গরু খুঁজি আনমনে

সজল এর ছবি
লিখেছেন সজল (তারিখ: শনি, ০৫/০২/২০১১ - ৬:২৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গন্ডার কাতুকুতু টের পায় কয়েকদিন পর, আর আমার জেটল্যাগের মত অবস্থা দাঁড়ালো পাঁচ মাস পর। ছয়টার আগে ঘুম আসে না, তাই দশটার মিটিং এ টাইমলি যাওয়ার প্রশ্ন ও আসে না। চোখ ডলতে ডলতে সাড়ে দশটায় গ্রুপ মিটিং এ গেলে, প্রফেসরের সহাস্য অভ্যর্থনা, “আমরা ভাবছিলাম তোমার আবার কী হলো?”। অনেক দিন মাথা খাটাই না, তাই বানিয়ে একটা কিছু বলে দিব, সেটা আর হলোনা। আর তাছাড়া সামনে বছর পাঁচেক পড়ে রয়েছে, অজুহাতগুলো রিপিট হতে থাকলে আমার সৃজনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই তমিজের সাথে বললাম, “ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেছে”। প্রফেসর আরো মিষ্টি করে হেসে, তারা কী নিয়ে আলোচনা করছিল সেটা সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিল। ধুর! ভালো মানুষের সাথে ফাঁকিবাজি করে কোন মজাই নেই।

ভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করার সময় কিছু গালভরা কথা বলতে হয় যেমন, আমি সেকেন্ড টু আইনস্টাইন, ওমুক বিষয়ে আমার আগ্রহ এত বেশি যে ওই বিষয়ে রিসার্চ করতে না পারলে আমি সুইসাইড খাব। ভার্সিটির প্রফেসররা এইগুলা ভাল খায়। ডিএনএর সুতা বেয়ে উপরে উঠে একদিন দেখে আসব জীবনবৃক্ষের মগডালে বসে পূর্বপুরুষেরা কেমন করে দোল খাচ্ছে, নাহয় গোটাকয় স্বপ্নে পাওয়া ওষুধ আবিস্কার করে হেকিম সেজে বসব, এই গোপন আশা মনে নিয়ে বায়োইনফর্মেটিক্স(জিনিসটা কী আমাকে জিজ্ঞেস করে লাভ নেই, আমিও ভালো জানিনা) এ রিসার্চ করব এইরকম কথা ইনিয়ে বিনিয়ে লিখে চলে আসলাম আম্রিকা।

কাজকাম ভালো লাগে না, তাই ড্রাম, পিঁড়ি, টুল যেখানে যা পাই, তার উপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেই, “আমি হইলাম থিওরি গাই, প্র্যাক্টিকাল কাজ কামে আমি নাই”। সেই ভাব বজায় রেখে এখানে এসে ভিড়ে গেলাম একটা থিওরী গ্রুপে। বায়োইনফর্মেটিক্সে কাজ করতে চাই বলে আমাকে ঢুকিয়ে দেয়া হলো প্রোটিনের চিপা-কাঞ্চির বিশেষ সংবাদদাতার কাজে। ঘুমবাজি রেখে কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রির পেপার পড়ে যাই, দুইদিন যাওয়ার পর দেখি অর্ধেক পৃষ্ঠাও বুঝি নাই। নিজের মানসম্মান বাচাতে তখন ফাইনম্যানের অমর বাণীর স্মরণ নেই, “আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, কোয়ান্টাম মেকানিক্স পুরোপুরি কেউই বুঝে না”।

কয়েক যুগ বা শতাব্দী পেরিয়ে যাওয়ার পর পেপারটা পড়ে শেষ করতে পারি। এবার কাজ হলো অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কিছু হিসাব নিকাশ করা। এবার সমস্যা হলো দ্বিখণ্ডিত হাইড্রোজেন বন্ড নিয়ে। মাঝে মাঝেই একটা অক্সিজেনকে নিয়ে দুই হাইড্রোজেন “এক বধু দুই স্বামী”(নাকি উল্টোটা?) ঘরানার সিনেম্যাটিক অ্যাকশনে নেমে যায়। লাখ টাকার প্রশ্ন হলো এই যুগপৎ সম্পর্ক কিভাবে প্রত্যেকটা সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে শরণ নিতে হয় গাউসিয়ান নামে এক মহা ব্যবহার-অবান্ধব সফটওয়্যারের। আমার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের ক্ষমতা নেই ওই বস্তুকে ধারণ করার, তাই ক্লাস্টারে জব সাবমিট করে ‘গাউস গাউস’ বলে ইষ্টনাম জপতে থাকি। কখনো পনেরো ঘন্টা কখনো পনেরো মিনিট পরে মেইল আসে, সাবজেক্ট লাইনে লিখা থাকে, “জব এক্সিটেড”। তারপর দেড়লাখ লাইনের লগফাইল খুলে এরর খুঁজে বের করতে করতে সিদ্ধার্থের মত জগৎ-সংসারের মায়া কাটিয়ে পৃথিবীর পথে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছা করে।

প্রতি সপ্তাহে প্রফেসরের সাথে একবার করে মিটিং, আমি “গাউসিয়ান কথা শুনে না” বলে একই কান্নাকাটির আপডেটেড ভার্সন শুনিয়ে যাই। টার্মের শেষদিকে অবস্থা দাঁড়ালো, আমি মরমে মরে গিয়ে বলি, “ফার্স্ট সেমিস্টার বলে কাজ-কামে মন বসাতে পারি নাই”। প্রফেসর আমার চেয়ে এককাঠি আগানো, সে বলে, “এই সেমিস্টারে আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই তোমাকে তেমন সময় দিতে পারিনি”। সে যারই দোষ হোক, আমার কাজকাম তেমন এগোয়নি।

নতুন সেমিস্টারে এসে মনে হলো, অনেক হলো কেমিস্ট্রি আর বায়োলজির সাধনা, এবার একটু কম্পিউটার সায়েন্সের সাধনা করি। প্রফেসরকে জানালাম মনোবাঞ্ছা, এই ভদ্রলোক কোন বিষয়ে না বলে না। সুতরাং এখন পূর্বপুরুষের মত গবেষণার নানান ডালে ঝুলে বেড়াচ্ছি। কবে কোন একটা ডালে স্থির হয়ে বসে আপেল চিবোতে চিবোতে মানবজাতির সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা নিয়ে ভাবিত হব, সেই অপেক্ষায় আছি।


মন্তব্য

অপছন্দনীয় এর ছবি

আপনার গুরু কিছুতে না বলে না, আর আমার গুরু ইতোমধ্যে আমাকে একগাদা ফিল্ড ঘুরিয়ে এনে বুঝেছে আমি নিজের পছন্দ ছেড়ে নড়বো না। শেষ পর্যন্ত বলে দিয়েছে "লে বাবা, যা খুশী কর, আমি আর এর মধ্যে নেই" হাসি

সজল এর ছবি

আপনার স্থিতিস্থাপকতা প্রশংসনীয়। এটা ভালো যে আপনার পছন্দের জিনিস কোনটা আপনি জানেন, আমি তাও গুলিয়ে ফেলেছি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

কৌস্তুভ এর ছবি

শিরোনাম দেখেই বুইলাম আপনার পোস্ট। এবার লেখা পড়ি।

সংযোগঃ লেখাও তেমনই হয়েছে।

ডিএনএর সুতা বেয়ে উপরে উঠে একদিন দেখে আসব জীবনবৃক্ষের মগডালে বসে পূর্বপুরুষেরা কেমন করে দোল খাচ্ছে,

তারপর দেড়লাখ লাইনের লগফাইল খুলে এরর খুঁজে বের করতে করতে সিদ্ধার্থের মত জগৎ-সংসারের মায়া কাটিয়ে পৃথিবীর পথে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছা করে।

গড়াগড়ি দিয়া হাসি
মনের কথা রে ভাই, এক্কেরে মনের কথা!

সজল এর ছবি

আমরা পিচ্চি থাকতে মাকে অনেক যন্ত্রণা দিলে, সে বনবাসে চলে যাওয়ার কথা বলত। তখন বুঝতাম না, মানুষ কত দুঃখে বনবাসে যেতে চায়। পড়ার জন্য ধন্যবাদ হাসি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

হিল্লোল_ এর ছবি

একটানে পড়ে ফেললাম। সব গরু খোঁজা মানুষগুলোর মনে হয় জীবনে কিছু ব্যপারে অনেক মিল।

সজল এর ছবি

হিল্লোলদা, তবে বুড়া হয়ে যাওয়ার আগেই কিন্তু গরু খুঁজে পাওয়া চাই চোখ টিপি । পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পড়ে বেশ মজা পেলাম ।
আপনার গো+এষণা সফল হোক । হাসি

সজল এর ছবি

সিরিয়াস বিষয়ে মজা পেলে হবে কিভাবে চোখ টিপি । শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

সচল জাহিদ এর ছবি

ভাল লেগেছে।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সজল এর ছবি

ধন্যবাদ জাহিদ ভাই।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

স্রেফ দুর্দান্ত ভাইয়া।
আমাদের ৪-১ থিসিস তো শুরু হবে এই ফেব্রুয়ারি। বুয়েটের টিচার ভুলেও বলবে না, "আহা বাছা, তোমাকে টাইম দিবার পারি নাই দেখে কিছু করবার পারলা না"। সি মাইনাস তো দিবেই, উপরি হিসেবে "গাধার বাচ্চা" উপাধিও দিতে পারে।

------------
সাত্যকি

------------

ফাহিম হাসান এর ছবি

জটিল লেখা। চলুক

সজল এর ছবি

ধন্যবাদ ফাহিম হাসি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

ফাহিম হাসান এর ছবি
সজল এর ছবি

বুয়েটে আমার সুপারভাইজর ডিপার্টমেন্টের দ্বায়িত্ব নিয়ে বিজি হয়ে পড়ায় তেমন সময় দিতে পারেননি, তবে উনার অ্যাটিচ্যুড খুবই ভালো লেগেছিল। আশা করি তোমার সুপারভাইজর ভালই হবেন। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

জটিল শিরোনাম। লেখা খাপছাড়া, আর হঠাৎ শেষ হয়ে গেল মনে হয়।

সজল এর ছবি

পাবলিশ হওয়ার পর পড়ে আমারো তাই মনে হয়েছে। খাপছাড়া লাগার মূল কারণ টাইমলাইনের ঝামেলা। শুরুতে গত কয়েকদিন নিয়ে লিখব ভেবে শুরু করেছিলাম, তারপর হঠাৎ করে পাঁচমাস আগের কাহিনীতে ফিরে যাওয়াতে মনে হয় এমন লাগছে। প্রথম প্যারাটা বাদ দিলে হয়ত, একটু কম খাপছাড়া লাগত। আর অনেক কিছু লিখব ভেবে শুরু করে হঠাৎ দেখি আর কিছু মাথায় আসছেনা, একবার ভেবেছিলাম শিরোনামের শেষে -১ লাগিয়ে দিব, কিন্তু কন্টিনিউ করব কিনা নিশ্চিত না, তাই তা আর করিনি।

ধন্যবাদ পড়া এবং অসংগতিগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

শিরোনামের জন্যই আপনাকে আমি ৫ দিলাম। গরু খুঁজি আনমনে; আহ্, একটা উদাসী উদাসী ভাব আছে।

সজল এর ছবি

হা হা, উদাসী ভাব খাইছে ধন্যবাদ।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

চমৎকার লাগলো। আরো লিখুন।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সজল এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার জীবাণু বিষয়ক লেখাগুলো বেশ ভালো লাগে।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই আপনার লেখাটা পড়ে বুক থেকে একটা বোঝা নেমে গেল। গত ফলে আসছি আম্রিকা গবেষনা করতে, গোটা একটা সেমিস্টার ধরে শ'খানেক পেপার ঘেটে একটা লিটারেচার রিভিও তৈরি করেছিলাম, আমার প্রফেসর প্রত্যাক লাইনে লাইনে কমেন্ট দিয়ে রিপোর্টখানা আমারে হাসিমুখে ফেরৎ দিয়ে কারেকশন করতে বলছেন মাসখানেক আগে, তারপর থেকে প্রফেসরের সাথে দেখা হইলেই আগবাড়াইয়া কই কারেকশন করতেছি, আসলে একমাসে ১০ পাতাও (১৫%) কারেকশন করি নাই। বিবেকের কাছে বারবার নাড়া খাইতেছিলাম, টাকাটা হালাল হচ্ছে কিনা এই বিষয়ে। আপনার লেখাটা পড়ে সেইটা কিছুটা হইলেও কমছে, ধন্যবাদ।

মাহফুজ খান

সজল এর ছবি

আমিও একই রকম মানসিক যন্ত্রণায় আছি। তবে ডিপার্টমেন্টের যার সাথে কথা বলেছি, সবাই বলছে ফার্স্ট সেমিস্টারে একটু সমস্যা হবেই। আমিও একটা রিপোর্ট তৈরি করেছি নিজের গবেষণা-প্রচেষ্টার উপর, কারেকশনতো আছেই, তবে আমার গ্রুপের আরেকজনের রিপোর্টে যে পরিমাণ লাল দাগ তার তুলনায় কিছুই না বলে বেশ সান্তনা পাচ্ছি।

বটম লাইনঃ নিজের কাছে সৎ থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

স্বপ্নহারা এর ছবি

ভাইরে, সুপার এত্ত ভাল পাইছেন, রাজকপাল নিয়ে আসছেন...অনেকের সুপার দেখে আর কাহিনী শুনে কান্না চলে আসে। আমার এক বন্ধু ৬ বছর ধরে গালিগালাজ-দুর্ব্যবহার সহ্য করেও মাস্টার্স জোগাড় করতে পারল না!

আমার সুপারও মারাত্মক ভালোমানুষ, সুন্দরভাবে কাজও আদায় করে নেন, আমি নিশ্চিত জীবনে কোন পূণ্য করছিলাম! ল্যাবের বাইরে উনার পরিবারের সাথেও আমাদের চমৎকার সম্পর্ক...কী যে আপন করে নিয়েছেন!

প্রথম প্রথম সমস্যা থাকেই, দাঁতে দাঁত চিপে টেস্ট ব্যাটিং চালান...একসময় টিটুয়েন্টি ও খেলতে পারবেন...আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে রিসার্চের কাজে ফাঁকিবাজি পছন্দ করি না (এক এথিক্যালি ঠিক না, দুই ফান্ডিং হালাল করার ব্যাপার আছে, তিন নিজেরই ক্ষতি হয়...অযথা পাস করতে দেরি হয়) সম্ভব হলে করব, না হলে বলে দিই পারবো না। মিথ্যা বলার দরকার নেই...সুপাররাও জানেন প্রথমে ধরতে-কাজ গতি আসতে সমস্যা হয়।

শুভকামনা রইল...

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সজল এর ছবি

রিসার্চের ব্যাপারে আপনার সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গী মিলে যায়। এই সেমিস্টারের মাঝে ট্র্যাকে চলে আসার টার্গেট, দেখা যাক কী হয়। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

সজল ভাই ,জটিল শিরোনাম।লেখাটা ভাল লাগছে।
------------------------------
Sad Songs

সজল এর ছবি

ধন্যবাদ। নাম দিতে ভুলে গেছেন হাসি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

আমারতো এখনো সুপারভাইজারই ঠিক হইল না।দোটানায় আসি।একজন তোর মিতা।কলকাতার লোক।মানুষ ভাল।কিন্তু সপ্তাহে একদিন আসে।ছয়দিন থাকে NSF এর কাজে।আরেকজন আমরিকান।চরম নীতিবান।তারে ডর লাগে।

ইরেশ

সজল এর ছবি

দশটা বছর অপেক্ষা করলে আমার আন্ডারেই করতে পারতি চোখ টিপি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

কৌস্তুভ এর ছবি

দেঁতো হাসি

হাসিব এর ছবি

গাউসিয়ান দিয়ে কী করে? আমাদের ফিল্ডে আগে গাউস নামে একটা সফটওয়্যারের প্রচলন ছিলো। R এসে ঐ আপদ বিদায় করেছে। তবে R যে খুব ব্যবহার বান্ধব সেইটাও না। মাসখানেক আগে দুইটা ওয়াই এক্সিস আর একটা এক্স এক্সিস - এরকম একটা দুধভাত গ্রাফ আঁকতে ৪ ঘন্টা লাগলো, তাও যেইভানে দেখতে চাচ্ছিলাম সেইভাবে হয় নাই রেগে টং

সজল এর ছবি

গাউসিয়ান কোয়ান্টাম কেমিস্ট্রির কাজে লাগে। মলিকুলার সিস্টেমের এনার্জি, ফ্রিকোয়েন্সি বের করা, জিওমিট্রি অপ্টিমাইজ করা এসব কাজে লাগে। ম্যাটল্যাবে এইরকম একটা টুলবক্স থাকলে কত ভালই না হত চোখ টিপি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

কৌস্তুভ এর ছবি

R এর গ্রাফিক্স আমারও তেমন একটা পছন্দ হয় না। গ্রাফ আঁকতে, তাতে ইচ্ছামত জুম করতে, গ্রাফের অবজেক্টগুলোকে সহজে মডিফাই করতে ম্যাটল্যাবের চেয়ে আরামের কিছু নাই।

হাসিব্বাই স্ট্যাট এ নাকি?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আপনি স্ট্যাটের লোক হয়্যা ম্যাটল্যাবের গুনগান গাইতেছেন, আপনি তো লুক ভালু না। R এর লার্ণিং কার্ভ আছে, তবে গ্রাফিক্স এর গ্রামারটা বোঝা হয়ে গেলে জটিল জিনিস। ggplot2 ট্রাই করেছেন?

কৌস্তুভ এর ছবি

পিপিদা, ggplot2 রেকমেন্ড করার জন্য ধন্যবাদ, দেখলাম একটু। ভাল জিনিস। ব্যবহার করে দেখব আরো।

গুণ থাকলে গুণগান করতে অসুবিধা কোথায়? ম্যাটল্যাব হাই-লেভেল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে যথেষ্টই সমাদৃত, বিশেষত এর সহজতার জন্য। গ্রাফিক্স বিষয়ে ম্যাটল্যাবের প্রশংসা করেছি বলে যে আমি R-এর নিন্দা করি বা R ব্যবহার করি না এমন তো নয়। R অবশ্যই ভালো জিনিস, স্ট্যাট কমিউনিটিতে বহুল ব্যবহৃত, এবং ফ্রিওয়্যার। কিন্তু ম্যাটল্যাবের বেশ কিছু সুবিধা আছে যা R-এ অপ্রতুল -

খুব সহজে ম্যাট্রিক্স ম্যানিপুলেশন - ওইটাই ম্যাটল্যাবের উৎস, আর জনপ্রিয়তার কারণ (অবশ্য R এ যে - ব্যবহার করে এলিমেন্ট ডিলিট করা যায়, সেটা ওতে নাই)
গ্রাফ-সংক্রান্ত সব জিনিসকে জাভা'র অবজেক্ট হিসাবে ইউজারকে ব্যবহার করতে দেবার সুযোগ, যাতে সরাসরি প্রপার্টি পরিবর্তন করা যায়
গ্রাফে ইচ্ছামত খুব সহজে জুম করার সুযোগ
খুব বিস্তারিত, ছবি-ইকুয়েশন সমেত হেল্প
সিনট্যাক্স-হাইলাইটিং ও অন্যান্য অনেক সুবিধাযুক্ত এডিটর
বেশি ফ্লেক্সিবল কম্যান্ড উইন্ডো

এইতো, সম্প্রতি বাংলাওয়ার্ড থেকে ইউনিকোডে একটা কনভার্টার লিখলাম ম্যাটল্যাবে। সেটা c++ এ করতে বেশ খানিকটা পরিশ্রম বেশি হত, R এও। গ্রাফ অবজেক্টের সুবিধা নিয়ে একটা রেসিং গেম লিখেছিলাম, সেটাও কি R এ সহজে হত?

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ভাই,
আপনার প্রফেসর তো খুব ভালোমানুষ!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

সজল এর ছবি

এখনো পর্যন্ত। সামনেও যেন ভালো থাকেন, তারজন্য এবার একটু খাটা লাগবে।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

দ্রোহী এর ছবি

১.
মিয়া, গবেষণার ফলাফল না জেনে কেউ গবেষণা শুরু করে নাকি? চোথা মারা শিখেন নাই?

আমারে গোটা কয় চোথা দেন। দেখবেন তিন দিনের ভিত্রে থিওরী অফ রিলেটিভিটি একবার ভুল ও একবার সঠিক প্রমাণ করে ছেড়ে দেব। দেঁতো হাসি

২.
বলতে দ্বিধা নাই, আপনার লেখায় রস আছে।

সজল এর ছবি

সমস্যার মূলে হাত দিছেন একবারে, কী ফলাফল প্রতিষ্ঠিত করব, সেটাই এখনো ঠিক করতে পারি নাই।

রসাস্বাদনের জন্য ধন্যবাদ চোখ টিপি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

ফাহিম হাসান এর ছবি
সজল এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার পোস্টটা পড়েছি দুইবার করে, কেন যেন কমেন্ট করা হয়নি। একবছর ধরে থিসিসে কাজ করছি। প্রফেসর কথা দিয়েছে সন্তোষজনক টেস্ট রেজাল্ট, একটা কনফারেন্স পেপার (২৬ মার্চের মধ্যে) আর সেমিস্টারের মধ্যে থিসিস পেপার যদি লিখে শেষ করতে পারি, তাহলে আমাকে ছেড়ে দিবে। মানে মাস্টার্স শেষ করার ছাড়পত্র দিবে। প্রথম দুইটা রিকুয়ারমেন্ট পুরা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি। তিন নাম্বারটা ধান চাল দিয়ে কিছু একটা বুঝায় দিব। এর মধ্যে আবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ লাগলো। চোখে খালি আন্ধার দেখি!
-রু

সজল এর ছবি

শুভকামনা রইল। আমার সামনে যেহেতু অনেক সময় আছে (মাত্রই সেকেন্ড সেমিস্টারের শুরু), প্রফেসর কোন টার্গেট বেধে দেয়নি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সামনের সেমিস্টারে PHD কোয়াল, ওইটাতে পাস করতে হলে রিসার্চ প্রগ্রেস দেখাতে হবে। আস্তিক না হয়ে একটা ঝামেলা হয়ে গেছে, কারো উপর ছেড়ে দিতে পারছিনা চোখ টিপি

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।