টাইম মেশিন

তাসনীম এর ছবি
লিখেছেন তাসনীম (তারিখ: শুক্র, ০৯/০৫/২০১৪ - ২:৪২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাবাকে বড় ভয় পায় মুকুল। তবে অবশ্য ভয় পাওয়ার কারণও আছে। মুকুলের বাবা মতিউল্লাহ সাহেব ঝিগাতলা হাই স্কুলের জাঁদরেল অঙ্কের শিক্ষক। চেনা পরিচিত প্রায় সবাই তাঁকে ভয় পায়। টকটকে গায়ের রঙ, চোখে মোটা কাচের গোল চশমা, মাথায় কাঁচাপাকা চুল। একটু নাকি সুরে চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলেন তিনি। রাশভারি গম্ভীর লোক, দেখলে মনে হয় এখনই গর্জে উঠবেন।

মুকুল ওই একই স্কুলের ক্লাস সেভেনে পড়ে। প্রতি বছরই একটি বা দুটি সাবজেক্টে ফেল করে “বিশেষ বিবেচনাতে” পরের ক্লাসে উঠতে হয়। সেই দুইটা সাবজেক্টের মধ্যে অঙ্ক একটা। বাবার মতো অংককেও খুব ভয় পায় মুকুল। মতিউল্লাহ সাহেব সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে বাসায় দুই ব্যাচ ছাত্র পড়ান, এরপর সারাদিন স্কুল, বিকালে ফিরে আরো দুটো ব্যাচ। এরপর সন্ধ্যাবেলাতে প্রাইভেট পড়াতে যান। বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত। মুকুলকে অংক শেখানোর জন্য মতিউল্লাহ সাহেব স্ট্যান্ডিং অর্ডার দিয়েছেন যে ক্লাস সেভেনের সবগুলো ব্যাচের সাথে তাকেও পড়তে হবে। এরপরও তেমন লাভ হয় নি। সুদকষার অংকে প্যাঁচ লেগে যায়, দুর্গে নতুন সৈন্য আসার পরে মজুত করা খাদ্যে কতদিন চলবে এই প্রশ্নগুলো অথই জলে ফেলে দেয় তাকে। ব্যাচে অথবা বাসায় বাবার সামনে পড়া প্রায় বিভীষিকার মতো লাগে তার।

আজ ক্লাস সেভেনের ব্যাচ নেই। স্কুলে থেকে ফিরে মুকুল ব্যাগটা রেখেই বাইরে যাচ্ছিল। এই সময় বাবার রেস্ট নেওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আজকে রুটিনে তিনি ব্যতিক্রম করেছেন। মুকুল বাবার সামনে পড়ে গেল।

মতিউল্লাহ সাহেব হিমশীতল কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন...

"কোঁথায় যাঁওয়া হঁচ্ছে?"

পেটের ভেতরটা পাক দিয়ে উঠে মুকুলের। বাবার সামনে কথাবার্তা জড়িয়ে যায় প্রায়ই।

"এই একটু কাজলের বাসাতে যাচ্ছি। ঐকিক নিয়ম বুঝতে..."

নিজের বুদ্ধিতে নিজেই চমৎকৃত হয় মুকুল। কাজল স্কুলের ফার্স্ট বয়। বাবা ভালো ছাত্রদের সাথে মেলামেশা পছন্দ করেন। কিন্তু কথাটা সত্যি নয়। মুকুল যাচ্ছে আসাদের বাসায়। আসাদ ছাত্র হিসেবে তেমন সুবিধার নয়। বাবা আসাদের সাথে মেলামেশা পছন্দ করেন না। এরচেয়েও বড় কথা বাবা আসাদের বাবাকে খুবই অপছন্দ করেন।

"সঁন্ধ্যের আঁগেই বাঁড়ি ফিঁরবে..." মতিউল্লাহ স্যার গম্ভীর কন্ঠে জানিয়ে দেন।

বাইরে বেরিয়ে ধড়ে প্রাণ ফিরে পায় মুকুল। বাবা নিশ্চয় সন্ধ্যার আগেই প্রাইভেট পড়াতে বাইরে চলে যাবেন। বাবা না থাকলে বাসায় ফেরা সমস্যা হবে না তেমন।

আসাদের বাসাতে যেতে দশ মিনিটের বেশি লাগে না। বাসার সামনে ওদের দোকান – নাম ছিল ঝর্ণা ট্রেডার্স – ঝর্ণা আসাদের মায়ের নাম। অল্প কয়েক বছর আগেও দোকানটা ছোট ছিল – সেই সাথে আসাদদের বাসাটাও খুব ছোট ছিল। অতি সামান্য সময়েই দোকানটা ফুলে ফেঁপে যেমন বড় হয়েছে - তেমনি আসাদের বাসাটাও। দোকানটার নাম এখন জে-এইচ ডিপার্টমেন্ট স্টোর। বাসার ভেতরটাও এখন অনেক সুন্দর। সাজানো গোছানো সুন্দর একটা বাগান, তাতে নানান ধরনের ফুল গাছ – বিদেশ থেকেও নাকি আনা হয়েছে কিছু চারা। বাগানের মাঝে একটা ফোয়ারা, আর ঠিক ফোয়ারার মধ্যিখানে সাদা রঙের একটা পরী! পরীর হাতে একটা প্রায় উলটানো কলসি, সেটা দিয়েই পানি ঝরছে। মুকুল প্রায়ই মুগ্ধ হয়ে সেই পরীটাকে দেখে - মেয়েটার পাথুরে চোখে-মুখেও একটা বিস্ময় আছে।

বাসার ভেতরটা শ্বেতপাথরে মোড়া। আসাদের বাবা ইন্টেরিওর ডেকোরেটর দিয়ে পুরো বাসা ডিজাইন করিয়েছেন। মেঝে মোছার জন্যই দুই জন লোক – বাসার প্রতিটা আসবাবপত্র নাকি বিদেশ থেকে আনানো। যতবার আসে ততবারই অবাক হয়। কিছুদিন আগেও আসাদের বাবা ওদের মুদির দোকানে বসতেন, গ্রীষ্মকালে খালি গায়ে ঘামতেন, প্রায়ই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে ক্রেতার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ওদের দোকানের বদনাম আছে - ওরা নাকি ওজনে কম দেয় – সুতরাং দোকানে প্রায় সারাদিনই ঝগড়া লেগে থাকতো।

যতবারই এই বাসাতে মুকুল আসে - ততবারই সে বিস্মিত হয়। প্রতিবারই সে নতুন নতুন কিছু দেখে। এইবার যেমন নতুন একটা চকচকে রূপালি রঙের ফ্রিজ দেখা যাচ্ছে। ফ্রিজটার নিচের দরজাগুলো আলমারির ড্রয়ারের মতো। মুকুলের বাবার অবস্থা এই কয়েক বছরে একটু একটু করে খারাপ হয়েছে, অবস্থা যতই খারাপ হচ্ছে বাবার মেজাজের ব্যারোমিটার ততই যেন চড়ছে। আজকাল তিনি সারাদিন তিরিক্ষে হয়ে থাকেন। আসাদের বাবার এই ক্রমাগত উন্নতি মুকুলকে অবাক করে দেয়। রাতে ঘুমুতে গেলে মনে হয় কয়েক মিনিটের দূরত্বে যদি আসাদের বাসায় ওর জন্ম হতো তাহলে ওর জীবনটা অনেক আনন্দের হতো। ব্যাপারটা রূপককে বলাতে সে গম্ভীর হয়ে বলেছিল – আরও কয়েক মিনিট দূরের বস্তিতে জন্মালে কেমন হতো ব্যাপারটা? রূপক আবার বড়দের মতো কথা বলে। যেকোন কিছুর উত্তর দেওয়ার আগে চশমাটা ঠিক করে নেয়। মুকুল রূপকের মতো হতে চায় না। রূপক হয়ত বড় হয়ে বাবার মতো রাগী মাস্টার হবে। মুকুল ওসব হতে চায় না - ও চায় আসাদের বাবার মতো হতে।

মুকুল যখনই আসাদদের বাসায় যায়, তখনই আসাদের বাবার দেখা পায়। উনি কি সব কাজ-কর্মই বাসায় বসে সারেন? জলিল সাহবকে সে আগে জলিল চাচু বলতো - কিন্তু উনি এখন থেকে ওনাকে আঙ্কেল বলে ডাকতে বলেছেন।

"স্লামালাইকুম আঙ্কেল..."

জলিল সাহেব ডাইনিং টেবিলে বসে ছিলেন। হাতের গ্লাসে কমলা রঙের একটা পানীয়। গ্লাসের বরফের উপর খুব ছোট একটা ছাতা। জলিল সাহেবের চোখ-মুখ ফোলা। দেখে মনে হচ্ছে উনি এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলেন।

"কেমন আছো মুকুল?" মিহি গলাতে জিজ্ঞেস করলেন।

উনার গলা আগে এতো মিহি ছিল না। ক্রেতাদের সাথে ঝগড়াঝাটি বন্ধ হওয়ার পর আস্তে আস্তে মিষ্টি হতে শুরু করেছে।

"এইতো আঙ্কেল..." উত্তর দেয় মুকুল। ওর খুব ইচ্ছে করে জানতে কোন যাদুমন্ত্রবলে আঙ্কেল এতো কিছু করলেন। কিন্তু ভয়ে জিজ্ঞসে করতে পারে না।

"তোমার বাবা কি এখনো স্কুলে পড়ান?"

"জ্বি..."

"লেখাপড়ার যা অবস্থা হয়েছে - বিএ-এমএ পাশকরা ছেলেপেলেও দুই লাইন ইংরেজি লিখতে পারে না...হবে কেমনে...মাস্টারগুলো আছে শুধু প্রাইভেট টিউশানি নিয়ে..." মুকুলের দিকে আরেকবার নজর দিয়ে কথাটা অসমাপ্তই রাখেন উনি।

"আসাদ ওর ঘরেই আছে...নতুন গেইমটা এসেছে...অটোথিফ না কি যেন...ওইটা নিয়েই পড়ে আছে..."

আসাদের বাসায় আসার মজাই এটা। ওদের বাসায় নতুন নতুন ভিডিও গেম প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আসে। মুকুলের বাবা ভিডিও গেম পছন্দ করেন না। উনি বই পড়তে বলেন। বই মুকুল বেশিক্ষণ পড়তে পারে না। একটু পড়ার পর মাথার ভেতর অক্ষরগুলো জট লেগে যায়। ঘুমে চোখ আটকে আসে। কিন্তু ভিডিও গেম ঘন্টার পর ঘন্টা খেললেও ওর একটুও ক্লান্তি লাগে না। মুকুল দ্রুত আসাদের ঘরে ঢুকে যায়।

আসাদ খুব মনযোগ দিয়ে ভিডিও গেম খেলছিল। মুকুলের দিকে একবার তাকিয়ে সে আবার স্ক্রিনের দিকে নজর দেয়। মুকুলও তাকায় স্ক্রিনের দিকে।

"কিরে স্কুলে যাস নাই কেন আজকে?" মুকুল জিজ্ঞাসা করে।

"ধুর, স্কুলে গিয়ে কি হবে, খালি আজাইরা লেখাপড়া...গ্র্যান্ড অটো থিভ খেলছি গতকাল থেকেই। এইসব স্কুল-টুল আমার ভালো লাগে না...এতো পড়ে কি হবে, আমি তো বড় হয়ে কি করবো জানিই, আব্বুর এই ব্যবসা আমাকেই দেখতে হবে। সেটার জন্য এতো পড়াশুনা কেন?"

স্কুল মুকুলেরও ভালো লাগে না। কিন্তু ওর বাবার এতো বড় ব্যবসা নেই। মুকুলের বাবা বলেন যে লেখাপড়া শুধু নাকি চাকরি-বাকরি বা ব্যবসার জন্য দরকার না, মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্যই নাকি পড়াশুনা করতে হবে। টাকাপয়সার চেয়ে নাকি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হওয়া। আমাদের সমাজে মানুষ কমে যাচ্ছে আর দু'পেয়ে জীবদের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এতো লেকচার দেওয়ার পরেও প্রতি মাসের শেষে বাবার টাকা পয়সা শর্ট পড়ে এবং সেটা থেকে মেজাজের ব্যারোমিটার চড়ে যায়। টাকার যদি এতোই মূল্যহীন হয় তবে প্রতিমাসেই সেই টাকার জন্য এতো পেরেশানি কেন?

“আচ্ছা - আঙ্কেলের বিজনেসটা কি?" মওকা পেয়ে মুকুল আসাদকে জিজ্ঞেস করে।

"এক্সপোর্ট আর ইম্পোর্ট..." সংক্ষেপে আসাদের জবাব।

"কিন্তু এই এক্সপোর্ট আর ইম্পোর্ট করে এতো এতো টাকা করা যায়? তাহলে সবাই এই ব্যবসা করছে না কেন?" মুকুলের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে একটু। গলাটাও একটু চড়ে যায় মনে হয়।

"শোন..." গলাটা একটু খাদে নামিয়ে আনে আসাদ। এই প্রথম টিভির পর্দা থেকে চোখ সরে আসে। “দরজাটা আটকে দে..."

যন্ত্রের মতো মুকুল আদেশ পালন করে।

"যেটা বলছি সেটা কাউকে বলবি না তো, বল প্রমিজ..."

“প্রমিজ”

রহস্য গল্প বলার জন্য প্রস্তুতি নেয় যেন আসাদ। গলাটা আরও অনেক খানি নিচে নামিয়ে আনে। শুধু টিভির সাউন্ডটাই শোনা যায় যেন বাইরে থেকে।

"আব্বু অনেক বছর আগে আমেরিকাতে ছিল, জানিস তো। ওইখানে এক প্রফেসরের সাথে রিসার্চ করতো। কিসের রিসার্চ জানিস..." বিস্মিত মুকুলের মুখের উপর প্রশ্নটা ছুড়ে দেয় আসাদ।

"কিসের রিসার্চ?” মুকুলের চেহারাতে হতবাক ভাবটাও আর অস্পষ্ট থাকেনা।

“টাইম মেশিন বানানোর রিসার্চ..." কথাটা অসমাপ্ত রাখে আসাদ। রহস্যের চাদরটা যেন ঘরের এসির বাতাসে নড়াচড়া দিয়ে উঠে।

"কিন্তু আমি তো শুনেছিলাম আঙ্কেল নিউইয়র্কে ক্যাব চালাতেন...পরে পুলিশ..."মুকুল অনুক্ত রাখে তার বক্তব্য। সে শুনেছিল যে ক্যাব চালানোর পাশাপাশি আর কি এক অবৈধ ব্যবসার জড়িয়ে পড়ার কারণে আসাদের বাবাকে আমেরিকা ছাড়তে হয়েছে।

"আরে নাহ...ওইগুলো আব্বু ইচ্ছে করেই সবাইকে বলে...আসল ব্যাপার ছিল আব্বু আর ওই প্রফেসর অনেকদিন ধরেই টাইম মেশিন বানানোর চেষ্টা করছিল। আমাদের দোকানের পেছনের গোডাউনে আব্বুর ল্যাব ছিল, ঢাকাতে এসেও আব্বু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে শেষ পর্যন্ত টাইম মেশিন বানিয়ে ফেলেছে।”

"তাহলে তো-তো-তো রা পেপারে খবর দিলি না কেন?" উত্তেজনা কথা জড়িয়ে যায় মুকুলের।

"ওইখানেই তো মজা...আম্মু পেপারওয়ালা ডাকতে চেয়েছিল, কিন্তু আব্বু ভাবলো ব্যাপারটা যতদিন গোপন রাখা যায় ততদিনই ভালো...কারণ আব্বু চাইছিল এই মেশিন দিয়ে ব্যবসা করে নিবে...এটা বানাতে অনেক খরচ হয়েছে তো..."

"মানে?" মুকুলের বিস্ময় এবার ছাদ পেরিয়ে আকাশ স্পর্শ করে।

"আরে বুঝলি না, আগের দিনে অর্থাৎ অতীতে তো সব জিনিসের দাম কম ছিল, আর জিনিসপত্রও সব ভেজাল আর ফর্মালিন ছাড়া ছিল। আব্বু সপ্তাহে একবার ১৯৬৪ সালে যায়, সব জিনিস প্রায় পানির দামে কিনে আনে...এর পর এইখানে সাপ্লাই দেয়। ঢাকার সব মার্কেটে আমাদের সাপ্লাইয়ে মাল..."

সাফল্যের গল্প শুনে মুকুল স্তভিত হয়ে যায়। এটা কি সম্ভব? আর অসম্ভব এটাও বা কিভাবে বলে? আসাদদের বাড়ি-ঘর, অর্থ-বৈভব, সব কিছুই ফেলে ফুঁপে বড় হয়েছে এই কয়েক বছরে। এ সবই সত্যি। আলাদীনের চেরাগের মতো ব্যাপার। চেরাগ গল্পের বইয়ের বাইরে না থাকলেও টাইম মেশিন নিশ্চয় আছে। কোথায় যেন কি একটা পড়েছিল মুকুল।

"আঙ্কেল আরও আগে ফিরে যায় কেন...মানে ধর, শেরশাহের আমলে গেলে তো আরো সস্তায় মাল পেত...ওই সময়ে নাকি একটাকা আট মন চাল পাওয়া যেত।"

"আর বলিস না..." মুখের কথা কেড়ে নেয় আসাদ। “একবার আব্বু গিয়েছিল আকবরের আমলে, একদম আকবরের রাজসভাতে। সাথে নিয়ে গিয়েছিল আইপ্যাড, সব ভালো ভালো অ্যাপ লোড করে। আকবরের জন্য উপহার। সাথে আরো নিয়েছিল অনেক আন্ডারওয়্যার, ড্রেস শার্ট, ভালো স্যুট...আব্বু ভেবেছিল ওইগুলো উপহার দিয়ে অনেক অনেক কিছু নিয়ে আসা যাবে তার বদলে।"

"আন্ডারওয়্যার?"

"আব্বুকে কে যেন বলেছে, ওই সময়ে ভালো আন্ডারওয়্যার পাওয়া যেত না..."

"তারপর?"

"আব্বুর উপহার দেখে আকবর তো রেগে টং...আই প্যাড ছুড়ে মেরেছে মাটিতে, আন্ডারওয়্যারের প্যাকেট আকাশে...সব উপহার টুপহার বাদ দিয়ে মিমি আন্টিকে রেখে দিতে চাইলো..."

"মিমি আন্টিটা কে?"

"আব্বুর সেক্রেটারি, যেইখানেই যায় সেইখানেই নিয়ে যায়। এইতো সেদিন সিঙ্গাপুরে নিয়ে গেল। খুব স্মার্ট মেয়ে। জিন্স আর টি-শার্ট পরে আকবরের দরবারে গিয়েছে, আকবর মিমি আন্টিকে হেরেমে রেখে দিতে চাইলো...আকবরের হেরেমে নাকি জিন্স পরা মেয়ে নাই..."

"হেরেম কি জিনিস?”

"জানি না, মেয়েদের হোস্টেল-ফোস্টেল হবে হয়তো..." উদাস গলায় জবাব দেয় আসাদ।

"জানিস..." আসাদ বলে চলে..."আম্মু মিমি আন্টিকে একদমই দেখতে পারে না। আম্মু খুব খুশি হতো যদি আকবরের হেরেমে মিমি আন্টিকে রেখে দিতো..."

"রেখে দেয় নি তাহলে?"

"নাহ, আব্বু এক পাদ্রি ধরে কিভাবে কিভাবে ছাড়িয়ে এনেছে...আসার আগে আকবর আব্বুকে বলেছে যে হাতির মাহুতের সাথে বন্ধুত্ব করতে গেলে নাকি দরজার চৌকাঠ অনেক উঁচু করতে হয়।”

"এর মানে কি?"

"মানে কি ছাই আমি বুঝি নাকি? আকবর খুব বেশি সুবিধার লোক না, আগেকার দিনের রাজা-বাদশারা একটু সাইকো টাইপের ছিল বুঝলি...ওদের কথা আর কাজ ধরতে নেই। আর আই প্যাড বুঝতে তো একটু শিক্ষা-দীক্ষা লাগবে তো। সেই যাই হোক, আকবরের ওই ঘটনার পরে আব্বু আর মোগল আমলে যায় না...পাকিস্তান আমলের পেছনে যায়ই না। আমার দাদার কিছু পুরনো আচকান আছে, ওইগুলো পরে পাকিস্তান আমলে গেলে ওই সময়ের লোকজন কিছু সন্দেহ করে না। আব্বু নিশ্চিতে মালামাল কিনতে পারে...বুঝলি আব্বু বলেছে পাকিস্তান আমলটা অনেক ভালো ছিল, সব কিছুর দাম কম, মানুষজন, ভিড়ভাট্টা কম, দেশে অনে...ক শান্তি ছিল।”

"তুই গিয়েছিস কখনো?"

মাঝে মাঝে যাই, আমি নিজেও চালাতে পারি একটু একটু। গত সপ্তাহে আব্বু আমাকে ওটা চালাতে দিয়েছিল। আমি ওইটা চালিয়ে এরশাদের আমলে গিয়েছিলাম। নেমে ভেবেছিলাম ঢাকাতে হরতাল হচ্ছে, পরে বুঝলাম ওই সময়ে গাড়ি-ঘোড়া অনেক কম ছিল, এখন তো হরতালের দিনও জ্যাম লেগে যায়...বুঝলি এরশাদের আমলটাও ভালো ছিল, আব্বু বলে যে গণতন্ত্র...টনতন্ত্র..."

"আমাকে নিয়ে যাবি?" অনেকক্ষণ চেপে রাখা কথাটা এই বেলা বলে ফেলে মুকুল।

"নাহ, আব্বু জানলে মেরে ফেলবে..." আসাদ এককথাতে নাকচ করে দেয়।

"প্লিজ প্লিজ দোস্ত..."

অনেক অনুরোধের পর আসাদ রাজি হয়।

কথা হলো আগামি শনিবার বাসাতে কেউ থাকবে না, তখন আসাদ আর মুকুল টাইম মেশিন চালিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে ঘুরে আসবে। কিন্তু এই কথা আর কেউই জানতে পারবে না। কোনদিনও না। অনেক কঠিন কঠিন কসম আদায় করে নিল আসাদ। আর এই অতীব ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য পাঁচশ টাকা দিতে হবে মুকুলের। টাকাটা ব্যাপার না, গত ঈদের পাওয়া সেলামি এখন বইয়ের ভাঁজে আছে মুকুলের।

প্রচন্ড উত্তেজনা নিয়ে ঘরে ফিরে মুকুল। আজ বুধবার। মাঝে আরো দুটো দিন। মুকুল রাতে আর ঘুমুতে পারবে না।

আসাদ বৃহস্পতিবারেও স্কুল কামাই দেয়। সম্ভবত ভিডিও গেমে এখনো সেরকম পারদর্শী হয় নি। আসাদকে জিজ্ঞেস করার আরো অনেক কিছুই ছিল। স্কুলে না আসাতে কিছুই করা যাচ্ছে না। ১৯৮৮ সালে যেতে হলে কি ধরনের কাপড় পরা উচিত? শীতের সময় পৌঁছুলে সাথে করে কিছু গরম জামা-কাপড় নেওয়া উচিত না? এরশাদের আমলে তো নানান আন্দোলন হয়েছিল শুনেছে, যদি গ্যাঞ্জামের টাইমে হাজির হয়? কত কিছু জিজ্ঞেস করার আছে। শুক্রবার সকালে আসাদের বাসায় গিয়ে জিজ্ঞেস করলে কেমন হয়?

মুকুলের ক্লাসের পড়া আগের চেয়ে বেশি ভুল হয়, কিন্তু স্যারদের চড়-থাপ্পড় আর তেমন লাগে না। ১৯৮৮ সাল থেকে না ফিরলে কেমন হয়? অথবা বাবার পকেট থেকে আরো কিছু টাকা সরিয়ে নিয়ে ওইখান থেকে টেনিস বল কিনে এনে এই সময় বেচলে কেমন হয়? আসাদকে জিজ্ঞেস করা দরকার।

শুক্রবার সকাল। ছুটির দিন। মুকুল নাস্তার টেবিলে।

সামান্য কিছু খেয়েই বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু বাবা পত্রিকা নিয়ে এসে হাজির। আজকে বাবার মুড ভালো। আটার রুটি ছিড়ে আলুভাজি দিয়ে মোড়াতে মোড়াতে তিনি বললেন...

"গঁতকাল রাঁতে পাঁড়াতে পুঁলিশ রেঁইডের খঁবর এঁসেছে পেপারে...”

বুধবার রাতে উত্তেজনায় ঘুমাতে পারেনি মুকুল। তাই গতরাতে অনেক আগেই শুয়ে পড়েছে, ইচ্ছে ছিল সকালে আসাদের বাসাতে যাবে। রাতে কি হয়েছিল তার কিছুই জানা নেই তার।

চায়ে চুমুক দিতে দিতে মতিউল্লাহ সাহেব বলে চলেন...

"জঁলিল বাঁটপারটাকে পুঁলিশে ধঁরে নিঁয়ে গেঁছে...ব্যাঁঙ্কের টাঁকা মেঁরে বঁড়লোকি...নিউজটা পঁড়ে দেঁখ..."

মুকুলের হাতে পত্রিকাটা ধরিয়ে দেন মতিউল্লাহ সাহেব। প্রথম পাতাতেই আসাদের বাবার ছবি। চারপাশে পুলিশের ছবি, জিন্স পরিহিতা এক মহিলাকেও দেখা যাচ্ছে ছবিতে। নাম বলা হয়েছে জুলেখা মতিন মিমি। পরিচয় হচ্ছে জলিল সাহেবের কুর্কমের সহযোগী।

খবরে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক এক নেতার যোগসাজশে এক চক্রের মাধ্যমে ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে আসাদের বাবা নাকি ব্যাঙ্ক থেকে থেকে কোটি কোটি ঋণ নিয়েছেন। এক পয়সাও ফেরৎ না দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। ছবিতে আসাদ অথবা তার মা-কে দেখা যাচ্ছে না। খবর পড়ে মুকুল হতভম্ব হয়ে যায়।

ওইদিকে বাবা বলে চলেছেন...

“সাধারণ মানুষের টাকা লুট করে যেই বদমাশগুলোর আর তাদের পেছনে আছে যেইসব নেতারা তারা এই দেশটাকে একশ বছর পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে..."

বাবার লেকচার এই প্রথম সে মন দিয়ে শুনতে চেষ্টা করে...তার মনে হয় বাবার উচ্চারণে চন্দ্রবিন্দুগুলোও আর নেই...বাবা বলছেন...

“...এই ডাকাতগুলোর জন্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষরা সারাদিন পরিশ্রম করেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, এই বদমাশগুলোর একটা করে টাইম মেশিন আছে, সেই মেশিন ভবিষ্যতে যাওয়া যায় না, শুধু এক অন্ধকার অতীতেই ফেরা যায়..."

বাইরের দিনে আলো ঝলমল করছে। একটা রিকশা টুংটাং বেল বাজিয়ে ছুটছে, ফেরিওয়ালা হাঁকছে মাল বেচার জন্য...মুকুলের মনে হচ্ছে না একশ বছর পেছনে আছে।

কিন্তু বাবার কথাগুলো ভাঙা রেকর্ডের মতো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে...

“এই বদমাশগুলোর একটা করে টাইম মেশিন আছে, সেই মেশিন ভবিষ্যতে যাওয়া যায় না, শুধু এক অন্ধকার অতীতেই ফেরা যায়..."

চৌদ্দ বছরের জীবনে যা হয়নি, এই শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই সেটা সম্ভব হলো। বাবার প্রতিটা কথা সে বুঝতে পারে...জীবনে এই প্রথম।

একদম পরিস্কার।

###


মন্তব্য

মেঘলা মানুষ এর ছবি

প্রথমে ভাবছিলাম কিশোরদের গল্প, পরে ভাবছিলাম এটা সায়েন্স ফিকশন -শেষটায় এসে ধাক্কা খেলাম। গুরু গুরু

“এই বদমাশগুলোর একটা করে টাইম মেশিন আছে, সেই মেশিন ভবিষ্যতে যাওয়া যায় না, শুধু এক অন্ধকার অতীতেই ফেরা যায়..."

চুলোয় যাক বদমাশগুলো, চমৎকার একটা গল্প পড়লাম।

শুভেচ্ছা হাসি

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সবজান্তা এর ছবি

ব্যাপারগুলি এতোটাই বাস্তব যে, গল্প না বললেও ভুল হয় না। আপনার গল্প বলার স্টাইলটা চমৎকার।

এমনিতে গল্পটা ভালো লেগেছে, তবে আপনার অন্যান্য লেখার তুলনায় এটাকে আমি একটু পিছিয়ে রাখবো।

একটা টাইপো আছে মনে হয়-

মুকুলের রূপকের মতো হতে চায় না।

সম্ভবত মুকুল রূপকের মতো হতে চায় না হবে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। ঠিক করলাম।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তিথীডোর এর ছবি

ড্রাফট হিসাবেই তো পড়েছি। মুহাহাহা! দেঁতো হাসি

আপনার সিগনেচার লেখা হলো দিনপঞ্জি/ স্মৃতিচারণমূলক লেখাগুলো। এত সাবলীল, এত..এত মায়াময়!
এরকম ছোট ছোট গল্পও দিন মাঝেমাঝে।
মোদ্দা কথা, ধরন যাই হোক এবং আকার [সামটাইমস সাইজ ডাজনট ম্যাটার রিডিং ব্লগ চোখ টিপি ]--
লিখুন ভাইয়া, নিয়মিত। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। এই গল্পটা অর্ধেক লেখা ছিল, শেষ করাটা প্রয়োজন মনে হচ্ছিল। স্মৃতিচারণ আর কতো করবো? দিনপঞ্জি লিখবো ঠিক করেছি, অণুব্লগ সাইজের।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাফি এর ছবি

এত সাবলীল ভাবে লেখেন কিভাবে? আমার গল্প ভাল লেগেছে। শেষটা বিশেষ করে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

শুরুতে ভেবেছিলাম কিশোর গল্প পড়ছি। শেষে এসে মুগ্ধ হলাম। চমৎকার!!!

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ শিমুল।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

আজরফ এর ছবি

চলুক

একটা টাইপো আছে মনে হয় -

বাবা না থাকলে বাসায় ফেরা সমস্যা হবে তেমন।

সম্ভবত "বাবা না থাকলে বাসায় ফেরা সমস্যা হবে না তেমন।" হবে।

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনি মনযোগী পাঠক। ভুলটা ঠিক করে দেব।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

গল্প বেশ ভাল লাগল তাসনীম ভাই। আপনার বেশিরভাগ স্মৃতচারণমূলক দুঃখজাগানিয়া লেখাগুলো থেকে অন্যরকম। আপনার কাছে আরও গল্পের আশায় থাকলাম।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। আমিও অন্যান্য রকম লেখা লিখতে আগ্রহী।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

এক লহমা এর ছবি

ভাল লেগেছে। হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

এই বদমাশগুলোর একটা করে টাইম মেশিন আছে, সেই মেশিন ভবিষ্যতে যাওয়া যায় না, শুধু এক অন্ধকার অতীতেই ফেরা যায়...

খুব ভাল লাগল আপনার গল্প!

-আনন্দময়ী মজুমদার

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ আনন্দময়ী।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তারেক অণু এর ছবি

প্রথমে ভেবেছি আপনার জীবনের কারো গল্প

তাসনীম এর ছবি

একদম যে জীবনবিমুখ সেটাই বা কি করে বলি?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

আয়নামতি এর ছবি

গল্পটা বেশ লাগলো ভাইয়া। একটু তাড়াহুড়ো ছিল যেন লেখাটায়...

[quoteকিন্তু উনি এখন ওনাকে আঙ্কেল বলতে ডাকতে বলেছেন।]

পাকিস্তান আমলের পেছনেই যায় না

লাইন দু'টো একটু দেখবেন প্লিজ!

স্মৃতিকথার পাশাপাশি গল্পও আসুক আরো হাসি

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ। কিন্তু লাইনগুলো ভুল কোন জায়গাতে?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মন মাঝি এর ছবি

কিন্তু উনি এখন ওনাকে আঙ্কেল বলতে ডাকতে বলেছেন

এটা মনে হয় হবে -

কিন্তু উনি এখন থেকে ওনাকে আঙ্কেল বলে ডাকতে বলেছেন

আর এটা -

...পাকিস্তান আমলের পেছনে যায় না

মনে হয় হবে বা ভাল শোনাবে এভাবে -

পাকিস্তান আমলের চেয়ে পেছনে যায় না

আমিও দু'য়েকটা যোগ করি, কি বলেন?

যেমন এটা -

চেরাগের গল্পের বইয়ের বাইরে না থাকলেও টাইম মেশিন নিশ্চয় আছে।

মনে হয় হবে -

চেরাগ গল্পের বইয়ের বাইরে না থাকলেও, টাইম মেশিন নিশ্চয় আছে।

আর,

স্কুলে না আসাতে কিছুতেই করা যাচ্ছে।

এখানে 'যাচ্ছে'-র পরে একটা 'না' বাদ পড়ে গেছে মনে হয়।

এছাড়া কিছু কিছু শব্দের শেষে একটা '' দরকার ছিল যেগুলি বাদ পড়ে গেছে।
এই লেখাটা মনে হয় একটু তাড়াহুড়োর উপ্রে লিখেছেন। হাসি
---------------------------------

একটা ব্যাতিক্রমী লেখা পেলাম আপনার কাছ থেকে। দারুন ভাল লাগল! চলুক

****************************************

তাসনীম এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

এইসব ভুল ইদানিং প্রচুর হচ্ছে , শুধু যে ব্লগ লিখতে গিয়ে হচ্ছে তা-না, অফিসের ইমেইল বা নোট লিখতে গিয়েও ভুল হচ্ছে বিস্তর। সামান্য ভুল মাঝে মাঝে অর্থে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

এটার পেছনের মূল কারণ ঠিক তাড়াহুড়া নয়, বরং অ্যাটেনশন স্প্যানের অভাব - চৌদ্দ রকম কাজ একসাথে করার কারণে কোনটাই মন দিতে পারি না। প্লাস ফেসবুক সময় কাটানো বেড়েছে, ওইটাও কমাবো। খেয়াল রাখবো এই ভুলগুলো যেন কম হয়।

গল্প সচলে দেওয়ার আগে আমি দুই-একবার পড়ি, দেখা যাচ্ছে মনযোগের অভাব থাকলে ভুল ধরা খুব কঠিন।

আবারো ধন্যবাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

একটানে পড়ে ফেললাম, অসাধারণ লাগল তাসনীম ভাই। হাসি
ভালো থাকবেন।

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ সাফিনাজ, আপনিও ভালো থাকবেন।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

দারুন লেগেছে।

গোঁসাইবাবু

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ গোঁসাইবাবু।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

*চমৎকার লেখনী!!!

*বর্ণনাশৈলীতে লেখক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন!!!

*গল্পের এই লাইনগুলো লেখকের পক্কতার স্পষ্ট প্রমাণ---

**চৌদ্দ বছরের জীবনে যা হয়নি, এই শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই সেটা সম্ভব হলো। বাবার প্রতিটা কথা সে বুঝতে পারে...জীবনে এই প্রথম।

**“...এই ডাকাতগুলোর জন্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষরা সারাদিন পরিশ্রম করেও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, এই বদমাশগুলোর একটা করে টাইম মেশিন আছে, সেই মেশিন ভবিষ্যতে যাওয়া যায় না, শুধু এক অন্ধকার অতীতেই ফেরা যায়..."

**বুঝলি এরশাদের আমলটাও ভালো ছিল, আব্বু বলে যে গণতন্ত্র...টনতন্ত্র..."

**"জানিস..." আসাদ বলে চলে..."আম্মু মিমি আন্টিকে একদমই দেখতে পারে না। আম্মু খুব খুশি হতো যদি আকবরের হেরেমে মিমি আন্টিকে রেখে দিতো..."

**"আসাদ ওর ঘরেই আছে...নতুন গেইমটা এসেছে...অটোথিফ না কি যেন...ওইটা নিয়েই পড়ে আছে..
(লেখকের গল্প প্রথমবার পড়লাম)
--------------------------------------------
-- সোহেল মাহামুদ 0অতি ক্ষুদ্র একজন0
--------------------------------------------

তাসনীম এর ছবি

ধন্যবাদ সোহেল মাহামুদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

"এই বদমাশগুলোর একটা করে টাইম মেশিন আছে, সেই মেশিন ভবিষ্যতে যাওয়া যায় না, শুধু এক অন্ধকার অতীতেই ফেরা যায়..."

দারুণ!!!!

____________________________

তাসনীম এর ছবি

ধনব্যাদ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অতিথি লেখক এর ছবি

গল্পে কি টুইস্ট ছিল? প্রথম দিকে এবড়ো থেবড়ো লাগছিল। শেষের দিকে দুর্দান্ত হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় একটু বেশি ভাল লেগেছে।

-রায়হান শামীম

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।