কোন ক্লাসে পড়েছিলাম এই কবিতা এখন তা আর মনে নেই। সিক্সে কি সেভেনে কি এইটে। তবে মনে আছে ইংরেজী বইটার পৃষ্ঠাগুলো হালকা লালরঙা ছিল। পাতাগুলো ওলটালেই নিউজপ্রিন্টের মিষ্টি গন্ধটা এসে নাকে টোকা দিত। মা খুব যত্ন করে সবগুলো বইয়ের মলাট করে দিত। তার উপর আমি সুন্দর করে লিখে রাখতাম বইটার নাম।
সম্ভবত সেটিই আমার পড়া প্রথম ইংরেজী কবিতা। কবিতাটা পড়ে কী বুঝতাম কে জানে, তবে ভাল লাগত। পরীক্ষার সিলেবাসে না থাকলে সাধারণত বাংলা কবিতাও পড়তামনা মন দিয়ে। তবে এই কবিতাটি পড়েছি অকারণে বহুবার। কবিতাটির অন্ত্যমিলও যে কানে একটা খুব আমোদ দিত এমন নয়। হতে পারে তার নামটার মধ্যেই ছিল একটা সম্মোহন, একটা রহস্য। তখনও ওক গাছ কী দেখিনি? তীর-ধনুকের গল্প শুনেছি পুরানের গল্পে। বাবার বইয়ের আলমারিতে একটা ইংরেজী বই ছিল। ওতে লেখা ছিল এই কবিতাটার লেখকের নাম। হেনরী ওয়াডসওর্থ লংফেলো। ছোট্ট কবিতাটা, বার লাইনের মাত্র। ঐটুকু বয়সে কী বুঝেছিলাম কে জানে। একটা তীর ছুঁড়ে দিয়েছে কেউ বাতাসে। তারপর কোথায় গিয়ে কোন অজানায় সে গেছে হারিয়ে। একটা গান একবার কেউ গেয়েছিল আনমনে, তারপর সে গান মিলিয়ে গেল হাওয়াদের অদৃশ্য নগরে। তারপর বহুবছর পর কোথায় কোন এক পথের ধারে সে দেখে তার বাতাসে ছুঁড়ে দেওয়া তীরটিই গাঁথা আছে এক ওক গাছের বুকে। এভাবে একদিন সে আবার শুনতে পায় এক বন্ধুর কণ্ঠে সেই গান যেটি মিলিয়ে গিয়েছিল ইথারে ইথারে।
কেন জানিনা মনে হত এই কথাগুলো খুব সত্য। মনে হত কোন কিছুই হয়ত হারিয়ে যায়না। যা কিছু হারিয়ে যায় বলে ভাবি, ফিরে ফিরে আসে তারা দীর্ঘ দীর্ঘ বছর পরে। তীরের মত হয়তবা অন্য কোথাও। পরিচিত গানের মত অন্য কোনখানে, অন্য কারো হৃদয়ে।
কবিতাটার কথা মনে ছিল। কিন্তু সেই লালরঙা নিউজপ্রিন্টের মিষ্টি গন্ধমাখা ইংরেজী বইটা হারিয়ে গেছে বহুদিন আগে। অথচ ভাবতাম হয়ত একদিন সেই কবিতাটার ভেতরের তীরটার মতই পুরো কবিতাটাকেই খুঁজে পাব কোথাও। সেই তীরটার মতই অক্ষত, অজর। হয়ত কবিতাটার সেই গানের মতই একদিন কারো মুখে ফের শুনতে পাব সম্মোহনী শব্দগুলো। শুনে হয়ত অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকব তার দিকে।
ভাবি, কবিতাটা এখন কি স্কুলে পড়ে বার তের বছরের কিশোর-কিশোরীরা? হয়ত তাদের সিলেবাস বদলে গেছে। নতুন সিলেবাসে হয়ত কামাল আর সাবিনার স্কুলে যাওয়ার গল্পই শুধু তারা পড়ে। সেই মন উতল করে দেওয়া কবিতাটির কথা তারা হয়ত জানেনা। নিজেকে আমার অনেক ক্ষেত্রেই সৌভাগ্যবান বলে মনে হয়। স্কুলের সিলেবাসে " The Arrow and the Song '' কবিতাটি আমাদের পাঠ্য ছিল। কলেজে উঠে পড়তে পেরেছিলাম '' A Mother in Mannville'' কিংবা '' The Gift of the Magi'' এর মত গল্পগুলো। আমার মতই অনেকেরই হয়ত মনে পড়ে খুব লংফেলোর কবিতাটির কথা। আমার মতই তারাও হয়ত বিঃশ্বাস করেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়তম জিনিসগুলো আবার বহুদিন পর হয়ত কোথাও হঠাৎ করে আমাদের চোখে পড়ে যাবে, ভুলে যেতে বসা গানটিও হয়ত একদিন পথের ধারে গেয়ে উঠবে অচেনা কোন ভিখিরি।
The Arrow and the Song
- Henry Wadsworth Longfellow
I shot an arrow into the air,
It fell to earth, I knew not where;
For, so swiftly it flew, the sight
Could not follow it in its flight.
I breathed a song into the air,
It fell to earth, I knew not where;
For who has sight so keen and strong,
That it can follow the flight of song?
Long, long afterward, in an oak
I found the arrow, still unbroke;
And the song, from beginning to end,
I found again in the heart of a friend.
মন্তব্য
নিযে আগ্রহ নিয়ে কবিতা পড়ার অভ্যাস নেই। পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবেই যা পড়েছি অথবা বন্ধুদের মুখে শোনা, বা ফেসবুকে শেয়ারে দেখা কবিতার লাইন পর্যন্তই আমার কবিতা পড়ার দৌড়। ইংরেজির সিলেবাসে এখন আর গল্প বা কবিতা দিয়ে পড়ানো হয় না। কিন্তু কী দারুন সব কবিতা ছিল, আমাদেরকে এক শিক্ষিকা এক বছর ধরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে "To Daffodils" পড়িয়েছিলেন। আরেকটা প্রিয় কবিতা " Time, you old gypsy man". Highland lass এর গান গাওয়ার কবিতাটার নাম ভুলে গেছি, আর যুদ্ধজয়ী বীরের ঘরে ফেরার সময় চিন্তা ভাবনা নিয়ে কি যেন একটা কবিতা ছিল, সেটাও। কিন্তু উপলব্ধিগুলা এখনো মনে গেড়ে বসে আছে। কলেজে যে স্যার আমাদের ইংরেজি কবিতা পড়াতেন, উনার আবৃত্তি ছিল দারুন!
~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~
Daffodils নামেও একটা কবিতা ছিল মনে পড়ে।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
এখনকার সিলেবাসে ইংরেজীটা আসলে একেবারেই বদলে গেছে। লিটারেচার পুরোপুরি বাদ পড়েছে, কম্যুনিকেটিভ ইংলিশের যন্ত্রণায়। যান্ত্রিক প্রয়োজনে জীবনের রস হারিয়ে গেছে।
_________________________________
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
_________________________________
।। রিসার্চ ইন্টারফেস ।।
এটা শুধুমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব বোধ হয়। আমি কয়েক বছর ফরাসী ভাষা শিখেছিলাম, আমাদের ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন লেভেল এর বইগুলোতে আমরা র্যাঁবো, প্রেভের, আপোলিনের, ভেরলেন, বোদলের এরকম ফরাসী সাহিত্যের দিকপালদের কবিতা পড়েছি। সাহিত্য পাঠের আকর্ষণেই ভাষাটা শিখতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত বোধ করতাম।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
কবিতাটা আমিও পাঠ্য বইয়ে পেয়েছি। তবে এখন সাহিত্যের জন্য সিলেবাসে জায়গা নেই বললেই চলে। কমিউনিকেটিভ ইংরেজির যুগ এখন। সবই কমার্শিয়াল হয়ে যাচ্ছে দিন দিন যেন শুধু চাকুরী পাওয়ার জন্যে যা দরকার তাই শেখানো হবে আর ওইটুকুই শেখাটা জরুরী ।
অতি উৎসাহী আর পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই রকমের কবিতার খবর এখন আর কেউ রাখে না।
মনে করিয়ে দিলেন স্কুল আর কলেজ জীবনের সেই ছাত্রজীবনের কথা। মনে আছে 'এ পাশনেট শেফার্ড টু হিজ বিলাভেড' এই কবিতাটি কলেজের প্রাণতোষ স্যার প্রায় ১৫-১৬ টা ক্লাসে শেষ করেছিলেন। তারপরও নাকি তার মন ভরে নি কারণ একটা লাইনে নাকি এক একটা করে ক্লাস নেয়া যায় ।
শুধু চাকরী পাওয়ার জন্যই তো কেবল শিক্ষা না, আমরা তো উল্টোদিক মুখ করে হেঁটে চলেছি সবক্ষেত্রে তাই আমাদের সামনের দিকে যাত্রাটা হচ্ছে না।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
স্কুলে কবিতায় মন দেয়ার সময় ছিল কোথায়? মার্কেসের জন্যে মুখস্ত, এইত শিক্ষানীতি।
শিক্ষানীতি কিনা কে জানে, পরীক্ষা-পাশ নীতি বলতে পারেন একধরনের।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
আমি ও এই কবিতা পেয়েছিলাম। কলেজের স্যার আর সিস্টার জোসেফ মেরির পড়াবার ধরনের জন্যই মনে হয় খুব ভাল লাগতো কবিতাগুলি।
আপনিও সেই সব ভাগ্যবানদের একজন।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
'দ্য এ্যারো এন্ড দ্য সং' নাইন-টেনে পাঠ্য ছিলো, সেভেন-এইটে না।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ
ধন্যবাদ ধূগোদা, কোন ক্লাসে ছিল আজ আর ঠিক মনে নেই।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
লিনক দিলে কি ক্যাপচার ঝামেলা দেখা যায়?
অনেক কবিতার কথা মনে করে দিলেন -
টু লিটল ব্ল্যাক বার্ড
অন্ধ লোকদের হাতি দেখতে যাওয়া
লেজার
একটা ছিল দিনে শহরের লোকসংখ্যা বাড়ে আর রাতে কমে এর ব্যাপারে
বুগাস বু
হওয়ার দ্য মাইন্ড ইজ উইদ আউট ফিয়ার
এটাও ছিল (http://www.poets.org/viewmedia.php/prmMID/15425)
শেষের দুটা নাইন-টেন এর বই এ ছিল কিন্তু সিলেবাস এ ছিল না
আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি আরো অনেক কবিতার কথা মনে করিয়ে দিলেন। Sands of Dee নামের অসাধারণ একটা কবিতা ছিল কোন এক ক্লাসে।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
আবার ক্যাপচার ব্যাপারে:
আমার আগের মন্ত্যব্যে ৬ টা লিঙ্ক ছিল - এভাবে (লিঙ্ক)
একটা করে ডিলিট করি আর সাবমিট করি - ৫ টা ডিলিট করার পর মনে হয় সাবমিট হয়েছে, তার আগে প্রত্যেক বার ক্যাপচা দেখিয়েছে
ধন্যবাদ
এস এস সি আর এইচ এস সি সিলেবাসে দারুন দারুন কবিতা ছিলো। বিশ্ব সাহিত্যের সাথে পরিচয়ের এক দরজা ছিল; আগ্রহ তৈরি হয়েছিল ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি, যা এখন ও আছে। অনেক কথা, কবিতার কথা এক ঝলকে মনে পড়ে গেলো আপনার এই লেখা পড়ে। ধন্যবাদ।
ভাল কবিতার আবেদন চিরকালীন। বারে বারে পড়ুন। ধন্যবাদ।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
আহা! শৈশব কৈশোর চোখের সামনে এনে দিলেন একটানে...
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
(গুড়)
চমৎকার লাগল, অনেক বার পড়েছিলাম কবিতাটি, মানে বোঝার জন্য!
দাদা, সময় পেলে আফ্রিকার ঐ অঞ্চলের কবিতা নিয়ে আরও লিখুন।
facebook
চেষ্টা করব। তবে নেটে সমকালীন আফ্রিকান সাহিত্য নিয়ে খুব বেশী কিছু পাওয়া যায়না। আর আমার কাজের ধরনের কারণেও এখানের বইয়ের দোকানে ঘনঘন যেতে পারিনা।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
আমরা কবিতাটি পাইনি- আমরা আসার আগেই মিলিয়ে দেয়া হয়েছিল কমিউনিকেটিভ হুজুগে । এখনকার অবস্থা কেমন জানি না । আস্তে আস্তে সব জায়গায়ই তো যান্ত্রিকতা ভর করছে...
পুরোনো বইয়ের দোকানে খোঁজ নিন। বিশেষ করে ৯৪-৯৮ সালের দিকের উচ্চমাধ্যমিকের ইংরেজী প্রথম পত্রের বইটা।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
হুম। আমাদের সময়ে কবিতাটা নাইন-টেনে ছিলো।
সত্যি বলতে কি, বাচ্চাদের মানসিকতা মাথায় রেখে পাঠ্যবই এবং পড়ানোর পদ্ধতিতে বহু বহু পরিবর্তন আনলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হচ্ছে না বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা। পড়াশোনার ভেতর দিয়ে মানবিক বোধগুলোকে জাগিয়ে তোলার ব্যাপারটা হারিয়ে গেছে, বা যাচ্ছে।
...........................
একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাটার যে জগাখিচুরিকরণ হয়ে গেছে তাতে শিক্ষার্থীর পেটে পীড়া না হয়ে যায় কোথায় এখন।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
কবিতাটা পাঠ্য বইয়ে পড়েছি। দারুন কবিতা
হুম।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
লেখাটা অনেক ভাল লাগল, সুমাদ্রী ভাই! আসলে স্মৃতিকে নাড়া দেয়, এমন যেকোন লেখাই ভাল লাগে! স্মৃতি রোমন্থন একটা বড় আনন্দের উৎস! মনে আছে, ক্লাস নাইনে উঠার পর নিজেকে খুব বড় মনে হচ্ছিল, সেই সময় হাতে পাওয়া ইংরেজি বইয়ের প্রথম কবিতাটা (দা এ্যারো অ্যান্ড দা সং) আমার 'বড় মনে হওয়া'টাকে আরো উস্কে দিয়েছিল যেন! সত্যি তো এর আগের ক্লাসগুলিতে যা পড়া হয়েছিল, সেগুলি রাইম ছিল, বড়দের কবিতা, মানে গভীর অর্থবহ কবিতা খুব একটা ছিল না! তো লংফেলোর কবিতা একটা অন্যরকম ভাব এনে দিয়েছিল আমাদের মাঝে!
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
আহা, পুরনো সব দিনের কথা মনে করিয়ে দিলেন।
ধন্যবাদ।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
যদিও সিলেবাস এ ছিল না,তারপর বড় আপুর বই দেখে কবিতাটা পড়েছিলাম।স্কুলে সেভেন একটা কবিতা ছিল "আন্ডার দি গ্রীন উড ট্রি ",বেশ ভাল লাগত,এখনো মনে আছে।
''under the greenwood tree'' আমাদের কলেজে ছিল। সুন্দর কবিতাটা।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
এই পোস্ট আর মন্তব্যগুলো পড়ে কবিতা নস্টালজিয়ায় ভুগে আজ আবিষ্কার করলাম, আসলে কবিতা ভালুবাসি। এদ্দিন নিজেকে কবিতা বিমুখ ভাবার কারন বোধহয় অনেক কবিতার ভিড়ে ভালো কবিতা খুঁজার ধৈর্য্য নেই বলে।
~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~
শব্দের যে কী মাধূর্য! তাতে একবার মজে গেলে বারে বারে ফিরে আসা যায়।
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
Can anybody remember the poem "The Sands Of Dee" by Charles Kingsley?
O Merry go and call the cattle home , acroos the sands of dee ...... এর বানং্লা ভারসন হল- শুন মা আমিনা , রেখে দেরে কাজ , ত্বরা করে মাথে চল ।।।।।।।
এলো মেঘনায় বান, এখনি নামিবে ঢল।
~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~
(গুড়)
একটা প্রিয় কবিতার কথা মনে পড়লো "The Passionate Shepherd to His Love" by Christopher Marlowe।
কবিতাটা আমি আগে পড়িনি, তবে এখন পড়ে খুবই ভাল লাগল।
আহারে--
ভুলে যাওয়া পুরনো চেনা কবিতার কথা মনে পরে গেলো--
বাংলা কবিতা গুলোও কিন্তু বেশ ছিল। সেই চয়নিকার মামুদ মিয়া বেকার/ তাই বলে কি সাধ নাই তার বিশ্ব ঘুরে দেখার থেকে শুরু করে অন্য সব কবিতা। উচ্চ মাধ্যমিকে আমার ভীষণ ভালো লাগত সমুদ্রের প্রতি রাবণ--
উঠিলা রাক্ষসপতি প্রাসাদ শিখরে
কনক উদয়াচল দিনমণি যেন
অংশুমালী।
কিংবা
আমি কি ডরাই সখী ভিখারি রাখবে?
--
নিজ গৃহপথ তাতঃ দেখাও তস্করে?
অসংখ্য লাইন তার তুলে দেবার মত।
তোর বর্ণনার মত এত চমৎকারভাবে কবিতা হয়তো বুঝতাম না তখন, সেই স্কুল-বেলায়।
কিন্তু, মনে পড়ে ছন্দো-বন্ধ কবিতা-ছড়া খুব আওড়াতাম। ভালো লাগতো ভীষণ।
কবিতা-র সাথে সখ্য-ভালোবাসা সে কিশোর-বেলায়।
কবিতার সেই মোহনীয় রহস্যময়রূপের মধ্যে আজো বুঁদ হয়ে থাকতে ভালোবাসি।
ছেলে বেলার কথা মনে পরে গেল। আমার ছেলে বেলার শবচেয়ে প্রিও কবিতা "আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।।
-ক্রান্তিবৃত্ত
নতুন মন্তব্য করুন