POW

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: সোম, ০৫/১২/২০১১ - ১২:১৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

না, ‘প্রিজনার অব ওয়ার’ বা যুদ্ধবন্দি না। এই POW গোত্রের ভদ্রলোকেরা পদার্থবিজ্ঞানী। ওয়াল স্ট্রিট এদেরকে চেনে কোয়ান্টিটেটিভ অ্যানালিস্ট (মাত্রিক বিশ্লেষক) বা কোয়ান্ট হিসেবে। আর এই POWs এর পুরোটা হচ্ছে Physicists on Wall Street (ওয়াল স্ট্রিটের পদার্থবিজ্ঞানীরা)। টাইম ম্যাগাজিন ১৯৯৪ সালের এপ্রিল ১১ সংখ্যায় গণিতে দক্ষ কোয়ান্টদের ওয়াল স্ট্রিট দখল নিয়ে প্রচ্ছদ করেছে। প্রচ্ছদে লেখা ছিল- ‘রিস্কি বিজনেস অন ওয়ালস্ট্রিট। হাইটেক সুপারনার্ডস আর প্লেয়িং ডেঞ্জারাস গেমস উইথ ইওর মানি।’ টাইম ম্যাগাজিনের কথা ফলেছে বছর চৌদ্দ পরেই। ২০০৭-০৮ সালে নেমে আসা বৈশ্বিক মন্দা তৈরির স্থপতি হিসেবে কোয়ান্টদের ইদানিং সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়।

পদার্থ বা গণিতে পিএইচডি করার পরে অ্যাকাডেমিয়ার মন্দায় কিংবা ভালো বেতনের সুবিধা পেয়ে ওয়াল স্ট্রিটে চাকরি নেয়া শুরু করেছিলেন অনেকেই। এই ধারা শুরু হয় ১৯৮৫ সালের দিকেই। তখন চারিদিকে নিওলিবারেলিজমের জয়জয়কার। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো লোভীর মতো মুনাফা বৃদ্ধির ফাঁক ফোকর খুঁজতে খুঁজতে তখন অস্থির। গণিত বিশেষজ্ঞ এই কোয়ান্ট-রা ওয়ালস্ট্রিটে প্রবেশ করে মুনাফা বাড়ানোর নানা তরিকা তাদের কোম্পানির মালিকদের সামনে হাজির করেন। তারা এটাও বোঝাতে সক্ষম হন- এইসব মডেল দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল না হলেও এতে মালিকদের কোনো ক্ষতি হবে না। ঝড়ঝাপ্টা যা যাবে তা আমজনতার সম্পদ বা অর্থের ওপর দিয়ে যাবে। মালিকপক্ষ নিরাপদেই থাকবেন। এভাবেই কোয়ান্ট-রা ১৯৮৫ সাল থেকেই নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের দারিদ্র্যকে বাড়িয়ে যাচ্ছেন। এই ধারা এখনো বহাল আছে। আমেরিকার প্রধান সারির বিজনেস স্কুলগুলো ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং’ কোর্স চালু করেছে বছর দশেক আগেই। এইসব স্কুল থেকে ডিগ্রি নেয়া কোয়ান্ট-রা সরাসরিই চাকুরিতে ঢুকে পড়ছেন ওয়াল স্ট্রিটের নানা প্রতিষ্ঠানে। আবার গণিত, পদার্থবিজ্ঞান থেকে শুরু করে প্রকৌশলে পিএইচডি-ধারীরা ফাইন্যান্সিয়াল মডেল সম্পর্কে ধ্যান-ধারণা নিয়ে মিলিওনিয়ার হবার স্বপ্ন নিয়ে ঢুকছেন এই বর্ণিল জগতে।


টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ (এপ্রিল ১১, ১৯৯৪)

প্রথম প্রথম এই নতুন জগতে খাপ খাওয়াতে কষ্ট হলেও পরে এই পরিবেশ কোয়ান্ট-রা মানিয়ে নিয়েছেন। মুনাফা বৃদ্ধির কলকব্জা বানাতে গিয়ে তাদের গাণিতিক প্রতিমান বা নকশা এতো জটিলতর চেহারা নিয়েছে সেটা বোঝার ক্ষমতা সাধারণ ট্রেডার বা ব্যবসায়ীদের নেই। এছাড়া অর্থনীতি শাস্ত্রে সম্যক ধারণা না থাকায় কোয়ান্টদের কাছে এইসব মডেল অর্থ বাড়ানোর সূত্র ছাড়া অন্য কোনো মানে বহন করে না। সমাজ, রাষ্ট্র, জনতা সব কিছুর প্রতি দায়বদ্ধতা এড়িয়ে কেবল মালিকপক্ষের কিংবা নিওলিবারেল অর্থযন্ত্রের মূল আগ্রহটা মেটানোর মাধ্যমেই তাদের যাবতীয় কর্তব্যের নিকেশ।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ নিবন্ধে গোবেচারা পিএইচডি-ওয়ালারা কিভাবে ওয়াল স্ট্রিটে ঢুকে আমূল পালটে যায় তার বিবরণ লেখা হয়েছে-

It takes three to six months, says one quant who has made the transition, to change a shy, bookish type into a ruthless money-making machine. What's required, says this alumnus of the system, is "to lose your sense of decency. You have to be rude, brash, you have to be selfish. Also you have to start ignoring 90% of what you are told." He describes, perhaps admiringly, a vulnerable Ph.D. from Princeton University. This fellow wore $50 suits and thick glasses. He was painfully polite. Transformed, he became the quant from Hell. "He's got this personality suddenly. He could eat these guys alive," says the quant. For someone like this, academia loses reality, and from Wall Street's viewpoint, a professor with a scholarly paper is "like a two-year- old coming with something he drew." The result is that techies in large numbers -- engineers who lost jobs at the superconducting supercollider, doctoral students bored with their computer-science dissertations -- are heading for Wall Street. Says Diller: "The people who study science but are not themselves weirdos - a small subset, people who can adapt to the real world -- become aware that they can make a lot more money"

বৈশ্বিক মন্দাতে কোয়ান্টদের ভূমিকা জানতে হলে দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি লেখা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক স্কট প্যাটারসনের। বইয়ের নাম- “The Quants: How a New Breed of Math Whizzes Conquered Wall Street and Nearly Destroyed It”। দ্বিতীয় বইটির লেখক নিজেই একজন কোয়ান্ট। ভদ্রলোক দক্ষিণ আফ্রিকান। আমেরিকায় এসে পর্দার্থবিজ্ঞানে ডক্টরেট নেয়ার পরে কিছুদিন নিজের গবেষণায় থেকে চলে যান ফাইন্যান্সে। পদার্থবিজ্ঞানী ও কোয়ান্ট ইমানুয়েল ডারম্যানের বইটির নাম “My Life as a Quant: Reflections on Physics and Finance”। নেদারল্যান্ডের একটি সম্প্রচার কেন্দ্র (VPRO International) কোয়ান্ট গুরু ইমানুয়েল ডারম্যান ও পল উইলমটকে সাথে নিয়ে একটা অসাধারণ তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে। ‘কোয়ান্টস্‌: দা আলকেমিস্ট অব ওয়াল স্ট্রিট’ নামের এই তথ্যচিত্র অর্থলোভী এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর উত্থানের প্রামাণ্য দলিল।


প্রামাণ্যচিত্র ‘কোয়ান্টস্‌: দা আলকেমিস্ট অব ওয়াল স্ট্রিট’

কোয়ান্টদের দক্ষতা অর্থব্যবস্থাপণা-প্রকৌশলে। এই বিদ্যা অর্জন করতে লাগে পদার্থবিদ্যা, পরিসংখ্যান, গণিতে উচ্চতর জ্ঞান। সাথে প্রোগ্রামিং। অর্থব্যবস্থাপণায় জ্ঞান শূন্য হলেও কোনো সমস্যা নেই। আমেরিকা সহ সারা বিশ্বে বড়ো বড়ো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন জমা পড়ে প্রকৌশল, গণিত, পদার্থিবিদ্যার পিএইডি-ধারীদের সুপ্রচুর সিভি। পদার্থবিজ্ঞানের জার্নালে ফাইন্যান্সিয়াল মডেলের পেপার দেখা যায় হরহামেশা।

স্কট প্যাটারসনের বইতে আছে বৈশ্বিক মন্দার পেছনে যে কয়েকজন কোয়ান্ট প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তাদের কাজের ও জীবন যাপনের ফিরিস্তির বর্ণনা। বইটা তথ্যে ঠাসা আর খটোমটো। অন্যদিকে ইমানুয়েল ডারম্যানের বইটি সুখপাঠ্য। পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার জগত থেকে সরে অর্থলোভী চক্রে ভিড়ে যাওয়ার গল্প করেছেন এই আত্মজীবনীতে। তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি লাভ করেন ১৯৭৩ সালে। ডারম্যান বেল ল্যাবে চাকরি করেছেন ১৯৮০-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত। এখানেই প্রথম তিনি অর্থব্যবস্থাপণার নকশা বানানোর একটা কম্প্যুটার প্রোগ্রাম বানান। এরপর চাকরি নেন গোল্ডম্যান স্যাকসে। বন্ড হিসাবের জন্য তাঁর একটা মডেল (ব্ল্যাক-ডোরম্যান-টয় মডেল) বহুল ব্যবহৃত। ২০০৩ সালে আবার অ্যাকাডেমিয়ার ফিরে এসেছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন তখন থেকে।

পদার্থবিদ্যার ‘থিয়োরি অব এভরিথিং’ এর আদলে অর্থব্যবস্থাপণাবিদ্যায় কিছু তৈরি করা সম্ভব কিনা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন ডারম্যান তাঁর বইতে-

As I teach, I am struck again by the difference between what can be taught in school and what can be learned on the job. When I started on Wall Street, I simply assumed it made good sense to apply the techniques of physics to financial modeling. In particle physics people dreamed of GUTs (Grand Unified Theories) and strings and TOEs (Theories of Everything). The tools they used—differential calculus, partial differential equations, Fourier series, Monte Carlo simulations, even Hilbert spaces—at first seemed as appropriate for describing the movements of stocks and yield curves as they did for particles and fields. Looking at the motion of yield curves in the mid-1980s, I saw no reason why financial theorists shouldn’t shoot for their theory of everything, too. (ডারম্যান ২০০৭: ২৬৫)

প্রশ্নের উত্তর করছেন নিজেই বইয়ের শেষে। না, ফাইন্যান্সে এই ধরনের কোনো সূত্র তৈরি করে সব বোঝানো অসম্ভব।

Trained economists have never seen a really first-class model. It’s not that physics is “better,” but rather that finance is harder. In physics you’re playing against God, and He doesn’t change his laws very often. When you’ve checkmated Him, He’ll concede. In finance, you’re playing against God’s creatures, agents who value assets based on their ephemeral opinions. They don’t know when they’ve lost, so they keep trying. (ডারম্যান ২০০৭: ২৬৬-৬৭)

পদার্থবিদ্যা আর অর্থব্যবস্থাপণা বিদ্যার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। বিশ্ব তার নিজস্ব একটা নকশায় চলছে। পদার্থবিদ্যায় সেটার সুলুক সন্ধান করা হয়। অন্যদিকে অর্থব্যবস্থাপণাবিদ্যায় কাজ করতে হয় অন্যের বানানো নকশার উপর ভিত্তি করে। ফলে নতুন মডেল বা নকশা প্রণয়নে যার সুদূরপ্রসারি চিন্তাভাবনা থাকবে না, সেই মডেল নিকট ভবিষ্যতেই ভেঙে পড়বে।

কোয়ান্টদের তৈরি করা মডেলের মধ্যে ডেভিড এক্স লি’র গসিয়ান কপুলা মডেলটি বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টির একটা প্রধান সূত্র। অথচ শুরুর দিকে সিডিও (Collateralized Debt Obligations) এর মূল্যমান নির্ধারণের এই সূত্রটিকে ফাইন্যান্সিয়ান টাইমস আখ্যা দিয়েছিল "the world’s most influential actuary” হিসেবে।


The Formula That Killed Wall Street

অনেকের মতে লি’কে এই মডেল তৈরির জন্য দোষ দেয়া যায় না। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগাম ছাড়া লোভ আর নিওলিবারেল ক্ষমতাযন্ত্রের বহুল প্রসারের কারণেই এই সূত্রকে যতো বাজেভাবে সম্ভব ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে লোভ প্রসারের যন্ত্রায়ণে কোয়ান্টদের ভূমিকা ঘৃণ্য- এটুকু কি অন্তত বলা যায়?

সূত্র

১। Patterson, Scott, The Quants: How a New Breed of Math Whizzes Conquered Wall Street and Nearly Destroyed It, Crown Business, January 25, 2011
২। Derman, Emanuel, My Life as a Quant: Reflections on Physics and Finance, Wiley; 1 edition, December 21, 2007

সতর্কতাঃ নামের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে উচ্চারণভ্রান্তি থাকতে পারে। সেই জন্য আগাম ক্ষমাপ্রার্থী।


মন্তব্য

দায়ীন (frdayeen) এর ছবি

চমৎকার একটি পোস্ট। +

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অমিত এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম লেখাটা খুব ভালো লাগলো। কোন ভালো বস্তুকে ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজন লোভ, অর্থ হলে তো কথাই নাই।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আসাদ  এর ছবি

অসাধারন! দুর্দান্ত লিখেছেন।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ধন্যবাদ।

ফাহিম হাসান এর ছবি

লেখার বিষয় নির্বাচনে উত্তম জাঝা! , কড়া লেখা

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

শাব্দিক এর ছবি

চলুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

সেরকম লেখা হইছে ... ঘুমানোর আগে সচলে ঢু মেরে পড়ে ফেললাম একটানে। ডকুমেন্টারিটাও চমৎকার। দাড়ান পিএইচডি অ্যাপ্লাই তাইলে সিরিয়াসলি মারতেছি দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

প্রামাণ্যচিত্রটা আসলেই ভালো।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

এতসব না জেনে, বুঝেই বছর দশেক আগে ফাইনানশিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স করার চেষ্টা করেছিলাম। পরে অর্থাভাবে আর আগাতে পারিনি। ভাগ্যিস আগাতে পারিনি! নয়তো আজকে এই পাপের বোঝা টানতে হতো।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

এই প্রকৌশল এখনো স্থিতিশীল হয় নাই। হওয়ানোর ইচ্ছাও কর্তাদের নাই। মার্কেটকে ভলাটাইল করাই এদের উদ্দেশ্য।

হিমু এর ছবি
শুভাশীষ দাশ এর ছবি

দেখলাম। ভালো টেড।

স্পর্শ এর ছবি

কোয়ান্ট মোয়ান্ট ছাড়াও যে শেয়ার বাজারের টুটু মেরে দেওয়া সম্ভব সেটা দেখতে বাংলাদেশে এলেই চলবে দেঁতো হাসি

তবে অর্থব্যবস্থাপনার খাতে কোয়ান্টদের কাটতি একখনো আছে। এবং এই মান্দার পরে কর্পোরেশনগুলোতে এমবিএ ডিগ্রিধারীদের তুলনায় ফিজিসিস্টদের কাটতি আরো বেড়েছে বলেই শুনেছি। আমাদের এখানে একটা কোর্স অফার করে দেখলাম। 'কোয়ান্টাম ফাইন্যান্স' কোনো এক সেমিস্টারে নিয়ে দেখতে হবে। ইন্টারেস্টিং বিষয় মনে হচ্ছে। চিন্তিত

লেখা খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। বরাবরের মতই...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কোর্স নিলে জানায়েন কি কি কাভার করে।

উচ্ছলা এর ছবি
শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অন্যকেউ এর ছবি

লেখা অনেক ভালো লাগছে। এইটা কি সিরিজ হিসাবে চলতে পারে, যাতে আবুলমনস্কদের জন্য আরেকটু সহজ হয়? ধরেন, একক ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলেন?

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

মঈনুল এর ছবি

Margin Call (2011) এই ছবিটা বানানো হয়েছে এ সমস্ত বিষয়ের উপর।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

সিনেমাটা এখনো দেখা হয় নাই। দেখবো শীঘ্রই।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

দেখলাম। কোয়ান্ট-রা করেটা কি- এই সিনেমা দেখে ভালো বোঝা যায়।

নিটোল এর ছবি
শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সজল এর ছবি

বাংলাদেশের একটা কোম্পানীতে প্রায় কোয়ান্ট (কোয়ান্টিটেটিভ সফটওয়্যার ডেভেলপার) হিসাবে দেড় বছরের মত চাকরী করেছিলাম, তখন প্রায় নিশ্চিত ছিলাম পিএইচডিটা কমপ্লিট করেই ওয়ালস্ট্রীটে দৌড় দিব দেঁতো হাসি । হায় কপুলা!

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

খাইছে, এই যে কোয়ান্ট আসলো তেড়ে। খাইছে

সাফি এর ছবি

দুর্দান্ত

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

চরম উদাস এর ছবি

জটিল চলুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

দুর্দান্ত এর ছবি

ম্য়্ল্য়বান পোস্ট সন্দেহ নেই। 'এরাও শত্রু' নামে জি ক্য়াফে তে মাঝে মাঝে একটা সিরিয়ালের বিগ্গাপণ দেখি। আসল নাটকটি খুব একটা পদের না। সেই আদলে পদাররথবিদ আর গাণিতবিদদেরকে 'এরাও শত্রু' বলে খুব একটা দেখে নেয়া হয়েছে বলে মনে হল

কোয়ান্ট কি নতুন 'ফাইনান্সিয়াল প্রডাক্ট' বানায়? তারা কি বিভিন্ন সভায় সভায় ঘুরে ঘুরে কোয়ান্ট-কাঠামো দেখিয়ে ফান্ড গঠন করে? তারা কি সিদ্ধান্ত নেয় যে একটি ট্রেডিনং ডেস্ক কতটুকু স্প্রেড বা মাররজিনে থাকবে? বড় হেজ ফান্ড বা বিনীয়োগ ব্য়ান্কের বোররড গুলো একটু খুঁজে দেখুন - সেখানে ক'টা কোয়ান্ট দেখছেন? যে গুটিকয় কোয়ান্ট তাদের কোয়ান্টামির বদলে নিরেট ভোজবাজির বদোঊলতেই কলাগাছে হয়েছে, তাদের বাদ দিলে কোয়ান্টদের শ্রমিকের বাইরে কিছু ভাববার উপায় নেই।

একটা ব্রীজ ভেনগে পড়লে ঠিকাদার দায়ী হতে পারে, প্রকোঊশলি দায়ী হতে পারে। কিন্তু যখন শ্রমিককে কাঠগড়আয় দাড় করানো হয় - তখন ঠিকাদার আর প্রকোঊশলীকে বাহবা জানানোর সময় আসে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কোয়ান্ট যেহেতু চাকরি করে, তাই এক হিসেবে শ্রমিক। তবে বোনাস বিবেচনায় উচ্চ বেতনের শ্রমিক। কোয়ান্টরা রিস্ক অ্যানালিস্ট। তারা কোম্পানিকে রিস্ক নিতে বলে আমজনতার সহায়-সম্বলের ওপর। বৈশ্বিক মন্দার এই বেহাল অবস্থায় তারা অনুঘটক। মালিকপক্ষ কিংবা নিওলিবারেল ক্ষমতাযন্ত্র আসল ইবলিশ। কোয়ান্টরা খালি গ্রাফ আর মডেল দিয়ে তাদের সাহায্য করে। এই যা।

নিওলিবারেল দিবারাত্রি সিরিজে মূল হোতাদের নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি। পড়ে দেখতে পারেন।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

দুর্দান্ত এর ছবি

চলুক নিওলিবারেল দিবারাত্রি সিরিজটি পড়ছি খুব আগ্রহ নিয়ে। ওখানে মন্তব্য করা হয়ে ওঠেনি।

নূর এর ছবি

পছন্দনীয় লেখা।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

রায়হান আবীর এর ছবি

চলুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

শমশের এর ছবি

চমৎকার চলুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

শামীম এর ছবি

খুবই আগ্রোহদ্দীপক বিষয়। দৃষ্টিকে আরও একটু প্রসারিত হতে সাহায্য করলো। উত্তম জাঝা!

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

জ্ঞানের দায়িত্ব নিতে শিখতে হবে।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নীলকান্ত এর ছবি

চলুক


অলস সময়

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

চলুক

নীল রোদ্দুর এর ছবি

এতোদিনে ওয়ালস্ট্রীট ডিলেমা নিয়ে একটা চমৎকার লেখা পেলাম। হাসি

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আহারে খাইছে

স্বাধীন এর ছবি

চলুক

ভালো একটি বিষয় জানলাম। ফারুকের পোষ্ট পড়ে ভাবছিলাম পিএইচডি শেষে ওয়াল স্ট্রীটে একটা সিভি ফালামু, দিলা তো সব মাটি করে ওঁয়া ওঁয়া

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কমেন্ট উপরে চলে গেছে।

সুরঞ্জনা এর ছবি

খুবই ইন্টারেস্টিং! চলুক

নিওলিবারেল সিরিজটাও পড়তে হবে। মিস করে গিয়েছি।
দাদা, অমর্ত্য সেনের কেপেবিলিটিস থিওরি নিয়ে লেখা দিন না? ওটা তো অনেক প্রভাবিত করেছে মানুষের চিন্তাভাবনাকে শুনতে পাই, কিন্তু আসলে কাজের কিছু কি হয়েছে ওটা ফলো করে? লেখা চাই চাই প্লিজ হাসি

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ঠিকাছে। আগে একটু স্টাডি করে নেই। হাসি

নুভান এর ছবি

ফিজিসিস্ট অন ওয়াল স্ট্রিটঃ হাই টেক সুপার নার্ডস আর প্লেয়িং ডেনজারাস গেইমস উইথ ইওর মানি
প্রথমে ভেবেছিলাম সাক্ষাৎ এ বিওটিফুল মাইন্ড, পরে দেখি, নাহ, ঘটনা একই ধারায় কিন্তু ভিন্ন কাহিনী। দিলেন তো ফাহা ভাইয়ের দেখানো সব স্বপ্ন গুড়ো করে!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ইস। খাইছে

যুধিষ্ঠির এর ছবি

চলুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

স্বাধীন এর ছবি

অনেকের মতে লি’কে এই মডেল তৈরির জন্য দোষ দেয়া যায় না। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লাগাম ছাড়া লোভ আর নিওলিবারেল ক্ষমতাযন্ত্রের বহুল প্রসারের কারণেই এই সূত্রকে যতো বাজেভাবে সম্ভব ব্যবহার করা হয়েছে।

ডকুটা দেখলাম, দেখলাম মুভিটাও। আমি উপরের কথার সাথে সহমত। মডেল তৈরিকারককে দোষ দেওয়া যায় না এই ক্ষেত্রে কারণ তার কাজই হচ্ছে মডেল বানানো। একটি কমপ্লেক্স সিস্টেমকে অনেক সিমপ্লিফাই করে সেটাকে একটি গাণিতিক রূপ দেওয়াই তার কাজ। তাকে দোষ দিতে হলে আমাদের সব মডেল তৈরিকারকদেরকেই দোষ দিতে হয়। আমি যেমন কাজ করি নদীর মডেল নিয়ে, জাহিদ কাজ করে জলবায়ু মডেল নিয়ে। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এই সব মডেল মানুষকে অনেক সুবিধে দেয়। একটি পুরো নদীকে এনালাইসিস করতে পারি খুব সহজেই যেটা মডেল ছাড়া সম্ভব হতো না। কিন্তু প্রতিটি মডেলেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর এখানেই একজন প্রকৃত মডেলার এবং একজন ব্ল্যাক বক্স মডেলারের পার্থক্য। প্রকৃত মডেলার জানে মডেলের সীমাবদ্ধতা কি কি, এবং রেজাল্ট কি আসা উচিত। একজন ব্ল্যাক বক্স মডেলার জানে না, কি হচ্ছে , কেন হচ্ছে। সুতরাং মডেল যা দেয় সেটাকেই সত্যি ধরে যদি কেউ একটি ব্রীজ বানায় সেই ব্রীজ ধ্বসে পড়বেই। এখানেও একই ঘটনা ঘটছে।

তবে লোভ প্রসারের যন্ত্রায়ণে কোয়ান্টদের ভূমিকা ঘৃণ্য- এটুকু কি অন্তত বলা যায়?

আমার মতে না। কেন, উপরে ব্যাখ্যা করেছি।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

স্বাধীন ভাই,

কোয়ান্টদের ভূমিকা অংশত ঘৃণ্য। আমি নিজে সেটা মনে করি। এই লেখার শুরুর দিকে বেশ কয়েকটা কারণ দেখানো হয়েছে। কোয়ান্ট-রা বেশি বেতন আর নগদ অর্থের লোভে এই চাকরিতে ঢুকছেন। এখানে তার নিজের ঝুঁকি নেয়ার কিছু নাই। মডেল যতোদিন পর্যন্ত চলে, ভালো বেতন। আর মডেল কলাপ্স করলে অসুবিধা কি! তখন পাওয়া যাবে বিশাল একটা বোনাস। আর জ্ঞান যা হয়েছে তা নিয়ে আবার অ্যাকাডেমিয়ায় ঢোকা যাবে। 'ফাইন্যান্সিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং' বিভাগ তৈরি করে তারা নিজেদের জন্য সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছেন। পাবলিকের টাকার উপর ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের ঝুঁকির বাইরে রাখা- কোম্পানিগুলো কোয়ান্ট নিয়োগের সময় এই বিষয়টা মাথায় রাখে। কোয়ান্ট-রা নিজেদের আখের ভালোমতো গুছিয়েই এগোয়। এটা বড়ো মাপের অপরাধ না। কিন্তু তাদের কাজ হচ্ছে- কমপোক্ত সব মডেল লোভী বসদের সামনে হাজির করে নগদ লাভের মুলো ঝুলানো। গত বছর বিশেক এই ধারা চলেছে। এই তথাকথিত নিরপরাধদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল তো চোখের সামনে। বিশ্বমন্দা।

নিওলিবারেল ক্ষমতাযন্ত্র আর ১% এর অপরাধ এদের তুলনাই অনেক গুণ। সেটাতে সন্দেহ নাই।

স্বাধীন এর ছবি

কিন্তু তাদের কাজ হচ্ছে- কমপোক্ত সব মডেল লোভী বসদের সামনে হাজির করে নগদ লাভের মুলো ঝুলানো।

এইটা হলে তা অনৈতিক। কিন্তু আমি উপরে বলার চেষ্টা করেছিলাম যে মডেল বানানোটা বা লিমিটেড ক্যাপাবিলিটির মধ্যে প্রেডিকশানের চেষ্টা করাটা অপরাধের মধ্যে পড়ে না, যেটা আমরা সবাই করি। জলবায়ু একটি নন-লিনিয়র জটিল প্রক্রিয়া, আমরা সেটাকে চেষ্টা করি মডেল করতে। তবে তুমি যা বললে যদি আমি সেটার সীমাবদ্ধতা জেনেও সর্বক্ষত্রে প্রয়োগ করি সর্বরোগের ঔষধ হিসেবে তখন সেটা অপরাধের মধ্যে পড়বে। দ্বিমত নেই।

ফারুক হাসান এর ছবি

এই পোস্টটা মিস করলাম কীভাবে জানি না। কাজের পোস্ট হয়েছে একটা।

অনেকগুলি ফ্যাক্টর কাজ করে;

  • কোয়ান্টরা বিপুল পরিমাণ ডাটা এনালাইসিসে দক্ষতা দেখিয়ে এসেছে বরাবর। তারা মূলত বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ-সহায়ক ব্যবস্থা (decision support system) তৈরি করে যার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবসায়িক ট্রেন্ড, অনিশ্চয়তা, মুনাফা, বিনিয়োগ ইত্যাদি বোঝা এবং সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। তো এক্ষেত্রে মডেলিং যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আপনি আসলে কি চান (What is your objective?)। মডেলিংয়ে কোয়ান্টরা পারদর্শী, কিন্তু অভজেক্টিভ ফাংশনটা ঠিক হয় বোর্ড মিটিংয়ে, এক্সিকিউটিভদের সভায়, কখনো কখনো সেটা কোম্পানির ভিশন, কোয়ান্টদের মতামত সেখানে নগন্য থাকে। বাজারের অনিশ্চয়তাকে সবাই যদি একইভাবে মডেলও করেন, তবু বিভিন্ন কোম্পানির আচরণ ভিন্ন হয় মূলত ঐ অভজেক্টিভের উপর ভিত্তি করে।

  • যে সব কোয়ান্টরা ওয়ালস্ট্রীটে ভীড় জমায়, তাদের সবাই যে ফিনান্সে শুরু থেকেই আগ্রহী তা নয়। ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডিওয়ালা কোয়ান্টেটেটিভ এনালিস্ট কমই আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোয়ান্টদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভিন্ন হয়। এর ফলে দেখা যায় যে, সত্যিকারের আগ্রহ ও নৈতিকতা নিয়ে মডেলিং ও মার্কেট এনালাইসিস করে খুব কম কোয়ান্টরাই। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে ইমিডিয়েট বসদের খুশি করা। আবার, বসরা কোয়ান্টদেরকে কম্পিউওটার গিগ ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চান না। এর পেছনেও কারণ আছে। কোম্পানি বস যারা কিনা টেকনিক্যালি ততটা দক্ষ নয় তারা অনেক সময় আসলে কোয়ান্টদেরকে ভয় পায়। নিজের দক্ষতা ও পটেনশিয়াল সম্পর্কে সচেতন কোয়ান্টরা নিজেরা যদি আখের গোছাতে লেগে যান - সেই ভয়।

  • কোয়ান্টরা কোম্পানির যে হায়ারার্কিতে থাকে, সেখান থেকে দেখলে তাদের লোভেই যে আজ এই রিসেশন সেই সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। আমার তো মনে হয় (নিতান্তই আমার মত), নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এক্সিকিউটিভরাই এখন কোয়ান্টদের দোষ দিচ্ছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

তিন নাম্বারটাতে ভিন্নমত আছে। যাই হোক, এটার আরেকটা পর্ব লেখার চিন্তাভাবনা আছে। সেখানেই আলাপ হবে। হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA