আসমা এবং অর্চনারা

স্নিগ্ধা এর ছবি
লিখেছেন স্নিগ্ধা (তারিখ: শনি, ২৫/০৪/২০০৯ - ১২:০৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ডাক্তারের চেম্বারটি বেশ। কন্টেম্পোরারি ফার্নিচার আর দেশী শিল্পীদের আঁকা অয়েলপেইন্টিং দিয়ে সাজানো মাঝারি ঘরটিতে ঢুকলে বোঝা যায় এনার রুচি ভালো, পসার ভালো, অতএব আশা করতে ইচ্ছে হয় চিকিৎসার হাতটিও ভালো।

অর্চনা অবশ্য এসব কিছুই ভাবছিলো না। বাবার হাত ধরে প্রাণপণে কাঁপুনি সামলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলো - যথারীতি। সারাক্ষণই শরীর কাঁপতে থাকে ওর। সারাক্ষণ। এমনকি ঘুমের মধ্যেও। শুধু ঘুমের সময় কাঁপুনির সংখ্যা অল্প আর বিলম্বিত হয়ে যায়, এটুকুই বাঁচোয়া। জেগে থাকা অবস্থায় এটা চলতেই থাকে, মানসিক অবস্থাভেদে মৃদু অথবা জোরালো হয়। আট বছরের ওপর হয়ে গেলো - বিভিন্ন ডাক্তারের দ্বোরে ঘুরে ঘুরে ক্লান্তি আর হতাশার পরিমাণ বেড়েছেই শুধু, কাঁপুনীও কমেনি, কষ্টও না। তার ওপর নিম্নবিত্ত বাবার লাগাতার অর্থব্যয়ের উৎস হয়ে থাকার অপরাধবোধ ওকে কেমন যেনো কুঁজোও করে ফেলেছে। কৈশোর এখনও পুরো কাটেনি যে মেয়ের তার দিকে তাকালে কেন প্রৌঢ়ত্বের আভাস পাওয়া যায় - সেই উত্তর কে দেবে!

নারী বিষয়ক যে এন জি ও টি ওর চিকিৎসার জন্য এযাবৎ কিছু সাহায্য টাহায্য করে আসছিলো, তারাও ইদানিং হাত গুটিয়ে নিয়েছে। না, অর্চনা বা ওর পরিবার ওদের কোন দোষ দেয় না। বাংলাদেশে কি কেবল একটিমাত্র অর্চনাই আছে নাকি! সত্যি বলতে, দোষ ওরা কাউকেই দেয় না। এমনকি ভাগ্যকেও নয়। শুধু, অর্চনার মা - এক অদ্ভুত মহিলা - কিছুতেই কেন যেন হাল ছাড়তে পারেন না! বিচার টিচার চাইবার মত নির্বোধ তিনি নন। যা ঘটে গ্যাছে তাকে পেছনে ফেলে এখন তার একমাত্র লক্ষ্য মেয়েটাকে কোনমতে যদি একটু সুস্থ করে তোলা যায়। আক্ষরিক অর্থেই শেষ সম্বলটুকুর বিনিময়ে এবার নামকরা এই ডাক্তারের কাছে অর্চনাকে পাঠিয়েছেন। নিজে তিঁনি গ্রামের মহিলা, শহুরে পথঘাটে ততটা সড়গড় নন বলে সাথে আসেন না। কিন্তু, অর্চনার বাবার কাছ থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রতিটা কথা জেনে নেন, ওষুধ এবং পরিচর্যার পুঙ্গানুপুংখু নির্দেশ মেনে চলেন। আর পাড়া প্রতিবেশী ঐ ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলতে আসলে, ঠান্ডা গলায় শুধু বলেন - “ভগবান সবার ভালো করুক।”

অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত লাগছিলো অর্চনার। ক্লান্ত অবশ্য সবসময়ই লাগে। লাগাতার শারীরিক কাঁপুনির ফল। পোশাক পরিবর্তন করতেও রীতিমত হাঁপিয়ে ওঠে। কোন একদিন যে এই মেয়েই কালবোশেখীর তুমুল ঝড়ের মধ্যেও পুকুরে দাপাদাপি করতো, সেটা এমনকি ওর নিজেরই আর বিশ্বাস হয় না। চমৎকার সেলাই করতো, বড়ি দিতে পারতো, দাদাদের সাথে কাড়াকাড়ি করে মা’র জন্য লাকড়ির কাঠ চিড়ে দিতো, পাশের পাড়ার শফিকুলের মুগ্ধদৃষ্টিতে আসন্ন নারীত্বকে যাচাই করে নিতে নিতে চাপা একটুকরো হাসিও পালটা ছুড়ে দিতো যে - সে কোন অর্চনা? এই মেয়েটিই??

হটাৎ করে খুব শুয়ে পড়তে ইচ্ছে হতে লাগলো। পাশের চেয়ার দুটো এখনও খালি আছে। বাবাকে বলে এখানেই একটু অন্তত আরাম করে হাত পা ছড়িয়ে বসবে নাকি ভাবতে ভাবতেই দেখলো চেয়ার দুটো দখল হয়ে গেলো। একটি তরুণী আর তার মা এসে বসলো।

মেয়েটি অর্চনার চাইতে কয়েক বছরের বড়ই হবে। পোষাক আষাকে বোঝা যায় শহুরে মেয়ে, অর্চনার মতো গ্রামে থাকা নয়। আর্থিক অবস্থাও খুব খারাপ নয় বলেই মনে হয়। তবে, সব ছাপিয়েও কোন একটা জায়গায় কেমন যেন চেনা চেনা একটা অনুভূতি হয়, কোথায় যেন ওর নিজের সাথে কী একটা মিল পায়, কিন্তু ঠিক ধরতে পারে না।

“আসমা, ঠান্ডা কিছু খাবি?” - মা’র প্রশ্নের উত্তরে চুপচাপ মাথা নাড়ে মেয়েটি। “চেম্বারটা কী সুন্দর, না রে মা?” আবারও চেষ্টা করেন মহিলা, কিন্তু মৃদু একটু মাথা নাড়ানো ছাড়া আসমার দিক থেকে আর কোন সাড়া পাওয়া যায় না। এবং, এটাই আসমার ‘অসুখ’। মেয়েটা কোন কথা বলে না, একদমই না। অথচ, মোটেই বোবা নয় ও! জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নববর্ষে বন্ধুদের কাছ থেকে ওর কপালে প্রতিবছর একই খেতাব জুটতো - ‘বাকবাকুম আসমা খাতুন’! মাঝে মাঝেই বাসার সব্বাই, বিশেষ করে মা বলতেন কী করে আসমা বিনা বিরতিতে এমন বকর বকর চালিয়ে যেতে পারে, ওর কি একটু ক্লান্তও লাগে না? এখন বোধহয় সেই প্রশ্নের জবাব পেয়ে গ্যাছে সবাই। ক্লান্ত লাগে আসমার। এতোটাই ক্লান্ত লাগে যে কয়েকবছর ধরে কোন কথাই আর বলে না ও। ঘটনাটা ঘটার পর যখন আরো অনেকের সাথে ওকেও পুলিশ এবং সাংবাদিকরা নানা প্রশ্ন করছিলো - কারা কারা ছিলো, কিভাবে ঘটনাটা ঘটেছিলো, ঠিক কী হয়েছিলো - আসমা কিছুই বলতে পারে নি।

প্রথমে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলো শক থেকে। সত্যিই যে এটাও সম্ভব, সত্যি সত্যিই যে ক্যাম্পাসের মধ্যেই মেয়েদের হলে ঢুকে কিছু ’দুর্বৃত্ত’ ছাত্রীদের ধর্ষণ করতে পারে,- এই বোধটুকুইওর চেতনায় ধরছিলো না। শারীরিক বা মানসিক যন্ত্রণা ছাড়াও প্রচন্ড একটা বিস্ময়বোধ ওকে আচ্ছন্ন করে ছিলো। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, মাইকের ঠ্যালাঠেলি, “আচ্ছা, আপনি কি কাউকে চিনতে পেরেছিলেন?”, “ঐ ছেলেগুলোর কারো সাথে কি আপনার কোন বিশেষ সম্পর্ক ছিলো?”, ” আপনি নাকি প্রায়ই রাতে রুমে থাকতেন না বলে শোনা যাচ্ছে?”, “আপনি কি দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি চান?” - অর্থহীন সব প্রশ্ন আর অন্তহীন সব প্রলাপ। শুনতে শুনতে একসময় মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে যেতে লাগলো। আর তারপর ক্রমশ অপরিসীম ক্লান্তি আর নিরাসক্তি এসে ওর সমগ্র চেতনা অধিকার করে নিলো।

“আর পারিনা , আর কতোক্ষণ যে বসায় রাখবো!” বিরক্তিভরা বিড়বিড় শুনে বাবার জন্য মায়া হয় অর্চনার। সত্যিই তো, আর কতোই বা পারে মানুষ? আর পাঁচজনেরই মতো আদর-শাসন-ভালো -মন্দ মেশানো বাবাটা যে ওর বড়োই সাধারণ, মা’র মতো নয় মোটেই। মেয়ের জন্য ভালোবাসায় কোন কমতি নেই ঠিকই, কিন্তু একইসাথে আছে অনেকধরনের অসহায়তা আর লজ্জা আর নিরুপায়তা। কিন্ত, মা? গ্রামের ঐ অশিক্ষিত , আটপৌরে মহিলাটি যে কী ধাতুতে গড়া সেটা কেউই আর ঠিক ঠাহর করে উঠতে পারছে না যেন! যেদিন হাঁটুর বয়সী একদল লোকের পা ধরে তার আট বছরের মেয়েটাকে রেহাই দেয়ার জন্য হাহাকার করছিলেন বাবা, মা তার শুধু হাতজোড় করে এটাই বলছিলেন - “বাবারা, একজন একজন করে যান, নাইলে মেয়্যাটা আমার বাঁচবে না ……” সেদিন থেকে অর্চনার বাবাও তার এতদিনের চেনা জীবনসঙ্গিনীকে আর ঠিক চিনতে পারছেন না! কিভাবে পারে ও? কিভাবে পারে এখনও হাসতে, বা চুল বাঁধতে, বা অর্চনাকে নিয়ে আশা করতে?

আচ্ছা, পাশের এই যে মা-মেয়ের জুড়ি, ওরাও কি এখনও আশা করে? স্বপ্ন দেখে? কী সমস্যা ওই মিষ্টি তরুণীটির? মানসিক ডাক্তারের চেম্বারে যখন, তখন মানসিক সমস্যা তো বটেই, কিন্তু কী এমন ঘটেছে যে এখানে আসতে হলো? টুকরোটাকরা এসব ভাবতে ভাবতেই তাকিয়ে দেখে পাশের মেয়েটি চোখ বুঁজে কেমন অসহায় ভঙ্গিতে বসে আছে, যেন কেউ ধরে না ফেললে আস্তে আস্তে পড়েই যাবে ও। আসলে এসি’র ঠান্ডা বাতাসে ঘুম চলে আসতে চায় আসমার। বেশীরভাগ সময় ঘুমিয়েই থাকে ও। জেগে থাকতে ক্লান্ত লাগে। আর, তাছাড়া জেগে থেকে করবেই বা কী? হাজার চেষ্টা করেও রকিবের কথা মাথা থেকে সরাতে পারে না। রকিবকে নিয়েও ওর প্রবল এক বিস্ময়বোধ কাজ করে। এত সহজ ভালোবাসা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া! এতোই সহজ একসাথে কাটানো চমৎকার সময়গুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া! শুনেছে গতবছর বিয়ে করেছে রকিব। মুখই না হয় বন্ধ ওর, কান তো আর নয়! যদিও পারলে বধির হয়েই বাকি জীবনটা কাটাতো । চারপাশে সুখী সব মানুষদের স্বাভাবিক সব কথা ! শুনলে অসহ্য লাগতে থাকে!

হটাৎ দরজা খোলার চারজনই চোখ ফিরিয়ে তাকায়। মহিলাটি ঢোকার সাথে সাথে পুরো চেম্বারটা পারফিউমের চাপা সুগন্ধে ভরে যায়। সুন্দর শাড়ি পরা, পরিমিত প্রসাধন করা, ঝকঝকে, উজ্জ্বল মহিলাটির দিকে তাকিয়ে হটাৎ করেই প্রচন্ড রাগ হতে থাকে আসমার। কেন? কেন ওরই হতে হলো ঐসব ? কেন ওই মহিলাটার মতো স্বাভাবিক একটা জীবন ও পেতে পারলো না? রাগটা প্রায় বিবমিষায় পরিণত হলো যখন বুঝতে পারে মহিলাটি নারী বিষয়ক একটি এন জি ও থেকে এসেছে।

“আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আমরা একটা সেমিনার করছি, বিশেষ করে ধর্ষণের শিকার হয় যে সব মেয়েরা তাদের প্রতি সমাজে একটা সহনশীল আর সহানুভূতিশীল মনোভাব যাতে গড়ে তোলা যায়, আমরা সে চেষ্টা করছি।” স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকে আসমা, অর্চনা দু’জনেই! এটা কি কোন ধরনের রসিকতা? এই মহিলাটি কি জানে ‘ধর্ষণের শিকার’ কথাটার মানে কী? সেই ‘শিকার’গুলো কিসের মধ্যে দিয়ে যায় সে সম্পর্কে ওনার কোন ধারনা আছে? কোন কোন ঘটনা থাকে যাকে ‘ঘটেছিলো’ বলা যায় না- ওটা ঘটতেই থাকে, ঘটতেই থাকে, শেষ আর হয় না, রেশ আর ফুরোয় না। এটাও সেরকমই। বাইরের পালিশ কম থাকলে মুখের ওপরই, আর বেশী থাকলে চোখের ইঙ্গিতে - এই তো তফাৎ, কিন্তু আঙ্গুল তুলে ‘শিকার’ দেখানো আর “আহারে, ইসসস, ...” বলতে বলতে বারবার ঘটনার ইতিবৃত্ত শুনতে চাওয়া - শেষ হয় নাকি আবার?! সেমিনার! শ্লেষে বেঁকে আসে ঠোট। মুখের ভেতরে থুথু জমা হয়। আক্রোশ আর কান্না সহস্রতম বারের মত ভেতর থেকে ঠেলতে থাকে, বের হতে যদিও পারে না।

ওদের চারজনের মুখ দেখে মহিলা একটু থতমত খেয়ে যায় বোধহয়। “না, মানে আমরা মেয়েদের অনেকরকম সমস্যা নিয়েই ডীল করি, ধর্ষিতাদের ব্যাপারটা তার মধ্যে একটা আর কি...” কি বলবে বুঝতে না পেরে অগোছালো ভাবে থেমে যায়। আর এমন সময় এতক্ষণ মহিলার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা সঙ্গীটি একটু সামনে এগিয়ে আসে।

মেয়ে? মেয়ে কি ঠিক বলা যায় ওকে আর? বোধহয় না। গলার স্বর ছাড়া বাইরে থেকে আর কোত্থাও আলাদা করে মেয়ে বলে সনাক্ত করা সম্ভব নয়। খুদি খুদি করে কাটা চুল, সমতল বক্ষদেশ, আর মেয়েলী কোমর কি নিতম্বের অনুপস্থিতিতে ওকে একটা উভলিঙ্গ প্রাণীর মতো দেখায়, যেন পুরুষের পোষাক পরিয়ে দিলে নির্দ্বিধায় রূপহীন কোন কিশোর বলে চালিয়ে দেয়া যাবে, আবার শাড়ি পরলে কষ্টকর হলেও মেয়ে বলেও মেনে নেয়া যাবে। তবে হ্যা, নারী হোক কিংবা পুরুষ - জীবন্ত একটি প্রাণী বটে। আর সাহসীও! অথবা নির্লজ্জ! এই চেহারা নিয়ে বাইরে বের হলো কী করে ও? ডানদিকের চোখ, কান কিছুই আর নেই। বামদিকের গালেও বোধহয় দু এক ফোঁটা ছিটে পড়েছিলো। আর চিবুকের নীচ থেকে কাপড়ের বাইরে যতটুকু দেখা যায় - নিকষ কালো কিছু কুঁচকোনো, দলাদলা চামড়া। এসিডটা যে-ই মেরে থাকুক, হাতের তাক আছে বলতে হবে! আসমা আর অর্চনা বোধহয় এই প্রথম, এতগুলো বছর পরে, অদের নিজেদের চাইতেও চৌচির হয়ে যাওয়া আরেকটি মেয়েকে দেখলো।

“আপারা, পারলে আপনারা সবাই আইসেন। বেশীরভাগ কথাই বুজি না। ক্যান ওইসব কথা কয় আর কী যে করে এই শিক্ষিত আপারা - কিসুই আমি বুজি না। তাও যাই ওনাগোর অনুষ্ঠানে। দেখি আগে লোকজন ধরতে গেলে আসতোই না, এখন তাও কিসু কিসু আসে। কথা শুনে, ফটো তুলে। খবরের কাগজেও নাকি ছাপে। তাতে অবশ্য আমার কুনু লাভ হয় নাই। কিন্তু, তাও আমি যাই। সবখানে যাই। মেলা হইলে যাই, পাড়ায় বিয়া হইতেসে শুনলে যাই, মাঝে মাঝে ছুডু বুইনের বান্ধবীরা যখন গল্প সল্প করতে থাকে ওইখানেও যাই। আমারে কেউ কুথাও ডাকে না, তাও আমি যাই। মানুষ আমারে দেখা ভয়ও পায় আবার টিটকারীও দ্যায়। তাও আমি যাই। যামু না ক্যান, কন তো আপারা?

মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?"


মন্তব্য

মূলত পাঠক এর ছবি

অসাধারণ !! গায়ে কাঁটা দেয় !

স্নিগ্ধা এর ছবি

আট নয় বছর আগে বাংলাদেশে ঘটনা দুটো সত্যিই ঘটেছিলো কিন্তু। নামটাম বদলে দিয়েছি - অবশ্য আসল নাম আমি জানিও না। বাংলাদেশের গ্রামে এক হিন্দূ মেয়ের মা ঠিক ঐ কথাগুলোই বলেছিলেন, তবে জাহাঙ্গীরনগরের মুসলমান মেয়েটা কী বলেছিলো জানি না। আর জেনেই বা কী!

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ হাসি

রণদীপম বসু এর ছবি

স্তব্ধ করে দিলেন আপা !
আপনার অদ্ভুত কলমটাকে শ্রদ্ধা !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

স্নিগ্ধা এর ছবি

এই যে দাদা - ঠিকমতো সমালোচনা করেন তো একটু! আমি এতো এতো মানুষের লেখায় মাতব্বরি করি, আর আমার লেখায় একটুও কিছু না বললে আমি কিন্তু মনে বড়ই দুস্কু পাবো!!

মাল্যবান এর ছবি

মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?"

কথাটা একেবারে বুকে গেঁথে গেলো ।
অপূর্ব গল্প লিখেছেন আপনি । বিষয় ও পরিবেশনায় অনবদ্য । কিছু লেখা পড়বার পরেও থেকে যায়, যাবে ; প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ,যন্ত্রণা হয়ে ক্ষতবিক্ষত করবে, এ লেখাটি তেমন।
আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ।

স্নিগ্ধা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, মাল্যবান! মূলত পাঠককে লেখা আমার মন্তব্যটা পড়ুন। গল্প, আবার গল্প না আসলে ......

স্নিগ্ধা এর ছবি

দেঁতো হাসি

জুলফিকার কবিরাজ [অতিথি] এর ছবি

উদ্ধৃতি
“বাবারা, একজন একজন করে যান, নাইলে মেয়্যাটা আমার বাঁচবে না ……” সেদিন থেকে অর্চনার বাবাও তার এতদিনের চেনা জীবনসঙ্গিনীকে আর ঠিক চিনতে পারছেন না! কিভাবে পারে ও? কিভাবে পারে এখনও হাসতে, বা চুল বাঁধতে, বা অর্চনাকে নিয়ে আশা করতে?

মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?"

আসলেই দারুন।

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ, কবিরাজ মশাই হাসি

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি

গল্প নয়, সত্যি।

হাবু বেশ বড়সড়,গাবুটা তো পিচ্চি
হেরে গিয়ে হাবু বলে--উৎসাহ দিচ্ছি!

জিজ্ঞাসু এর ছবি

সত্যি বলেই পড়তে গিয়ে ঝাপসা হয়ে আসে চোখ, বুকে জমাট বাঁধে ক্ষোভের দীর্ঘশ্বাস; নিজের মানুষ-জীবনকে ঘৃণা হয়।

___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে

স্নিগ্ধা এর ছবি

সেটাই !

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

সমালোচনা তারা করবে যারা সেটা করার ক্ষমতা রাখেন। আমি শুধু মুগ্ধতাটুকু জানায়ে গেলাম হাসি

মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?

... ... এই লাইনটা পড়ে তব্দা লেগে গেলো! আপনারা যখন আমার কিছু একটা পড়ে ভালো কিছু কমেন্ট করেন তখন আসলে কতোটা উদারভাবে সেটা করেন, এইসব পড়েই বোঝা যায়!

___________________________
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ

স্নিগ্ধা এর ছবি

আচ্ছা, অনুদারভাবে কঠোর সমালোচনাই না হয় করবো, তাও তো একটা বাংলা সিনেমা বা নাটক বা কিছু একটার রিভিউ লিখেন? কদ্দিন থেকে ঘ্যানঘ্যান করতেসি মন খারাপ

সুমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ! হাসি

এনকিদু এর ছবি

মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

সুজন চৌধুরী এর ছবি
স্নিগ্ধা এর ছবি

ঐ মেয়েগুলার কথা ভাবলে .........

রানা মেহের এর ছবি

এটা কী লিখলেন আপু?
হঠাত করে মনে হলো গালে চড় দিয়ে গেল কেউ

অনেকদিন পর লিখলেন
আবার থামবেন না যেন
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ, রানা হাসি

সুমন সুপান্থ এর ছবি

আগেও বলেছি বোধকরি স্নিগ্ধা - আপনার মৌলিক লেখাগুলো খুবই শক্তি রাখে । কিন্তু মন্তব্য করে বাকীদের উত্‌সাহ দিতে দিতে নিজের লেখার দিকে তাকানোর ফুসরত আর পাওয়া হয় না ! না ?

না হয় আমরা এমন সব গল্প পেতাম , আরও আরও । গল্প আর জীবন মিশে একাকার হয়ে থাকা এই কথামঞ্জুরী !

ভালো লাগলো । মনে হলো, আসলেই তো-
মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

স্নিগ্ধা এর ছবি

সুমন সুপান্থ - আপনারা যারা আসলেই লেখেন এবং গল্প লেখেন, তারা প্লীজ এটাকে গল্প বলবেন না! এটা বড়জোর স্মৃতিচারণ, কিংবা সরব দীর্ঘশ্বাস, অথবা ক্ষমাভিক্ষা - এর চাইতে বেশী কিছুই নয়।

তবুও, সুমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ হাসি

নাহার মনিকা [অতিথি] এর ছবি

স্নিন্ধা
গল্পটা পড়ে - দারুন হয়েছে এই জাতীয় কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। এই সত্যি ঘটনাগুলি যখন খবর হিসেবে ছাপা হয়, দুই চার দিন হৈ চৈ, মিডিয়া, তারপর যেই কে সেই... গা সওয়া মানুষ আমরা ।
আপনার লেখাটা আবার পুরনো খবরগুলোতে ফিরিয়ে নিল আর ধাক্কা দিলো।
এই রকম নাড়া দেওয়া লেখা আরো লিখুন।

স্নিগ্ধা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, নাহার মনিকা! আপনাকে কখনও বলা হয় নি বোধহয়, আপনার সব ধরনের লেখা লেখার ক্ষমতাটার প্রতি আমি বেএএশ ঈর্ষাতূর ! হাসি

সংসারে এক সন্ন্যাসী এর ছবি

পরিচিত মর্মান্তিক কাহিনী একটু ভিন্নতর (অথবা বলা চলে বাস্তবতর) দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষতার সাথে উপস্থাপিত বলে পড়া শেষে কষ্ট একেবারেই দুর্বহ হয়ে ওঠে।

অতি চমত্কার এই লেখাটি সর্বাঙ্গসুন্দর হবার যোগ্যতা রাখে বলেই তা টাইপোমুক্ত করার দাবি অসঙ্গত নয় বলেই মনে হয়।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টাকা দিয়ে যা কেনা যায় না, তার পেছনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয় কেনু, কেনু, কেনু? চিন্তিত

স্নিগ্ধা এর ছবি

সুমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ!

সত্যি বলতে কি, লেখাটা পোস্ট করার পর পরই কয়েকটা টাইপো চোখে পড়েছিলো, একজন সহ্নদয় সচল কিছু বানান ভুলও ধরিয়ে দিয়েছিলেন - কিন্তু, আমি ভয়ানক আলসে একজন মানুষ, কিছুতেই আর ঠিক করতে ইচ্ছে হলো না মন খারাপ করে নেবো, পরে।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

একটা সমস্যা আছে ।
কোন কোন কুশলী গল্পকার- বিষয় হিসেবে এমন মারাত্নক কিছু বেছে নেন( বলা ভালো নিতে পারেন), বিষয়ের কাছে সমালোচনাযোগ্য আর সব উপাদান- কাঠামো, প্রকরণ, ব্যক্রন সবকিছু মার খেয়ে যায় ।

পাঠক আচ্ছন্ন হয়, বিব্রত হয়, একাত্ন হয়- সমালোচনা করার বড় একটা সুযোগ আর হয়ে উঠেনা ।

স্নিগ্ধা আপনি ঐ কুশলটকু দেখালেন এই গল্পে ।

আপনাকে অভিনন্দন ।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

স্নিগ্ধা এর ছবি

হাসান মোরশেদ - আমার চাতুরী ধরে ফেলেছেন? হাসি আসলে আমার সমস্যা কোথায় জানেন? আমার মৌলিকতার বড়ই অভাব। খেয়াল করেছেন কি না জানিনা, আমি প্রায়ই অন্যের লেখার প্যারোডি করি। তার কারণ, কোন একটা কাঠামো পেলে আমার লিখতে সুবিধা হয়। আমি হয়তো প্রবন্ধ টবন্ধ লিখলেও লিখতে পারি, কিন্তু 'গল্প' তো আমার সাধ্যের সীমার অনেক অনেক বাইরে! আর সেজন্যই, কখনও ওধরনের কিছু লেখার একটা দুরভিসন্ধি জাগলে যে ঘটনা বা বিষয়গুলো আমার মনে গেঁথে বসে যায়/থাকে, সেগুলো নিয়ে একটা কিছু দাঁড় করানোর চেষ্টা করি - আর, আপনারা হয়তো বিষয়টির প্রতি সহমর্মিতা থেকে বা আমার প্রতি বিনয় বশতঃ সমালোচনা করেন না।

কিন্তু, এখন বলুন? প্রথম ধাক্কাটা তো কেটে গ্যাছে এতোক্ষণে - এবার একটু ঠিকমতো সমালোচনা করুন! আমি সত্যি সত্যিই এই লেখাটার একটা পোস্ট মর্টেম পেলে খুশী হতাম ...... হাসি

হাসান মোরশেদ এর ছবি

উঁহু, আবারো হলোনা যে স্নিগ্ধা হাসি
ঘটনাপ্রধান গল্পকে কিন্তু আমি মোটেও চাতুরী বলছিনা । আগের মন্তব্যে দেখুন ব্রাকেট বন্দী শব্দ । বিষয় হিসেবে মারাত্নক একটা কিছু বেছে নেয়া, যা আপনি নিয়েছেন সেটাকে কেবলই কুশল বলছিনা- এটা দারুন দক্ষতা ও বটে ।

আমাদের অনেকের গল্পে মেকানিজম থাকে, আংগিক কাঠামো সবই ঠিকঠাক কিন্তু ভেতর থেকে দেখা যায় গল্পটাই নেই ।

আপনার গল্পে যেহেতু গল্পটুকু আছে- বাকীটুকু তার কাছে গৌন হয়ে পড়ে ।

তবু যদি সমালোচনা করতেই হয় তবে বলি-

এতোটা উচ্চকিত না হয়ে ও কি ম্যাসেজ পৌঁছে দেয়া যায়না পাঠক কে? শেষের চরিত্রের মুখ দিয়ে যে কথাগুলো বলালেন আপনার গল্পের কোর ঐ অংশটুকুই । এটা ঠিক বক্তব্য আকারে না হয়ে অন্য কোন ভাবে, গল্পের ছলে অথবা চরিত্রগুলো আন্তঃক্রিয়ায় প্রকাশ পেতে পারতো ।
এক্সপ্লিসিটলি ম্যাসেজ দেয়া হয়ে গেলে পাঠকের জন্য যে কিছুটা শুন্যতা দরকার সেটায় ঘাটতি পড়ে যায়, মনে হয় ।

আপনাকে এতো কথা বললাম- আমার নিজের লেখাগল্প গুলোতেই এই সমস্যা প্রকট হাসি

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

স্নিগ্ধা এর ছবি

এতোটা উচ্চকিত না হয়ে ও কি ম্যাসেজ পৌঁছে দেয়া যায়না পাঠক কে?

একদম ঠিক! ধন্যবাদ, অশেষ হাসি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

চলুক

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

অম্লান অভি এর ছবি

আপনার গল্পের নেপথ্য নায়কেরা শিক্ষকের পদমর্যাদা পায় আর বানায় চাটুকার কিছু প্রদর্শিত ছাত্র নামের কলঙ্ক। শুধু আপনার প্রকাশ্য নায়িকারাই বহন করে দহন জ্বালা; বহন করে তাদের ঘিরে পাশের আপন জন।
এমন উৎস্য শুণ্য হোক আপনার কলম কিন্তু এই লেখার শক্তিকে শ্রদ্ধা জানাই-কারণ এই গল্প ধিক্কার আর সহমর্মিতাও শেখায় মানবিকতাকে সামনে রেখে।
বর্ণনা বেশ বাহ্ বলতে বলছে মন তাই বাহ্ লেখনীকে।

মরণ রে তুহু মম শ্যাম সমান.....

স্নিগ্ধা এর ছবি

এমন উৎস্য শুণ্য হোক আপনার কলম কিন্তু এই লেখার শক্তিকে শ্রদ্ধা জানাই

ঠিক বুঝি নি যদিও, কিন্তু প্রশংসাই করেছেন মনে হচ্ছে, অতএব ধন্যবাদ হাসি

অনিকেত এর ছবি

অনেকদিন ধরে না-লেখার অপরাধ, সময়ে-অসময়ে আমাকে ঝাড়ি মারা---আপনার সকল অপরাধ ক্ষমা করা হল, স্নিগ্ধা'পু !!!

এরকম একটা লেখার জন্যে সবকিছু ক্ষমা করা যায়---!!!

শুভেচ্ছা!!!

স্নিগ্ধা এর ছবি

অসময়!!! ঝাড়ির আবার অসময় আছে নাকি?! আর, তাছাড়া সময়ে-অসময়ে, সবসময়ে এই বিনীত প্রশ্ন কি আমি রাখি না, যে - "অনিকেত, কুসুমকোমল ভ্রাতঃ আমার, আমি মুখ খুললেই যেহেতু আপনার পিলে চম্‌কে যায়, মুখটা কি আ্দৌ খুলবো? আপনার সুকুমার কানে কি তা সইবে?"

ক্ষমা পেয়ে আমি লাফাচ্ছি দেঁতো হাসি

ফাজলামি বাদ দিয়ে বললে বলতে হয়, ধন্যবাদ হাসি

দৃশা এর ছবি

নুরুজ্জামান মানিক ভাইয়ের থাম্বস আপ টা কই গেল রে, কেউ এট্টু ধার দেন।
ভদ্দরমহিলা আফা এইটা কি লিখল, কমেন্ট করার তো ভাষা নাই, বুড়া আঙ্গুলই না হয় দেখাইয়া যাই।

দৃশা

স্নিগ্ধা এর ছবি

দৃশা, নুরুজ্জামান মানিকের হাতি সাইজের থাম্বস আপটা তো আমিই ধার নিসি, আপনাকে দেয়ার জন্য!! চাক্কি বের হওয়া চাট্টিখানি কথা! হাসি

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

এ ধরনের গল্প পড়ি নি, তা নয়।
জীবনের সত্যিকার কাহিনী উঠে আসে অনেকেরই কলমে। কিন্তু শেষটুকু দিয়েই স্নিগ্ধাদি অন্য একটা জায়গায় নিয়ে গেল।
প্রবল আশাবাদ দিয়ে আবার শুরু হোক জীবনের জয়যাত্রা। পূর্ণিমা নামের একটি মেয়েজে তো আজও ভুলতে পারি না...
আর স্মৃতিকণা নামের আরো একটি মেয়ে, যার বয়স প্রায় আমারই কাছাকাছি, তার ঘটনা জেনে ছেলেমানুষ আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি ওদের পরিবার থেকে মেনে নেয়, তাহলে মেয়েটিকে বিয়ে করব...
তারপর তো ছেলেমানুষ থেকে একসময় বড়মানুষ হয়ে গেলাম... তার কাছে আর যাওয়া হয় নি!
অবশ্য আরো একটি ব্যাপার মনে হয়েছিল। সারাজ্রীবন তার মনোকষ্টের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক সামর্থ সত্যি সত্যিআমার আছে তো?
---------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ, মৃদুল! কিন্তু, তোমার কাছ থেকে সমালোচনা আশা করসিলাম, আসলেই। আমি তোমার মত গল্পকারের কত গল্পেও কত মাতব্বরি মার্কা মন্তব্য করসি, সিম্পলি পাঠকের স্পর্ধায়, আর তুমি কিন্তু কিছুই বললা না ......!

নজমুল আলবাব এর ছবি

এইসব গল্প করে মন্তব্য করার ক্ষমতা লাগে। আমার সেটা নাই। আমি এক সহজ মানুষ, শুধু মন খারাপ করি, আপ্লুত হই।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

স্নিগ্ধা এর ছবি

এইসব গল্প করে মন্তব্য করার ক্ষমতা লাগে। আমার সেটা নাই।

এতো বিনয় কেন, নজমুল আলবাব! নাহয়, আপনি মানুষটা ভালো খুবই, তারপরও - এতোটা বিনয়ের আপনার দরকার নেই মোটেই!

জিফরান খালেদ এর ছবি

আমার মনে আছে, হাসান মোরশেদ ভাইয়ের একটা লিখায় এই ঘটনা নিয়া প্রথম পড়ি... ঐ যে মহিলার স্থৈর্যের মতো করে করা অনুরোধটা... তারপর, হাসান ভাইয়ের ঐ লিখাটি অনেককে দেখিয়েছি...

যাক, সেসময় যে অনুভূতিটুকু হয়েছিলো, আবারো সেই অনুভূতিটাই আক্রান্ত করলো...

এই অনুভবে এমন কিছু হয়তো বলা আছে,

'হে নারী, এই অসম্মানের জন্যে, রিরংসার এই ধৃষ্ট প্রদর্শনীর জন্যে, জগতের সকল পুরুষের পক্ষে থেকে আমি নতজানু হয়ে তোমার ক্ষমা ভিক্ষা করছি।'

এমন কিছু একটা... সে যাক...

লিখটা একটা সোশ্যাল স্টেইটমেন্ট, তীব্র একটা স্টেইটমেন্ট আশলে... আপনার শিরোনামো সেইরকমই বলে... 'গল্প'-এর খাতিরে পরিবর্ধনের কথা ভবিষ্যতে ভাববেন কি?

যদিও আপানি আপনি খাতির করেন না তেমন...

স্নিগ্ধা এর ছবি

'গল্প'-এর খাতিরে পরিবর্ধনের কথা ভবিষ্যতে ভাববেন কি?

হা হা হা, জিফরান - চমৎকার কুশলী একটা পাঞ্চ! Gracefully served too হাসি লেখাটা আসলে ঠিক সোশ্যাল স্টেইটমেন্টও না, বলা যায় পার্সোনাল স্টেইটমেন্ট। যদিও - আমার নিজেকে বা প্রমিকে ঐ জায়গায় দাঁড়াতে হলে এইরকম সব আশাবাদী কি সাহসী কি লড়াকু মনোভাব আর কতটা বাকি থাকতো আমি সত্যিই জানি না!

আর, আমি কিন্তু হাসান মোরশেদের ওই লেখাটা পড়ি নি, আমাকে একটু লিঙ্কটা পাঠাতে পারো?

কনফুসিয়াস এর ছবি

শেষ লাইনটায় দীর্ঘশ্বাস আটকানো গেলো না।
গল্পের কল-কব্জা জানি না, কিন্তু পড়ে ভাল লাগলো, এটুকু বলতে পারি।

-----------------------------------
আমার ইচ্ছে হলো বাজাতে গীটার, মন আমার, মন আমার, মন আমার-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

জিফরান খালেদ এর ছবি

কনফু ভাইরে এধরণের অপরাধসম বিনয়ের জন্যে ফৌজদারী বা সাহিত্যিক শাস্তির দাবী জানাই।

স্নিগ্ধা এর ছবি

আমিও জানাই!!! কনফুসিয়াস, আপনাকে যদি শুধু অসাধারণ গল্পকারই নয়, খুব ভদ্র (সর্বার্থে) একটা মানুষ হিসেবেও না ভাবতাম, তাহলে ভাবতাম শ্লেষ করছেন!

যেহেতু জানি যে, তা নয় - অতএব, অনেক অনেক ধন্যবাদ হাসি

দময়ন্তী এর ছবি

চলুক
গল্পগুলো চেনা৷ খুব চেনা
স্রেফ শেষ লাইনটার জন্য ---- এই মেসেজটার জন্য আপনাকে একটা আভূমিনত হয়ে কুর্নিশ করলাম৷

--------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

স্নিগ্ধা এর ছবি

দময়ন্তী, আপনারই এক লেখা থেকে জানি, শেষ লাইনটা আপনারও -
কাজেই পালটা কূর্ণিশ জানালাম হাসি

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

এসব ভয়ঙ্কর সত্য, গল্প বলি কী করে!
লেখাটা দূর্দান্ত...

স্নিগ্ধা এর ছবি

গল্প না তো শিমূল, কোনদিক থেকেই! ধন্যবাদ হাসি

s-s এর ছবি

স্নিগ্ধা!
অনেকদিন পর।
আপনার লেখা।
সেটাই এ মন্তব্যের মূল অনুঘটক -- নিশ্চয়ই।
তারপরও বলি,-------------
খুব--------- খুব ভালো লাগছে আপনাকে দেখতে পেয়ে। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, লেখার জন্য।
লেখার মান বা বিষয় নিয়ে অতিকথন না করি, এত বলা হয়ে গ্যাছে ওপরে - শুধু মোর্শেদের সাথে একমত প্রকাশ করে বলতে চাই গুণাগুণ বিচার গৌণ হয়ে দাঁড়ায় যেখানে আমার মনের কথাটা বলে দেন লেখক, অতি সরলতায়। অতি সহজে, "সহজ কথা যায়না বলা সহজে" জেনেও।
আমার মন শুধু জিজ্ঞেস করে, এতো আশাবাদী আমরা, মেয়েরা, তারপরও কেন মরবো শুধু শুধু বলুনতো? মরি যখন নি" তখন "ভালো যদি বাসো, তবে সবটা বাসো, বছর জুড়ে"বলতে বা চাইতে ক্ষতি কি ?
মনটা খুব ভরে গ্যালো স্নিগ্ধা, আপনার লেখাটা পড়ে- অনুভব করে!
ভালো থাকবেন, মরি যখন নি, অবশ্যই, বেশি করে! অনেক অনেক বেশি করে!!
পূর্নতায় সানন্দ শুভকামনা,
সেঁজুতি

বি:দ্র: জীবন যখন ফুরায়ে যায় করুণা ধারায় এসো--------
আশা করি প্রাণ ভরে সকল মাধুরী লুকায়ে গেলেও আপনার লেখনী আসবে - নিশ্চিত ভাবেই, তাই তো?

আদৌ কি পরিপাটি হয় কোনো ক্লেদ?ঋণ শুধু শরীরেরই, মন ঋণহীন??[/color]

স্নিগ্ধা এর ছবি

আমাকে তো দেখাই যায়, সেঁজূতি, দেখা বরং যায় না আপনাকে! কবিতা যদি বা না-ও লিখে থাকেন, অন্য কিছুই কি লেখেন নি? সেগুলো কোথায়?

আশাবাদ আসলে যে কোন 'বাদ'এরই মতো, পুরোপুরি পালন করা বড্ডই কঠিন। তাও চেষ্টা তো করতেই হবে, না কী বলেন? হাসি

আপনি আছেন কেমন? মাঝে মাঝে বেশ আন্তরিক চিঠি ফিঠি লিখে, আবার হাওয়া ...... ! রাগ হয় রীতিমতো!

বিঃ দ্রঃ এর উত্তরে - ভালো আছি হাসি

মাহবুব লীলেন এর ছবি

ঘটনাগুলো আমাদের সবাইর জানা ছিল
ভুলেও বোধহয় গিয়েছিলাম

মনে করিয়ে দিলেন আবার

স্নিগ্ধা এর ছবি

নাসরিন হককে মনে আছে? এসিডদগ্ধ মেয়েদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। তিন বছর আগে, এই এপ্রিল মাসেই মারা যান তিনি। আমার ভাইয়ের বন্ধু ছিলেন। আমার সাথে যে অনেক আলাপ ছিলো তা না, কিন্তু কেন যেন মাঝেই মাঝেই তার কথা মনে পড়ে। বিশেষ করে তখন, যখন কাজের কাজ কিছুই না করে, ফালতু ফালতু আশাবাদের কথা শোনাই ......

সবজান্তা এর ছবি

বাহ, আপনার হাত দিয়ে এতো চমৎকার, চাবুকের মত, অ-উত্তরাধুনিক লেখা দেখে আনন্দিত হলাম।

লেখার প্রশংসা সবাই করে ফেলেছে, আমি শুধু আপনার আক্কেলের প্রশংসা করি... এতোদিন কীভাবে ডুব মেরে ছিলেন, কিছু না লিখে !!!


অলমিতি বিস্তারেণ

স্নিগ্ধা এর ছবি

এটা 'উত্তরাধুনিক' লেখা - আমি একদম অফিসিয়ালী ঘোষণা দিলাম রেগে টং

আমার মনে হয় তোমার সাথে কথা টথা বলার জন্যই আক্কেলের এহেন উন্নতি হচ্ছে! এ ছাড়া তো আর কোন কারণই দেখি না!

তুলিরেখা এর ছবি

স্নিগ্ধা,
খুব ধারালো আপনার লেখা, সরাসরি বিঁধে যায়।
আরো লিখুন, আমাদের আশেপাশে জমে থাকা অন্ধকারগুলোতে আগুনের তীর ছুঁড়ে মারুন।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ, তুলিরেখা হাসি

খেকশিয়াল এর ছবি

এই গল্প পড়ে মন্তব্য করা যায় না, চুপ করে যেতে হয়।
আপনার লেখার হাত খুবই ভাল, ডুব দিয়েন না বেশী বেশী।

------------------------------
'..দ্রিমু য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ, খেকশিয়াল হাসি

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

ভুলে যাওয়া ঘটনাগুলো আবার দরজায় এসে দাঁড়ালো। দীর্ঘশ্বাসও বয়ে গ্যালো অনেকটা। মন খারাপ

স্নিগ্ধা এর ছবি

সেই তো ...... !

আকতার আহমেদ এর ছবি

স্নিগ্ধাদি, তোমার গল্প নিয়ে আলাদা করে কিছু বলছি না। সবাই বলে দিয়েছেন যা বলার। তবে অনেক ক্ষমতা থাকার পরও লেখালেখি নিয়ে তোমার এই নির্লিপ্ততায় কিন্তু মেজাজ খারাপ হয়!

স্নিগ্ধা এর ছবি

তাই? মেজাজ খারাপ হয়? কী আশ্চর্য্য!! আমার কিন্তু কোন কোন দুর্দান্ত ছড়াকার মাসের পর মাস ঘাপ্‌টি মেরে থাকলে, বড়ই আনন্দ হয়!

ফাজলামি বাদ দিয়ে - ছড়া লিখো তো একটা, শিগগীর হাসি

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

বিচার টিচার চাইবার মত নির্বোধ তিনি নন।

....

আসমা আর অর্চনা বোধহয় এই প্রথম, এতগুলো বছর পরে, অদের নিজেদের চাইতেও চৌচির হয়ে যাওয়া আরেকটি মেয়েকে দেখলো।

....

"মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?"

বেঁচে থাকার সাহস বলি, আর নির্লজ্জতা বলি, এই মোকাবেলা সত্যিই অদ্ভুত রকম! আর, এমন মর্মী এমন স্পর্শী বিবরণ আরো অদ্ভুত!
স্যাল্যুট! চলুক

০-০-০--০-০-০-০-০-০-০-০-০-০-০
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

তানভীর এর ছবি

গল্পের আসমা, অর্চনারা আমাদের মনে সাময়িক দুঃখবোধই জাগায় শুধু। তারপর আমরা আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ি নিজেদের কাজে। বাস্তবের আসমা, অর্চনাদের জীবন চলে অন্য কোথাও, অন্য কোনখানে- যার দেখা আমরা পাই না বা কখনো পেলেও সযত্নে এড়িয়ে যাই। আমরা খুশি থাকি এই ভেবে আমাদের নিজস্ব চাকচিক্যময় আপাতসুন্দর জীবনে কোন আসমা, অর্চনা নেই; থাকলে বড় বেমানান হতো।

ও হ্যাঁ, নিজের কথাই আসলে বললাম আর কী। চিন্তাভাবনা সবসময় সীমাবদ্ধই রয়ে গেল মন খারাপ

লেখার জন্য ধন্যবাদ।

স্নিগ্ধা এর ছবি

পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ হাসি

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

আপনার লেখার কথা কিছু বলবো না, স্নিগ্ধাজী।
"মইরা যখন যাই-ই নাই, তাইলে বাঁচুম না ক্যান?"
এই ধরণের প্রসঙ্গ যখনই আসে আমিও এই কথাটা ভাবি, একটা দুর্ঘটনা, যেটার জন্য মেয়েটা কোনোভাবেই দায়ী নয়, সেই ঘটনার জন্য মেয়েটাকেই কেন সমাজে অপমানিত হতে হয়? কেন মাথা নিচু করে চলতে হয়? কি গেলো মেয়েটার? সতীত্ব? সেটা দিয়ে কি হয়? সযত্নে ধরে রেখে সেটাও তো তুলে দিতে হয় ওইরকমই আরো একটা পুরুষের কাছে? তাতে কি লাভ হয়? কতোজন পুরুষ ব্যাপারটাকে যথাযথ সম্মান দেখায়? আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আশেপাশে থেকে দেখা এবং শোনা ঘটনা আমার ভেতর বিচ্ছিরি একটা কনসেপ্ট তৈরি করে দিয়েছে।

দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। হাত পা কেটে যাওয়ার থেকে খুব বেশি আলাদা করে কি দেখা উচিত এটাকে? সন্দেহ নেই, এটা ভয়ংকর একটা অভিজ্ঞতা, দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে ফিরুক নাহয় কিছুদিন। কিন্তু কতো দিন? আরেকজনের নোংরামির দায়ভার সে কেন মাথা নীচু করে সারাটা জীবন সয়ে যাবে, বয়ে বেড়াবে, বলেন তো?

সেদিন টিভিতে একজন কোরিওগ্রাফারকে দেখলাম, এইরকম একটা থিম নিয়ে নাচ করেছে, এবং প্রশংসা পাবার পর স্বীকার করতে তার বাঁধলো না কোথাও, যে তার সাথেও এরকম ঘটনা ঘটেছে। এবং সেটাকে পাত্তা না দিয়ে সে তার অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। দ্যাটস দ্য স্পিরিট। এতো ভালো লাগলো মেয়েটাকে আমার। আসলে এই মেয়েগুলোকে ভেঙে দিই আমরা। আশেপাশে তথাকথিত চরিত্রবান এবং চরিত্রবতী যারা থাকেন। আমরা কেন অতো সিমপ্যাথী দেখিয়ে বারবার তাকে ওই ঘটনাই মনে করিয়ে দেই? একটু নরমাল আচরণ কি আমরা করতে পারি না তাদের সাথে?
ডিসগাস্টিং, না?

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

স্নিগ্ধা এর ছবি

শিমূল, সত্যি সত্যি খারাপ লাগলো আপনার ভেতর "বিচ্ছিরি একটা কনসেপ্ট" তৈরী করে দেয়া হয়েছে শুনে! আপনার লেখা পড়ে মনে হয় আপনি খুব হাসিখুশী একজন মানুষ, আপনার ভেতর 'বিচ্ছিরি কনসেপ্ট' থাকতেই দেবো না! আমি জানি, আমার পক্ষে বলাটা অনেক সহজ, কারণ আমি বাংলাদেশে থাকি না, কিন্তু তা-ও বলি - কনসেপ্টটাকে চ্যালেঞ্জ করুন, আপনার আশেপাশের মানুষগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিকেও, নাহলে 'মেয়ে' হিসেবে সুখী হওয়াটা কষ্টকর হয়ে ওঠে যে! জানি না কী কারণে, আমি নিজে মেয়ে বলে, আর আমার একটা মেয়ে আছে বলেও - আমার কেন যেনো ফূর্তি ফুর্তি লাগে হাসি

এটা ২০০৯ সাল, তারপরও কিছু কিছু মানুষের, এবং তাদের মধ্যে অবশ্যই মেয়েরাও আছে, কথা টথা শুনলে খুবই হতাশ লাগে! এতো কথাবার্তা, এতো লেখালেখি, মিডিয়ার কারণে এতো এক্সপোজার, তারপরও দেখি যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি। বিরাট কোন নারীবাদী বা 'আধুনিক' বা লিবারেল দৃষ্টিভঙ্গি থাকার তো কোনই দরকার নেই, সামান্য একটু মমত্ববোধ থাকলেই কিন্তু চলে! মানুষ এত কৃপণ কেন?!

আপনি একদম ঠিক বলেছেন - ওটা নিছক একটা দুর্ঘটনা! একটা কথা কী জানেন, আমি সতীত্ব ব্যাপারটাতেই বিশ্বাস করি না। অতএব ওটা হারাবার প্রশ্নই নেই। যা নেইই তা আবার হারাবে কী? অত্যাচার বা নির্যাতন বা শারীরিক আক্রমণ, সবই শরীরের সাথে সাথে মনকেও ভীষণভাবে আক্রান্ত করে, এইই তো। এর চাইতে বেশী আমরা এটাকে কেন বানাই?

তবে, একটা কথা বলি - আমার চেনা একাধিক ছেলের (বাংলাদেশী, আমাদের মতো পরিবার থেকেই আসা) কথা জানি - যারা ছোটবেলায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলো। আর, মেয়েদের কথা তো জানিই। একজনের কথা জানি যার ক্ষেত্রে ঐ জানোয়ারটি ছিলো খুবই 'ঘনিষ্ট' একজন। অতএব, এসব নোংরামী টোংরামী থাকেই, কিন্তু, তারপরও - আশা করবো না নাকি!

ঐ কোরিওগ্রাফারের নাম কী?

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

সোনিয়া।
ইন্ডিয়ান। "ঝালাক দিখলা যা" নামের একটা নাচের প্রোগ্রাম করছে।
সেটাই স্নিগ্ধাজী। এইসব নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখলে আমার রাগ হয় খুব।

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

তিথীডোর এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু
আপাতত আরকিছু লেখার ক্ষমতা নেই।

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।