একজন হিটলারের গল্প-৪।

জাহিদ হোসেন এর ছবি
লিখেছেন জাহিদ হোসেন (তারিখ: শুক্র, ১৯/০৬/২০০৯ - ৯:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাবা ল্যাব দেখতে আগ্রহী হলেন না মোটেও। "ওসব আমি কিই আর বুঝবো। তার চেয়ে চলো তোমার এ্যাডভাইসারের কাছে যাই।"

কি আর করা? নিয়ে গেলাম তাকে গুরুর কাছে। দুজনকে পরিচয় করিয়ে দিলাম। তারপর কেবল আমরা চেয়ারে একটু বসেছি, অমনি বাবা গুরুকে প্রশ্ন করলেন,"তা আমার ছেলেটা কাজকর্ম কেমন করছে? পরীক্ষাগুলোর রেজালট ভাল হচ্ছে তো?"

আমি সে প্রশ্নে মনে মনে প্রমাদ গুনি। কেননা আমি তখন সবে বছর খানেক তার ল্যাবে কাজ শুরু করেছি। অভিজ্ঞজন মাত্রেই জানেন, গবেষনার প্রথম বছরে কাজ তেমন কিছুই হয়না। টেস্টটিউব নাড়াচাড়া করা আর যন্ত্রপাতির সাথে চিন-পরিচয় হওয়া, এইটুকুই। আর আমি এর মধ্যে যা দু একটা এক্সপেরিমেন্টের অপচেষ্টা করেছি, তার কোনটারই ফল ভাল হয়নি। অতএব প্রাপ্তির খাতায় বিরাট শূন্য।

বাবার প্রশ্ন শুনে আমার ব্রিটিশ গুরু হাসেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটি কুটিল হাসি হেসে বললেন,"তুমি তাহলে বাইরে যাও। তোমাকে নিয়েই যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন সেটাতো আর তোমার সামনে করা যায়না। আর যাওয়ার সময় দরজাটা ভাল করে বন্ধ করে দিয়ে যেও।"

ঘরের বাইরে এসে মনে মনে ব্যাটাচ্ছেলেকে ঝেড়ে গালি দিলাম মিনিট পাঁচেক ধরে। ও যে আমার কি গুনকীর্তন করবে, তাতো ভালই বুঝতে পারছি। আর আমার পিতাজীও আমার সাফাই গাইবেন না, সেটাতো আমি ভাল করেই জানি।

মিনিট পনেরো পরে দরজা খুললো। বাবার মুখ গম্ভীর। "চলো, বাড়ী যাই এবার।"
গাড়ীতে বসে কৌতুহল আর চেপে রাখতে পারিনা। বাবাকে জিজ্ঞেস করি,"কি বললো প্রফেসর আমার নামে?"
বাবা উত্তর দিলেন,"হুম্‌ম্‌।"
সেই "হুম্‌ম্‌" এর ব্যাখ্যা চাইবার সাহস হোলনা আমার। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বাবা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন,"পড়াশুনাটা মন দিয়ে করো। আর প্রফেসরের কথা মেনে চলো।"

বাবা এর দুদিন পরই চলে গেলেন। আমেরিকার এই কর্মহীন জীবন তার আর ভাল লাগছিলনা।

তারপর অনেক দিন কেটে গেছে। আস্তে আস্তে গবেষণা এগোয়। টুকটুক করে জমা হয় ডেটা। থিসিস লেখার কাজ চলছে পাশাপাশি। থিসিস ডিফেনস করার কয়েকদিন আগে গুরুজী ডেকে পাঠালেন তার ঘরে। থিসিসের ফাইনাল কারেকশনটি আমার হাতে দিলেন। তারপর বললেন,"বসো-কথা আছে।"
বসলাম। আমাকে কি চাপ দিয়ে আরো কিছু কাজ করাবে নাকি?
"তোমার বাবা কেমন আছেন?"
"ভালই। এইতো কয়েকদিন আগেই ফোনে কথা হয়েছে।" (এটি ডাহা মিথ্যে কথা, কথা বলেছি মায়ের সাথে।)
গুরু একটু আনমনা হয়ে গেলেন।"ইন্টারেস্টিং ম্যান ইজ ইওর ড্যাড। তার কথা আমার প্রায়ই মনে পড়ে। তুমি কি জানো-সেদিন আমাদের মধ্যে কি কথা হয়েছিল?"
"না।"
"উনি আমাকে বলেছিলেন যে তোমাদের কালচারে নাকি বাবা-মায়ের পরেই শিক্ষকের স্থান। উনি বলেছিলেন যেহেতু উনারা কেউ এখানে নেই, তাই তাদের অবর্তমানে আমিই যেন তোমার পিতামাতার দায়িত্বটি পালন করি। উনার মতে তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম গাধা, তাই আমার প্রধান কর্তব্য হচ্ছে তোমাকে সদুপদেশ দেওয়া, আর তোমাকে ঠিকমতো গাইড করা। তা না হলে নাকি তোমার পি এইচ ডি নাকি জীবনেও শেষ হবে না। আশাকরি আমি সে কাজে ব্যর্থ হইনি। এখন তুমি আমার ল্যাব ছেড়ে পাড়ি জমাবে অন্য কোন এক ল্যাবে। আমার দায়িত্ব তাই শেষ হোল। উনাকে তুমি আমার শুভকামনা দিও।"

আমি কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকি। বাবার স্নেহময় হাতের ছোঁয়া যেন আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে গেল। সাত সমুদ্দুর তের নদী পাড়ি দিয়ে অতি গোপনে তিনি এই আমেরিকাতে আমার জন্যে রক্ষাকবচ বপন করে গেছেন। আমি তার কিছুই টের পাইনি।

আর দশটা জিনিসের মতোই তিনি এবারও তার মায়াময় হূদয়স্পন্দনটিকে আবৃত করে রেখেছিলেন তার চিরাচরিত কঠিন মোড়কে। যেন কেউ জানতে না পারে। যেন কেউ টের না পায়।

তারপর কেটে যায় আরো অনেকগুলো বছর। আস্তে আস্তে দেশের সাথে যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে আসে। ভিন্ন দেশ থিতু হয়ে বসি।

মাঝে মাঝে মায়ের সাথে কথা হয় ফোনে। অতি কৌশলে এমন সময়ে ফোন করি যখন বাবা বাড়ীতে থাকেন না। তারপরও দু এক সময়ে হঠাৎ তার গলা ভেসে টেলিফোনের তারে। সে আওয়াজে মেরুদন্ড দিয়ে বয়ে যায় ভয়ের শীতল স্রোত। কোন কথা না বলে আস্তে ফোন নামিয়ে রাখি।

একদিন দেশ থেকে ছোটভাই মিনারের ফোন আসে।
"দাদা- বাবার শরীর ভালনা।"
"কেন? কি হয়েছে?"
"ডাক্তার বলছেন কিডনীর সমস্যা। বেশ সিরিয়াস। ওষুধে কাজ হবে না। বোধহয় ডায়ালিসিস করতে হবে।"
"তাই নাকি?"
"হ্যাঁ।"

কাজের মধ্যে ডুবে থাকার কারণে ঠিকমতো খোঁজখবর নেওয়া হয়না। আবার মিনারের ফোন আসে। বাবার অবস্থার অবনতি হয়েছে অনেক। রক্তে ক্রিয়াটিনিন আর এ্যামোনিয়ার পরিমান বেড়েছে আশংকাজনক ভাবে। তার ফল হিসেবে বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফোন রেখে চুপ করে বসে থাকি। কেন জানিনে মনে হয়, বাবা যেন ডাকছেন আমাকে।"কতকাল দেখিনি তোকে। কেমন আছিস জানতে বড্ড ইচ্ছে করছে।"

নাড়িতে টান পড়ে আমার। সে ডাক অগ্রাহ্য করতে পারিনে।

দেশে ফিরে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় শুয়ে থাকা বাবাকে দেখে চমকে উঠি। বুকের মধ্যে একটা জোর ধাক্কা খাই। এ আমি কাকে দেখছি? এইই কি আমাদের পরিচিত দোর্দন্ডপ্রতাপ মানুষটি? ছেলেবেলায় পড়া "মহাভারত" এর ভীষ্মের মতো মনে হয় তাকে। যেন শরশয্যায় শুয়ে আছেন। প্রতীক্ষা করছেন দক্ষিনায়নের।

ডাক্তারেরা যা বললেন, সাদা বাংলায় তার অর্থ হচ্ছে যে বাবার দুটো কিডনীই প্র্যাকটিকালি অকেজো হয়ে গেছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে কাজের মোহে ডুবে থাকা এই মানুষটি সবচেয়ে বেশী অগ্রাহ্য করেছিলেন তার নিজের শরীরটিকেই। বাদ বাকী জীবনটা তাকে ডায়ালিসিস এর সাহায্য নিয়েই চলতে হবে।

সেই দিনগুলোর কথা এখনো স্মৃতিতে উজ্জ্বল। আমি সারাটা দিন ক্লিনিকে বাবার বিছানার পাশে বসে থাকি। তাকিয়ে থাকি তার দিকে। ইতিমধ্যে বার কয়েক ডায়ালিসিস করা হয়েছে। তাতে তার অবস্থার আহামরি কোন উন্নতি হয়নি।

বাবা কি জানেন যে আমি এসেছি? তিনি কি টের পাচ্ছেন যে তার গাধা সন্তানটি তার শিয়রের পাশে বসে আছে? মাত্র অল্প ক’দিনের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছি। একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেনসে পেপার পড়তে হবে ফিরে গিয়েই। তাই বেশীদিন থাকতে পারবোনা। আমি কি বাবার সাথে কথা বলতে পারবো? তিনি কি সুস্থ হয়ে উঠবেন?

ঈশ্বর-তুমি আমার বাবার জ্ঞান ফিরিয়ে দাও।

আমার কোন প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনা। ছোট ভাই বোনেরা মুখে উৎকণ্ঠা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। "দাদা-কি হবে? বাবা ভাল হবে তো?"
তাদের প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারিনা। যতটুকু বিজ্ঞান শিখেছি, তার আলকে মনে হয় বাবার অবস্থা খুব ভাল না।

যেদিন চলে আসবো, তার আগের দিন দুপুর বেলা। ক্লিনিকে আর কেউ নেই। শুধু আমি একা বসে আছি বাবার বিছানার পাশে। তখন বাবাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। শুধু সেই যন্ত্রটির মৃদু শব্দ ছাড়া আর সব কিছু নিঃশব্দ। পর্দাগুলো টেনে দেওয়া হয়েছে বলে ঘরের ভিতরটিতে অতি অল্প আলো। আমি একদৃষ্টিতে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।

এমন সময় আমাকে অবাক করে দিয়ে বাবা চোখ মেললেন। বড় বড় চোখে তাকালেন আমার দিকে।
আমি বাবার উপর ঝুঁকে পড়ে ডাকলাম,"বাবা-বাবা।"
বাবা মাথা নেড়ে সাড়া দিলেন যেন।
"তুমি কি আমাকে চিনতে পারছো?"
"হুঁ।"
"বলোতো আমি তোমার কে হই?"
"ছেলে।"
আনন্দে, উত্তেজনায় আমার চোখে জল আসে। আমি বাবার হাতটি জড়িয়ে ধরি। বাবা কি আমার হাতের স্পর্শ টের পান? তা না হলে তার মুখে কেন আমি এক চিলতে হাসি দেখতে পেলাম?

সেদিন স্বল্পালোকিত ঘরটিতে একটি অহংকারী, মূর্খ এবং অযোগ্য সন্তান তার বাবার কাছে করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করেছিল। সব ভয়, রাগ, অভিমান ভুলে ছেলেটি সেদিন সূর্য্যপ্রতিম মানুষটির খুব কাছটিতে চলে এসেছিল। সেদিন ছেলেটি বুঝতে পেরেছিল, এতদিন ধরে তারা সবাই একটি বিরাট ভুল করে এসেছে। মানুষটির কাছে এলে তারা একটি অতি কোমল হূদয়কে দেখতে পেতো।

কতক্ষন ধরে চলেছিল এই কথোপকথন? তার হিসেব রাখেনি কেউ। এক পল, নাকি সহস্র শতাব্দী?

পরদিন খুব ভোরে প্লেনে ওঠার আগে মিনারের সাথে ফোনে কথা হোল।
"মিনার, বাবা এখন কেমন?"
"ভালই দাদা। তুমি চিন্তা করোনা। ভালভাবে যাও। পৌঁছে একটা ফোন দিও।"

অতি শয়তান ভাইটি সেদিন দক্ষতার সাথে আমার কাছে একটি বড় সত্যকে গোপন করেছিল। বাবা তার আধা ঘন্টা আগে মারা গেছেন। কান্নাকে বুকের মধ্যে সে লুকিয়ে রেখেছিল যেন আমি চলে যেতে পারি। কনফারেনসে আমার যে পেপার পড়তে হবে।

চিরটা কাল ওরা এই কাজটিই করে এসেছে। আমি শুধু স্বার্থপরের মতো নিয়েই গেছি। কোনদিন কিছু দেবার সুযোগ পাইনি।

কিছুকাল আগের কথা। এখানে মানে আমেরিকাতে এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখছিলাম তার মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তোলা ভিডিও। হঠাৎ করে একজনকে দেখে চমকে উঠি। কে এই লোকটি? আঙুল উঁচিয়ে কথা বলছে? কে এই লোকটি যার ভুরু জোড়া কুঁচকে আছে? কে এই লোকটি যার কথা বলার সময়ে চোখ জোড়া নেচে উঠছে?

বন্ধুটি আমার অখন্ড মনোযোগ দেখে ঠাট্টা করলো,"কি ব্যাপার নিজের চেহারা দেখে একদম মোহিত হয়ে গেলেন মনে হচ্ছে।"

এই লোকটি আমি? আশ্চর্য্য! বড়ই আশ্চর্য্যের ব্যাপার।

সেদিন সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি পা টিপে টিপে ক্লোজেট থেকে বাবার পুরনো শালটি বের করি। তারপর সেটিকে গায়ে জড়িয়ে বাথরুমের আয়নার সামনে দাঁড়াই। সামনের দিকে তাকিয়ে আবার আশ্চর্য্য হই।

আয়নার ওপাশে দাঁড়িয়ে ও কে? কুঞ্চিত ভুরু, মাথায় পাতলা হয়ে আসা চুল, কে ওই মানুষটি? মহামতি হিটলার?

জীবনের একটি দীর্ঘ সময় ধরে আমায় পালাতে চেয়েছি বাবার কাছ থেকে। রহস্যময় বিধাতা আজ সেই বাবাকে আমার মুখের উপর বসিয়ে দিলেন। দীর্ঘ দৌড় শেষে আমি দেখতে পেলাম যে আমি শেষমেশ আমার উৎসেই ফিরে এসেছি। আয়নাতে জনাব হিটলার একটু মুচকি হাসেন। "আমিই কি তাহলে জিতলাম?"

আশ্চর্য্যের ব্যাপারটি হচ্ছে এই যে হেরে গিয়ে আমার বিন্দুমাত্র রাগ হয়না। আমার ভিতরটাতে খেলা করে একঝাঁক সোনালী আনন্দ। আমি আয়নার মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলি,"থ্যাংক ইউ, বাবা। আই এ্যাম গ্ল্যাড দ্যাট ইউ কেইম ব্যাক। ওয়েলকাম টু ইওর নিউ হোম।"

বাথরুমের আলো নিভিয়ে দিয়ে আমি বিছানায় ফিরে যাই। আজ আমি বড় সুখী একজন মানুষ, বড় তৃপ্ত একজন মানুষ। বাবা আমার সাথেই আছেন। মহামতি হিটলার এখন আমার ভিতরেই বসবাস করেন।

মনে পড়ে প্রিয় কবিতার একটি পংক্তি।

"যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।"

কি ভয়ানক সত্যি কথা!


মন্তব্য

সাইফ এর ছবি

আমি কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকি। বাবার স্নেহময় হাতের ছোঁয়া যেন আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে গেল।

খুব হৃদয় ছোয়া লেখা আপনার, পড়ে মনে হল, ডে-জা-ভু, নিজের মনের কথা অন্যের মুখে শুনছি

জাহিদ হোসেন এর ছবি

ডে-জা-ভু মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় মোটেও। বাবারা সব যে একই রকমের হন।_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

veryfilmiboy এর ছবি

ek tane porlam 4 epi...oshadharon....

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

অসাধারন হয় আমাদের বাবারা!

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

এ পর্ব ও দুর্দান্ত!
পড়তে পড়তে চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
সব বাবারাই কেমন ছায়া দিয়ে রাখেন আমাদের।
বাবাকে অসুস্থ দেখলে আমার কেন জানি খুব রাগ হয়।
মনে হয় তাদের সব সময় সুস্থ থাকতে হবে।
না হলে আশ্রয় পাব কোথায়?

রেনেট এর ছবি

বহুদিন আগে দূরবীণ উপন্যাসটি পড়ে ঠিক এই অনুভূতিটি হয়েছিল, যা হলো আজকে আপনার লেখাটি পড়ে। একটুও বাড়িয়ে বলছি না।
সচলে আর কোন লেখা পড়ে এতটা মুগ্ধ হয়েছি কিনা, মনে করতে পারছি না।
অসাধারণ এক লেখক আপনি।
---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

জাহিদ হোসেন এর ছবি

ছি-ছি! দূরবীণের সাথে তুলনাটি অতিশোয়াক্তি হয়ে গেল। আগরতলা আর চৌকির তলার মতো।
বুঝতে পেরেছি যে লেখাটি আপনার কাছে ভাল লেগেছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ তার জন্যে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

ফারুক হাসান এর ছবি

অসাধারণ একটা লেখা পড়লাম।

বাবারা সবসময় কেন এমন হয়?

অনিকেত এর ছবি

আমি রেনেটের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই---সচলায়তনে এত চমৎকার, এত অসাধারন লেখা আর কখনো পড়েছি বলে মনে হয় না----

আপনাকে, আর আপনার পিতাকে আমার সেলাম---
দুই অসাধারণ পুরুষ!!!

জাহিদ হোসেন এর ছবি

আমার পিতাজীকে সালাম দেন, ঠিক আছে। আমি এখনো তাঁর লীগে উঠতে পারিনি। ধন্যবাদ আপনাকে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অসাধারণ একটা লেখার পড়লাম জাহিদ ভাই। সত্যিই অসাধারণ! বর্ণনাভঙ্গি, বাক্যে শব্দের ব্যবহার, সব-ই। চোখের সামনেই সব কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম যেনো!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক(অফলাইনে) এর ছবি

অসাধারণ বললে কম বলা হবে। এখন রাত সোয়া একটা বাজে। কতক্ষণ ধরে যে সিরিজটা পড়ছি তা জানিনা। শুধু জানি লিংকগুলো ক্লিক করতে করতে একসময় শেষে এসে পৌঁছেছি।

মামুন হক এর ছবি

জাহিদ হোসেন নামটি কোথাও দেখলেই আমি চমকে উঠি, মাত্রা বাইশ বছর বয়সেই হারিয়ে যাওয়া চির অভিমানী সব জনমের শ্রেষ্ঠ বন্ধুর কথা মনে পড়ে যায়। মানুষ কি এভাবেই ফিরে আসে বার বার ভিন্ন মানুষের মধ্য দিয়ে?
কান্না লুকানোর অনেক চেষ্টা করেছি জাহিদ ভাই, কাজ হয়নি। আমার বাবা হিটলার না হয়েও আমাকে ঘরে রাখতে পারেন নি, স্বার্থপরের মতো পালিয়ে এসেছি বার বার। আপনার লেখা পড়ে আবার বাবার পাশে গিয়ে বসে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে, হয়তো তাই করব। আপনি যেখানেই থাকেন ভালো থাকবেন, আজকে আপনি অনেককেই কাঁদালেন।

জাহিদ হোসেন এর ছবি

জাহিদ নামটি বোধহয় খুবই কমন। আমি যে খানে থাকি সেখানে গোটা পাঁচেক জাহিদ আছে বাংলাদেশীদের মধ্যে। আপনার বনধুর অকালে চলে যাওয়ার কথা শুনে খারাপ লাগছে
আমি আশাকরি সবাইকে আবেগআপ্লুত করে তুলিনি। আমরা সবাই তো কারো না কারো সন্তান। বাবা-মায়েরা তো এইরকমই হন চিরকাল। আমি সবসময়েই ভাবি, আমি কি আমার বাবার মতো হতে পারবো? আজকাল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভুরু কোঁচকানো প্র্যাকটিস করছি।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

ভুতুম এর ছবি

অসম্ভব সুন্দর লেখা, অসম্ভব অসম্ভব অসম্ভব সুন্দর।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

জাহিদ হোসেন এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

BABU [অতিথি] এর ছবি

জার্মানীতে থাকি তাই হিটলার নাম দেখে পড়া শুরু করছিলাম। এখনও কাদছি কারণ এটা আমার সাথে অনেক মিল। গতকালও আমার বাবা আমাকে বলেছিল তাকে কেন নিয়মিত ফোন দেইনা সে সবসময় চিন্তায় থাকে আমি বলেছি চিন্তার কি আছে আমি ভালই আছি উত্তরে বাবা বলেছিল বাবা হও তখন বুঝবে।
আমার এখনও তার উপর অনেক রাগ সারাজীবন রাজনীতি করেছেন আর আমার উপর নেতামী আর কৃপনা।
তবে আজই প্রথম মনে হল আমি অন্ধকারে আছি। আলোর পথটি দেখানোর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

নস্যি [অতিথি] এর ছবি

লেখাটা নিজেকে খুব খোচাঁ দিয়েছে..................
অসাধারণ লেখা........................

মূলত পাঠক এর ছবি

এই লেখাটা যে আমি কতো বার ফিরে ফিরে পড়ি, আর প্রতিবারই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। আপনার ভালো হোক।

অতিথি লেখক এর ছবি

জানেন। আজকে চার বছর বিদেশে থাকি। কেন যেন আমার গম্ভির বাবার সাথে মন খুলে কথা বলা হয়ে ওঠেনা। চোখ ঝাপশা করা একটা লেখা। মন খারাপ

মেঘলাআকাশ@akashsabbir@yahoo.com

সুহান এর ছবি

অসাধারন লেগেছে...............
চখ আসলেই ঝাপসা হয়ে আসে.........

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

অনেকদিন পর লেখাটি পড়ে চোখে পানি চলে আসলো। আপনার লেখা আবার পড়তে চাই জাহিদ ভাই।

স্বাধীন এর ছবি

লেখাটা পরে চোখের পানি আটকানো মুশকিল হলো।

অভিকবাঙ্গালী এর ছবি

ভাল লাগসে।

নাদিয়া জামান এর ছবি

অসাধারণ একটা লেখা ... মনে দাগ কেটে গেলো ... শুধুই ভাবছি

স্বপ্নাদিষ্ট এর ছবি

লেখা টা পড়ে পানি আটকানো কঠিন। ভাল থাকুন, শান্তিতে থাকুন আপনার বাবা। আপনার জন্যও শুভকামনা।

তানিম এহসান এর ছবি

আমি আমার বাবাকে ফোন দিলাম, আমার ফোন পেয়ে তার গলায় একটা ধরে আসা অনুভূতি টের পেলাম। আমি বাবাকে ফোন দেইনা কখনো, তিনিই ফোন দেন। প্রতিবার বলেন - খাওয়াদাওয়া ঠিকমত করিস, শরীরের যতœ নিস, ওষুধ ঠিকমত খাস। আমি তাকে সালাম দেই ফোন রাখার সময়, প্রায়ই সেই সালাম দিতেও কার্পণ্য হয়, এবং আমি টের পাই তিনি সেই সালামের অপেক্ষা করেন।

একজন অসাধারন সৎ মানুষ, তার হাত ধরেই আমার বই পড়া শেখা, একুশে ফেব্রুয়ারী, শহীদ মিনার, §§ৃতিসৌধ ভালোবাসতে শেখা। কত কষ্ট করে যে বড় করেছেন, কোনদিন টের পেতে দেননি। শুধু একদিন জেনেছিলাম যে তাকে অফিস থেকে হেটে হেটে বাসায় ফিরতে দেখা যায়, আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়ন্ত ঘুড়ি, এত বোঝার টাইম নাই!

জাহিদ ভাই, বাবাকে নিয়ে আবেগ প্রকাশ করা হয়না, আবেগ কাজও করেনা, আপনি করতে শেখালেন নতুন করে। আজকে এই মূহুর্তে আপনাকে খুব আপন মনে হচ্ছে, জলে ছাপিত চোখ ঝাপসা। আপনার কথা আমার আজীবন মনে থাকবে ভাই।

আপনার কন্য সন্তান আর পরিবারের জন্য সর্বাঙ্গীন মঙ্গলকামনা।

ছাইপাঁশ  এর ছবি

সবগুলি পর্ব একসাথে পড়ে এলাম। বাবার কথা মনে পড়ছে...

ochena এর ছবি

ভাই আপনার লেখা পরে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলামনা। ২ বছর অস্ট্রেলিয়াতে আছি। কতদিন বাবা মাকে দেখিনা। খুব মনে পরছে তাদের।

mishu এর ছবি

osadharon

তারানা_শব্দ এর ছবি

অদ্ভুত সুন্দর লেখা। টানা ৪টা লেখাই পড়ে ফেললাম মন খারাপ

"মান্ধাতারই আমল থেকে চলে আসছে এমনি রকম-
তোমারি কি এমন ভাগ্য বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!
মনেরে আজ কহ যে,
ভালো মন্দ যাহাই আসুক-
সত্যেরে লও সহজে।"

সচল জাহিদ এর ছবি

যতবার এই লেখা পড়েছি ততবারই নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি, আজ আবার পড়লাম এবং আজও পারলামনা।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ম. গ. এর ছবি

এক নিশ্বাসে চারটা পর্ব পড়ে শেষ করলাম। টের পাইনি কখন চোখটা ভিজে টল্ টল্ হয়ে গেছে।

নিজের জীবনের সাথে হুবহু মিলে গেছে এই লেখার অনেক কিছুই। প্রথম দুইটা পর্ব ইতিমধ্যে পার করে এসেছি... জানিনা শেষ কিভাবে হয়।

ব্যঙের ছাতা এর ছবি

একবারেই চার পর্ব পড়ে ফেললাম। ভালো লেগেছে।
আমার বাবা আমার কাছে অনেক দূরের দ্বীপ। যিনি শুধুই একজন অবয়ব। আমাদের দুইজনার কেউই কারো কাছে আসার চেষ্টা করিনি, আর এখন করতে গেলে দুজন ই বোকা হয়ে যাই। তাই এখন বাদ দিয়েছি সে চেষ্টা। চাকরী নিয়ে ঢাকায় চলে আসার পরে কতদিন কথা বলেছি ফোনে তা আমি আঙ্গুল গুনে বলতে পারব। গত চার মাসে শুধু একবার, যখন ডিসেম্বরে বাড়িতে গেলাম, তখন।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কাঠমিস্ত্রি এর ছবি

অসম্ভব ভালো লাগলো। কে ভাই আপনি? ঈশ্বর আপনাকে আরো লেখার সুযোগ দিন।

এক লহমা এর ছবি

সব কটা পর্ব পর পর পড়ে এলাম। মুগ্ধ।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।