দোজখ্‌নামা

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: শনি, ১৯/০৫/২০১২ - ১২:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কথাসাহিত্যিক রবিশংকর বলের উপন্যাস ‘দোজখ্‌নামা’। উপন্যাসে প্রধান চরিত্র দুইজন। একজন ফারসি কবি মির্জা গালিব (১৭৯৭-১৮৬৯), অন্যজন উর্দু সাহিত্যের অন্যতম ছোটোগল্পকার সাদাত হাসান মান্টো (১৯১২-১৯৫৫)। উপন্যাসে দুইজনেই মৃত হিসেবেই হাজির হয় আর কবরের মধ্যে বসেই একে অন্যকে নিজেদের কাহিনী বলতে শুরু করে। অনেকটা পরাবাস্তব কি জাদুবাস্তব মনে হলেও রবিশংকর বল সেখানে জাদুবাস্তবতা না ঢেলে স্বাভাবিকভাবেই দুইজনের আড্ডার বিবরণ দিয়ে গেছেন তাঁর দক্ষ ভাষাশৈলীতে।

আঠারোশো সাল থেকে শুরু করে উনিশশো পঞ্চাশ- প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস এই উপন্যাসের মধ্যে উঠে এসেছে গালিব আর মান্টোর বয়ানে। উপন্যাস শুরু হয় এক উত্তম পুরুষের গল্পে। পেশায় সংবাদপত্রের কলম পেষা লোক। লখনউতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা পায় জনৈক ফরিদ মিঞার সাথে। তার কাছ থেকে যোগাড় হয় সাদাত হাসান মান্টোর একটা অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি। একটা দস্তান বা উপন্যাস। মান্টো জীবনে কখনো উপন্যাস লিখেননি। মির্জা গালিবের কঠিন ভক্ত ছিলেন মান্টো। গালিবকে একটা কোনো লেখায় ঠিকঠাক তুলে ধরতে চেয়েছেন অনেকদিন ধরে। এটাই হয়তো সেই কাজ। উত্তম পুরুষ নিজে উর্দু জানেন না। মান্টোর উপন্যাসটা অনুবাদ করতে গেলে আগে উর্দু শেখা প্রয়োজন। তবসুম মির্জা নামের একজনের কাছে উর্দু শেখার জন্য যেতে হয়। তবসুমের মুখের অনুবাদ বাংলায় লিখে লিখে প্রকাশ হতে থাকা মান্টোর উপন্যাস আমরা রবিশংকর বলের কাছ থেকে পাই। রবিশংকর বল এই ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখার সময় নানান বইয়ের সাহায্য নিয়েছেন। বইয়ের শেষে সেই গ্রন্থপঞ্জীর তালিকাও দেয়া আছে।

মান্টোর লেখা উপন্যাসে মান্টোর লেখা একটা ভূমিকা ও থাকে। সেই ভূমিকার শেষে তারিখ লেখা আঠারো জানুয়ারি, ১৯৫৫; মান্টো মারা যান এই দিনেই।


পৃষ্ঠা ১৯

মোঘল সাম্রাজ্যের শেষ বড় কবি হিসেবে ধরা হয় মির্জা গালিবকে। আগ্রায় তাঁর জন্ম। পরে স্থিতু হন দিল্লীতে। তের বছর বয়সে উমরাও বেগমকে বিয়ে করেন। গালিবের উশৃঙ্খল জীবনযাপন, তার বেদনা, অর্থকষ্ট, সম্মান, অপমান সব কিছুই গালিব নিজের ভাষ্যে এই উপন্যাসে হাজির করেন। জীবনের শেষের দিকে খেতে না পেয়ে, রোগে ধুকে ধুকে অন্ধ হয়ে মারা যান মির্জা গালিব। মান্টো কবরে বসে মির্জা গালিবের জীবনের শুরুর দিকে কাহিনী নিজেই বলা শুরু করে। উপন্যাসে মান্টোর বয়ান অগোছালো। মান্টো ক্ষণে ক্ষণে নিজের বদনামি করে, নিজেকে খিস্তি দেয়। “আমি গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, কোথা থেকে কোথায় চলে যাই।” গালিবের শের শায়েরীতে মান্টো শুনতে পেয়েছেন একজন পরাজিত মানুষের গল্প। মান্টো নিজে সারাজীবন গরীব, মুটে, দেহোপজীবিনীদের সাথে কাটিয়েছেন। পরাজিত মানুষদের নিয়েই তার কারবার। গালিবকেও এদের দলে দেখে মান্টো নিজেকে স্থির রাখতে পারেন না। গালিবের কাশীর জীবন, কলকাতা পর্ব সবকিছুই উঠে এসেছে রবিশংকর বলের উপন্যাসে। গালিবের জীবন যাপনের মধ্যে তার ভেতরকার দর্শন ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন রবিশংকর। গালিব ও মান্টোর জীবনী এই উপন্যাসের মূল। ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনায় ইতিহাসের যতোটা কাছাকাছি থাকা যায়, ততোই ভালো। গালিব বা মান্টোর ক্ষেত্রে তাদের আসল ইতিহাস হাজির করা কিছুটা দুরুহ। কারণ এরা দুইজনেই কাহিনীকার। গালিবের, মান্টোর রচনার মধ্যে নিজেদের জীবন, আক্ষেপ, আনন্দ, আশেপাশের মানুষের কথা এসেছে। কতোটা আসল, কতোটা কল্পনা- সেটা মাপা প্রায় অসম্ভব। গালিবের চিঠিপত্রেও নানান খোয়াব, কল্পনা, বাস্তব, চিন্তাভাবনা বিচিত্র গতিতে নানা মাত্রায় এসেছে। রবিশংকর বল গালিবের চিঠিপত্রের বিবরণকেও উপন্যাসে স্থান দিয়েছেন।

বেপরোয়া, দুর্বিনীত, মদ্যপায়ী মান্টো তার বিচিত্র জীবনের কথা বলেছে উদ্দাম গতিতে। মান্টোর জন্ম পাঞ্জাবে। এক কাশ্মিরি পরিবারে। বাবার সাথে সম্পর্ক ভালো ছিল না মান্টোর। মান্টোর অন্যান্য ভাইয়েরা ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করলেও মান্টোর ম্যাট্রিক পর্যন্ত যেতেই কালঘাম ছুটে গেলো। মদের নেশা শুরু হয় সেই সময় থেকে, জীবনের শেষে গিয়েও যা থেকে মুক্তি মেলেনি। মান্টো নিজের জীবনকে বলতেন কুত্তার জীবন। “আমি খোয়াবের ঘোরে ঘুরে বেড়াই, রাস্তার কুকুরদের সাথে ভাব হয়ে গেল, ওদের সঙ্গে বসে থাকতাম, আদর করতাম, ওরা আমার গা চেটে দিত।” অনেকটা গ্রীক দার্শনিক ডায়োজিনিসের মতো। ডায়োজিনিস বাজারে একটা টিউবের মধ্যে থাকতেন। কুকুরের সাথে নিজের জীবনের মিল খুঁজতেন। দিনের বেলায় হারিকেন জ্বালিয়ে সৎ মানুষ খোঁজার স্ট্যান্টবাজিও করতেন ডায়োজিনিস। মান্টো আরাম, আয়েস, প্রাচুর্য এইসবকে দূরে ঠেলে নোংরামি, কদর্যতা, দারিদ্র্য এসবের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রেখে রচনা করে গেছেন জীবনের গান। মান্টোর উপন্যাস বারবার অশ্লীল বিবেচিত হয়েছে, আদালতে হাজিরা দিতে দিতে অস্থির হয়ে উঠেছেন একসময়। কিন্তু নিজের লেখার পথ থেকে সরে আসেননি। মান্টো যে জ্বলন্ত সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে নির্মমতা, ক্রুরতা, অমানবিকতা নৈমিত্তিক ছিল। মান্টো সেগুলোর কাহিনীই লিখেছেন। “শালা, শুয়োর কাহিকা, ‘ঠাণ্ডা গোশত’ লেখো, এতো বড়ো কাফের তুমি? কী বলে ওরা, শুনেছ? শুধু নারী-পুরুষের মাংসের গল্প লিখেছ, রেড লাইট এরিয়া ছাড়া আর কী আছে তোমার লেখায়। হাত তুলে দিলাম মির্জাসাব, না কিছু নেই। হত্যা আছে, ধর্ষণ আছে, মৃতের সাথে সঙ্গম আছে, খিস্তির পর খিস্তি আছে- আর এইসব ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে কয়েকটা বছর- রক্তে ভেসে যাওয়া বছর- ১৯৪৬, ১৯৪৭, ১৯৪৮- আছে নো ম্যানস ল্যান্ড, দেশের ভেতরে এক ভূখণ্ড যেখানে টোবা টেক সিং মারা গেছিল।”

মান্টো কখনো স্বস্থিতে থাকেন নি। বলা যায় স্বস্তিতে থাকা তার দায় ছিল না। তিনবারের চেষ্টায় ম্যাট্রিক পাশ করেন মান্টো। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে তার টিবি ধরা পড়লো। জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের ওপর বাতোতের এক হাসপাতালে গেলেন চিকিৎসার জন্যে। বেগু নামের এক পাহাড়ি মেয়ের প্রেমেও পড়েন। লেখিকা ইসমত চুঘতাঈয়ের সাথে মান্টোর সম্পর্কের কথাও উপন্যাসে এসেছে।

মান্টোর লেখালেখির জীবন শুরু হয় অনুবাদ দিয়ে। ‘মাসাওয়াৎ’ পত্রিকার বারিসাহেব মান্টোকে দিয়ে অনুবাদ করিয়েছিলেন ভিক্টর উগোর উপন্যাস ‘দা লাস্ট ডেইজ অব দা কন্ডেমড্‌’। ঐ পত্রিকাতে সিনেমার রিভিয়্যুও লেখা শুরু করলেন। ১৯১৯ সালের মার্শাল আইনের দিনগুলোতে একটা সাত বছরের বালকের চোখে দেখা ঘটনা নিয়ে লেখা গল্প ‘তামাশা’ মান্টোর প্রকাশিত প্রথম গল্প। বারি সাহেবের সাথে হিরামন্ডির কোটিতে যাওয়া শুরু হয় মান্টোর। খুশিয়া, সৌগন্ধিদের গল্প মান্টো এখান থেকেই নিয়েছেন। জীবিকার প্রয়োজন মান্টো কোথাও বেশিদিন থাকতে পারেন নি। মুম্বাইতে এসে ক্রিপ্ট লেখার কাজ শুরু করেছিলেন জোরেশোরে। দিল্লীতেও ছিলেন। দেশভাগের পরে মুম্বাইতে স্ক্রিপ্টের কাজে মান্টোকে আর ডাকা হতো না। অভিমান করে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। আর সেখানে ছিল চরম দারিদ্র্য আর কোর্টরুমে হাজিরার পর হাজিরা।

মান্টোর দুর্বিনীত জীবন যাপন আর মির্জা গালিবের কাহিনী রবিশংকর বল তাঁর অসামান্য ভঙ্গিতে রচনা করেছেন। স্যালুট।

বহি

দোজখ্‌নামা
রবিশংকর বল
দে’জ পাবলিশিং
কলকাতা ৭০০০৭৩


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

প্রচ্ছদে দোজখনামা শব্দের মধ্যে শিন গুঁজে দিয়ে উর্দু ভাব আনার চেষ্টাটা ঠিক পরিণত চিন্তার ফল বলে মনে হলো না।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

দোজখের মধ্যে শিন পাইলো কৈ, এইটও মাথায় ঢুকতেছে না।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

লক্ষ্মৌতে পাণ্ডুলিপি পাওয়াটাও ক্লিশে লেগেছে। মান্টো'র আলীগড় বাসের কাল দীর্ঘ নয়, আর মান্টো তখনও ঠিক মান্টো হয়ে ওঠেননি। পরিণত মান্টোর বিচরণ মূলতঃ বৃহত্তর পাঞ্জাবে। সেখানে আলীগড়ের নব্বই মাইল দূরের লক্ষ্মৌতে পাণ্ডুলিপিটা গেল কী করে? নাকি উর্দু সাহিত্যের বনেদিয়ানা দেখানোর জন্য "লক্ষ্মৌ" নামটা দরকার ছিল!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সাফি এর ছবি

আপনে কৈথ্বে?

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আর কৈয়েন না। সে ম্যালা কথা। ঘরে আছিলো না ক্যারাসিন। খাইছে

তানিম এহসান এর ছবি

বইটা পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়ে গেলো।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

বইটা পড়ার আগ্রহ হচ্ছে।আলোচনা টা বেশ ভাল লাগল।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

রবিশংকরের আরো বই নিয়ে লিখবেন না?

________অলস অনড়

সবজান্তা এর ছবি

গতকালই রবিশংকর বলের ছায়াপুতুলের খেলার অনেক প্রশংসা শুনলাম, এর পর আজকে পড়লাম দোজখনামার উপরে।

উনার লেখা পড়ার আগ্রহ বাড়লো ! তবে কোন একটা কারণে উনি বাংলাদেশে একটু দুষ্প্রাপ্য, বই কমই দেখেছি দোকানে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ছায়াপুতুলের খেলা এখনো পড়া হয়নি। সংগ্রহ করে ফেলব।

অতিথি লেখক এর ছবি

বাহ দারুন তো। সংগ্রহ করে পড়ব।

তাহমিদুর রহমান

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

মান্টোকে স্রেফ তাড়ায়া দেয়া হইছিল। সে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করছে তার জন্মভূমিতে থাকতে। মান্টোর ভাতিঝি আয়শা জালাল, শর্মিলা বসুর ননদ। আর গালিবের সমাধিতে গেছিলাম। হজরত নিজামুদ্দিনের সমাধিতে যাইতে পথে একটা গালিব সেন্টারও আছে। সরকারি হয়ত। গালিবের কোনো ইংরেজি বই দেখলাম না। অডিটরিয়ামে সিরাতুন্নবী উপলক্ষ্যে ধর্মীয় আলোচনা চলতেছে। অদ্ভুত ইতিহাস।

দোখজ শব্দটা ফার্সি এবং বাংলা। ওহাবিরা জাহান্নাম ভাল পায়।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

রবিশংকর বলের কিছু পড়েছেন নাকি?

তারেক অণু এর ছবি
শুভাশীষ দাশ এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লাগলো হাসি

বুনোফুল

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

প্রদীপ্তময় সাহা এর ছবি

দোজখনামা উপন্যাসটা অসাধারণ লেগেছে আমার।
যতদূর মনে পড়ছে এই উপন্যাসটা প্রতিদিন সংবাদপত্রের রবিবারের ক্রোড়পত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

তখন কিছু পর্ব বাদ পড়ে গেছিল নানা কারনে।
এই পোষ্টটা পড়ে আবার করে বই আকারে পুরোটা পড়ার ইচ্ছে হচ্ছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

পড়ে ফেলেন পুরাটা।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কি সব ফাউল বই পড়েন মিঁয়া... মিসির আলী পড়েন এর্তে দেঁতো হাসি

এই বই হাতে পাওয়া দুরাশা। রিভিউ পড়ে আইডিয়া রাক্লাম তাই।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আরে, সকাল থেকেই মিসিরালি পড়তেছি। হুমায়ূন আহমেদের গল্পসমগ্রে বেশ কয়েকটা মিসিরালি আছে। দেঁতো হাসি

মন মাঝি এর ছবি

বেশি টক খেয়ে ফেললে একটু নুন খেয়ে যেমন ব্যালেন্স করতে হয়, হুমায়ূন পড়লে আমার তেমনি একটু আবু সায়ীদ আইয়ুব বা বুদ্ধদেব বসু পড়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে হয়। নইলে আমার মনপদার্থ বহু আগেই গায়ে একটা হলুদ পাঞ্জাবি চাপায়া তার খুপরি থেকে পার্মেন্টলি ছুট্টি নিত - হুআ-র হিমুর মত।

আপনার কি হপে জানি না, তবে দোয়া রইল!

****************************************

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

দেঁতো হাসি

তাপস শর্মা এর ছবি

রবিশংকর বল এর একটা জিনিষ আমার সবচে ভালো লাগে তা হল পারফেকশন। অদ্ভুত নিপুণতা আছে লোকটার কলমে......
আগ্রহ আছে উপন্যাসটায়। কেনা হয়নি। এখন প্রচুর বই হাতে, আগামী বইমেলা লাগবে কিনতে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

মন মাঝি এর ছবি

চলুক অনেকদিন পরে লিখলেন!

বলবাবুর বইটা বড়ই বলীয়ান মনে হচ্ছে! পড়ার আগ্রহ জন্মাল।

অটঃ আপনে আমা্রে বেনেডিক্ট এন্ডারসনের 'ইমাজিন্ড কম্যু'-র পিডিয়েফ লিঙ্ক দিসিলেন একসময়। এই পোস্ট দেখে সেই কথা মনে পড়তেই একটা প্রশ্ন মাথায় আসল। একই বিষয়ে নিচের লেখকদের কোন বইপত্রের পিডিয়েফের কোন খবর দিতে পারবেন?
-- Anthony D. Smith, Gopal Balakrishnan (সম্পাদকঃ "Mapping the Nation"), Liah Greenfeld, Herb, G.H. and D.H. Kaplan, Tope Omoniyi, Yasir Suleiman। এই লেখকদের মধ্যে যে কারো, বিশেষ করে প্রথম জনের যে কোন বইয়ের পিডিয়েফের লিঙ্ক পাইলে বিশাল উপকার হয়।

****************************************

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

মাঝে জাতীয়তাবাদ নিয়ে ব্যাপক নাড়াচাড়া করেছিলাম। গিগাপিডিয়া থেকে একগাদা বইও ডাউনলোড করেছিলাম। Anthony D. Smith, Liah Greenfeld, Tope Omoniyi প্রত্যেকেরই বেশ কয়েকটা করে ইবুক আমার কাছে আছে।

সচলে আপনার ইনবক্স চেক করেন।

মন মাঝি এর ছবি

খাইছে! আপনি তো একেবারে গুরু গুরু গুরু গুরু মানুষ! আমারে এই ব্যাপারে একটু দিকনির্দেশনা দেন না?

এই বিষয়টাতে আমারও বেশ আগ্রহ আছে, কিন্তু পড়াশোনা একদম কম। বেশ কয়েক বছর আগে বিশেষ পার্পাসে ইংরেজিতে এই নিয়ে একটা লেখা লিখতে হয়েছিল, তখনই আগ্রহের জন্ম। ঐ লেখাটা প্রচুর চোথা মেরে লেখা ছিল বলে বাইরে কোথাও দেয়া যায়নি। তাছাড়া বিশেষ পার্পাস সার্ভ করার জন্য লেখা বলে নিজের মতামতটাও পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটানো যায়নি - ব্যালেন্স করতে হয়েছে, রাখঢাক করতে হয়েছে। সেটাও অনেকখানি বদলে গেছে এখন। তবে তখনই একটা টেনট্যাটিভ কনক্লুশনে পৌঁছেছি, যেটা অনেক দিন থেকেই ডেভেলপ করতে চাই। কিছু কনফিউশন আছে, সেগুলিও দূর করতে চাই। কিন্তু তখনই বুঝতে পেরেছি আমি প্রায় কিছুই জানি না। অথচ জানার উপকরনগুলিও সুলভ না। পাচ্ছি না। এ নিয়ে নতুন করে লেখার ইচ্ছাও আছে, কারন একটা জিনিষ উপলব্ধি করেছি - শুধু পড়ার বদলে লেখার চেষ্টা করলে মাথা অনেক খুলে ভাল আর পড়া জিনিষটা বুঝতে অনেক সুবিধা হয়।

যাইহোক, সচলের ইনবক্সে কিছু পাইনি এখনো।

****************************************

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

বার্তা কেন গেলো না বুঝলাম না। বই আপনার ইমেইলে পাঠানো হয়ে গেছে।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

সচলে স্বাগতম। আরো লিখুন। চোখ টিপি

(বইটা পাইলে পইড়া কমুনে কেম্নেকীরাম্লাগ্লো!)

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনার উৎসাহ আমার চলার পাতেয়। খাইছে

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

এমন একটা আলোচনার পরেও আমি মনে করি রবিশংকর বল পড়ার আগে মান্টো পড়া দরকার, তারও আগে গালিব পড়া দরকার।

এককালে মুক্তধারা মান্টোর বেশ কিছু বইয়ের বঙ্গানুবাদ বের করেছিল। মোস্তফা হারুন, জাফর আলম, এ বি এম কামালউদ্দিন শামীম সরাসরি উর্দু থেকে বাংলায় চমৎকার অনুবাদ করতেন। এখন মুক্তধারা নেই, এমন উদ্যোগও নেই। কয়েক বছর আগে অন্য একটা প্রকাশনীর (নাম বললাম না) একটা উর্দু গল্প সংকলনে 'ঠাণ্ডা গোস্ত' পড়ে অনুবাদককে সম্মার্জনী দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে ইচ্ছে হয়েছিল।

মান্টো আমার অসম্ভব প্রিয় লেখক। এমনকি কৃষণ চন্দর বা মুন্সী প্রেমচাঁদের চেয়েও। আফসোস্‌, আজ পর্যন্ত বাংলা বা ইংরেজীতে তাঁর কোন রচনাসমগ্র দেখতে পেলাম না। ২০১৫ সালে মান্টোর লেখার ওপর থেকে কপিরাইটের বাধ্যবাধকতা উঠে যাবার কথা। তখনো কি কেউ তাঁর রচনা সমগ্র বের করবেন না!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

দময়ন্তী এর ছবি

আমার কাছে বিটার ফ্রুট নামে একটা মোটামুটি মোটকা সোটকা কালেকশান আছে৷

আমার আরেকজনকে দারুণ লাগে৷ কুয়ারুতুলিন হায়দার৷ ওঁরও বই খুব সহজলভ্য নয়৷

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

দমুদি,

কুয়ারুতুলিন হায়দারের নাম শুনেছি চুঘতাইকে নিয়ে কি একটা প্রবন্ধ পড়তে গিয়ে। ইনার কোনো বই এখনো পড়া হয় নাই।

দময়ন্তী এর ছবি

শুভাশীষ,

আগ কি দরিয়াঁ, যেটা ইংরিজি অনুবাদে 'রিভার অব ফায়ার' পড়বেন সময় করে৷ যদিও আমার ব্যক্তিগত মত শেষের দিকে বইটা একটু ঝুলে গেছে, তাও সবমিলিয়ে পড়া উচিত্
আর শুধু দেশভাগ ধরলে আরেকটা খুব ভাল বই হল উর্বশী বুটালিয়ার 'দ্য আদার সাইড অব সাইলেন্স'৷

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

দমুদি,

বইগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

নামটা কুররাতুল আইন হায়দার হবে। একটা ব্যক্তিগত অভিমত যোগ করছি। উর্দু সাহিত্যে নারী লেখকদের মধ্যে প্রথমে নাম আসবে ইসমত চুঘতাইয়ের নাম। এরপর যথাক্রমে কুররাতুল আইন হায়দার, খাদিজা মাস্‌তুর, হাজেরা মাশ্‌রুর। এই লিস্টে আমি অমৃতা প্রীতমের নামও যোগ করতে চাই, যদিও উনি পাঞ্জাবী ভাষায় লিখতেন। কারণ তাঁর লেখার স্টাইল ও বিষয়বস্তু যা মান্টো-চন্দর-চুঘতাইদের সাথে মেলে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ইংরেজিতেও মান্টোর কালেকটেড স্টোরিজ পাওয়া যায় না। তবে Bitter Fruit, Black Margins আর Selected Stories পড়লে অনেকগুলো গল্পই পাওয়া যাবে।

দে'জ পাবলিশিং থেকে 'মান্টোর রচনাসংগ্রহ' বেরোবে এই বছরের জুলাই নাগাদ। ভূমিকা ও সম্পাদনার দায়িত্বে রবিশংকর বল।

দময়ন্তী এর ছবি

অনেকদিন বাদে লিখলেন, ভাল্লাগলো৷

অনেকদিন ধরে এই বইটা পড়ার তালে আছি, এইবার ঠিক পড়ে ফেলবো৷ 'সংবাদ প্রতিদিন'এ রবিবার করে এঁর আরেকটা লেখা বেরোত 'আমাদের ছোটরাস্তা'৷ বেশ ভাল লাগতো৷

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

আমিনুল এর ছবি

বইটি পিডিএফ কপি পাওয়া যাবে কি না । পাওয়া গেলে দয়া করা জানাবেন কোন link-এ পাওয়া যাবে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA