ইলেকশনরঙ্গঃ আমেরিকা/বাংলাদেশ

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: বুধ, ২৩/০১/২০০৮ - ১২:৫৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

small

গতকাল রাতে CNN-এ সাউথ ক্যারোলিনায় ডেমোক্রেট প্রার্থীদের ডিবেটে কামড়া-কামড়ি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এখন ভালই জমে উঠেছে। সাধারণত ইলেকশন ইয়ার ছাড়া রাজনীতি এইখানে ঠান্ডা থাকে। সাধারণ সময়ে টিভি চ্যানেলগুলা হয় আনা নিকোল স্মিথ হত্যা রহস্য কিংবা ওজে সিম্পসন জাতীয় খবরে বেশী মশগুল। আর এমনিতে আমাদের বিটিভির মতই এগুলো একেকটা সাহেব (দেশে বিবি)-গোলামের বাক্স। গত চার বছর বুশ-চেনী-রামসফেল্ড ছাড়া বিরোধী দলের নেতাগুলোর চেহারা বেশী দেখা যায় নি। জন কেরীর চেহারা কেমন সেটা তো প্রায় ভুলেই গেছি। কিন্তু ইলেকশন ইয়ারে সবকিছু অন্যরকম। যে কেউ নির্বাচনে জিততে পারে। কাজেই ঢালো তেল সবাইকেই।

কালকের ডিবেট দেখে মনে হচ্ছিল ২০০৪ এর ইলেকশন ইয়ারের কথা। আসলে ডিবেটে কি কিছু হয়? গতবার তো জন কেরী প্রতিটা প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেটেই বুশকে নাস্তানাবুদ করেছিল। ইরাক যুদ্ধ, বিপর্যস্ত অর্থনীতি, তার উপর ডিবেটগুলোতে বুশের বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে জন কেরীকেই সম্ভাব্য বিজয়ী ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ দিন গুলোতে খুব অবাক হয়ে দেখলাম ইরাক যুদ্ধ, অর্থনীতি এসবকে পাশ কাটিয়ে সমকামী বিয়ে, মানব-ভ্রূণের উপর গবেষণা ইত্যাদি আমেরিকানদের জন্য খুব বড় ইস্যু হয়ে গেল এবং তার উপর ভর করে বুশ বাবাজি আবার এলেন। অবশ্য জেতাটা যে খুব একটা নির্বিঘ্নে হলো তাও না, আল-গোরের সাথে জিততে যেমন ফ্লোরিডাতে সিস্টেম করতে হয়েছিল, তেমন করা লেগেছিল সেবার ওহাইওতে, যদিও আরও সুক্ষভাবে। মনে আছে, ওহাইওর রেজাল্ট জানার জন্য সারা রাত জেগেছিলাম।

তবে হারার পর জন কেরীকে আমার আরো ভালো লেগেছিল। ইলেকশনে হারার পর জনগণের উদ্দেশ্যে বলা কেরীর কথাগুলো আমার কানে সারাজীবন বাজতে থাকবে, “...আমি যদি পারতাম, তবে আপনাদের প্রত্যেককে বুকে জড়িয়ে ধরে বোঝাতাম যে আমি আপনাদের কাছে কতটা কৃতজ্ঞ...”। বিশ্বাস কি হয় এগুলো নির্বাচনে হেরে যাওয়া কোন রাজনীতিকের কথা, যে জানে তার ক্যারিয়ারটা এখানেই শেষ হয়ে গেল! আমারও শুনতে শুনতে বিশ্বাস হচ্ছিল না। ইস, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগুলা যদি এমন হত! বরাবরই দেখে এসেছি হারু পার্টির কর্মসূচী আগেই নির্ধারিত- কারচুপির অভিযোগ, জ্বালাও-পোড়াও, ফলাফল মানি না ইত্যাদি। অথচ এখানেও কারচুপি হয়েছে, ভেতরে রাগ-ক্ষোভ যাই থাক নেতা-সমর্থক কারোরই বাইরে তার বহিঃপ্রকাশ নেই। সবাই বলছে, আর তো বেশী হলে চার বছর, তারপর তো আর আসতেই পারবে না। হুম, এটাই আসলে সংবিধানের শক্তি। যতবড় জালেমই ক্ষমতায় আসুক না কেন, যত কারচুপিই হোক সর্বোচচ মেয়াদ দুই টার্ম। ওর মধ্যেই যা কিছু কর। এরপর সংবিধানই বলবে, ওয়ালাইকুম-আসসালাম। অথচ আমাদের দেশে সংবিধানকেই আমরা এত দুর্বল করে রেখেছি দুই টার্ম, তিন টার্ম, কত টার্ম যায়- ঘুরে ফিরে সেই একই মুখ, সেই একই পরিবারগুলোই বার বার দুর্নীতি করার ম্যান্ডেট নিয়ে আসে। দুর্নীতির আর কি দোষ! এই চক্রের কি কখনো শেষ হবে না?


মন্তব্য

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

চক্রটা শেষ হবে কি মিয়াভাই, আরোও বড় হচ্ছে।

ডেমোক্রেটিক গভঃ > তত্বাবধায়ক গভঃ > (সামরিক গভঃ)> ডেমোক্রেটিক গভঃ >

If আর Else If - এগুলো বসিয়ে নিয়েন দরকার মতোন।

বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"

তানভীর এর ছবি

সেটাই। চক্র আরো বড় হচ্ছে!

========
"চলো, খেয়েই নেই... খাইছে "

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

কালকের ডিবেট দেখে আমার আক্ষেপ হচ্ছিল এই ভেবে যে ডেমোক্রেটরা নিজেরা নিজেদের কবর খুড়ছে। ওবামার জন্য বিশেষ মায়া হচ্ছে একসাথে দুই ক্লিনটনের বিপক্ষে লড়তে হওয়ায়। একটা ক্লিনটনই অনেক বড় প্রতিপক্ষ, তার উপর এখন দুইজন। নিজের মর্জি মত সত্যের অপলাপ করতেও বাধছে না কারো। বিল ক্লিনটনের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা ছিল। ভান্ডারটা এখন কমতির পথে।

তানভীর এর ছবি

ক্লিনটন-এডওয়ার্ডস দু'জন মিলে কাল যেভাবে ওবামার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল তাতে ওবামার জন্য আমারও বিশেষ মায়া হচ্ছে। আর পেছনে বুড়ো ক্লিনটন তো আছেই। দেখা যাক, আর তো অল্প কয়টা দিন!

========
"চলো, খেয়েই নেই... খাইছে "

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

বুশকে নিয়ে একটি পুরনো চুটকি:

২০০৯ সালের এক সকালে প্রৌঢ় একজন ভদ্রলোক হোয়াইট হাউসের সদর দরজায় উপস্থিত। সিকিউরিটির একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো, আপনার জন্যে আমি কী করতে পারি, মহাশয়?

প্রৌঢ় বললেন, আমি প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে একবার দেখা করতে চাই।

প্রহরী সবিনয়ে বললো, আমি দুঃখিত, কিন্তু বুশ সাহেব তো এখন আর হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা নন। আপনি কি বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইচ্ছুক?

প্রৌঢ় কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেলেন।

পরদিন প্রৌঢ় আবার এসেছেন একই অনুরোধ নিয়ে, প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে দেখা করতে চাই।

প্রহরীও একই উত্তর দেয়, বুশ সাহেব এখন আর হোয়াইট হাউসে বাস করেন না।

প্রৌঢ় চলে গেলেন। আবার এলেন পরদিন, আমি প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে দেখা করতে চাই।

প্রহরী বিনীতভাবে বললো, কৌতূহল প্রকাশের জন্যে ক্ষমা করবেন মহাশয়, কিন্তু আপনি গত দু'দিনও এসেছিলেন একই আর্জি নিয়ে। আমি তো আপনাকে বলেছি, বুশ সাহেব আর হোয়াইট হাউসে বাস করেন না, তিনি এখন আর আমাদের প্রেসিডেন্ট নন।

প্রৌঢ় মুচকি হেসে বললেন, আঃ, তোমার এই কথাটিই আমি বারবার শুনতে আসি। কী যে ভালো লাগে শুনতে!

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

তানভীর এর ছবি

চুটকি পড়ে মজা পেলাম জুবায়ের ভাই। ধন্যবাদ।

=============
"কথা বল আমার ভাষায়, আমার রক্তে।"

রাশেদ এর ছবি

তানভীর ভাই,

আপনি কি এখন থেকে খালি এইখানেই লেখবেন নাকি? ঐদিকে আর যাবেন না?

তানভীর এর ছবি

রাশেদ,
শুধু এখানেই যে লিখব তাতো ঠিক করি নি। ঐ বাড়ীতে হট্টগোল কমলে যাবার ইচ্ছে আছে। খোঁজ করার জন্য ধন্যবাদ।

=============
"কথা বল আমার ভাষায়, আমার রক্তে।"

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।