সুলতানা পারভীন শিমুল এর ব্লগ

বৃশ্চিকেরা ২

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: শনি, ০৫/১৯/২০১২ - ৮:২৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজ ক্লাস করবো না। এই বিষয়ে বাচ্চাদের বাহানার অন্ত নেই। এতোদিন পর ক্লাস শুরু হলো, আজ পড়বো না। কাল থেকে তো ছুটি শুরু, আজকে নাহয় পড়া থাক। কারেন্ট চলে গেছে, গরম খুব, পড়বো না এখন। কি সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে, এর মধ্যে কি পড়া যায়?


আগন্তুক

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: রবি, ০৫/০৬/২০১২ - ৯:২০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লোকজনের বোকামি দেখে আমি মাঝেমাঝে খুবই বিরক্ত হই।
আজকের কথাই ধরুন, বিরক্ত হয়েই সিদ্ধান্তটা আমাকে নিতে হলো। গ্যাস নেবার পর সবুজ রঙের গাড়িটা স্টার্ট করতেই লাফাতে শুরু করলো, লাফাক। আমার আপত্তি নেই। কিন্তু তাই বলে কাদা ছিটিয়ে দেবে আমার গায়ে! আবার প্যাঁ পোঁ করে হর্ণ দিচ্ছে তো দিচ্ছেই। কানের বারোটা বাজিয়ে দিলো। এই বেকুব লোকটা আমার সামনেই কেন তখন এই কাজ করতে গেলো, কে জানে।
 


এক বরষায়...

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: শনি, ০৪/২১/২০১২ - ৯:৩২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কাল রাতে আমাদের শহরে লন্ডভন্ড করা বৃষ্টি হয়েছে। সকালে যখন স্কুলে যাই, তখনো তার রেশ পুরোপুরি কাটেনি। গাছপালা, রাস্তাঘাট সবই ভেজা ভেজা। ভালোবাসা তারপর দিতে পারে গত বরষার সুবাস... বৃষ্টির গন্ধেই বোধহয় গতবছরের এরকম একটা দিনের কথা মনে পড়ে যায় আমার। কিছু কিছু দিন কাটে সত্যি অন্যরকম...


লোকে বলে, বলে রে...

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: রবি, ০৪/১৫/২০১২ - ৪:১৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সেই প্রাচীনকাল থেকে যে কোনো বিচার-শালিশ, মিটিং-দরবার ইত্যাদি ইত্যাদি জায়গায় কোনো না কোনো মাষ্টারের থাকাটা অতি-আবশ্যিক একটা ব্যাপার। কারণ যে ঠিক কোনটা, ঠিক বুঝি না। জ্ঞান-গরিমা, প্রচুর কথা বলতে পারার ক্ষমতা, সভার শোভাবর্ধন, যে কোনোটাই হতে পারে। তবে বাংলাদেশে লোডশেডিং কম হয়, এটা শুনলে যেমন অনুভূতি হয়, ঠিক একই অনুভূতি হয় যখন শুনি,  মাষ্টাররা কথা কম বলে । অথচ এইরকম অভিযোগ আমাকে প্রায়ই শুনতে হয়।


ছোবল

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: শনি, ০৩/৩১/২০১২ - ৫:৩২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি শায়লা। শায়লা শারমিন। বাবামায়ের একমাত্র মেয়ে। ছাত্রী ভালোই ছিলাম। কোনো টিউটর তখনো প্রয়োজন পড়েনি। টুকটাক প্রবলেম হলে মা কিংবা বাবা দেখিয়ে দিতেন। ক্লাস এইটে যখন পড়ি, একটা অংক দেখাতে নিয়ে গেলাম বাবার কাছে। অংক বোঝাতে গিয়ে বাবা আমার বুক স্পর্শ করেন। ভয়ে, আতংকে আর লজ্জায় যতোটা না কিশোরী শরীর কেঁপে উঠেছিলো, তারচেয়ে অনেক বেশি কেঁপে উঠেছিলো তার মন। শামুকের মতো গুটিয়ে গিয়েছিলাম নিজের ভেতর


ভালো গল্প

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: শুক্র, ০৩/৩০/২০১২ - ৪:৪১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বন্ধুমহলে যারা একটু সুশীল টাইপ, তাদের সাথে গল্প করাটা মিশাতের জন্য ইদানিং একটা মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।। ওর গল্পে নাকি বড়োদের ব্যাপার স্যাপার বেশি থাকে। সেদিন রেনুকার সাথে কথা হচ্ছিলো ওর।

কথাপ্রসঙ্গে বললো, তোকে একটা গল্প বলি শোন
: গল্প? তোর গল্প মানেই তো পঁচা গল্প।
: কেন?
: তোর গল্পগুলো সব ইয়ে টাইপ..
: ইয়ে টাইপ, মানে?
: মানে হলো তোর সব গল্প শুধু একদিকেই যায়..


যতোটুকু ছুঁতে পারি

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৩/১৫/২০১২ - ৮:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বেশ কিছুদিন থেকেই রাতে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছি। আমার শত্রুও কখনো বলেনি জোঁক আর কুমির ছাড়া আমি আর কিছু ভয় পাই। সেই আমি রাতরাত কেমন ভীতুর ডিম হয়ে যাচ্ছি। আজব!


দূরের তারা

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: রবি, ০৩/০৪/২০১২ - ১০:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সম্প্রতি স্কুলে একটা নতুন দায়িত্ব ঘাড়ে চেপে বসায় আমার বেশিরভাগ সময় কাটছে কলেজ বিল্ডিং এ।  কাজটা লম্বা সময়ের যদিও, কিন্তু করতে হয় থেমে থেমে। আর আমাদের স্কুল বিল্ডিংটা থেকে কলেজ বিল্ডিংটা বেশ খানিকটা দূরে। এই কারণে একটু সময় পেলেই দৌড়ে স্কুল বিল্ডিং এ আমার পরিচিত গন্ডিতে আড্ডা দিয়ে কাটাবো সেই উপায়ও নেই। কাজেই এই সময়টাতে আমি বই পড়ি। সিরিয়াস টাইপ বই না। কলেজ লাইব্রেরি থেকে নিয়ে আসি হালকা


রাতঘোটকী

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: মঙ্গল, ০২/২৮/২০১২ - ৮:২৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কেমন যেন একটা খসখস শব্দ। ঘুম ভেঙে গেলো। অন্ধকারেই একটু স্পষ্ট করে দেখার চেষ্টা করি। কেউ যেন দাঁড়িয়ে আছে দরোজার কাছে। ভালো করে তাকাই। নাহ। কেউ নেই। চোখ বন্ধ করি। একটু পরে আবার সেই শব্দ। এবার একটু চোখ বড়ো করে তাকাই। হ্যাঁ। ওই তো কে যেন দাঁড়িয়ে ওখানে। শুধু অবয়বটা বোঝা যাচ্ছে। চোখ কচলে তাকাতেই দেখি নেই। ঘুম উধাও। চোখ বন্ধ করে ভাবছি, আসলেই কাউকে কি দেখলাম?


বৃশ্চিকেরা...

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
লিখেছেন সুলতানা পারভীন শিমুল (তারিখ: শুক্র, ০২/২৪/২০১২ - ৮:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই বছর আমার বাচ্চাকাচ্চা চল্লিশটা। বছর ভালো যাবে না মন্দ যাবে, এটা অনেকাংশেই নির্ভর করে এদের কর্মকাণ্ডের ওপর। যদি এরা হয় লক্ষীসোনা টাইপ, তাহলে তো স্বস্তির নিশ্বাস, আর যদি হয় বাচ্চা ভয়ংকর, কাচ্চা ভয়ংকর, তো সারা বছর ফাইল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে জান শেষ। আমার ক্লাসে অবশ্য সব টাইপই আছে। বাচ্চারা তুলনামূলকভাবে ফরম টিচারের কাছে সুবোধ হয়ে থাকে। অন্য ক্লাসগুলোতে গেলে বোঝা যায় এদের আসল রঙ। তবে ভাল