ইতিহাসবৃত্ত

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: সোম, ১০/১১/২০০৮ - ৯:২৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

2. ফিনিক্স-১

ফিনিক্স-১। সুবিশাল এই মহাকাশযান। আলোর অর্ধেক গতিবেগে ভেসে চলেছে মহাশূন্যপথে। মহাকাশের বিপুল বিস্তারে এই গতিবেগ শম্বুকগতি বললেও বাড়িয়ে বলা হয়। কিন্তু ফিনিক্সে আন্ত:-গ্যালাক্টিক ঝাঁপের ব্যবস্থা আছে। সেইসব সুবিধা মহাশূন্যের যেসব বিন্দুতে পায়, ফিনিক্স তা কাজে লাগায়। বহু কোটি আলোকবর্ষ পার হয়ে যায় প্রায় বিনাসময়ে। ফিনিক্সের গতিনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুরোপুরো প্রি-প্রোগ্রামড। এই বিষয়ে এখানকার কারুর কিছুই করার উপায় নেই।

নী, দিওতিমা, রীহা, জুইক,ইলক, তাভাম, ওরিন,তুরি,কিজা আর রুফাস-এই দশজন সদ্য দশবছরে পা দেওয়া ছেলেমেয়ে ছাড়া এখানে আর কোনো মানুষ নেই। বাকী সবই নানা জৈব ও অজৈব যন্ত্রপাতি। ছোটো ছোটো বনসাই গাছপালা আর লতাপাতা আছে অবশ্য অনেক। আর অনেক রোবোট। নানাশ্রেনীর। নানারকম কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রোবোট। বিশেষজ্ঞ চিকি‌ত্‌সক, শিক্ষক, প্রোকৌশলী থেকে শুরু করে নানাধরনের পরিচর্যাকারী সবাই এখানে রোবোট।

মানুষ শুধু দশজন। দশবছর আগে একই দিনে এদের সকলের ভ্রূণ হিমায়িত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলে জেস্টেশন চেম্বারে প্রস্ফুটিত হতে দেওয়া হয়। সেরকমই নাকি নির্দেশ ছিলো। এরা সকলে পূর্ণমানবশরীর নিয়ে জন্মায় একই দিনে, কয়েক ঘন্টার তফাতে তফাতে। প্রত্যেকের দেখভালের জন্য একজন করে রোবোট নিযুক্ত হয়। যেমন নী'র জন্য ছিল জিনি। সেইসব রোবোটদের সকলের বিশেষ স্কিল ছিলো মানবশিশু প্রতিপালনে। এই ছেলেমেয়েদের বয়স পাঁচ হতেই সেই ন্যানি রোবোটেরা নিষ্ক্রিয়য় হয়ে চলে গেছে স্টোরেজে। এসেছে নতুন রোবোট, এরা থাকবে এদের পনেরো বছর হওয়া পর্যন্ত। তারপরে এরা নিজেরা নিজের মতন থাকতে পারবে স্বাধীন হয়ে। এরকমই নাকি নিয়মে বলা আছে। এখন তাই নী'কে দেখাশোনা করে ওরাক।

নী কাউকে বলে নি, এমনকি প্রাণের বন্ধু দিওতিমাকেও না যে ওরাককে ওর পছন্দ হয় না। ওরাক একটু হাসিখুশী হলে হয়তো ওর মন এতটা বিরূপ হতো না। কিন্তু ওরাকের মুখ একদম কঠিন, শক্ত,ভাবলেশহীন। সে যাকগে। ছোটো হলেও নী তীক্ষ্ণবুদ্ধি, সে বুঝতে পারে সবই ওর মনোমত হবে না। আরও সে বুঝতে পারে যে কিছু কিছু কথা আছে যা শুধু ওর নিজের, কারুর সাথেই তা ভাগ করে নেওয়া যায় না।

একটা অদ্ভুত স্বপ্ন মাঝে মাঝে নী'কে উতলা করে তোলে। সে স্বপ্নে দেখে একটা আশ্চর্য পাথুরে সিঁড়ি, পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে গেছে। সিঁড়ির দুধারে অজস্র সবুজ লতা, লতাগুলো রঙীন ফুলে ভরে আছে,ঝলমল করছে রোদ্দুরে, হাওয়ায় দুলছে। ঠিক যেন হাতছানি দিয়ে ওকে ডাকছে!

সে এখানের বাকী সকলের মতই মাটি,পাহাড়, পাথর, সমুদ্র, হ্রদ,দিন,রাত, রোদ্দুর, বৃষ্টি,দিনের আকাশ, বিভিন্ন ঋতু, ঝড়তুফান সব চেনে ক্রিস্টাল ভিউতে দেখে দেখে বা থ্রী-ডি প্রোজেকশনে দেখে দেখে। লতা ফুল সিঁড়ি এসব অবশ্য সত্যি সত্যিই দেখেছে। তাই পাহাড়,লতা,ফুল, রোদ্দুর সব চিনতে পারে। কিন্তু সেটা কোথাকার পাহাড়? ওর দেখা কোনোকিছুর সাথে মিল তো নেই! ফুলগুলোও তো একদম অন্যরকম! কেমন যেন অদ্ভুতভাবে তার মনে হয় সে পুরো দৃশ্যটার উপরে ভেসে ভেসে দেখছে!

কেন সে বারে বারে এই স্বপ্ন দেখে? এ কার স্মৃতি?সে কাউকে বলে নি, সে বোঝে কাউকে এসব বলা যাবে না। কিন্তু সে বুঝতে চায়। সে তাড়াতাড়ি বড় হতে চায়, সংরক্ষিত তথ্যের ঘরে প্রবেশাধিকার পেতে চায়। কিন্তু পনেরোবছর হওয়ার আগে তা হবার উপায় নেই। ইশ,কবে যে তার পনেরো হবে!

(চলবে)


মন্তব্য

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

বিজ্ঞানীর ফিকশন বেশ ভালো লাগছে। হাসি
কবে যে পনেরো হবে! ইস্! হাসি

------------------------------------
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

কীর্তিনাশা এর ছবি

চলুক

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তুলিরেখা [অতিথি] এর ছবি

ধূ গো,
আইসক্রীম খান। দেঁতো হাসি
কীর্তিনাশা, সাইফুল- থ্যাংকস।

তুলিরেখা [অতিথি] এর ছবি

ধূগো,
থাকেন জার্মানীত্‌, তাগো যা ভাষার কথা হুনসি, বহুত খডরমডর! দাঁত তো এম্বেও যাইতো, ওম্বেও যাইতো। দেঁতো হাসি
তাই না বাইন্ধাই পড়েন আর খোশমেজাজে কমেন্টান! হাসি

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

আপনাকে একটা লম্বা-চওড়া চোরাগুপ্তা আততায়ী কমেন্ট ক'রে এসেছিলাম দিন কয় আগে, একেবারে আপনার প্রথম লেখাটার (কবিতার খাতা) নিচে। নিশ্চয়ই দেখেননি ওটা। নিজের লেখালেখি শুরু হওয়ার পর বুঝলাম যে, এই সাইটে অপঠিত মন্তব্যের ওরকম কোনো নোটিফিকেশন আসে না লেখকের কাছে। তাই, স্যরি, এভাবে ঢাকঢোল বাজিয়ে এই গরম গরম লেখার নিচে ব'লে গেলাম একবার। মানে আপনার প্রথম লেখার নিচে আমার কমেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হাসি
ভালো থাকবেন।

------------------------------------
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

তুলিরেখা [অতিথি] এর ছবি

প্রথম কবিতায় আপনার কমেন্ট কালকেই দেখলাম। অনেক ধন্যবাদ।ভালো থাকবেন।
আমি আবার ব্লগাবো আগামী শনিবার। সপ্তাহটা বাধ্যতামূলক সংযমপালনে উত্‌সর্গীকৃত।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

ও আচ্ছা!
তো, এই রিপ্লাই-তথ্যটার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানেন আমার। স্যরি, আপনি এমনিতেই দেখেছিলেন, অথচ শুধু শুধু আপনার কানের কাছে এসে চিল্লান্ দিলাম! ;-(
ওহ্! রমজান (সংযম) মোবারক। হাসি
ভালো থাকেন।

-------------------------------------
"আমার চতুর্পাশে সবকিছু যায় আসে-
আমি শুধু তুষারিত গতিহীন ধারা!"

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

তুলিরেখা এর ছবি

কোণায় ফটুক আসে কেমবায়? চিন্তিত

-----------------------------------------------
পৃথিবী চায় নি যারে, মানুষ করেছে যারে ভয়
অনেক গভীর রাতে তারায় তারায়
মুখ ঢাকে তবুও সে-

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।