এক ডজন হাইকু

মূলত পাঠক এর ছবি
লিখেছেন মূলত পাঠক (তারিখ: বুধ, ২২/০৪/২০০৯ - ১:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সবুজব্যাঙ কিরিগাছ চেরীফুলসবুজব্যাঙ কিরিগাছ চেরীফুল

তুলিরেখার কবিতা ও মন্তব্যের ফল এই লেখা, কাজেই গালাগাল ঐ অ্যাকাউন্টে যাবে। ভালো লাগলে আমি রইলাম।
------------------------------------

যে ঘর ছেড়ে
এসেছি, সেথা আজ
চেরী ফুটেছে ।

In my old home
which I forsook, the cherries
are in bloom.
- Issa (1762-1826)

হাইকু লেখা জাপানি ভাষায় সোজা হলেও হতে পারে, বাংলায় বেদম কঠিন। নিয়মের নিগড়ে বাঁধা, যে নিয়মগুলো জাপানি ভাষার মতো ক'রে বাংলায় প্রয়োগ করা প্রাণান্তকর। আর আমার জাপানি জ্ঞান হিরাগানা কাতাকানাতেই শেষ, কাজেই কাঞ্জি-বিহনে পড়তেই পারি না তো মানে কী বুঝবো আর অনুবাদই বা কী করবো। অতএব ইংরিজি ভরসা।

গোড়াতেই একচোট নিয়ম শুনিয়ে ভয় খাওয়াতে চাইছিলাম না, কিন্তু আমার কষ্টটা আপনাদের না বোঝালে ঠিক শান্তি হচ্ছে না। তো এই হলো মোটামুটি নিয়ম, নিয়মগুলো বুঝে নিতে উপরের হাইকুটা দেখুন।

(ক) তিন লাইনের ১৭ মাত্রার কবিতা, মাত্রা ভাগ ৫-৭-৫
যে / ঘ / র / ছে / ড়ে
এ / সে / ছি / সে / থা / আ / জ
চে / রী / ফু / টে / ছে

(খ) কবিতাটা দুটো লজিকাল ভাগে বিভক্ত থাকবে, যার মাঝে পাঁচিল বা সেতু হয়ে বসে থাকবে কিরেজি ব'লে একটা বস্তু। এটা অনুসর্গ বা অব্যয় জাতীয় কিছু, একটা চালু উদাহরণ হলো "কা", অনেকটা "কি রে তুই যাবি তো?"র 'তো' যেমন। ইংরিজিতে লোকে সিলেবল মেলাতেই গলদঘর্ম হয়, কিরেজির কাজ চালায় যতিচিহ্ন দিয়ে। আম্মো তাই করেছি, কমা দিয়ে সেরেছি।

(গ) প্রত্যেকটি হাইকুতে একটা ক'রে কিগো থাকবে। এটা একটা ঋতুনির্দেশক শব্দ, আমাদের রাগগুলো যেমন অনেকক্ষেত্রেই ঋতু বা দিনের কোনো ভাগের সাথে জড়িত, হাইকুরাও তেমনি। তো এই কবিতায় গ্রীষ্ম শীত হেমন্ত কি বসন্তের নাম নেওয়া চলবে না, কে কার ভাশুর-ভাদ্রবৌ কে জানে, কাজেই ওই ইঙ্গিত ভরসা। অতএব আসবে চেরীফুল, ভোমরা, বরফ, ঝরাপাতা, চাঁদ, কুনোব্যাঙ, আগডুম বাগডুম নানা জিনিস। এইটে নাকি থাকতেই হবে। ইংরিজিগুলোয় থাকে না প্রায়শই। কিছু জাপানি হাইকুও কিগো-মুক্ত, তবে বিশুদ্ধবাদীরা সেগুলোকে দেখে নাক সঁিটকে চলে যাবে। আমার অনুদিত সবগুলোয় কিগো নেই যদিও।

ব্যাস এই হলো নিয়মাবলী। পড়ে প্রথম প্রথম আপ্লুত হবেন সে সম্ভাবনা কম, এতে বোধ হয় অ্যাকোয়ার্ড টেস্টের দরকার হয়। যাক, পড়ুন, ভালো লাগলে লিখতেও থাকুন। আরো ক'টা উদাহরণ দিয়ে আমি কেটে পড়ি।

মজা পুকুরে
ঝুপুস! লাফালো ব্যাঙ-
জলের শব্দ ।

- মাৎসুয়ো বাশো

দেখবে এসো -
একলা পাতা ওই
কিরির ডালে ।

- মাৎসুয়ো বাশো

পঁিপড়ে মারি
একটা, দেখল তা
তিনটে ছেলে ।

- শুসোন কাতো

রাত ও চাঁদ,
পড়শীর বাঁশীতে
বেসুর বাজে !

- কোজো

উড়লো কাক -
সন্ধ্যাকাশে দোলে
শুকনো গাছ ।

- সোসেকি নাৎসুমে

চাষীমেয়েরা
কাদামাখা, নয় তো
তোদের গান ।

- রাইজান

হিমেল রাতে
চাঁদও কি ঘুমায় ঐ -
দিঘির জলে?

- রিউসুই

বিদ্যুচমক
বনের মাঝে; জল
দেখতে পাই ।

- মাসাওকা শিকি

১০

বাতাস বলো -
কোন পাতাটা ঝ'রে
পড়লো ব'লে?

- কিওশি তাকাহামা

১১

আকাশ নেই
নেই জমিন - তবু
তুষার পড়ে ।

- হাশিন

১২

শরতদিনে -
যে আয়নাতে চাই
পিতার মুখ !

- কিজো মুরাকামি


মন্তব্য

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

চলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুকচলুক

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

মূলত পাঠক এর ছবি

১২টা হাইকুতে ১৮টা বুড়াঙ্গুল, হাইকু পিছু দেড়খানা হাসি

অনেক ধন্যবাদ ।

তীরন্দাজ এর ছবি

সবগুলোই খুব সুন্দর। তবে 'কেজো' টিই ভালো লেগেছে সবচেয়ে বেশী।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হাসি

সিরাত এর ছবি

'শোগান: টোটাল ওয়ার' নামে একটা গেম ছিল, তোকুগাওয়া শোগানেতের সময় জাপানকে এক করা নিয়ে। ওখানেই হাইকুর সাথে প্রথম পরিচয়। আহ, সামুরাই শিভালরি! এসব দেখে আবার মারামারির গেমটা খেলতে ইচ্ছা করছে! আমার প্রবলেমটা কি কন তো! চোখ টিপি

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার প্রবলেমটা হইল পেট গরমের, পিত্ত ও অম্লরসের আধিক্য। শরীর চেইত্যা গ্যাছে।
গ্যান্দাল পাতার রস দিয়া ভাত খাইয়া নাভীর উপর ভিজা গামছা রাইখ্যা শুইয়া পড়েন গিয়া।

ভিজিটটা দিয়া যাইয়েন মিয়া হাসি

রেজওয়ান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হাইকুকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যে। অনুবাদ ভাল হয়েছে।

পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম রেজওয়ান। এবার সব পাঠকেরা নিজেরা চাট্টি হাইকু লিখলে আরো খুশি হই।

অতিথি লেখক এর ছবি

চাট্টি হাইকু
আহা! বাট্টিরা সব
ছেড়েছে ঘর।

---থাবা বাবা!

স্নিগ্ধা এর ছবি

হাইকু পড়ি
বারোটি, শুনলো তা
সচল সবে ।।

মূলত পাঠক এর ছবি

কিরেজি তো আছে, কিগো কই? হাসি

হাইকু যেন
চেরীগুচ্ছ - কিগো
ঝরে কোথায়?

স্নিগ্ধা এর ছবি

কেন, কিগো আছে তো! ঐ যে সচলদের কথা বললাম? ওটার মানে তো 'চিরবসন্ত'!! আর তাছাড়া poetic libertyও তো দিতে হবে একটু দেঁতো হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

হা হা এমন মুহ-তোড় জবাবের পর কথা হবে না! দারুণ দিলেন হাসি

সচল জাহিদ এর ছবি

ধন্যবাদ জিনিসটা আগে জানতামই না।

একটি জিনিস বুঝতে পারছিনা,

মজা পুকুরে
ঝুপুস! লাফালো ব্যাঙ-
জলের শব্দ ।

এখানে মাঝখানে ৮ মাত্রা হয়ে যাচ্ছেনা ? সেক্ষেত্রে 'স' কি উহ্য থাকছে ?

আবার,

উড়লো কাক -
সন্ধ্যাকাশে দোলে
শুকনো গাছ ।

এখানে মাঝখানে হচ্ছে ৬ মাত্রা অবশ্য 'ন' আর 'ধ' কে আলাদা ধরলে হয় ৭ মাত্রা।

----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক সময় দু পক্ষের উচ্চারণের তারতম্যে মাত্র ভেদ হয়ে যায় (যদিও সে দায়িত্ব যিনি লিখেছেন তাঁরই থাকে)। এখানে মনে হচ্ছে সেই রকম হচ্ছে। আমি মাত্রা ভেঙেছি এই ভাবে:
ঝু / পু / স / লা / ফা / লো / ব্যাং

এই তালে অনুস্বার বাদ দিয়ে একবার পড়ে দেখুন, তারপর অনুস্বার জুড়ে, সাত মাত্রা নিয়ে আমার অবস্থানটা বুঝতে পারবেন।

সন্ধ্যাকাশে এই রকম: স / ন্ / ধা / কা / শে
ধরুন যদি "সঁধাকাশ" হতো (চাঁদা/চান্দা'র মতো ক'রে) তাহলে মাত্রা নিশ্চিতভাবে কম পড়তো। এখানে সাত ব'লে চালানো যাচ্ছে কোনো ভাবে। হাসি

ধন্যবাদ এতো মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।

সবজান্তা এর ছবি

হাইকু প্রথম পড়া কামরুল হাসান নামের পরিচিত একজনের কাছে। উনি হাইকু লিখে রীতিমতো বিখ্যাত দেখলাম। তবে এতো কড়া নিয়ম কানুন অবশ্য জানতাম না...

আপনার হাইকুগুলা দারুন লাগলো... আরো দিতে থাকুন।


অলমিতি বিস্তারেণ

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু, কিন্তু আপাতত আর তো হাইকু-অনুবাদের পরিকল্পনা নেই। এতো নিয়মের নিগড়ে লেখা খুব কষ্টকর।

তবে সবাই মিলে একটা হাইকু লেখার বারোয়ারি পোস্ট বানানো যায়।

স্পর্শ এর ছবি

নিয়ম-কানুন দেখে ভয় পেয়েছি। ইয়ে, মানে...
ভিন্ন স্বাদের পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

মূলত পাঠক এর ছবি

তাও তো আ মরি বাংলাভাষায় লেখা, ভাবুন যদি জার্মানে লিখতে হতো?
হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

মূলত পাঠক,
আপনি খুব চমত্‌কার! মূলত প্রতিশ্রুতিবান! মানে প্রতিশ্রুতি রাখেন আরকি! হাসি (এইবার বুঝুন আমার জটায়ুমার্কা বাংলা হাসি ,তার কাছেই শেখা ম্যান ইজ মর্টাল মানে মানুষমাত্রেই ভুল হয় হাসি )
হাইকুর যে এত কড়া কড়া নিয়ম তা জানতাম না আগে! একবার লিমেরিক বিষয়ে নানা নিয়ম শিখিয়েছিলেন এক বন্ধু। জাপানীরা কবিতার ফর্মেশন নিয়ে নানা পরীক্ষা করেছে,তাই না?
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

ইংরিজিতে যাঁরা মৌলিক হাইকু লেখেন তাঁরা মাত্রাজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামান না, আর কিগো রাখতে গেলে ভাবের ঘরে পাহারা বসে, শুধু কিরেজি থাকে। ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়ায় এই রকম, সাহেবসুবো বাড লাইটের সাকে খাচ্ছে। সব যদি ছেড়েই দিবি তা'লে ওটাকে হাইকু বলারই বা দরকার কী? লো-ক্যালোরি মলয়বাতাসছাপ কবিতা বললেই তো হয় হাসি

আপনার কথা রাখতে রাতে রিপোর্ট লিখে তারপর হাইকু ট্রান্শ্লেটিয়ে ভোরবেলায় ঘুমোতে গেছি, এখন ক্লাসে বসে সেই রিপোর্ট নিয়ে লেকচার শুনতে শুনতে সচলাচ্ছি, আর কিসের রিপোর্ট জানেন? আপনার পছন্দের টাকো বেল-এর সার্ভিস মডেল নিয়ে কেস। হাসি

রণদীপম বসু এর ছবি


ওইলো ছুড়ি
যাস কই ? মরদ
গেছে নিকায় !


এদিকে আয়,
দেখ্ ! বাটনা বাটি
শিল-পাটায়।

বাংলা হেইকু কেমন হইলো ভাইজান ??

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

মূলত পাঠক এর ছবি


খাসা হইছে
বোসমশায়, রস
নেশা ধরায়!


মশলা ফেলে
চলেন সিদ্ধি বাটি -
শিল পাটায় ।

হাসি

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

১।
দ্যাখ্ রে সবে-
প'ড়ে দ্যাখ্, দু'জনে
ধরা ফাটায়!

২।
এর পরো কে
হাইকা-হাইকিতে
নাসা গলায়!

০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

মূলত পাঠক এর ছবি


নাক গলান
Zরুর; বসন্তে
গাইবে কুহু ।


হাইকু-সুরে
গাইছে ধরা - যেন
বহাগ বিহু ॥

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

২০০৭ সালে জ্বিনের বাদশা সচলায়তনে একটা পোস্ট দিয়েছিলেন হাইকু বিষয়ে।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ লিঙ্কটার জন্য, পড়লাম বাদশাই কবিতা। হাইকুর নিয়ম ভেঙে লিখেছেন এবং হাইকুর সিম্পলিসিটিও কমই আছে, কিন্তু প্রেমরসে টৈটম্বুর হাসি অনেকটাই গজলের মতো, রসিক প্রেমিকের ভাষ্য।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

বাহ্, বেশ নিয়মকানুন শেখা গেল।
সবগুলোই ভালো লেগেছে, তবে ৫ নম্বরটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগল।

মূলত পাঠক এর ছবি

কেন, আপনার পাশের বাড়িতে কোনো বেসুর বেতাল বালিকা আছে নাকি যে সক্কাল সক্কাল হারমোনিয়াম ঠেলে 'ওরে গৃহবাসী' গায় ? হাসি

ঋদ্ধ [অতিথি] এর ছবি

হাইকু একটা ব্যাপক মজার জিনিস। মাত্রার ব্যাপারে একটু কমই জানতাম। লেখা ভালো লাগলো। দিন না আরো কয়েকটা হাইকু পোস্ট...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।