শর্মিলা বসুর কল্পজগৎ। পর্ব দুই।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: মঙ্গল, ২৯/০৩/২০১১ - ৮:৫১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পাকিস্তানি জেনারেলদের প্রতি শর্মিলা বসুর বাড়তি আকর্ষণ আছে। গণহত্যাকারী এই বর্বরদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলা ভাষায়, ইংরেজি ভাষায় প্রচুর বই ছড়িয়ে আছে। একাত্তরে ছড়িয়ে থাকা সত্যমিথ্যার মধ্যে তিনি পাকিস্তানি জেনারেলদের কথার মধ্যে সত্যতা বেশি পান। খুঁজেপেতে সেটাই প্রকাশ করেন। যখন তিনি একাত্তরের যুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধাপরাধকে অস্বীকার করেন আর সেটা প্রমাণ করতে চান সেসব যুদ্ধাপরাধীদের বক্তব্য দিয়ে তখন তার বক্তব্যকে জোরালোভাবে প্রতিহত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। একাত্তরের যুদ্ধে শোষক শোষিতের সমীকরণকে পালটে দেয়ার একটা দায় তিনি কাঁধে নিয়েছেন। এর পেছনে কারা তাকে চালিত করছে সেটা নিয়ে নানারকম বক্তব্য পাওয়া যায়। একাত্তর নিয়ে বক্তব্যের নতুনত্বের জন্য পাকিস্তানপন্থী ব্লগ, পত্রিকা তার কথাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। শর্মিলা বসু পাকিস্তানি জেনারেলদের গুণগান প্রথম করেছিলেন পাকিস্তানের ‘দা ডেইলি টাইমস্‌’ পত্রিকায়। ‘The courageous Pakistan army stand on the eastern front’ শিরোনামের এই লেখায় তিনি যুদ্ধাপরাধী নিয়াজির ব্যাপারে বসুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন-

In the process of inflicting military defeat upon my ancestor, Niazi’s performance was so exceptional that the British awarded him an on-the-spot Military Cross for action on the Assam-Burma front in June 1944. On another occasion they wanted to award a DSO, but he was too junior, so a Mention in Despatches was recorded. In the original record of his MC signed by his commanding officers all the way up to Slim, which I obtained from the British Ministry of Defence, the British commanders describe Niazi’s gallantry in detail: “He organized the attack with such skill that his leading platoon succeeded in achieving complete surprise over the enemy.” They speak of how he personally led his men, the ‘great skill and coolness’ under fire with which he changed tactics with changing circumstances, created diversionary attacks, extricated his wounded, defeated the enemy and withdrew his men by section, remaining personally at the rear in every case.

The British honoured Niazi for “personal leadership, bravery and complete disregard for his own personal safety.” On 15 December 1944 the Viceroy Lord Wavell flew to Imphal and in the presence of Lord Mountbatten knighted Slim and his corps commanders Stopford, Scoones and Christison. Only two ‘Indian’ officers were chosen to be decorated by the Viceroy at that ceremony — ‘Tiger’ Niazi was one of them. (Times 2003)

শর্মিলা বসুর একাত্তর নিয়ে নতুন ন্যারেটিভের যাত্রা সেই থেকে শুরু।

২০১১ সালে মার্চের পনেরো তারিখে ওয়াশিংটন ডিসির উইড্রো উইলসন সেন্টারে এক জায়গায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জানান- জেনারেল ইয়াহিয়াকে নিয়ে কামরুল হাসানের কার্টুন ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শত্রুপক্ষকে

পটুয়া কামরুল হাসানের ইয়াহিয়া-স্কেচ
অহেতুক ছোটো করানোর ব্যাপারে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষের লোকজন এককাঠি সরেস বলে তার মত। পাকিস্তানি সৈন্যদেরকে বর্বর, হিংস্র হায়েনা, রক্তলোলুপ, দস্যু বলে ডেকে তাদের প্রতি রেসিস্ট আচরণ করা হয়েছে বলে সেখানে বক্তব্য দিয়ে এসেছেন শর্মিলা বসু।


ওরা আমার পাকিস্তানি দেবদূতদের বর্বর বলে গালি দেয়


ইয়াহিয়ার মতো একটা ভালো মানুষের কি কার্টুন না ওরা এঁকেছে!

তার মতে পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতীয়তাবাদিদের সাথে এরকম রেসিস্ট আচরণ করতো না। পূর্ব-পাকিস্তানের সংগ্রামীদের মুক্তি, মিস্‌ক্রিয়েন্ট এর বেশি কিছু বলে গালি দেয়ার সংবাদ শর্মিলা বসুর কান পর্যন্ত যায় নি। আর.জে. রামেলের বইতে দেখি পাকিস্তানিদের আচরণ কি ছিল-


(Rummel 1996: 335)

রামেলের বইতে উল্লেখ করা তথ্যের সূত্র আবুল মাল আব্দুল মুহিতের Bangladesh: Emergence of a Nation বই। জেনোসাইড নিয়ে অন্যান্য ইংরেজি বইতে রামেলের বইতে উল্লেখ করা বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি আছে। এন্টি- বেঙ্গলি রেসিজমের কথার উল্লেখ পাওয়া যায় বেশ কয়েকটি বইতে। শর্মিলা বসু এসব তথ্য উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করেন নি। অ্যান্থনি মাসক্যারেনহাসের বই থেকে, ১৯৭১ সালের জুনে প্রকাশিত তাঁর সংবাদ থেকে বিহারি-হত্যার তথ্য বারবার উল্লেখ করেন। সেই একই বইতে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বরতার তথ্য তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।


(Gerlach 2010: 130)


(Kinloch 2005: 25)

পাকিস্তানিরা গালিতে অক্ষম একটা জাতি নয়, আর একাত্তরে তাদের হাতে ছিল সর্বময় ক্ষমতা সাথে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। কিন্তু শর্মিলা বসুর কল্পজগৎ আমাদের তথ্য দিতে চেষ্টা করে- একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে অমানুষিক অত্যাচার করার সময় তাদেরকে মধুর সম্ভাষণ করা হতো।

যুদ্ধের মধ্যে পাকিস্তানি শোষক শত্রুপক্ষকে করা খিস্তি খেউর নিয়ে শর্মিলার বসুর তার মানবিকতা খরচ করেন। তবে একাত্তরে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের অস্ত্রহীন মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্বর হত্যাকাণ্ড চালালে তার মানবিক অনুভূতিতে বাড়তি কোনো চাপ পড়ে না। খানসেনার (ইয়াহিয়া খানের দোসর সেনাবাহিনী বলে খানসেনা) মতো নিরীহ শব্দেও তিনি আহত হন। তিনি বলেন- শত্রুপক্ষকে এই গালি দেয়া হয়, কিন্তু সেই শত্রুপক্ষ এই গালিটি সম্পর্কে কিছুই জানেই না।

শর্মিলা বসুর একটি নতুন আবিষ্কার- একাত্তর-পূর্ব বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদিদেরভ স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি-দাওয়া কোনো অর্থেই অস্ত্রশস্ত্রহীন ছিল না। সেটা ছিল সশস্ত্র। ‘অ্যানাটমি অব ভায়োলেন্স' পেপারে তিনি লিখেন-

“There are two basic problems here”, wrote Henry Kissinger in a secret memo to President Nixon on March 13, 1971, “(1) Rahman has embarked on a Gandhian-type non-violent non-cooperation campaign which makes it harder to justify repression; and (2) the West Pakistanis lack the military capacity to put down a full scale revolt over a long period.”

Kissinger was right about the second point, but dead wrong about the first. The rebel movement in East Pakistan led by Sheikh Mujibur Rahman bore no resemblance to the path of non-violence advocated by Gandhi against British rule in India. Despite some rhetorical calls for restraint, the movement was openly, and proudly, armed and militant. Personal memoirs of the time recount large public meetings in Dhaka since March 1, with the crowds carrying bamboo sticks and iron rods, calls to “take up arms”, incidents of bomb-throwing and shooting, and military-style parades carrying weapons both real and dummy. Images of such gatherings and parades are displayed with pride in the Liberation War Museum in Dhaka.(Bose 2005)

এর পক্ষে তিনি বেশি যুক্তি দেখান না। তার মতে, একাত্তর-পূর্ব জমায়েতগুলোতে বাঙালিদের হাতে লাঠি, লোহার ডাণ্ডা, রাইফেল এইসব ছিল। ফলে এটাকে কোনো অর্থেই গান্ধির অহিংস আন্দোলনের সাথে তুলনা করা যাবে না। এই বক্তব্যের পক্ষে বলতে গিয়ে তিনি তাঁর গুরু কিসিঞ্জারের বক্তব্যকে নাকচ করেন। এটাকে প্রমাণ করার জন্য তিনি সাহায্য নেন মাসক্যারেনহাসের প্রকাশিত সংবাদের-

Anthony Mascarenhas’ report in the Sunday Times on the suppression of the rebellion in East Pakistan was a searing indictment of the military action. However, in that report he also wrote, “First it was the massacre of non-Bengalis in a savage outburst of Bengali hatred. Now it was massacre deliberately carried out by the West Pakistan army.” His account contains grisly allegations of butchery and rape by Bengalis against “Bihari” men, women and children, with an estimated death toll in the same range as alleged Bengali victims later. (Mascarenhas, Sunday Times, June 13, 1971).(Bose 2005)

মাসক্যারেনহাস পরবর্তীতে তাঁর বইতে লিখেছেন- এই আন্দোলন ছিল অহিংস।

(Mascarenhas 1971: 164)

১৯৭১ সালে পঁচিশে মার্চের আগে কিছু বিচ্ছিন্ন ভাঙচুর হয়েছিল। কিন্তু সেটাকে বিহারি-গণহত্যা বলে চাপিয়ে একাত্তরের যুদ্ধ শুরুর দায় বাংলাদেশের আমজনতার দিকে ঠেলে দেয়া একটা বিশেষ মহলের কন্সপির‍্যাসি থিয়োরি। এর বিপরীতে তথ্য-প্রমাণ সহ বিস্তারিত লেখালেখি প্রয়োজন।

শর্মিলা বসুর গবেষণাকর্ম আস্তাকুড়ে ফেলার জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হয় না। তিনি জাঁদরেল গবেষকদের মতো ভেক ধরে বক্তব্য প্রদান করতে পারেন না, যা বলেন সেটা নাইভ আকারেই পেশ করেন। আর মিথ্যা বলার সময় একটু জোর গলায় বলে ফেলেন।

ডেড রেকনিং বইটি এখনো বাজারে আসেনি। তবে বইতে কি পরিমাণ তথ্য-বিকৃতি থাকবে সেটার নমুনা বুক ইভেন্টে তার বক্তব্য থেকে পাওয়া যায়। এই পর্যন্ত বিভিন্ন জার্নালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার যে কয়টি পেপার বেরিয়েছে সবগুলোতেই মুক্তিযুদ্ধের কাউন্টার-ন্যারেটিভ একটা বানোয়াট সমীকরণকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। শক্ত কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই।

একটা অদ্ভুত ব্যাপার, একাত্তরের কাউন্টার ন্যারেটিভ চক্রের লোকজন (শর্মিলা, রুবাইয়াত, হালে নয়নিকা মুখার্জি) তাদের লেখায় জাহানাম ইমামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। শর্মিলা একাত্তর পূর্ব সশস্ত্র প্রস্তুতির প্রমাণ দিতে লিখেছেন-

Jahanara Imam, Ekattorer Dinguli (Sandhani Prakashani, Dhaka, 1986), who also found bomb-making material in her own son’s room; (Bose 2005)

রুবাইয়াত লিখেছেন-

It is not only the nationalist narrative that can be charged with the allegation of objectifying women war victims, but the secular intervention under Jahanara Imam’s initiative was equally problematic. Three women from the rural area of Kustia were brought to Dhaka to give testimonies at the people’s court. These women were not explained adequately the concept behind the people’s court, on the contrary, their pictures were taken and published in the newspaper without their permission. (Hossian 2009:10)

মজার ব্যাপার হচ্ছে, নয়নিকা মুখার্জি শর্মিলা বসুর মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। কুষ্টিয়ার এই তিন বীরাঙ্গনার নাম কাজলি, ময়না ও রহিমা। ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধকালীন ধর্ষণকে যুদ্ধাপরাধের আওতায় আনা হলে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিরুদ্ধে গণ আদালত তৈরি করা হয়। সেই সময় এই তিন বীরাঙ্গনাকে সবার সামনে উপস্থিত করানো হয়। নয়নিকা মুখার্জি গণ আদালতে সাক্ষী দেয়ার জন্য এই তিনজনের ওপর সামাজিকভাবে যেসব প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল সেটা নিয়ে একটা গবেষণা প্রবন্ধ (Mookerjee 2006) লিখেছেন। জাহানারা ইমাম কোন পরিস্থিতিতে এটা না করে পারেননি, সেই ব্যাপারে খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। অন্য একটি তথ্য। মেহেরজানের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাবার পর পরিচালিকা রুবাইয়াত হোসেন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর সিনেমা আন্তর্জাতিক গবেষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সাড়া আসার পর অনলাইন কম্যুনিটির কুৎসার জবাব দেয়া যাবে। এর মধ্যে একটা সাড়া পাওয়া গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, জার্নালে লেখার মাধ্যমে প্রথম সাড়া দিয়েছেন নয়নিকা মুখার্জি। রুবাইয়াত তাঁর বন্ধুমানুষ বলে লেখায় সিনেমাটার ইতিহাস বিকৃতির বিপক্ষে তাঁর নিজের কোনো যুক্তি স্থান পায় না। বাংলদেশের ব্লগে ‘মেহেরজান’ সিনেমার বিপক্ষে যেসব যুক্তি দেখানো হয়েছিল সেগুলো কিছুটা সংক্ষেপিত আকারে রেফারেন্স উল্লেখের তোয়াক্কা না করে তিন পৃষ্ঠার একটা রিভিয়্যু (Mookerjee 2011) লিখে ছাপিয়েছেন। নয়নিকা মুখার্জির মতো ভালো গবেষক বন্ধুত্বের খাতিরে ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে বিকৃত করা একটা সিনেমার বিপক্ষে তাঁর মতামত তুলে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন নি।

শর্মিলা বসুর ‘ডেড রেকনিং: মেমোরিজ অফ দা ১৯৭১ বাংলাদেশ ওয়ার’ এর বুক ইভেন্টটতে উইলসন সেন্টারে বক্তব্য দিয়েছেন সাংবাদিক আর্নল্ড জাইটলিন। বর্তমানে তিনি এডিটোরিয়াল রিসার্চ এন্ড রিপোটিং এসোসিয়েটস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পঁচিশে মার্চে তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের কিছুটা তিনি দেখেছেন এবং এ সম্পর্কে ঢাকা ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট ও পাঠিয়েছেন। জাইটলিন শর্মিলা বসুর বইয়ের বক্তব্যকে এক কথায় ইতিহাসের বিকৃতি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য শুনে এই পর্ব শেষ করি।


Zeitlin concluded that Dead Reckoning amounts to a “distortion of history”.

(চলবে)
সূত্র:
১। Times, Daily, November 24, 2003
২। Rummel, R.J., ‘Death by Government’, Transaction Publishers, London, 1996
Bose, Sarmila, ‘Anatomy of Violence, Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971’, Economic and Political Weekly, October 8, 2005
৩। Gerlach, Christian, Extremely Violent Societies: Mass Violence in the Twentieth-Century World, Cambridge University Press, 2010
৪। Kinloch, Graham Charles, Mohan, Raj P. Genocide: Approaches, Case studies, and Responses, Algora Publishing, 2005
৫। Mookherjee, Nayanika, ‘Remembering to Forget': Public Secrecy and Memory of Sexual Violence in Bangladesh' in Journal of Royal Anthropological Institute (JRAI). 12 (2), June 2006: 433-450
৬। Mookherjee, Nayanika, Love in the Time of 1971: The Furore over Meherjaan, Economic & Political Weekly ,March 19, 2011 vol XLVI no 12
৭। Mascarenhas, Anthony, The Rape of Bangla Desh, Vikas Publications, London, October 1, 1971
৮। Hossain, Rubaiyat, Trauma of the Women, Trauma of the Nation: A Feminist
Discourse on Izzat, Second International Conference on Genocide, Truth and Justice, 30-31 July, 2009

শর্মিলা বসুর কল্পজগৎ। পর্ব এক।


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

আমি শর্মিলা চুতমারানি বসুর ডেড রেকনিং বইটির মোড়ক উন্মোচন পর্বটি ইন্টারনেটের কল্যাণে সম্পূর্ণ দেখেছি। ওয়াশিংটনস্থ সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ শর্মিলা চুতমারানি বসুকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাঙালিদের স্বাধিকার আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলন সহিংস ছিলো, এমন তথ্য তিনি কোথায় পেলেন, কারণ আরশাদ মাহমুদ নিজে তখন কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং বিভিন্নি আন্দোলন মিছিলে অংশগ্রহণ করেও তিনি কাউকে সশস্ত্র অবস্থায় দেখেননি। শর্মিলা চুতমারানি বসু বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, এটা খুবই আজব ব্যাপার যে আরশাদ মাহমুদ কোনো অস্ত্র দেখেননি, কারণ শর্মিলা চুতমারানি বসু ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেও দেখেছে এরকম ছবি অত্যন্ত গর্বের সাথে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে প্রদর্শনীতে।

এই ছাগলের পশ্চাদ্দেশ দিয়ে প্রসূত চুতমারানি সম্ভবত যে ছবিটি দেখে গেছে, সেটা হচ্ছে এটা বা এটার কাছাকাছি কোনো একটা ছবি, প্রচুর প্রদর্শিত ও মুদ্রিত হয়েছে এই সিরিজের ছবিগুলো:

women-marching-in-streets-of-dhaka-in-1971-1152

কাঠের রাইফেল নিয়ে তখন ঢাকায় প্রচুর ড্রিল হয়েছে। এ ছবিতেও সেটাই দেখা যাচ্ছে, একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে। শর্মিলা চুতমারানি বসু কোনটা কাঠ, কোনটা ধাতু, আর কোনটা নিয়াজির ধোন, সেটা মনে হয় মুখে না নিয়ে পার্থক্য করতে পারে না।

শর্মিলা চুতমারানি বসু সম্পর্কে আর্নল্ড জাইটলিন পরবর্তীতে ভয়েস অব আমেরিকার আনিস আহমেদ [যিনি ঐ অনুষ্ঠানে ছিলেন এবং চমৎকারভাবে প্রতিহত করেছিলেন শর্মিলা চ. বসুকে]-এর কাছে একটি সাক্ষাতকারে শর্মিলা চুতমারানি বসুর বই সম্পর্কে নিজের মত তুলে ধরেন। পড়তে এবং শুনতে পাবেন এখানে

পুনশ্চ: মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিরা পাকিদের কী গালি দিয়েছে, কেয়ার করি না। ২০১১ সালে এসে শর্মিলা চুতমারানি ব্সু এবং তার সমমনাদের গালি দেয়া কর্তব্যজ্ঞান করছি।

হিমু এর ছবি

খানসেনা নিয়ে শর্মিলা চুতমারানি বসুর পুরো কথাবার্তাই হাস্যকর মনে হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসকের নাম আইয়ুব খান, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলো আজম খান, আইয়ুব যাওয়ার পর ক্ষমতায় এলো ই্য়াহিয়া খান, ৭০ এর নির্বাচনের সময় সিএমএলএ ছিলো সাহিবজাদা ইয়াকুব খান, সে পদত‌্যাগের পর এলো কসাই টিক্কা খান ... পশ্চিম পাকিস্তানে ভিড়ের মধ্যে একটা ঢিল মারলে সেইটা দুইটা খানের মাথায় লাগার সম্ভাবনা যেখানে প্রবল, সেখানে খানসেনা বলবে না তো কি বসুসেনা বলবে? বাঙালিদের কাছে খান নামটাই তো পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায্য শাসনের প্রতীক ছিলো।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

গালির ব্যবহারটা অপ্রয়োজনীয়। এটা তোমার যুক্তি গুলোকে জোরালো না করে হালকাই করবে বরং।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

মৃদুল আহমেদের কবিতা:

আভিজাত্যের সিল কপালেতে সেঁটে
বিলেতি ডিগ্রি নিয়ে শ্যাম্পেইন পেটে
ভাড়া খেটে বাড়া চেটে যারা হয় পশু,
তাহাদের "পিচিডেন্ট" শর্মিলা বসু!

Amit Dobey এর ছবি

great boss

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

এই মহিলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার চালানো জরুরী

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রু (অতিথি)  এর ছবি

এই মহিলাকে নিয়ে কিছু বলার নাই। এই মহিলাকে থামাতে আমরা কী করতে পারি? কোন পিটিশান সাইন করা বা ফর্মালি তার এমপ্লয়ারকে জানানো, এ জাতীয় কিছু করা যায়?

অতিথি লেখক এর ছবি

এই ধরনের কিছু অবশ্যই করা উচিৎ। কেউ কি বিস্তারিত জানাবেন, কিভাবে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া যায়?

- রিসালাত বারী

অতিথি লেখক এর ছবি

গর্ভস্রাব!

--- থাবা বাবা!

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের দেশটি গরিব বলে, বিশ্বসভায় আমাদের প্রভাব নেই বলে, আমাদের একমাত্র গর্বের ধন মুক্তিযুদ্ধ-কে এইভাবে অপমান করার সাহস তারা পায়। ধন্যবাদ শুভাশীষ'দা; আপনার পরিশ্রমী ও অনুসন্ধানী লেখাটির জন্যে, শর্মিলা বসুর মতো অসৎ 'গবেষক'-দের উন্মোচিত করার জন্যে।

-সুমন তুরহান

একজন পাঠক এর ছবি

আরেকটি সূত্রঃ ১৯৭২ সালের ১৩ই জুন The Sunday Times এর একটি রিপোর্ট-
http://www.docstrangelove.com/uploads/1971/foreign/19710613_tst_genocide_center_page.pdf

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১. বাংলাদেশ যে পাকিস্তানের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবে সেটা পাকিপ্রেমে বিভোর কিছু মানুষ ছাড়া দেশের বাকি সবাই জানতো, পাকিস্তানের শাসকেরাও। গণহত্যা চালিয়ে ১২০০ মেইল দূরের উপনিবেশকে যে একসাথে রাখা যায় না, সেটা পাকিস্তানীরাও জানতো। তবু তারা যুদ্ধটা করেছিলো অনেকগুলো নিজস্ব কারণে। পাকিস্তানীরা যে আলোচনার টেবিলে বা সংসদে বিল পাশ করে বাংলাদেশকে আলাদা হতে দেবে না সেটাও সবাই জানতো। সুতরাং নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য কোন জাতি যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেয় সেটা অন্যায় হতে যাবে কেন? বরং সেই জাতিকে তাদের ন্যায্য স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার যে কোন চেষ্টাই অন্যায়। শর্মিলা বসু তার পূর্ব পুরুষ সুভাষচন্দ্র বসুকে কি "সন্ত্রাসী", "খুনী", "রাষ্ট্রদ্রোহী" মনে করে? যদি তা না মনে করে, তাহলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি কোন বিচারে অন্যায় হয়? জামাতীরা কিন্তু প্রথম থেকেই সূর্যসেনকে সন্ত্রাসী বলে থাকে। টোনগুলো বড্ড চেনা চেনা লাগে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

 শুভাশীষ মনি এর ছবি

এই মহিলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচার চালানো জরুরী..
দারুণ বিশ্লেষণ, অনেক ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

শর্মিলা বসু নামের এই অসৎ, ঘৃণ্য মানসিকতার ব্যক্তিটিকে তার জঘণ্য কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করতে আমাদের করণীয় কী সে বিষয়ে এখানে আলোচনা হওয়া মনে হয় জরুরি। শুভাশীষ দাশ কঠোর পরিশ্রম করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এ জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাই। এখন প্রয়োজন মিথ্যা ও বিকৃত তথ্যের প্রচারণা রোধকল্পে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে সেসব উপযুক্ত জায়গায় পৌঁছানো। কেউ কেউ সে কাজটি করেছেন, তবে তা বোধহয় যথেষ্ট নয়। কীভাবে কাজটিকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা যায় সে বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ শুভাশীষদা। মোড়ক উন্মোচনের ভিডিও দেখে রীতিমত অসুস্থবোধ করছিলাম। তবে আশার কথা অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন যেমন সাংবাদিক আনিস আহমেদ বেশ ভালভাবেই তাকে মোকাবেলা করেছেন এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে হারামী যেভাবে আমতা আমতা করেছে, তাতে বোঝা যায় তার জ্ঞানের বহর কতটুকু। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষনা করছেন এমন কারও উচিত এই পেপারগুলিকে রিফিউট করে পাব্লিশ করা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ডামাডোলে শর্মিলার পশুরা জানে কি করলে ফান্ডিং পাওয়া যাবে।

স্পর্শ এর ছবি

শর্মিলাবসুর সাথে গোলাম আজমের বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হোক।

শুভাশীষ দা। এই পোস্টটা বরাবরের মতই অসাধারণ!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

খেকশিয়াল এর ছবি

ভাড়া খেটে বাড়া চেটে যারা হয় পশু,
তাহাদের "পিচিডেন্ট" শর্মিলা বসু!

আপনার সিরিজটার ইংরেজীতে একটা অনুবাদ হওয়া দরকার। সংশপ্তক বলতাছিলো সে করবে। করা হইলে সেগুলোও সবার কাছে ছড়াইয়া দেওয়া দরকার। অর্ক ভাই আছো নাকি, থাকলে জায়গায় বইসা আওয়াজ দাও।

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

CannonCarnegy এর ছবি

এই মহিলার এইসব গর্ভস্রাব উত্পাদনরে পিছনের পটভূমি নিয়ে লিখা দরকার। খু্বই সময়োপযোগী এবং তথ্যবহুল লেখা। এই লেখাটি ইংরেজী অনুবাদ করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন জানালাম। কেউ এগিয়ে আসবেন কি?

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

জাতির পতাকা আঁকড়ে ধরতে চায় আবার সে পুরোনো শকুন।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

কারন এইসব শকুনের ডানা সচল রাখতে ব্যাপক পরিমান গ্রীজ-লুবসের যোগান আছে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ তার গবেষণা এবং বিদ্রোহের জন্য এবং হিমু আপনাকে ধন্যবাদ শ.ব.-এর আসল নাম আমাদের জানানোর জন্য। আমার মনে হয় এত বড়মাপের এবং নিষ্ঠাবান একজন গবেষকের নাম আমাদের একটু সম্মানের সাথে নেয়া উচিত, শুধু শ.ব. না বলে তার সম্পূর্ণ নাম বলা উচিত, শর্মিলা চ. বসু।

- সুমিত রহমান

ফাহিম হাসান এর ছবি

কিছু লিংক দিয়ে গেলাম:

শর্মিলার বাণী: both sides (Bangladesh and Pakistan) are equal in terms of the nature of the crime. Daily Times 2005

গুগল পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাকিস্তানী সাংবাদিক খালিদ হাসান শর্মিলাকে নিয়ে রিপোর্ট করে বেশি। (Daily Times: [url=http://www.dailytimes.com.pk/default.asp?page=2005\12\18\story_18-12-2005_pg7_40]1[/url], [url=http://www.dailytimes.com.pk/default.asp?page=2005\12\18\story_18-12-2005_pg7_40]2[/url])

কুমিরের ছানার মত প্রিয়ভাষিণীর বক্তব্য নিয়ে ফালতু যুক্তির মহড়া

পাকিস্তানী সংবাদ মাধ্যমের কৌশলী প্রচারের নমুনা

ফাহিম হাসান এর ছবি
ইয়াংসি এর ছবি

thanks for the thoughtful post. for interested readings, you could check this one, too -

http://www.facebook.com/notes/meghna-guhathakurta/comments-on-sarmila-boses-book-by-arnold-zeitlin/10150204951983475

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA