ব্রিজ খেলতে চান?

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি
লিখেছেন ইয়াসির আরাফাত [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ১৭/১০/২০১৪ - ৪:০১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কার্ড খেলতে একটা কমন সমস্যা হতো। টুয়েন্টি নাইন খেলার লোকের অভাব নেই, কিন্তু চারজন ব্রিজ খেলোয়াড় পাওয়া যায় না। টুয়েন্টি নাইন অল্পবয়সে খারাপ লাগে না, কিন্তু দীর্ঘদিন চালিয়ে যাবার মত মেরিট এটাতে নেই। কিছু কিছু সহপাঠীর অকশান ব্রিজ (বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ বা আই বি নামে বহুল প্রচলিত) খেলার অভিজ্ঞতা ছিলো বটে, কিন্তু কন্ট্রাক্ট ব্রিজ খেলোয়াড় দুর্লভ।

যারা ব্রিজের সাথে কিঞ্চিৎ পরিচিত এবং কন্ট্রাক্ট ব্রিজ শিখতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য এই সংক্ষিপ্ত পোস্ট। নিজে যখন শিখেছি বা পরে অন্যদের শিখিয়েছি, ছোট আকারের লিখিত ডকুমেন্টের অভাব বোধ করেছি ব্যাপকভাবে। কার দায় পড়েছে কার্তিক চন্দ্র মল্লিক রচিত তিন ক্রেডিটের কোর্স ‘তাসের রাজা ব্রীজ’ বইটি নিয়ে পড়ে থাকার? অন্যদিকে প্রাথমিক নিয়মগুলো শুধু শুনে অল্পসময়ে আয়ত্ব করা বেশ কঠিন। আনাড়ী খেলোয়াড়কে নিয়ে বিপদ, পদে পদে ভুল করলে খেলার মজাটাই মাটি। এই পোস্টের লিঙ্ক নবীশ কাউকে ধরিয়ে দিলেই কাজ শেষ, অল্প সময়ে মোটামুটি অ্যাভারেজ খেলোয়াড় পাওয়া যাবে।

ব্রিজ খেলার কায়দাকানুন সহজ। এটা বলছি এইজন্য যে জিনিসটাতে একটা ছক আছে। একবার ধরে ফেললে শিখে নেওয়া অল্প চেষ্টার ব্যাপার।

খেলার লক্ষ্যঃ

ব্রিজ চারজনের খেলা। মুখোমুখি দুইজন একদল এবং অন্য দুজন বিপক্ষদল। একসেট তাসের সবকটি বেঁটে দেওয়া হয়, ফলে প্রত্যেকে তেরোটি করে তাস পান। বেঁটে দেওয়াকে ‘ডিল’ বলে, খেলোয়াড়ের হাতের তেরো তাসকে ‘হ্যান্ড’ বলে (বাংলায় ‘হাত’)। খেলোয়াড়েয়া পর্যায়ক্রমে হাতের তাস ফেলেন। চারজনের মধ্যে যার তাসের মান সর্বোচ্চ, তিনি চারটি তাসের দখল পান। একে ‘ট্রিক’ বলে (প্রচলিত বাংলায় ‘পিঠ’)। কাজেই এক ডিলে তেরোটি ট্রিক থাকে। প্রতিটি ট্রিকের জন্য স্কোর থাকে, নির্দিষ্ট স্কোর জোগাড় করতে পারলে একটি ‘গেম’ হয়। পর পর দুটি গেম করতে পারলে (মাঝে প্রতিপক্ষের একটা গেম থাকলেও কোন সমস্যা নেই) বিশেষ পুরষ্কারের নাম ‘রাবার’। সাধারণতঃ সাত, নয় বা তেরো ডিল খেলা হয়। নির্দিষ্ট ডিলগুলো শেষে যে দলের স্কোর বেশি থাকে, তারা বিজয়ী হন।

তাস অজ্ঞদের জন্য দুই ছত্রঃ

তাসের প্যাকেটে মূল তাস বাহান্নটি। এর নাম ‘সেট’ বা ‘ডেক’।
বাহান্নটি তাস চারটি চিহ্নে ভাগ করা থাকে, এগুলোর প্রতিটিকে একটি ‘স্যুট’ বলে (আমরা সারাজীবন যে তাস দেখে এসেছি তা মূলতঃ ফ্রান্সে উদ্ভূত, অন্যান্য ধরণের তাসও আছে)। স্যুটগুলোর মধ্যে মর্যাদার কমবেশি আছে, কারণ তারা মধ্যযুগের শ্রেণীবিভাজনের প্রতিনিধিত্ব করে। এই শ্রেণীবিভাগ মেনেই ব্রিজ খেলা চলে।

স্পেডস (বাংলায় ইস্কাপন বা ইস্কা) – নাইট সম্প্রদায় – বড়
হার্টস (বাংলায় হরতন ) – চার্চ – মেজো
ডায়মন্ডস (বাংলায় রুহিতন/রুইতন) – সৈন্যদল – সেজো
ক্লাবস ( বাংলায় চিড়িতন বা চিড়া) – সাধারণ প্রজা বা গৃহস্থ – ছোট

প্রতিটি স্যুটে তেরোটি তাস, 2 এর মান সর্বনিম্ন আর A (এইস)এর মান সর্বোচ্চ।

নিয়ম কানুন

আগেই বলেছি, নিয়ম কানুন সোজা। প্রতিটি ডিলে সর্বোচ্চসংখ্যক ট্রিক জেতার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু খেলা শুরুর আগেই কটা ট্রিক নিতে চান সেটা ঘোষনা করতে হবে। এই কারণেই খেলাটির নাম কন্ট্রাক্ট ব্রিজ, কারণ আপনি ‘চুক্তি’ করছেন। চুক্তির মধ্যের ট্রিকগুলো ‘গেম’ স্কোর আর চুক্তির বাইরের ট্রিকগুলো অতিরিক্ত স্কোর হিসেবে বিবেচিত হবে। খেলার লক্ষ্য যে ‘গেম’ করা, সেটা আগেই বলেছি। অকশান ব্রিজে এই ঝামেলা নেই। আপনি যদি সাত ট্রিক নেবার কথা বলে তেরো ট্রিক পান তাহলে তেরো ট্রিকই গেম স্কোর হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্রিকচুক্তি ঘোষনা করার নাম ‘বিড’। যারা সর্বোচ্চ বিড করবেন, তারাই ট্রাম্পকার্ড ঠিক করবেন।

যেহেতু কয়টা ট্রিক পাবেন এটা ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করতে হবে, কাজেই সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন না মেনে চললে যথাযথ কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অসম্ভব। অকশানের সাথে কন্ট্রাক্টের এই জায়গাতেই তফাৎ, আর এই কারণেই সাবধান থাকতে হবে এবং অনেক বেশি নিয়ম মেনে বিড করতে হবে।

বিড জেতা

বিড শুরু করার সর্বনিম্ন ডাক এক ‘ক্লাবস’। এই কথাটির আপাতঃ অর্থ হচ্ছে, আপনি ক্লাবসকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে চান এবং সাতটি ট্রিক জিততে চান। সম্পূর্ণ নবীশের কাছে ‘এক’ ডাকটি বিভ্রান্তিকর লাগতে পারে। সাত ট্রিকের জন্য সাত ক্লাবস নয় কেন?

লক্ষ্য করুন, ‘এক ট্রিক নেবো’ এই কথাটি কতখানি হাস্যকর। আর মানে হচ্ছে, আপনার প্রতিপক্ষ বারো ট্রিক নেবেন। অর্থাৎ, তারাই বিজয়ী। জিততে হলে আপনার কমপক্ষে সাতটি ট্রিক চাই, কাজেই সর্বনিম্ন ডাকের অর্থ হতে হবে সাত ট্রিক।

মানুষ সাধারণতঃ এক থেকে গুণতে ভালোবাসে, সম্ভবতঃ একারণেই ডাক এক থেকে শুরু। সুতরাং ঐতিহাসিকভাবে এক ক্লাবস/ডায়মন্ডস/হার্টস/স্পেডস/নো ট্রাম্প মানে সাত ট্রিক। সাত থেকে বিড শুরু হতে পারত, কিন্ত হামেশাই ডাক দশের ওপরে চলে যেত, দুই অঙ্কের হিসেব রাখা সবসময়ই এক অঙ্ক থেকে বেশি ঝামেলার। (আর নতুন করে বিডের নিয়মকানুন বদলানো তো অসম্ভবের কাছাকাছি)

আপনার প্রতিপক্ষ এক ডায়মন্ডস ডেকে আপনার এক ক্লাবস ডাকটিকে অতিক্রম করে যেতে পারেন, কারণ ডায়মন্ডস এর মান ক্লাবস থেকে বেশি। তার ওপরে আছে এক হার্টস, তার ওপর এক স্পেডস।

বাঘের ওপর যেমন টাগ থাকে, তেমনই স্পেডসের ওপরে আছে নো ট্রাম্প। এর অর্থ হচ্ছে, খেলায় কোন ট্রাম্প কার্ড থাকবে না। যার হাতের জোর বেশি, তিনিই ট্রিক পাবেন, কেউ ট্রাম্প করে তার ভাগের তাস দখলে নিতে পারবে না।

যদি কেউ তিন নো ট্রাম্প ডাকে, তবে প্রতিপক্ষকে অবশ্যই চার ক্লাবস বা তার বেশি বিড করতে হবে, নইলে প্রথম দলই ‘কন্ট্রাক্ট’ পাবেন। কন্ট্রাক্টের শর্ত পূরণ করতে পারবেন কিনা, সেটা ভিন্ন বিষয়।


বিডের ক্রম, কেউ তিন নো ট্রাম্প ডেকে ফেললে তার আগের সবগুলো ক্রম ধূসর, মানে চারের ঘরে ডাকতে হবে

স্কোরিং টেবিল ১ - গেম

নিয়মানুযায়ী, ১০০ স্কোরকে ‘গেম’ ধরা হয়।
প্রতি ক্লাবস/ডায়মন্ডস ডাকের জন্য ২০ স্কোর, হার্টস/স্পেডস ডাকের জন্য ৩০ স্কোর বরাদ্দ আছে।
নো ট্রাম্পের নিয়ম একটু ভিন্ন। প্রথম নো ট্রাম্পের জন্য ৪০ স্কোর, পরের প্রতিটির জন্য ৩০।

এই শর্ত মেনে, এক ডিলে ‘গেম’ করার জন্য আপনার কমপক্ষে পাঁচ ক্লাবস/ডায়মন্ডস, চার হার্টস/স্পেডস বা তিন নো ট্রাম্প ডাকতে হবে। আংশিক গেম আনুমোদিত। এক ডিলে দুই হার্টস আর অন্য ডিলে এক নো ট্রাম্প ডেকে আপনি একটা সম্পূর্ণ গেম করে নিতে পারেন।

কন্ট্রাক্টের বাইরে প্রতিটি টিককে বলা হবে ওভারট্রিক। ওভারট্রিকের স্কোর সাধারণ ট্রিকের মতই, কেবল তা গেম স্কোরে যুক্ত হবে না।

প্রতিপক্ষের আগে দুই গেম করে ফেলতে পারলে আপনি পাবেন ‘রাবার’। মাঝে যদি প্রতিপক্ষের কোন সম্পূর্ণ গেম না থাকে, তবে পাবেন ৭০০ স্কোর। থাকলে ৫০০ স্কোর।

স্কোরিং টেবিল ২ - আন্ডারট্রিক

চুক্তি করে সেটা রাখতে পারলেন না। শাস্তি পাওয়াটা আসে।
একটি গেম করে ফেলেছেন। রাবারের আশায় বেপরোয়াভাবে ডেকে দ্বিতীয় গেমের কন্ট্রাক্ট পেতে চাচ্ছেন, শাস্তি পাওয়াটা আসে।

চার ক্লাবস ডেকে যদি নয় ট্রিক পান, তাহলে আপনার একটা কম পড়ে গেল। এটার নাম আন্ডারট্রিক। প্রথম আন্ডারট্রিকের জরিমানা কম। দ্বিতীয়/তৃতীয় বা তদুর্ধ্ব আন্ডারট্রিকের জরিমানা পরিস্থিতিভেদে বিশাল হয়ে যেতে পারে।

প্রতিপক্ষ যদি ‘ডাবল’ দেয় (অর্থাৎ তারা নিশ্চিত আপনি কন্ট্রাক্ট ফুলফিল করতে পারবেন না), জরিমানা দ্বিগুণ, অথচ প্রাপ্তি কেবল দ্বিগুণ গেম স্কোর আর ৫০ ‘ডাবল’ ফুলফিলমেন্ট স্কোর। আপনি যদি রিডাবল দেন (অর্থাৎ আপনি নিশ্চিত প্রতিপক্ষের ডাবল বৃথা আস্ফালন), তবে জরিমানা চারগুণ, অথচ প্রাপ্তি কেবল চতুর্গুণ গেম স্কোর আর ১০০ ‘রিডাবল’ ফুলফিলমেন্ট স্কোর।

একটা গেম থাকলে সেই পক্ষকে বলা হবে ‘ভালনারেবল’ (অরক্ষিত)। এই অবস্থায় জরিমানা আরও বেশি।

স্কোরিং টেবিল ৩ - স্লাম

এক ডিলে বারো বা তেরোটি ট্রিক পেয়ে যাওয়া বিশাল ব্যাপার। এর মানে হচ্ছে আপনারা সব বড় বড় তাস পেয়েছেন, বিপক্ষ পেয়েছে গোল্লা।

যদিও অনেকেই ঠিক ধরতে পারেন না যে তারা এতগুলো ট্রিক পেয়ে যাবেন, বিড গেমেই থামিয়ে দেন। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে, নির্ভয়ে স্লাম বিড করা যায়।

বারো ট্রিক পাবার নাম লিটল স্লাম, তেরোটির নাম গ্র্যান্ড স্লাম। এগুলোর জন্য বিশেষ পুরষ্কার রয়েছে।

স্কোরিং টেবিল ৪ - অনার্স

তেরোটি তাসের মধ্যে A, K, Q, J, 10 এই পাঁচটি তাসের নাম অনার্স কার্ড। ট্রাম্পের খেলায় কেউ যদি এক হাতে চারটি অনার্স পেলে ১০০ আর পাঁচটি অনার্স পেলে ১৫০ স্কোর পাওয়া যাবে। নো ট্রাম্পের খেলায় চারটি এইস এক হাতে পেলে ১৫০ স্কোর পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ স্কোরিং টেবিল এখানে দেখুন

বিড করা

ব্রিজ খেলায় বিড করার ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিড ঠিক না হলে একটা গেম মিস হয়ে যেতে পারে, স্লাম মিস হয়ে যেতে পারে আবার ওভারবিড হয়ে গেলে জরিমানা দিতে হতে পারে। অপটিমাম বিড দিতে পারাটাই জরুরী। এই দক্ষতা অর্জন করতে অব্যর্থ অনুমান শক্তির প্রয়োজন নেই। কিছু গাণিতিক এবং সাংকেতিক নিয়মনীতি আত্মস্থ করাই যথেষ্ট।

আপনি জানেন ব্রিজ খেলায় প্রতি হাতে তেরোটি তাস থাকে। একে একে তাসগুলো ফেলা হয়, যার তাস বড়, সে ট্রিক জিতে নেয়। সাধারণতঃ A(টেক্কা), K(সাহেব), Q(বিবি), J(গোলাম) তাসগুলোই ট্রিক জেতে। এদের নাম মেজর কার্ড। এগুলোর একটা মূল্যমান নির্ধারণ করা যাক।

ধরি,

A = ৪, K = ৩, Q = ২, J = ১ পয়েন্ট

তাহলে বাহান্ন তাসের মোট পয়েন্ট দাঁড়ালো ৪০।

হিসেব করে দেখা গেছে, নো ট্রাম্প বা হার্টস/স্পেডসে ২৬-২৭, ক্লাবস/ডায়মন্ডসে ২৯-৩১ পয়েন্টে গেম হয়। ৩২-৩৪ পয়েন্টে লিটল স্লাম আর ৩৭-৪০ পয়েন্টে গ্র্যান্ড স্লাম হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণ হিসাব। বিশেষ ব্যবস্থায় ৮ পয়েন্টেও গ্র্যান্ড স্লাম হতে পারে, সাগর সঙ্গম – ১ বইতে মাসুদ রানা যেমন করেছিলো।

কাজেই আপনি যদি বিডের মাধ্যমে পার্টনারের হাতে কত পয়েন্ট আছে জেনে নিতে পারেন, তাহলে নিজের হাতের পয়েন্টের সাথে সেটা মিলিয়ে অপটিমাম বিড দেয়া ছেলেখেলা।

অল্প ট্রিকে গেম হয় বলে হার্টস/স্পেডস কে মেজর স্যুট ডাকা হয়। ক্লাবস/ডায়মন্ডস হচ্ছে মাইনর স্যুট।

বিডের নিয়মকানুন

ব্রিজের প্রথম এবং অবশ্য পালনীয় নিয়ম হচ্ছে, হাতে ১৩-১৪ পয়েন্ট না থাকলে নিজের দলের পক্ষে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বিড দেবেন না। এই নিয়ম যদি মানতে না পারেন, নির্দ্বিধায় ব্রিজ খেলা ছেড়ে দিন। আপনি না ছাড়লেও, বিরক্ত হয়ে আপনার পার্টনারই আপনাকে ছেড়ে যাবেন। (এখানে ন্যাচারাল ওপেনিং বিডের কথা বলা হচ্ছে। ব্যতিক্রম জানতে আর্টিফিশিয়াল ওপেনিং দেখুন)

দ্বিতীয় নিয়ম হচ্ছে, হাতে ৫ পয়েন্টের কম থাকলে কোনরকম বিড দেবেন না, একেবারে স্পিকটি নট। নিতান্তই দু একটা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম চলতে পারে, তবে সেটা খুবই সীমাবদ্ধ এবং পূর্বনির্ধারিত। (ফোর্সড সাপোর্টিং বিড দ্রষ্টব্য)।

স্পেডস (বাংলাদেশে কল ব্রিজ নামে বহুল প্রচলিত) খেলেছেন নিশ্চয়ই। সেখানে স্পেডস স্যুট হচ্ছে নির্ধারিত ট্রাম্প কার্ড। যতবেশি স্পেডস পাবেন, তত বেশি ট্রিক নিতে পারবেন। ব্রিজ খেলাটিও অনেকাংশে এক। তফাৎ হচ্ছে খেলোয়াড়েরা নিজেদের সুবিধা মত ট্রাম্প কার্ড স্যুট ঠিক করে নিতে পারেন। চার হার্টস বিডের অর্থ হচ্ছে, চুক্তিকারী পক্ষ দশ ট্রিক নেবেন এবং হার্টস হবে ট্রাম্প কার্ড। বলাই বাহুল্য, এদের হাতে হার্টস সংখ্যায় বেশি আছে বলেই এরা হার্টসকে চাইছেন ট্রাম্প কার্ড হিসেবে।

আপনার হাতে ১৩-১৪ পয়েন্ট আছে। হাতে পাঁচটি স্পেডস, তিনটি হার্টস, চারটি ডায়মন্ডস আর একটি ক্লাবস। কি বিড দেবেন?

অবশ্যই এক স্পেডস, কারণ আপনার পার্টনারের হাতে গড়ে তিনটি স্পেডস থাকলেই দুজন মিলে আটটা হয়ে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষের হাতে পাঁচটি। সুনির্দিষ্ট অ্যাডভানটেজ। অবশ্য হাতে তিন বা ততোধিক স্পেডস আছে কিনা, এটা জানাবার দায়িত্ব পার্টনারের। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

আসুন এক নজরে ওপেনিং বিড গুলো দেখে ফেলি। ওপেনিং বিডের অর্থ হচ্ছে, কোন দলের পক্ষে প্রথম যে বিড দেন দুই পার্টনারের একজন। অন্য পার্টনারের পক্ষ থেকে ফিরতি ডাককে বলা হবে সাপোর্টিং বিড।

ন্যাচারাল ওপেনিং

১৩-১৫ পয়েন্ট, কোন স্যুটে পাঁচ বা ততোধিক কার্ড – এক ‘স্যুট’। উদাহরণঃ এক ডায়মন্ডস/এক হার্টস/এক স্পেডস। (এক ক্লাবস ডাকা যাবে না, এটার অন্য অর্থ আছে)
১৬-১৮ পয়েন্ট, সব স্যুটেই ‘চেক’ আছে (A, KX, QXX, JXXX ইত্যাদি) – এক নো ট্রাম্প
১৬-১৮ পয়েন্ট, সব স্যুটে চেক নেই – এক ‘স্যুট’। উদাহরণঃ এক ডায়মন্ডস/এক হার্টস/এক স্পেডস।
২২-২৪ পয়েন্ট, সব স্যুটে চেক আছে – দুই নো ট্রাম্প
২৫-২৭ পয়েন্ট – সব স্যুটে চেক আছে – তিন নো ট্রাম্প
(এক হাতে ২৭ পয়েন্টের বেশি থাকলে দুই ক্লাবসের আর্টিফিশিয়াল বিড দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। পরবর্তীতে স্লাম বিডের দিকে এগুবেন ওপেনার)

আর্টিফিশিয়াল ওপেনিং

১৩-১৪ পয়েন্ট, কোন স্যুটে চার কার্ডের বেশি নেই – এক ‘ক্লাবস’। এই বিডে হাতে ক্লাবস থাকা বা না থাকা কোন অর্থ বহন করে না। এটি আস্কিং বিড। আপনার পার্টনারকে জিজ্ঞেস করছেন, আমার হাতে চৌদ্দ পয়েন্ট, শক্তিশালী স্যুট নেই, তোমার হাতে কি আছে?

১৯-২১ পয়েন্ট, ভীষণ শক্তিশালী হাত –দুই ‘ক্লাবস’। এটিও আস্কিং বিড। এটার মানে এই নয় যে, আপনার হাতে ক্লাবস দিয়ে ভর্তি। পার্টনারকে আপনার শক্তি জানাচ্ছেন কেবল। এটি ফোর্সিং বিডও। পার্টনারের হাতে পয়েন্ট থাকুক বা না থাকুক, দুই ক্লাবসের উত্তরে তাকে কিছু একটা বলতেই হবে। (হাতের খালি অবস্থাকে বাধ্য হয়ে জানানোর নাম হচ্ছে ফোর্সড সাপোর্টিং বিড।)

৮-৯ পয়েন্ট, কোন একটা স্যুটে ছয় থেকে আট কার্ড- দুই ‘স্যুট’। উদাহরণঃ দুই ডায়মন্ডস/দুই হার্টস/দুই স্পেডস। শুরুতেই দুই স্যুট ডাকা দুর্বল হাতের লক্ষণ। এটি স্টপিং বিড। প্রতিপক্ষকে তিন এর ঘরে উঠে নিজেদের মধ্যে ডাকাডাকি করে চুক্তি নিতে নিরুৎসাহীত করবার জন্য এই ব্যবস্থা।

৮-১২ পয়েন্ট, কোন একটি স্যুটে নয় বা ততোধিক কার্ড – তিন ‘স্যুট’। উদাহরণঃ তিন ক্লাবস/তিন ডায়মন্ডস/তিন হার্টস/তিন স্পেডস। লক্ষ্য করুন, এই প্রথম এবং শেষবারের মত ক্লাবস ডাকা যাচ্ছে অন্য স্যুটগুলোর মতই। এটিও স্টপিং বিড।

টেক অ্যাওয়ে ডাবল

আপনি ডাকার আগেই প্রতিপক্ষের কোন একজন ওপেনিং বিড করেছেন তাদের পক্ষ থেকে। আপনার দলে আপনিই প্রথম বিড করবেন (প্রথমেই আপনার টার্ন অথবা আপনার পার্টনার কিছু না ডেকে পাস দিয়ে দিয়েছেন), কারণ আপনার হাতে ভালোই পয়েন্ট আছে। এক ক্লাবস ডাকার পথ নেই, কারণ কেউ একজন মুখ খোলামাত্র ঐটি আর ডাকার সুযোগ থাকে না। এদিকে শক্তিশালী স্যুটও নেই। কি করবেন? (হাতে শক্তিশালী স্যুট থাকলে ন্যাচারাল ওপেনিং ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ এক স্পেডস ডেকে ফেললে সেই সুযোগ আর থাকে না)।

পথ আছে। ‘টেক অ্যাওয়ে ডাবল’ বিড দেবেন। অর্থাৎ বলবেন, ‘ডাবল’। এর অর্থ হচ্ছে, আপনার হাত ভালো, কিন্তু ডাকার মত স্যুট নেই। পার্টনার যেন অবশ্যই একটা ডাক দিয়ে তার হাতের সবচেয়ে ভালো স্যুটটি জানান। আর তিনি যেন ভুলেও না ভাবেন এটি পেনাল্টি ডাবল, অর্থাৎ আপনি বলতে চাইছেন প্রতিপক্ষ তাদের ওপেনিং বিডের কন্ট্রাক্টটি ফুলফিল করতে পারবেন না। প্রতিপক্ষের সুবিধামত ট্রাম্প কার্ডে খেলে তাদেরকে সাত ট্রিক নেয়া থেকে বিরত রাখা বেশ কঠিন। আর যদি সে সামর্থ্য আপনাদের থাকেই, তবে নিশ্চিত জানুন, নিজেদের ট্রাম্পকার্ডে খেললে আপনাদের ‘গেম’ হবে। এক আন্ডারট্রিক পাবার চাইতে একটি গেমের মূল্য অনেক বেশি। কাজেই প্রতিপক্ষের প্রথম ডাকের বিরুদ্ধে পার্টনারের ‘ডাবল’ ডাকটিকে ‘পাস’ দেবার কোন মানেই হয় না। আপনি কিছু একটা ডাকতে বাধ্য। অর্থাৎ টেক অ্যাওয়ে ডাবল হচ্ছে একটি ফোর্সিং বিড, এবং অবশ্যই আর্টিফিশিয়াল।

সাপোর্টিং বিড

আবার দুই ছত্র

ব্রিজ জগতে সবচেয়ে কমন ওপেনিং বিড হচ্ছে ‘এক ক্লাবস’। আগেই বলেছি, হাতে ক্লাবস থাকা বা না থাকার সাথে এটির কোন সম্পর্ক নেই। আপনার পার্টনার এই ডাক দিয়েছেন। আপনি বুঝতে পারলেন, তার হাতে অন্ততঃ ১৩ পয়েন্ট আছে। নিজের হাতের দিকে তাকান। যদি ১২-১৩ পয়েন্ট থাকে, নিজেদের গেম হবার একটা সম্ভাবনা জেগে ওঠে, আপনি সাপোর্ট দিয়ে বিডটাকে গেমের দিকে এগিয়ে নিতে পারেন। সম্ভাবনা বলছি, কারণ হার্টস বা স্পেডে আপনাদের আধিপত্য থাকতে হবে। ক্লাবস বা ডায়মন্ডসে গেম করতে সাধারণতঃ ২৯ বা বেশি পয়েন্ট লাগে।

ধরা যাক, আপনার হাতে ৯ পয়েন্ট আছে। হাতে চার কার্ড হার্টস। আপনি এক হার্টস ডেকে সেটা পার্টনারকে জানালেন। আপনার পার্টনার বুঝবেন, আপনার হাতে অন্ততঃ ৯ পয়েন্ট আছে এবং অন্ততঃ চারটি হার্টস আছে।

(নিয়মানুযায়ী ৬-৮ পয়েন্ট থাকলে সাপোর্টিং বিড হবে এক নো ট্রাম্প, যাতে আপনার পার্টনার দুটো তথ্য পান। এক হচ্ছে, আপনার হাতে ৮ পয়েন্টের বেশি নেই, দুর্বল হাত। দুই, কোন শক্তিশালী স্যুট নেই। সাপোর্ট হিসেবে এক নো ট্রাম্প একটি স্টপিং বিড)

তখন তার কর্তব্য হচ্ছে আপনাকে আরও তথ্য দেয়া বা একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা। ধরুন তার হাতেও চারটি হার্টস আছে। দুই জন মিলে হলো আটটি। ৪০ পয়েন্টের মধ্যে অন্ততঃ ২২ পয়েন্ট আপনাদের হাতে, আরও আছে আটটি ট্রাম্পকার্ড। এই অবস্থায় আট ট্রিক পাওয়া হচ্ছে সর্বনিম্ন, নয় ট্রিকও হতে পারে। কাজেই ওপেনার দুই হার্টস ডাকবেন নির্দ্বিধায়। ডাকের এখানেই সমাপ্তি, কারণ হাতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সাপোর্টারের বেশি বাড়াবাড়ি না করাই উচিৎ।

এখানে কথা আছে। সাপোর্টার যে হাতের পয়েন্টের হিসেব করলেন, সেটার ভিত্তি কি? ধরা যাক, সাপোর্টারের হাতে কোন স্পেড নেই। অর্থাৎ স্পেডের টেক্কা, সাহেব, বিবি, গোলাম কোনটাই ট্রিক পাবে না, তিনি সেগুলো ট্রাম্প করবেন। অর্থাৎ কিনা হার্টস ট্রাম্পকার্ডে খেলা হলে প্রকারান্তরে স্পেডের টেক্কা, সাহেব, বিবি, গোলাম আসলে তারই হাতে। অবশ্য সবগুলোকে ট্রাম্প করতে পারবেন না। প্রতিপক্ষের হাতের ট্রাম্প কার্ড খালি করতে এক দুই ট্রিক ট্রাম্প কার্ড খেলতেই হবে। সেফ সাইডে থাকার জন্য শুধু দুইবার ট্রাম্প করার কথা বিবেচনা করা যায়। সেক্ষেত্রে শুধু টেক্কা আর সাহেব হিসেবে নিতে হবে। তাহলে এই দুটোর জন্য হলো ৭ পয়েন্ট। আগের ৯ পয়েন্ট এর সাথে এই ৭ যোগ করা হলে মোট পয়েন্ট দাঁড়ালো ১৬, খুবই শক্তিশালী সাপোর্টিং হ্যান্ড। অর্থাৎ কোন একটা স্যুট অফ থাকলে সাপোর্টারের প্রথম বিডটি ঠিক হয় নি। তিনি এক হার্টস ডেকে ৯ পয়েন্ট জানিয়েছিলেন, আসলে জানাতে হতো ১৬ পয়েন্টের রেসপন্স। (মনোযোগী পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, স্পেডের টেক্কা সাহেব যদি ওপেনারের হাতেই থাকে, তবে কি সেম সাইড হয়ে যাচ্ছে না? এটা বুঝে নেয়া খুব শক্ত ব্যাপার নয়, একটু অভিজ্ঞতা আর সমঝোতার প্রয়োজন, অন্যত্র আলোচনা করব)

মূলনীতি

সাপোর্টিং বিড অবশ্যই ওপেনিং বিডকে বিবেচনায় নিয়ে করতে হবে। শুধু একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, নো ট্রাম্পে খেলা হলে কোন ভার্চুয়াল পয়েন্ট ধরে বিড করা যাবে না, কারণ ট্রাম্প করার সুযোগ নেই।

ওপেনিং বিডঃ এক ক্লাবস -১৩-১৪ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিড

৬-৮ পয়েন্ট, কোন শক্তিশালী স্যুট নেই – এক নো ট্রাম্প

৯-১১ পয়েন্ট, অন্ততঃ একটি মেজর স্যুটে চার কার্ড আছে – এক ‘মেজর স্যুট’। উদাঃ এক হার্টস/এক স্পেডস

১২-১৩ পয়েন্ট, শক্তিশালী হাত – ‘দুই নো ট্রাম্প’। এটি গেম ডাকার আমন্ত্রণ। ওপেনারকে বলা হচ্ছে, নো চিন্তা ডু ফুর্তি। গেম ডাকো। শুধু ভালো স্যুট খুঁজে দেখব দরকার হলে।

১৪-১৫ পয়েন্ট - ‘তিন নো ট্রাম্প’। গেম হবে নিশ্চিত। পার্টনারের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজেই গেম ডেকে দেয়া। যদি পার্টনারের কোন স্যুটে দুর্বলতা থাকে, তিনি চার এর ঘরে কিছু একটা ডাকবেন। সাপোর্টার (আসলে তার হাতই ওপেনারের থেকে বেশি ভালো) সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প কার্ডে থাকবেন নাকি নো ট্রাম্পে খেলবেন।

১৬-১৭ পয়েন্ট –মাইনর স্যুটেও গেম হবে। তিন নো ট্রাম্প ডাকা যেতে পারে। শক্তিশালী মাইনর স্যুট (ছয় কার্ড বা ততোধিক) থাকলে তিন মাইনর স্যুট ডাকা উচিৎ। এক হাতে ছয় সাত কার্ড পড়া মানে মোটামুটি সব হাতেই অসম বিন্যাস আছে। নো ট্রাম্পে খেললে প্রতিপক্ষ তাদের সুবিধার স্যুটে অনেক ট্রিক নিয়ে আপনাকে ডাউন করে দিতে পারে। শক্তিশালী মেজর স্যুটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

১৮ বা ততোধিক পয়েন্ট – স্লাম হবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা (স্লাম বিড দ্রষ্টব্য)

ওপেনিং বিডঃ এক স্যুট উদাহরণঃ এক ডায়মন্ডস/এক হার্টস/এক স্পেডস -১৩-১৪ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিড

৬-৮ পয়েন্ট, কোন শক্তিশালী স্যুট নেই – এক নো ট্রাম্প

৬-৮ পয়েন্ট, পার্টনারের ডাকা স্যুটে একটি মেজর কার্ড সহ অন্ততঃ তিন কার্ড আছে – দুই ‘পার্টনারের স্যুট’। পার্টনারের ডাকা স্যুটকে এক দফা চড়িয়ে আবার ডাকা দুর্বল হাতের লক্ষণ। অনেকেই এটিকে শক্তিশালী সাপোর্ট ভেবে ভুল করেন।

৯-১১ পয়েন্ট, অন্ততঃ একটি মেজর স্যুটে চার কার্ড আছে – ‘এক মেজর স্যুট’। উদাঃ এক হার্টস/এক স্পেডস। ওপেনার এক স্পেড ডেকে ফেললে দুই হার্টস ডাকুন। ভয় নেই, ওপেনারের হাতে হার্টস থাকলে তিনি চুপ থাকবেন বা তিন হার্টস ডাকবেন। না থাকলে তার নিজের ডাক দুই স্পেডস তো রয়েছেই। আপনার স্পেড একেবারেই পছন্দ না হলে দুই নো ট্রাম্প ডাকতে পারেন দুই স্পেডসের পর। পার্টনারের সেটা পছন্দ না হলে তিন এর ঘরে মাইনর স্যুট ডাকবেন। মোট কথা, ট্রাম্প কার্ডে খেলা হলে নয় ট্রিক নিয়ে বেশি চিন্তা নেই।

১২-১৩ পয়েন্ট, শক্তিশালী হাত – ‘দুই নো ট্রাম্প’ ডাকুন সুষম হাতে। কোন মেজর স্যুটে ছয় কার্ড বা বেশি তাকলে তিন ‘মেজর স্যুট’। দুটোই গেমের আমন্ত্রণ।

বাকি সাপোর্টিং বিডগুলো এক ক্লাবসের মতোই।

ওপেনিং বিডঃ এক নো ট্রাম্প – ১৬-১৮ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিড

৬-৮ পয়েন্ট, কোন শক্তিশালী স্যুট নেই – দুই নো ট্রাম্প। মনে আছে নিশ্চয়ই, পার্টনারকে এক দফা চড়িয়ে ডাকা দুর্বল হাতের লক্ষণ?

৯-১১ পয়েন্ট – এখানে অনেকগুলো রেসপন্স হতে পারে। সবগুলোই আর্টিফিশিয়াল বিড। উদ্দেশ্য বিড দুই এর ঘরে ধরে রাখা, প্রয়োজনে গেমের দিকে এগোনো।

দুই ক্লাবস – এটি আস্কিং বিড। সাপোর্টার জানতে চাইছে, ওপেনারের হাতে কোন চার কার্ডের মেজর স্যুট আছে কিনা। অনেকটা এক ক্লাবসের ওপেনিং বিডের মতো। মেজর স্যুট মিলে গেলে, সেটাকে এক দফা বাড়াবেন (ওপেনার দুই হার্টস বললে সাপোর্টার তিন হার্টস ইত্যাদি)। না মিললে এবং হাতে পুরো ১১ পয়েন্ট থাকলে, তিন নো ট্রাম্পে ডাক শেষ করে দেয়া উচিৎ।

দুই ডায়মন্ডস – আপনার হাতে হার্টসের ভালো স্যুট আছে। পার্টনারের হার্টসে সমর্থন থাকলে দুই হার্টস ডাকবেন। আপনি হাত বুঝে গেম অর্থাৎ চার হার্টস ডেকে দিতে পারেন। পার্টনারের স্পেডস থাকলে তিনি দুই স্পেডস ডাকবেন। তখন আপনার সমর্থন থাকলে হাত বুঝে তিন বা চার স্পেডস ডাকুন। সমর্থন না থাকলে নো ট্রাম্প ডাকুন। ওপেনার নিজের হাত দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন তিন নো ট্রাম্প ডাকবেন কিনা।

দুই হার্টস – আপনার হাতে স্পেডসের ভালো স্যুট আছে। পার্টনারের সমর্থন থাকলে হলে দুই স্পেডস ডাকবেন। তখন আপনি বুঝে দেখবেন তিন বা চার স্পেডসে যাওয়া চলে কিনা। ওপেনারের স্পেডস না থাকলে দুই নো ট্রাম্প অথবা তিনের ঘরে গিয়ে তার শক্তিশালী স্যুট জানাবেন। আপনার সমর্থন থাকলে চারের ঘরে ডাকুন, সমর্থন না থাকলে তিনের ঘরে নো ট্রাম্প ডাকুন।

দুই স্পেডস – আপনার হাতে কোন একটি মাইনর স্যুট শক্তিশালী। সেটি ক্লাবস হতে পারে বা ডায়মন্ডস। আপনার মুখে দুই স্পেডস ডাক শুনলে ওপেনার নিশ্চিত হবার জন্য ডাকবেন তিন ক্লাবস। সম্মত হলে আপনি পাস দেবেন। অসম্মত হলে ডাকবেন তিন ডায়মন্ডস। পার্টনার সম্মত হলে পাস দেবেন, অসম্মত হলে তিন নো ট্রাম্প ডেকে গেমের একটা চেষ্টা নেবেন। আপনি যদি মনে করেন তিন নো ট্রাম্পে গেম সম্ভব নয়, আবার চার ডায়মন্ডস ডাকুন। পার্টনার এবার পাস দেবেন, আর এগোবেন না কারণ দুই হাত মিলে সর্বোচ্চ ২৭ পয়েন্ট থাকায় আপনারা মাইনর স্যুটে গেম করতে পারবেন না (এগারো ট্রিক পাবেন না)।

১২-১৫ পয়েন্ট, বেশ ভালো হাত, মাইনর স্যুটেও গেম হবে। পাঁচের ঘর পর্যন্ত ডাকাডাকি করতে পারেন নিজেদের সুবিধাজনক স্যুট বের করে নিতে। গেম বিড না হওয়া পর্যন্ত থামবেন না। প্রয়োজনে স্লাম বিড করুন।

১৬ বা তদুর্ধ্ব – স্লাম বিডের দিকে এগোন

ওপেনিং বিডঃ দুই ক্লাবস -১৯-২১ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিডঃ

৩-৫ পয়েন্ট – দুই ডায়মন্ডস ( ডায়মন্ডস থাকা জরুরী নয়)। এটি ফোর্সড সাপোর্টিং বিড। ওপেনারকে জানানো, ভাই আমার হাতে কিছু নেই। যা ভালো বোঝো করো।

৬-৮ পয়েন্ট – গেম হবার ভালো সম্ভাবনা। শক্তিশালী স্যুটটি ডাকতে হবে। উদাঃ দুই হার্টস/দুই স্পেডস/দুই নো ট্রাম্প/তিন ক্লাবস/তিন ডায়মন্ডস। ওপেনার বুঝে দেখবেন কিসে খেলবেন, ট্রাম্পকার্ড অথবা নো ট্রাম্প। মেজর স্যুট বা নো ট্রাম্পে খেলতে পারলে গেম হবে।

৯-১১ পয়েন্ট – গেম না হওয়াটা বিস্ময়কর। শক্তিশালী স্যুটটি ডাকুন। পাঁচের ঘর পর্যন্ত ডাকাডাকি করতে পারেন অনায়াসে।

১২ বা তদুর্ধ্ব – গেম তো হবেই, স্লাম হয়ে যেতে পারে।

ওপেনিং বিডঃ দুই নো ট্রাম্প – ২২-২৪ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিডঃ

৩-৫ পয়েন্ট – এখানে একটু কথা আছে। ওপেনারের হাতে ২৪ পয়েন্ট থাকলে কথা নেই, গেম হবেই, কিন্তু ২২ পয়েন্ট থাকলে একটু ঝামেলা। ২২ আর ৩ মিলে ২৫ এ গেম নাও হতে পারে। কিন্তু প্রায় নিশ্চিত একটা গেম ছেড়ে দেওয়াও অন্যায়। অভিজ্ঞরা বলেন, নো রিস্ক নো গেইন। হাতে ২ পয়েন্ট থাকলেও তিন নো ট্রাম্প ডেকে দাও। যদি একটা আন্ডারট্রিক জোটে সেটা ভাগ্য। কিন্তু দুই নো ট্রাম্প ডেকে নয় ট্রিক পাওয়া অমার্জনীয়। কথা খারাপ না। কিন্তু এর সাথে আমার দুই পয়সা যোগ করি।

২ পয়েন্ট মানে হচ্ছে এই বিবি অথবা দুই গোলাম। যে হাতের এত খারাপ অবস্থা, সে কোন ট্রিক ধরতে পারবে এটা আশা করা একটু কঠিন। আর ট্রিক ধরতে না পারলে প্রতিপক্ষের অনার্স কার্ডগুলোকে ফাঁদে ফেলা (ফিনেস) একটু কঠিন। সে ক্ষেত্রে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এক হাতে নয় ট্রিক নেয়া অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। ৩ পয়েন্ট মানে হচ্ছে একটি সাহেব, নয়ত এক বিবি আর এক গোলাম অথবা তিন গোলাম। শেষের দুটিতে ট্রিক নেয়া কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে তিন নো ট্রাম্প না ডেকে কোন স্যুট দেখালে ওপেনার ভুল করতে পারেন এই ভেবে যে, সাপোর্টারের হাত শক্তিশালী। তাই আমার মতে হাতে ৩-৫ পয়েন্ট থাকলে সাপোর্টারের উচিৎ তিন ক্লাবস বিড করা। অনেকটা দুই ক্লাবস বিডে দুই ডায়মন্ডসের মতো, যা ভালো বোঝো করো। সেক্ষেত্রে ওপেনার পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী ডাক দেবেন। সব দিকে চেক সহ একটা শক্তিশালী লম্বা স্যুট থাকলে তিন নো ট্রাম্প আর সব চেক ছাড়া সবচেয়ে শক্তিশালী স্যুটে তিনের ঘরে থাকা। সেটি ক্লাবস হলে তো কথাই নেই।

৬-৮ পয়েন্ট – ভালো সাপোর্ট। মাইনর স্যুটেও গেম হবার কথা। গেমের আগে থামবেন না।

৯–১১ পয়েন্ট – স্লাম বিডের দিকে এগোন। সুবিধাজনক না লাগলে পাঁচের ঘরে বিড থামিয়ে দিন।

১২ বা তদুর্ধ্ব পয়েন্ট – স্লাম বিড দ্রষ্টব্য

ওপেনিং বিডঃ তিন নো ট্রাম্প – ২৫-২৭ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিডঃ

সাপোর্টারের হাতে ৬ পয়েন্ট বা বেশি থাকলে স্লামের দিকে এগোতে হবে। কম থাকলে তিন নো ট্রাম্পে পাস।

ওপেনিং বিডঃ দুই ডায়মন্ডস/দুই হার্টস/দুই স্পেডস – ৮-৯ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিডঃ

১-১২ পয়েন্ট – পাস

১৩-১৪ পয়েন্ট – নিজের শক্তিশালী স্যুট উদাঃ ওপেনার দুই হার্টস ডাকলে সাপোর্টার দুই স্পেডস বা তিন ডায়মন্ডস ইত্যাদি। ওপেনারের পছন্দ না হলে তিনি আবার নিজের স্যুট ডেকে বিডিং বন্ধ করিয়ে দেবেন। পছন্দ হলে সাপোর্টারের স্যুটে এক দফা ডাক বাড়াবেন। তখন সাপোর্টার নিজের হাত বুঝে ঠিক করবেন গেম ডাকবেন কিনা। বলা বাহুল্য, তিন নো ট্রাম্পে গেম হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কোন একটি স্যুটে থাকতে হবে।

১৫-১৭ পয়েন্ট – ওপেনার মেজর স্যুট ডেকে থাকলে আর সাপোর্টারের সাথে মিলে গেলে চার এর ঘরে গেম হবে। সাপোর্টার নিজেই গেম ডেকে দিতে পারেন অথবা তিনের ঘরে ডেকে ওপেনার এর ওপরে সিদ্ধান্ত নেবার ভার ছেড়ে দিতে পারেন। যদি না মেলে, নিজের শক্তিশালী স্যুট ডাকুন। সাপোর্টার বা ওপেনার মাইনর স্যুট ডাকলে গেম না হবার সম্ভাবনাই বেশি।

১৮-২১ পয়েন্ট – মেজর স্যুটে গেম হবেই। দুজনের হাত মিলে গেলে নির্দ্বিধায় গেম ডাকুন। যদি সাপোর্টারের হাতে মাইনর স্যুট শক্তিশালী থাকে তবে নিজের শক্তি দেখাতে জাম্প বিড দিন। উদাঃ ওপেনার দুই হার্টস ডাকলে সাপোর্টার চার ক্লাবস/ডায়মন্ডস। ওপেনার বুঝে যাবেন যে হাত কতটা শক্তিশালী। তিনিই ঠিক করবেন, মাইনর স্যুটে থাকবেন নাকি মেজরে। দুজনের কারোই অন্যেরটা মনঃপুত না হলে চার নো ট্রাম্পে বিড থামিয়ে দেয়া যেতে পারে।

২২-২৫ – মেজর স্যুট, মাইনর স্যুট, নো ট্রাম্প যে কোন কিছুতেই গেম হবে। স্লাম হবার সম্ভাবনা।

২৬ বা তদুর্ধ্ব – স্লাম বিড দ্রষ্টব্য

ওপেনিং বিডঃ তিন ক্লাবস/তিন ডায়মন্ডস/তিন হার্টস/তিন স্পেডস – ৮-১২ পয়েন্ট

সাপোর্টিং বিডঃ

এখানে, ওপেনারের ট্রাম্প কার্ড ভীষন শক্তিশালী। সাপোর্টারের হাতেও অন্য কোন স্যুটের আট/নয় কার্ড না থাকলে ওপেনারের ট্রাম্পে খেলাই ভালো।

১-৫ পয়েন্ট – পাস

৬-১০ পয়েন্ট – মেজর স্যুট হলে গেম নিশ্চিত। সাপোর্টার গেম ডেকে দিতে পারেন। মাইনর স্যুট হলে দুইরকম বিড। বোঝাই যাচ্ছে ওপেনার একাই অন্ততঃ নয় ট্রিক ধরতে পারবেন। যদি সাপোর্টারের হাতে ট্রাম্প বাদে অন্য কোন স্যুটে দুটি ট্রিক ধরার মত কার্ড থাকে অথবা অন্ততঃ দুটি ট্রিক ট্রাম্প করে নেবার মত উপায় থাকে, তবে মাইনর স্যুটেও গেম হবে। আর যদি এরকম কিছুই না হয়, গেম ডাকার সিদ্ধান্তটা ওপেনারের ওপর ছেড়ে দিন। আপনি চারের ঘরে কিছু একটা ডেকে কেটে পড়ুন।

১১-১২ পয়েন্ট – স্লাম হবার উজ্জ্বল সম্ভাবনা

১২ বা তদুর্ধ্ব পয়েন্ট – স্লাম হবেই। কোথায় থামবেন, এটা ডেকে ডেকে বুঝতে হবে।

(চলবে)

বিঃদ্রঃ ভুলভ্রান্তি, বিভ্রান্তি কিংবা দ্বিমতগুলো আলোচনায় উল্লেখ করবার জন্য পাঠকের প্রতি আগাম কৃতজ্ঞতা


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই রে ভাই। আধেকখানেক পড়েই কেমন জানি হাঁসফাঁস লাগতে লাগল, আর বেশীদূর আগাতে পারি নি মন খারাপ কার্ড খেলার প্রতি মোহ খুব বেশী ছিল না। কলেজে থাকতে ২৯ খেলতাম অনেক। ভার্সিটিতে আই বি খেলেছি কিছু। কিন্তু তারপর উৎসাহ চলে গেছে। কিছুতেই মাথা খাটাতে ভাল লাগে না।

--সুমন্ত

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

ব্রিজ খেলার আগ্রহ না থাকলে এই পোস্ট পড়া আর সময়কে পানিতে ফেলা একই কথা। মাথা খাটাইতে তোর ভালোই লাগে, আমি জানি। দাবা খেলবি?

অতিথি লেখক এর ছবি

নারে, সেই দিন আর নাইক্কা। মাথা এখন আর খাটাইতে ভাল লাগে না। ভাল লাগে খালি বইসা থাকতে, একটু আধটু খেলাধুলা করতে, আর বেড়াইতে। মূল কথা হইল ধৈর্য নাই, কাজেই কিচ্ছু হয় না।
ব্যাচেলরের ২য় বর্ষে জাভা প্রোজেক্ট করছিলাম আই বি (কন্ট্রাক্ট হইতে পারে, কারন কলের চে বেশী পিঠ পাইলে জরিমানার ব্যাপার ছিল মনে আছে) এক বন্ধুর সাথে। ৩ টা মেশিন প্লেয়ার, আর একজন হিউম্যান। তখন খেলাটা শিখছিলাম বেশ ভাল মত। মেশিন প্লেয়ার গুলার এঞ্জিন বেশ ভাল হইছিল। সুপার ডুপার এ.আই না হইলেও চলে আরকি। প্রজেক্ট ডিফেন্সে বাঘা তাসুড়ে এক স্যারকে হারিয়ে দিছিল আমাদের এঞ্জিন। তবে বেশীদিন খেলা চালাতে পারিনি। প্লেয়ার পেতাম না, সবাই ২৯ খেলত। পরে ধীরে ধীরে আগ্রহ চলে যায়।
কোডটা এখন আর নাই দেখে মাঝে মাঝে খুব দুঃখ লাগে। থাকলে আরেকবার পড়ে দেখতাম কি করছিলাম।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

স্যার কি বিসিবির দলের মত 'বাঘা' ছিলো নাকি? চিন্তিত

অন্যকেউ এর ছবি

বাপরে! দারুণ জিনিস! তবে আমার মতে তাসের রাজা হচ্ছে পোকার।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

সুবিশেষ ধন্যবাদ অন্যকেউ, প্রশংসায় ভাসিয়ে দিলেন।

রাজার সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেকরকম হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ভুলভ্রান্তিঃ আপ্নে মাঝপথে চা খাইতে গেলে তখন কমুনে শয়তানী হাসি
বিভ্রান্তিঃ হাত্তিমার্কা পোস্টের শেষে চলবে! অ্যাঁ [ চলুক তবে দেঁতো হাসি ]
দ্বিমতঃ আপাতত স্থগিত, নিজে আগে বুইঝা লই ব্যাপারটা চিন্তিত

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

দুইদিন ধইরা চা খাইলাম। কিছু কলেন্নাতো।

পাবলিক ফিডব্যাক না দিলে ক্যামনে বুঝুম পোস্ট চলবে কি না? আপাতত ডিঝার্টেড।

আপ্নে ব্রিজের পোকা না বুঝতাছি। দ্বিমত করতে টাইম লাগব শয়তানী হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ভুলভ্রান্তিঃ আপ্নে মাঝপথে চা খাইতে গেলে তখন কমুনে শয়তানী হাসি
বিভ্রান্তিঃ হাত্তিমার্কা পোস্টের শেষে চলবে! অ্যাঁ [ চলুক তবে দেঁতো হাসি ]
দ্বিমতঃ আপাতত স্থগিত, নিজে আগে বুইঝা লই ব্যাপারটা চিন্তিত

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

তাসের সহজ খেলাগুলোর পিছনে(যেমন- মিলান্তি মিলান্তি, পেসান্স, টুয়েন্টি নাইন, ব্রে, স্পেড ট্রাম, অকশান ব্রিজ, নাইন কার্ড ফ্ল্যাশ, ফিস, রামি, হাইড্রোজেন, থ্রী কার্ড ফ্ল্যাশ ইত্যাদি) যে পরিমান সময় এবং মেধার অপচয় করেছি তার জন্য এখন অনুতাপ হয়। কঠিন বিষয়ে পিএইচডি করে অনুতাপে অধিক জর্জরিত হতে চাই না।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

অন্য খেলার কথা জানি না। ব্রিজের পিছনে সময় নষ্ট(!) করলে এন্টারটেইনমেন্ট ভিন্ন ক্ষতি নাই। তাছাড়া এইটা অলিম্পিক কমিটি রেকগনাইজড স্পোর্ট, একটা ওয়ার্ল্ড ব্রিজ ফেডারেশন আছে এবং এরা চার বছর পরপর ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে। কে জানে আমরা হয়তো একটা কাপ নিয়ে আসতে পারতাম। আফটার অল, এইখানে তো আর ফিটনেসের কারবার নাই। চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক। বহুদিন তাস খেলি না। আদতে বহু বছর। মুশকিল যেটা হইছে, এখন পার্টনার থুঁজতেছি। রাইত বাজে তিনটা।

স্বয়ম

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

ধন্যবাদ স্বয়ম।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

তাস খেলা খারাপ, তাই এটা কমানো উচিত। এজন্য চারজনে মিলে বাহান্নটা তাস দিয়ে ব্রিজ না খেলে এরচেয়ে অনেক কম তাস - মানে, বারোটা তাস দিয়ে চারজনে মিলে থ্রি কার্ড ফ্ল্যাশ খেলা উচিত। বাস্কেটবল, টেনিস, ফুটবল খেলে মানুষ মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কামায়, সেখানে মোটে তিনটা তাস দিয়ে খেলাতে এক-আধটু টাকা পয়সা যুক্ত হলেই লোকে গেলো! গেলো!! রব তোলে। কি আজব!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

পাণ্ডবদা, লোকের কথায় কান দিলে কি চলে? এককালে তো পেম ভালুবাসাও গেলো! গেলো!! র দলে ছিলো। তাই বলে কি পেম পেইলে গ্যাছে?

আপনি নিঃসংকোচে ফ্ল্যাশ খেলতে থাকেন। ছাত্রজীবনে আমরা একটা সহজ ফ্ল্যাশ চালু করেছিলাম। পার্টিসিপেন্টদের এক কার্ড করে দেয়া হবে। সবাই ব্লাইন্ডে চাঁদা দিবে পাঁচ দান। একবারেও দেয়া যেত, তাতে আবার ঠিক টেনশন বিল্ড আপ হয় না। পাঁচ দানের শেষে ওয়ান টু থ্রি বলে একসাথে চিৎ করতে হাবে তাস। তারপর বিজয়ীর উল্লসিত থাবা, বিজিতের কালবৈশাখী মুখ। ট্রাই করে দেখতে পারেন

সত্যপীর এর ছবি

পোকার ছাড়া অন্য তাসের খেলা তেমন পারিনা, ব্রিজ শিখতে চেষ্টা করেছিলাম অনেক আগে কিন্তু হয় নাই। সে যাক, মন্তব্য করছি অন্য কারণে। আপনার এই টপিকটা ভিডিও ব্লগ করার জন্য আইডিয়াল, ট্রাই করে দেখবেন নাকি? একটা মোটামুটি ক্যামেরা (ইশ্মাটফুন দিয়াও চলব) দিয়া রেকর্ড করে নিবেন, বা স্ক্রীন ক্যাপচার সফটওয়্যার দিয়াও হবে...যেইটা সুবিধা। যেটা লিখছেন এই পোস্টে সেইটাই স্ক্রিপ্ট হিসাবে চলে যাবে। পাঠক লাইভ ট্রেনিং দেখলে আগ্রহ আরো বেশী পাবে বলে আমার বিশ্বাস। অনেক ধৈর্য্যের ব্যাপার কিন্তু এর ফল হবে অতি সুমিষ্ট।

..................................................................
#Banshibir.

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

আপনার কমেন্টে বিশেষ জাঝা পীরসাহেব।

আপনি ভয়েস দিলে আমি স্ক্রীপ্ট বানাইতে রাজি আছি। আমার ভয়েস শুনলে লোকে এমন দৌড় দিবে যে স্প্রিন্টের বিশ্বরেকর্ড নতুনভাবে লেখা লাগতে পারে। হুদাই শরমিন্দা করবেন না।

তার ওপর ফিডব্যাক দেখে মনে হচ্ছে না পাবলিকের কোন আগ্রহ আছে। পরের পর্ব লেখার উৎসাহ হারায়ে ফেলসি।

সত্যপীর এর ছবি

তার ওপর ফিডব্যাক দেখে মনে হচ্ছে না পাবলিকের কোন আগ্রহ আছে। পরের পর্ব লেখার উৎসাহ হারায়ে ফেলসি।

নিচে মরুদ্যান ভাইয়ের সিগনেচার ফলো করেন।

..................................................................
#Banshibir.

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

আমার অবস্থা হবে আজ রবিবারের বড়চাচার মত। কেউ জ্ঞানের কথা শুনতে চায় না, কিন্তু উনি ধরেবেঁধে শোনাবেনই দেঁতো হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

তাইলে রাত পোনে তিনটায় ফোনদিয়া পীরবাবারে ডাইকা তুইলা জানায়েন যে সূর্যের (নাকি পৃথিবীর) ওজন কত খুঁইজা পাইছেন শয়তানী হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মরুদ্যান এর ছবি

মনোযোগ দিয়া পড়লাম, কিন্তু এখনই সব ভুইলা গেছি মন খারাপ

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

রিটায়ার করার পরে সময় কাটানোর জন্য এই খেলা শিখতে হবে দেখবা। পুস্ট্রে পিডিয়েফ কইরা রাইখা দেও হাসি

মরুদ্যান এর ছবি

অক্কে ম‌্যান!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

রিটায়ার করার পর সময় কাটানোর বেষ্ট অপশন হল ধর্ম কর্মে মনোনিবেশ করা। এ ছাড়া পরচর্চা, পরনিন্দা, টকমারানি গিরি, এগুলোও মন্দ নয়।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

বাহ! আপনার ফিউচার প্ল্যান দেখি বড়ই সরেস শয়তানী হাসি

রিক্তা এর ছবি

ভাই আপনি মহান! পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করার সময় কত সপ্তাহান্ত রাতজেগে ২৯ খেলে কাটানো হয়েছে। একবারতো ভেবেছিলাম একটা অ্যাপ্লিকেশন বানায়ে ফেলা যায় কিনা অনলাইনে খেলার জন্য (এক পর্যায়ে খেলার সংগিরা বিভিন্ন শহরে ছড়ায়ে পরেছি) ব্রিজ শিখার খুবই ইচ্ছা ছিল। আপনার লেখার তিন প্যরারা পড়েই মনে হচ্ছে বেশ ঝরঝরে সহজ করে লেখা। পুরাটা পড়ে ২ দান খেলে ফিডব্যাক দিবো নে হাসি চলুক

--------------------------------
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

আপনি হবেন আমার দেখা প্রথম প্রমীলা ব্রিজ খেলোয়াড় (যদিও মহিলাকূলে আমার পরিচিতি অত্যন্ত সীমিত)। অভিনন্দন!!!

ফিডব্যাক আসতে দেরী হলেও অসুবিধা নেই।

রিক্তা এর ছবি

শাস্তি/জরিমানা কি? পয়েন্ট কমবে?

--------------------------------
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

আন্ডারট্রিকের স্কোর বিপক্ষ দলের খাতায় যোগ হয়। ফলাফল একই, স্কোর কমবে হাসি

মীর মোশাররফ হোসেন এর ছবি

যে পিডিএফ ফাইল দিয়েছেন। সেখানে vulnerable ও non-vulnerable নামের দুটো ক্যাটাগরি দেখাচ্ছে। এর মানে কি?

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

স্কোরিং টেবিল ২ এর দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷ যে পক্ষের গেম থাকবে তারাই ভালনারেবল৷ গেম না থাকলে নন ভালনারেবল

তারিকুর রহমান এর ছবি

শিখতে পেরেছি
মেসে খুব খেলছি এখন
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাদের

S M Manon এর ছবি

লরিস খেলার ইংরেজী/আন্তর্জাতিক নাম কি?

sanjoy kumar এর ছবি

ব্রিজ খেলার ইচ্ছা খুব ছিল কিন্তু যে নিয়ম কিছু বুঝতেছি না ।মাথা আর কাজ করছে না ?

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখাটি পড়ে ও BBO এপে প্রাক্টিস করে এখন যথেষ্ট ভালো খেলি কন্ট্রাক্ট ব্রিজ। উল্লেখ্য আমি আগে থেকেই অকশন ব্রিজ পারতাম।

-শেখ হাসিবুর রহমান।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।