ পরিসরে সফলতার জন্য সরকারি উদ্যোগের আসলেই কোন বিকল্প নেই।

নির্ঝরা শ্রাবণ

পথিক পরাণ এর ছবি

ঠিক বলেছেন। এবিষয়ে কিছু কিছু কাজ হয়ত হচ্ছে। তবে ব্যপক পরিসরে সমন্বয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

অস্‍বাভাবিক এর ছবি

চম‍‌ৎকার এব‌ং প্রয়োজনীয় লেখা । হাততালি

পথিক পরাণ এর ছবি

ধন্যবাদ।

আইলসা এর ছবি

ভালো লেখা। ছোট বেলা কিশোর পত্রিকায় বা কোন অন্য কোথাও "ডু নাথিং" টাইপের একটা কৃষি ব্যবস্থার কথা পড়ছিলাম। পুরাটা মনে নাই। কিন্তু আইডিয়া ছিল- ফসলের বীজ ছড়াইয়া দেয়া হবে, কীট-পতঙ্গ মারা জন্য কি একটা পাখি পালতে হবে আর আগাছা না কেটে জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে।" ওইটা পড়ে আমার কৃষিকাজ করার খুবই হইছিলো।

দেখি কোন এক সুন্দর সকালে ঘোড়ার ডিমের লাইফকে লাথি মেরে কৃষিকাজের জীবনে ফিরে যাবো।...

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনার লাথি মারার স্বপ্নটি সফল হউক-- আমেন।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

প্রশ্নটা যদি এমন হয় কীটনাশক ছাড়া ফসল উৎপাদন করা যাবে কিনা, তাহলে উত্তরটা হবে, এখনো না। এখানে ফসল উৎপাদন বলতে জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদনের কথা বোঝানো হচ্ছে। জৈব কৃষি (যেমন, কাজী’স ফার্ম) বা নয়া কৃষি (যেমন, শস্য প্রবর্তনা) জাতীয় ধারণাগুলো জাতীয় পর্যায়ের বিপুল পরিমাণ উৎপাদনের জন্য লাগসই ও টেকসই এমনটি এখনো প্রমাণিত নয়। ছয় লাখ লোকের দেশ সিকিমের প্রাক্কলিত সাফল্য দিয়ে আঠারো কোটি লোকের দেশ বাংলাদেশে প্রয়োগ সম্ভব নয়। তাছাড়া এই ধরনের ব্যবস্থায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় কী পরিমান বাড়ে ও ফলনের হার কী পরিমাণ কম হয় সেগুলো সাধারণত বলা হয় না। কাজী’স ফার্ম বা শস্য প্রবর্তনার পণ্যের দাম বাজারে প্রাপ্য একই প্রকার অন্য পণ্যের চেয়ে দেড়গুণ, দ্বিগুণ বেশি। কীটনাশক ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে এখনো ঢেড় দেরি আছে, তবে তার মানে এই না যে তার ব্যবহারের হার হ্রাস করা যাবে না। জীবন বাঁচাতে তাই কীটনাশক ব্যবহারের হার হ্রাস করণের পথে হাঁটাটাই শ্রেয়।

বাংলাদেশে কীটনাশক আমদানীকারক, বিক্রেতা, বিক্রয় প্রতিনিধি, ব্যবহারকারী - এদের খুব কম জনেরই কীটনাশক হ্যান্ডেলিং ও প্রয়োগের ব্যাপারে যথাযথ জ্ঞান আছে। কীটনাশক কী মাত্রায় দিতে হবে, কনসেনট্রেশন কেমন হবে, ঠিক কোন সময়ে দিতে হবে, কখন একেবারেই দেয়া যাবে না এগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা বহুজাতিক কোম্পানীর অনেক বিপনন কর্মকর্তারও নেই (কথাটা আন্দাজে বলছি না, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে)। কেউ জানতে চাইলে বেশিরভাগ সময়ে তারা কীটনাশকের সাথে দেয়া লিফলেট/লিটারেচারকে রেফার করেন। সেই লিটারেচারে আসলে কতটুকু বা কতদূর কী লেখা আছে সেটা খুব কম জন জানেন। সেটা যথেষ্ট কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে। ক্ষুদে ক্ষুদে অক্ষরের ইংরেজীতে বা বিকট ধরনের বাংলায় (user manual = উপভোক্তার মার্গদর্শী) যা লেখা হয় সেটা আবার কতোজন বুঝতে পারেন সেটাও একটা জিজ্ঞাস্য। কীটনাশকের উৎপাদক, আমদানীকারক, বিক্রেতা, বিপনন ও বিক্রয় কর্মকর্তা শুধু জানেন আরো বেশি বেশি কীটনাশক বিক্রি করতে হবে - তাতে আরো বেশি লাভ ঘরে আসবে। তাতে জীবজগত উজাড় হলেও ক্ষতি নেই।

কীটনাশক ব্যবহারসংক্রান্ত ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করা দূরে থাক সচেতনতা তৈরি করা যে দরকার সে বোধও খুব কম মানুষের/সংস্থার আছে। কীটনাশকের ব্যবসায় উৎপাদনকারীদের লাভের হার সম্ভবত খুবই বেশি। তাদেরকে ‘ফাও’ খাতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে দেখা যায় তাতে অনেকের মুখ কেন আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায় তার উত্তর মেলে।

ডাইক্লোফেনাকের অতিরিক্ত ব্যবহারে শকুন বিলুপ্ত হয়ে যাবার কথা সচলেই একাধিকবার আলোচিত হয়েছে। বৃষ্টি বা বন্যার পানিতে ফুরাডান-নগজ-ডাইমেক্রন-ডায়াজিনন-পাদান-এলকান-বাসুডিন ধুয়ে গিয়ে ধানক্ষেত বা তদসংলগ্ন পুকুর-খাল-বিলের পানিতে মিশে গত পঁয়ত্রিশ বছরে বৌরাণী, চেলি, উড়ুক্কু খল্লা, তারা বাইম, গুত্তুম, রাগা, চ্যাঙ টাকি, কানি পাবদা, মধু পাবদা, বালিচাটা, পাথরচাটা, দাঁড়কানা, তিতপুঁটি, কাশপুঁটি, খলসেপুঁটি, বজরী’র মতো কতোগুলি দেশি মাছের প্রজাতিকে বিলুপ্ত করেছে তার ইয়ত্ত্বা নেই। সেই সাথে পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ, ক্ষেতের পতঙ্গ বা অগভীর পানির মৎস্যভূক পাখির কতগুলো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে তার খবরই বা কে রাখে! তবে যতদূর জানি, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া কৈ-শিং-মাগুর-টাকি-শোল-গজার-বোয়াল-আইড়-পাঙ্গাস-এর মতো মাছের ত্বকের রোগটির জন্য কীটনাশক দায়ী নয়।

সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ধারণাটি ভালো, কিন্তু অঞ্চলভেদে, মাটিভেদে, জমিভেদে, আবহাওয়াভেদে, বাজেটভেদে এটির বাস্তব কর্মপরিকল্পনাটি কী হবে সেটি কিন্তু কোন সংস্থা ঠিক করে দিচ্ছে না। ফলে ব্যাপারটা বাংলাদেশে এখনো একটা কেতাবী বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা মিডিয়ার সহযোগিতা নিয়ে এটিকে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে না পারলে বিষয়টি কখনোই হালে পানি পাবে না। তাছাড়া এই ধরনের ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন ব্যয় ও ফলনের হারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে হবে।

আপাতত এইটুকে বললাম। পরে আর কিছু মনে পড়লে জানিয়ে যাবো।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ক্লোন৯৯ এর ছবি

এই মন্তব্যে একমত।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া কৈ-শিং-মাগুর-টাকি-শোল-গজার-বোয়াল-আইড়-পাঙ্গাস-এর মতো মাছের ত্বকের রোগটির জন্য কীটনাশক দায়ী নয়।

ইয়েস!! সেটা হয়েছিল খুব সম্ভবত এরোমোনাস (Aeromonas) নামক এক ব্যাকটেরিয়ার জন্য।

পথিক পরাণ এর ছবি

ধন্যবাদ ক্লোন ভাই।

রংতুলি এর ছবি

চলুক

পথিক পরাণ এর ছবি

অসাধারণ গুরুত্বপুর্ণ সংযোজন পান্ডব দা।

১।
গতকাল মন্তব্য করতে গিয়ে ব্লকড হয়ে গিয়েছিলাম কেন যেন। আজ আবার লিখতে হল।

প্রশ্নটা যদি এমন হয় কীটনাশক ছাড়া ফসল উৎপাদন করা যাবে কিনা, তাহলে উত্তরটা হবে, এখনো না।

সহমত। আমাদের জনসংখ্যা, ফসলের চাহিদা, জমির আয়তন, কৃষকের সচেতনতা, সর্বোপরি সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা - সবদিক বিবেচনায় কীটনাশক ছাড়া ব্যপক আকারে ফসল উৎপাদন এখনো সম্ভব নয়।

কীটনাশক বিহীন জৈব উপায়ে উৎপাদিত ফসলের দাম একটু বেশি। জৈব উপায়ে উৎপাদিত ফসলের মান ভাল। এই ধরণের পণ্যর উৎপাদন কম- কিন্তু সে তুলনায় চাহিদা বেশি। ভালমানের পণ্য কেনার জন্য মানুষ একটু বেশি অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত থাকে। উৎপাদনকারীরাও এই সুযোগটি নেয় বলে মনে হয়। অন্যদিকে কীটনাশক বিহীন পণ্য অধিক উৎপাদিত হলে ধারণা করা যায় চাহিদা যোগানের অনুপাতে কিছুটা ভারসাম্য এলে এই দামটি কমে আসবে।

পথিক পরাণ এর ছবি

২। আমির খানের অনুষ্ঠানটিতে ভারতের বৃহত্তম কীটনাশক কোম্পানি ইউনাইটেড পেস্টিসাইডের কর্মকর্তা রাজু স্রফ ঠিক এই ভাষাতেই কথা বলছিলেন। তিনি বলছিলেন যে কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করলে ফসলের উৎপাদন কমে যাবে। কৃষক মারা পড়বে। কীটনাশক ক্ষতিকর নয় ইত্যাদি। অথচ তার একজন ভাই জৈব উৎপাদন পদ্ধতিতে তুলা চাষ করে ভারতের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

৩। চলুক

৪।

তবে যতদূর জানি, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া কৈ-শিং-মাগুর-টাকি-শোল-গজার-বোয়াল-আইড়-পাঙ্গাস-এর মতো মাছের ত্বকের রোগটির জন্য কীটনাশক দায়ী নয়।

বুঝতে পারছি। আমার ধারণাটি ভুল ছিল। সংশোধনের জন্য ধন্যবাদ।

পথিক পরাণ এর ছবি

৫। আমাদের কৃষি মৎস্য ইত্যাদি বিভাগের কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কম বলেই জানি। মৎস্য বিভাগ যে উপায়ে মাছ চাষ করতে বলে, কৃষি বিভাগ যে উপায়ে কলাগাছ রোপন করে সার দিতে বলে - সে বিষয়ে কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা খুবই আলাদা। কৃষকরা বরং নিজেদের চাষের জন্য ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন চেষ্টা করে একটা উপায় নির্ধারণ করেছেন। তারা সহজে সেই উপায় থেকে সরে আসেন না। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাগণও এবিষয়ে উৎসাহব্যঞ্জক কিছু তাঁদের দেখাতে ব্যর্থ হন।

অঞ্চলভেদে, মাটিভেদে চাষ পদ্ধতি খুবই আলাদা রূপ পরিগ্রহ করে নিঃসন্দেহে। আমাদের উত্তর আর দক্ষিণের জনপদের ফসলের ধরণ ও চাষ পদ্ধতি বেশ আলাদা। এমনকি এসব এলাকার কীট পতঙ্গের ধরণেও বেশ পার্থক্য আছে মনে হয়। কাজেই একটি সরলীকৃত ব্যবস্থাপত্র দিয়ে সব এলাকায় সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা চালু করা সম্ভব নয়। এবিষয়ে এলাকাভিত্তিক পৃথক পৃথক নিবিড় গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে বালাই ব্যবস্থাপনারএকটা জাতীয় রূপরেখা তৈরি করা ভীষণ জরুরী।

কৃষি বিভাগের কিছু কিছু কর্মী এবিষয়ে ভালো কাজ করছেন। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় এবং সাধারণ প্রান্তিক চাষিদের চাহিদা ও সমস্যার সাথে তাঁদের যোগাযোগ বেশ কম। ফলে তাঁদের অঞ্চলভিত্তিক কাজের সাফল্য সাধারণ মানুষের জানার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

আপনার থেকে আরও কিছু মূল্যবান সংযোজনের অপেক্ষা করছি।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

এই লেখাটি কপি করে আজই আমার গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছি। সেখানে আমার চাচা গ্রামের কৃষকদের সমবেত করে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেবেন।

আর কি কি করে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে আমরা সবাই কমবেশী ভুমিকা রাখতে পারি সে বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত চাইছি।

লেখককে অশেষ ধন্যবাদ।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনার আগ্রহের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

আমাদের দেশের কৃষকের জমিগুলো বেশ ছোট খন্ডে বিভক্ত। এই ছোট ছোট জমিতে কিন্তু বিভিন্ন জৈব সার ব্যবহার করা সহজ। আগে গ্রামে প্রতি বাড়িতে গরু ছিল। গরুর গোবর আর খর পচিয়ে বেশ ভালো ধরণের জৈব সার তৈরি করা যায়। এটি একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস এবং কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা এবিষয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারেন।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী একটি পোস্ট। এখনই সময়, এ বিষয়ে আমাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়..... ।

পথিক পরাণ এর ছবি

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক চলুক

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক হাততালি
পুরো অনুষ্ঠানটি আমি দেখেছিলাম, তার সাথে আরও অনেক তথ্য যুক্ত করে আপনি এক অসাধারণ সমন্বয় করেছেন। অনেক ধন্যবাদ।

---- ঠুটা বাইগা

পথিক পরাণ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ

রংতুলি এর ছবি

গুরুত্বপূর্ন আলোচনা। ষষ্ঠ পাণ্ডব দা-র কমেন্ট থেকেও অনেক কিছু জানলাম।

পোস্টটা নিজের জন্যই বুকমার্কে নিলাম। আমি নিজে একজন প্রান্তিক ভুট্টা চাষী। বাড়ীর এখানে সেখানে, চিপায় চাপায় ফসল ফলায়ে নির্মল আনন্দ পাই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানি কুমড়ো, লাউ, শসা এই টাইপ সবজিগুলোতে সময় মত কীটনাশক স্প্রে না করলে, ছোট ছোট মৌমাছির মত একরকম পোকা কচি জালি ফুটো করে দেয়, যেগুলো আর বড় হয়না। এই পোকার হাত থেকে কোনোভাবেই জালি রক্ষা করতে না পেরে, বাধ্য হয়ে স্প্রে করা শুরু করি।

এক্ষেত্রে অন্য কোন প্রকৃতি-বান্ধব পদ্ধতি থাকলে কেউ জানাবেন প্লিজ!

পথিক পরাণ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

জালি কুমড়া রক্ষার উপায় জানার চেষ্টা করছি। তথ্য পেলে আপনাকে জানাবো।

উচ্ছলা এর ছবি

চলুক
তথ্যবহুল লেখাটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। লেখককে ধন্যবাদ।

পথিক পরাণ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ উচ্ছলাপু----

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ভালৈছে লিখাটা চলুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

পথিক পরাণ এর ছবি

ধন্যবাদ অনিন্দ্য দা----

তীরন্দাজ এর ছবি

কীটনাশক নিয়ে এখন ইউরোপে খুব হৈ চৈ। অনেকটাই যেন ফ্যসান! ভাবখানি: সারা পৃথিবী উচ্ছন্নে যাক! আমরা ভালো খেয়ে বেঁচে থাকলেই হলো।

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

পথিক পরাণ এর ছবি

ঠিক বলেছেন।
সবথেকে বড় বড় কীটনাশক কোম্পানিগুলোও কিন্তু ওদের!!

তারেক অণু এর ছবি

খুব খুব প্রয়োজনীয় লেখা। লিখেছেনও দারুণ।

কিউবাকেও টানতে পারতেন উদাহরণ হিসেবে, তারা জৈব পদ্ধতিতেই চাষ করে এখনও

পথিক পরাণ এর ছবি

ধন্যবাদ অণু ভাই।
কিউবার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। মনে করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।

রানা মেহের এর ছবি

চমতকার লেখা।
এই জরুরী বিষয়গুলো কেন যে আমাদের চোখ এরিয়ে যায়

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

পথিক পরাণ এর ছবি

রানাপু অনেকদিন পর আপনাকে পেলাম। হাসি

অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

কল্যাণ এর ছবি

চলুক চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।