ব্যাগ

সুমাদ্রী এর ছবি
লিখেছেন সুমাদ্রী (তারিখ: বিষ্যুদ, ২২/১১/২০১২ - ৯:২১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমাদের কাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সেলিম মিয়া আজ থেকে হিসাব করলে প্রায় সাড়ে দশ বছর আগেই তার বাবার সাথে ঝগড়াটা বাঁধিয়েছিল। ঝগড়ার কারণ অনুসন্ধান করলে আসলে গুঢ় কোন রহস্য বের হয়ে আসেনা। সেই চিরাচরিত ব্যাপার। সেলিম মিয়ার বাবা মকবুল আলী যৌবনে খুলনা শহরের উপকন্ঠে একটা শস্য ভাঙ্গার মিল দিয়ে তাঁর কারবার শুরু করেছিল। দিন-রাত খেটে খেটে মিলের মেশিনের মত নিজেকে ক্ষয়ে একটু একটু করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিল কয়েক বছরে। পরে পরে তিনি অন্য ব্যবসার দিকেও হাত বাড়ান। কয়েকটা ট্রাক আর পিক-আপ কিনে মাল আনা-নেয়ার ব্যবসাটা শুরু করেন। সেলিম মিয়া মকবুল আলীর বড় ছেলে হয়েও বাবার ব্যবসাটা বুঝে নিতে পারেনি। মিলের মেশিনের শব্দে তার মাথা ঘুরত, আর শস্যের গন্ধে তার চোখে পানি চলে আসত। সেলিম মিয়া তাই কদাচিৎ মকবুল আলীর মিলে গিয়ে বসত। বাবার অন্য ব্যবসাটার লাভ-লোকসানের দিকে নজর না থাকলেও গাড়ীগুলোর প্রতি ছিল তার অন্যরকম একটা আকর্ষণ। ড্রাইভারেরা একে অপরকে ডাকত ওস্তাদ। ওস্তাদ ডাকটা শুনতে তার বরাবরই ভাল লাগত। সবসময় মুখের এককোনে পানের পিক লেগে থাকা ড্রাইভার রজব আলী সেলিম মিয়াকে মাঝে মাঝে পাশে বসিয়ে এখানে ওখানে ঘুরিয়ে আনত। লোকটার মুখ থেকে পানের গন্ধের সাথে সাথে আরেকটা অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। গন্ধটা সেলিম মিয়ার কেন জানি খারাপ লাগত না। রজব আলী গাড়ি চালাত সিনেমার নায়কদের মত। এক হাত স্টিয়ারিঙে রেখে আরেকহাতে সিগারেট রেখে মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে সিনেমার গান গেয়ে গেয়ে সে ট্রাক চালাত। সেলিম মিয়া দেখেছে নায়করাজ জসীমও ঠিক এইভাবেই সিনেমায় গাড়ী চালায়। এই রজব আলীর কাছেই সেলিম মিয়া একটু একটু করে শিখেছিল গাড়ী চালানোর টেকনিক। মাঝে-সাঝে সে ছোট পিক-আপগুলো চালিয়ে নিজেই বাজার থেকে বাড়িতে মাল নিয়ে আসত। এভাবে একটু একটু করে ট্রাক পিক-আপ চালাতে চালাতে কয়েক বছরে সেও হয়ে উঠেছিল পাকা একজন ড্রাইভার। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সেলিম মিয়া আর এগুতে পারেনি। কামাল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে এডমিশনটা নিয়ে মাস কয়েক ক্লাস করেই সে ছেড়ে দিয়েছিল। যদিও মকবুল আলী অনেক গালি-গালাজ করেছিল, তাতে সেলিম মিয়ার পড়ায় মন বসেনি। রজব আলীর মত ওস্তাদ হতেই হয়ত চাইছিল মন। তো, সেলিম মিয়া যখন এভাবে বনের মোষই তাড়াবে, কাঁহাতক মকবুল আলী তা আর সইবে? একদিন বাপে-বেটায় ঝগড়া হল। মকবুল আলীর ততদিনে খুলনা শহরের উপকন্ঠে একটু মান বেড়েছে। বড় ছেলে ট্রাক চালায় এটা তার সম্মানে গিয়ে লাগে। মকবুল আলীর নির্দেশ, সেলিম মিয়া ট্রাক ছেড়ে দিয়ে গিয়ে বসবে তার নতুন বরফ কলের গদিতে, সেলিম মিয়া নারাজ, সে বরং ট্রাক আর পিক-আপগুলোর তদারকি করবে। মকবুল আলী ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম মিয়ার গালে কড়া একটা থাপ্পর বসিয়ে দেয় আর রজব আলীর মা-বাপকে কবর থেকে তুলে এনে বিশেষ একটি কাজ করার অভিপ্রায় প্রকাশ করে। চড়ের আঘাত সেলিম মিয়ার মুখেই লেগে থাকে বুকে লাগে না কিন্তু রজব আলীর অপমান সে সহ্য করতে পারেনা। রজব আলী তার ওস্তাদ। সেলিম মিয়ার কাছে বাপের চেয়ে ওস্তাদ সেদিন বেশি বড় হয়ে উঠেছিল। শ্যামলা গালে রক্তিম আভা নিয়ে সেলিম মিয়া সেদিনই খুলনা শহরের উপকন্ঠ ত্যাগ করে ঢাকায় চলে আসে।

ঝগড়ার এই ছিল কারণ। পরবর্তী চার বছর সেলিম মিয়া খুলনা শহরের উপকন্ঠে আর যায়নি কখনও। ঢাকায় প্রথম প্রথম সে প্রাইভেট কার চালাত পয়সাওয়ালা মানুষদের। কিন্তু এই বাঁধাধরা জীবনটা ভাল লাগছিলনা তার। বিশেষ করে, পয়সাওয়ালা মানুষগুলোর, তাদের বৌগুলোর, তাদের ছেলে-মেয়েগুলোর কটুকথা সেলিম মিয়াকে চাকরীটার উপর বীতশ্রদ্ধ করে তুলে। কিছুদিন পর প্রাইভেট কার ছেড়ে দিয়ে সে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ লাইনের বাস চালানো শুরু করে। দু'বছর টানা চালানোর পর সে ছোট পরিবহন ছেড়ে দিয়ে বড় পরিবহনে ঢুকে। রজব আলীই তাকে সোহাগে'র করিম ভাইয়ের সাথে দেখা করতে বলেছিল। সেলিম মিয়ার কাছে তাই রজব আলী শুধু ওস্তাদই না, আরও বড় কিছু। সোহাগের বড় গাড়ী নিয়ে সপ্তাহে সে চারটা ট্রিপ মারত ঢাকা-খুলনায়। চার বছর পর একদিন প্যান্টের দু'পকেট ভর্তি টাকা আর দু'হাতে দুটো বড় ব্যাগ নিয়ে খুলনার উপকন্ঠের বাড়িটাতে গিয়ে হাজির হয় সে। এই চার বছরে বাপের রাগ পানি হয়ে ঝরে পড়ে গেছে। মকবুল আলী ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে, '' আর গোসসা করিস না বাপ, আইসস যখন তয় এইবার একখান বিয়া কইরা এক্কেরে বউ লইয়া ঢাহাত যা।'' চার বছর পর বাড়ি গিয়ে সেলিম মিয়া রওজা বাজারের আমিন স্টেশনারীর মালিক আমিন মোল্লার মেয়ে আয়েশাকে বিয়ে করে আরও এক সপ্তাহ বাড়ি থেকে গিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে।

আজ পর্যন্ত গাড়ী চালাতে গিয়ে সেলিম মিয়া কোন দূর্ঘটনা ঘটায়নি। সবার কাছে এটা একটা অত্যাশ্চর্যের বিষয়। এমন নয় যে সে খুব ধীরে গাড়ী টানে। এমন নয় যে সে হাইওয়েতে তার পাশ দিয়ে অন্য কোন গাড়ীকে সহজেই সাইড দিয়ে দেয়। রজব আলী বলত সে কোনদিন একসিডেন্ট করেনি। বলত, '' মামু, গাড়ি চালাবা এমুন কইরা, মনে কইরবা গাড়ীটার ভিতরে তুমার পুলারে লইয়া বাইর হইছ তুমি।'' সেলিম মিয়া অত ইমোশানালি কিছু ভাবেনা। তার কথা হল, ‘ গাড়ী যখন চালাই, তখন মনে হয় গাড়িটাই মুই হই গেছি, গাড়ীর গায় আঁচড় লাগে তো আমার গায়ও লাগবো আঁচড়।’ দেশে-বিদেশে কত কিছু ঘটে যায়। দুনিয়াতে অশান্তির পর অশান্তি। সেলিম মিয়ার টিভি দেখার অবসর কম। মাঝে মধ্যে পেপার পড়ে সে। আমেরিকার দুইটা বড় দালান প্লেন মেরে ধ্বংস করে দেয় কারা যেন। ইরাক-আফগানিস্তান-পাকিস্তানে আমেরিকা বোম মারে। তার নিজের দেশেও লীগ-বিএনপি-জামাত একে অপরকে বোমা মেরে, গুলি মেরে, কুপিয়ে মারে। দুনিয়ায় বড় অশান্তি। সেলিম মিয়া এসবের কোন কারণ খুঁজে পায়না। গাড়ি চালানোর সময় এসব অশান্তির কথা তার মনেও পড়েনা।

মাঝে মাঝে সাদা চামড়ার কিছু বিদেশী সেলিম মিয়ার গাড়িতে চড়ে খুলনা থেকে ঢাকা কিংবা ঢাকা থেকে খুলনা আসে। হেল্পার রাজ্জাকের কাছ থেকে সে জানতে পারে এরা দক্ষিণ বঙ্গের ঘুর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকায় এনজিও গুলোর কাজ পরিদর্শণে আসে। রাজ্জাক বলে, ‘ ওস্তাদ, এগুলার কিন্তু মেলাই টাকা, কিন্তু হালারা হাড্ডি কিপটা, চলে ফকিরের লাহান, চড়ে নন এসির বাসে।’ রাজ্জাকের কথা শুনে সেলিম মিয়া মনে মনে হিসাব কষার চেষ্টা করে ঠিক কত টাকা হলে সেটা মেলা টাকা হয়। ভাবে, হয়ত তার বাপের মেলার কাছাকাছি টাকা আছে। আজ থেকে বছর খানেক আগে সেলিম মিয়ার খুলনা থেকে ঢাকাগামী বাসে এরকম দু’জন বিদেশী যাত্রী উঠেছিল। দুজনই সাদা মেম। সায়েদাবাদ পেট্রল পাম্পের কাছে যাত্রী সবাইকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ী গ্যারেজে নিয়ে যাওয়ার পর সে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। অল্পক্ষণ বাদে হেল্পার রাজ্জাকের ডাকে তার ঘুম ভাঙ্গলে চোখ কচলাতে কচলাতে সে দেখে রাজ্জাকের হাতে একটা কাল চামড়ার হাত ব্যাগ। রাজ্জাক বলে, ‘ ব্যাগটা মনে হইতাছে ঐ বিদিশি মায়া দুইডা ফালাই গ্যাছে, দেখুম নাকি ওস্তাদ ভিতরে কী আছে, ডলার থাইকতে পারে?’ সেলিম মিয়ার মনে পড়ল রজব আলীর একটা গল্প যেখানে রজব আলী কাকে যেন বলছিল, ‘ তোমার ত্থুন একশত টাহা বেশি লইয়া আমি বড় মানুষ হইয়া যামুনা মিয়া।’ রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল বিধায় সেলিম মিয়া আর কাউন্টারে না গিয়ে ব্যাগটা রাজ্জাকের কাছ থেকে নিয়ে সেদিন শেওড়াপাড়ায় তার বাসায় ফিরে গিয়েছিল। তার পরদিন সাত সকালেই তার ঘরে একগাদা লোক এসে হাজির। বাস মালিকের শালা, কাউন্টারের ম্যানেজার, রাজ্জাক, বাসের সুপারভাইজারদের সাথে গতকালের সেই বিদেশী মেয়ে দুটো। কাউন্টারের ম্যানেজার জানতে চায় তার কাছে চামড়ার ব্যাগটা আছে কিনা। সেলিম মিয়া চোখ কচলাতে কচলাতে একবার রাজ্জাকের দিকে তাকায়, তারপর ঘরের ভেতর ঢুকে আলমারিটা খুলে গতরাতে পাওয়া ব্যাগটা নিয়ে এসে ম্যানেজারকে দেয়। সাদা মেয়ে দুটোর চেহারায় দেখা যায় একটা খুশির ঝিলিক। বাস মালিকের শালার সাথে কিছুক্ষণ তারা ইংরেজীতে কথা বলল, সেলিম মিয়া তার এক-তৃতীয়াংশও বুঝলনা। বাস মালিকের শালা সাবের স্যার বলল, ‘ সেলিম মিয়া, এদের এই ব্যাগে বিশ হাজার ডলার, হীরার আংটি আর বাংলা টাকা ছিল, তুমি একবার খুলেও দেখ নাই?’ সেলিম মিয়া চোখ কচলাতে কচলাতে সেদিন বলেছিল, ‘ স্যার তহন কি আর জানতাম এই ব্যাগে এত মেলা টাকা আছে? তয়, ব্যাগ খুলুম ক্যান, ব্যাগতো আমার না, ঐ টাকা লইয়া আমি কি আর বড় মানুষ হইয়া যামু?’ বিদেশি মেয়ে দু’টো সেলিম মিয়ার হাত ধরে হ্যান্ড শেক করেছিল সেদিন। কিছু টাকাও দিতে চেয়েছিল তারা। সেলিম মিয়া নেয়নি। সেই প্রথম কোন বিদেশী মেয়ের হাতের স্পর্শ পেয়েছিল সে। অন্য একধরনের অনুভূতি সেটা।

শেওড়াপাড়ার ময়লা চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে সেলিম মিয়া তার এই কাহিনীগুলো আমাকে বলেছিল।

গতরাতে আমার পিঠ ব্যাগটাও আমি ফেলে এসেছিলাম শ্যামলী পরিবহনের গাড়ীতে। মতিঝিলের কাছাকাছি এসে মনে হল ব্যাগ একটা নেয়া হয়নি। সিএনজি ড্রাইভারকে সায়েদাবাদ ফিরে যেতে বললে সে বলল, ‘ যাই আর কী করবেন, আপনের ব্যাগ কি অখন আর আছে? কেডায় না কেডায় লইয়া গ্যাছে।’ হিসাব করে দেখলাম ব্যাগে টাকা-পয়সা বা দামী তেমন কিছুই নেই। শুধু আছে একটা হার্ড ডিস্ক। ওখানে রয়ে গেছে স্ক্যান করা আমার যাবতীয় ডকুমেন্ট আর হাজার হাজার ছবি। সাধারণতঃ আমি হাল ছেড়ে দেয়ার পাবলিক। কিন্তু ডকুমেন্ট আর বিশেষ করে ছবিগুলোর জন্যই মনে হল, ‘ না একবার চেষ্টা করে দেখতে দোষ কী!’ হঠাৎ-বৃষ্টি এসে ঢাকা শহরটাকে অকস্মাৎ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। সায়েদাবাদের ওদিকটার রাস্তার ওপরে উড়ালপুর বসানোর কাজ চলছে। তাতে একদিকে যেমন প্রবল জ্যাম, অন্যদিকে ধুলো-ময়লা বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গিয়ে এক জঘণ্য পরিবেশ বানিয়ে রেখেছে ওখানে। সিএনজিওয়ালা যেখানে থামল সেখানে বাস আর নেই, আমি জল-কাদা ভেঙ্গে কয়েকটা কাউন্টারে গিয়ে খোঁজ নিলাম। কাউন্টারের লোকগুলো ঝামেলা এড়াতে চাইছে দেখে আমি আরও নাছোড়বান্দা হয়ে উঠলাম। একটা কাউন্টারে গিয়ে পেলাম ড্রাইভারের নাম্বার। ড্রাইভারের নাম সেলিম মিয়া। রাত তখন একটা হয়ে গেছে। তবু ফোন করতেই হবে, রোখ চেপে গেছে আমার। সেলিম মিয়া যদি বলে সে আমার ব্যাগ পায়নি, তবে আমার পুরো দৌঁড়-ঝাপটাও এই বৃষ্টির জলে ধুয়ে গিয়ে সায়েদাবাদের ঐ ময়লায় গিয়ে জমবে। আমার বৃত্তান্ত শুনে সেলিম মিয়া জানাল ব্যাগটি সে তার বাসায় নিয়ে গেছে, রাত আর বৃষ্টির কারণে কাউন্টারে জমা দিতে পারেনি সে। কাল সকাল দশটায় শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজারে গিয়ে তাকে একটা ফোন করতে বলল সে বিনীতভাবে। আমি খুশিমনে কাউন্টার থেকে বেরুতেই দেখি সিএনজিওয়ালা দাঁড়িয়ে আছে। জানতে চাইল ব্যাগ পাওয়া গেছে কিনা। আমি মাথা নাড়াতেই সে বলল, ‘ মাইনষের উপর অহনও বিশ্বাস রাহন যা্য, সব মানুষ অহনও খারাপ হইয়া যাই নাই।’ গভীর রাতে বাসায় পৌঁছে মনে পড়ল, ব্যাগে আমার টাকার লাল ওয়ালেটটা রেখেছিলাম। ক্যামেরা কিনব বলে সত্তর হাজার টাকা আলাদা করে ওতে রেখে দিয়েছিলাম।

শেওড়াপাড়ার ময়লা চায়ের দোকানটা থেকে বেরিয়ে সেলিম মিয়াকে বললাম, ‘ আপনার বাচ্চাদের জন্য কিছু মিষ্টি কিনে দিতে পারলে আমি খুব খুশী হব সেলিম ভাই।’ সেলিম ভাই বললেন, ' কোন দরকার আছিল না, ঠিক আছে চলেন।'

আগারগাঁও আইডিবি ভবনে গিয়ে অনেক সময় নিয়ে দেখে শুনে কিনলাম একটা ক্যামেরা। গতবছর মেঝ ভাইয়ের দেয়া ক্যামেরাটা চুরি হয়ে গিয়েছিল বলে আরেকটা কিনতে হচ্ছে। ঘোরাঘুরি বেশি হওয়ায় খিদেও পেয়ে গিয়েছিল বেশ। কাছের ভাল একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে আয়েশ করে খেয়ে জিরোচ্ছিলাম কিছুক্ষণ। বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অধিকাংশই যুগল। কলেজ পড়ুয়া, স্কুল পড়ুয়া। এদের ভীড়ে ইদানিং নিজেকে খুব বেমানান লাগে। ক্যামেরাটা ব্যাগে পোরা থাকায় ঢাউস একটা ফানুসের মত লাগছিল ব্যাগটাকে। একটু হাল্কা হয়ে আসা দরকার।ফানুসের মত ব্যাগটা নিয়ে টয়লেটে ঢোকা যাবেনা। পাশে একটা সুবেশী যুগল। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মনে হল। ছেলেটিকে বললাম, ‘ আমি একটু টয়লেটে যাচ্ছি, ব্যাগটা রইল, একটু দেখবেন।’ ‘ ঠিক আছে, সমস্যা নেই।’ ছেলেটির মুখের হাসি দেখে মনে হল বেগে পাওয়া লোককে দর্শন করাটা একটা মহা কৌতুক। মিনিটখানেক পর ফিরে এসে দেখি, যুগলটি চলে গেছে। যে জায়গায় ব্যাগটা রেখে উঠেছিলাম সেখানে একটা কফির ডিস্পোজেবল কাপ। তার গায়ে দেখলাম আরেকটা একটা যুগলের ছবি। সুবেশী। কফি খেতে খেতে হাসছে ওরা।


মন্তব্য

তারানা_শব্দ এর ছবি

মানে কী? অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ
বুঝলাম না!!!
আপনার ক্যামেরা আবার হারাইসে? অ্যাঁ

হোয়াট্টট্টট্টট্টট্ট!!!! বিশ্বাস হচ্ছে না! ট্যাগে তো দেখি গল্প লিখে রেখেছেন। আশা করি 'গল্পে'র শেষটুকু গল্পই হবে। নাকি? অ্যাঁ

কষ্ট সহজ,
বুকের ভেতর কষ্ট পোষা, সহজ না ...
স্পর্শ সহজ,
হৃদয় দিয়ে হৃদয় ছোঁয়া, সহজ না ...
দুঃখ সহজ, হত্যা সহজ, জীবন সহজ ...
শুদ্ধতম জীবনযাপন, সহজ না ...

তারেক অণু এর ছবি

অ্যাঁ কী ঘটনা!

সুমাদ্রী এর ছবি

হুম্ম। খারাপ ঘটনা।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

সুমাদ্রী এর ছবি

তন্বী,নীচে ফাহিম হাসানের কমেন্টে উত্তরটা দিয়েছি। তোকে স্কাইপ করেছি। ওটাও বন্ধ করেছিস কিনা জানিনা। ভাল থাকিস।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লাগলো।

স্বয়ম

বাওয়ানী এর ছবি

ড্রাইভার, কুলি আর অন্যান্য পেশার "ছোটলোক" দের চেয়ে আমাদের মত শি*ত লোকজনের সততা অনেক কম রে ভাই

সুমাদ্রী এর ছবি

এগুলো আসলে সব ব্যক্তিবিশেষে পার্থক্য করে। আমরা যারা নিজেদের ভাল মনে করি তারাও হয়ত ভাল মানুষ নন।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

ক্রেসিডা এর ছবি

চলুক

__________________________
বুক পকেটে খুচরো পয়সার মতো কিছু গোলাপের পাঁপড়ি;

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

বেশ কিছুদিন পরে লিখলেন। অবশ্য বাংলাদেশে থাকাকালীন অন্য একটা ব্লগে রামুর ঘটনা নিয়ে আপনার লেখা একটা পোস্ট ছিল। চলুক
ভাল থাকুন, আনন্দে থাকুন।

সুমাদ্রী এর ছবি

ধন্যবাদ কবির ভাই। একটা ভুল হচ্ছে। রামুর ঘটনা নিয়ে অন্য ব্লগের লেখাটা আমি আসলে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। লেখাটা লিখেছিলেন অন্য একজন। ভাল থাকবেন।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

অতিথি লেখক এর ছবি

ছাগলের গু'র কথা মনে পড়ে গেল।।।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

আমাদের স্কুলবাসের ড্রাইভারদেরকে আমরাও ওস্তাদ বলি। খাইছে

লেখার মূল বক্তব্যটুকু আবারো নিজেকে মনে করিয়ে দিলাম। চলুক

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

সুমাদ্রী এর ছবি

আমার বাবাকেও তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা ওস্তাদ ডাকে, সাথে অবশ্য একটা 'জী' লাগিয়ে দেয়। বাবা অবশ্য কোনদিনও গাড়ি চালানো শেখেননি।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

অতিথি লেখক এর ছবি

ইদানীং আপনাকে দেখতে মেথরের মত লাগে।।। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

হাবাদের জিনিস এভাবেই বারবার খোয়া যায়।

স্যাম এর ছবি

চলুক

সুমাদ্রী এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

অতিথি লেখক এর ছবি

কেমন আছেন টিকেলার দাদা?এখনো বাসের মধ্যে কাউকে কাউকে টিকেল দেন নাকি? দেখে তো মনে হয় ভাজা মাছটিও উলটে খেতে জানেন না! অথচ হিহি!!

প্রিয়ংবদা

বন্দনা এর ছবি

গল্প ভালো হইছে সুমাদ্রীদা। হাসি

সুমাদ্রী এর ছবি

হাসি ধন্যবাদ। তবে ঘটনাটা পুরোপুরি কাল্পনিক নয় বিধায় উত্তম পুরুষের জন্য একটু দুঃখের বটে।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

অরফিয়াস এর ছবি

সুমাদ্রীদা, আসল ঘটনাটা তোমার থেকেই শুনেছি তাই কিছু বলার নেই, তবে নতুন কেনা ক্যামেরাটাও কি গেল নাকি??? ওটাতো সাথেই নিয়ে গিয়েছিলে জানি। চিন্তিত

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সুমাদ্রী এর ছবি

অরফিয়াস, ক্যামেরাটা ভাগ্যক্রমে রয়ে গেছে। অন্যান্য জিনিসগুলো গেছে।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

ফাহিম হাসান এর ছবি

প্রশ্নের উত্তর দ্যান না কেন? ক্যামেরার চিন্তায় আমরা সবাই অস্থির দেঁতো হাসি

সুমাদ্রী এর ছবি

ফাহিম ভাই, আসলে কাছাকাছি একটা ঘটনা ঘটেছে। ক্যামেরার ব্যাগও হারিয়েছে। তবে কেন জানি শুধু ক্যামেরাটা ব্যাগ থেকে বের করে গলায় ঝুলিয়ে রেখে মাইনাস করতে গিয়েছিলাম। এখন শুধু ক্যামেরাটা আছে। অন্যান্য গ্যাজেটগুলো নেই। চার্জ দিতে পারছিনা। ছুটা চার্জার পাওয়া যায় কিনা জানিনা। মন খারাপ

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

ফাহিম হাসান এর ছবি

সমস্যা নাই, সেকেন্ড হ্যান্ড চার্জার অনেক জায়গাতেই কিনতে পাওয়া যায়। যাক, তবু ভালো ক্যামেরাটা বেঁচেছে।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি এর ছবি

ভালো লাগল।

ঈপ্সিত আর চম্পাকলি
---------------------------------
বোলতা কহিল, এ যে ক্ষুদ্র মউচাক,
এরি তরে মধুকর এত করে জাঁক!
মধুকর কহে তারে, তুমি এসো ভাই,
আরো ক্ষুদ্র মউচাক রচো দেখে যাই।
--------------------------------------------

নিলয় নন্দী এর ছবি

আপনাকে চলুক এবং চোরকে অফ যা
যতদূর সম্ভব কাজ সেরে বাইরে যাওয়া ভাল।
যখন তখন বাত্তুম পেলে, অপরিচিতদের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে।
এই শহরে কাকে বিশ্বাস করব?

নীড় সন্ধানী এর ছবি

একা ভ্রমণ করতে এই সমস্যা সবারই হয়। বাস কাউন্টারে সাধারণত আমি একটা কায়দা করি। যে কোন কাউন্টারেই দলবদ্ধ কেউ না কেউ থাকে। সেখান থেকে পছন্দসই একটা দল বেছে নিয়ে ব্যাগটা তাদের ব্যাগের পাশে এমনভাবে রাখি যেন আমিও সেই দলের। তারপর প্রয়োজনীয় কাজ সারি। ব্যাগ সাফাই পার্টিরা সাধারণত একলা মানুষ খোঁজে। দলবলের আশে পাশে ভিড়ে না। ভবিষ্যতে এটা ট্রাই করতে পারেন।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

ইদানীং আপনাকে দেখতে মেথরের মত লাগে।।। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

কান টেনে ছিঁড়ে ফেলব।।।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA