বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস, সতর্কীকরণ এবং সরকারের উদাসীনতা

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: রবি, ০৮/০৭/২০১২ - ১২:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলাদেশে বরাবরের মতো এ বছরও ব্যাপক বন্যা হয়েছে এবং হচ্ছে। খবরে দেখলাম প্রচুর লোক হতাহত এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। দেশের কৃষি ও অর্থনীতিও বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আধুনিক যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বাভাসও এখন আগে থেকে দিয়ে দেয়া যায়। বাংলাদেশে আমরা দীর্ঘকাল বন্যার সাথে বসবাস করে আসলেও বাংলাদেশ সরকার বন্যার পূর্বাভাস দেয়া শুরু করেছে মোটামুটি নব্বইয়ের দশক থেকে। ১৯৮৮ সালে দেশ জুড়ে প্রলয়ংকরী বন্যার কথা আমাদের সবারই মনে থাকার কথা। মূলত ৮৮’র বন্যার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর সরকার বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর সহায়তায় ফ্ল্যাড একশন প্ল্যান (FAP) হাতে নেয়। এই FAP-এর আওতায় ১৯৯২ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্লাড ফোরকাস্টিং ওয়ার্নিং সেন্টার (FFWC) বা বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র যাত্রা শুরু করে। ড্যানিশ হাইড্রোলজিক্যাল ইন্সটিটিউটের (DHI) সহায়তায় বন্যা পূর্বাভাসের জন্য Mike 11 River Routing Model এবং শুরুতে মাত্র ১০টি রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক ফ্লাড মনিটরিং স্টেশন দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন তাদের স্টেশনের সংখ্যা ৬৭টি।

ফ্লাড ফোরকাস্টিং ওয়ার্নিং সেন্টার মূলত এই রিয়েল টাইম মনিটরিং স্টেশনগুলোর ডেটা এবং তাদের Mike 11 হাইড্রোলজিকাল মডেলের ভিত্তিতে (এর সাথে বৃষ্টিপাত, টপোগ্রাফি ইত্যাদি যোগ করে একটা মডেল বানিয়ে তারা 'সুপার মডেল' নাম দিয়েছে) তাদের পূর্বাভাস দেয়। এই বন্যার পূর্বাভাস তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ৩ দিনের বেশি আগে দেয়া সম্ভব নয়।

Today it is not possible to forecast the flood level in Bangladesh more than 3 days ahead.

আমি FFWC-এর উদ্যোগের যেটা প্রশংসা করি তা হলো তারা পূর্বাভাসের সাথে তাদের ডেটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে যেটা বাংলাদেশ সরকারের অন্যান্য এজেন্সির মধ্যে বেশ দুর্লভ। বাংলাদেশের কোন সরকারি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাছে ডেটা সংগ্রহের অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারা জানেন যে তাদের কাছে কোন কিছু চাওয়া যেন কোন অপরাধের ব্যাপার অথবা আপনি যেন কোন সাত রাজার ধন তাদের কাছে দাবী করে বসেছেন! অথচ পাবলিক এজেন্সির ডেটা পাবলিকের কাছেই উন্মুক্ত হওয়ার কথা। সে দৃষ্টিকোণ থেকে আমি FFWC-এর কার্যক্রমের প্রশংসাই করতে চাই।

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো FFWC ১৯৯২ সালে যে পদ্ধতিতে বন্যার পূর্বাভাস দিতো আজ ২০বছর পরেও সেই একই পদ্ধতিতে তাদের পূর্বাভাস দেয়। অথচ এই বিশ বছরে পৃথিবীতে বন্যা পূর্বাভাস পদ্ধতি এগিয়ে গেছে অনেকখানি। তিনদিনের ব্যবধানে বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য রিয়েল টাইম বন্যার মতোই। বন্যা শুরু হলেই কেবল মানুষ টের পায়, পূর্বাভাস আর পৌঁছায় না- প্রস্তুতি নেয়ার সময়ও পাওয়া যায় না। সরকারেরও এ বিষয়ে কোন প্রস্তুতি চোখে পড়ে না।

বন্যা পূর্বাভাসের নতুন পদ্ধতির কথা বলছিলাম। তার আগে একটু আবহাওয়া বিজ্ঞান নিয়ে বলি। বিজ্ঞানের সাম্প্রতিকতম শাখাগুলির মধ্যে আবহাওয়া বিজ্ঞান অন্যতম। গত কয়েক দশকে এর অগ্রগতি হয়েছে অবিশ্বাস্যরকম। এই কিছুদিন আগেও কিন্তু মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিতে পারত না। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের যে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলো তারা কিন্তু সামান্য আগেও ঘুণাক্ষরে টের পায় নি কী ভয়ংকর ঝড়ের মুখোমুখি তারা হতে যাচ্ছে। পূর্বাভাসের কোন সিস্টেম এই দেশে চালু ছিলো না। তারও আগে আমেরিকার আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের জন্য কিউবার বিজ্ঞানীদের ওপর ভরসা করতো, কারণ তাদের হিসাব-নিকাশ আমেরিকার বিজ্ঞানীদের চেয়ে নির্ভুল হতো। আবহাওয়া বিজ্ঞানের জয়যাত্রা সূচিত হয়েছে মোটামুটি স্যাটেলাইট, রাডার এগুলো আবিষ্কারের পরে। যুগান্তকারী সব থিওরি, মডেলও এসেছে এর পরে। আবহাওয়া বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এখন লং রেইঞ্জে বা দীর্ঘ মেয়াদে বন্যার পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের জন্য এমন একটি ক্লাইমেট ফোরকাস্ট এপ্লিকেশন তৈরি করেছিলেন জর্জিয়া টেকের আবহাওয়া বিজ্ঞানের অধ্যাপক পিটার ওয়েবস্টার এবং তার সঙ্গীরা। পিটার ওয়েবস্টার সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচিত ক্লাইমেট চেইঞ্জ বা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তার গবেষণা ও সরব ভূমিকার জন্য। সায়েন্সে প্রকাশিত তার এ প্রবন্ধে তিনি দেখান যে বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সম্পর্ক রয়েছে। যারা একটু খোঁজ-খবর রাখেন তারা জানেন যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন ঐকমত্য নেই। এদের এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইলিয়াম গ্রে ও তার শিষ্যরা। আমেরিকান সরকারও যেহেতু অফিশিয়ালি জলবায়ু পরিবর্তন স্বীকার করে না, তারা এই গ্রুপটাকে সমর্থন করে (ওবামা আসার পর অবশ্য এই মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে)। অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন এই পিটার ওয়েবস্টার, গ্রেগ হল্যান্ড, জুডি কারি, কেরি ইমানুয়েল প্রমুখ। ক্লাইমেট চেইঞ্জ বিষয়ক একটা রিসার্চ প্রপোজালে জুডি কারি, পিটার ওয়েবস্টারদের সাথে একসময় আমার কিছুদিন কাজ করার সুযোগ হয়েছিলো, তবে ফান্ড না পাওয়ায় সে প্রজেক্ট আর আলোর মুখ দেখে নি।

যাহোক, পিটার ওয়েবস্টার বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাসের জন্য যে ক্লাইমেট ফোরকাস্ট মডেল তৈরি করেছিলেন তা তাদের ভাষ্যমতে তিন ধরনের পূর্বাভাস দিতে পারে- ক) স্বল্প মেয়াদেঃ ১-১০ দিন খ) মধ্যম মেয়াদেঃ ২০-২৫ দিন এবং গ) দীর্ঘ মেয়াদেঃ ১-৬ মাস। দীর্ঘ মেয়াদের পূর্বাভাস নিয়ে কাজ কতদূর হয়েছে আমি জানি না, তবে বাংলাদেশের বর্তমানের ৩ দিনের পূর্বাভাসকে যদি ৬ মাসে নিয়ে যাওয়া যায় এবং সে অনুযায়ী বন্যার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া যায়, তাহলে সেটা দেশের জন্য যে একটা চমৎকার ব্যাপার হবে এবং এখনকার মত ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হতে হবে না, তা নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায়। পিটার তার এই প্রজেক্ট ১৯৯৮ সালে শুরু করেন এবং এই ১৩-১৪ বছরে সেটা পুরোদমে দাঁড়িয়ে যাবার কথা।

সাধারণত গবেষকরা কোন প্রজেক্টে ফান্ড পেয়ে গেলে সেখান থেকে কিছু পাবলিকেশন্স বা পেপার বের হলেই তারা খুশি থাকেন। পিটার ওয়েবস্টারের এই বাংলাদেশ প্রজেক্টে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউণ্ডেশন, কেয়ার এবং ইউএস-এইড অর্থ সহায়তা করেছিলো। কিন্তু পিটার যে এই প্রজেক্টের ব্যাপারে বেশ আন্তরিক ছিলেন তা বোঝা যায় পার্টনারের তালিকায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির নাম দেখে- যাদের একসাথে যোগাড় করা আসলে কোন সহজ ব্যাপার নয় এবং এদের মধ্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগসহ ৩ দিনের পূর্বাভাস দেয়া ফ্লাড ফোরকাস্টিং সেন্টারও আছে। যতদূর শুনেছি এই প্রজেক্ট চালু হওয়ার পর এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার এতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং তাদের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এতে যুক্ত হয় এবং তাদের ট্রেনিং দেয়া হয়। তাদের লক্ষ্য ছিলো সরকারের কাছে এর প্রযুক্তি হস্তান্তর করা যেন বাংলাদেশ নিজেই একসময় দীর্ঘমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়। বিক্ষিপ্তভাবে যে সরকার এদের পূর্বাভাস ব্যবহার করেছে তা ভয়েস অফ আমেরিকায় পিটার ওয়েবস্টারের সাক্ষাৎকারে প্রতীয়মান হয় এবং সাক্ষাৎকারে পিটার বাংলাদেশের প্রশংসাই করেছিলো। কিন্তু তারপরও এখনো সরকারী ফ্লাড ফোরকাস্টিং ওয়ার্নিং সেন্টারের ২০ বছর আগের মডেল ব্যবহার করে মাত্র ৩ দিনের পূর্বাভাস দেয়া এবং বছর বছর বন্যায় সরকারের অপ্রস্তুতির কী কারণ তা বোধগম্য নয়। বাংলাদেশে একবার বিশাল বন্যাচলাকালীন সময়ে পিটার ওয়েবস্টারের সাথে এক কনফারেন্সে দেখা হয়েছিলো। তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা সময়মতো বাংলাদেশ সরকারকে পূর্বাভাস জানিয়েছিলো কিনা। সে বললো, তারা সময়মতো ঠিকই পূর্বাভাস দিয়েছিলো, কিন্তু সরকারের এ বিষয়ে কোন মাথাব্যথা নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন বন্যা খুবই উপকারি এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারের নজর রয়েছে। খুবই ভালো কথা। কিন্তু বন্যা কেমন উপকারী তা যারা ভুক্তভোগী তারাই শুধু হাড়ে হাড়ে টের পায় এবং বন্যা বা যে কোন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকারের শুধু নজর ছাড়াও আরো বেশি কিছু করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে মানুষ এখনো যেভাবে মরে তাতে মনে হয় যে আমরা এখনো আদিম পৃথিবীতে বসবাস করি। অথচ প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এগুলোকে ঠেকানো যায় এবং বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি যে দুর্লভ বা ব্যয়বহুল তাও নয়। এ প্রসঙ্গে টর্নেডোর পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ নিয়েও একটু বলতে চাই। বাংলাদেশে এখনো টর্নেডোর পূর্বাভাস দেয়া হয় না। প্রতি বছর এপ্রিল-মে মাসে টর্নেডোতে এবং কালবৈশাখি ঝড়ে লঞ্চডুবিতে প্রচুর মানুষ মারা যায়। অথচ সরকার একটু সচেতন হলে এই অপমৃত্যুর হাত থেকে মানুষকে বাঁচানো যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ জোনাথন ফিঞ্চ তার এই সাইট থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের টর্নেডো মৌসুমে পূর্বাভাস দিতেন। মূলত ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের রেডার ডেটা যোগাড় করে তিনি এই কাজ করতেন। আমরা বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে ফিঞ্চের সহায়তায় টর্নেডো পূর্বাভাস দেয়া যায় কিনা সে চেষ্টা করেছিলাম। কেউ সাড়া দেয় নি। জোনাথন ফিঞ্চ ২০০৮ সালের পর তার সাইটে আর কোন পূর্বাভাস দেয় নি। আমি জানি পিটার ওয়েবস্টারের মতো সেও ক্ষুব্ধ। আর ঘরের খেয়ে কেই বা এত বনের মোষ তাড়ায়, যাদের মাথাব্যথা হওয়া প্রয়োজন তাদেরই যদি কোন ভ্রূক্ষেপ না থাকে?


মন্তব্য

নীড় সন্ধানী এর ছবি

মাঝে মাঝে চিন্তায় পড়ে যাই সরকারের সবচেয়ে অবহেলিত দফতর কোনটা পোষ্ট অফিস না আবহাওয়া দফতর। এই দুটি দফতরের অফিসে গেলে মনে হয় এরা যে কোন সময় মারা যাচ্ছে।

আজকাল আমি বাংলাদেশের আবহাওয়ার আপডেট ডাটা পূর্বাভাস ইত্যাদি নেই আকু ওয়েদার থেকে। চট্টগ্রামের কদিন আগে ঘটে যাওয়া মারাত্মক বন্যার পূর্বাভাস দেয়া যেতো স্যাটেলাইট ছবিতে মেঘের অবস্থান দেখে। আমার মতো আনাড়ি লোক এসব দেখতে পারে, আর ওরা কেন পারে না? পারেনা, কারন এসব দেখার জন্য আমার একটা কম্পিউটার আছে নেট কানেকশান সহ। ওদের বোধহয় তাও নাই।

শোনা গিয়েছিল না সরকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করছে, সেটা কি আবহাওয়ার উপর স্বনির্ভর হবার জন্য নাকি?

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তানভীর এর ছবি

আসলে এসব সিস্টেম বসালে বেশি কাজ করতে হবে এজন্যেই মনে হয় ইচ্ছে করে করে না। এখন যেমন শুধু হাজিরা খাতায় সই করে বেতন নেয়া যায়, খামাখা এসব এক্সট্রা আজাইরা কাজ কেন করতে যাবে?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমি প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ দিতে চাই বিপরীতধর্মী (এবং তাদের ভাষায়) জনগণের মনে কথা প্রকাশ করে দেবার জন্য। খামাখা ৬ মাস আসে থেকে "আতঙ্ক" না বাড়িয়ে বন্যার উপকারিতা নিয়ে বক্তৃতামালার আয়োজন করা দরকার। আমি সাধুবাদ দিচ্ছি এই কারণে যে একটা ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাছ থেকেও আমরা পজিটিভ কি কি পেতে পারি সেটা ওনার মাথাতেই সর্বপ্রথম এলো।

আমরা এভারেস্ট জয় করেছি, সমুদ্র জয় করেছি, বন্যাও জয় করবো। এটা কোন ব্যাপারই না।

তানভীর এর ছবি

হে হে...বেশি বেশি বক্তিমা আর 'টক' শো দরকার হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

আশার সংবাদ হল 'ক্লাইমেট ফোরকাস্ট এপ্লিকেশন' সম্বলিত একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ করছে বুয়েটের দুই শিক্ষার্থী এবং যে প্রতিষ্ঠান ( একটু স্পর্শকাতর বলেই নামটি প্রকাশ করলাম না ) এর সাথে কাজ করছে আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি শেষ হলে সে প্রতিষ্ঠানটিই আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দিবে এবং বেশ সাড়া পড়বে।

কিন্তু একটা সমস্যা হল 'ডাটা মাইনিং' নিয়ে বাংলাদেশে খুব একটা কাজ হয় না।

আর, বাঙালি জাতি সাহসী জাতি এবং প্রকৃতির মাঝে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা জাতি। সিডর, আইলা ইত্যাদির পরেও এখনো দক্ষিণাঞ্চলে গেলে বাঙালির সেই সদা হাস্যোজ্জ্বল জীবনযাত্রাই চোখে পড়ে। বন্যাকেও জয় করা যাবে ।

( দুরন্ত কিশোর )

তানভীর এর ছবি

তাই নাকি? স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান চিন্তিত

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

স্পর্শকাতর না বলে নামোল্লেখকরায়কাতর বলা যায়। ডাটাশাক মাইনিং নিয়ে কি শুধু এই প্রতিষ্ঠানই কাজ করছে? আমি জানি সুদূর রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে ড্যাটা মাইনিং নিয়ে অনেক কাজ হয়। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কাজ করবে কি? তারা তো চেনে এক জেআরসি অথবা এইচআরসি কিংবা সিআরসি।

অতিথি লেখক এর ছবি

হুম, নামোল্লেখকরায়কাতর বলা যেতে পারে।

না না, ওরা এইসব কিছু নিয়ে কাজ করে না, ওরা কাজটা বুয়েটের দুজনকে দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে।

আমি এ আই ইউ বি তে , রুয়েটে আর বুয়েটের কয়েকজনকে এই ডাটা মাইনিং এর উপর থিসিস করতে দেখেছি (কিংবা শুনেছি ) , কিন্তু এই টপিকটা কেন জানি শিক্ষার্থীমহলে অত সমাদৃত হতে পারছে না এই দেশে , বুঝতে পারছি না কারনটা ।

( দুরন্ত কিশোর )

অতিথি লেখক এর ছবি

স্পর্শকাতর তো বটেই !
স্পর্শ করলেই স্পর্শের কারন ব্যাখ্যা সহকারে জানতে চাইতে পারে। মন খারাপ

(দুরন্ত কিশোর)

হিমু এর ছবি
তানভীর এর ছবি

রেস্ট্রিক্টেড কমেন্ট নাকি? কিছুই তো দেখতে পাই না!

হিমু এর ছবি

কমেন্ট করতে গেলে এরর দেখাচ্ছিলো। যেটা বলছিলাম, কিছুদিন আগে কৃষিমন্ত্রী বেশ ক্ষোভের সাথে বলেছিলেন, বিভিন্ন বিভাগের মাঠপর্যায় থেকে দুর্যোগ বিষয়ে সঠিক তথ্য আসে না। সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চলে বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আগে পরে পাঠানো তথ্যে এভরিথিং ইজ হাঙ্কি-ডোরি টাইপ কথাবার্তা লেখা ছিলো। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আর সরকারী কর্তার কাজের গাফিলতিতে ঘটে না, এটা নিয়ে ঠিক তথ্য পাঠাতে তাদের সমস্যা কোথায়?

তানভীর এর ছবি

সমস্যা সব এক জায়গায়। সমস্যার কথা বললেই তো কাজ করতে হবে। তার চাইতে সব ঠিকাছে বলে রিপোর্ট করলেই তো আর কোন কাজ নাই। সমিস্যার কথা বলাই সমিস্যা।

অরফিয়াস এর ছবি

চলুক

এরকম একটি লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলাম। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং অন্যান্য অংশগুলো আসলেই অনেক পুরনো মডেলে কাজ করে চলেছে। এর আশু পরিবর্তন প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমার একটা পর্যবেক্ষণ বলি, আমি দেখেছি যে আগে ঠিক যেই সময়ের ব্যবধানে ঘুর্নিঝড়/ভূমিকম্প/বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতো এখন তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে এখন ঘুর্নিঝড়/সাইক্লোন/টর্নেডো আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ঘনঘন হচ্ছে। এমনকি এইসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি নিজের অভিজ্ঞতাতেই দেখছি আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন। মনে হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারের এই বিষয়ে দ্রুত একটি পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এই পরিবর্তনের উপরে যদি কিছু লেখা দিতে পারেন তো ভালো হয়।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

আপনার পর্যবেক্ষণ সঠিক। তবে ঘূর্ণিঝড়ের একটা সাইকেল আছে। আমরা এখন সেই সাইকেলের বৃদ্ধির দিকে অবস্থান করছি। ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পাবার এটাও একটা কারণ। এ বিষয়ে পুরনো লেখাগুলো দেখতে পারেন , । টর্নেডো ও কালবৈশাখি ঝড় হয় একটা নির্দিষ্ট মৌসুমে- শীতের শেষে যখন আবহাওয়া পরিবর্তন হয় তখন বায়ুমণ্ডলে বিরাজমান অস্থিরতার কারণে- । ভূমিকম্পের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের কোন সম্পর্ক নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে আসলেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। মূল কথা হলো, আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যত দ্রুত সক্ষম হবো, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়াও তত সহনশীল হবে।

সচল জাহিদ এর ছবি

প্রতীক্ষিত লেখা। অনেক ধন্যবাদ তানভীর ভাই।

বাংলাদেশের FFWC এ যাবার অভিজ্ঞত আছে। শর্ট টার্ম ওয়ার্নিং এ ওদের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমার খারাপ লাগেনি। আরো ভাল ওয়ার্নিং দিতে পারত যদি উজানের ডিটেইলস রিয়াল টাইম প্রবাহের ডাটা পেত। ৯৩% অববাহিকা দেশের বাইরে, ফলে উজানের ডাটা এক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। আমার এক প্রাক্তন ছাত্রের ( ঐ সেন্টারে কাজ করত সাম্প্রতিক সময়ের ঠিক আগে) তথ্যমতে উজানের ডাটা একটা প্রধান অন্তরায়।

আরেকটা অন্তরায় হচ্ছে ( ইতিমধ্যে আপনার সাথে এই নিয়ে মত বিনিময় হয়েছে) ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হঠাৎ করে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ী ঢলে যে বন্যা হয় ( যেমনটা চট্রগ্রাম বা সিলেটে হচ্ছে) এর জন্য ভাল কোন পূর্বাভাস ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই। এমনকি উন্নত বিশ্বেও এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

তবে গত ২০ বছরে যা করা উচিৎ ছিল তা হচ্ছে এই 1-D রিভার মডেলের মধ্যে হাইড্রোলজিক মডেল কাপলিং করা যা কিনা উজানের রিয়াল টাইম উপাত্তের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিতে পারত, হয়ত কিছু ইভেন্ট বেইজড ডাটা লাগত হাইড্রোলজিক মডেল ক্যালিব্রেট করতে।

পিটার ওয়েবস্টারের এর প্রতি শ্রদ্ধা অনেক বেড়ে গেল। আমি উনার প্রকল্পের বিস্তারিত পড়িনি, সামনে পড়ার ইচ্ছে আছে। উনি কি এই ওয়েদার বেইজড ফোরকাষ্টিং এ হাইড্রোলিক মডেলের সাথে রিজিওনাল ক্লাইমেট মডেল বা RCM এর কাপলিং করেছিলেন নাকি পুরো মডেলটাই স্ট্যাটিস্টিকাল বেইজড বা ব্ল্যাকবক্স টাইপের? RCM>হাইড্রোলিজিক>হাইড্রোলিক রাউটিং বা RCM>হাইড্রোলিক রাউটিং এখন বেশ আধুনিক ফোরকাস্টিং মডেল।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

হিমু এর ছবি

উজানের তথ্য আদায়ের ব্যাপারে কোনো চুক্তি করার উদ‌্যোগ কি নেয়া হয়েছিলো কখনো?

সচল জাহিদ এর ছবি

আমি ঠিক জানিনা হিমু। জানার চেষ্টা করব।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

তানভীর এর ছবি

ঢাকায় কিন্তু সার্ক রিজিওনাল আবহাওয়া সেন্টারের সদর দফতর রয়েছে (আগারগাঁও আবহাওয়া অফিসের পাশেই)। সার্কের কোন দেশ থেকে ডেটা নিতে চাইলে সার্কের চুক্তির মধ্যেই হয়তো সে সুযোগ রয়েছে।

তানভীর এর ছবি

মন্তব্যের জন্যে অনেক ধন্যবাদ, জাহিদ।

পিটার ওয়েবস্টারের ক্লাইমেট ফোরকাস্টিং-এ মূলত European Center for Medium Range Weather Forecasts (ECMWF) মডেলের আউটপুটের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দেয়া হয়। এই মডেল মনে হয় পুরো গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপুত্র অববাহিকার জন্য পূর্বাভাস দেয়। পিটার ওয়েবস্টারা আবার সেটা বাংলাদেশের জন্য টেইলর করে। এরকমই যা বুঝতে পারলাম। এই মডেল শুধু বাংলাদেশের গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপুত্র অববাহিকায় কার্যকর। এটা এর একটা সীমাবদ্ধতা। তবে আমার ধারণা একে এক্সটেন্ড করার সুযোগ রয়েছে। ক্লাইমেট মডেল যেহেতু বৃষ্টিপাত এই মডেলের একটা আবশ্যিক উপাদান (অন্তত আমার তাই মনে হয়)। পুরো বাংলাদেশের জন্য এই এপ্লিকেশন কার্যকর করা গেলে তখন হয়ত সিলেট বা চট্টগ্রামে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যা হয় তার পূর্বাভাস দেয়াও সম্ভব হবে।

সচল জাহিদ এর ছবি

ECMWF ভাল সোর্স। এটা মূলত নিউমেরিকাল ওয়েদার প্রেডিকশন মডেল। আমার পিএচডিতে হাইড্রোলজিকাল মডেলিং পুরো ক্যালিব্রেশন ভ্যালিডেশন এইটার রিএনালাইসিস ডাটা দিয়েই করা। যাক আরেকটু ঘাটাঘাটি করতে হবে।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

তানভীর এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রয়োজনীয় লেখা। চলুক

৩০ মিনিট ধরে একটা মন্তব্য তৈরি করলাম। সাবমিট করতেই এরর!! হররিবল!!!

যাই হোক। আমাদের দেশে উত্তর এলাকার বন্যা থেকে দক্ষিণ বা পার্বত্য এলাকার বন্যার ধরণ একটু আলাদা মনে হয়। উত্তর এলাকার একটা নদীর বন্যার কথা বলি।

তিস্তা নদীটি লালমনিরহাটের উপর দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এই নদীটি বেশ প্রশস্ত, কিন্তু প্রায় পুরো নদী শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে পার হওয়া যায়। এর কারণ ভারতের গজলডোবা রিজার্ভার। সেখানে নদীটির পানি প্রত্যাহার করবার ফলে ভাটিতে পানি প্রবাহ নেই বললেই চলে। আমাদের তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ টি রেডিকেল গেটের মধ্যে একটি দুটি ছাড়া বাকিগুলো প্রায় সারা বছর (গড়ে নয় মাস হবে) বন্ধ থাকে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকার কারণে।

বর্ষার সময় চিত্রটি একেবারে ভিন্ন। এসময় উজানে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বিপুল বর্ষণের প্রবল স্রোতধারা নেমে এলে পরে গজলডোবার সব গেট খুলে দেয়া হয়। আর সেই স্রোতে ভেসে যায় নিম্ন অববাহিকার বিপুল জনপদ। তিস্তা নদীর ভাটিতে সারা বছর পানি না থাকায় ধুধু চরা। সারা বছর অভুক্ত শীর্ণ নদী বর্ষায় বিপুল পানির প্রবাহ ধারণ করতে না পেরে চারপাশ প্লাবিত করে। এই পানির স্রোতটি হয়তো দুই বা তিনদিনের মধ্যে চলে আসে। মুশকিল হচ্ছে গজলডোবার পয়েন্ট হতে এদিকে উজানের তথ্য আসে। সেই তথ্যটি নাকি তিন দিনের বেশি আগে পাওয়া যায় না। এর কারণটি ঠিক আমার কাছে বোধগম্য নয়। যাদের থেকে তথ্যটি নিয়েছি, তারাও ভালো কিছু বলতে পারেন নি।

এখন একটি নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে স্বভাবতই অন্য ভাটির এবং সমান্তরাল নদীগুলোর উপরও তার প্রভাব পরে। তখন কিন্তু পুরো বিষয়টি খুব গানিতিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া খুব কঠিন হয়ে উঠে মনে হয়।

এদিকে তিস্তা নদীর বন্যা হয়তো ৩ বা ৪ দিন থাকে সাধারণত। বন্যার পানি একেবারে ঘরদোরে উঠে না এলে মানুষজনকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া যায় না সহজে। ফলে চরম জনদুর্ভোগ ঘটে এসময়।

এই অবস্থা থেকে উত্তরনে আমার মনে হয় পূর্বাভাস ব্যবস্থা পাল্টানোর সাথে সাথে আরও দুটো উপায় বিবেচনা করা যায়-

এক- নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, যাতে নদীগুলো বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহ ধারণ করতে পারে । আমাদের প্রচলিত খনন কার্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় বলে এই উপায়টি খুব জুতসই মনে হয়না।

দুই- জনপদের বাড়ি ভিটা ও অন্যান্য স্থাপনা ফ্লাড লেভেল থেকে উঁচু করে তৈরিতে সাহায্য করা। বাড়িভিটা উচুকরণ প্রকল্পে বিভিন্ন এন জি ও প্রচুর অর্থ খরচ করে শোনা যায়, কিন্তু তার দৃশ্যমান ফলাফল তেমন আশাপ্রদ নয়। তবুও মনে হয়, এটিই আমাদের বন্যার ক্ষতি কমানোর সবথেকে সহজ উপায় হতে পারে।

পথিক পরাণ

তানভীর এর ছবি

মন্তব্যের জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

আপনার দুই নম্বর অপশনটা আসলেই খুব কার্যকরী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বহুল প্রচলিত। আমেরিকায় বন্যা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে 'ন্যাশনাল ফ্লাড ইনশিওরেন্স প্রোগ্রাম' রয়েছে। এর ব্যাপারটা হলো আপনি যদি এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন তবে আপনাকে ফ্লাড লেভেল থেকে ভিটা উঁচু করতে হবে এবং বন্যামুক্ত হবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ ঐচ্ছিক হলেও সাধারণত বন্যাপ্রবণ এলাকার সব কমিউনিটি এতে অংশ নেয়, কারণ যে সব কমিউনিটি এই প্রোগ্রামে অংশ নেয় না, বন্যার সময় তারা সরকারী সাহায্য পায় না- অনেকটা আমাদের সরকারি স্কুলে সরকারী বরাদ্দের মতো যে রেজাল্ট খারাপ হলে সাহায্য বন্ধ এইরকম ব্যাপার। আমার কাছে এটা খুবই কার্যকরী মনে হয়। কারণ বন্যার জন্য সবকিছু আল্লাহর ওয়াস্তে আর সরকারের উপর ছেড়ে দেয়া যায় না। নিজেদেরকেও বন্যামুক্ত হবার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। অবশ্য এজন্য সরকারকেই এ ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। আমেরিকার বন্যা ব্যবস্থাপনার জন্য টাকা ইনশিওরেন্স প্রিমিয়ামের মাধ্যমে পাবলিকের কাছ থেকেই আদায় করা হয়। বাংলাদেশের জন্য ইনশিওরেন্সের বিকল্প হিসেবে অন্য কিছু হয়তো বিবেচনা করা যায়।

* কমেন্ট করার পর মাঝে মাঝে এমন মন্তব্য হাপিশ হয়ে যায়। এজন্য সাবমিট করার আগে একবার কন্ট্রোল সি চাপ দিয়ে নেয়া ভালো।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

এই লেখাটার অপেক্ষায় ছিলাম। অতি প্রয়োজনীয় লেখা। সবার শেয়ার করা দরকার।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ের উপর লেখা। ধন্যবাদ আপনাকে। মন্তব্যকারীদেরকেও ধন্যবাদ। তাঁদের মন্তব্য থেকেও অনেক কিছু জানা গেল।

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সচল জাহিদ এর ছবি


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

তানভীর এর ছবি

হ। কমেন্ট দিলাম এইমাত্র হাসি

এম. এম. আর. জালাল এর ছবি

সমস্যা সব এক জায়গায়। সমস্যার কথা বললেই তো কাজ করতে হবে। তার চাইতে সব ঠিকাছে বলে রিপোর্ট করলেই তো আর কোন কাজ নাই। সমিস্যার কথা বলাই সমিস্যা।

অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়ের উপর লেখা। ধন্যবাদ ।


এম. এম. আর. জালাল
"ফিরে দেখুন একাত্তর ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ।"

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

আপনাকে খুঁজছিলাম কিছু দিন আগে এই লেখাটার জন্য।

অস্বাভাবিক  এর ছবি

সময়োপযোগী, তথ্যসমৃদ্ধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি লেখা ; অনেক কিছু জানলাম এই লেখা থেকে ;
আপনাকে ধন্যবাদ চলুক হাততালি

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

দিগন্ত এর ছবি

প্রায় পুরো বাংলাদেশটাই ব-দ্বীপে বলে বছরে কিছুদিন বন্যার সাথে মোকাবিলা করতেই হবে। সেইটার জন্যই পূর্বাভাস দরকার। বাংলাদেশের পশ্চিমদিকের বন্যা আর পূর্বদিকের বন্যার প্রকৃতি ভিন্নরকম। পশ্চিমের বন্যা নদী ফুলেফেঁপে হয়, পূর্বে বন্যা হয় পাহাড়ে বৃষ্টি বেড়ে গেলে। প্রথমটার পূর্বাভাস দেওয়া যায় কিন্তু দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে পূর্বাভাস দেওয়া শক্ত বলেই মনে হয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে দিন দুই-তিন ধরে জল বাড়তে বাড়তে বন্যা হয়, কিন্তু ফ্ল্যাশ ফ্লাড ২৪ ঘন্টা বা তার কম সময়েও শূন্য থেকে তৈরী হতে পারে। তবে ফ্ল্যাশ ফ্লাড বাংলাদেশের খুব কম অঞ্চলেই হয়। বাকি অংশের বন্যার পূর্বাভাস না পাওয়ার কোনও কারণ নেই।

আপনার লেখাটাও খুব ভাল হয়েছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তানভীর এর ছবি

চলুক

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA