টুকরো টুকরো লেখা ১৭

সুমন চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন সুমন চৌধুরী (তারিখ: শুক্র, ১৮/১২/২০০৯ - ৮:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

উদ্ভট একটা ব্যারাম হয়েছে। হাতপা চাবায়। যেমনতেমন চাবানো না রীতিমতো কুচুরমুচুর করে চাবায়। কখনো মনে হয় ভোজপুরী পালোয়ান দিয়ে শরীর মালিশ করাই, কখনো মনে হয় স্পঞ্জের দাঁতওয়ালা কুমির দিয়ে হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালির আগ পর্যন্ত আনন্দদায়কভাবে চিবাই। কখনো নিজেই নিজের পা টিপি। কিছুক্ষণ টিপলে চোখ ভেঙে ঘুম পায়। আর এই সমস্যা হয় শুধু মাত্র একটু আরাম করে বসলে। ঠ্যাঙ যতক্ষণ হাঁটার উপর থাকে ততক্ষণ সুপার ফিট। এই রোগের ফেরে ইদানিং বেশীরভাগ সময় হাঁটা আর শোয়ার উপর থাকি। বসিটসি কম।

ডাক্তারের কাছে বলতে তিনি খ্যা খ্যা করে হাসেন। বলেন কোলেস্টেরল বাড়তির দিকে ছাড়া কোন সমস্যা নাই। আর যেই সমস্যার কথা বলছেন সেটা আপনার মনের। কোন ওষুধটষুধ না দিয়ে শুধু কিছু হালকা ব্যায়ামের পরামর্শ দিলেন।

হতে পারে ডাক্তারের কথাই ঠিক। অথবা এমন গূঢ় কোন রোগে ধরেছে যা কিনা আধুনিক বিজ্ঞান এখনো চিনতে পারে নাই। হতে পারে টোট্যালিটি মাইনাস আধুনিক বিজ্ঞান ইজ ইকায়াল টু কুচুরমুচুর। অথবা ইঁচড়ে পাকা ছিলাম বলে প্রৌঢ়ত্বও আগেভাগে কড়া নাড়ছে।

১.

সপ্তাহ দুই আগে আবার তেহারি রানলাম। একসময় সপ্তাহে কম্পক্ষে দুইবার রান্না করতাম। মাস তিনচার ধইরা একটু লাইনে থাকার চেষ্টা কইরা ক্রমাগত বেলাইনে যাইতেছি। লাইনের তো আর কোন নৈতিক ভিত্তি থাকেনা। রিপিটেশান ভঙ্গ করাই সেই ক্ষেত্রে বেলাইন। একটু একটু ঠাণ্ডা পড়া শুরু করছে তখন। রান্না শুরু করার আগ দিয়া হিমুরে ফোন দিলাম। কামলার জাগা থিকা রুশ দেশের শরবত পাইছিলাম একটা। তেহারি হইলো একরকম। মাংসটা মনে হয় মহিষাসুরের ছিল। পুরা ছাব্বিশ ঘন্টা টক দৈ দিয়া ম্যারিনেট কইরা পাক্কা দেড় ঘন্টা উচাজ্বালে কশাইয়াও সে নির্বিকার। যাই হোক খিদার ঠেলায় রান্না একসময় না একসময় শেষ হয়। লগে একটু রুশ দেশের শরবত। ঐতিহাসিক ব্যুৎপত্তি রুশ দেশে হইলেও জন্মাইছে দেখলাম কোন জার্মান ব্রুইয়ারিতে। ব্র্যান্ডের নাম ইয়েলেৎসিন। জার্মান ভদকাগুলির প্রায় সবই কোন না কোন রুশ রাষ্ট্রপতির নামে। গরুবাছুর, ইয়েলেৎসিন, পুতিনফ (পুতিনকা না...ঐটা অভিজাত ভদকা) ইত্যাদি। ইয়েলেৎসিন এর আগে কখনো খাই নাই।

তো সেইদিন মহিষাসুরের সাথে ইয়েলেৎসিন টাইনা চেয়ারে গাইথা গেলাম গা। কোন আলাপও আর জমে না। নানান বিষয় গুতাইতে গুতাইতে আইলো পলিটিক্যাল ডেভেলপমেন্টের কথা। অনেকদিন আগের থিকা এই বিষয়টা পড়তেছি। সেই ১৯৯৯-২০০০ সালে কম্পারেটিভ পলিটিক্সে পড়ছিলাম। বৈদেশে আইসা ঐভাবে একটা পেপার হিসাবে না পড়লেও বিভিন্ন প্রসঙ্গের ভগ্নাংশ হিসাবে পাইছি। তাতে আমি কৈছিলাম যে প্রতিরোধের প্রবণতা রাজনৈতিক উন্নয়ন পরিমাপের একটা খুব প্রধাণ প্যারামিটার। আসলে সেইটা রাজনৈতিক উন্নয়ন তাত্ত্বিকদের একাংশের বক্তব্য। অনেকে আরো অন্য অনেক কিছু মনে করেন। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে (মহিষাসুর দিয়া ইয়েলেৎসিন না খাইয়া) যেইসব তাত্ত্বিকরে দোসবন্ধু মনে করি তারা রাজনৈতিক উন্নয়ন'রে সরাসরি ভূয়া ধারণা বইলা ফতোয়া দিছে। কিন্তু অত কথা ঐসময় মাথায় নাই। প্যাটে মহিষাসুর। আমি একটু জাতীয়তাবাদী ঝোঁক নিয়া কইতেছিলাম যে যেহেতু প্রতিরোধের ঘটনা আমাদের নিকট আর সুদুর অতীতে খুব ঘন ঘন সেই বিচারে আমরা যারা অনেকদিন ধইরা স্বৈরশাসন সহ্য করছে তাদের থিকা পলিটিক্যালি বেশি ডেভেলপ্ট। হিমু গেলগা চেইতা। কয় যেমন? আমি কইলাম যেমন ইন্দোনেশিয়া। কয় ওদের সাথে আমাদের কোন পার্থক্য নাই। আমি কইলাম আছে। কারণ আমরা কোন মার্শাল ল'রে দশবছরের বেশী দাঁড়াইতে দেই নাই। আর ওরা টানা বত্রিশ বছর ধইরা চরম প্রতিক্রিয়াশীল সুহার্তোরে সহ্য করছে। যেই লোক ক্ষমতায় বসতে বসতেই দশ লাখ মানুষ জবাই করছে। হিমু কয় ওগুলা বাদ দেন। আমাগো দেশে তো তিরিশ লাখ শহীদ হইছে। আমরাতো মুক্তিযুদ্ধ করছি। কিন্তু আফটারমাথগুলা চিন্তা কইরা দেখেন কোন পার্থক্য আছে কি না। আমি তাও হাল ছাড়িনা। কইলাম ক্যান আমরা তো গত সব কয়টা নির্বাচনে বিপরীতে ভোট দিছি। কয় তাতে কী লাভ। আমি আর কিছু কইনা। কারণ আমি জানি আমি ভূল কৈতাছি। কেমনে কেমনে জানি হান্টিংটন দিয়া তর্ক শুরু কইরা দিছি। লেভেল অফ ইন্সটিটিউশনালাইজেন জাতীয় প্যারামিটাররে যারা বর্ণবাদী কইছে সারা জীবনতো তাগোই সাপোর্ট কইরা আইছি। আমার গুরু বইলা জানতাম বারান, সুইজি, গুণ্ডার ফ্রাঙ্ক, হামজা আলাভী, প্রভাত পাটনায়েক, পুলানজা, ফস্টার আর ইদানিংকালে ক্রিস্টফ শেরার, বাস্তিয়ান ফন আপেলডর্ন, রবার্ট ওয়েইড, হাইনৎস হোলৎস, রবার্ট স্টাইঙ্গারভাল্ড প্রমুখ আরো অনেক অনেক জ্ঞানী লোক যারা মোটামুটি হান্টিংটন বা এস.ই,ফাইনার'দের উল্টা রাস্তায় হাঁটছে। আমি তো জানি রাজনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্ব হইল নানান এঙ্গেলে লাউকদু কইরা শেষে কিউইডি টানে অতএব হোয়াইট ককেশিয়ানরা সভ্যতর রেইস....এবং তাহারা যিশুর ভক্ত বলিয়া নিজেদের ঘোষনা করে ... এবং সাধারণত সিডিইউ'রে ভোট দেয় ....

আমি হয়তো একটু ইতিবাচক ভাবতে চাইতেছিলাম। শর্টরান ইতিবাচকতা যারে কয় আর কি। ভাবতে চাইতেছিলাম যে শহরের সমস্ত বানর একদিন মারা যাবে ....

সব কিছুর জন্য দায়ী ঐ ইয়েলেৎসিন। এরপর থিকা জার্মান ভদকা আর খামুই না। আর খাইলেও কম্পক্ষে পুতিনফ ....

২.

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার শিডিউল আবারো পিছাইছে। আইনগুলা আমরা সবাই মোটামুটি জানি। সেই কবে থিকা হেভিওয়েট আইনজীবিরা বইলা আসতেছে আইনে কোন সমস্যা নাই খালি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা। এই অপেক্ষার লাইনে ইতিমধ্যে চোখের সামনে সুনাডা কয়েকবার ফলছেও। এইবার নির্বাচনের পর থিকা খুব খিয়াল করার কথা বলা হইতেছে, খোলা রাস্তা/ ভার্চুয়াল জগত সব জাগা থিকা। বর্তমান সরকারী দল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অতি তিক্ত থাকায় তারা যে এইসব ভালো কথা পাত্তা দেয় সেইটা চুপচাপ মাইনা নিতে মোটেও ভরসা হয় না। পুরা একটা বছর চইলা যাইতেছে। জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করার প্রচলিত শিডিউল কাছাইয়া আসতেছে। এই অবস্থাতেও রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের বিচার শুরু করার শিডিউল পিছাইলে যারা নির্বাচনী দুধভাতের বদলে সত্যি সত্যি ধর্মীয় মৌলবাদের আইনসিদ্ধ খতম দেখতে চায় তারা একটু চিন্তিত হইতেই পারে। আসলে আমার প্রত্যাশাটা যেরকম সেরকম প্রত্যাশা ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটারদের খুব বড় সংখ্যারও। এইটা কোন সমীক্ষা ছাড়াই যৌক্তিক অনুমানের জায়গা থিকা বলা যায়। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে গত এক বছরে বর্তমান সরকাররে কম্পক্ষে লাখখানেক রিমাইণ্ডার দেওয়া হইছে। তাতে তারা দৃকপাত করেন নাই যথারীতি। সম্ভবত লুহার তালা কানে না দিলে গদীতে পাছা রাখা যায় না।

তবে আমি চাই আমার এই অনুমানগুলা ভুল হোক। সত্যি সত্যি বিচার শুরু হোক। ২০১৪ সালের মধ্যে হয় রাজাকার/আলবদর/আলশামসগুলিরে ঝুলান নাইলে কম্পক্ষে কনডেম সেল পর্যন্ত পৌছান। নাইলে আম ছালা সবই যাইবো। এই ভবিষ্যতবানীর যাথার্থ ভোটের রাজনীতির বাকিসব ছাগু যুক্তি এবং মাইরপ্যাচের উর্ধ্বে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা এমনিতেই বেশী। কারণ শেষ বিচারে আওয়ামী লীগ নিতান্তই বিএনপির মতো আরেকটা দল। নির্ভরশীল আর্থরাজনৈতিক অবকাঠামোতে কোঅপ্টেটিভ ডেমোক্র্যাসীর বাইরের বাস্তবতা পাওয়ার সম্ভাবনা আমাদের ছিল ১৯৭২ থিকা ১৯৭৫ এ। সেই সুযোগ বহুলাংশে বঙ্গবন্ধু নিজেই নষ্ট করছেন। কইরা নিজে নিহত হইছেন। বাঙ্গালীর বুকেও ছুরি মারছেন। আমি আওয়ামী মন:স্তত্ত্ব যা বুঝি তাতে তারা ভাবতেছেন যে গোআ-নিজামীদের ঝুলাইলে আউমিলীগরে ইসলাম বিরোধীটিরোধী বইলা ভোট কইমা যাইবো। এই ভাবনাটা ভুল। ভুল এই হিসাবে যে এই প্রচারনা ১৯৫৪ থিকাই আছে। তবুও এরপরে বেশ কয়েকটা নির্বাচনে তারা নানারকম মৌলিক স্বপ্ন দেখাইয়া ক্ষমতায় আইছেন। মোটামুটি কোনটাই পুরন করেন নাই। তারপরেও তারা ফিরা আসতে পারছেন সাম্রাজ্যবাদের আশির্বাদে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠাণের গুণগত দূর্বলতার কারণে। তবে এইবারের সাথে আগের প্রত্যেকবারের খুব বড় পার্থক্য হইতেছে বস্তু নিজের ভিতর থিকাও পারিপার্শ্বের প্রভাবে হোমোসেপিয়েনদের সচেতন প্রয়োগ নিরপেক্ষভাবে পরিবর্তিত হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গটা সেইভাবে গত ৩৮ বছরে বহুব্যবহারে পারিপার্শ্বের সাথে বিক্রিয়া করছে এর সমর্থক বা বিরোধীতাকারীদের ইচ্ছানিরপেক্ষভাবে। ঐতিহাসিক বস্তুবাদের এই ন্যুনতম বোধ না থাকলে তারা এইবারও সামনে যত্ন কইরা পাতা ফাঁদে পা দিয়া পাতালে ঢুকবেন।

গাফফার চৌধুরী একটা রামছাগল।

৩.

আজকে সকালে জানালা খুইলাই দেখি চারদিক সাদা। মোটামুটি হালকা এক আস্তর স্নো পড়ছে। মৌসুমের প্রথম স্নো। আমি বরাবরই তুষারের ভক্ত। আর প্রবল শীতে আমার শরিরটাও অনেক অনেক বেশী ভালো থাকে। এইবারও আশাকরি থাকবে। তাপমাত্রা যত নিচে নামে এই কারণে আমার উল্লাস তত বাড়ে। চুড়ান্ত কোণঠাসা জীবনে এইরকম দুইএকটা উল্লাসের থাকলে ক্ষতি কী?


মন্তব্য

ফ্রুলিক্স এর ছবি

দুপুর থেকে আমাদের সেইরকম তুষারপাত শুরু হয়েছে।
গতসপ্তাহে বলাইদার কাছে শুনলাম আপনি নাকি তেহারী খাইতে খাইতে তেহারীর মান-ইজ্জত সব ফোল্ডায় ফালাইতেছেন।
যে আবহাওয়া তাতে খিচুড়ির সাথে ইলিশ ভাজা জমবে ভালো।
শীতের সময় হারামি মার্কা বৃষ্টি থেকে সনো ভালো।

রাজনৈতিক আলাপে নাই।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ইলিশ আসলেই ভালো জমতো। কিন্তু ১৪টাকা ৫০ পয়সা কেজি মন খারাপ



অজ্ঞাতবাস

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনের রোগ ধরতে পারছি। শুয়োরগুলার আয়েশী আস্ফালন মানসিকভাকে সহ্য করতে পারতেছেন না দেখে আপনার হাতপা কামড়ায়। আপাতত আরাম কইরা পেট ভইরা গাইল দিয়া দেখেনতো কিছুটা উপশম হয় কিনা!

এই রোগের রোগী হাজারে হাজার। আমিও রোগী। এখন সরকার আমাগো মুছে নাকি মৌলবীগো মুছে এইডা খুব খিয়াল কইরা বুঝতে চাইতেছি...
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সুমন চৌধুরী এর ছবি
সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

গাফফার চৌধুরী একটা রামছাগল।

গড়াগড়ি দিয়া হাসি (গড়াগড়িহাসি) গড়াগড়ি দিয়া হাসি (গড়াগড়িহাসি) গড়াগড়ি দিয়া হাসি
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সুমন চৌধুরী এর ছবি

গইড়াইয়া কান্দার ইমো নাই? মন খারাপ



অজ্ঞাতবাস

ফাহিম এর ছবি

বইসা থাকলে শরীর চাবাইলে তো ভালো। তাইলে দৌড়ের উপ্রেই থাকেন বদ্দা, ভালো কইরা বোলিং প্র্যাক্টিস করেন। নেক্সট সামারে ফ্রাংকফুর্টে আবার গ্রিল প্লাস ক্রিকেট হইবো!!!

গাফফার চৌধুরী একটা রামছাগল।
-- পূর্ণাঙ্গ সহমত!

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

সুমন চৌধুরী এর ছবি
ধুসর গোধূলি এর ছবি

- চাইরদিন ধইরা বিছানায় (মোটামুটি) পড়া! আইজকা, ইট্টু আগে জানালার বোরখা সরায়ে দেখি ধুমায়া তুষার পড়তাছে। কী জানি কী হইলো, মন্টাই ফুড়ুৎ কইরা ভালো হৈয়া গেলোগা। প্রতি বছরই কাউরে না কাউরে মুঠোফোনে জানাই। এইবার আর জানাইলাম না। ইট্টু নাইচা আহি আগে সাদা তুষারে। হেরপর পইড়া আবার কমেন্টামুনে। হিমুরে কইষ্যা কিল দেওয়ার সিসটেম দিমুনে, হালায় ফ্যাৎ কইরা রাগোন ঘটোন ঘটায় ক্যান!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সুমন চৌধুরী এর ছবি

নাচা শ্যাষ হয় নাই?



অজ্ঞাতবাস

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হৈছে। বরফ খাইতে খাইতে ঘরে ফিরছি। অখন আবার রিটায়ার্ড হার্ট। সকালে টি-ব্রেকের আগে ব্যাটিং-এ নামতে পারুম বইলা মনে হৈতাছে না! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হাসিব এর ছবি

কালচার নিয়া পড়ালেখা করতেছিলাম । নানাজনে এইটার-কারনে-ঐ-দেশে-এই অবস্থা-টাইপ ফাল পারছেন দেখলাম । আমরা কলোনি আছিলাম সেই কারনে নাকি আমাগো হুজুর হুজুর করনের অভ্যাস । ইত্যাদি ইত্যাদি । সমস্যাটা হৈলো এইসব থিওরীরে জেনারালাইজ করা নিয়া । ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতা অনেকের থাকলেও ঔপনিবেশিক আমলে সাংস্কৃতিক বিকাশ কিভাবে হৈছে সেইটা ঔপনিবেশউত্তর রাজনৈতিক বিকাশে মুখ্য ভূমিকা রাখছে । সাংস্কৃতিক বিকাশ কেমনে পার্থক্য আনে সেইটা ভারতীয় আর আফ্রিকান উপনিবেশগুলোর বিবর্তন খেয়াল করলে দেখা যায় । আর বাংলাদেশ (আগিলা পূর্ব পাকিস্তান) ভারত থিকা রাজনৈতিক বিকাশে কোন কোন দিকে আলাদা সেইটা বুঝতে পাকিস্তান টাইনা আনতে হয় ।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ইতিহাসের পাঠ শ্রমসাধ্য হৈলোও অপরিহার্য এইটা কেউ নিজে না বুঝলে তারে পোন্দানি খাওয়ার পরামর্শ ছাড়া আর কিছু দেওনের নাই।



অজ্ঞাতবাস

দুর্দান্ত এর ছবি

১। পরিবারে বাতের সমস্যা নাই তো? এইদিকের গলির মোড়ের ডাগদরেরা (হৌসার্ত্স?) কিন্তু বাত চিনে না। খুব খিয়াল কইরা।

২। আমি তো জানি রাজনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্ব হইল নানান এঙ্গেলে লাউকদু কইরা শেষে কিউইডি টানে অতএব হোয়াইট ককেশিয়ানরা সভ্যতর রেইস....এবং তাহারা যিশুর ভক্ত বলিয়া নিজেদের ঘোষনা করে ... এবং সাধারণত সিডিইউ'রে ভোট দেয় ....
- এই উপসংহারে ভাইটামিন আছে।

৩। বাস্তিয়ান ফন আপেলডর্ন এই বেটার কথা জার্মানি তক কেমনে গেল? কর্পোরেশানগুলিরে আরো স্বাধীনতা দেওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলে বইলা আর এইরকম সবকিছু চোখ বুইজা বাজারের ওপর ছাইড়া দেওয়ারে নিওলিবারেলবাজি বইলা গালাগালি করে বইলা আমস্টার্ডাম আর ব্রাসেলস ভিত্তিক কর্পোরেশান লবিগুলি এরে দুই চোক্ষে দেখতারতো না।

৪। শেষ বিচারে আওয়ামী লীগ নিতান্তই বিএনপির মতো আরেকটা দল। হক কথা।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

১. নাই। বাবা বয়সকালে রীতি মতো পালোয়ান ছিলেন। মা'ও অত্যন্ত পরিশ্রমী। ডাক্তারের ধারণা কোলেস্টেরল কমলে রক্তচলাচল ঠিক হবে আর তাতে কুচুরমুচুর কমবে। কিন্তু টাইম স্প্যান কয় নাই। মন খারাপ

২. দেঁতো হাসি

৩. গাভার্নেন্স অফ গ্লোবালাইজেশান নামের সেমিনার থিকা এই লোকের সাথে পোথম পরিচয়। ভাল্লাগসে প্রথম থিকাই ....

৪. হ



অজ্ঞাতবাস

কামরান  আহমদ এর ছবি

ভাই লিকছেন জব্বর । বুজলাম ; সবই ঠিকই আছে........কিন্তু ইয়েলেতসিন টা মনে হয় একটু বেশী হয়ে গেছে।
তার পরও আপনাকে ধন্যবাদ.
আশা করছি আমাদের এখানে (ইউকে তে)ও সাদা কার্পেট বিছানো হবে ২ / ১ দিনের মধ্যে।
ভাল থাকবেন।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আপ্নে কি ইয়েলেৎসিন ভদকা খাইছেন কখনো?



অজ্ঞাতবাস

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আজকা আমারে একজন পথ্য দিলো, "ছোট একটা ভদকা মাইরা গাট্টিগুট্টি মাইরা চুপ কইরা হুইয়া থাকো। দেখবা সর্দি-জ্বর কৈ গেছে গা!"
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

বর্ষা এর ছবি

লেখা জব্বর হইছে। বদ্দার তেহারির রেসিপি চাইয়া চাইয়া গলা শুকায়া গেলো।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ভাবতেছিলাম আমি বা হিমু একটা ক্যাম কোডার কিনাই ভিডিও ব্লগামু। কিন্তু টাকা আমাদের ভালুবাসে না ..... মন খারাপ



অজ্ঞাতবাস

বর্ষা এর ছবি

কেনু বদ্দা গরীবের আছে খাতা কলম। লেখাটায় জটিল সব কথা কইসেন। আমি বুঝিনা--- আওয়ামীলীগের লোকরা কেনু নিজের ভালো বোঝেনা? না কি অল্প সময় ক্ষমতা পেয়ে সাপের পাঁচ পা দেখা শুরু করে? আমার ধারণা মুজিব কোটে কোনো যাদু টোনা করা আছে ( সুরাহ জীন পইরা দিছে গোলাম আজম কোনোভাবে দূর থেকে),ক্ষমতায় গেলেই গা চুল্কায়।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

যুদ্ধাপরাধীর বিচার (যার মধ্যে ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলের সুলেমানী ব্যানও অন্যতম) না করলে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি।

ক্যালসিয়াম / ম্যাগনেশিয়াম চিকিৎসা লাগবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুমন চৌধুরী এর ছবি

সেইটা বরাবরের মতো বর্তমান সরকার ছাড়া অন্যসবাই বুঝলে ফলাফল যা হওয়ার তাই হবে।

কী জানি! ঐ ট্যাবলেট কি প্রেসক্রিপশান ছাড়া পাওয়া যায়?



অজ্ঞাতবাস

স্নিগ্ধা এর ছবি

লেভেল অফ ইন্সটিটিউশনালাইজেন জাতীয় প্যারামিটাররে যারা বর্ণবাদী কইছে সারা জীবনতো তাগোই সাপোর্ট কইরা আইছি

আর এখন? পলিটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে, পলিটিক্স নিয়ে, ইন্সটিউশন নিয়ে ধারণা কী?
আমি নিজে হতাশাজনক ধোঁয়াশায় আছি, তাই জিজ্ঞেস করা। কিছুরই আর ভালো খারাপ বুঝিনা মন খারাপ

ইয়েলেৎসিন আর পুতিনফ একবার চেখে দেখতে হয়! এইদেশে পাই যদি আরকি ...

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আমি আসলে বহুলাংশে ডিপেণ্ডেনসি থিওরির সমর্থক। যদিও সেইখানে স্পষ্ট সমাধান নাই তারপরেও। কারণ ঐ সমালোচনাগুলি বাস্তব। সমাধান চট কইরা খোলা চোখে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী মনে হইতে পারে। সেইটার সাথে যে আবার খুব মারাত্মক অমত আছে তাও না। আবার বহু কিছুতে দ্বিমতও আছে। এইখানে ডাইলেমা হইতেছে পুঁজিবাদ আর সমাজতন্ত্র ছাড়া অন্তত ২০০ বছরে আর কোন আর্থ-রাজনৈতিক প্রপঞ্চ প্রয়োগ করা হয় নাই। সুতরাং বিষয়টারে সমাজ বিশ্লেষন পদ্ধতির জায়গা থিকা দেখা ভালো। সেই জায়গা থিকা বলতে পারি পুঁজিবাদী বা পুঁজিবাদ গইড়া তুলতে প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনক্ষেত্র এবং একচেটিয়া বাজারগুলির আর্থসামাজিকরাজনৈতিক কলকব্জা বিশ্লেষণে আমার কাছে ঐতিহাসিক এবং দ্বান্দিক বস্তুবাদ আর উদ্বৃত্ত মূল্যতত্ত্বের অতি উচ্চ গ্রহণযোগ্যতা বর্তমান।



অজ্ঞাতবাস

শেখ নজরুল এর ছবি

লেখার চাইতে সরকার বেশি জব্বর!
শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

সুমন চৌধুরী এর ছবি

বোঝলাম্না ....



অজ্ঞাতবাস

ধুসর গোধূলি এর ছবি
প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আপনার এই ধরনের লেখাগুলো খুবই মুচমুচে লাগে, মনে হয় কুচুরমুচুর করে খাওয়া হয়ে গেল... আরেকটু পেলে মন্দ হতোনা।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

বেঁটে হয়ে গেলাম ...



অজ্ঞাতবাস

মামুন হক এর ছবি

নির্ভরশীল আর্থরাজনৈতিক অবকাঠামোতে কোঅপ্টেটিভ ডেমোক্র্যাসীর বাইরের বাস্তবতা পাওয়ার সম্ভাবনা আমাদের ছিল ১৯৭২ থিকা ১৯৭৫ এ।

--আরেকটু ভাইঙ্গা কন গুরু।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

অর্থনীতির মেরুদণ্ড তৈরীতে যেই প্রাথমিক নির্মানগুলা জরুরি সেগুলির জন্য দরকার একটা বৈপ্লবিক সংস্কারের পরিস্থিতি। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেই জায়গায় ছিল। তৎকালিন সরকার সেই পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগায় নাই এইটা তো আর জনগণের দোষ না।



অজ্ঞাতবাস

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

পুরা ছাব্বিশ ঘন্টা টক দৈ দিয়া ম্যারিনেট কইরা পাক্কা দেড় ঘন্টা উচাজ্বালে কশাইয়াও সে নির্বিকার।
ফাটাফাটি!!!

আসেন সুমনদা, একটা বাজি ধরি - 'এই আওয়ামী সরকার বা অন্য কোন সরকারই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে না।" - এই বক্তব্যের পক্ষে এবং বিপক্ষে বাজি। লাগবেন নিহি?!!

সুমন চৌধুরী এর ছবি

বাজি ধরুম না। কারণ আমি চাই আমার এই দুর্ভাবনা মিথ্যা হোক।



অজ্ঞাতবাস

নাশতারান এর ছবি

শেষ বিচারে আওয়ামী লীগ নিতান্তই বিএনপির মতো আরেকটা দল।

জঘন্য পর্যায়ের সত্যি কথা। গালি দিতে মন চায়।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

দ্যান...দিতে থাকেন। আমিও দেই ...



অজ্ঞাতবাস

সোহাগ [অতিথি] এর ছবি

বাস্তিয়ান ফন আপেলডর্ন -এর কয়ডা লিংক দে। দেহি কুকিলে কি কয়!

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এইখানে ভদ্রলোকের প্রোফাইলটা পাবি।

আমি এই পর্যন্ত তাঁর দুইটার মতো টেকস্ট পড়ছি। কোয়ালিটি জিনিসরে অ্যাডমায়ার করতে রচনাসমগ্র লাগে না।

Transnational Class Agency and Europian Governance: The Case of the Europian Round Table of Industrialists (2000) তুই কোনভাবে এইটা জোগাড় কইরা পড়। গুগল স্কলারে খুঁইজা পাইলাম না। আমার কাছে যেইটা আছে সেইটা হার্ড কপি।



অজ্ঞাতবাস

সোহাগ [অতিথি] এর ছবি

Transnational Capitalism and the Struggle over European Integration (Routledge/RIPE Studies in Global Political Economy)
by: Bastiaan van Apeldoorn বইডা পাইলাম আইজ !

তানবীরা এর ছবি

ডাক্তার রুগ দরতে পারবেক না কারন বিজ্ঞান একটা ভ্রান্ম ধারমা , মুহাহাহাহাহাহা
*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।