আমার পাকি ছ্যাঁচা

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: শনি, ১৮/০১/২০১৪ - ১০:০৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিদেশ-বিভুঁইয়ে পাকি দেখলে আমি সাধারণত একশ হাত দূরে থাকি। কিন্তু সবসময় সেটা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে আমেরিকার মসজিদগুলো সিংহভাগ থাকে পাকিদের দখলে। তার ওপর কাজে-কর্মে যে কোন সময়ই পাকিদের সাথে সাক্ষাৎ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আমি যা করি তা হলো তাদের পাকি পরিচয় ভুলে যথাসম্ভব ভদ্রতা বজায় রাখা। কিন্তু আপনি যতই তাদের পাকি পরিচয় ভুলে যেতে চান, তারা ততই শশব্যস্ত হয়ে তাদের আচার-ব্যবহারে জানান দিবে যে তারা ‘পাকি’ এবং আপনার মেজাজ ঠিক রাখা মুশকিল হয়ে পড়বে।

এই যেমন ধরুন গত কোরবানের সময় বার্মিংহামে একটা র‍্যাঞ্চে গেলাম কোরবানি করতে। র‍্যাঞ্চের মালিক খাঁটি আম্রিকান, মসজিদে তারা ‘হালাল উপায়ে জবেহ করা’র যে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো তাতে ‘ওয়াটসন’ না কী যেন একটা আম্রিকান নাম লেখা ছিলো। কিন্তু কোরবান করতে গিয়ে দেখি পাকি গিজগিজ করছে সেই র‍্যাঞ্চে- ‘পাকিতে পাকিরণ্য’ অবস্থা! বিমর্ষ মুখে তাই কারো সাথে কোন কথা না বলে ছাগু কাটাকাটিতে ব্যস্ত ছিলাম। কাটাকুটিতে র‍্যাঞ্চেরই এক কাউবয় হেল্প করছিলো। র‍্যাঞ্চের সাথে আমাদের চুক্তি ছিলো তারা ছাগু ছয় টুকরা করে দেবে। কিন্তু লাইনে আমার পরে যে পাক্কু ছিলো সে গিয়ে কাউবয়কে কী বুদ্ধি দিলো সে দুই টুকরা কাটার পর আমাকে ছাগল ফেরত দিলো। পাক্কু হারামজাদা তখন আমাকে উর্দুতে বলছে তুমি বাসায় গিয়ে বাকীটা কাটাকাটি করো, দেখছো তো লাইন অনেক লম্বা। মেজাজটা গেলো খারাপ হয়ে। পাকিটাকে কোন পাত্তা না দিয়ে কাউবয় ব্যাটাকে সাফ সাফ বললাম, যেমন কথা ছিলো ছয় টুকরা করে না দিলে আমি কোথাও যাচ্ছি না। কাউবয় বেচারা মনে হয় ভেবেছিলো ওই বুড়া পাক্কু আমাদের মধ্যে মুরুব্বীগোছের কেউ হবে। তাই তার কথা শুনে সে তাড়াতাড়ি দড়ি থেকে ছাগল নামিয়ে ফেলেছিলো। এখন আবার কাটাকাটি করতে হবে শুনে বেচারা মন খারাপ করে ফেলল। ছাগল দড়িতে ঝুলিয়ে কাটা যত সহজ, টেবিলে রেখে কাটা ভীষণ ঝামেলার। এর ফাঁকে বুড়া পাক্কু আবার এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো- আমরা ছাগলের পা, মাথা খাই কিনা। মাথা নেড়ে শুধু বললাম না, অমনি দেখি সে থলের মধ্যে সব ঢুকিয়ে ফেললো! তারপর দেখলাম সে সবার কাছে ঘুরে ঘুরে পা-মাথা জোগাড় করছে, আর একটু পর পোঁটলা বেঁধে বিশাল একটা দামী গাড়ি হাঁকিয়ে চলে গেলো। বাসায় পরিবার একটু রাগারাগি করলো ছাগলের পা সব পাক্কুকে দিয়ে দিলাম বলে। আমি বললাম, আহা কোরবানের মাংস তো কিছু অংশ গরীব-দুঃখীদের যাকাত দেওয়ার নিয়ম। এইখানে অমন লোকজন পাবো কোথায়? মনে কর ছাগলের পা, মাথা ঐ পাক্কুকে যাকাত দিলাম দেঁতো হাসি

তবে এখন বয়স হয়ে যাচ্ছে, এইসব পাকি আর বাংপাকি ছাগুদের সাথে গ্যাঞ্জামে যাওয়ার মতো এনার্জি আর পাই না। আগে স্টুডেন্ট লাইফে কোন পাকি একটু তেড়িবেড়ি করলেই ছ্যাঁচা দিয়ে দিতাম। আজ সেই রকম ছ্যাঁচার একটা গল্প বলি।

তখন আমার পিয়াজডির কাটাকুটি মানে কোর্সওয়ার্ক শেষ, ব্যস্ততা একটু কম। ছাত্র মানুষ, টাকা পয়সারও টানাটানি। সামারে ভাবলাম এবার বাইরে কোথাও কাজ করা যাক। বাইরে তো এমনি সব জায়গায় কাজ করা যায় না, দেশি কোন দোকানে কাজ করতে হবে। তখন আমাদের শহরে ফ্লি মার্কেটে (Flea Market) দেশি এক ভাই দোকান দিয়েছেন, সবাই তাকে ‘মামা’ ডাকে, আমিও ডাকি। মামাকে কাজের কথা বলার সাথে সাথে রাজি। ফ্লি মার্কেট হলো অনেকটা আমাদের দেশের বঙ্গবাজার বা গ্রামের হাটবাজারের মতো। শুধু উইকেন্ডে খোলা থাকে। আগের দিনে লোকজন ঘরে পুরানো জিনিসপত্র থাকলে তা এই মার্কেটে নিয়ে টেবিল পেতে বসে যেত বেচার জন্য। এখনো লোকজন মার্কেটের বাইরে টেবিল পেতে বাগানের কলাটা, মূলোটা বেচতে বসে। তবে মার্কেটের ভেতরে দোকানপাট আর সব সাধারণ মার্কেটের মতোই। প্রথম দিন মার্কেটের ভেতর মামার দোকানে গিয়ে আমার চক্ষু চড়ক গাছ! মনে হলো, উপমহাদেশীয় কোন ভূ-খণ্ডে এসে পড়েছি। মামার বাংলাদেশি দোকানের আশেপাশে সব ভারতীয় আর পাকিস্তানিদের দোকান। আর কাস্টোমার হলো সব মেক্সিকান আর আফ্রিকান আমেরিকান। ফ্লি মার্কেটের হাউকাউ দেখে অবশ্য মজাই পেলাম, অনেকটা আমাদের বাংলাদেশি বাজারের মতোই অবস্থা। মামার দোকানের সামনে একটা ভারতীয় দোকান, ওইখানে দেখলাম সবার মুখ বেজার, কেউ কথা বলে না। পাশে এক পাকির দুই-তিনটা বড় বড় দোকান। খুবই তেলতেলে পাকি, সবসময় স্যুট-টাই পরে থাকে। মসজিদে তাকে দেখি মাঝে মাঝে বড় বড় খুতবা দেয়, নানা রকম ফতোয়া দেয়; কিন্তু ফ্লি মার্কেটে দেখলাম তার মূল ব্যবসা হলো যিশু খ্রিস্টের নানারকম মূর্তি আর ছবি বিক্রি করা!

যাই হোক, মামার দোকানে উইকেন্ডে দোকানদারি ভালোই চালাচ্ছিলাম। একদিন মামা দোকানে নাই, আমার সাথে ছিলো আর এক বাংলাদেশি ছোট ভাই। সেদিন মার্কেটে তেমন লোকজনও নাই, (চরম) উদাস হয়ে বসে আছি কোন মেক্সিকান কাস্টোমারের আশায়। এমন সময় সেই পাকি পাশ দিয়ে যেতে যেতে হেসে হেসে আমাকে কী যেন বললো। অন্যমনস্ক ছিলাম বলে ঠিক কী বলেছিলো পুরোটা বুঝতে পারি নি- শুধু ‘ফানি’ শব্দটা পরিস্কার শুনতে পেলাম। মনে হলো আমি এখানে একটা ফানি কাজ করতেসি এটাই সে বললো। আমি দেশী ছোট ভাইকে বললাম- “পাক্কি হালার পো তো পাশ দিয়ে কী একটা বলে চলে গেলো। ফানি শব্দটা বুঝতে পারলাম কেবল। গিয়ে ধরমু নাকি পাক্কুকে ব্যাটা কী কইছস ক”। জুনিয়র ছেলেটা বললো, ধরেন ভাইয়া। এই ব্যাটাকে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

তাকে দোকান দেখতে বলে আমি গেলাম পাকির দোকানে। পাকি আমাকে দেখেও না দেখার ভান করে থাকলো। আমি তার পাশে গিয়ে বললাম, “তুমি একটু আগে আমাকে কী বলসো আমি ঠিক শুনতে পাই নাই। কথাটা কি আবার রিপিট করবা?” পাকির ছানা এই দেশে আন্ডারগ্র্যাড করসে। চোস্ত ইংরেজিতে কথা বলে। চিবায়ে চিবায়ে বললো, ‘না আমি বলছিলাম তুমি তো ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করে নিশ্চয়ই অনেক বোরড হয়ে যাও। এখানে এসে কাজ করতে নিশ্চয়ই তোমার কাছে ফান লাগে, এনজয় করো নিশ্চয়ই তুমি’। ব্যাটা মিথ্যুক পাকি। সে যে ফানি শব্দটা এর আগে ব্যবহার করসে এটা তো আমি পরিস্কার শুনেছি। এখন সুন্দর কথা ঘুরায়ে ফেলছে। আমি খুব ঠাণ্ডাভাবে তার দিকে তাকায়ে বললাম, “দেখো তুমি এটা তখন বলো নাই। তুমি আমাকে বলছো আমি যে এখানে কাজ করি এটা তোমার কাছে ফানি লাগে। তুমি কি জানো আসলে কোন ব্যাপারটা ফানি? এই যে তুমি প্রতিদিন স্যুট-টাই লাগায়ে ফ্লি-মার্কেটে আসো, আর ভাব করো যে তুমি কোন কোম্পানির সিইও- এটাই সবচেয়ে ফানি। লুক এরাউন্ড ড্যুড, ইউ ওয়ার্ক ইন এ ফ্লি মার্কেট এন্ড ইউ আর সেলিং থিংস টু দ্য মেক্সিকানস!”

হতভম্ব পাকির মুখের ওপর কথাগুলো বলে আমি সরে পড়লাম। এসে জুনিয়রকে বললাম, পাকির বাচ্চাকে তো সাইজ করে আসলাম- এখন কী রিএকশন হয় কে জানে। পাকি মনে হয় ধাতস্থ হতে একটু সময় নিলো। একটু পরে সে খুবই উত্তেজিতভাবে আসলো আমাদের দোকানে, চিৎকার করে সে মার্কেটের সব লোক জড়ো করে ফেললো, আমার নাকি এত্ত সাহস আমি তার সাথে বেয়াদবি করসি, সে আমাকে আঙুল তুলে শাসালো- ‘কাল থেকে তোমাকে যেন আর এখানে না দেখি, তুমি এইখানে আর আসবা না’। আমারও স্ক্রিপ্ট রেডি ছিলো- সবাইকে শুনায়ে তাকে বললাম- ‘হু দ্য ফা* আর ইউ? আই ডোন্ট ওয়ার্ক ফর ইউ’। পাকি জনসমক্ষে আমাকে শাসানি দিয়ে যে একটা ভুল করে ফেলসে সেটা মনে হয় বুঝতে পারল। এটা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ না যে এখানে কেউ কাউকে প্রকাশ্যে থ্রেট দিয়ে বলতে পারে তুমি এইখানে আর আসবা না। মার্কেটের ম্যানেজারও দেখলাম একপাশে দাঁড়ায়ে ঘটনা নোট নিচ্ছে। পাকি এবার অন্য সুরে বাজনা শুরু করলো। আমি নাকি এত্ত খারাপ যে ‘এফ ওয়ার্ড’ উচ্চারণ করসি, আমার বাপ-মা আমাকে ঠিকমতো গাইড করে নাই, আমি ‘ছহিহ’ মুসলিম না- এরকম কিছুক্ষণ প্যাঁ-পোঁ করে কেটে পড়লো। কিন্তু তার কথায় কেউ পাত্তা দিলো বলে মনে হলো না। পাকি সাইজ হওয়ায় সবাই বরং খুশি। এমনকী মার্কেটের যে ভারতীয়রা সবসময় মুখ বেজার করে থাকে, তারাও হাসিমুখে আমাদের দোকানে এসে পাকি ব্যাটার বদনাম করে গেলো।

এরপর আরো মজার ঘটনা ঘটলো- পাকি আমাকে পাবলিকলি থ্রেট দেওয়ায় ম্যানেজার সম্ভবত তাকে ওয়ার্নিং দিয়েছিলো। বিকেলের দিকে সে খবর পাঠালো, সে আমার সাথে দেখা করে ‘সরি’ বলতে চায়। বললাম, ঠিকাছে আসুক। একটু পর এসে সে বলল, সকালের ঘটনার জন্য সে দুঃখিত, তার ওইভাবে বলাটা ঠিক হয় নি। তারপর আবার যোগ করল- ‘আফটার অল উই আর ব্রাদার্স’। আমিও এবার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে বললাম- ‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি মোর ব্রাদার, বাট সরি ইজ ওকে’। ব্যাটা মুখ কালো করে চলে গেলো। এরপর ঐ পাকির সাথে অনেকবার দেখা হলেও আর কোনদিন কোন কথা হয় নি।

পুনশ্চঃ বিদেশে অনেককে দেখি পাকিদের সাথে খুব দহরম-মহরম। ‘মুসলিম ব্রাদার্স’ বলে বুকে জড়িয়ে ধরে। অনেকে আবার উদাহরণ দেয় অমুক পাকিস্তানী খুবই ভালো মানুষ, ফেরেশতা টাইপের। কিন্তু ‘ভালো পাকি’ আর ‘কাঁঠালের আমসত্ত্ব’ এর মধ্যে কোন ফারাক নাই, অন্তত বাংলাদেশীদের জন্য। অনেকে আবার বলে তাদের তরুণ প্রজন্মের কোন দোষ নেই। তারা মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা এগুলো নিয়ে কিছু জানে না।

কিন্তু ব্যাপার হলো বাংলাদেশী সবাইকে পাকিস্তানীরা আড়ালে ডাকে ‘গাদ্দার’। হয়ত দেখা যাবে আপনার সাথে কোন পাকি সামনা-সামনি খুবই ভালো, মধুর ব্যবহার করছে কিন্তু এরা যখন নিজেদের মধ্যে আপনাকে নিয়ে আলাপ করবে তখন ‘গাদ্দার’ সম্ভাষণ দিয়েই শুরু করবে। এই ‘গাদ্দার’ টার্মটা বাংলাদেশিদের গা থেকে কখনো মুছে যাবে না পাকিস্তানীদের জন্য। ১৯৭১ সাল পাকিস্তানীদের জাতীয় জীবনে একটা গভীর ক্ষত। তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে ‘ইস্ট পাকিস্তান’ নামক অর্ধেক পাকিস্তান তারা হারিয়েছে হিন্দু ভারতীয়দের সাথে যুদ্ধে যা শুধুমাত্র ইতর বাঙালীদের গাদ্দারির কারণেই সম্ভব হয়েছে। পাকিস্তানের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই তা জানে (পাকিস্তানীদের মূর্খ ভাবার কোন কারণ নেই। পাকিস্তানের স্কুলগুলিতে টেক্সটবইয়ে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ বিষয়ে কী পড়ানো হয় তার কিছুটা ধারণা এই আর্টিকেল থেকে পাওয়া যাবে। এছাড়া যুদ্ধের আগে থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানীরা ‘গাদ্দার’ বাঙালীদের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করত তা 1971: Muktijuddho: Part 13 - West Pakistani view of "gaddar" Bengalis থেকেও জানা যাবে)। বাংলাদেশীদের অপর পরিচয় তাই পাকিস্তানীদের কাছে ‘গাদ্দার’। এরপর আপনি যতই তাদের মুখ থেকে মুসলিম ব্রাদার্স, গণহত্যা নিয়ে অনুতপ্ত, ক্ষমা-প্রার্থনা ইত্যাদি মন-ভুলানো কথাবার্তা শুনুন না কেন, আপনার পরিচয় তাদের কাছে ‘ফিক্সড’- আপনি গাদ্দার।

তাই যখন বিদেশে কিছু বাংলাদেশিকে (সংখ্যাটা আসলে অনেক) পাকিদের সাথে মুসলিম ব্রাদার্স বলে নির্লজ্জভাবে লদকা-লদকি করতে দেখি, এসব ‘স্টুপিড’ গাদ্দারদের জন্য তখন একটু করুণাই হয়; কারণ সে যাদেরকে মুসলিম ব্রাদার্স ভেবে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে, সেই পাকিরা নিশ্চিত আড়ালে নিজেদের মধ্যে তাকে ‘গাদ্দার’ ডেকে হাসাহাসি করছে- আর এই বোধটুকুও তার মধ্যে নেই। ঢাকা স্টেডিয়ামে পাকিদের খেলা দেখতে আসা বাংপাকিদের যখন খুশীর সীমা থাকে না; ‘ম্যারি মি আফ্রিদি’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড নিয়ে নাচানাচি করে, তখন ক্রিজে দাঁড়িয়ে আফ্রিদি বা কোন পাকি খেলোয়াড় হয়ত বাঙালীদের এসব নির্লজ্জ কাণ্ডকারখানা দেখে “লুক এট দিজ গাদ্দারস” বলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।


মন্তব্য

অনিকেত এর ছবি

‘আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি মোর ব্রাদার, বাট সরি ইজ ওকে’

-হা হা হা, সেরাম!
বহুদিন পর লেখা নিয়ে ফিরলেন এই আনন্দই রাখতে পারতেসি না---
নিয়মিত হোন, সচল থাকুন, সচল রাখুন-- হাসি

শুভেচ্ছা অহর্নিশ

তানভীর এর ছবি

ধন্যবাদ অনিকেতদা। আপনিও ভাল থাকুন হাসি

গৃহবাসী বাউল এর ছবি

সুস্থ্য মস্তিস্কের যে কোন বাংগালীর জন্য এরা সিমপ্লি পেইন ইন দ্যা অ্যাস। আমার তো একেক্টারে দেখলেই ইচ্ছা করে বরফের মধ্যে গাইড়া রাখি, আর বাংপাকিগুলিরে পাকিগুলির পুটুর মধ্যে। আমার অবসার্ভেশন অনুযায়ী আল্লাহ্ কোন মোটামুটি চলেবল ভালো পাকি বানান নাই। সবগুলি হারামজাদা।

-----------------------------------------------------------
আঁখি মেলে তোমার আলো, প্রথম আমার চোখ জুড়ালো
ঐ আলোতে নয়ন রেখে মুদবো নয়ন শেষে
-----------------------------------------------------------

তানভীর এর ছবি

চরম উদাস এর ছবি

হাততালি

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

এক লহমা এর ছবি

চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

দেঁতো হাসি

তানভীর এর ছবি

দেঁতো হাসি

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

পাকি ছ্যাঁচা খুব ভালো জিনিস - হাততালি আর থামাতে পারছি না - হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি হাততালি

____________________________

তানভীর এর ছবি

হাসি

পৃথ্বী এর ছবি

নতুন প্রজন্মের পাকিস্তানীরা ইহুদিদের ঘৃণা করার আগে ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের ইতিহাস মুখস্থ করে আসে কিনা জানি না, কিন্তু তাদের মুসলমান ভাইদের উপর অত্যাচারের ইতিহাস নিশ্চয়ই হালকা-পাতলা জানে। সুদূর ফিলিস্তিনের মুসলমান ভাইদের অত্যাচারের ইতিহাস যদি পাকিস্তানের ডিজুছ প্রজন্ম শিখে নিতে পারে, তবে নিকটবর্তী বাংলাদেশে তাদের মুসলমান ভাইদের তাদের রাষ্ট্র কী করেছে সেটাও তারা জেনে নিতে পারবে। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে অজ্ঞতার কোন কৈফিয়ত নেই, আমি তো বলব অজ্ঞতা এখন একটা অপরাধ। যতক্ষণ না পাকিস্তানীরা বাংলাদেশের ইতিহাসকে সর্বাঙ্গে স্বীকার করে ক্ষমা না চাচ্ছে, ততক্ষণ পাকিস্তানের প্রত্যেকটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ঘৃণার দাবিদার।

বস্তুত, বাংলাদেশের কোন পাঠ্যবইতে কখনও নামোল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধীদের কীর্তিকলাপ বর্ণনা করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবুও নতুন প্রজন্ম নিজামী-মুজাহিদ-সাকাচৌ-গোআজম প্রভৃতি ব্যক্তিদের ঘৃণা করতে শিখেছে কারণ আমাদের পরিবার আমাদেরকে পশু চিনিয়েছে। পাকিস্তানী পরিবারগুলো যদি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রীয় অপপ্রচার গিলে প্রজন্মান্তরে ভ্রান্ত ইতিহাস সম্প্রচার করে, তবে কেন তাদেরকে ঘৃণা করব না!

শুধু পাকি না, আমি খেয়াল করেছি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের লোকজনও বাঙ্গালীদেরকে পাকিদের ভাই মনে করে। টরন্টো এয়ারপোর্টে এক সোমালি তল্পিবাহক জিজ্ঞেস করছিল আমরা উর্দু বুঝি কিনা, যেহেতু পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের অনেক মিল! বিদেশীদের মাঝে বাঙ্গালীদের এরুপ ইমেজের জন্য পাকিদের পাশাপাশি বাংপাকিদেরও অবদান আছে।


Big Brother is watching you.

Goodreads shelf

হিমু এর ছবি

পাকিরা কি জানে যে তাদের সেনাশাসক জিয়াউল হক ১৯৭০ সালে জর্দানে কর্মরত থাকার সময় যে জর্দানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে খুন করার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছিলো?

আয়নামতি এর ছবি

চলুক

তানভীর এর ছবি

ইতিহাস স্বীকার করার কোন প্রশ্নই আসে না। কারণ পাকিস্তান ভেঙে দু' টুকরা করার জন্য তারা বাঙালীদেরকেই দায়ী করে। তারা মনে করে তাদের সেনাবাহিনী যা করেছে তা 'ইসলাম' রক্ষা করার জন্যই করেছে। কাজেই সেটা তাদের ভাষায় মুসলমান ভাইদের ওপর অত্যাচার নয়। বরং তাদের ভাষায় বাঙালী গাদ্দারি করে ভারতীয় 'হিন্দুত্ববাদী' ষড়যন্ত্রের সাথে হাত মিলিয়ে বৃহত্তর একটা ইসলামী রাষ্ট্র ধ্বংস করেছে না হলে পাকিস্তান এখন আরো শক্তিশালী হতে পারত চোখ টিপি টেক্সটবইয়ের পাশাপাশি পরিবার থেকে তাদের এই ইতিহাসই শেখানো হয়।

তানভীর এর ছবি

সচলেও দেখি 'বাংপাকি' আছে! কেউ এসে পোস্টে একতারা বাজিয়ে গেছে খাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

নাপাকিদের কথা নতুন করে কী বলব?? কিন্তু অধুনা বাংপাকিরা যা করছে এসব দেখে স্বয়ং নাপাকিরাও মাঝে মাঝে লজ্জায় পরে যায়। একটা ঘটনা বলি।
আমার ডিগ্রি এডভাইজার নাপাকি, তারপরেও ওরে আমি ৭১ বিষয়ে কখনো কোন ছাড় দেই নি, অথচ কিছু বাংপাকি, এদের মধ্যে কেউ কেউ গোল্ড মেডেলিস্ট পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আছেন যারা পিএইচডি করতে আসছেন, যারা ঐ নাপাকিদের পক্ষ নিয়ে নির্লজ্জভাবে সাফাই গাওয়া এবং আমার মত কাউরে একা পেয়ে হুমকি ধামকিতে পারদর্শী হয়ে যান। আর এসব দেখে আমার নাপাকি এডভাইজার একদিন আমারে বলে তোমার দেশ তো সঠিক পথে আছে তোমাদের শিক্ষিত লোকেরা আমাদেরকে ভাই মনে করে আর ৭১ আমরা কিছু করি নাই এই সব হিন্দুস্তানের ষড়যন্ত্রের কারসাজি।
তবে এত বাংপাকি যে মাঝে মাঝে মনে হয় আসলেই দিন দিন দেশটা বাংপাকিতে ভরে যাচ্ছে।

সাইদ

তানভীর এর ছবি

হ, সূর্যের চেয়ে বালি গরম।

তারেক অণু এর ছবি

সবচেয়ে বিরক্ত লাগে যখন কোন বাঙ্গালীকে দেখি পাকিস্তানি দেখলেই সেধে সেধে ভাঙ্গা হিন্দি-উর্দুতে কথা বলা শুরু করে ! ভাই বলে ডাকে প্রথমেই। --- আবালের দল।

একটা কথা বলি অভিজ্ঞতা থেকে- বিশ্বের অনেক দেশের অনেক দুর্নাম আছে,কিন্তু পাকিস্তানিদের দেখতে পারে না কেউই, বরং তাঁদের প্রতি যদি কিছুটাও সহানুভূতি থাকে, মুগ্ধতা থেকে সেটা বাংলাদেশের অধিবাসীদের।

অনিকেত এর ছবি

একটা কথা বলি অভিজ্ঞতা থেকে- বিশ্বের অনেক দেশের অনেক দুর্নাম আছে,কিন্তু পাকিস্তানিদের দেখতে পারে না কেউই, বরং তাঁদের প্রতি যদি কিছুটাও সহানুভূতি থাকে, মুগ্ধতা থেকে সেটা বাংলাদেশের অধিবাসীদের

এই একই দুঃখজনক অভিজ্ঞতা আমারো হয়েছে---বাংপাকীরা অদ্ভুদ!

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

বিশ্বের অনেক দেশের অনেক দুর্নাম আছে,কিন্তু পাকিস্তানিদের দেখতে পারে না কেউই, বরং তাঁদের প্রতি যদি কিছুটাও সহানুভূতি থাকে, মুগ্ধতা থেকে সেটা বাংলাদেশের অধিবাসীদের।

একদম ঠিক কথা। বাংপাকিরা আসলেই অদ্ভুদ জিনিষ!!!
পাকিদের নিয়ে আমার সাংঘাতিক অ্যালার্জি, সেধে কারো সাথে কথা কোনদিন বলিনা। ল্যাবে বা কাজের ক্ষেত্রে না বললেই নয় করে বলা শুধু মাত্র কাজের কথা। তার মাঝেও কথা শুনেই বুঝা যায় একেকটা শয়তানের ঝাড়-- সবগুলা জন্ম শয়তান আর বেয়াদব। শুধু একটা ছেলেকেই দেখলাম সে অন্যদের মত না। বেশ ভদ্র, সব পাকিরা যখন শুরু থেকে উর্দু শুরু করতে চায়, গায়ে পড়ে কথা বলতে আসে সেখানে সে কখনও উর্দু বলাত চেষ্টা করিনি আর আচরনেও খুব ভদ্র ছিল। আমি একটু অবাকই হতাম, মনে মনে ভাবতাম কাহিনী কি আসলে।
পরে একদিন সে নিজ থেকে বলছিল যে তার বাবা পাকি বাট তার মা ছিল বাংলাদেশী। ৭১ সালের পর তার মা আর কখনও ঢাকায় আসতে পারেনি কিন্তু তার মা তাদের কাছে সবসময় ঢাকার গল্প করত, বাংলাদেশের গল্প করত--- তার গল্প শুনে বুঝেছিলাম অন্যরকম হবার কারণটা ছিল আসলে তার মা।

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

চলুক চলুক হাততালি হাততালি

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

তানভীর এর ছবি

এটা বাংপাকিদের কমন ডিজিস চোখ টিপি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তানভীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

‘ভালো পাকি’ আর ‘কাঁঠালের আমসত্ত্ব’ এর মধ্যে কোন ফারাক নাই, অন্তত বাংলাদেশীদের জন্য

মিজান, পিষে ফ্যালো

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তানভীর এর ছবি

ম্যাঁও

আয়নামতি এর ছবি

পাকি ছ্যাঁচার কাহিনি পড়লে মনটা শান্তিতে ভরে যায় দেঁতো হাসি

তানভীর এর ছবি

দেঁতো হাসি

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

আমিও একবার ছ্যাঁচা দিয়েছিলাম, তবে পাকিরে না তবে বাংপাকি রে ব্যাপক।
আসলে আমি যা না দিয়েছিলাম আমার কাজটা জোসেফ আমার চেয়ে ভাল ভাবে করে দিয়েছিল। ভাবতেই ভাল লাগে। হাসি
আপনার গল্প শুনে মনে পড়ে গেল। ভাল থাকবেন। হাসি
পাকি এবং বাংপাকি ছ্যাঁচা জারি থাকুক।

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার মনে হয় যারা দেশের বাইরে থাকে তারাই সবচেয়ে ভালোভাবে পাপিস্থানিদের নোংরা রুপটা ধরতে পারে। অন্ধ মুসলমান তত্ত্ব কিংবা অন্ধ ধর্মান্ধতার কারনে এখনো বেশিভাগ বাঙালি এখনো পাপিস্থানিদেরকে ভাই ভাই মনে করে শুধু মুসলমানের দোহাই দিয়ে। আর তাই এখনো দেশে কোটি কোটি পাপিস্থান ভক্ত রয়েছে। সেই সব ভক্তরা যখন মুখে পাসিস্থানের পতাকা আঁকে, ব্যানার লেখে আফ্রিদি প্লিজ ম্যারি মি তখন লজ্জায় মাথা নত করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না মন খারাপ । যে যাই বলুক খাঁটি মুসলমান (যারা মনে করে বিশ্বের সব মুসলমান মুসমান ভাই ভাই আর ইহুদি আর খৃষ্ট্রানরা মসুলমানের জন্মগত শত্রু) থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না ততদিন পাপিস্থান প্রেম এই দেশের অলিতে গলিতে, রাজপথে, অফিসে, কিংবা চার দেয়াল থেকে হারিয়ে যাবে না।

মাসুদ সজীব

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক
বহুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত এক পরিচিতের কাছে শুনে ছিলাম, প্রতি শুক্রবার গর্দান বা হস্ত কর্তনে নাকি একটা হলেও পাকি থাকে। এই হল পাকিদের অবস্থা।
"পাপিস্থান" ভাল বলসেন।
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA