| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছগুলো কোন এক অপরাহ্নে জেনে গিয়েছিলো খুন হয়ে যেতে হবে তাদের। পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কর্কশ মৃত্যুর অপেক্ষায় তারা জীবনের শেষ কিছু দিন কাটিয়েছিল। গভীর রাতে উদ্যানের পূর্ণিমা ফিকে হয়ে যেত যখন সমবেত কোরাসে পুরনো দিনের গান গাইত তারা... একদা ঘোড়দৌড় শেষে জুয়াড়ি এবং মদ্যপ দর্শকের ফিসফাস কথার আওয়াজ, নানান প্রাচীন এবং আধুনিক যুক্তি ও মুক্তির বয়ান, যুবকের শেষ আর্দ্র নিঃশ্বাস... অনেক গোপন মৃত্যুরও নির্লিপ্ত স্বাক্ষী তারা। বিবিধ যুদ্ধের ইতিহাস তাদের জানা ছিলো- বায়ান্ন, একাত্তর, আটষট্টি, ছেষট্টি ... মানুষ সহজে বিস্মৃত হয়; দীর্ঘকাল আনন্দে বেঁচে থাকবার লোভেই হয়তো ভুলে যায় হারানো স্বজনের কথা। 'মানুষের জন্য মানুষ ' - এই এক ভাববাদী স্বার্থপর চিন্তন যার তাড়নায় মানুষ দীর্ঘকাল ক্লান্ত গাধার মত কৃতজ্ঞতা পোষণ করে পূর্বপুরুষের প্রতি, যাদের অর্জনের ভার উঁচু রাখতে গিয়ে শিরদাড়া বাঁকা হতে হতে মাটি ছুঁয়েছে প্রায়... উল্লেখ করার মত স্ব-অর্জিত কিছু নেই - এইরকম ব্যাক্তিক ভাবনাও ডালপালা মেলে যাকে সমর্থন করে। গৌরবময় অতীতের গল্পে নশ্বর জীবনের শেষ খুঁজে ফেরা - এই চিরকালীন যাত্রায় 'মহান মানবিকতাবোধ' সময়ে অসময়ে জেগে ওঠে আর খুন হয় নানান উদ্যানের গাছ... সেই নৈবেদ্য'র ভেজা মাটিতে মেমোরিয়াল গড়ে ওঠে... কার জন্য?
যে সহচর বৃক্ষটি সুদীর্ঘকাল নিজস্ব ভাষায় কথা বলে গেছে তার আর বন্ধু নেই কোনও... গাছেদের স্বজন থাকতে নেই কারণ তারা যুদ্ধ করে না, হিংসার সংজ্ঞা জানে না, অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে জানে না... তাদেরকে অমোঘ মৃত্যু মেনে নিতে হয় মাথা নিচু করে যখন তখন; স্রষ্টার চেয়েও বড় প্রজ্ঞাবান মানুষ তাদের মৃত্যুর সমন জারী করে। কেউ কি জানতে চায়, অস্তিত্বের কোন অন্ধকার সুড়ঙ্গে বাঁচবার ইচ্ছা ছিলো কিনা তাদেরও?
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছদের মধ্যে ইদানিং এক আশ্চর্য সংবাদ শোনা যায় - মানুষদের সমাজে জাত পাতের বিভেদ তুলে কিছু মানুষ নাকি গেছো হয়ে গেছে। যাদের ছালবাকল যখন তখন তুলে নিয়ে সেটা দিয়ে চাবুক বানিয়ে পুনরায় তাদের পিঠেই সওয়ার হওয়া যায়!
... নাকি এসব নেহায়েত গেছো ভাবনা?
৩
হুমম...
৪
গাছেদের স্বজন থাকতে নেই কারণ তারা যুদ্ধ করে না, হিংসার সংজ্ঞা জানে না, অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে জানে না... তাদেরকে অমোঘ মৃত্যু মেনে নিতে হয় মাথা নিচু করে যখন তখন; স্রষ্টার চেয়েও বড় প্রজ্ঞাবান মানুষ তাদের মৃত্যুর সমন জারী করে। কেউ কি জানতে চায়, অস্তিত্বের কোন অন্ধকার সুড়ঙ্গে বাঁচবার ইচ্ছা ছিলো কিনা তাদেরও?
৫
![]()
৭
ভালো লাগলো..... তারেক ভাই, গভীর রাতে কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়েছেন?
সৈয়দ আখতারুজ্জামান
৮
হা হা ... যাই নাই ভাই, তবে ভেবে নেওয়া যায় ![]()
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
৯
স্রষ্টার চেয়েও বড় প্রজ্ঞাবান মানুষ তাদের মৃত্যুর সমন জারী করে।
হা হা হা হা... হো হো হো হো... ______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
১০
বস্, হাসেন ক্যান?
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
১১
ঠিক নেহায়তই গেছো ভাবনা এসব......! তবে আমার কাছে গাছেদের যে জিনিষটা বড় আশ্চর্য লাগে তা হলো অনেক বছরের পুরোনো গাছের কাটা টুকরো দেখে কত সহজেই বয়স বের করা যায়! কত কিছুর স্বাক্ষী এসব গাছ! যদি একটা থট রিডিং যন্ত্র বের করা যেত গাছেদের জন্য তবে অনেক কিছু প্রমান করাটা সহজ হয়ে যেত!......আরেকটা গেছো ভাবনা ছাড়লাম...হা হা
১২
সেইটাই... জটিল গেছো ভাবনা... ![]()
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
১৩
মারাত্মক!!!!
১৫
অসাধারণ লেখনী তারেক। থাম্বস আপ।
এবং কি সুন্দর গেছো ভাবনা...।
----------------------------------------------------
আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ
১৬
তিথিপু, কনফুদা অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
১৭
আপনার লেখার জন্য আমি উপমা দিব একটা। এখন সম্ভব না...দিলেও ভালো হইতো না...এখন খালি একটা কথাই কই,
"এতো বস ক্যান আপনি?..." অল্প বাক্যে কত কথা বলে দিতে পারেন।
---------------------------------
জ্ঞানীরা ভাবলেন খুব নাস্তানাবুদ করে ছাড়া গেছে...আআআহ...কি আরাম। বিশাল মাঠের একটি তৃণের সাথে লড়াই করে জিতে গেলেন।
ছোট্ট তৃণের জন্য অপরিসীম ঘৃণা।
১৯
গেছো ভাবনাগুলিই আসলে কেজো ভাবনা।
দেরিতে পড়া হলো। ভাগ্যিস মিস করিনি!
২০
কিন্তু জুবায়ের ভাই, আমি নিজেই তো অকেজো, গেছো প্রকৃতির...
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
২১
জিফরান ভাই, পরিবর্তনশীল, অতন্দ্র প্রেমিক, গুরু, শিমুল ভাই অনেক ধন্যবাদ আপনাদের এবং বাদবাকী সবাইকে যারা পড়ে সময় নষ্ট করলেন ![]()
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
১
নেহায়েতই গেছো ভাবনা। কিন্তু অতি মূল্যবান গেছো ভাবনা! খুবই মন ছোঁয়া গেছো ভাবনা!
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!